খুঁজুন
, ,

আসিয়ান সম্মেলনে গুরুত্ব পায়নি রোহিঙ্গা সংকট

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২৫, ২:২৫ অপরাহ্ণ
আসিয়ান সম্মেলনে গুরুত্ব পায়নি রোহিঙ্গা সংকট
শেয়ার করুন

মিয়ানমার থেকে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ইস্যুটি আঞ্চলিক মানবিক সংকট। দক্ষিণ এশিয়ার দেশ বাংলাদেশ এই সংকটের ফলে সবচেয়ে বেশি চাপে আছে। অথচ গুরুত্বপূর্ণ এই ইস্যুটি গুরুত্বই পায়নি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর সংগঠন আসিয়ানের সম্মেলনে।

গত ২৬ থেকে ২৮ অক্টোবর মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল আসিয়ান সম্মেলন। এই সম্মেলনটি নানা কারণে বেশ গুরুত্বপূর্ণ।

আসয়িানের এবারের সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্র, চীন, ভারত, রাশিয়াসহ জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, ব্রাজিল, কানাডা ও দক্ষিণ আফ্রিকার মতো বিশ্বের বড় শক্তিধর দেশগুলো অংশ নিয়েছে।

আরও অংশ নিয়েছেন বিশ্বব্যাংক, আইএমএফ, আইএলও ও ফিফার মতো আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর প্রধানরা।

সম্মেলনের সময়টাও ছিল গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্ব রাজনীতিতে বড় পরিবর্তন, শুল্কযুদ্ধ এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উপস্থিতির মতো বিষয়গুলো সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করছে। ট্রাম্প থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ার মধ্যে একটি শান্তি চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানেও উপস্থিত ছিলেন।

এছাড়া এবারের সম্মেলনে তিমুর-লেস্তে নতুন সদস্য দেশ হিসেবে যোগ দিয়েছে। চীনসহ অন্যান্য দেশের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তিগুলো হালনাগাদ করা হয়েছে, যেন আসিয়ানকে গ্লোবাল ভ্যালু চেইনে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে নেওয়া যায়।

সম্মেলনে আঞ্চলিক নিরাপত্তা ইস্যু নিয়েও আলোচনা করা হয়। যেমন সমুদ্রে উত্তেজনা, সীমান্ত বিরোধ, প্রতিবেশী দেশের স্থিতিশীলতা ইত্যাদি। কিন্তু রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি।

আরাকান রোহিঙ্গা ন্যাশনাল কাউন্সিলের (এআরএনসি) সহ-সভাপতি নেই সান লুইন জার্মানি থেকে দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘এটা খুবই হতাশাজনক।’

সম্মেলনটিতে মূলত প্রাধান্য পেয়েছে বাণিজ্য ও অর্থনীতি। নেই সান লুইন বলেন, ‘সবাই ব্যস্ত ছিল ট্রাম্প কী বলছেন তা শুনতে। ট্রাম্পও থাইল্যান্ড-কম্বোডিয়া শান্তি চুক্তির কৃতিত্ব নিজের বলে দাবি করছিলেন। কিন্তু রোহিঙ্গাদের জন্য তিনি কী করেছেন? তারা কি মর্যাদার সঙ্গে ও মৌলিক অধিকার নিয়ে বাঁচার অধিকার রাখে না?’

সম্মেলনের একটা ইতিবাচক দিক অবশ্য ছিল। মিয়ানমারের সিনিয়র জেনারেল মিন অং হ্লাইংকে এই সম্মেলনে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি।

নেই সান লুইন জানান, মিয়ানমারের অনেক সংকটের মধ্যে রোহিঙ্গা ইস্যুটি বহু পুরনো ও গভীর একটি সমস্যা। কিন্তু বিশ্বনেতারা একে পুরোপুরি ভুলে গেছেন বলে হতাশা ব্যক্ত করেন তিনি।

২০১৭ সালে প্রায় ৭ লাখ ৫০ হাজার রোহিঙ্গা মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। ২০২৪ সাল থেকে মিয়ানমার সেনাবাহিনী ও বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মির সংঘর্ষে আরও দেড় লাখের বেশি রোহিঙ্গা আবারও পালিয়ে যায়।

জাতিসংঘের হিসাবে, বর্তমানে মিয়ানমারে প্রায় ৩৬ লাখ মানুষ গৃহহীন বা বাস্তুচ্যুত অবস্থায় আছে। ২০২১ সালে ক্ষমতা দখল করা জান্তা সরকার ও বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর মধ্যে চলমান সংঘর্ষের কারণে সাধারণ মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে পালাতে বাধ্য হচ্ছেন।

বিভিন্ন সাহায্যকারী সংস্থা সতর্ক করেছে যে, যুদ্ধবিধ্বস্ত মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে এবং বাংলাদেশে থাকা রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরগুলোতে ভয়াবহ খাদ্যসংকট দেখা দিতে পারে। বর্তমানে প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে বসবাস করছে।

বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের জন্য এই বছর ৯৩৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার সাহায্যের চাহিদা ছিল। কিন্তু এর মাত্র ৩৮ শতাংশ পাওয়া গেছে।

আসিয়ান সম্মেলনে চার পৃষ্ঠার একটি ঘোষণাপত্র গৃহীত হয়। কিন্তু সেই ঘোষণায় ‘রোহিঙ্গা’ শব্দটি একবারও উল্লেখ করা হয়নি বলে জানিয়েছেন আসিয়ান পার্লামেন্টারিয়ানস ফর হিউম্যান রাইটসের সহ-সভাপতি চার্লস সান্তিয়াগো।

সান্তিয়াগো মালয়েশিয়া থেকে দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘এর মানে আসিয়ান রোহিঙ্গা সংকটকে মিয়ানমারের সমস্যা বলে মনেই করছে না। অথচ এটা মিয়ানমারের সমস্যা হলেও এর প্রভাব পুরো অঞ্চলের ওপর পড়ছে।’

যদিও মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও থাইল্যান্ডে অনেক রোহিঙ্গা আছে, তবু সবচেয়ে বেশি চাপে আছে বাংলাদেশ।

সান্তিয়াগো বলেন, ‘আঞ্চলিক সংস্থা হিসেবে আসিয়ানের এই সংকট মোকাবিলায় দায়িত্ব নেওয়া উচিত। আসিয়ান তাদের সদস্য রাষ্ট্রে সংঘটিত গণহত্যাকে উপেক্ষা করতে পারে না।’

এদিকে মিয়ানমারের সামরিক সরকার ডিসেম্বর মাসে নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। কিন্তু আসিয়ানের এ বিষয়ে কোনো অবস্থান দেখা যাচ্ছে না বলে শঙ্কা প্রকাশ করেন সান্তিয়াগো।

জাতিসংঘ, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও অনেক মানবাধিকার সংগঠন বলেছে যে, গৃহযুদ্ধ চলাকালে এই নির্বাচন হবে প্রহসনমূলক এবং তারা কোনো নির্বাচনী পর্যবেক্ষক পাঠাবে না।

কিন্তু আসিয়ান শেষ পর্যন্ত সম্ভবত মিয়ানমারের জান্তা সরকারের এই নির্বাচনকে স্বীকৃতি দেবে বলে মনে করছেন সান্তিয়াগো।

মালয়েশিয়ার সাবেক সংসদ সদস্য সান্তিয়াগো বলেন, ‘এভাবে আসিয়ান রোহিঙ্গা ও গণতান্ত্রিক অধিকারের জন্য সংগ্রাম করা মিয়ানমারের নাগরিকদের প্রচেষ্টাকে ব্যর্থ করছে।’

তিনি আসিয়ানকে অনুরোধ করেন, ‘শুধু কথায় নয়, বাস্তব পদক্ষেপ নিতে হবে। রোহিঙ্গা ও মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা অন্যান্য শরণার্থীদের রক্ষা করতে হবে। গণহত্যার বিরোধিতা করতে হবে।’

জাইমা রহমানের জন্মদিনে ৫ শতাধিক ছাত্রীকে বাইসাইকেল উপহার

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:১৫ অপরাহ্ণ
জাইমা রহমানের জন্মদিনে ৫ শতাধিক ছাত্রীকে বাইসাইকেল উপহার
শেয়ার করুন

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমানের জন্মদিন উপলক্ষে বগুড়ার শিবগঞ্জে ৫৪৮ জন ছাত্রীকে বিনামূল্যে বাইসাইকেল উপহার দেওয়া হয়েছে। রবিবার (২৫ অক্টোবর) বগুড়ার শিবগঞ্জ সরকারি পাইলট উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্রীদের নিয়ে এই আয়োজন করা হয়।

স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের আয়োজনে এসব ছাত্রীদের বাইসাইকেল দেওয়া হয়। এ সময় শিক্ষার্থীরা স্লোগান দেন, ‘শুভ শুভ শুভদিন, জাইমা রহমানের জন্মদিন’ ‘করবো কাজ গড়বো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’।

এ সময় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, সাত শতাধিক মেধাবী শিক্ষার্থীর পরীক্ষা নিয়েছিলাম, যার মধ্যে অংশ নিয়েছিল ৫৪৮ জন ছাত্রী। মোট ১০২টি শিক্ষার্থী প্রতিষ্ঠানের ৫৪৮জনকে ডেকে নিয়ে বাইসাইকেল উপহার দিচ্ছি।

এছাড়া যে প্রতিষ্ঠানে এই বাইসাইকেল প্রদানের আয়োজন করা হয়, তাদেরসহ প্রায় এক হাজার শিক্ষার্থীদের জাইমা রহমানের ছবি সম্বলিত মগ উপহার দেওয়া হয়।

বাইসাইকেল পেয়ে শিক্ষার্থীরা বেশ উচ্ছ্বসিত হন। কেউ কেউ স্কুল মাঠেই সাইকেল চালিয়ে আনন্দ উপভোগ করেন।

ঝোঁপঝাড়ে ফেলে যাওয়া নবজাতককে দত্তক নিতে ১২৩ পরিবারের আবেদন

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১:৩৯ অপরাহ্ণ
ঝোঁপঝাড়ে ফেলে যাওয়া নবজাতককে দত্তক নিতে ১২৩ পরিবারের আবেদন
শেয়ার করুন

চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে ফটিকছড়িতে সড়কের পাশের ঝোপঝাড়ে ফেলে যাওয়া এক নবজাত কন্যাশিশুকে দত্তক নিতে ব্যাপক আগ্রহ দেখা দিয়েছে শিশুটির লালন-পালনের দায়িত্ব নিতে এক দিনেই ১২৩টি আবেদন জমা পড়েছে।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাত পর্যন্ত ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে আবেদনকারীদের সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, আবেদনকারীদের পারিবারিক পরিবেশ, আর্থিক সামর্থ্য, শিশুর পরিচর্যার সক্ষমতা ও অন্যান্য প্রাসঙ্গিক বিষয় বিবেচনায় নিয়ে উপযুক্ত পরিবার নির্বাচনের প্রক্রিয়া চলছে। তবে, আবেদন করলেই শিশুটিকে দত্তক নেওয়ার সুযোগ মিলবে না। এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যাচাই-বাছাই ও প্রযোজ্য আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে।

ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাঈদ মোহাম্মদ ইব্রাহিম গণমাধ্যমকে বলেন, শিশুটিকে দত্তক নিতে বিপুলসংখ্যক আবেদন জমা পড়েছে। উপযুক্ত পরিবার নির্বাচনের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। যাচাই-বাছাই ও আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

এর আগে, গত বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার পাইন্দং ইউনিয়নের উত্তর পাইন্দং এলাকার আমতলীতে সড়কের পাশের ঝোঁপঝাড় থেকে নবজাতকটিকে জীবিত উদ্ধার করা হয়।

স্থানীয় লোকজন শিশুটিকে ঝোঁপের মধ্যে পড়ে থাকতে দেখে পুলিশকে খবর দেন। পরে ফটিকছড়ি থানা-পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশুটিকে উদ্ধার করেন। উদ্ধারের পর তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, শিশুটির শারীরিক অবস্থা ভালো ছিল।তবে কে বা কারা শিশুটিকে সেখানে ফেলে গেছেন, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। শিশুটির নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে উপযুক্ত পরিবার নির্বাচনের পাশাপাশি তাকে পরিত্যক্ত অবস্থায় ফেলে যাওয়ার ঘটনার রহস্য উদঘাটন ও পরিচয় শনাক্তে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় লোকজন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রচেষ্টায় ভোলাখালে অষ্টম সেতু নির্মাণের প্রস্তাব

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১:০০ অপরাহ্ণ
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রচেষ্টায় ভোলাখালে অষ্টম সেতু নির্মাণের প্রস্তাব
শেয়ার করুন

কক্সবাজারের পেকুয়ায় ভোলাখালের ওপর মগনামা বাজারপাড়া থেকে বারবাকিয়া ইউনিয়নের বোধামাঝির ঘোনা পর্যন্ত ১০০ মিটার দীর্ঘ সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রস্তাবিত সেতুটি নির্মিত হলে মগনামা ও বারবাকিয়ার মধ্যে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ স্থাপনের পাশাপাশি পেকুয়া ও কুতুবদিয়ার মানুষের যাতায়াত, পণ্য পরিবহন ও ব্যবসা-বাণিজ্যে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে বলে আশা করছেন স্থানীয়রা।

সম্প্রতি সেতু নির্মাণের উদ্যোগের অংশ হিসেবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও কক্সবাজার-১ আসনের সংসদ সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদের প্রয়োজনীয় সুপারিশ ও প্রস্তাব স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। প্রকল্পটি অনুমোদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও কারিগরি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে সেতু নির্মাণকাজ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

স্থানীয়দের মতে, সেতুটি বাস্তবায়িত হলে মগনামা ও বারবাকিয়ার মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপনের পাশাপাশি পেকুয়া ও কুতুবদিয়ার সঙ্গে মহেশখালী হয়ে চট্টগ্রামের যোগাযোগে একটি বিকল্প ও গুরুত্বপূর্ণ সড়কপথ তৈরি হতে পারে। এতে যাতায়াতের সময় ও পেকুয়া বাজার কেন্দ্রীক যানজট ভোগান্তি কমার পাশাপাশি উপকূলীয় এ অঞ্চলের আর্থসামাজিক কর্মকাণ্ড, কৃষিপণ্য,লবণ, মৎস্য পরিবহন ও ব্যবসা-বাণিজ্যে ইতিবাচক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এদিকে ‎ভোলাখালের বিভিন্ন অংশে ইতোমধ্যে সাতটি সেতু নির্মিত হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে- মগনামা শরৎঘোনা–রাজাখালী নতুনঘোনা সেতু, পেকুয়া পশ্চিম গোঁয়াখালী অংশের রাবারড্যাম সেতু, পেকুয়া বাজার–বারবাকিয়া ফাঁশিয়াখালী সেতু, পেকুয়া মৌলভীপাড়া অংশের আঞ্চলিক মহাসড়ক সেতু, পেকুয়া-বারবাকিয়া বাজার সেতু, পেকুয়া সাবমেরিন নৌঘাঁটি সড়কের সালাহউদ্দিন সেতু এবং বাগুজারা-সাকুরপাড় সেতু।

স্থানীয়দের দাবি, এসব সেতুর ধারাবাহিকতায় মগনামা বাজারপাড়া-বোধামাঝির ঘোনা সেতুটি নির্মিত হলে ভোলাখালের ওপর এটি হবে অষ্টম গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ সেতু। সেতুটি নির্মিত হলে পেকুয়া উপজেলার অভ্যন্তরীণ যোগাযোগব্যবস্থা আরও শক্তিশালী হওয়ার পাশাপাশি কুতুবদিয়ার সঙ্গে সড়ক যোগাযোগেও নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে।

 

‎

 

‎এতে শিক্ষা, চিকিৎসা, লবণ,মৎস্য ও কৃষিপণ্য পরিবহন, ব্যবসা-বাণিজ্য ও সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন চলাচলে দুই উপজেলার মানুষ সুফল পাবেন বলে প্রত্যাশা করছেন স্থানীয়রা। একই সঙ্গে পেকুয়া বাজারকেন্দ্রিক সড়কে যানবাহনের চাপও কিছুটা কমতে পারে বলে মনে করছেন তারা।

 

এলাকাবাসী জানান, দীর্ঘদিন ধরে ভোলাখাল মগনামা ও বারবাকিয়ার মানুষের স্বাভাবিক চলাচলের ক্ষেত্রে একটি বড় প্রতিবন্ধকতা হয়ে আছে। খালের ওপর প্রস্তাবিত সেতুটি নির্মিত হলে দুই এলাকার মধ্যে যোগাযোগ সহজ হওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় অর্থনীতি ও জনজীবনেও ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে।

 

‎দীর্ঘদিনের দাবি ও প্রত্যাশার পর সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়ায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এমপির প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ব্যক্তিগত প্রেস সচিব ছফওয়ানুল করিম বলেন, ‘চকরিয়া-পেকুয়া-মাতামুহুরী অঞ্চলের যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের ধারাবাহিকতায় ভোলাখালের মগনামা বাজারপাড়া অংশে ১০০ মিটার দীর্ঘ সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সুপারিশ ও প্রস্তাব স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। প্রকল্পটি অনুমোদনের পর পরবর্তী প্রশাসনিক ও কারিগরি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে সেতু নির্মাণের কাজ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে।’

 

‎তিনি বলেন, ‘সেতুটি নির্মিত হলে মগনামা, বারবাকিয়া ও আশপাশের এলাকার মানুষের চলাচল সহজ হওয়ার পাশাপাশি পেকুয়া-চকরিয়া অঞ্চলের সড়ক যোগাযোগব্যবস্থায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করছি।’

 

‎

 

‎পেকুয়া উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসাইন বলেন, ‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের প্রচেষ্টায় মগনামা-বোধামাঝির ঘোনা সেতু নির্মাণের উদ্যোগের খবরে বারবাকিয়া ও আশপাশের এলাকার মানুষের মধ্যে উৎসাহ সৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এ অঞ্চলের মানুষ যোগাযোগের ক্ষেত্রে নানা দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। সেতুটি নির্মিত হলে বারবাকিয়াসহ আশপাশের এলাকার সঙ্গে পেকুয়া উপজেলার সরাসরি ও সহজ যোগাযোগব্যবস্থা গড়ে উঠবে। একই সঙ্গে শিক্ষা, চিকিৎসা, কৃষি, ব্যবসা-বাণিজ্য ও সাধারণ মানুষের চলাচলেও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।’

তিনি বলেন, ‘মহেশখালীর মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর, পেকুয়া ও কুতুবদিয়ার মধ্যে যাতায়াত এবং পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রেও এ সেতু গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। জনগণের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণে দ্রুত প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে সেতুটির নির্মাণকাজ শুরুর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।’