চকরিয়ায় সাবেক কাউন্সিলর নুর হোসেনের নেতৃত্বে ত্রাসের রাজত্ব, ইয়াবা সিন্ডিকেটের ভয়ঙ্কর দৌরাত্ম্য
কক্সবাজার-১ (চকরিয়া-পেকুয়া) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য জাফর আলমের ঘনিষ্ঠ সহযোগী এবং চকরিয়া পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর নুর হোসেন কমিশনার (প্রঃ), ওরফে ‘ভাঙ্গারি নুর হোসেন’ এবং ‘ইয়াবা নুর হোসেন’, বর্তমানে এলাকায় ভয়ঙ্কর ত্রাস হিসেবে পরিচিত। পৌর আওয়ামী লীগের সিনিয়র সদস্য হওয়া সত্ত্বেও, দীর্ঘদিন ধরে তিনি ইয়াবা ও অন্যান্য মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে অভিযুক্ত।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নুর হোসেন ভাঙ্গারির ব্যবসার আড়ালে নিয়মিত ইয়াবার কারবার চালান। পাশাপাশি মাদক ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে ‘প্রশাসনিক শেল্টার’ দেওয়ার নামে মোটা অঙ্কের উৎকোচ আদায় করেন এবং সেই উৎকোচ দিয়ে থানা ও প্রশাসনকে ম্যানেজ করেন বলে অভিযোগ। তার নেতৃত্বে গড়ে তোলা হয়েছে একটি সশস্ত্র বাহিনী, যা স্থানীয়ভাবে ‘নুর হোসেন বাহিনী’ নামে কুখ্যাত।
নুর হোসেনের ভাই জয়নাল, যিনি ওয়ার্ড বিএনপির সহ-সভাপতি, ইয়াবা সিন্ডিকেটের অন্যতম মাস্টারমাইন্ড হিসেবে কাজ করছেন।
আওয়ামী লীগ নেতা হয়েও বিএনপি নেতার প্রভাবকে ব্যবহার করে নুর হোসেন এলাকায় একাধারে রাজনৈতিক সুবিধা এবং অপরাধ সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছেন। স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, তার সিন্ডিকেট মাদক ব্যবসার পাশাপাশি এলাকায় খুন, ছিনতাই, চুরি, হামলার মতো একের পর এক অপরাধ করে চলেছে।
সম্প্রতি সেনাবাহিনী মাদকবিরোধী অভিযান চালালে, নুর হোসেন বাহিনীর নেতৃত্বে হামলা চালিয়ে ৮০ বছরের এক বৃদ্ধাকে কুপিয়ে জখম করা হয়। আহত বৃদ্ধাকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে তার অবস্থার অবনতি হওয়ায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়। ওই ঘটনায় আরও পাঁচ-ছয়জন গুরুতর আহত হয়েছেন।
এ ঘটনায় বৃদ্ধার ছেলে কায়েস বাদী হয়ে চকরিয়া থানায় নুর হোসেনসহ ৭ জনের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেছেন (মামলা নং: ২৮ জিআর-৩৪৫/২৫)। মামলা দায়েরের পর থেকে নুর হোসেন ও তার সহযোগীরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন। বাদী পক্ষকে ভয় দেখাতে এবং ইয়াবা দিয়ে ফাঁসানোর চেষ্টাও করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।
চকরিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শফিকুল ইসলাম বলেন, “নুর হোসেন কমিশনারের বিরুদ্ধে একটি হত্যাচেষ্টা এবং কুপিয়ে জখমের মামলা হয়েছে। পুলিশ আসামিদের ধরতে অভিযান চালাচ্ছে। অপরাধী যেই হোক, কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।”
অন্যদিকে নুর হোসেন তার বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, “আমি এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার চেষ্টা করি। মিথ্যা তকমা দিয়ে আমাকে হেয় করা হচ্ছে। আমি ব্যবসা করি, অপরাধের সঙ্গে জড়িত নই।”
এখন স্থানীয়রা প্রশ্ন তুলেছেন—প্রভাবশালী এই আওয়ামী লীগ নেতা ও তার ভাইয়ের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা মাদক সাম্রাজ্য ধ্বংসে প্রশাসন আদৌ সফল হবে কিনা।

আপনার মতামত লিখুন