খুঁজুন
সোমবার, ৯ মার্চ, ২০২৬, ২৪ ফাল্গুন, ১৪৩২

রামুতে ছুরিকাঘাতে বিদ্যুৎ অফিস কর্মচারী গুরুতর জখম, ১৮ হাজার টাকা ছিনতাই

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ৯ মার্চ, ২০২৬, ৭:৩৪ অপরাহ্ণ
রামুতে ছুরিকাঘাতে বিদ্যুৎ অফিস কর্মচারী গুরুতর জখম, ১৮ হাজার টাকা ছিনতাই
শেয়ার করুন

কক্সবাজারের রামুতে ছুরিকাঘাত করে বিদ্যুৎ অফিসে কর্মরত এক যুবককে গুরুতর জখম করে তার কাছ থেকে নগদ ১৮ হাজার টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগ উঠেছে। রবিবার (৮ মার্চ) রাতে উপজেলার চৌমুহনী স্টেশন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

আহত ব্যক্তি হাসান মাহমুদ রিদুয়ান (২০)। তিনি রামু উপজেলার সিপাহির পাড়া গ্রামের মোঃ বাবুলের পুত্র এবং স্থানীয় বিদ্যুৎ অফিসের একজন কর্মচারী বলে জানা গেছে।

আহত রিদুয়ান জানান, রাতে অফিসের কাজ শেষ করে চৌমুহনী এলাকা থেকে একটি রিকশায় করে বাড়ি ফিরছিলেন। এ সময় পূর্ব থেকে ওঁত পেতে থাকা একদল কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য তার গতিরোধ করে অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীরা তাকে মারধর করে এবং একপর্যায়ে ছুরিকাঘাত করে গুরুতর জখম করে। পরে তার পকেটে থাকা নগদ ১৮ হাজার টাকা ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায়।

স্থানীয়রা রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে দ্রুত রামু উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তার অবস্থা গুরুতর হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালে প্রেরণ করেন।

এ ঘটনায় অভিযুক্তদের নাম উল্লেখ করে জানা গেছে, তারা সবাই রামু উপজেলার ফতেখাঁরকুল ইউনিয়নের পূর্ব মেরংলোয়া এলাকার বাসিন্দা। অভিযুক্তরা হলেন, আতিক (১৯), ইমন (১৯), শাফিন (১৯), শহিদুল ইসলাম (২৫) ও পারভেজ (২৩)।

ভুক্তভোগীর অভিযোগ, হামলাকারীরা এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী এবং তাদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে। তারা চৌমুহনী ও আশপাশের এলাকায় কয়েকটি কিশোর গ্যাং পরিচালনা করে দীর্ঘদিন ধরে নিরীহ মানুষের ওপর হামলা, ছিনতাই ও চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত।

এ ঘটনায় রামু থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছেন আহত রিদুয়ান। তিনি অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার জন্য প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, সম্প্রতি চৌমুহনী ও আশপাশের এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা বেড়েছে। এতে সাধারণ মানুষ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। এলাকাবাসী এসব সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড দমনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জোরালো অভিযান ও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

৩০ শতাংশের বেশি বাড়লো তেলের দাম

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ৯ মার্চ, ২০২৬, ৮:২২ অপরাহ্ণ
৩০ শতাংশের বেশি বাড়লো তেলের দাম
শেয়ার করুন

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে বিশ্ববাজারে আবারও তীব্র অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কায় সোমবার আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম হঠাৎ করেই বড় উল্লম্ফন ঘটিয়েছে।

 

সোমবার (৯ মার্চ) গ্রিনিচ মান সময় রাত ২টা ৩০ মিনিটে যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান বেঞ্চমার্ক অপরিশোধিত তেল ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই)–এর দাম ব্যারেলপ্রতি ৩০ দশমিক ০৪ শতাংশ বেড়ে দাঁড়ায় ১১৮ দশমিক ২১ ডলারে। পরে কিছুটা কমলেও দাম উচ্চ অবস্থানেই রয়েছে।

 

 

একই সময়ে আন্তর্জাতিক বাজারের আরেক প্রধান সূচক ব্রেন্ট ক্রুড–এর দাম ২৭ দশমিক ৫৪ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১১৮ দশমিক ২২ ডলারে পৌঁছায়।

 

 

তেলের দামের এই ঊর্ধ্বগতির বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, স্বল্পমেয়াদে তেলের দামের এই বৃদ্ধি ‘যুক্তরাষ্ট্র, বিশ্ব এবং শান্তির জন্য খুবই সামান্য মূল্য।’

 

ট্রাম্প আরও দাবি করেন, ‘ইরানের পারমাণবিক হুমকি ধ্বংস হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তেলের দাম দ্রুত কমে যাবে।’

 

এদিকে বাজার বিশ্লেষকেরা বলছেন, পরিস্থিতি দ্রুত দীর্ঘমেয়াদি সংকটে রূপ নিচ্ছে। ডাচ ব্যাংক আইএনজি গ্রুপের পণ্য কৌশল বিভাগের প্রধান ওয়ারেন প্যাটারসন বলেন, শুরুতে অনেকেই ধারণা করেছিলেন এটি স্বল্প সময়ের অস্থিরতা হবে। কিন্তু এখন স্পষ্ট যে পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

 

 

তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘যতক্ষণ পর্যন্ত হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল পরিবহন স্বাভাবিক না হচ্ছে, ততক্ষণ তেলের দাম আরও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।’

 

উল্লেখ্য, মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি বড় তেল উৎপাদনকারী দেশ উৎপাদন কমিয়ে দেওয়ায় সরবরাহ সংকট আরও তীব্র হয়েছে। একই সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালী প্রায় বন্ধ হয়ে পড়ায় আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে উদ্বেগ বাড়ছে।

 

বিশ্লেষকেরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতে আরও গভীরভাবে জড়ালে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে। ইতিমধ্যে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের ওপরে উঠে গেছে, যা বিশ্ব অর্থনীতির জন্য নতুন চাপ তৈরি করতে পারে।

 

সূত্র: এএফপি, আল আরাবিয়া

বাসে আগুন ও পেট্রলপাম্প ভাঙচুরের মামলায় বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের ৭ নেতা গ্রেপ্তার

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ৯ মার্চ, ২০২৬, ৫:৩৫ অপরাহ্ণ
বাসে আগুন ও পেট্রলপাম্প ভাঙচুরের মামলায় বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের ৭ নেতা গ্রেপ্তার
শেয়ার করুন

ঝিনাইদহে বাসে অগ্নিসংযোগ ও তেল পাম্পে ভাঙচুরের অভিযোগে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ঝিনাইদহ জেলা শাখার সাতজনকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। রোববার (৮ মার্চ) দিবাগত রাত দুইটার দিকে ঝিনাইদহ পৌর এলাকার ব্যাপারীপাড়া ও পায়রা চত্বর এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয় তাদের। সোমবার দুপুরে তাদের আদালতে সোপর্দ করে পুলিশ।

 

 

গ্রেপ্তার করা ব্যক্তিরা হলেন- ঝিনাইদহ জেলা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক সাইদুর রহমান, সদস্যসচিব আশিকুর রহমান, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক তাশদীদ হাসান, যুগ্ম আহ্বায়ক অন্তর মাহমুদ, ‘দ্য রেড জুলাই’-এর আহ্বায়ক আবু হাসনাত, কেন্দ্রীয় যুব শক্তির সদস্য ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ঝিনাইদহ জেলা কমিটির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক হুমায়ন কবির এবং রাসের হুসাইন।

 

 

পুলিশ জানায়, রোববার ঝিনাইদহ তাজ ফিলিং স্টেশনে তেল নেওয়াকে কেন্দ্র করে নয়ন নামের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ঝিনাইদহ জেলা শাখার সাবেক সদস্য নিহত হন। এ ঘটনার পর তিনটি বাসে অগ্নিসংযোগ ও একটি পেট্রলপাম্পে ভাঙচুর করা হয়। এর প্রতিবাদে শ্রমিকেরা পরদিন বিচার দাবি করে মহাসড়ক অবরোধ করেন। পরে প্রশাসনের আশ্বাসে তারা অবরোধ প্রত্যাহার করেন।

 

এ বিষয়ে পুলিশ সুপার মো. মাহফুজ আফজাল বলেন, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের এ ঘটনায় ঝিনাইদহ সদর থানায় একটি মামলা করেন বাসের এক মালিক। ওই মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে তাদের।

 

এদিকে মধ্যরাত থেকে ডিবি কার্যালয়ে আটকে রেখে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাদের মারধর ও নির্যাতন করা হয়েছে বলে আসামিরা দাবি করেছেন। প্রিজন ভ্যানে ওঠার সময় চিৎকার তারা পুলিশ প্রশাসনের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলেন। একইসঙ্গে বাসে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় ‌‘রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র’ রয়েছে বলেও দাবি করেন তারা।

জুলাই কারো ব্যক্তিগত সম্পদ নয়, পুলিশও রাজপথে ছিল : আইজিপি

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ৯ মার্চ, ২০২৬, ৪:২৫ অপরাহ্ণ
জুলাই কারো ব্যক্তিগত সম্পদ নয়, পুলিশও রাজপথে ছিল : আইজিপি
শেয়ার করুন

গণমাধ্যমের সঙ্গে সংবাদ সম্মেলনে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির বলেছেন, ‘গণ-অভ্যুত্থান বা জুলাই কারো ব্যক্তিগত সম্পদ নয়; এটি জনগণের সম্মিলিত আন্দোলন ও অধিকার। আমরাও এই আন্দোলনের অংশগ্রহণ করেছি। এই ব্যাপারে সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কাজ করছে।’

 

সোমবার (৯ মার্চ) রাজধানীর আব্দুল গনি রোডে অবস্থিত পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স মিডিয়া সেন্টার (ডিএমপির সেন্ট্রাল কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল সেন্টার ভবনের নিচতলা) এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

 

 

২০২৪ সালে সংঘটিত জুলাই আন্দোলনকে যারা নিজের সম্পত্তি ভাবছে, তাদের তালিকা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির।

 

তিনি বলেন, আমি দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছি। চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে দল-মতনির্বিশেষে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। দলীয় কোনো বিবেচনার সুযোগ নেই।

 

 

ইতোমধ্যে মাঠপর্যায়ে পুলিশ কর্মকর্তাদের এ বিষয়ে সুস্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ব্লক রেট দিয়ে সন্ত্রাসী চাঁদাবাজ মাদক ব্যবসায়ী অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে এবং চলমান আছে।

সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন, অতিরিক্ত আইজি (প্রশাসন) এ কে এম আওলাদ হোসেন, অতিরিক্ত আইজি (অর্থ) মো. আকরাম হোসেন, অতিরিক্ত আইজি (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) খোন্দকার রফিকুল ইসলাম, অতিরিক্ত আইজি (লজিস্টিকস অ্যান্ড অ্যাসেট অ্যাকুইজিশন) মোসলেহ উদ্দিন আহমদ ও অতিরিক্ত আইজি (ডেভেলপমেন্ট) সরদার নূরুল আমিন।