খুঁজুন
, ,

ভাইকে ‘ফাঁসাতে’ নিহত দেখিয়ে জুলাই হত্যা মামলা, তদন্তে মিলল জীবিত

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১১ ডিসেম্বর, ২০২৫, ২:৩৩ অপরাহ্ণ
ভাইকে ‘ফাঁসাতে’ নিহত দেখিয়ে জুলাই হত্যা মামলা, তদন্তে মিলল জীবিত
শেয়ার করুন

ভাইয়ের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে বেছে নেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনকে; উত্তাল সেসময়ে ওই ভাইকেই নিহত দেখিয়ে করেন মামলা। তবে শেষ রক্ষা হয়নি, ওই মামলাকারী এখন নিজেই ফেঁসে যাচ্ছেন। হত্যাকাণ্ডের এ মামলা থেকে অব্যাহতি পাচ্ছেন ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৪২ জন।

পুলিশ তদন্তে নেমে দেখতে পেয়েছে, আন্দোলনের মধ্যে ৩ অগাস্ট যাকে হত্যার অভিযোগে মামলা করা হয়েছিল সেই ব্যক্তি দুলাল ওরফে সেলিম (মূল নাম-সোলায়মান সেলিম) জীবিত রয়েছেন।

এ মামলার বাদী সেলিমের ভাই মোস্তফা কামাল ওরফে মোস্ত ডাকাতের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করায় ২১১ ধারায় অভিযোগ দায়েরের অনুমতি চেয়েছেন তদন্ত কর্মকর্তা ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা বিভাগের ওয়ারী বিভাগের এসআই ইনামুল ইসলাম।

ডিবি পুলিশের ওয়ারী জোনের উপ পুলিশ কমিশনার মল্লিক আহসান উদ্দিন বলেন, ইচ্ছাকৃতভাবে বাদী মিথ্যা মামলা দায়ের করেছেন। এজন্য তার বিরুদ্ধে মামলা করতে আদালতের অনুমতি চাওয়া হয়েছে।

“আদালত অনুমতি দিলে আমরা করবো। আবার আদালত বিষয়টা নথিজাতও করতে পারেন। আদালত যেভাবে নির্দেশনা দেবে, আমরা সেইভাবে কাজ করব।”

ভাই ‘নিহত’ হওয়ার দাবি করে ঢাকার একটি আদালতে মামলার আবেদনে সোলায়মান সেলিমের নাম দেওয়া হয় দুলাল ওরফে সেলিম। পেশা দেখানো হয় ‘ঠিকানা’ পরিবহনের হেলপার। তিনি ৩ অগাস্ট যাত্রাবাড়ীতে গুলিতে নিহত হয়েছিলেন বলে অভিযোগ করা হয়।

আদালত বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করে যাত্রাবাড়ী থানা পুলিশকে অভিযোগটি এজাহার হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দেয়।

প্রথমে মামলার আবেদনে ৪১ জনকে আসামি করা হয়েছিল। পরে তদন্তের শুরুতে পুলিশ আরও একজনকে এ মামলায় সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেপ্তার দেখায়। মোট ৪২ আসামির মধ্যে দুইজনকে গ্রেপ্তার দেখায় পুলিশ।

মামলার পরবর্তী তদন্তে গোয়েন্দা পুলিশ জানতে পারে, সেলিম নিহত হননি। এলাকায় ডাকাত হিসেবে পরিচিত এবং হত্যা-ডাকাতি মামলা মাথায় নিয়ে পলাতক তার ভাই মোস্তফা কামাল পারিবারিক বিরোধের জেরে সেলিমকে ফাঁসাতে মামলাটি করেছেন।

তিন ভাইয়ের বিরুদ্ধে তার ‘জমি দখল করার’ চক্রান্ত সাজানোর অভিযোগ করে সোলায়মান সেলিম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমার কোনো ছেলে সন্তান নাই। আমাকে মেরে জমি দখল করতে চায়। এজন্য আমি খুন হয়েছি উল্লেখ করে মামলা করে। পরে যেন খুনের কাজটা করা সহজ হয়।

“তারা আমাকে খুন করে অন্যকে ফাঁসাতে পারে। আতঙ্কের মধ্যে আছি। তারা কখন কী করে ফেলে।”

দুই মেয়ের জনক সেলিম স্ত্রীকে নিয়ে ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়ার বেলতলী বাজারে বসবাস করছেন। ভাইদের ভয়ে বাড়িতেও থাকতে পারছেন না বলে দাবি করেন তিনি। বলেন, “তাদের কারণে বাড়ি ছেড়ে দোকানেই বসবাস করছি। তারা শুধু আমাকে না, আমাদের মেয়েদেরও মেরে ফেলার হুমকি দেয়। এতে তারা আমার জমি দখল করতে পারবে।”

থানা পুলিশের হাতঘুরে মামলার তদন্তভার দেওয়া হয় গোয়েন্দা পুলিশকে (ডিবি)। সম্প্রতি এ মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৪২ জনকে অব্যাহতির সুপারিশ করে আদালতে ৩০ নভেম্বর চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন তদন্ত কর্মকর্তা ডিবির ওয়ারী বিভাগের এসআই ইনামুল।

প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই মহিন উদ্দিন বলেন, এ মামলার পরবর্তী শুনানির দিন রয়েছে ২১ ডিসেম্বর। সেদিন চূড়ান্ত প্রতিবেদনটি আদালতে উপস্থাপন করা হবে।

শেখ হাসিনা ছাড়া অব্যাহতির সুপারিশ করা অপর আসামিদের মধ্যে রয়েছেন- আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সড়ক মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সাবেক মন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, রমেশ চন্দ্র সেন ও আসাদুজ্জামান নুর, সাবেক সংসদ সদস্য শামীম ওসমান ও মশিউর রহমান মোল্লা সজল, শামীম ওসমানের ছেলে অয়ন ওসমান, ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ছাত্রলীগের সভাপতি রাজিবুল ইসলাম বাপ্পি ও সাধারণ সম্পাদক সজল কুন্ড। তারা সবাই পলাতক।

আর গ্রেপ্তার দেখানো দুই আসামি মোহাম্মদ উল্লাহ পাটোয়ারী ও মিরাজ খানকেও অব্যাহতি দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।

কী আছে চূড়ান্ত প্রতিবেদনে

তদন্তে নেমে তদন্তকর্তা এসআই ইনামুল দেখতে পান বাদী মোস্তফা কামাল ও নিহত দেখানো সেলিম আপন ভাই। তারা চার ভাই ও দুই বোন। ভাইদের মধ্যে সেলিম (৫০) সবার ছোট। তাদের বড় ভাই হেলাল উদ্দিন (৬২), মেজ ভাই মো. আবুল হোসেন আলম (৫৮) ও সেজো ভাই মোস্তফা কামাল (৫৫)। তাদের মধ্যে মোস্তফা ডাকাতি করার কারণে সে এলাকায় ‘মোস্ত ডাকাত’ নামে পরিচিত।

চূড়ান্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, মোস্তফার বিরুদ্ধে ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়া থানায় হত্যা মামলাসহ একাধিক মামলা রয়েছে। তার বিরুদ্ধে সার্চ ওয়ারেন্ট থাকায় সে ১০ বছর ধরে পলাতক রয়েছে। তার সঙ্গে সেলিমের কোনো যোগাযোগ নাই। ভাইদের সঙ্গে সেলিমের জায়গা জমি নিয়ে শত্রুতা আছে এবং মামলা চলমান আছে।

হত্যাকাণ্ডের ঘটনা সাজানোর বিষয়ে চূড়ান্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, “আপন ছোট ভাই সোলায়মান সেলিমকে যাতে পরবর্তীতে হত্যা করে লাশ গুম করে সম্পত্তি আত্মসাৎ করতে পারে এবং অসাধুভাবে অর্থনৈতিক লাভবান হওয়ার আশায় এবং মোস্তফা কামাল এজাহার নামীয় আসামিদের টাকার বিনিময়ে মামলা থেকে আদালতে মিথ্যা মামলা দায়ের করেছে মর্মে প্রতীয়মান হয়।”

অনুসন্ধান শেষে তদন্ত কর্মকর্তা সাক্ষ্য-প্রমাণ এবং ঘটনায় পারিপার্শ্বিকতা যাচাই করে দেখেছে যাকে নিহত দেখানো হয়েছে তিনি জীবিত। জমিজমা সংক্রান্তে বিরোধকে কেন্দ্র করে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সুযোগ নেওয়া হয়েছে বলে চূড়ান্ত প্রতিবেদনে তুলে ধরেন তদন্ত কর্মকর্তা।

যে কারণে আসামিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রত্যাহারের সুপারিশ করা হয়েছে।

এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো দুই আসামির একজন মিরাজ খানের আইনজীবী রাশেদুল ইসলাম রাশেদ বলেন, “লোকটা (তার মক্কেল) রাজনীতি করেন না। তারপরও তাকে মামলায় আসামি করা হয়েছে। তাকে প্রথমে লালবাগ থানার একটা মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর কয়েকটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়, যেটির মধ্যে যাত্রাবাড়ী থানার মামলাটাও রয়েছে।

“হত্যার ঘটনাই ঘটল না, তারপরও আসামি হল। হয়রানির শিকার হল। তার উচিত হবে রাষ্ট্রের কাছে ক্ষতিপূরণ চেয়ে মামলা করা। কারণ বিনা কারণে তাকে এ মামলায় আসামি করা হয়েছে।”

মামলার বাদী মোস্তফার দেওয়া মোবাইল ফোন নম্বর বন্ধ পাওয়া গেছে।

প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ জানালেন মুনজারিন টাইলসের স্বত্বাধিকারী শহিদুল মোস্তফা

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:১৭ অপরাহ্ণ
প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ জানালেন মুনজারিন টাইলসের স্বত্বাধিকারী শহিদুল মোস্তফা
শেয়ার করুন

অনলাইন সংবাদমাধ্যম টেলিগ্রাম নিউজে টার্মিনালকেন্দ্রিক ইয়াবা সিন্ডিকেট নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনের একাংশের প্রতিবাদ জানিয়েছেন মুনজারিন টাইলসের স্বত্বাধিকারী শহিদুল মোস্তফা।

 

এক প্রতিবাদলিপিতে শহিদুল মোস্তফা বলেন, প্রকাশিত প্রতিবেদনে তাঁর ছবি ব্যবহার করে ইয়াবা সিন্ডিকেটের সঙ্গে তাঁকে সম্পৃক্ত হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। বিষয়টি তাঁর নজরে আসার পর তিনি বিস্ময় ও উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তাঁর দাবি, প্রতিবেদনে উত্থাপিত অভিযোগের সঙ্গে তাঁর কোনো সম্পৃক্ততা নেই।

 

শহিদুল মোস্তফা জানান, তিনি মুনজারিন টাইলসের স্বত্বাধিকারী। পাশাপাশি তিনি পশ্চিম লারপাড়া সমাজ পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক, মসজিদ পরিচালনা কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, জেলা কমিউনিটি পুলিশের সদস্য এবং লারপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সাবেক সভাপতি হিসেবে বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত রয়েছেন।

 

প্রতিবাদলিপিতে তিনি বলেন, এ ধরনের গুরুতর অভিযোগের ক্ষেত্রে কারও নাম বা ছবি ব্যবহারের আগে তথ্য ও পরিচয় যথাযথভাবে যাচাই করা প্রয়োজন। অন্যথায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সামাজিক মর্যাদা, ব্যক্তিগত সুনাম ও পেশাগত অবস্থান ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

 

শহিদুল মোস্তফা টেলিগ্রাম নিউজ কর্তৃপক্ষকে প্রকাশিত প্রতিবেদনের তথ্য ও ছবি পুনরায় যাচাই করার অনুরোধ জানিয়েছেন। একই সঙ্গে প্রকৃত ঘটনা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের কাছ থেকে তথ্য যাচাইয়ের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

 

প্রতিবাদকারী:

শহিদুল মোস্তফা

স্বত্বাধিকারী, মুনজারিন টাইলস।

রাষ্ট্রীয় সফরে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জাপান যাচ্ছেন আমজনতার তারেক

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:৪৪ অপরাহ্ণ
রাষ্ট্রীয় সফরে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জাপান যাচ্ছেন আমজনতার তারেক
শেয়ার করুন

চারদিনের রাষ্ট্রীয় সফরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে জাপান সফর যাচ্ছেন আমজনতা দলের সদস্যসচিব মো. তারেক রহমান। আজ রবিবার (২৫ অক্টোবর) রাতে প্রধানমন্ত্রীর জাপান যাওয়ার কথা রয়েছে।

 

সন্ধ্যায় ফেসবুকের এক পোস্টে তারেক রহমান লেখেন, ‘আজ জাপান যাচ্ছি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সাথে। ভালোবাসা সবাইকে।’ ওই পোস্টে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে করমর্দনরত অবস্থার হাস্যোজ্জ্বল একটি ছবি জুড়ে দিয়েছেন তারেক রহমান।

 

প্রধানমন্ত্রী ২৬ অক্টোবর থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত জাপানে অবস্থান করবেন। সফরকালে দুদেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার, মেট্রোরেলসহ চলমান অবকাঠামো প্রকল্পের ব্যয় ও ঋণের সুদের হার কমানোর বিষয়ে আলোচনা, জাপানি বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণে গুরুত্ব দেওয়া হবে।

 

সফরসূচি অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ফ্লাইটটি আগামীকাল সোমবার (২৬ অক্টোবর) স্থানীয় সময় সকাল ৯টা ২৫ মিনিটে টোকিওর নারিতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।জাপানের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নাকাসোনে ইয়াসুতাকা বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানাবেন। প্রধানমন্ত্রী টোকিওর ইম্পেরিয়াল হোটেলে অবস্থান করবেন।

টঙ্গীতে মাদ্রাসাশিক্ষার্থীকে চুমু: সেই শিক্ষকের জামিন নামঞ্জুর

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:১৫ অপরাহ্ণ
টঙ্গীতে মাদ্রাসাশিক্ষার্থীকে চুমু: সেই শিক্ষকের জামিন নামঞ্জুর
শেয়ার করুন

গাজীপুরের টঙ্গীতে মাদ্রাসার ভেতরে ছয় বছর বয়সী এক শিশু শিক্ষার্থীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া শিক্ষক মোসলেহ উদ্দিনের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন আদালত। রোববার (২৫ অক্টোবর) দুপুরে গাজীপুর মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২-এর বিচারক ওমর হায়দার উভয় পক্ষের শুনানি শেষে জামিন বাতিলের এই আদেশ দেন।

আদালতে বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মহিউদ্দীন জামিন নামঞ্জুরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, জামিনের ঘোর বিরোধিতা করে আদালতে যুক্তি উপস্থাপন করা হয় যে, আসামি এই মুহূর্তে জামিনে মুক্তি পেলে মামলার সুষ্ঠু তদন্ত ব্যাহত হতে পারে এবং সমাজে এর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। বিজ্ঞ বিচারক উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে আসামির জামিন আবেদন নাকচ করে দেন।

অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট শরিফুল আলম বলেন, আসামির অতীতে কোনো অপরাধের রেকর্ড বা পূর্ববর্তী মামলা নেই। এছাড়া তার দাবি, মামলার অভিযোগগুলো মিথ্যা এবং ঘটনার পক্ষে কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্যপ্রমাণ নেই। এসব যুক্তি তুলে ধরেই তারা জামিনের আবেদন করেছিলেন।

 

এদিকে ঘটনাটির জের ধরে দায়ের হওয়া পাল্টাপাল্টি মামলাকে কেন্দ্র করে একটি মহল পরিকল্পিতভাবে বিভ্রান্তি ও অপপ্রচার ছড়াচ্ছে বলে সতর্ক করেছে পুলিশ। উভয় মামলার নিরপেক্ষ তদন্তের আশ্বাস দিয়ে গাজীপুর মহানগর পুলিশ (জিএমপি) কমিশনার মো. ইসরাইল হাওলাদার গুজব থেকে বিরত থাকার জন্য সর্বসাধারণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে শিশুটির বাবাকে গ্রেপ্তার করতে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে বলে গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া তথ্যকে অসত্য ও ভিত্তিহীন বলে স্পষ্ট করেছেন তিনি।

 

রোববার সকালে জিএমপি ও গণমাধ্যমকর্মীদের সমন্বয়ে পরিচালিত ‘জিএমপি মিডিয়া’ নামের অফিশিয়াল হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে সাংবাদিকদের একটি সংবাদের প্রেক্ষিতে তিনি এসব তথ্য জানান।

 

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, টঙ্গীর আউচপাড়ার শফিউদ্দিন রোডে অবস্থিত ‘ক্বারিউল কুরআন ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসা’র ভেতরে প্রথম শ্রেণির ছয় বছর বয়সী এক ছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শিশুর পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা করা হলে মাদ্রাসার ভাইস প্রিন্সিপাল মো. মোসলেহ উদ্দিনকে তাৎক্ষণিকভাবে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠায় পুলিশ।

 

তবে এর পরপরই ঘটনাটি নতুন দিকে মোড় নেয়। প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ ক্বারী মো. আলমাছ হোসেন গাজীপুরী পাল্টা অভিযোগ তোলেন যে, ঘটনার পর একদল লোক মাদ্রাসায় ঢুকে ব্যাপক ভাঙচুর চালিয়েছে এবং শিক্ষক-কর্মচারীদের মারধর করেছে। এ ঘটনায় তিনি ভুক্তভোগী শিশুটির বাবা শাহজালাল রুমিসহ অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে আরেকটি মামলা দায়ের করেন।

 

পাল্টা এই মামলার পর ‘শিশুটির বাবাকে গ্রেপ্তারে মাঠে নেমেছে পুলিশ’—এমন খবর কিছু গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে তা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক ক্ষোভ ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়। বিভিন্ন ভিডিও ও মন্তব্য ছড়িয়ে পড়ে তৈরি হয় চাঞ্চল্য। তবে পুলিশ পরিষ্কার জানিয়েছে, মামলার তদন্ত আইনি নিয়ম মেনেই এগোচ্ছে এবং কোনো পক্ষকেই উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে হয়রানি করা হচ্ছে না।