খুঁজুন
, ,

সড়কে সাত দিনে ২০৪ মৃত্যু

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৫ মার্চ, ২০২৬, ১১:৩২ পূর্বাহ্ণ
সড়কে সাত দিনে ২০৪ মৃত্যু
শেয়ার করুন

ঈদুল ফিতরের ছুটির সাত দিনে সরকারি হিসাবে সড়কে ৯২ দুর্ঘটনায় ১০০ জন নিহত এবং ২১৭ জন আহত হয়েছেন। তবে বেসরকারি সংস্থা রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের প্রাথমিক হিসাবে একই সময়ে ২৬৮ সড়ক দুর্ঘটনায় ২০৪ জন নিহত হয়েছেন। আহতের সংখ্যা ছয় শতাধিক। মন্ত্রীরা স্মরণকালের নির্বিঘ্ন ঈদযাত্রার দাবি করলেও, প্রাণহানির এই সংখ্যা অতীতের যে কোনো ঈদের ছুটির তুলনায় বেশি।

 

সরকারি নিয়ন্ত্রক সংস্থা সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) হিসাবে, দুর্ঘটনা ও হতাহতের অনেক তথ্য নেই। যেমন ২১ মার্চ রাত ২টা ৫৫ মিনিটে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার পদুয়ার বাজার রেলক্রসিং বাস দুর্ঘটনায় ১২ জন নিহত হওয়ার তথ্য নেই। হাসপাতালগুলোতে ঈদের ছুটিতে দুর্ঘটনায় আহত রোগীর ঢল ছিল।

 

 

সরকারি হিসাবে সারাদেশে আহতের সংখ্যা ২১৭ জন বলা হলেও, পঙ্গু হাসপাতাল নামে পরিচিত রাজধানীর জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানে ঈদের আগের রাত ১২টা ১ মিনিট থেকে পরের দিন বিকেল ৫টা পর্যন্ত ১৫১ জন আহত রোগী আসেন। দেশের অন্যান্য হাসপাতালেও ছিল একই চিত্র। অধিকাংশ আহত রোগী ছিলেন মোটরসাইকেল, ব্যাটারির রিকশা কিংবা ইজিবাইক দুর্ঘটনায় আহত।

 

বেসরকারি সংস্থাগুলো সাধারণত ঈদের আগে সাত দিন, পরের সাত দিন এবং ঈদের দিনসহ মোট ১৫ দিনকে ঈদযাত্রা হিসেবে গণ্য করে। অতীতে দেখা গেছে, এই সময়ের মধ্যে নিহতের সংখ্যা ৩০০ থেকে ৪০০ থাকে।

 

 

যাত্রী কল্যাণ সমিতির হিসাবে গত বছরের ঈদুল ফিতরের আগে-পরে ১৫ দিনে সড়ক-মহাসড়কে ৩১৫টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৩২২ জন নিহত হন। আহত হন ৮২৬ জন। সংগঠনটির পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ঈদুল ফিতরের ১৫ দিনে ৩৭২ দুর্ঘটনায় ৪১৬ জন নিহত হয়েছিলেন। যা ছিল এক দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ।

 

এবার ঈদের ছুটি শুরু হয় ১৭ মার্চ। সাত দিনের ছুটি চলে ২৩ মার্চ পর্যন্ত। গতকাল মঙ্গলবার ২৪ মার্চ অফিস-আদালত খুলেছে। তবে অধিকাংশ বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, কলকারখানায় এখনও চলছে ঈদের ছুটি। আগামী শনিবার থেকে খুলবে। এ হিসেবে ঈদযাত্রা এখনও চলছে।

 

প্রাণহানিতে রেকর্ডের আশঙ্কা

রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক সাইদুর রহমান সমকালকে বলেছেন, ১৭ মার্চ দুপুর থেকে ২৪ মার্চ দুপুর পর্যন্ত সাত দিনে অন্তত ২৬৮ সড়ক দুর্ঘটনায় কমপক্ষে ২০৪ জন নিহত হয়েছেন। এই সংখ্যা একবারেই প্রাথমিক। ঈদের ছুটির কারণে অফিস বন্ধ রয়েছে। অনেক তথ্য এখনও পাওয়া যায়নি। স্বাভাবিক কার্যক্রম শুরুর পর আরও অনেক তথ্য আসবে। তখন বলা যাবে, প্রাণহানির প্রকৃত সংখ্যা কত। তবে যে আভাস মিলছে, তাতে প্রাণহানির রেকর্ড হতে পারে এবারের ঈদযাত্রায়।

 

সরকারি হিসাবে ছুটির সাত দিনে ১০০ জন নিহত হয়েছেন। এই সংখ্যাও প্রাথমিক। বিআরটিএর একাধিক কর্মকর্তা সমকালকে নিশ্চিত করেছেন, ছুটির কারণে অনেক তথ্য পাওয়া যায়নি। সব তথ্য আসার পর তা সরকারি মাধ্যমে যাচাই করার পর প্রকৃত সংখ্যা পাওয়া যাবে।

 

সরকারি হিসাব অনুযায়ী, ১৭ মার্চ ১২ দুর্ঘটনায় ১৫ জন নিহত এবং ১৫ জন আহত হয়েছেন। ১৮ মার্চ ১৮ দুর্ঘটনায় ১৩ জন নিহত এবং ৬২ জন আহত হয়েছেন। ১৯ মার্চ ১১ দুর্ঘটনায় আটজন নিহত এবং সাতজন আহত হয়েছেন। ২০ মার্চ ছয় দুর্ঘটনায় আটজন নিহত এবং ৩৬ জন আহত হয়েছেন। ২১ মার্চ ১৭ দুর্ঘটনায় ১৫ জন নিহত এবং ২৫ জন আহত হয়েছেন। ২২ মার্চ ১৯ দুর্ঘটনায় ৩২ জন নিহত এবং ৬০ জন আহত হয়েছেন। ২৩ মার্চ ৯ দুর্ঘটনায় ৯ জন নিহত এবং ১২ জন আহত হয়েছেন।

 

গত বছরের ঈদুল ফিতরে ছুটি ছিল ৯ দিন; ২৮ মার্চ থেকে ৫ এপ্রিল পর্যন্ত। সেবার সরকারি হিসাবে ১৪৬ জন নিহত হন। গড়ে দৈনিক ১৬ দশমিক ২২ জন প্রাণ হারান। এবার সাত দিনের ছুটিতে দিনে গড়ে ১৪ দশমিক ২৮ জনের প্রাণহানি হয়েছে। তবে সরকারি সূত্রগুলোই বলছে, পূর্ণাঙ্গ তথ্য আসার পর এই সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে।

যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল চৌধুরী বলেছেন, সাধারণত ঈদের ছুটির পর কর্মস্থলে ফেরার পথে দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি বৃদ্ধি পায়। কারণ, ঈদের আগে সরকারের যে নজরদারি এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যে কঠোরতা সড়কে থাকে, তা ঈদের পর দেখা যায় না।

 

একই ভাষ্য জানিয়ে সাইদুর রহমান বলেছেন, এ কারণে প্রতিবছরই ঈদের পর কর্মস্থলে ফেরার পথে প্রাণহানি বৃদ্ধি পায়। এবারও এই ধারা অব্যাহত থাকলে এবং সরকার কঠোর না হলে নিশ্চিতভাবেই এবারের ঈদযাত্রায় প্রাণহানির রেকর্ড হবে।

 

সাইদুর রহমান বলেন, ২৮ মার্চ পর্যন্ত পরিস্থিতি আরও পরিবর্তিত হতে পারে। এবার ট্রেনে দুর্ঘটনা অতীতের তুলনায় বেশি। জ্বালানি সংকটের কারণে মোটরসাইকেলের ব্যবহার না কমলে, দুর্ঘটনা আরও বৃদ্ধি পেত। অধিকাংশ দুর্ঘটনায় ব্যাটারিচালিত রিকশা, ইজিবাইক, অটোরিকশাসহ সড়কে চলাচল নিষিদ্ধ যানবাহনের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে।

 

যত্রতত্র ব্যাটারির রিকশাই কি প্রধান কারণ

সড়ক-মহাসড়কে দ্রুতগতির গাড়ির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ব্যাটারির রিকশা-অটোরিকশা চলাচলের কারণে দুর্ঘটনা বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বহু বছর ধরে এ মতামত দিয়ে রিকশা নিয়ন্ত্রণের পরামর্শ দিচ্ছেন। কিন্তু ৫ আগস্টের পর রিকশা চলাচল আরও বৃদ্ধি পেয়েছে।

 

ব্যাটারিচালিত এই যানবাহনের প্রকৃত সংখ্যা কত, তা এখন আর কেউ জানে না। ধারণা করা হয়, অন্তত ১৫ লাখ ব্যাটারি রিকশা চলে সারাদেশে। কারও কারও দাবি, সংখ্যাটি ৪০ লাখ। অন্তর্বর্তী সরকার সিটি করপোরেশন এবং পৌরসভা আইনে সংশোধন করে ব্যাটারিচালিত যানবাহনকে নিবন্ধনের মাধ্যমে বৈধতার সুযোগ দিয়েছে।

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. হাদিউজ্জামান সমকালকে বলেছেন, দ্রুতগতির যান চলাচলের উপযোগী সড়ক-মহাসড়কে একই সঙ্গে যতদিন ব্যাটারির রিকশা, ইজিবাইক, অটোরিকশা চলবে, ততদিন দুর্ঘটনা ঠেকানো যাবে না। এসব যানবাহনে সামান্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেই। বাস, ট্রাকের মতো বড় যানবাহন ছাড়াও মাইক্রোবাস, পিকআপের মতো মাঝারি যানবাহনের সঙ্গে সাধারণ সংঘর্ষেও ভয়াবহ প্রাণহানি হচ্ছে।

 

সারাদেশে একই চিত্র

সমকালের প্রতিনিধিদের পাঠানো তথ্য অনুযায়ী, ঈদযাত্রায় মোটরসাইকেল, ইজিবাইক, ব্যাটারি রিকশা-সংশ্লিষ্ট দুর্ঘটনায় অধিকাংশ প্রাণহানি হয়েছে। ভেদরগঞ্জ (শরিয়তপুর) প্রতিনিধি জানিয়েছেন, উপজেলায় ঈদের তিন দিনে পৃথক দুর্ঘটনায় অন্তত ৬০ জন আহত হয়েছেন। হাসপাতাল, পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, মোটরসাইকেল আরোহী ও চালকদের অধিকাংশ কিশোর। ড্রাইভিং লাইসেন্স ও হেলমেট ছাড়াই দাপিয়ে বেড়ায় তারা। গতকাল সোমবার রাতে উপজেলার গাজীপুর ব্রিজে দুই বন্ধুসহ দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে অনিক হাওলাদার নামে এক ১৭ বছরের কিশোর। হেলমেট ও ড্রাইভিং লাইসেন্স ছিল না তার। ঈদের ছুটিতে রাস্তায় পুলিশ নেই তাই বন্ধুদের নিয়ে ঘুরতে বের হয়।

 

ভেদরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার বেলায়াত রাজু বলেন, সোমবার এক দিনে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় আহত ৩০ জন চিকিৎসা নিয়েছেন।

রাষ্ট্রীয় সফরে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জাপান যাচ্ছেন আমজনতার তারেক

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:৪৪ অপরাহ্ণ
রাষ্ট্রীয় সফরে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জাপান যাচ্ছেন আমজনতার তারেক
শেয়ার করুন

চারদিনের রাষ্ট্রীয় সফরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে জাপান সফর যাচ্ছেন আমজনতা দলের সদস্যসচিব মো. তারেক রহমান। আজ রবিবার (২৫ অক্টোবর) রাতে প্রধানমন্ত্রীর জাপান যাওয়ার কথা রয়েছে।

 

সন্ধ্যায় ফেসবুকের এক পোস্টে তারেক রহমান লেখেন, ‘আজ জাপান যাচ্ছি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সাথে। ভালোবাসা সবাইকে।’ ওই পোস্টে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে করমর্দনরত অবস্থার হাস্যোজ্জ্বল একটি ছবি জুড়ে দিয়েছেন তারেক রহমান।

 

প্রধানমন্ত্রী ২৬ অক্টোবর থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত জাপানে অবস্থান করবেন। সফরকালে দুদেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার, মেট্রোরেলসহ চলমান অবকাঠামো প্রকল্পের ব্যয় ও ঋণের সুদের হার কমানোর বিষয়ে আলোচনা, জাপানি বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণে গুরুত্ব দেওয়া হবে।

 

সফরসূচি অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ফ্লাইটটি আগামীকাল সোমবার (২৬ অক্টোবর) স্থানীয় সময় সকাল ৯টা ২৫ মিনিটে টোকিওর নারিতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।জাপানের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নাকাসোনে ইয়াসুতাকা বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানাবেন। প্রধানমন্ত্রী টোকিওর ইম্পেরিয়াল হোটেলে অবস্থান করবেন।

টঙ্গীতে মাদ্রাসাশিক্ষার্থীকে চুমু: সেই শিক্ষকের জামিন নামঞ্জুর

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:১৫ অপরাহ্ণ
টঙ্গীতে মাদ্রাসাশিক্ষার্থীকে চুমু: সেই শিক্ষকের জামিন নামঞ্জুর
শেয়ার করুন

গাজীপুরের টঙ্গীতে মাদ্রাসার ভেতরে ছয় বছর বয়সী এক শিশু শিক্ষার্থীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া শিক্ষক মোসলেহ উদ্দিনের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন আদালত। রোববার (২৫ অক্টোবর) দুপুরে গাজীপুর মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২-এর বিচারক ওমর হায়দার উভয় পক্ষের শুনানি শেষে জামিন বাতিলের এই আদেশ দেন।

আদালতে বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মহিউদ্দীন জামিন নামঞ্জুরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, জামিনের ঘোর বিরোধিতা করে আদালতে যুক্তি উপস্থাপন করা হয় যে, আসামি এই মুহূর্তে জামিনে মুক্তি পেলে মামলার সুষ্ঠু তদন্ত ব্যাহত হতে পারে এবং সমাজে এর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। বিজ্ঞ বিচারক উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে আসামির জামিন আবেদন নাকচ করে দেন।

অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট শরিফুল আলম বলেন, আসামির অতীতে কোনো অপরাধের রেকর্ড বা পূর্ববর্তী মামলা নেই। এছাড়া তার দাবি, মামলার অভিযোগগুলো মিথ্যা এবং ঘটনার পক্ষে কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্যপ্রমাণ নেই। এসব যুক্তি তুলে ধরেই তারা জামিনের আবেদন করেছিলেন।

 

এদিকে ঘটনাটির জের ধরে দায়ের হওয়া পাল্টাপাল্টি মামলাকে কেন্দ্র করে একটি মহল পরিকল্পিতভাবে বিভ্রান্তি ও অপপ্রচার ছড়াচ্ছে বলে সতর্ক করেছে পুলিশ। উভয় মামলার নিরপেক্ষ তদন্তের আশ্বাস দিয়ে গাজীপুর মহানগর পুলিশ (জিএমপি) কমিশনার মো. ইসরাইল হাওলাদার গুজব থেকে বিরত থাকার জন্য সর্বসাধারণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে শিশুটির বাবাকে গ্রেপ্তার করতে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে বলে গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া তথ্যকে অসত্য ও ভিত্তিহীন বলে স্পষ্ট করেছেন তিনি।

 

রোববার সকালে জিএমপি ও গণমাধ্যমকর্মীদের সমন্বয়ে পরিচালিত ‘জিএমপি মিডিয়া’ নামের অফিশিয়াল হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে সাংবাদিকদের একটি সংবাদের প্রেক্ষিতে তিনি এসব তথ্য জানান।

 

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, টঙ্গীর আউচপাড়ার শফিউদ্দিন রোডে অবস্থিত ‘ক্বারিউল কুরআন ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসা’র ভেতরে প্রথম শ্রেণির ছয় বছর বয়সী এক ছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শিশুর পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা করা হলে মাদ্রাসার ভাইস প্রিন্সিপাল মো. মোসলেহ উদ্দিনকে তাৎক্ষণিকভাবে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠায় পুলিশ।

 

তবে এর পরপরই ঘটনাটি নতুন দিকে মোড় নেয়। প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ ক্বারী মো. আলমাছ হোসেন গাজীপুরী পাল্টা অভিযোগ তোলেন যে, ঘটনার পর একদল লোক মাদ্রাসায় ঢুকে ব্যাপক ভাঙচুর চালিয়েছে এবং শিক্ষক-কর্মচারীদের মারধর করেছে। এ ঘটনায় তিনি ভুক্তভোগী শিশুটির বাবা শাহজালাল রুমিসহ অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে আরেকটি মামলা দায়ের করেন।

 

পাল্টা এই মামলার পর ‘শিশুটির বাবাকে গ্রেপ্তারে মাঠে নেমেছে পুলিশ’—এমন খবর কিছু গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে তা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক ক্ষোভ ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়। বিভিন্ন ভিডিও ও মন্তব্য ছড়িয়ে পড়ে তৈরি হয় চাঞ্চল্য। তবে পুলিশ পরিষ্কার জানিয়েছে, মামলার তদন্ত আইনি নিয়ম মেনেই এগোচ্ছে এবং কোনো পক্ষকেই উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে হয়রানি করা হচ্ছে না।

জাইমা রহমানের জন্মদিনে ৫ শতাধিক ছাত্রীকে বাইসাইকেল উপহার

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:১৫ অপরাহ্ণ
জাইমা রহমানের জন্মদিনে ৫ শতাধিক ছাত্রীকে বাইসাইকেল উপহার
শেয়ার করুন

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমানের জন্মদিন উপলক্ষে বগুড়ার শিবগঞ্জে ৫৪৮ জন ছাত্রীকে বিনামূল্যে বাইসাইকেল উপহার দেওয়া হয়েছে। রবিবার (২৫ অক্টোবর) বগুড়ার শিবগঞ্জ সরকারি পাইলট উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্রীদের নিয়ে এই আয়োজন করা হয়।

স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের আয়োজনে এসব ছাত্রীদের বাইসাইকেল দেওয়া হয়। এ সময় শিক্ষার্থীরা স্লোগান দেন, ‘শুভ শুভ শুভদিন, জাইমা রহমানের জন্মদিন’ ‘করবো কাজ গড়বো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’।

এ সময় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, সাত শতাধিক মেধাবী শিক্ষার্থীর পরীক্ষা নিয়েছিলাম, যার মধ্যে অংশ নিয়েছিল ৫৪৮ জন ছাত্রী। মোট ১০২টি শিক্ষার্থী প্রতিষ্ঠানের ৫৪৮জনকে ডেকে নিয়ে বাইসাইকেল উপহার দিচ্ছি।

এছাড়া যে প্রতিষ্ঠানে এই বাইসাইকেল প্রদানের আয়োজন করা হয়, তাদেরসহ প্রায় এক হাজার শিক্ষার্থীদের জাইমা রহমানের ছবি সম্বলিত মগ উপহার দেওয়া হয়।

বাইসাইকেল পেয়ে শিক্ষার্থীরা বেশ উচ্ছ্বসিত হন। কেউ কেউ স্কুল মাঠেই সাইকেল চালিয়ে আনন্দ উপভোগ করেন।