খুঁজুন
, ,

বনভূমি দখল করে এনজিওর অবৈধ রাজত্ব

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ১০ ডিসেম্বর, ২০২৫, ৮:৫৩ অপরাহ্ণ
বনভূমি দখল করে এনজিওর অবৈধ রাজত্ব
শেয়ার করুন

কক্সবাজার উখিয়ার পাহাড়ি বনভূমি আজ বিপদের মুখে। সরকারি বনভূমি দখল করে দেশি ও আন্তর্জাতিক এনজিও- আইএনজিও অফিস, ওয়্যারহাউস, পশুখামার ও স্থাপনা নির্মাণ করেছে। বন বিভাগ নোটিশ জারি করলেও কার্যক্রম বন্ধ হচ্ছে না। এতে শুধু সরকার কোটি কোটি টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে না, বন ও বন্যপ্রাণীর নিরাপদ আবাসও সংকটে পড়ছে।

ডব্লিউএফপি’র অফিসে বন বিভাগের অভিযান, বাকবিতণ্ডা

মধুরছড়া এলাকায় ডব্লিউএফপি অফিসের নির্মাণ কাজ চলছিল। মঙ্গলবার (৯ ডিসেম্বর) গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বন বিভাগ কাজ বন্ধ করার চেষ্টা করলে ডব্লিউএফপির মাঠকর্মীরা কর্মকর্তাদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়ান।

উখিয়া রেঞ্জের রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. আবদুল মান্নান বলেন,
“সংরক্ষিত বনের জমিতে ডব্লিউএফপি স্থাপনা নির্মাণ করছিল। খবর পেয়ে কাজ বন্ধ করেছি। পুনরায় কাজ শুরু করলে বন বিভাগ ঘটনাস্থলে গিয়ে কাজ বন্ধ করিয়েছি। বিষয়টি উপরি মহলকে অবহিত করা হয়েছে।”

২০২৪ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর উখিয়া রেঞ্জ থেকে ব্র্যাক, ডব্লিউএফপি, আইওএম, ইউএনএইচসিআরসহ ছয়টি সংস্থাকে নোটিশ দেওয়া হয়। নোটিশে ছয় কর্মদিবসের মধ্যে বৈধ কাগজপত্র জমা দিতে বলা হয়েছিল। কিন্তু কোনো সংস্থা তা মানেনি। বরং আগের মতোই দখল করা স্থাপনায় কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, সরকার যদি আইনি প্রক্রিয়ায় বনভূমি ইজারা দিত, বছরে কয়েকশ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় হতো। কিন্তু এখন অবৈধ দখলবাজরা তা হাতিয়ে নিচ্ছে।

পরিবেশ ও বন্যপ্রাণীর ওপর মারাত্মক প্রভাব:

উখিয়া-টেকনাফের বনভূমি একসময় হাতি, হরিণ, বন্যশূকরসহ অসংখ্য প্রাণীর আবাসস্থল। এখন দখলকৃত এলাকায় সড়ক কাটা, কাঁটাতারের বেড়া, বিশাল স্থাপনা নির্মিত হয়েছে। ফলে বন্যপ্রাণীরা স্বাভাবিক আবাস হারাচ্ছে।

বিশেষ করে এশিয়ান হাতির করিডোর বাধাগ্রস্ত। বন সংকোচনের কারণে হাতি মানুষের বসতিতে প্রবেশ করছে, বাড়ছে মানুষ-হাতি সংঘাত।

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা), কক্সবাজার শহর শাখার সভাপতি ইরফান উল হাসান বলেন,
“উখিয়া-টেকনাফের বনভূমি রোহিঙ্গা সংকটের কারণে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত। এর উপর যত্রতত্র স্থাপনা নির্মাণ হলে পাহাড় ধস, বন উজাড়, বন্যপ্রাণীর বিচরণ ব্যাহত এবং জলবায়ুর ওপর নেতিবাচক প্রভাব আরও বাড়বে। বনভূমি কোনো সংস্থার ব্যক্তিগত সম্পদ নয়; এটি রাষ্ট্রের সম্পদ এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের অস্তিত্বের সুরক্ষা। উন্নয়ন বা মানবিক কার্যক্রমের নামে বন ধ্বংস ও দখল গ্রহণযোগ্য নয়।”

সিন্ডিকেটের ছত্রছায়ায় অবৈধ দখল:

উখিয়ার বনভূমি দখলের নেপথ্যে এনজিও- আইএনজিওর সিন্ডিকেট। ওয়ালাপালংয়ের মুহুরীপাড়া এলাকায় মাইশা এন্টারপ্রাইজের বিশাল স্থাপনা স্থানীয়দের প্রবেশও সীমিত করেছে।
মধুরছড়া, কুতুপালং, ফলিয়াপাড়া ও অন্যান্য এলাকায় ওয়্যারহাউস, অফিস এবং পশুখামারের আড়ালে প্রকল্প চালাচ্ছে আন্তর্জাতিক সংস্থা। সরকারি আদেশ উপেক্ষা করে তারা দাপট দেখাচ্ছে।
স্থানীয়দের মতে, প্রভাবশালী রাজনৈতিক মহল ও আন্তর্জাতিক দাতাদের ছত্রছায়ায় এসব কার্যক্রম চলছেই। বন বিভাগের নোটিশ উপেক্ষা করা, প্রশাসনিক উদাসীনতা—সব মিলিয়ে বনভূমি ধ্বংসের পথে।

অপরাধের পেছনের অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত ক্ষতি:

বিশ্লেষকরা বলছেন, বনভূমি যদি আইনি প্রক্রিয়ায় লিজে দেওয়া হতো, সরকার বছরে শতকোটি টাকা রাজস্ব পেত। কিন্তু এখন অবৈধ দখলদাররা কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। বন ও পাহাড়ি পরিবেশ ধ্বংস হচ্ছে, প্রাণবৈচিত্র্য নষ্ট হচ্ছে।

“দখলকৃত এলাকা জরিপ করে চিহ্নিত করতে হবে, এনজিও-আইএনজিওর সব কার্যক্রম আইনের আওতায় আনতে হবে। অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে বিকল্প জমিতে স্থানান্তরের উদ্যোগ নিতে হবে। দখলবাজ সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে,” বলে জানান বিশ্লেষকরা।

২০১৭ সালে মিয়ানমার থেকে আসা রোহিঙ্গাদের জন্য উখিয়া-টেকনাফের পাহাড়ি বনভূমি খোলা হয়েছিল। কয়েক বছরের মধ্যে হাজার হাজার একর বন কেটে আশ্রয়স্থল, বাজার ও দোকানপাট গড়ে ওঠে। সেই সুযোগে বিভিন্ন এনজিও ও আন্তর্জাতিক সংস্থা বনভূমিতে অফিস স্থাপন শুরু করে।
এছাড়া উখিয়ার বনাঞ্চলে সংরক্ষিত এলাকাগুলোয় ওয়্যারহাউস, অফিস, পশুখামার নির্মাণ করে স্থানীয়দের প্রবেশ সীমিত করা হয়েছে।

উখিয়া-টেকনাফের বনভূমি শুধু রোহিঙ্গা সংকটের কারণে নয়, এনজিও-আইএনজিও, স্থানীয় সিন্ডিকেটের দখলদারিতেও ধ্বংসের পথে। সরকারি নোটিশ অগ্রাহ্য করে যারা বনভূমি ব্যবহার করছে, তাদের বিরুদ্ধে আইন প্রয়োগ এখন সময়ের দাবি। আইন প্রয়োগ না হলে উখিয়ার বনভূমি হারাবে প্রাণবৈচিত্র্য, পরিবেশগত ভারসাম্য এবং কোটি কোটি টাকার রাজস্ব।
উখিয়ার বনাঞ্চল আজ একদিকে মানবিক ও উন্নয়নমূলক প্রয়োজনে, অন্যদিকে অবৈধ দখল ও সিন্ডিকেটের দাপটে সংকটাপন্ন। বনভূমি রক্ষা ও সরকারের রাজস্ব ও পরিবেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সময়মতো কঠোর পদক্ষেপ জরুরি।
####

টঙ্গীতে মাদ্রাসাশিক্ষার্থীকে চুমু: সেই শিক্ষকের জামিন নামঞ্জুর

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:১৫ অপরাহ্ণ
টঙ্গীতে মাদ্রাসাশিক্ষার্থীকে চুমু: সেই শিক্ষকের জামিন নামঞ্জুর
শেয়ার করুন

গাজীপুরের টঙ্গীতে মাদ্রাসার ভেতরে ছয় বছর বয়সী এক শিশু শিক্ষার্থীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া শিক্ষক মোসলেহ উদ্দিনের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন আদালত। রোববার (২৫ অক্টোবর) দুপুরে গাজীপুর মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২-এর বিচারক ওমর হায়দার উভয় পক্ষের শুনানি শেষে জামিন বাতিলের এই আদেশ দেন।

আদালতে বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মহিউদ্দীন জামিন নামঞ্জুরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, জামিনের ঘোর বিরোধিতা করে আদালতে যুক্তি উপস্থাপন করা হয় যে, আসামি এই মুহূর্তে জামিনে মুক্তি পেলে মামলার সুষ্ঠু তদন্ত ব্যাহত হতে পারে এবং সমাজে এর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। বিজ্ঞ বিচারক উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে আসামির জামিন আবেদন নাকচ করে দেন।

অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট শরিফুল আলম বলেন, আসামির অতীতে কোনো অপরাধের রেকর্ড বা পূর্ববর্তী মামলা নেই। এছাড়া তার দাবি, মামলার অভিযোগগুলো মিথ্যা এবং ঘটনার পক্ষে কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্যপ্রমাণ নেই। এসব যুক্তি তুলে ধরেই তারা জামিনের আবেদন করেছিলেন।

 

এদিকে ঘটনাটির জের ধরে দায়ের হওয়া পাল্টাপাল্টি মামলাকে কেন্দ্র করে একটি মহল পরিকল্পিতভাবে বিভ্রান্তি ও অপপ্রচার ছড়াচ্ছে বলে সতর্ক করেছে পুলিশ। উভয় মামলার নিরপেক্ষ তদন্তের আশ্বাস দিয়ে গাজীপুর মহানগর পুলিশ (জিএমপি) কমিশনার মো. ইসরাইল হাওলাদার গুজব থেকে বিরত থাকার জন্য সর্বসাধারণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে শিশুটির বাবাকে গ্রেপ্তার করতে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে বলে গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া তথ্যকে অসত্য ও ভিত্তিহীন বলে স্পষ্ট করেছেন তিনি।

 

রোববার সকালে জিএমপি ও গণমাধ্যমকর্মীদের সমন্বয়ে পরিচালিত ‘জিএমপি মিডিয়া’ নামের অফিশিয়াল হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে সাংবাদিকদের একটি সংবাদের প্রেক্ষিতে তিনি এসব তথ্য জানান।

 

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, টঙ্গীর আউচপাড়ার শফিউদ্দিন রোডে অবস্থিত ‘ক্বারিউল কুরআন ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসা’র ভেতরে প্রথম শ্রেণির ছয় বছর বয়সী এক ছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শিশুর পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা করা হলে মাদ্রাসার ভাইস প্রিন্সিপাল মো. মোসলেহ উদ্দিনকে তাৎক্ষণিকভাবে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠায় পুলিশ।

 

তবে এর পরপরই ঘটনাটি নতুন দিকে মোড় নেয়। প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ ক্বারী মো. আলমাছ হোসেন গাজীপুরী পাল্টা অভিযোগ তোলেন যে, ঘটনার পর একদল লোক মাদ্রাসায় ঢুকে ব্যাপক ভাঙচুর চালিয়েছে এবং শিক্ষক-কর্মচারীদের মারধর করেছে। এ ঘটনায় তিনি ভুক্তভোগী শিশুটির বাবা শাহজালাল রুমিসহ অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে আরেকটি মামলা দায়ের করেন।

 

পাল্টা এই মামলার পর ‘শিশুটির বাবাকে গ্রেপ্তারে মাঠে নেমেছে পুলিশ’—এমন খবর কিছু গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে তা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক ক্ষোভ ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়। বিভিন্ন ভিডিও ও মন্তব্য ছড়িয়ে পড়ে তৈরি হয় চাঞ্চল্য। তবে পুলিশ পরিষ্কার জানিয়েছে, মামলার তদন্ত আইনি নিয়ম মেনেই এগোচ্ছে এবং কোনো পক্ষকেই উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে হয়রানি করা হচ্ছে না।

জাইমা রহমানের জন্মদিনে ৫ শতাধিক ছাত্রীকে বাইসাইকেল উপহার

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:১৫ অপরাহ্ণ
জাইমা রহমানের জন্মদিনে ৫ শতাধিক ছাত্রীকে বাইসাইকেল উপহার
শেয়ার করুন

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমানের জন্মদিন উপলক্ষে বগুড়ার শিবগঞ্জে ৫৪৮ জন ছাত্রীকে বিনামূল্যে বাইসাইকেল উপহার দেওয়া হয়েছে। রবিবার (২৫ অক্টোবর) বগুড়ার শিবগঞ্জ সরকারি পাইলট উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্রীদের নিয়ে এই আয়োজন করা হয়।

স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের আয়োজনে এসব ছাত্রীদের বাইসাইকেল দেওয়া হয়। এ সময় শিক্ষার্থীরা স্লোগান দেন, ‘শুভ শুভ শুভদিন, জাইমা রহমানের জন্মদিন’ ‘করবো কাজ গড়বো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’।

এ সময় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, সাত শতাধিক মেধাবী শিক্ষার্থীর পরীক্ষা নিয়েছিলাম, যার মধ্যে অংশ নিয়েছিল ৫৪৮ জন ছাত্রী। মোট ১০২টি শিক্ষার্থী প্রতিষ্ঠানের ৫৪৮জনকে ডেকে নিয়ে বাইসাইকেল উপহার দিচ্ছি।

এছাড়া যে প্রতিষ্ঠানে এই বাইসাইকেল প্রদানের আয়োজন করা হয়, তাদেরসহ প্রায় এক হাজার শিক্ষার্থীদের জাইমা রহমানের ছবি সম্বলিত মগ উপহার দেওয়া হয়।

বাইসাইকেল পেয়ে শিক্ষার্থীরা বেশ উচ্ছ্বসিত হন। কেউ কেউ স্কুল মাঠেই সাইকেল চালিয়ে আনন্দ উপভোগ করেন।

ঝোঁপঝাড়ে ফেলে যাওয়া নবজাতককে দত্তক নিতে ১২৩ পরিবারের আবেদন

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১:৩৯ অপরাহ্ণ
ঝোঁপঝাড়ে ফেলে যাওয়া নবজাতককে দত্তক নিতে ১২৩ পরিবারের আবেদন
শেয়ার করুন

চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে ফটিকছড়িতে সড়কের পাশের ঝোপঝাড়ে ফেলে যাওয়া এক নবজাত কন্যাশিশুকে দত্তক নিতে ব্যাপক আগ্রহ দেখা দিয়েছে শিশুটির লালন-পালনের দায়িত্ব নিতে এক দিনেই ১২৩টি আবেদন জমা পড়েছে।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাত পর্যন্ত ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে আবেদনকারীদের সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, আবেদনকারীদের পারিবারিক পরিবেশ, আর্থিক সামর্থ্য, শিশুর পরিচর্যার সক্ষমতা ও অন্যান্য প্রাসঙ্গিক বিষয় বিবেচনায় নিয়ে উপযুক্ত পরিবার নির্বাচনের প্রক্রিয়া চলছে। তবে, আবেদন করলেই শিশুটিকে দত্তক নেওয়ার সুযোগ মিলবে না। এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যাচাই-বাছাই ও প্রযোজ্য আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে।

ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাঈদ মোহাম্মদ ইব্রাহিম গণমাধ্যমকে বলেন, শিশুটিকে দত্তক নিতে বিপুলসংখ্যক আবেদন জমা পড়েছে। উপযুক্ত পরিবার নির্বাচনের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। যাচাই-বাছাই ও আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

এর আগে, গত বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার পাইন্দং ইউনিয়নের উত্তর পাইন্দং এলাকার আমতলীতে সড়কের পাশের ঝোঁপঝাড় থেকে নবজাতকটিকে জীবিত উদ্ধার করা হয়।

স্থানীয় লোকজন শিশুটিকে ঝোঁপের মধ্যে পড়ে থাকতে দেখে পুলিশকে খবর দেন। পরে ফটিকছড়ি থানা-পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশুটিকে উদ্ধার করেন। উদ্ধারের পর তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, শিশুটির শারীরিক অবস্থা ভালো ছিল।তবে কে বা কারা শিশুটিকে সেখানে ফেলে গেছেন, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। শিশুটির নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে উপযুক্ত পরিবার নির্বাচনের পাশাপাশি তাকে পরিত্যক্ত অবস্থায় ফেলে যাওয়ার ঘটনার রহস্য উদঘাটন ও পরিচয় শনাক্তে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় লোকজন।