খুঁজুন
শনিবার, ২ মে, ২০২৬, ১৯ বৈশাখ, ১৪৩৩

কক্সবাজার সমন্বিত কার্যালয়ের কর্মকর্তাদের কান্ড, দুদক চড়ে অন্যের গাড়িতে

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৩১ জুলাই, ২০২৫, ১:২৭ অপরাহ্ণ
কক্সবাজার সমন্বিত কার্যালয়ের কর্মকর্তাদের কান্ড, দুদক চড়ে অন্যের গাড়িতে
শেয়ার করুন

চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি রোগীদের বরাদ্দ খাবারে অনিয়ম, মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ রাখাসহ নানা অভিযোগ পাওয়া যায়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৪ জুলাই এনফোর্সমেন্ট অভিযানে যান দুদকের কক্সবাজার সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের কর্মকর্তারা।

জেলা শহর থেকে চকরিয়ায় যেতে তারা ব্যবহার করেন স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) ডাবল কেবিন পিকআপ (নম্বর-ঢাকা মেট্রো-ঠ ১৩-৪৭৩৭)। অথচ এলজিইডির একাধিক প্রকল্প নিয়ে ওঠা অভিযোগের অনুসন্ধান ও তদন্ত করছে দুদক।

যেসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ তদন্তাধীন, তাদের গাড়ি নিয়ে অন্য প্রতিষ্ঠানে অভিযানে যাওয়াকে হতাশাজনক বলছেন বিশিষ্টজন। তারা মনে করেন, এসব ঘটনায় তদন্তের ক্ষেত্রে দুদকের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠবে।

২০২২ সালের ১ জানুয়ারি উদ্বোধন করা হয় দুদক সমন্বিত কক্সবাজার জেলা কার্যালয়। এখান থেকেই পাশের বান্দরবান জেলার কার্যক্রমও পরিচালিত হয়। উদ্বোধনকালে দুদকের তৎকালীন কমিশনার (তদন্ত) জহুরুল হক বলেছিলেন, এই কার্যালয়কে জেলা কার্যালয়ে রূপান্তর করা হবে। অথচ চার বছর পরও সেটি পূর্ণাঙ্গ হয়নি। এখানে জনবলের ঘাটতি রয়েছে। নেই একটি গাড়িও।

দুদক সূত্র জানায়, এই কার্যালয়ে চারজন সহকারী পরিচালক পদের বিপরীতে আছেন দুজন। উপসহকারী পরিচালকের ছয়টি পদের বিপরীতে তিনজন, পাঁচটি কনস্টেবল পদের বিপরীতে আছেন দুজন। এ ছাড়া প্রসিকিউশন বিভাগে একজন কোর্ট ইন্সপেক্টর, একজন সহকারী কোর্ট ইন্সপেক্টর ও একজন সাব ইন্সপেক্টরের পদ থাকলেও পদায়ন নেই। অথচ এই জেলা কার্যালয়ে আড়াই শতাধিক অভিযোগের অনুসন্ধান ও তদন্তাধীন।

কর্মকর্তারা বেশি সংকটে পড়েছেন গাড়ি না থাকায়। নাইক্ষ্যংছড়ি-গর্জনিয়া বাজার সংযোগ সড়কের সংস্কার কাজে অনিয়মের অভিযোগ পেয়ে ২৯ এপ্রিল দুদক কর্মকর্তারা এনফোর্সমেন্ট অভিযানে যান। সহকারী পরিচালক অনিক বড়ুয়া বাবুর নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে ব্যবহার করা হয় কক্সবাজার উত্তর বন বিভাগের ল্যান্ডক্রুজার (নম্বর-ঢাকা মেট্রো-ঘ ১১-১৩৪০)।

১০ জুলাই চকরিয়ার ডুলাহাজারা সাফারি পার্কের উন্নয়নকাজে দুর্নীতির অভিযোগে অভিযানে যায় দুদক। সহকারী পরিচালক মো. সাখাওয়াত হোসেনের নেতৃত্বাধীন দলকেও এদিন ব্যবহার করতে হয় সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের গাড়ি।

একই বিভাগের গাড়ি নিয়ে ২৭ জুলাই দুদক কর্মকর্তারা যান জেলার উখিয়ায়। উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান মো. জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে ওই অভিযানের নেতৃত্বে ছিলেন উপসহকারী পরিচালক মুহাম্মদ হুমায়ুন বিন আহমদ। অথচ এলজিইডি, সওজ এবং বন বিভাগের বিরুদ্ধেই নানা অভিযোগ তদন্ত করছে সংস্থাটি। গত এক বছর ধরে তাদের সব এনফোর্সমেন্ট অভিযানে ব্যবহৃত হয়েছে সরকারি নানা প্রতিষ্ঠানের গাড়ি।

এসব ঘটনায় কোনো কথা না উঠলেও বিব্রত দুদকের কর্মকর্তারা। যদিও তাদের কেউ নাম প্রকাশে রাজি হননি। তিনজন কর্মকর্তার সঙ্গে এ বিষয়ে কথা হয় সমকালের। তারা বলেন, নৈতিকতার জায়গা থেকে এটি কোনোভাবেই কাম্য নয়।

কর্মকর্তারা জানান, নিয়ম অনুযায়ী অভিযানে সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে গাড়ি বরাদ্দ দেওয়ার কথা কমিশনের পক্ষ থেকে। যদি কোনো কারণে বরাদ্দ না পাওয়া যায়, তবে অনুমতিসাপেক্ষে ভাড়ায় নিয়ে গাড়ি ব্যবহার করা যায়। কিন্তু অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠানের গাড়ি ব্যবহারের সুযোগ নেই।

কক্সবাজারে সমন্বিত কার্যালয় চালুর হওয়ার পর একটি গাড়ি তারা পেয়েছিলেন। কিন্তু প্রায় এক বছর ধরে সেটি অকেজো অবস্থায় পড়ে আছে। কক্সবাজার সিভিল সোসাইটির সভাপতি আবু মোরশেদ চৌধুরী খোকা মনে করেন, যেসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে দুদকের অনুসন্ধান, তদন্ত বা মামলা চলছে, ওইসব প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে গাড়ি সুবিধা নেওয়া দুর্নীতির মধ্যে পড়ে। দুদকের মতো স্বাধীন প্রতিষ্ঠান এভাবে কাজ করতে পারে না। এ ঘটনা তদন্তের ক্ষেত্রে তাদের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলবে।

একই রকম মত দিয়ে কক্সবাজার আদালতের এপিপি মুজিবুল হক বলেন, ‘সাংবিধানিকভাবে দুদক স্বাধীন প্রতিষ্ঠান। যতটুকু জানি, গাড়ি বরাদ্দ দিতে না পারার মতো সংকটে দুদক পড়ে নাই। তারপরও গাড়ি দিতে দেরি হলে ভাড়ায় নিতে পারে। কিন্তু অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে গাড়ি নিয়ে এনফোর্সমেন্ট অভিযানে গেলে তা সাধারণ মানুষের কাছে প্রশ্নবিদ্ধ হবে, এটাই স্বাভাবিক।’

এমন কোনো তথ্য জানা নেই দুদকের চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিচালক মোহাম্মদ আবুল হোসেনের। তাঁর ভাষ্য, এনফোর্সমেন্ট অভিযানগুলো কক্সবাজার সমন্বিত জেলা কার্যালয় পরিচালনা করে। তদারকি বা নির্দেশনা দেয় প্রধান কার্যালয়ের গোয়েন্দা বিভাগ।

রামুতে সিটি ব্যাংক পিএলসির নতুন এজেন্ট আউটলেট উদ্বোধন

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১ মে, ২০২৬, ১১:২০ অপরাহ্ণ
রামুতে সিটি ব্যাংক পিএলসির নতুন এজেন্ট আউটলেট উদ্বোধন
শেয়ার করুন

কক্সবাজারের রামু উপজেলায় আধুনিক ব্যাংকিং সেবা সম্প্রসারণে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে। চৌমুহনী এলাকার রবিন শপিং কমপ্লেক্সে সিটি ব্যাংক পিএলসি-এর রামু সদর এজেন্ট আউটলেটের উদ্বোধন করা হয়। বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) দুপুর ২ ঘটিকার সময় ফিতা কেটে আনুষ্ঠানিকভাবে সিটি এজেন্ট ব্যাংকিং আউটলেটের কার্যক্রম শুরু হয়।

 

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংক-এর ফিন্যান্সিয়াল ইনক্লুশন ডিপার্টমেন্টের অতিরিক্ত পরিচালক কাজী মুতমাইন্না তাহমিদা। এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের বিভিন্ন বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন ব্যাংকিং রেগুলেশনস অ্যান্ড পলিসি ডিপার্টমেন্ট-১ এর অতিরিক্ত পরিচালক মো. আরিফুল ইসলাম, পেমেন্ট সিস্টেমস ডিপার্টমেন্ট-১ এর অতিরিক্ত পরিচালক রাবেয়া খন্দকার, এসএমই ও স্পেশাল প্রোগ্রাম ডিপার্টমেন্টের অতিরিক্ত পরিচালক হাফিয়া তাজরিয়ান এবং একই বিভাগের যুগ্ম পরিচালক নাজিয়া হক ও সালাহউদ্দীন মাহমুদ।

 

এছাড়াও অনুষ্ঠানে সিটি ব্যাংক পিএলসির উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও হেড অব স্মল, মাইক্রোফাইন্যান্স অ্যান্ড এজেন্ট ব্যাংকিং বিজনেস কামরুল মেহেদী এবং হেড অব এজেন্ট ব্যাংকিং বিজনেস মহিবুর রহমান সহ সিটি ব্যাংকের সিনিয়র ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

 

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, এজেন্ট ব্যাংকিং কার্যক্রম দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ব্যাংকিং সেবা পৌঁছে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। নতুন এই আউটলেট চালুর মাধ্যমে রামু এলাকার সাধারণ মানুষ সহজে, দ্রুত ও নিরাপদে ব্যাংকিং সেবা গ্রহণ করতে পারবেন বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

 

 

রামু চৌমুহনী এজেন্ট আউটলেটে এই অগ্রযাত্রায় এজেন্ট মালিক হিসেবে যুক্ত হয়েছেন তরুণ ও উচ্চশিক্ষিত উদ্যোক্তা আশরাফুল করিম। রামুর পূর্ব শাহমদর পাড়া (চাকমারকুল) এলাকার কৃতি সন্তান আশরাফুল করিম চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগ থেকে উচ্চশিক্ষা সম্পন্ন করেছেন। তাঁর বাবা শামসুল আলম এবং মাতা শাহিদা খানম। একজন শিক্ষিত তরুণ হিসেবে স্থানীয় অর্থনীতিতে অবদান রাখার লক্ষ্যেই তিনি সিটি ব্যাংকের এই উদ্যোগের সাথে সম্পৃক্ত হয়েছেন।

 

এই এজেন্ট আউটলেটের মাধ্যমে স্থানীয় বাসিন্দারা জমা উত্তোলন রেমিট্যান্সসহ বিভিন্ন আধুনিক ব্যাংকিং সুবিধা ঘরের কাছেই পাবেন। সংশ্লিষ্টদের মতে, এই উদ্যোগ রামুর অর্থনৈতিক কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করবে এবং আর্থিক অন্তর্ভুক্তি জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।

 

 

উদ্বোধনের মাধ্যমে রামু বাসীর জন্য আধুনিক ব্যাংকিং সুবিধা আরও একধাপ এগিয়ে গেল বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

দুর্ঘটনায় নিভল স্বামী-স্ত্রীর প্রাণ, অনাথ ৩ মাসের শিশু

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১ মে, ২০২৬, ৯:১২ অপরাহ্ণ
দুর্ঘটনায় নিভল স্বামী-স্ত্রীর  প্রাণ, অনাথ ৩ মাসের শিশু
শেয়ার করুন

শুক্রবার (১ মে) বিকেল আনুমানিক ৩টার দিকে ঢাকা–খুলনা মহাসড়কের মধুখালী পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের পরীক্ষেতপুর হাচারির সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

 

 

 

নিহতরা হলেন উপজেলার গাজনা ইউনিয়নের আশাপুর গ্রামের হাবিবুল ইসলামের ছেলে তামিম মিয়া (২০) এবং তার স্ত্রী শিমলা খাতুন (১৯)। তারা মোটরসাইকেলে করে ডাক্তার দেখানোর উদ্দেশ্যে ফরিদপুর যাচ্ছিলেন।

 

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘটনাস্থলে পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ইঞ্জিনচালিত পাঁচ চাকার ট্রলির সঙ্গে মোটরসাইকেলটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে দুজনই গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা দ্রুত তাদের উদ্ধার করে মধুখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তামিম মিয়াকে মৃত ঘোষণা করেন।

 

 

 

এদিকে গুরুতর আহত অবস্থায় শিমলা খাতুনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হলে সেখানেও তিনি মারা যান।

 

 

 

নিহত দম্পতির তিন মাস বয়সী একটি পুত্রসন্তান রয়েছে। তাদের আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবারসহ পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

 

 

 

এ বিষয়ে করিমপুর হাইওয়ে পুলিশের উপপরিদর্শক শফিকুল ইসলাম জানান, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে এবং দুর্ঘটনার বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

উখিয়ায় গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১ মে, ২০২৬, ৮:৩৫ অপরাহ্ণ
উখিয়ায় গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার
শেয়ার করুন

উখিয়ায় নিজ ঘরের ফ্যানের সঙ্গে ফাঁস দিয়ে রাশেদা বেগম (৪৩) নামে এক গৃহবধূ আত্মহত্যা করেছেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ।

 

শুক্রবার (১ মে) সকালে উপজেলার জালিয়াপালং ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের মধ্যম নিধানিয়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

 

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকাল ৮টার আগে যেকোনো সময় নিজ বসতঘরে ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস দেন রাশেদা বেগম। পরে সকাল ৯টার দিকে তার স্বামী আবুল হাসেম ঘরে প্রবেশ করে তাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। এসময় তিনি দ্রুত ইনানী পুলিশ ফাঁড়িতে খবর দেন। খবর পেয়ে ইনানী পুলিশ ফাঁড়ির এসআই দুর্জয় ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করেন।

 

ইনানী পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ দুর্জয় সরকার জানিয়েছে, প্রাথমিকভাবে এটি আত্মহত্যা বলে ধারণা করা হলেও ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে। মরদেহের বিষয়ে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।