খুঁজুন
শনিবার, ২ মে, ২০২৬, ১৯ বৈশাখ, ১৪৩৩

গোপালগঞ্জে প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার হয়নি দাবি

কোনো দলের প্রতি সেনাবাহিনীর আলাদা নজর নেই : সেনা সদর

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৩১ জুলাই, ২০২৫, ৬:২৭ অপরাহ্ণ
কোনো দলের প্রতি সেনাবাহিনীর আলাদা নজর নেই : সেনা সদর
শেয়ার করুন

বিশেষ কোনো রাজনৈতিক দলের প্রতি সেনাবাহিনীর আলাদা নজর নেই। গোপালগঞ্জে এনসিপি নেতাদের জীবননাশের হুমকি থাকায় তাদের সহযোগিতা করেছে সেনাবাহিনী।

বৃহস্পতিবার (৩১ জুলাই) বিকেলে ঢাকা সেনানিবাসের অফিসার্স মেস ‘এ’-তে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন মিলিটারি অপারেশনস ডাইরেক্টরেটের কর্নেল স্টাফ কর্নেল মো. শফিকুল ইসলাম। সংবাদ সম্মেলনে তিনি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিসহ সাম্প্রতিক নানা বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব দেন।

এক প্রশ্নের জবাবে কর্নেল মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, মাদক ও চাঁদাবাজির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ৫ হাজার ৫৭৬ জনকে এখন পর্যন্ত গ্রেপ্তার করেছি। চাঁদাবাজ বা অন্যান্য অপরাধ নিয়ন্ত্রণের জন্য যেসব আইনশৃঙ্খলা এজেন্সিগুলোর সর্বাগ্রে দায়িত্ব পালন করার কথা, তারা যদি কার্যকরভাবে দায়িত্ব পালন করে তাহলে আরও কমে আসবে বলে আশা করি। সাথে সাথে আমাদের যে আভিযানিক দায়িত্ব আছে আমরা সেটা সর্বদা পালন করছি। আমরা সব আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যদি একসঙ্গে কাজ করি তাহলে চাঁদাবাজির মতো অপরাধ কমে আসবে বলে বিশ্বাস করি। অপরাধীদের গ্রেপ্তার করার পর বিচারিক প্রক্রিয়ায় হস্তান্তর করার পর আমাদের আর কিছু করার থাকে না।

পার্বত্য অঞ্চলে সন্ত্রাসীদের সংঘাতকে সেনাবাহিনী কীভাবে দেখছে— প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, চাঁদাবাজি ও মানুষের কাছ থেকে টাকা আদায়ের জন্য বিভিন্ন দুষ্কৃতকারীরা এইটা করে থাকে। আমাদের কার্যক্রম ও অভিযান জারি রেখেছি। ভবিষ্যতেও আমাদের কার্যক্রম চলমান থাকবে।

বান্দরবানের আর্মি ক্যাম্প গুটিয়ে নেওয়া, কুকি চিন, আরাকান আর্মি ও বান্দরবানে অস্ত্র কেনা-বেচা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে কর্নেল মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, সেনাবাহিনী পার্বত্য চট্টগ্রামে প্রটেকশন দিয়ে যাচ্ছে এবং ভালোভাবে দিয়ে যাচ্ছে। আভিযানিক কার্যক্রম পরিচালনা করছি। আভিযানিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে গিয়ে যদি আমাদের ক্যাম্পের প্রয়োজন হয় তাহলে আমরা টেম্পরারি অপারেটিং বেইস করে আভিযানিক কার্যক্রম পরিচালনা করছি।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এবং গণমাধ্যমেও খবর এসেছে সেনাবাহিনীর মেজর সাদিক আওয়ামী লীগের লোকজনকে প্রশিক্ষণ দিচ্ছে— এ বিষয়ে সেনাবাহিনীর মন্তব্য জানতে চাইলে তিনি বলেন, মেজর সাদিকের বিষয়ে আমরা অবগত আছি। এ বিষয়ে তদন্ত চলমান আছে। তদন্ত শেষে বিস্তারিত বলতে পারব।

এনসিপি যখন ঝামেলায় পড়েছে তখন সেনাবাহিনী প্রটেকশন দিয়েছে, আবার এখন শোনা যাচ্ছে সেনাবাহিনী তাদের আর প্রটেকশন দেবে না— এ বিষয়ে জানতে চাইলে কর্নেল মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, আমরা কোনো রাজনৈতিক দলকে বিশেষভাবে কখনো সহায়তা করিনি। আমাদের দায়িত্বের মধ্যে কাউকে বিশেষভাবে দেখি না। গোপালগঞ্জে যেটা হয়েছে ওইখানে ওই রাজনৈতিক দলের অনেকের জীবননাশের হুমকি ছিল। তাদের জীবন বাঁচানোর জন্যই সেনাবাহিনী সহযোগিতা করেছে। এখানে জীবন বাঁচানোই মূল লক্ষ্য ছিলো অন্য কিছু না।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কোনো রাজনৈতিক দল কোথায় সমাবেশ করবে, এটা ক্লিয়ারেন্স দিতে হবে স্থানীয় প্রশাসন থেকে। আমাদের কাছে এসব বিষয়ে কোনো তথ্য ছিল না। গোপালগঞ্জে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি ছিল। শুধুমাত্র ইটপাটকেল নিক্ষেপ করা হয়নি, ককটেলও নিক্ষেপ করা হয়েছে। যখন সেখানে জীবননাশের হুমকি ছিল তখন আমাদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বল প্রয়োগ করে। এখানে প্রাণঘাতী কোনো অস্ত্রের ব্যবহার করা হয়নি।

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা স্পষ্টভাবে বলেছেন, গোপালগঞ্জে সেনাবাহিনী গুলি করেছে— এই বিষয়ে অবস্থান জানতে চাইলে তিনি বলেন, গোপালগঞ্জে কী হয়েছিল সেটার সত্যতা উদঘাটনের জন্য একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আশা করি এই কমিটি সত্য এবং সঠিক ঘটনা উন্মোচন করতে পারবে।

বিশেষ কোনো রাজনৈতিক দলের প্রতি কি সেনাবাহিনীর দুর্বলতা আছে— এমন প্রশ্নের জবাবের কর্নেল মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, আমাদের বিশেষ কোনো দলের প্রতি আলাদা নজর নেই। দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে সেনাবাহিনীর কাছে সবাই সমান। যেখানে জনদুর্ভোগ ও জীবননাশের হুমকি থাকে, সেখানে আমরা কঠোর হই বা জনসাধারণকে সহযোগিতা করি। গোপালগঞ্জে যদি আমরা সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন না করতাম তাহলে সেখানে অনেক হতাহত বা জীবননাশের ঘটনা ঘটতে পারত।

রামুতে সিটি ব্যাংক পিএলসির নতুন এজেন্ট আউটলেট উদ্বোধন

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১ মে, ২০২৬, ১১:২০ অপরাহ্ণ
রামুতে সিটি ব্যাংক পিএলসির নতুন এজেন্ট আউটলেট উদ্বোধন
শেয়ার করুন

কক্সবাজারের রামু উপজেলায় আধুনিক ব্যাংকিং সেবা সম্প্রসারণে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে। চৌমুহনী এলাকার রবিন শপিং কমপ্লেক্সে সিটি ব্যাংক পিএলসি-এর রামু সদর এজেন্ট আউটলেটের উদ্বোধন করা হয়। বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) দুপুর ২ ঘটিকার সময় ফিতা কেটে আনুষ্ঠানিকভাবে সিটি এজেন্ট ব্যাংকিং আউটলেটের কার্যক্রম শুরু হয়।

 

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংক-এর ফিন্যান্সিয়াল ইনক্লুশন ডিপার্টমেন্টের অতিরিক্ত পরিচালক কাজী মুতমাইন্না তাহমিদা। এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের বিভিন্ন বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন ব্যাংকিং রেগুলেশনস অ্যান্ড পলিসি ডিপার্টমেন্ট-১ এর অতিরিক্ত পরিচালক মো. আরিফুল ইসলাম, পেমেন্ট সিস্টেমস ডিপার্টমেন্ট-১ এর অতিরিক্ত পরিচালক রাবেয়া খন্দকার, এসএমই ও স্পেশাল প্রোগ্রাম ডিপার্টমেন্টের অতিরিক্ত পরিচালক হাফিয়া তাজরিয়ান এবং একই বিভাগের যুগ্ম পরিচালক নাজিয়া হক ও সালাহউদ্দীন মাহমুদ।

 

এছাড়াও অনুষ্ঠানে সিটি ব্যাংক পিএলসির উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও হেড অব স্মল, মাইক্রোফাইন্যান্স অ্যান্ড এজেন্ট ব্যাংকিং বিজনেস কামরুল মেহেদী এবং হেড অব এজেন্ট ব্যাংকিং বিজনেস মহিবুর রহমান সহ সিটি ব্যাংকের সিনিয়র ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

 

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, এজেন্ট ব্যাংকিং কার্যক্রম দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ব্যাংকিং সেবা পৌঁছে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। নতুন এই আউটলেট চালুর মাধ্যমে রামু এলাকার সাধারণ মানুষ সহজে, দ্রুত ও নিরাপদে ব্যাংকিং সেবা গ্রহণ করতে পারবেন বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

 

 

রামু চৌমুহনী এজেন্ট আউটলেটে এই অগ্রযাত্রায় এজেন্ট মালিক হিসেবে যুক্ত হয়েছেন তরুণ ও উচ্চশিক্ষিত উদ্যোক্তা আশরাফুল করিম। রামুর পূর্ব শাহমদর পাড়া (চাকমারকুল) এলাকার কৃতি সন্তান আশরাফুল করিম চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগ থেকে উচ্চশিক্ষা সম্পন্ন করেছেন। তাঁর বাবা শামসুল আলম এবং মাতা শাহিদা খানম। একজন শিক্ষিত তরুণ হিসেবে স্থানীয় অর্থনীতিতে অবদান রাখার লক্ষ্যেই তিনি সিটি ব্যাংকের এই উদ্যোগের সাথে সম্পৃক্ত হয়েছেন।

 

এই এজেন্ট আউটলেটের মাধ্যমে স্থানীয় বাসিন্দারা জমা উত্তোলন রেমিট্যান্সসহ বিভিন্ন আধুনিক ব্যাংকিং সুবিধা ঘরের কাছেই পাবেন। সংশ্লিষ্টদের মতে, এই উদ্যোগ রামুর অর্থনৈতিক কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করবে এবং আর্থিক অন্তর্ভুক্তি জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।

 

 

উদ্বোধনের মাধ্যমে রামু বাসীর জন্য আধুনিক ব্যাংকিং সুবিধা আরও একধাপ এগিয়ে গেল বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

দুর্ঘটনায় নিভল স্বামী-স্ত্রীর প্রাণ, অনাথ ৩ মাসের শিশু

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১ মে, ২০২৬, ৯:১২ অপরাহ্ণ
দুর্ঘটনায় নিভল স্বামী-স্ত্রীর  প্রাণ, অনাথ ৩ মাসের শিশু
শেয়ার করুন

শুক্রবার (১ মে) বিকেল আনুমানিক ৩টার দিকে ঢাকা–খুলনা মহাসড়কের মধুখালী পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের পরীক্ষেতপুর হাচারির সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

 

 

 

নিহতরা হলেন উপজেলার গাজনা ইউনিয়নের আশাপুর গ্রামের হাবিবুল ইসলামের ছেলে তামিম মিয়া (২০) এবং তার স্ত্রী শিমলা খাতুন (১৯)। তারা মোটরসাইকেলে করে ডাক্তার দেখানোর উদ্দেশ্যে ফরিদপুর যাচ্ছিলেন।

 

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘটনাস্থলে পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ইঞ্জিনচালিত পাঁচ চাকার ট্রলির সঙ্গে মোটরসাইকেলটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে দুজনই গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা দ্রুত তাদের উদ্ধার করে মধুখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তামিম মিয়াকে মৃত ঘোষণা করেন।

 

 

 

এদিকে গুরুতর আহত অবস্থায় শিমলা খাতুনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হলে সেখানেও তিনি মারা যান।

 

 

 

নিহত দম্পতির তিন মাস বয়সী একটি পুত্রসন্তান রয়েছে। তাদের আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবারসহ পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

 

 

 

এ বিষয়ে করিমপুর হাইওয়ে পুলিশের উপপরিদর্শক শফিকুল ইসলাম জানান, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে এবং দুর্ঘটনার বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

উখিয়ায় গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১ মে, ২০২৬, ৮:৩৫ অপরাহ্ণ
উখিয়ায় গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার
শেয়ার করুন

উখিয়ায় নিজ ঘরের ফ্যানের সঙ্গে ফাঁস দিয়ে রাশেদা বেগম (৪৩) নামে এক গৃহবধূ আত্মহত্যা করেছেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ।

 

শুক্রবার (১ মে) সকালে উপজেলার জালিয়াপালং ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের মধ্যম নিধানিয়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

 

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকাল ৮টার আগে যেকোনো সময় নিজ বসতঘরে ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস দেন রাশেদা বেগম। পরে সকাল ৯টার দিকে তার স্বামী আবুল হাসেম ঘরে প্রবেশ করে তাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। এসময় তিনি দ্রুত ইনানী পুলিশ ফাঁড়িতে খবর দেন। খবর পেয়ে ইনানী পুলিশ ফাঁড়ির এসআই দুর্জয় ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করেন।

 

ইনানী পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ দুর্জয় সরকার জানিয়েছে, প্রাথমিকভাবে এটি আত্মহত্যা বলে ধারণা করা হলেও ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে। মরদেহের বিষয়ে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।