খুঁজুন
, ,

অপকর্মে সিদ্ধহস্ত এসআই বদিউল ধরাছোঁয়ার বাইরে

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৬ ডিসেম্বর, ২০২৫, ৫:২৬ অপরাহ্ণ
অপকর্মে সিদ্ধহস্ত এসআই বদিউল ধরাছোঁয়ার বাইরে
শেয়ার করুন

কক্সবাজারের ঈদগাঁও থানার এসআই বদিউল আলম নানা অপকর্ম করেও পার পেয়ে যাচ্ছেন। প্রতারণায় সিদ্ধহস্ত বদিউল কখনো মোটা অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নিতে সাধারণ মানুষকে ফাঁসিয়েছেন। কখনো অর্থের বিনিময়ে খুনের আসামিকে ছেড়ে দিয়েছেন। আবার কখনো প্রকাশ্যে চাঁদাবাজি করেছেন। এমন কর্মকাণ্ডের পরও প্রশাসনের ছত্রছায়ায় তিনি ধরাছোঁয়ার বাইরেই রয়ে গেছেন। নতুন করে তিনি আরেকটি অপকর্মে জড়িয়েছেন। এর সিসিটিভি ফুটেজ বুধবার যুগান্তর প্রতিবেদকের হাতে এসেছে।

চলতি বছরের ১৩ অক্টোবর ঈদগাঁও বাসস্ট্যান্ডের আনু মিয়া ফিলিংস্টেশনের সামনে ফাঁদ পেতে সিএনজিচালিত অটোচালক জাফর আলমকে অস্ত্র দিয়ে ফাঁসিয়েছেন এসআই বদিউল আলম। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, সেদিন সকালে পুলিশ সদস্যরা যাত্রীবেশে জাফরের গাড়ি ভাড়া করে। ঈদগড়-বাইশারী সড়কের মাথা থেকে চালক জাফরের গাড়িতে ওঠেন এক পুলিশ সদস্য এবং কিছু দূর যাওয়ার পর চালককে দোকানে পানি কিনতে পাঠান। এরপর ওই ব্যক্তি নিজের ব্যাগ থেকে অস্ত্র বের করে গাড়ির পেছনে রেখে নেমে যান। এরপর অল্প দূরে কয়েকজন পুলিশ সদস্যকে তার সঙ্গে কথা বলতে দেখা যায়। এক মিনিটের মাথায় ওঁত পেতে থাকা আরেকটি সিএনজিচালিত গাড়ি কয়েক হাত দূরে থামে। তারা অপেক্ষা করতে থাকে চালক জাফরকে ফেরার। জাফর পানি নিয়ে ফেরার সঙ্গে সঙ্গে পরিকল্পনামাফিক পুলিশ সদস্যরা দৌড়ে এসে তাকে আটক করে। এরপর সেই অস্ত্র তার হাতে জোর করে ধরিয়ে ফটো-শুট করে। এ নিন্দনীয় ‘অপারেশন’ পরিচালনা করেন ঈদগাঁও থানার বহু বিতর্কিত ও ‘প্রদীপ-খ্যাত’ এসআই বদিউল আলম, ওসির গানম্যান কনস্টেবল তানভীর ও কনস্টেবল মনির।

এ ঘটনার নেপথ্যের কারণ হিসাবে ভুক্তভোগী পরিবার জানায়, জাফর ঈদগাঁও ইসলামপুর ইউনিয়নের ভিলেজারপাড়ার ‘ফুদনির ছোঁয়া’ এলাকায় বসবাস করেন। পেশায় তিনি ভাড়ায় সিএনজি চালক। জাফরের মেয়ের অভিযোগ-দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় বখাটে শাহীন ও রাসেলের ইভটিজিংয়ের শিকার। বাধ্য হয়ে আমরা মামলা করি। একজন গ্রেফতারও হয়। এরপরই হুমকি ও ষড়যন্ত্র শুরু হয়। বখাটেদের টাকা খেয়ে উলটো পুলিশ আমার বাবাকে অস্ত্র দিয়ে ফাঁসিয়েছে। জাফরের স্ত্রী রাবেয়ার অভিযোগ, দুই লাখ টাকা নিয়ে পুলিশ অস্ত্র মামলায় তার স্বামীকে ফাঁসিয়েছে।

তবে অভিযোগের বিষয়ে এসআই বদিউল কথা বলতে রাজি হননি। প্রতিবেদকের কাছে তদবির করার জন্য একজন ব্যক্তিকে পাঠিয়ে সংবাদটি বন্ধ করার প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে। এদিকে গানম্যান তানভীর জানান, অভিযান হওয়ার পর বদিউল স্যার আমাকে ডাকেন। আমি আর কিছু জানি না।

কক্সবাজার জেলা পুলিশ সুপারের মুখপাত্র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অলক বিশ্বাস বলেন, এর আগে টেকনাফসহ বিভিন্ন থানায় কর্মরত অবস্থায় এসআই বদিউলের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ উঠেছিল এবং তাকে তাৎক্ষণিক ক্লোজড করা হয়েছিল। কিন্তু যথাযথ প্রমাণ না থাকায় তিনি পার পেয়ে গেছেন। এবারের ঘটনা সিসিটিভিতে ধরা পড়ায় ‘পার পাওয়ার’ সুযোগ নেই। তিনি আরও বলেন, সিসিটিভি ফুটেজ দেখে আমি নিশ্চিত, জাফরকে ফাঁসানো হয়েছে। এ বিষয়ে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

টঙ্গীতে মাদ্রাসাশিক্ষার্থীকে চুমু: সেই শিক্ষকের জামিন নামঞ্জুর

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:১৫ অপরাহ্ণ
টঙ্গীতে মাদ্রাসাশিক্ষার্থীকে চুমু: সেই শিক্ষকের জামিন নামঞ্জুর
শেয়ার করুন

গাজীপুরের টঙ্গীতে মাদ্রাসার ভেতরে ছয় বছর বয়সী এক শিশু শিক্ষার্থীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া শিক্ষক মোসলেহ উদ্দিনের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন আদালত। রোববার (২৫ অক্টোবর) দুপুরে গাজীপুর মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২-এর বিচারক ওমর হায়দার উভয় পক্ষের শুনানি শেষে জামিন বাতিলের এই আদেশ দেন।

আদালতে বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মহিউদ্দীন জামিন নামঞ্জুরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, জামিনের ঘোর বিরোধিতা করে আদালতে যুক্তি উপস্থাপন করা হয় যে, আসামি এই মুহূর্তে জামিনে মুক্তি পেলে মামলার সুষ্ঠু তদন্ত ব্যাহত হতে পারে এবং সমাজে এর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। বিজ্ঞ বিচারক উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে আসামির জামিন আবেদন নাকচ করে দেন।

অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট শরিফুল আলম বলেন, আসামির অতীতে কোনো অপরাধের রেকর্ড বা পূর্ববর্তী মামলা নেই। এছাড়া তার দাবি, মামলার অভিযোগগুলো মিথ্যা এবং ঘটনার পক্ষে কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্যপ্রমাণ নেই। এসব যুক্তি তুলে ধরেই তারা জামিনের আবেদন করেছিলেন।

 

এদিকে ঘটনাটির জের ধরে দায়ের হওয়া পাল্টাপাল্টি মামলাকে কেন্দ্র করে একটি মহল পরিকল্পিতভাবে বিভ্রান্তি ও অপপ্রচার ছড়াচ্ছে বলে সতর্ক করেছে পুলিশ। উভয় মামলার নিরপেক্ষ তদন্তের আশ্বাস দিয়ে গাজীপুর মহানগর পুলিশ (জিএমপি) কমিশনার মো. ইসরাইল হাওলাদার গুজব থেকে বিরত থাকার জন্য সর্বসাধারণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে শিশুটির বাবাকে গ্রেপ্তার করতে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে বলে গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া তথ্যকে অসত্য ও ভিত্তিহীন বলে স্পষ্ট করেছেন তিনি।

 

রোববার সকালে জিএমপি ও গণমাধ্যমকর্মীদের সমন্বয়ে পরিচালিত ‘জিএমপি মিডিয়া’ নামের অফিশিয়াল হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে সাংবাদিকদের একটি সংবাদের প্রেক্ষিতে তিনি এসব তথ্য জানান।

 

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, টঙ্গীর আউচপাড়ার শফিউদ্দিন রোডে অবস্থিত ‘ক্বারিউল কুরআন ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসা’র ভেতরে প্রথম শ্রেণির ছয় বছর বয়সী এক ছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শিশুর পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা করা হলে মাদ্রাসার ভাইস প্রিন্সিপাল মো. মোসলেহ উদ্দিনকে তাৎক্ষণিকভাবে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠায় পুলিশ।

 

তবে এর পরপরই ঘটনাটি নতুন দিকে মোড় নেয়। প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ ক্বারী মো. আলমাছ হোসেন গাজীপুরী পাল্টা অভিযোগ তোলেন যে, ঘটনার পর একদল লোক মাদ্রাসায় ঢুকে ব্যাপক ভাঙচুর চালিয়েছে এবং শিক্ষক-কর্মচারীদের মারধর করেছে। এ ঘটনায় তিনি ভুক্তভোগী শিশুটির বাবা শাহজালাল রুমিসহ অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে আরেকটি মামলা দায়ের করেন।

 

পাল্টা এই মামলার পর ‘শিশুটির বাবাকে গ্রেপ্তারে মাঠে নেমেছে পুলিশ’—এমন খবর কিছু গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে তা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক ক্ষোভ ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়। বিভিন্ন ভিডিও ও মন্তব্য ছড়িয়ে পড়ে তৈরি হয় চাঞ্চল্য। তবে পুলিশ পরিষ্কার জানিয়েছে, মামলার তদন্ত আইনি নিয়ম মেনেই এগোচ্ছে এবং কোনো পক্ষকেই উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে হয়রানি করা হচ্ছে না।

জাইমা রহমানের জন্মদিনে ৫ শতাধিক ছাত্রীকে বাইসাইকেল উপহার

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:১৫ অপরাহ্ণ
জাইমা রহমানের জন্মদিনে ৫ শতাধিক ছাত্রীকে বাইসাইকেল উপহার
শেয়ার করুন

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমানের জন্মদিন উপলক্ষে বগুড়ার শিবগঞ্জে ৫৪৮ জন ছাত্রীকে বিনামূল্যে বাইসাইকেল উপহার দেওয়া হয়েছে। রবিবার (২৫ অক্টোবর) বগুড়ার শিবগঞ্জ সরকারি পাইলট উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্রীদের নিয়ে এই আয়োজন করা হয়।

স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের আয়োজনে এসব ছাত্রীদের বাইসাইকেল দেওয়া হয়। এ সময় শিক্ষার্থীরা স্লোগান দেন, ‘শুভ শুভ শুভদিন, জাইমা রহমানের জন্মদিন’ ‘করবো কাজ গড়বো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’।

এ সময় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, সাত শতাধিক মেধাবী শিক্ষার্থীর পরীক্ষা নিয়েছিলাম, যার মধ্যে অংশ নিয়েছিল ৫৪৮ জন ছাত্রী। মোট ১০২টি শিক্ষার্থী প্রতিষ্ঠানের ৫৪৮জনকে ডেকে নিয়ে বাইসাইকেল উপহার দিচ্ছি।

এছাড়া যে প্রতিষ্ঠানে এই বাইসাইকেল প্রদানের আয়োজন করা হয়, তাদেরসহ প্রায় এক হাজার শিক্ষার্থীদের জাইমা রহমানের ছবি সম্বলিত মগ উপহার দেওয়া হয়।

বাইসাইকেল পেয়ে শিক্ষার্থীরা বেশ উচ্ছ্বসিত হন। কেউ কেউ স্কুল মাঠেই সাইকেল চালিয়ে আনন্দ উপভোগ করেন।

ঝোঁপঝাড়ে ফেলে যাওয়া নবজাতককে দত্তক নিতে ১২৩ পরিবারের আবেদন

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১:৩৯ অপরাহ্ণ
ঝোঁপঝাড়ে ফেলে যাওয়া নবজাতককে দত্তক নিতে ১২৩ পরিবারের আবেদন
শেয়ার করুন

চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে ফটিকছড়িতে সড়কের পাশের ঝোপঝাড়ে ফেলে যাওয়া এক নবজাত কন্যাশিশুকে দত্তক নিতে ব্যাপক আগ্রহ দেখা দিয়েছে শিশুটির লালন-পালনের দায়িত্ব নিতে এক দিনেই ১২৩টি আবেদন জমা পড়েছে।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাত পর্যন্ত ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে আবেদনকারীদের সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, আবেদনকারীদের পারিবারিক পরিবেশ, আর্থিক সামর্থ্য, শিশুর পরিচর্যার সক্ষমতা ও অন্যান্য প্রাসঙ্গিক বিষয় বিবেচনায় নিয়ে উপযুক্ত পরিবার নির্বাচনের প্রক্রিয়া চলছে। তবে, আবেদন করলেই শিশুটিকে দত্তক নেওয়ার সুযোগ মিলবে না। এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যাচাই-বাছাই ও প্রযোজ্য আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে।

ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাঈদ মোহাম্মদ ইব্রাহিম গণমাধ্যমকে বলেন, শিশুটিকে দত্তক নিতে বিপুলসংখ্যক আবেদন জমা পড়েছে। উপযুক্ত পরিবার নির্বাচনের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। যাচাই-বাছাই ও আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

এর আগে, গত বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার পাইন্দং ইউনিয়নের উত্তর পাইন্দং এলাকার আমতলীতে সড়কের পাশের ঝোঁপঝাড় থেকে নবজাতকটিকে জীবিত উদ্ধার করা হয়।

স্থানীয় লোকজন শিশুটিকে ঝোঁপের মধ্যে পড়ে থাকতে দেখে পুলিশকে খবর দেন। পরে ফটিকছড়ি থানা-পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশুটিকে উদ্ধার করেন। উদ্ধারের পর তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, শিশুটির শারীরিক অবস্থা ভালো ছিল।তবে কে বা কারা শিশুটিকে সেখানে ফেলে গেছেন, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। শিশুটির নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে উপযুক্ত পরিবার নির্বাচনের পাশাপাশি তাকে পরিত্যক্ত অবস্থায় ফেলে যাওয়ার ঘটনার রহস্য উদঘাটন ও পরিচয় শনাক্তে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় লোকজন।