সেন্টমার্টিনে সমুদ্রের ঢেউয়ে বসতবাড়ি ও রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত, আতঙ্কে দ্বীপবাসী
কক্সবাজারের একমাত্র প্রবালদ্বীপ সেন্টমার্টিনে সমুদ্রের ভয়ংকর ঢেউয়ের আঘাতে বসতবাড়ি, রাস্তা ও সৈকতের একাংশ ভেঙে পড়েছে। প্রতিনিয়ত বাড়তে থাকা জোয়ারের পানি এবং ঢেউয়ের তীব্রতায় আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে দ্বীপের বাসিন্দারা।
গত কয়েকদিন ধরে দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপের কারণে সাগরের পানি স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি উচ্চতায় প্রবাহিত হচ্ছে। তার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে প্রবল ঢেউ। যার ফলে সেন্টমার্টিনের পশ্চিম, উত্তর ও দক্ষিণাংশে বেশ কয়েকটি বসতঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সড়কের কিছু অংশ ভেঙে গিয়ে সমুদ্রে বিলীন হয়ে গেছে। এছাড়া দ্বীপের সৈকতের বড় অংশে ব্যাপক ভাঙন দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বিশেষ করে রাতের বেলা জোয়ারের সময় বড় বড় ঢেউ এসে বসতঘর ভেঙে নিয়ে যাচ্ছে। কেউ কেউ ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিচ্ছে। দ্বীপে এখন আতঙ্ক ও উদ্বেগ বিরাজ করছে।
সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নূর আহমদ বলেন, “প্রতিদিনই ভাঙনের পরিমাণ বাড়ছে। কয়েকটি বসতঘর ও রাস্তার অংশ ইতিমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি ভয়াবহ হতে পারে।”
তিনি আরও জানান, দ্বীপ রক্ষায় দীর্ঘদিন ধরে প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মাণের দাবি জানানো হলেও কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। এখন তা না হলে পুরো দ্বীপ অস্তিত্ব সংকটে পড়তে পারে।
এদিকে দ্বীপে অবস্থানরত পর্যটকরাও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। ঝুঁকি এড়াতে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
সেন্টমার্টিন রক্ষায় দ্রুত জিও ব্যাগ ও প্রতিরক্ষা দেয়াল স্থাপনের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, পরিবেশবিদ ও বাসিন্দারা। তাদের মতে, দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে সেন্টমার্টিন শুধু পর্যটনের নয়, দেশের মানচিত্র থেকেও একদিন হারিয়ে যেতে পারে।

আপনার মতামত লিখুন