খুঁজুন
, ,

চতুর্মূখী চাপে জামায়াত নেতা শাহজাহান, সাত দিন পর ভাগ্য নির্ধারণ

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৬ নভেম্বর, ২০২৫, ২:২০ অপরাহ্ণ
চতুর্মূখী চাপে জামায়াত নেতা শাহজাহান, সাত দিন পর ভাগ্য নির্ধারণ
শেয়ার করুন

চট্টগ্রামের জিইসি কনভেনশ হলে সাম্প্রতিক জামায়াতের দলীয় সমাবেশে প্রশাসনকে ‘জামায়াতের আন্ডারে নিয়ে আসা ও প্রত্যেক প্রাইমারী ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকদের জামায়াতের পক্ষে কথা বলতে বাধ্য করতে হবে’ এমন প্রসঙ্গে দেওয়া বক্তব্য ছড়িয়ে পড়ার চতুর্মূখী চাপে পড়েছেন জামায়াতের কর্মপরিষদের সদস্য শাহজাহান চৌধুরী। বক্তব্যের দুই দিনের মাথায় জামায়াত তাকে একসপ্তাহর সময় বেঁধে দিয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে এবং বিএনপি তাকে গ্রেফতারের দাবী তুলেছে। পুলিশ সার্ভিস এসোসিয়েশন তার বক্তব্যের লিখিত প্রতিবাদ জানিয়েছে। কূটনৈতিক মহলেও চলছে ভিন্ন প্রতিক্রিয়া।

তার এমন বিতর্কিত বক্তব্যের পর রোববার (২৩ নভেম্বর) জামায়াতের অফিসিয়াল পেইজে শাহজাহান চৌধুরীর বক্তব্য জামায়াত সমর্থন করে না দাবী করে দলটি জানায়, এটি একান্ত তার ব্যক্তিগত মতামত। এই বক্তব্যের ব্যাপারে দলের কাছে কোন ব্যাখ্যা নেই। এ বিষয়ে তিনিই ভালো ব্যাখা দিতে পারবেন।

জামায়াতের নির্ভর‍যোগ্য সূত্র বলছে, সাংগঠনিক ভাবমর্যাদা ক্ষুণ্নকারী বক্তব্য রাখার জন্য দলীয় পর্যায়ে আগেও একাধিকবার সতর্ক করা হয়েছিল শাহজাহান চৌধুরীকে। দলীয় সিদ্ধান্তের প্রতি আনুগত্য দেখানো হবে এমন প্রতিশ্রুতি দিলেও তার উদ্ধত্যপূর্ণ আচরণে কোনো পরিবর্তন দেখা যায়নি। পরবর্তিতে এক মাহফিলে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনুস তাকে চট্টগ্রাম বিভাগের দায়িত্ব দিয়েছেন বলে আরেক বিতর্কের জন্ম দেন। চুনতি সীরাত মাহফিলে শাহজাহান চৌধুরীর ইন্ধনে সাতকানিয়া-লোহাগাড়া আসনের সাবেক এমপি মাওলানা শামশুল ইসলাম বক্তব্য প্রদান কালে মাইক বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছিলো। সর্বশেষ তার এমন বক্তব্য কূটনৈতিক মহলেও সংগঠনের প্রতি নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।

জামায়াতের কারণ দর্শানো নোটিশ:

সোমবার (২৪ নভেম্বর) জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার স্বাক্ষরিত কারণ দর্শাও নোটিশে বলা হয়, গত শনিবার (২২ নভেম্বর) সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম নগরীর জিইসি কনভেনশন হলে অনুষ্ঠিত ‘নির্বাচনী দায়িত্বশীল সম্মেলনে’ আপনি বক্তব্য প্রদান করেছেন যে, ‘নির্বাচন শুধু জনগণ দিয়ে নয় যার যার নির্বাচনী এলাকায় প্রশাসনের যারা আছে, তাদের সবাইকে আমাদের আন্ডারে নিয়ে আসতে হবে। আমাদের কথায় উঠবে, আমাদের কথায় বসবে, আমাদের কথায় গ্রেপ্তার করবে, আমাদের কথায় মামলা করবে।’ আপনার এই বক্তব্য বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয়েছে। আমরা বক্তব্যটি দেখেছি, যা রাষ্ট্রীয় প্রশাসনের পেশাদারিত্ব, নিরপেক্ষতাকে স্পষ্টভাবে ব্যাহত করেছে।’

নোটিশে আরো বলা হয়েছে, ‘আমরা মনে করি, প্রশাসন পূর্ণ পেশাদারিত্বের সাথে তাদের দায়িত্ব পালন করবেন, এখানে আমাদের হস্তক্ষেপের কোনো সুযোগ নেই। ইতোপূর্বে বিভিন্ন সময়ে আপনি এই ধরনের সাংগঠনিক ভাবমর্যাদা ক্ষুন্নকারী ও শৃঙ্খলা বিরোধী বক্তব্য রেখেছেন। যার ফলে আপনাকে কয়েকবার সতর্ক করা হয়েছে ও পরামর্শ দেয়া হয়েছে। এমনকি মুহতারাম আমীরে জামায়াতও আপনাকে ডেকে দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন এবং সতর্ক করেছেন। এতদসত্ত্বেও আপনার মধ্যে কোনো পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। এই বক্তব্য প্রকাশের পর প্রশাসনের বিভিন্ন স্তর থেকে তীব্র নিন্দা ও উদ্বেগের প্রতিক্রিয়া পাওয়া যাচ্ছে। দেশের কূটনৈতিক মহল থেকেও সরাসরি প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করা হয়েছে। একই সাথে দেশ-বিদেশে আমাদের জনশক্তি এবং সাধারণ জনগণের মাঝেও বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। এই বক্তব্যের কারণে ইতোমধ্যে সংগঠনের ভাবমর্যাদা গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এটা দলীয় গঠনতন্ত্র, নীতি, আদর্শ, শৃঙ্খলা ও দায়িত্বশীল রাজনৈতিক আচরণের পরিপন্থী।’

কারণ দর্শানও নোটিশে বলা হয়, ‘সম্মানিত আমীরে জামায়াতের নির্দেশে আপনাকে এ মর্মে কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদান করা হচ্ছে যে ‘কেন আপনার ব্যাপারে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না? তার লিখিত জবাব আগামী ৭ (সাত) দিনের মধ্যে প্রদান করতে হবে। উল্লেখিত সময়ের মধ্যে সন্তোষজনক জবাব না পাওয়া গেলে দলীয় গঠনতন্ত্র ও শৃঙ্খলাবিধি অনুযায়ী পরবর্তী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।’

বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস এসোসিয়েশনের প্রতিবাদ:

সোমবার (২৪ নভেম্বর) বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান স্বাক্ষরিত প্রতিবাদে বলা হয়, জামায়াত নেতা শাহজাহান চৌধুরী বক্তব্যে পুলিশকে দলীয় নির্দেশে মামলা গ্রহণ, আসামি গ্রেপ্তার ও প্রশাসনকে অধীনস্থ করার ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে, যা গণতান্ত্রিক কাঠামোর জন্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক ও পুলিশকে হেয়প্রতিপন্ন করার নামান্তর।

প্রতিবাদ লিপিতে আরো বলা হয়, বাংলাদেশ পুলিশ সংবিধান ও বিধিবদ্ধ আইনের ভিত্তিতে পরিচালিত হয়। গত ১৭ বছরে কিছু উচ্চাকাঙ্ক্ষী সদস্যের কর্মকাণ্ডের কারণে জনগণের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি হলেও গত ৫ আগস্টের ছাত্রজনতার অভ্যুত্থানের পর পুলিশ নিরপেক্ষতা বজায় রেখে দায়িত্ব পালন করছে। পুলিশ এখন কোনো রাজনৈতিক দল বা মতের পক্ষে অবস্থান না নিয়ে জনআকাঙ্ক্ষার সঙ্গে সঙ্গতি রেখেই কাজ করছে এবং ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করছে। রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহৃত হওয়ার দিন শেষ হয়েছে এবং পুলিশ বাহিনী এখন কেবল জনগণের কল্যাণ ও জবাবদিহিতার নীতিতে বিশ্বাসী।

সংগঠনটি রাজনৈতিক নেতাদের এমন উচ্চাকাংখা পুলিশকে হেয়প্রতিপন্ন করার নামান্তর বলে আখ্যা দিয়ে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে।

শাহজাহান চৌধুরীকে গ্রেফতারের দাবী জানিয়েছে বিএনপি:

চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক মো. এরশাদ উল্লাহ এবং সদস্যসচিব নাজিমুর রহমান রবিবার এক যৌথ বিবৃতিতে শাহজাহান চৌধুরীর বক্তব্যের তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন ‘গণতন্ত্র, নির্বাচন ও রাষ্ট্রীয় শৃঙ্খলার বিরুদ্ধে এই উসকানিমূলক বক্তব্য প্রদানের কারণে শাহজাহান চৌধুরীকে দ্রুত আইনের আওতায় এনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।’

এছাড়া বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এর তীব্র সমালোচনা করে শাহজাহান চৌধুরীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

কর্মপরিষদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরীর বক্তব্য:

সে দিনের বক্তব্যে আমি টোটাল স্থানীয় প্রশাসনকে দেশ ও জাতির স্বার্থে কাজ করার কথা বুঝিয়েছিলাম। কিন্তু গণমাধ্যম গুলো আমার পূর্ণ বক্তব্য প্রচার না করে খন্ডিত বক্তব্য প্রচার করেছে ফ্যাসিস্টদের উস্কানী দিচ্ছে। ভারত আমাদের প্রিয় জন্ম ভূমির বিরুদ্ধে সব সময় ষড়যন্ত্র করে আসছে। বস্তা বস্তা টাকা নিয়ে তারা নির্বাচনের আগে বাংলাদেশে বিতরণের চেষ্টা করছে। তাদের মদদপোষ্টরা আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে নেমেছে।

টঙ্গীতে মাদ্রাসাশিক্ষার্থীকে চুমু: সেই শিক্ষকের জামিন নামঞ্জুর

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:১৫ অপরাহ্ণ
টঙ্গীতে মাদ্রাসাশিক্ষার্থীকে চুমু: সেই শিক্ষকের জামিন নামঞ্জুর
শেয়ার করুন

গাজীপুরের টঙ্গীতে মাদ্রাসার ভেতরে ছয় বছর বয়সী এক শিশু শিক্ষার্থীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া শিক্ষক মোসলেহ উদ্দিনের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন আদালত। রোববার (২৫ অক্টোবর) দুপুরে গাজীপুর মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২-এর বিচারক ওমর হায়দার উভয় পক্ষের শুনানি শেষে জামিন বাতিলের এই আদেশ দেন।

আদালতে বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মহিউদ্দীন জামিন নামঞ্জুরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, জামিনের ঘোর বিরোধিতা করে আদালতে যুক্তি উপস্থাপন করা হয় যে, আসামি এই মুহূর্তে জামিনে মুক্তি পেলে মামলার সুষ্ঠু তদন্ত ব্যাহত হতে পারে এবং সমাজে এর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। বিজ্ঞ বিচারক উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে আসামির জামিন আবেদন নাকচ করে দেন।

অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট শরিফুল আলম বলেন, আসামির অতীতে কোনো অপরাধের রেকর্ড বা পূর্ববর্তী মামলা নেই। এছাড়া তার দাবি, মামলার অভিযোগগুলো মিথ্যা এবং ঘটনার পক্ষে কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্যপ্রমাণ নেই। এসব যুক্তি তুলে ধরেই তারা জামিনের আবেদন করেছিলেন।

 

এদিকে ঘটনাটির জের ধরে দায়ের হওয়া পাল্টাপাল্টি মামলাকে কেন্দ্র করে একটি মহল পরিকল্পিতভাবে বিভ্রান্তি ও অপপ্রচার ছড়াচ্ছে বলে সতর্ক করেছে পুলিশ। উভয় মামলার নিরপেক্ষ তদন্তের আশ্বাস দিয়ে গাজীপুর মহানগর পুলিশ (জিএমপি) কমিশনার মো. ইসরাইল হাওলাদার গুজব থেকে বিরত থাকার জন্য সর্বসাধারণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে শিশুটির বাবাকে গ্রেপ্তার করতে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে বলে গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া তথ্যকে অসত্য ও ভিত্তিহীন বলে স্পষ্ট করেছেন তিনি।

 

রোববার সকালে জিএমপি ও গণমাধ্যমকর্মীদের সমন্বয়ে পরিচালিত ‘জিএমপি মিডিয়া’ নামের অফিশিয়াল হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে সাংবাদিকদের একটি সংবাদের প্রেক্ষিতে তিনি এসব তথ্য জানান।

 

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, টঙ্গীর আউচপাড়ার শফিউদ্দিন রোডে অবস্থিত ‘ক্বারিউল কুরআন ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসা’র ভেতরে প্রথম শ্রেণির ছয় বছর বয়সী এক ছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শিশুর পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা করা হলে মাদ্রাসার ভাইস প্রিন্সিপাল মো. মোসলেহ উদ্দিনকে তাৎক্ষণিকভাবে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠায় পুলিশ।

 

তবে এর পরপরই ঘটনাটি নতুন দিকে মোড় নেয়। প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ ক্বারী মো. আলমাছ হোসেন গাজীপুরী পাল্টা অভিযোগ তোলেন যে, ঘটনার পর একদল লোক মাদ্রাসায় ঢুকে ব্যাপক ভাঙচুর চালিয়েছে এবং শিক্ষক-কর্মচারীদের মারধর করেছে। এ ঘটনায় তিনি ভুক্তভোগী শিশুটির বাবা শাহজালাল রুমিসহ অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে আরেকটি মামলা দায়ের করেন।

 

পাল্টা এই মামলার পর ‘শিশুটির বাবাকে গ্রেপ্তারে মাঠে নেমেছে পুলিশ’—এমন খবর কিছু গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে তা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক ক্ষোভ ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়। বিভিন্ন ভিডিও ও মন্তব্য ছড়িয়ে পড়ে তৈরি হয় চাঞ্চল্য। তবে পুলিশ পরিষ্কার জানিয়েছে, মামলার তদন্ত আইনি নিয়ম মেনেই এগোচ্ছে এবং কোনো পক্ষকেই উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে হয়রানি করা হচ্ছে না।

জাইমা রহমানের জন্মদিনে ৫ শতাধিক ছাত্রীকে বাইসাইকেল উপহার

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:১৫ অপরাহ্ণ
জাইমা রহমানের জন্মদিনে ৫ শতাধিক ছাত্রীকে বাইসাইকেল উপহার
শেয়ার করুন

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমানের জন্মদিন উপলক্ষে বগুড়ার শিবগঞ্জে ৫৪৮ জন ছাত্রীকে বিনামূল্যে বাইসাইকেল উপহার দেওয়া হয়েছে। রবিবার (২৫ অক্টোবর) বগুড়ার শিবগঞ্জ সরকারি পাইলট উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্রীদের নিয়ে এই আয়োজন করা হয়।

স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের আয়োজনে এসব ছাত্রীদের বাইসাইকেল দেওয়া হয়। এ সময় শিক্ষার্থীরা স্লোগান দেন, ‘শুভ শুভ শুভদিন, জাইমা রহমানের জন্মদিন’ ‘করবো কাজ গড়বো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’।

এ সময় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, সাত শতাধিক মেধাবী শিক্ষার্থীর পরীক্ষা নিয়েছিলাম, যার মধ্যে অংশ নিয়েছিল ৫৪৮ জন ছাত্রী। মোট ১০২টি শিক্ষার্থী প্রতিষ্ঠানের ৫৪৮জনকে ডেকে নিয়ে বাইসাইকেল উপহার দিচ্ছি।

এছাড়া যে প্রতিষ্ঠানে এই বাইসাইকেল প্রদানের আয়োজন করা হয়, তাদেরসহ প্রায় এক হাজার শিক্ষার্থীদের জাইমা রহমানের ছবি সম্বলিত মগ উপহার দেওয়া হয়।

বাইসাইকেল পেয়ে শিক্ষার্থীরা বেশ উচ্ছ্বসিত হন। কেউ কেউ স্কুল মাঠেই সাইকেল চালিয়ে আনন্দ উপভোগ করেন।

ঝোঁপঝাড়ে ফেলে যাওয়া নবজাতককে দত্তক নিতে ১২৩ পরিবারের আবেদন

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১:৩৯ অপরাহ্ণ
ঝোঁপঝাড়ে ফেলে যাওয়া নবজাতককে দত্তক নিতে ১২৩ পরিবারের আবেদন
শেয়ার করুন

চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে ফটিকছড়িতে সড়কের পাশের ঝোপঝাড়ে ফেলে যাওয়া এক নবজাত কন্যাশিশুকে দত্তক নিতে ব্যাপক আগ্রহ দেখা দিয়েছে শিশুটির লালন-পালনের দায়িত্ব নিতে এক দিনেই ১২৩টি আবেদন জমা পড়েছে।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাত পর্যন্ত ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে আবেদনকারীদের সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, আবেদনকারীদের পারিবারিক পরিবেশ, আর্থিক সামর্থ্য, শিশুর পরিচর্যার সক্ষমতা ও অন্যান্য প্রাসঙ্গিক বিষয় বিবেচনায় নিয়ে উপযুক্ত পরিবার নির্বাচনের প্রক্রিয়া চলছে। তবে, আবেদন করলেই শিশুটিকে দত্তক নেওয়ার সুযোগ মিলবে না। এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যাচাই-বাছাই ও প্রযোজ্য আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে।

ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাঈদ মোহাম্মদ ইব্রাহিম গণমাধ্যমকে বলেন, শিশুটিকে দত্তক নিতে বিপুলসংখ্যক আবেদন জমা পড়েছে। উপযুক্ত পরিবার নির্বাচনের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। যাচাই-বাছাই ও আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

এর আগে, গত বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার পাইন্দং ইউনিয়নের উত্তর পাইন্দং এলাকার আমতলীতে সড়কের পাশের ঝোঁপঝাড় থেকে নবজাতকটিকে জীবিত উদ্ধার করা হয়।

স্থানীয় লোকজন শিশুটিকে ঝোঁপের মধ্যে পড়ে থাকতে দেখে পুলিশকে খবর দেন। পরে ফটিকছড়ি থানা-পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশুটিকে উদ্ধার করেন। উদ্ধারের পর তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, শিশুটির শারীরিক অবস্থা ভালো ছিল।তবে কে বা কারা শিশুটিকে সেখানে ফেলে গেছেন, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। শিশুটির নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে উপযুক্ত পরিবার নির্বাচনের পাশাপাশি তাকে পরিত্যক্ত অবস্থায় ফেলে যাওয়ার ঘটনার রহস্য উদঘাটন ও পরিচয় শনাক্তে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় লোকজন।