খুঁজুন
মঙ্গলবার, ১৯ মে, ২০২৬, ৫ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩

আবার নতুন কোন মিশনে হাসনাত-পাটওয়ারী?

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ১৭ আগস্ট, ২০২৫, ১০:১৫ পূর্বাহ্ণ
আবার নতুন কোন মিশনে হাসনাত-পাটওয়ারী?
শেয়ার করুন

লন্ডনে সিজদা দিতে গিয়েছিলেন, ওহি নিয়ে এসেছেন, প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে নিয়ে এ ধরনের কথা শুনতে অবিশ্বাস্য লাগলেও বাস্তব। আর বলেছেন কে? ড. ইউনূসের অন্যতম নিয়োগকর্তা হাসনাত-পাটওয়ারী।
কখন বললেন? যখন ফেব্রুয়ারিতেই নির্বাচন, কেউ তা ঠেকাতে পারবে না বলে গতকাল প্রত্যয়ের মতো করে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। বলেন, নির্বাচন ঠেকাতে এলে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিরোধ করা হবে।
কোনো চাঁদাবাজকে দেশে থাকতে দেওয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারিও দেন তিনি।

নির্বাচন প্রশ্নে সুজন সম্পাদক ও নির্বাচনবিষয়ক সংস্কার কমিটির বিশিষ্টজন বদিউল আলম মজুমদারের বক্তব্যও আমলে নেওয়ার মতো।
এত দিন নির্বাচন বিষয়ে তাঁর কথায় একটু এদিক-সেদিক থাকলেও;

লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিয়েও কোনো সংকট নেই। বিস্ময়করভাবে এদিনই জাতীয় নির্বাচনের আগে গণপরিষদ নির্বাচনের ব্যাপারে কট্টর অবস্থান জানান জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতারা। ‘জুলাই সনদ বাস্তবায়নে গণপরিষদ নির্বাচন’ শীর্ষক এক আলোচনায় দলটির নেতারা এ দাবি তোলেন।
অনুষ্ঠানে এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী দাবি করেন, বর্তমান সংকট নিরসনের একমাত্র সমাধান গণপরিষদ নির্বাচন।

তিনি বলেই বসেন, ঐকমত্য কমিশনের সময় বাড়ানোর দরকার নেই। ইউনূস সরকার জনগণকে নিয়ে জুলাই সনদ না দেওয়ার মাধ্যমে গাদ্দারি-বেঈমানি করেছে বলেও মন্তব্য তাঁর।
এনসিপির মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুুল্লাহ বলেন, ‘নির্বাচন যেদিন খুশি হোক, কিন্তু নির্বাচনের আগে গণপরিষদ নির্বাচন হতেই হবে। বর্তমান সংবিধান টেক্সট বুক অব ফ্যাসিজম। আসন দিয়ে এনসিপিকে কেনা সম্ভব নয়। ’

নির্বাচন সামনে রেখে এর চেয়ে ভয়ানক কথা আর কী হতে পারে? এনসিপির দুই নেতা হাসনাত আবদুল্লাহ ও নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ড. ইউনূসের উদ্দেশে এ ধরনের কথা কেন জরুরি হয়ে গেল? এর ফের কোথায়? এও কি তাদের কোনো ম্যাটিকুলাসের অংশ?

এর আগে সেনানিবাসে বৈঠক নিয়ে হাসনাত আবদুল্লাহর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া স্ট্যাটাসকে  ‘শিষ্টাচারবর্জিত’ বলে মন্তব্য করেছিলেন দলটির মুখ্য সমন্বয়কারী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। ভুল হলে দেশবাসীকে ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখার অনুরোধও করেছিলেন পাটওয়ারী। এবার দুজন একই বক্তব্য দিয়ে বসলেন।

এমনিতেই নাহিদ, হাসনাত, সজীব, সারজিস, পাটওয়ারীদের রাজনৈতিক ঘর-সংসার এনসিপিতে একের পর এক গোলমাল যাচ্ছে। দলীয় কর্মকাণ্ডে হতাশা, অনিয়মের অভিযোগ, না জানিয়ে পদায়ন বা অন্য দলের সঙ্গে সম্পৃক্ততা—এমন নানা কারণ দেখিয়ে গত দুই মাসে দলটি থেকে প্রায় ২৫ নেতাকর্মী পদত্যাগ করেছেন।

দলীয় নিবন্ধনকে কেন্দ্র করে গত ১ জুন ঢাকা মহানগর উত্তরে সমন্বয় কমিটি গঠনের মধ্য দিয়ে জেলা-উপজেলা পর্যায়ে এনসিপির কমিটি গঠন শুরু হয়। এখন পর্যন্ত দেশের ৩৩টি জেলা ও প্রায় ২০০টি উপজেলায় সমন্বয় কমিটি করেছে এনসিপি। এসব কমিটি গঠনের পর আওয়ামী লীগ ও বিএনপি পরিবারের সদস্যকে পদায়ন, কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে অনিয়মসহ নানা অভিযোগ উঠতে থাকে। পরে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে ও সংবাদ সম্মেলন করে পদত্যাগ করেন অনেক নেতা। শুধু সিলেট জেলা থেকেই পদত্যাগ করেন ৯ জন।

গত ৯ আগস্ট মাদারীপুরের শিবচর উপজেলা সমন্বয় কমিটি থেকে একসঙ্গে পদত্যাগ করেন এনসিপির চার নেতা। এরপর ১০ আগস্ট ফরিদপুরের সমন্বয় কমিটির সদস্য মো. রুবেল মিয়া পদত্যাগ করেন। এনসিপির ফরিদপুর জেলা সমন্বয় কমিটির প্রধান সমন্বয়কারী সৈয়দা নীলিমা দোলার কাছে দেওয়া পদত্যাগপত্রে তিনি উল্লেখ করেন, সম্প্রতি দলের কর্মকাণ্ড, বিভিন্ন ধরনের অনিয়মের অভিযোগ, দলের সিদ্ধান্ত এবং অবস্থানগুলো জুলাই বিপ্লবের নীতি ও নৈতিকতার পরিপন্থী বলে মনে হওয়ায় এবং দলটির বর্তমান পথচলা তাঁর ব্যক্তিগত আদর্শ ও মূল্যবোধের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হওয়ায় তিনি গভীরভাবে হতাশ ও বিচলিত। এর আগে ৮ আগস্ট চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলা জাতীয় নাগরিক পার্টির সমন্বয় কমিটি থেকে ১ নম্বর যুগ্ম সমন্বয়কারী এ ইউ মাসুদ (আরফান উদ্দিন) পদত্যাগ করেন। ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে তিনি এ সিদ্ধান্ত জানান। একই দিন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট দিয়ে দুই নেতা শরীয়তপুর জেলা সমন্বয় কমিটির যুগ্ম সমন্বয়কারী ও ডামুড্যা উপজেলা কমিটির প্রধান সমন্বয়কারী তারিকুল ইসলাম এবং জেলা কমিটির সদস্য পলাশ খান পদত্যাগ করেন।

গত ২৯ জুন এনসিপির মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ ও সদস্যসচিব আখতার হোসেন স্বাক্ষরিত মতলব দক্ষিণ উপজেলা শাখার সমন্বয় কমিটি ঘোষিত হয়। এর কিছুক্ষণ পরই ওই কমিটির প্রধান সমন্বয়কারী ডি এম আলাউদ্দিনকে ‘জাতীয় পার্টির নেতা’ ও ‘ফ্যাসিস্টের সহযোগী’ আখ্যা দিয়ে পদত্যাগ করেন যুগ্ম সমন্বয়কারী হেলাল উদ্দিন। নিজের ফেসবুক আইডি থেকে তিনি পদত্যাগের ঘোষণা দেন।

এ ছাড়া ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে এবং কেন্দ্রীয় দপ্তরে পদত্যাগপত্র পাঠিয়ে এনসিপি বাগমারা উপজেলা কমিটি থেকে পদত্যাগ করেন তিন সদস্য—হাদিউজ্জামান রাফি, ফুয়াদ হাসান গানিম ও রাবিউল ইসলাম রাহুল। এনসিপি থেকে পদত্যাগ করেছেন সিলেট জেলা কমিটির যুগ্ম সমন্বয়কারী ও জুলাইয়ে নিহত সাংবাদিক এ টি এম তুরাবের ভাই আবুল আহসান জাবুরও। তিনিসহ সিলেটে এনসিপি থেকে ৯ জন পদত্যাগ করেন। গত ১২ জুলাই কমিটি ঘোষণার পরদিন বিশ্বনাথ ও গোয়াইনঘাট উপজেলা কমিটি থেকে চার নেতা পদত্যাগ করেন। তাঁদের মধ্যে গোয়াইনঘাট উপজেলা কমিটি থেকে সদস্য ফাহিম আহমদ ও যুগ্ম সমন্বয়কারী নাদিম মাহমুদ এবং বিশ্বনাথ উপজেলা কমিটি থেকে যুগ্ম সমন্বয়কারী রুহুল আমিন ও সদস্য শাহেদ আহম্মেদ পদত্যাগ করেন। এ ছাড়া গত ২১ জুলাই গোয়াইনঘাট উপজেলা কমিটি থেকে আরো চার নেতা পদত্যাগ করেন।

এর আগে দল গঠনের পরপরই এনসিপি থেকে পদত্যাগ করেন দলটির তিন কেন্দ্রীয় নেতা যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আবু হানিফ, যুগ্ম মুখ্য সংগঠক (উত্তর অঞ্চল) হানিফ খান সজীব ও যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আব্দুজ জাহের। পদত্যাগপত্রে তাঁরা ব্যক্তিগত কারণের কথা জানান এবং পদত্যাগের পর আগের দল গণ অধিকার পরিষদে ফিরে যান।

এদিকে সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের কারণ দেখিয়ে এনসিপির মাদারীপুর জেলা ও সদর উপজেলা সমন্বয় কমিটি স্থগিত করা হয়েছে। একই সঙ্গে মাদারীপুর জেলা কমিটির সদস্য মো. আব্দুল্লাহ আদিল ও রাতুল হাওলাদারের প্রাথমিক সদস্যপদসহ সব সাংগঠনিক পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এ ছাড়া শেরপুরের নালিতাবাড়ীতে সমন্বয় কমিটি গঠনের মাত্র দুই দিন পর নানা আলোচনা-সমালোচনার মুখে তা স্থগিত করা হয়। এনসিপির বিভিন্ন জেলা, উপজেলার কমিটির সদস্যরা পদত্যাগ করলেও তাঁরা দলীয় কোনো নির্দেশনা মানেননি। পদত্যাগ পাঠানো হয়নি কেন্দ্রীয় দপ্তর সেলে। বেশির ভাগই পদত্যাগ করেছেন ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে। এ ছাড়া শৃঙ্খলাভঙ্গ, নৈতিক স্খলন, বিতর্কে জড়ানোসহ বিভিন্ন ঘটনায় ১০ জন কেন্দ্রীয় নেতাকে গত ছয় মাসে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে এনসিপি। এ রকম অবস্থায় কোন অভিযাত্রার ফেরে পড়লেন হাসনাত-পাটওয়ারীরা?

লেখক : সাংবাদিক-কলামিস্ট; ডেপুটি হেড অব নিউজ, বাংলাভিশন

সিলেট সীমান্তে বিএসএফের গুলির জবাবে বিজিবির পাল্টা গুলি

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৯ মে, ২০২৬, ১১:৫৪ পূর্বাহ্ণ
সিলেট সীমান্তে বিএসএফের গুলির জবাবে বিজিবির পাল্টা গুলি
শেয়ার করুন

সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার সোনারহাট সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের গুলির জবাবে পাল্টা গুলিবর্ষণ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। সোমবার (১৮ মে) বিকেলে ঘটা এই ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। বর্তমানে সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ও শান্ত রয়েছে।

মঙ্গলবার (১৯ মে) সকালে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে বিজিবি। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বিজিবির সিলেট ব্যাটালিয়নের (৪৮ বিজিবি) দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় বিএসএফ গুলি ছুড়লে তাৎক্ষণিকভাবে কড়া প্রতিক্রিয়া জানায় বিজিবি। পরে বিজিবির পক্ষ থেকে পাল্টা গুলিবর্ষণ করা হলে পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আসে।

 

 

 

ঘটনার পরপরই সংশ্লিষ্ট সীমান্ত এলাকায় বিজিবির টহল ও নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। সেই সঙ্গে যেকোনো উসকানিমূলক ও অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।

উখিয়ার আলোচিত সেই মায়ের হত্যাকান্ডের ঘটনায় ১০জনকে আসামি করে থানায় মামলা দায়ের

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৯ মে, ২০২৬, ১:৪৮ পূর্বাহ্ণ
উখিয়ার আলোচিত সেই মায়ের হত্যাকান্ডের ঘটনায় ১০জনকে আসামি করে থানায় মামলা দায়ের
শেয়ার করুন

কক্সবাজারের উখিয়ায় ছেলেকে প্রতিপক্ষের হামলা থেকে বাঁচাতে গিয়ে নিহত হওয়া গৃহবধূ ছৈয়দা খাতুন হত্যা ঘটনায় অবশেষে ৪৮ ঘণ্টা পর মামলা দায়ের হয়েছে। মামলায় স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের কয়েকজন নেতাকর্মীসহ ১০ জনকে এজাহারনামীয় আসামি করা হয়েছে। অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে আরও ৭ থেকে ৮ জনকে।

 

নিহত ছৈয়দা খাতুন (৫৫) উপজেলার রাজাপালং ইউনিয়নের টাইপালং গ্রামের বাসিন্দা ও স্থানীয় সব্বির আহমেদের স্ত্রী।

 

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১৬ মে রাতে টাইপালং গ্রামে পূর্ববিরোধের জেরে একদল ব্যক্তি আব্দুর রহমানের ওপর হামলা চালায়। এ সময় ছেলেকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে হামলাকারীদের মারধরে ঘটনাস্থলেই মারা যান তাঁর মা ছৈয়দা খাতুন।

 

সোমবার রাত ৮টার দিকে নিহতের ছেলে আব্দুর রহমান বাদী হয়ে উখিয়া থানায় মামলার এজাহার জমা দেন। পরে পুলিশ সেটিকে নিয়মিত হত্যা মামলা হিসেবে রুজু করে।

 

উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুজিবুর রহমান বলেন, নিহতের ছেলের দেওয়া অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা নেওয়া হয়েছে। জড়িতদের গ্রেপ্তার ও আইনের আওতায় আনতে পুলিশ কাজ করছে।

 

মামলার প্রধান আসামি করা হয়েছে স্থানীয় রাজাপালং ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সম্ভাব্য ইউপি সদস্য প্রার্থী ও উপজেলা বিএনপির সদস্য মিজান সিকদারকে। এ ছাড়া তাঁর ছেলে ছাত্রদল নেতা হাসেম সিকদার জিসানকেও আসামি করা হয়েছে।

 

অন্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন সরকারি স্বাস্থ্য বিভাগের অ্যাম্বুলেন্সচালক শামসুল আলম, ৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আব্দুল করিম, তাঁর ছেলে ছাত্রদল নেতা জুলফিকার আকাশ, ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ছৈয়দ বাবুল, রাজাপালং ইউনিয়ন শ্রমিকদল (দক্ষিণ) সভাপতি সাইফুল ইসলাম সিকদার, জাহাঙ্গীর আলম, জামাল উদ্দিন ও রাজাপালং ইউনিয়ন যুবদল নেতা রফিক উদ্দিন।

 

বাদী আব্দুর রহমান বলেন, “আমার মাকে আমার সামনেই হত্যা করা হয়েছে। যাদের আমি ঘটনাস্থলে দেখেছি, তাঁদের নামই মামলায় দিয়েছি। হত্যাকারীদের বিচার না হওয়া পর্যন্ত আইনি লড়াই চালিয়ে যাব।”

 

এর আগে রোববার দুপুরে টাইপালং গ্রামে ছৈয়দা খাতুনের জানাজায় স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাকর্মীসহ কয়েক হাজার মানুষ অংশ নেন।

অক্সিজেন পাইপ খুঁজতে থাকা বাবার কাছে হঠাৎ নার্সের ফোন, ‘হাসপাতালে আসেন আপনার বাচ্চা মারা গেছে’

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৯ মে, ২০২৬, ১২:০২ পূর্বাহ্ণ
অক্সিজেন পাইপ খুঁজতে থাকা বাবার কাছে হঠাৎ নার্সের ফোন, ‘হাসপাতালে আসেন আপনার বাচ্চা মারা গেছে’
শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের দ্বিতীয় তলায় শিশু নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রের (আইসিইউ) সামনে মোহাম্মদ আলমের মুঠোফোন বেজে ওঠে। গত কয়েক ঘণ্টা ধরে হাই ফ্লো নাজাল ক্যানুলা (অক্সিজেন পাইপ) জোগাড়ের জন্য ছোটাছুটি করেছেন তিনি। একটি কোম্পানির কাছে পাওয়াও গিয়েছিল। আধা ঘণ্টার মধ্যে সেটি হাসপাতালে পৌঁছানোর কথা। এর মধ্যেই ফোন বেজে উঠতেই উৎকণ্ঠা নিয়ে ধরেন তিনি। ভেতর থেকে একজন নার্স জানালেন, তাঁর মেয়ে আর বেঁচে নেই।

 

আজ সোমবার বেলা পৌনে দুইটার দিকে মোহাম্মদ আলম যখন মুঠোফোনে ৯ মাস বয়সী মেয়ে সুরাইয়ার মৃত্যুর খবর পান, তখন তাঁর সঙ্গে কথা হচ্ছিল। মুঠোফোনে কথা বলতে বলতেই তিনি কান্নার দমকে বসে পড়েন। নাজাল ক্যানুলার নাম লেখা স্লিপ তখনো হাতে ধরা। মাত্র কয়েক মিনিট আগেই ফোনে কাউকে অনুনয় করে দ্রুত জীবন রক্ষাকারী অক্সিজেন পাইপটি পাঠানোর জন্য বলেছিলেন তিনি। সাড়ে ১১ হাজার টাকার ওই জিনিসের আর প্রয়োজন পড়বে না তাঁর। আইসিইউর ভেতরেই ছিলেন তাঁর স্ত্রী ছেনোয়ারা বেগম। দরজা খুলে বারান্দায় বেরিয়ে এসে চিৎকার করে তিনি বলতে থাকেন, ‘আর কিচ্ছু লাগবে না…আমার মেয়ে নাই। আর কোনো অক্সিজেন পাইপ লাগবে না।’

 

 

  • চমেক হাসপাতালের শিশুস্বাস্থ্য বিভাগের চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, শিশুটির শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছিল। হামের জটিলতা থেকে তার মস্তিষ্কে প্রদাহ হয়। একে বলা ‘মিজেলস এনসেফালাইটিস’। হামের পরবর্তী জটিলতা হিসেবে অনেকের এমন মস্তিষ্ক বা স্নায়ুতন্ত্র আক্রান্ত হয়। এ অবস্থায় রোগীর উচ্চ জ্বর, খিঁচুনি, অচেতন হয়ে যাওয়া, আচরণগত পরিবর্তন এবং স্মৃতিশক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে। শিশুদের ক্ষেত্রে অবস্থা অনেক বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।

 

কক্সবাজার সদর উপজেলার বাসিন্দা মোহাম্মদ আলম পেশায় আলোকচিত্রী। সৈকতে পর্যটকদের ছবি তুলে সংসার চালাতেন তিনি। হামে আক্রান্ত ৯ মাস বয়সী মেয়ে সুরাইয়া আলমকে নিয়ে তিনি গত বৃহস্পতিবার রাত থেকে হাসপাতালে তিনি। মেয়ের চিকিৎসার খরচ জোগাড় করতে জীবিকার একমাত্র অবলম্বন ক্যামেরাটিও বিক্রি করে দিয়েছিলেন কয়েক দিন আগে। নিজের সবকিছু নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েও মেয়েকে বাঁচাতে পারলেন না তিনি।

 

বেলা তিনটার দিকে ছোট্ট সুরাইয়ার মরদেহটি নিয়ে কক্সবাজারের উদ্দেশে রওনা দেন মোহাম্মদ আলম, তাঁর স্ত্রী ছেনোয়ারা বেগম, শ্যালক মোহাম্মদ সাব্বির এবং স্বজনেরা। ছেনোয়ারা বেগম সন্তানের নিথর দেহ জড়িয়ে ধরে বারবার কেঁদে উঠছিলেন। পেছনে হাঁটছিলেন মোহাম্মদ আলম। তাঁর দৃষ্টি সন্তানের নিথর দেহের দিকে। বিড়বিড় করে বলছিলেন, ‘আদরের ধন বেশি দিন থাকে না ভাই।’

 

 

হাই ফ্লো নাজাল ক্যানুলার সংকট

 

আজ দুপুরে যখন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যখন কথা হচ্ছিল মোহাম্মদ আলমের সঙ্গে, তখন তিনি মেয়ের জন্য হাই ফ্লো নাজাল ক্যানুলার খোঁজ করছিলেন। বাজারে এটি সহজে মেলে না। দাম ১১ হাজার টাকা। কোথায় পাওয়া যায়, কাকে বলা যায়; কিছুই জানা নেই তাঁর। শুধু জানেন, জিনিসটা দরকার। কয়েকজন নার্সের কাছে জিজ্ঞাসা করে একটি কোম্পানির প্রতিনিধির নম্বর পেয়েছিলেন। সেখানে যোগাযোগ করেছেন বারবার। কোম্পানির প্রতিনিধিকে অনুনয় করেছিলেন দ্রুত পৌঁছে দিতে। আধা ঘণ্টা সময় লাগবে বলে জানিয়েছেন ওই প্রতিনিধি, কিন্তু সেই সময় পাওয়া গেল না।

 

মেয়ের মৃত্যুসংবাদ শোনার পর কাঁদতে কাঁদতে মোহাম্মদ আলম প্রশ্ন করেছিলেন, ‘আইসিইউ থেকে একটা বাচ্চাও কেন সুস্থ হয়ে ফিরতে পারে না? এই পাইপ ছিল না কেন? এগুলো তো আইসিইউতে থাকার কথা। লাগলে আগে কেন বলা হলো না? আধা ঘণ্টার মধ্যে আমার বাচ্চাটা মারা গেল।’

 

 

সুরাইয়ার জন্য যে অক্সিজেন পাইপ আনতে বলা হয়েছে, সেটি নিয়ে চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলেছে প্রথম আলো। মোহাম্মদ আলমের হাতে থাকা কাগজে লেখা ছিল, ‘ফিশার অ্যান্ড পায়কেল এয়ারভো ২, এইচএফএনসি সার্কিট, লার্জ সাইজ।’

 

চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, এটি মূলত রোগীর শ্বাসপ্রশ্বাসে সহায়তা করার জন্য ব্যবহৃত একটি বিশেষ যন্ত্রাংশ। এর মাধ্যমে নাকে উচ্চ প্রবাহে উষ্ণ ও আর্দ্র অক্সিজেন সরবরাহ করা হয়, ফলে শ্বাস নিতে সহজ হয় এবং শরীরে অক্সিজেন পৌঁছানোর প্রক্রিয়া উন্নত হয়। এ ধরনের সার্কিট সাধারণত শ্বাসকষ্ট, নিউমোনিয়া এবং অন্যান্য গুরুতর শ্বাসযন্ত্রজনিত সমস্যায় আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসায় ব্যবহার করা হয়।

 

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, শিশু আইসিইউতে মোট ২০ শয্যার ১৫টিতে হাম ও উপসর্গ নিয়ে আসা শিশুদের রাখা হয়েছে। আইসিইউতে হাই ফ্লো মেশিন আছে ১২টি। এর মধ্যে অন্তত দুটিতে ফুটো আছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকেরা। চিকিৎসকদের ভাষ্য, আইসিইউর অধিকাংশ যন্ত্রাংশ সরকারিভাবে আসে না। যেগুলো আসে, সেগুলো প্রায়ই নষ্ট হয়ে যায়।

 

নাম প্রকাশ না করার শর্তে শিশু স্বাস্থ্য বিভাগের এক চিকিৎসক প্রথম আলোকে বলেন, শিশু আইসিইউটি অনুদানে করা। সেখানে অধিকাংশ যন্ত্রাংশ নষ্ট হলে চিকিৎসক কিংবা রোগীদের অর্থে কিনতে হয়। ওই শিশুকে প্রথমে একটি হাই ফ্লো মেশিন দেওয়া হয়, সেটি ফুটো ছিল। পরে আরেকটি ছিল, সেটিতেও সমস্যা ছিল। তাই রোগীকে কিনতে বলা হয়। শিশুর অবস্থা বুঝে সেটি কিনতে মানা করা হয়।

 

জানতে চাইলে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ তসলিম উদ্দীন বলেন, ‘২০ শয্যার শিশু আইসিইউর ১০টি অনুদানের, ১০টি সরকারি। হাই ফ্লো মেশিন পুরো হাসপাতাল মিলিয়ে ৪১টি আছে। রোগীর পক্ষে হাই ফ্লো নাজাল ক্যানুলা (এইচএফএনসি) কেনা সম্ভব নয়। আমি বিষয়টি নিয়ে খোঁজ নেব।’

 

সুরাইয়ার মৃত্যু মিজেলস এনসেফালাইটিসে

 

শিশু সুরাইয়ার গত মাসে একবার জ্বর হয় বলে জানান তার বাবা মোহাম্মদ আলম। তখন কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পাঁচ দিন চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফেরে শিশুটি। গত বৃহস্পতিবার আবারও জ্বর আসে তার। এরপর প্রথমে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নেওয়া হয় তাকে। বৃহস্পতিবার রাতেই তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আনা হয়।

 

 

চমেক হাসপাতালের শিশুস্বাস্থ্য বিভাগের চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, শিশুটির শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছিল। হামের জটিলতা থেকে তার মস্তিষ্কে প্রদাহ হয়। একে বলা ‘মিজেলস এনসেফালাইটিস’। হামের পরবর্তী জটিলতা হিসেবে অনেকের এমন মস্তিষ্ক বা স্নায়ুতন্ত্র আক্রান্ত হয়। এ অবস্থায় রোগীর উচ্চ জ্বর, খিঁচুনি, অচেতন হয়ে যাওয়া, আচরণগত পরিবর্তন এবং স্মৃতিশক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে। শিশুদের ক্ষেত্রে অবস্থা অনেক বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।

 

১৪ ঘণ্টায় চার শিশুর মৃত্যু

 

চমেকের শিশুস্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, গতকাল রোববার রাত ১২টা থেকে আজ সোমবার বেলা দুইটা পর্যন্ত সুরাইয়া আলমসহ চার শিশুর মৃত্যু হয়েছে হাম ও হামের উপসর্গজনিত নিউমোনিয়া নিয়ে। এ ছাড়া আইসিইউতে ছিল ১৪ শিশু। এর আগে শনিবার রাত থেকে রোববার দুপুর পর্যন্ত হাম ও হামের উপসর্গজনিত নিউমোনিয়া নিয়ে ৭ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

 

তবে জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের কাছে হাম ও হামের উপসর্গজনিত মৃত্যুর কোনো তথ্য নেই। সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্যমতে, গতকাল রোববার সকাল ১০টা থেকে আজ সোমবার সকাল ১০টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রামের বিভিন্ন সরকারি বেসরকারি হাসপাতালে নতুন করে হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হয়েছে ৪৩ জন। যার মধ্যে ৩৯ জন আছে নগরের হাসপাতালগুলোতে। ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু নেই। জেলায় এখন পর্যন্ত হামে নিশ্চিত মৃত্যু হয়েছে একজনের। উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে ৮ জন। হাম শনাক্ত হয়েছে ১২৯ জনের।