ইয়াবা পাচারের চেষ্টা সাতকানিয়ায় আটক ৩, অধরা মূল হোতা মিজান ও মুহিব্বুল্লাহ
দেশের অন্যতম মরণব্যাধি নেশাজাতীয় দ্রব্য ইয়াবা পাচার যেন থামছেই না। আইন ও প্রশাসনের নানা তৎপরতার মাঝেও প্রতিনিয়ত নতুন নতুন রোড ব্যাবহার করে সারাদেশে কৌশলে ছড়িয়ে পড়ছে এই মাদক। আর পাচারের কাজে জড়িতরা ধরা পড়লেও সেই চক্রের সাথে জড়িত মূল হোতারা থাকছে অধরা।
সম্প্রতি এমনই একটি ঘটনার জন্ম হয়েছে টেকনাফ-চট্টগ্রাম রুটে। গত ২৭ সেপ্টেম্বর রাত আনুমানিক ২টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক হুমায়ুন কবিরের সার্বিক তত্ত্বাবধানে চট্টগ্রামের সাতকানিয়া থানাধীন ঢেমশা ইউনিয়নের বটতলা গ্রামে অভিযান চালানো হয়। অভিযানে চট্ট মেট্রো-চ ১১-৪৮১১ সিরিয়ালের একটি নোয়া মাইক্রোবাস থামিয়ে প্রায় ৪৫ হাজার পিস ইয়াবাসহ তিনজনকে আটক করা হয়।
আটক ব্যক্তিরা হলেন, সাবরাং ইউনিয়নের মোহাম্মদ ইয়াসিন, মোহাম্মদ ফেরদৌস ও একই ইউনিয়নের ছলিম উল্লাহ।
আটককৃত ইয়াসিন গাড়ির স্ট্যাম্পমূলে মালিক হলেও, গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী এই মাদকের গাড়ির আসল মালিক ও বিনিয়োগকারী হচ্ছেন মুহিবুল্লাহ নামে এক ব্যক্তি। যিনি ইয়াসিনের গাড়ির অংশীদার। তদন্তে উঠে আসে আরও একটি নাম মিজান। যিনি মুহিবুল্লাহর সাথে যৌথভাবে ইয়াবার এই বড় চালানটির মূল হোতা বলে জানিয়েছেন প্রশাসনের একটি সূত্র।
সূত্রমতে, চট্টগ্রামে প্রায় ১ লক্ষ ইয়াবা পাচারের পরিকল্পনা ছিলো এই চক্রের। কিন্তু অভিযানে উদ্ধার হয় মাত্র ৪৫ হাজার পিস। বাকি ইয়াবাগুলো কোথায় গেল? তা নিয়ে স্থানীয়দের মাঝে চলছে নানা আলোচনা। অনেকে মনে করছেন, অভিযানের আগে বা সময়ের ফাঁকে বাকিগুলো গন্তব্যে পৌঁছে গেছে কিংবা অন্য রোডে পাচার হয়ে গেছে।
স্থানীয়দের দাবি, বহনকারীদের গ্রেফতার করলেই মাদক বন্ধ হবে না এমন দাবি স্থানীয় সচেতন মহলের।
বাহারছড়ার বাসিন্দা সাইফুল ইসলাম বলেন,
প্রশাসন শুধু নিচের পর্যায়ের লোকজন ধরছে। যাদের টাকায় ইয়াবা আনা হয়, যারা এই ব্যবসার মূল হোতা, তারা বরাবরের মতোই থেকে যাচ্ছে ধরা-ছোঁয়ার বাইরে।
আরেক স্থানীয় শিক্ষক বলেন, এই মুহিবুল্লাহ ও মিজানের বিরুদ্ধে বহুদিন ধরেই গোপনে ইয়াবা ব্যবসায় জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। অথচ কখনো তাদের আইনের আওতায় আনা যায় না। রাজনৈতিক ছত্রছায়া থাকলে, এসব অপরাধী ধরাও দায়।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের একটি সূত্র জানায়,
আমরা বহনকারী গ্রেফতারের পাশাপাশি মূল মালিকদেরও শনাক্ত করার চেষ্টা করছি। মুহিবুল্লাহ ও মিজানকে ধরতে অভিযান চলছে। তবে এই চক্রের শিকড় অনেক গভীরে, তাই সময় লাগছে।
সাতকানিয়া থানার ওসি বলেন, আটককৃতদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মাদক আইনে মামলা হয়েছে। মূল হোতাদের তথ্যও সংগ্রহ করা হচ্ছে। শিগগিরই তাদের গ্রেফতারে অভিযান চালানো হবে।
এবিষয়ে মুহিবুল্লাহর সাথে যোগাযোগ করা হলে, তিনি মাদক সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি অস্বীকার করেন। এবং এ বিষয়ে কিছু জানেন না বলে জানান।
স্থানীয়রা বলছেন, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান, গোয়েন্দা তথ্য ও গোপন নজরদারি সব কিছুর মাঝেও মূল হোতারা থাকছে ধরাছোঁয়ার বাইরে। মরণনেশা ইয়াবা নির্মূলে শুধুমাত্র বাহক নয়, মূল মালিক ও বিনিয়োগকারীদেরও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছে স্থানীয় সচেতন মহল।

আপনার মতামত লিখুন