খুঁজুন
, ,

মহেশখালী থানার ওসির কান্ড

১০ বছর আগে মৃত্যুবরণ করা ব্যক্তির নামে চাদাঁবাজি ও লুটপাটের মামলা

শাহেদ ফেরদৌস হিরু
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৯ জুলাই, ২০২৫, ১১:৫১ পূর্বাহ্ণ
১০ বছর আগে মৃত্যুবরণ করা ব্যক্তির নামে চাদাঁবাজি ও লুটপাটের মামলা
শেয়ার করুন

 

মহেশখালীর হোয়ানক ইউনিয়নের অমাবশ্যাখালী এলাকায় চিংড়ি ঘের দখলকে কেন্দ্র করে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলা, মোটা অংকের চাঁদা দাবি, ব্যাপক লুটপাট এবং এর পরপরই ঘটনার শিকার পক্ষের বিরুদ্ধেই পাল্টা মামলায় মৃত ব্যক্তি ও নীরিহ মানুষকে আসামী করার ঘটনায় এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয়রা বলছেন, পুলিশকে টাকা দিয়ে যদি এভাবে পেছন থেকে শক্তিশালী অপরাধীচক্র মামলা সাজাতে পারে, তাহলে সাধারণ মানুষ কোথায় যাবে? বিশেষ করে দশ বছর আগে প্রবাসে মারা যাওয়া এক মৃত ব্যক্তিকে আসামি বানিয়ে তাকে চাঁদাবাজ বানানোর নজির দেশের আইনি ব্যবস্থার প্রতি আস্থা আরও দুর্বল করে দিচ্ছে।

চিংড়ি চাষি এনামুল করিম অভিযোগ করেন, তার পৈত্রিক মালিকানাধীন চিংড়ি ও লবণ চাষের জমিতে দীর্ঘদিন ধরে একাধিক মামলার আসামিরা আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা চালিয়ে আসছিল। তাদের বিরুদ্ধে একাধিকবার চাঁদা দাবি ও সশস্ত্র হুমকি দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

সর্বশেষ গত ১৩ জুলাই গভীর রাতে ১৯ জনের একটি সংঘবদ্ধ দল দেশীয় অস্ত্র ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে তার চিংড়ি ঘেরে হামলা চালায়। হামলার আহত কর্মচারীদের রশি দিয়ে বেঁধে খালের পানিতে ফেলে শারীরিক নির্যাতন চালানো হয়। এরপর হাতে বন্দুক দিয়ে মোবাইলে ভিডিও ধারণ করে জোর করে স্বীকার করানোর চেষ্টা করা হয়।
ঘেরের বাসা ভাঙচুর, বাঁধ কেটে মাছের পোনা নষ্ট করা এবং প্রায় ১৫ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতির অভিযোগও মামলায় উল্লেখ করা হয়। চাষযোগ্য মাছ ও কাঁকড়াসহ প্রায় সাড়ে ৫ লাখ টাকার সম্পদ লুটে নেওয়া হয়। শ্রমিকদের ব্যবহৃত চারটি মোবাইল ফোনও ছিনিয়ে নেওয়ার কথা জানিয়েছেন এনামুল।

এ ঘটনায় ভূক্তভোগী এনামুল করিম ২১ জুলাই মহেশখালী থানায় ১৯ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। যার মামলা নম্বর ৩৫। এদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের বিরুদ্ধে ডাকাতি, চাঁদাবাজি, নারী নির্যাতনসহ একাধিক মামলা রয়েছে বলেও তিনি জানান।
তবে চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, মামলা দায়েরের চারদিন পর ২৫ জুলাই অভিযুক্ত পক্ষের নুরুল কবির নামের এক ব্যক্তি থানায় এনামুল ও তার এক মৃত ভাই সহ ২২ জনের বিরুদ্ধে পাল্টা মামলা দায়ের করেন। যার মামলা নম্বর ৩০।

সেই মামলার ১৭ নম্বর আসামি হলেন এনামুল করিমের ছোট ভাই মাহমুদুল করিম। যিনি ১০ বছর আগে মালয়েশিয়ায় মৃত্যুবরণ করেন। তার মৃত্যুর ডেথ সার্টিফিকেট ও দাফনের কাগজপত্র এনামুল হকের কাছে রয়েছে বলে জানান। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয়, মামলায় তাকে চাঁদাবাজি ও লুটপাটের মূলহোতা হিসেবে উল্লেখ করা হয়। এছাড়াও মামলায় যাদের নাম রয়েছে, তাদের অনেকে ঘটনার সময় এলাকায়ই ছিলেন না। এমনকি ঘটনার স্থানও উল্লেখ করা হয়েছে অন্য এলাকায়, যা নিয়ে ব্যাপক প্রশ্ন উঠেছে।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, পাল্টা মামলা দায়েরের জন্য বাদীপক্ষ থানার ওসিকে মোটা অংকের টাকা দিয়েছেন। ফলে প্রকৃত ভুক্তভোগীদেরকেই হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে। এনামুল করিম ও তার পরিবারের সদস্যরা বর্তমানে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে জানিয়েছেন।

স্থানীয়দের দাবি, ওসির ভূমিকা নিয়ে তদন্ত করা হোক এবং প্রকৃত হামলাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনা হোক। তারা বলেন, যদি এই ঘটনাও ধামাচাপা পড়ে যায়, তাহলে পুলিশি অপব্যবহার ও সন্ত্রাসী জোটের অপতৎপরতা আরও ভয়ংকর রূপ নেবে।

পাল্টা মামলার বিষয় ও মৃত ব্যাক্তিকে কেন আসামী করা হয়েছে জানতে চাইলে নুরুল কবির জানান, ভুলে মৃত ব্যাক্তির নাম চলে এসেছে। এটা টাইপিং মিস্টেক হতে পারে। মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে পাল্টা মামলার বিষয়ে জানতে চাইলে সামনাসামনি দেখা করতে বলে ফোন কেটে দেন তিনি।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মামলা পাল্টা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সাব ইন্সপেক্টর মোঃ এনায়েত কবীর বলেন, উভয় পক্ষের মামলা দায়ের বা পাল্টা মামলায় মৃত ব্যাক্তি আসামীর কিছুই জানি না। থানায় মামলা দায়ের হওয়ার পরে আমার নামে এন্ডোস করেছে। তদন্তে যদি কোন নীরিহ ব্যাক্তি পাওয়া যায় তাকে বাদ দেওয়া হবে।

মহেশখালী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মঞ্জুরুল হক বলেন, থানায় এসে কেউ যদি মামলার এজাহার জমা দেয় তাহলে কারো নাম বাদ দেওয়ার সুযোগ নেই। চার্জশিট দেওয়ার সময় তদন্ত করে নীরিহ কেউ থাকলে বাদ দেওয়া হবে। এছাড়া মহেশখালীর প্রায় লোক চাঁদাবাজির ধারা দিয়ে এজাহার জমা দেয়। মামলা না নিলে আবার বিভিন্নভাবে ব্লেইম দেয়।

কক্সবাজার জেলা পুলিশের মুখপাত্র ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জসিম উদ্দিন বলেন, মহেশখালীতে দখল-বেদখল নিয়ে বেশিরভাগ সময় থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়। অভিযোগ গুলোতে দেখা যায় অনেক বেশি আসামী দেওয়া হয়। যার কারনে সবগুলো আসামীর ক্ষেত্রে তদন্ত করা সম্ভব হয়ে উঠে না। মামলায় নীরিহ বা মৃত ব্যাক্তিকে আসামী করা হলে তদন্ত করে বাদ দেওয়া যাবে। আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে যদি মামলা নেওয়ার অভিযোগ উঠে তদন্ত করে ব্যাবস্থা নেওয়া হবে।

ভয়াবহ দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত বাবা

অসুস্থ ছেলেকে ডাক্তার দেখাতে গিয়ে পথে মায়ের মৃত্যু, ছেলেও না ফেরার দেশে

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১:১৬ পূর্বাহ্ণ
অসুস্থ ছেলেকে ডাক্তার দেখাতে গিয়ে পথে মায়ের মৃত্যু, ছেলেও না ফেরার দেশে
শেয়ার করুন

যশোরের মণিরামপুর উপজেলার রাজগঞ্জে মাছবাহী পিকআপ-বালির ট্রলি ও মোটসাইকেলের ত্রিমুখী সংঘর্ষে এক মা ও তার শিশু সন্তান নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন নিহত নারীর স্বামী ও শিশুটির বাবা। রোববার (২৫ অক্টোবর) রাত ৭টার দিকে রাজগঞ্জ এলাকার দোদাড়িয়া মোড়ে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন, উপজেলার রাজগঞ্জের মানিকগঞ্জ গ্রামের ওমর ফারুকের স্ত্রী মৌসুমী খাতুন (৩৩) ও তাদের শিশুপুত্র আব্দুর রহমান (৪)।

 

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ওমর ফারুক তার অসুস্থ ছেলে আব্দুর রহমানকে নিয়ে মোটরসাইকেলযোগে যশোরে ডাক্তারের নিকট গিয়েছিলেন। সঙ্গে ছিলেন স্ত্রী মৌসুমী খাতুন। ফেরার পথে মণিরামপুরের রাজগঞ্জের দোদাড়িয়া মোড়ে পৌঁছালে যশোরগামী একটি দ্রুতগামী মাছবাহী পিকআপের সঙ্গে মোটরসাইকেলের সংঘর্ষ হয়। এ সময় তিনজনই সড়কে ছিটকে পড়েন। পরে অপর একটি বালিবাহী ট্রলি তাদের চাপা দেয়।

 

স্থানীয়রা তাদের গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে পাঠায়। হাসপাতালে পৌঁছানোর পূর্বেই মা মৌসুমী ও শিশু আব্দুর রহমান পথে মারা যায়। বাবা ওমর ফারুক যশোর আদ্-দ্বীন সকিনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করে মণিরামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু সাঈদ বলেন, ময়নাতদন্ত ছাড়াই লাশ হস্তান্তর করতে পরিবারের পক্ষ থেকে আবেদন করা হয়েছে। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন বলেও জানান তিনি।

ইউসিবি ব্যাংকে কক্সবাজার মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষের হিসাব থেকে ৩৩ লাখ ৯০ হাজার টাকা উধাও, থানায় জিডি

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৫৮ পূর্বাহ্ণ
ইউসিবি ব্যাংকে কক্সবাজার মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষের হিসাব থেকে ৩৩ লাখ ৯০ হাজার টাকা উধাও, থানায় জিডি
শেয়ার করুন

কক্সবাজারের ঈদগাঁও বাসস্টেশন এলাকার ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক (ইউসিবি) শাখায় কক্সবাজার মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. মোহাম্মদ মুজিবুল হকের ব্যাংক হিসাব থেকে ৩৩ লাখ ৯০ হাজার টাকা উধাও হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। নিজের অজান্তে হিসাব থেকে ওই অর্থ স্থানান্তর করা হয়েছে বলে অভিযোগ করে ঈদগাঁও থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন তিনি।

 

জানা গেছে, গতকাল সকালে ব্যাংক হিসাব থেকে টাকা তুলতে চেক দিয়ে এক কর্মচারীকে ব্যাংকে পাঠান ডা. মোহাম্মদ মুজিবুল হক। সেখানে গিয়ে ওই কর্মচারী জানতে পারেন, হিসাবে পর্যাপ্ত টাকা নেই। পরে বিষয়টি অধ্যক্ষকে জানানো হলে তিনি নিজেই ব্যাংকে গিয়ে খোঁজ নেন। এ সময় তাঁর হিসাব থেকে ৩৩ লাখ ৯০ হাজার টাকা স্থানান্তর হওয়ার বিষয়টি জানতে পারেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

 

এ ঘটনায় ঈদগাঁও থানায় জিডি করেছেন ডা. মোহাম্মদ মুজিবুল হক। জিডি নম্বর ৯৭৪ এবং ট্র্যাকিং নম্বর DEL665।

 

তবে কীভাবে, কখন এবং কার মাধ্যমে ওই অর্থ স্থানান্তর করা হয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এ বিষয়ে ব্যাংকের লেনদেনের তথ্য যাচাই এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া গেলে অর্থ স্থানান্তরের প্রকৃত কারণ জানা যেতে পারে।

 

এ বিষয়ে ইউসিবি ব্যাংক কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

মেয়ের ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কায় রুমি, ছেড়েছেন গাজীপুর

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:১৩ পূর্বাহ্ণ
মেয়ের ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কায় রুমি, ছেড়েছেন গাজীপুর
শেয়ার করুন

গাজীপুরের টঙ্গীতে এক মাদ্রাসায় নিজের কন্যাশিশুকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগের পর ‘ভবিষ্যতের চিন্তায়’ এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে রয়েছেন শাহজালাল রুমি। পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন মুঠোফোন নম্বর থেকে হত্যার হুমকি পাওয়ার অভিযোগে তিনি বাসা ছেড়েছেন বলে জানিয়েছেন ভবনটির কেয়ারটেকার। তবে স্ত্রী ও দুই সন্তানসহ তিনি বর্তমানে কোথায় অবস্থান করছেন, তা জানা যায়নি।

ভবনটির কেয়ারটেকার জানান, টঙ্গীর মাদ্রাসায় ওই ঘটনার পর থেকেই রুমি হুমকি পাওয়ার অভিযোগ করছিলেন। একই সঙ্গে গ্রেপ্তার হওয়ার আশঙ্কায়ও ছিলেন তিনি। স্ত্রী, দুই সন্তান এবং শ্বশুর-শাশুড়ির নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে বাসা ছেড়ে অন্যত্র চলে গেছেন রুমি।

রোববার (২৫ অক্টোবর) টঙ্গীতে রুমির বাসায় গিয়ে দরজায় তালা দেখা যায়। কেয়ারটেকার হাবিবুর রহমানের ভাষ্য অনুযায়ী, গত দুই থেকে তিন দিন ধরে ভয়ের কারণে রুমির পরিবারের সদস্যরা বাসায় থাকছেন না।

 

হাবিবুর রহমান আরও জানান, যে মেয়েটির সঙ্গে এসব ঘটেছে, সেও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত। রুমি এখন মেয়ের ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কায় আছেন বলে আমাদের জানিয়ে গেছেন।

রুমি পেশায় একজন ফেব্রিক ব্যবসায়ী। পাশাপাশি বডি বিল্ডিংয়ের সঙ্গেও তার সম্পৃক্ততা রয়েছে। ঢাকায় ব্যবসার সুবাদে তিনি তার বাবার ফ্ল্যাটে স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে বসবাস করতেন। তার এক মেয়ে ও এক ছেলে রয়েছে। মেয়ের বয়স আট বছর এবং ছেলের বয়স চার বছর। রুমির শ্বশুরের নাম হাজি মোহাম্মদ মোকাররম আলী।

 

মাদ্রাসার ঘটনাকে কেন্দ্র করে সংবাদ সম্মেলন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা ছড়িয়ে পড়ার পর থেকে রুমি এবং তার পরিবারের মধ্যে উদ্বেগ বাড়তে থাকে। রুমি ফেসবুক লাইভে একাধিকবার তার ও পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন। বিভিন্ন ব্যক্তি তাকে হুমকি দিয়েছেন বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি।

 

পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের পাশাপাশি দুই শিশুর ভবিষ্যৎ নিয়েও শঙ্কা তৈরি হয়েছে। সন্তানদের ভালোভাবে পড়াশোনা করিয়ে মানুষ করার স্বপ্ন নিয়ে মেয়েকে মাদ্রাসায় ভর্তি করিয়েছিলেন বলে জানিয়েছেন রুমি। কিন্তু সেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে ঘিরে এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে, তা কখনো কল্পনাও করেননি বলে তার বক্তব্যে উঠে এসেছে।

 

ঘটনাটি সামনে আসার পর থেকে রুমি ও তার পরিবারের সদস্যদের নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা আলোচনা চলছে। একই সঙ্গে অভিযোগের পক্ষে-বিপক্ষে বিভিন্ন বক্তব্য ছড়িয়ে পড়ছে। এর মধ্যে হুমকি ও নিরাপত্তাহীনতার অভিযোগ পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলেছে।

 

পাল্টাপাল্টি মামলা, তদন্তে পুলিশ

 

মাদ্রাসার ঘটনাকে কেন্দ্র করে বর্তমানে দুটি পৃথক মামলা হয়েছে। একটি মামলা করেছে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ এবং অন্যটি করেছেন শিশুটির বাবা রুমি। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ ও বক্তব্য সামনে এসেছে। মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের মামলায় অর্থ আত্মসাৎ, ভাঙচুরসহ বিভিন্ন অভিযোগের বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। অন্যদিকে, রুমি তার মেয়ের সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনার বিচার চেয়ে আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন।

 

টঙ্গী পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফ হোসেন বলেন, ‘দুটি মামলাই আমরা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ ও তদন্ত করছি। তদন্ত সাপেক্ষে পুরো বিষয়টি আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।’

 

তদন্তের স্বার্থে মামলার বিস্তারিত বিষয়ে আপাতত কিছু জানাতে চাননি সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তা।

 

মাদ্রাসা ও রুমির বাসায় গণমাধ্যমকর্মীদের ভিড়

 

ঘটনাটি দেশজুড়ে আলোচনায় আসার পর থেকে সংশ্লিষ্ট মাদ্রাসা এবং রুমির বাসায় গণমাধ্যমকর্মীদের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। ঘটনার প্রকৃত তথ্য, দুই পক্ষের বক্তব্য এবং তদন্তের অগ্রগতি জানতে সাংবাদিকেরা সেখানে যাচ্ছেন।