খুঁজুন
, ,

ভারতে ভোটার তালিকা থেকে বাদ ৩৪৬ মীর জাফরের বংশধররা

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ, ২০২৬, ১:৩৯ অপরাহ্ণ
ভারতে ভোটার তালিকা থেকে বাদ ৩৪৬ মীর জাফরের বংশধররা
শেয়ার করুন

যে নবাব পরিবারের হাত ধরে ৩০০ বছর আগে বাংলা-বিহার-ওড়িশা সমৃদ্ধ হয়েছিল, যে পরিবারের দরবারে লাখ লাখ প্রজা প্রতি বছর নজরানা এবং খাজনা দিতে আসত—আজ সেই মীরজাফরের বংশধররাই নিজেদের ‘ভারতের নাগরিক’ হিসেবে প্রমাণ করতে লড়াই করছেন।

 

আসন্ন বিধানসভা ভোটের মুখে মুর্শিদাবাদের নবাব পরিবারের প্রায় শতাধিক সদস্যের নাম এসআইআর প্রক্রিয়ায় ভোটার তালিকা থেকে ‘মুছে’ দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। তারা আদৌ আসন্ন নির্বাচনে ভোট দিতে পারবেন কিনা তা নিয়ে এখন সন্দিহান নবাব পরিবারের সদস্যরা। আর এই ঘটনার পর তারা যাচ্ছেন ট্রাইব্যুনালে।

 

যদিও ‘শুনানি’র নোটিশ পেয়ে নবাব বংশের সদস্যরা সব নথি নিয়ে নির্বাচন কমিশনের সামনে হাজির হয়েছিলেন। কিন্তু শুনানির পরেও পরিবারের বেশিরভাগ সদস্যের নাম স্থায়ীভাবে তালিকা থেকে ‘ডিলিট’ করে দেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ।

 

ইতিহাসের পাতা ওল্টালে জানা যায়, ১৭৫৭ সালের পলাশীর যুদ্ধে সিরাজউদ্দৌলার পরাজয়ের পর ব্রিটিশের সহায়তায় মসনদে বসেন মীরজাফর। বর্তমানে তার ১৫তম বংশধর মহম্মদ রেজা আলি মির্জা (যিনি মুর্শিদাবাদে ‘ছোটে নবাব’ নামে পরিচিত) এখনও ‘কিল্লা নিজামত’ এলাকার ঘণ্টা ঘরের কাছে পরিবার নিয়ে বসবাস করেন। ১৬তম বংশধর সৈয়দ মহম্মদ ফাহিম মির্জাও বাবার সঙ্গে একই বাড়িতে থাকেন। ‘কিল্লা নিজামত’ চত্বরে নবাব পরিবারের আরও বহু সদস্যর বাস। তাদের অনেকের নামও ভোটার তালিকা থেকে স্থায়ীভাবে মুছে দেয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

 

মীরজাফরের ১৬তম বংশধর তথা মুর্শিদাবাদ পৌরসভার ১০ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর ফাহিম আলি মির্জা বলেন, আমার বাবা একসময় রাজ্য সরকারের অধীনে নবাবী এস্টেটে চাকরি করতেন। ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় বাবা ও আমার নাম ছিল, আমরা ভোটও দিয়েছিলাম।

তবে এবার এসআইআর প্রক্রিয়ায় লালবাগের নব আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের ১২১ নম্বর বুথে যেখানে নবাবী পরিবারের সদস্যরা ভোট দেন সেখানে প্রায় ৮৫০ জনের মধ্যে ২৮৬ জনের নাম বাদ পড়েছে, যাদের বেশিরভাগই নবাব পরিবারের। বাদ পড়া ভোটারদেরদের মধ্যে ফাহিম, তার বাবা, স্ত্রী, জ্যাঠা মহম্মদ আব্বাস আলী মির্জার দুই মেয়ে ও বড় ছেলে রয়েছেন।

 

গলায় আক্ষেপ নিয়ে ফাহিম বলেন, মুর্শিদাবাদ শহরে হাজারদুয়ারি প্রাসাদ থেকে অন্যান্য নবাবী স্থাপত্য সব আমাদের পূর্বপুরুষের তৈরি। অথচ ভোটার তালিকা থেকে আমাদের নাম কেটে নাগরিকত্বই কেড়ে নেওয়া হলো। আমার পূর্বপুরুষ (মীরজাফরের ১৩তম বংশধর) সৈয়দ ওয়াসিফ আলি মির্জাকে ভারত স্বাধীন হওয়ার সময় পাকিস্তানের রাষ্ট্রপতি হওয়ার প্রস্তাব দেয়া হয়েছিল। কিন্তু আমাদের পরিবার চিরকাল ভারতীয়। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর মুর্শিদাবাদ তিনদিন পাকিস্তানের অন্তর্ভুক্ত ছিল। শেষে আমাদের পরিবারের হস্তক্ষেপে খুলনার বিনিময়ে মুর্শিদাবাদ ভারতের অন্তর্ভুক্ত হয়।

 

তিনি মনে করিয়ে দেন, তার জ্যাঠা আব্বাস আলী মির্জা নবাবী অধিকার ফিরে পেতে কলকাতা হাইকোর্ট ও সুপ্রিম কোর্টে মামলা করেছিলেন। সুপ্রিম কোর্ট তাকে নবাবের বংশধর হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে মামলা চালানোর অধিকারও দিয়েছিল বলে জানান ফাহিম। পাশাপাশি তিনি প্রশ্ন তোলেন, এর চেয়ে বড় প্রমাণ আর কী হতে পারে যে আমরা ভারতের নাগরিক?

 

শুধু তাই নয়, নাম সংশোধনের কথাও তুললেন ফাহিম। তিনি বলেন, ২০০২ সালের তালিকায় বাবার নাম ছিল ‘মহম্মদ রেজা আলী মির্জা’ (সৈয়দ ছিল না), আমার নাম ছিল ‘সৈয়দ ফাহিম মির্জা’ (মহম্মদ ছিল না)। কমিশনের নিয়ম মেনে পরে দু’জনেই পরে নাম সংশোধন করি। যদিও এবার এসআইআর এ আমাদের নাম প্রথমে ‘বিবেচনাধীন’ ছিল। শুনানির নোটিশ পেয়ে নির্বাচন কমিশনকে সম্মান জানিয়ে অসুস্থ শরীরে আমার ৮২ বছর বয়সী বাবা নিজে লাইনে দাঁড়িয়ে সব নথি জমা দেন। কিন্তু তাতেও সমস্যার সমাধান হলো না।

 

ব্যঙ্গাত্মক সুরে ফাহিম বলেন, একসময় নবাবী দরবারে আমাদের পূর্বপুরুষরা প্রজাদের বিচার করতেন। কিন্তু এখন নির্বাচন কমিশন আমাদের পরিবারের ‘বিচার’ করে স্থায়ীভাবে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দিয়ে দিলো। তার প্রশ্ন, মুর্শিদাবাদের নবাব পরিবারের সদস্যরা কী এখন আর ভারতের নাগরিক? এর জবাব দিক জাতীয় নির্বাচন কমিশন।

 

তিনি জানান, নাম বাদ গেলে ট্রাইবুনালে আবেদনের পথ আছে, আমরা সেখানে আবেদন করব। কিন্তু শুনানি হতে এত সময় লাগবে যে ততদিনে বিধানসভা ভোট পেরিয়ে যাবে—পরিবারের কেউই এবছর ভোট দিতে পারবেন না।

 

মুর্শিদাবাদ বিধানসভা কেন্দ্রের বিদায়ী বিজেপি বিধায়ক তথা এবার ওই কেন্দ্রের প্রার্থী গৌরিশঙ্কর ঘোষ বলেন, আমাদের দল বা নির্বাচন কমিশন কোনও বৈধ ভোটারের নাম বাদ দিতে বলেনি। যদি কারও নাম কোনও কারনে বাদ গিয়ে থাকে তারা ‘ফর্ম ৬’ পূরণ করে নিজেদের নাম ভোটার তালিকায় তুলতে পারবেন।

 

এদিকে এসআইআরে নাম বাদ প্রসঙ্গে নির্বাচন কমিশনের উদ্দেশে আবারও কটাক্ষ ছুঁড়ে দিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী। সোমবার মেদিনীপুরের নারায়ণগড়ের সভা থেকে মমতা বলেন, তারা বলছে চারটা তালিকা (সংশোধিত) নাকি বেরিয়ে গেছে। একটাও চোখে দেখতে পাইনি। চক্রান্ত চলছে। ষড়যন্ত্র করে আদিবাসী-সংখ্যালঘুদের নাম বাদ দিয়েছে। তাদের টার্গেট বাংলাকে বাদ দাও।’ মমতা বলেন, বিজেপির কথায় কমিশন বেছে বেছে বিশেষ সম্প্রদায়ের মানুষকে বাদ দিয়েছে। যদিও ওদের জেতার কোনও সম্ভাবনা নেই।

শ্যালকের অ্যাকাউন্টে লেনদেন করেন সাবেক এসবি প্রধান মনিরুল

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:০৩ অপরাহ্ণ
শ্যালকের অ্যাকাউন্টে লেনদেন করেন সাবেক এসবি প্রধান মনিরুল
শেয়ার করুন

পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) সাবেক প্রধান মনিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে ১১ শত কোটি টাকার মানিলন্ডারিংয়ের প্রমাণ পেয়েছে দুদক। সংস্থাটি বলছে, দায়িত্ব পালনকালে অবৈধ সম্পদের তথ্য গোপন করতে শ্যালকের ব্যাংক হিসাবে এসব সম্পদ জমা করেন। এ ঘটনায় মনিরুল, তার স্ত্রী সাবেক অতিরিক্ত সচিব শায়লা ফারজানা ও শ্যালকসহ চারজনকে আসামি করে দুটি মামলা করেছে দুদক।

 

আওয়ামী শাসনামলজুড়ে প্রভাবশালী পুলিশ কর্মকর্তা ছিলেন সাবেক অতিরিক্ত আইজিপি মনিরুল ইসলাম। ৫ আগস্টের পর দেশ ছেড়ে পালানো এই কর্মকর্তার দুর্নীতি অনুসন্ধান করতে গিয়ে বিপুল সম্পদের খোঁজ পায় দুদক।

অনুসন্ধানের এক পর্যায়ে তার শ্যালক রেজাউল করিম শাহীনের ব্যাংক হিসাবে ১০ হাজার ৪৫ কোটি টাকার মানিলন্ডারিংয়ের তথ্য পায় সংস্থাটি। এছাড়া ২৩ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ মিললেও কোনো আয়ের উৎস দেখাতে পারেননি শ্যালক শাহীন।

দুদকের উপ-পরিচালক মোজাম্মিল হোসেন জানান, মনিরুল ও তার স্ত্রী সাবেক অতিরিক্ত সচিব শায়লা ফারজানা তাদের সম্পদ গোপন করতে শ্যালককে হস্তান্তর করেন। সিপাহী বাবা শাহীনকে ২৫ কোটি টাকা দান করেছেন দেখানো হয়েছে, যার কোনো গ্রহণযোগ্য প্রমাণ মেলেনি।

একইভাবে মনিরুলের শ্যালক শাহীনের স্ত্রী সানজিদা খানম টুম্পার হিসাবেও দুদক খুঁজে পেয়েছে ৫৮ কোটি টাকার বেশি মানিলন্ডারিংয়ের তথ্য। এছাড়া অবৈধ সম্পদ পেয়েছে ১৫ কোটি টাকার বেশি।

এদিকে, সাবেক এই এসবি প্রধান মনিরুলের বিরুদ্ধে মধ্যপ্রাচ্যের দুটি এনজিওতে অর্থ পাচার এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে আরও অনুসন্ধান চলমান রয়েছে বলেও জানায় দুদক।

বিরোধী দলে থাকতেই কবর দিতে বাধা, ক্ষমতায় গেলে কী করবেন: তাসনিম জারা

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:২৮ অপরাহ্ণ
বিরোধী দলে থাকতেই কবর দিতে বাধা, ক্ষমতায় গেলে কী করবেন: তাসনিম জারা
শেয়ার করুন

নিজেদের নেতাদের ক্ষেত্রে ন্যায়বিচার ও মানবাধিকারের কথা বললেও অন্যদের বেলায় জামায়াতে ইসলামী সেই নীতি অনুসরণ করতে চায় না বলে অভিযোগ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সাবেক নেত্রী ডা. তাসনিম জারা। পিরোজপুরে এক মুক্তিযোদ্ধার দাফনে বাধা দেওয়ার অভিযোগ তুলে তিনি প্রশ্ন করেছেন, বিরোধী দলে থাকতেই যারা একজন মানুষকে নিজের বসতভিটায় কবর দিতে বাধা দেন, রাষ্ট্রক্ষমতা হাতে পেলে তারা কী করবেন?

সোমবার (২৬ অক্টোবর) সকালে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে এসব কথা বলেন তিনি।

পোস্টে তাসনিম জারা জানান, গত শনিবার সকাল ১০টার দিকে পিরোজপুরে ৮৭ বছর বয়সী মানিক পশারী নামে এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়। তিনি সরকারি গেজেটভুক্ত একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। তবে তার দাফন ঘিরে স্থানীয় জামায়াতের নেতাকর্মীরা বাধা সৃষ্টি করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

তাসনিম জারা লেখেন, ‘আমাদের সমাজে কেউ মারা গেলে কবর খুঁড়তে কাউকে ডেকে আনতে হয় না। খবর পেয়ে পাড়ার ছেলেরা কোদাল হাতে নিজেরাই চলে আসে। কেউ বাঁশ কেটে আনে, কেউ চাটাই। মৃত মানুষের দাফনে দেরি করতে নেই, এটা শুনেই বড় হয়েছি।’

 

তিনি অভিযোগ করেন, মানিক পশারীর মৃত্যুর পর স্থানীয় জামায়াতের নেতাকর্মীরা মিছিল করেন এবং মাইক ও ফেসবুকে ঘোষণা দেন, তাকে পিরোজপুরে দাফন করতে দেওয়া হবে না। এতে মরদেহ নিয়ে দিনভর উৎকণ্ঠায় অপেক্ষা করতে হয় পরিবারকে।

 

মৃতের মেয়ে সীমু আক্তারের বক্তব্য তুলে ধরে তাসনিম জারা জানান, বাড়িতে প্রথমে একটি কবর খোঁড়া হলেও কয়েকজন এসে তা ভরাট করে দেন। পরে সীমু আক্তার তার ফুফুদের নিয়ে নতুন করে কবর খোঁড়েন। পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কায় অন্য কেউ কবর খুঁড়তে এগিয়ে আসেননি।

 

তিনি লেখেন, ‘যে কোদাল পাড়ার ছেলেদের হাতে থাকার কথা, সেদিন তা ছিল মৃত ব্যক্তির মেয়ে আর বোনেদের হাতে।’

 

তার ভাষ্য অনুযায়ী, শেষ পর্যন্ত মধ্যরাতের পর পুলিশ পাহারায় পরিবারের সদস্যদের খোঁড়া কবরে মানিক পশারীকে দাফন করা হয়। এ সময় প্রশাসনের কর্মকর্তা ছাড়া পরিবারের বাইরের কেউ উপস্থিত ছিলেন না।

 

পোস্টে তাসনিম জারা আরও উল্লেখ করেন, পিরোজপুর জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি মানিক পশারীকে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা দাবি করে তাকে গার্ড অব অনার ও পিরোজপুরে দাফন করতে না দেওয়ার কথা বলেছিলেন। অথচ দাফনের পর একই নেতা দাবি করেন, জামায়াতের নেতারা লাশের রাজনীতি করেন না।

 

মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি নিয়ে প্রশ্ন থাকলে তা যাচাইয়ের জন্য রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ও আদালত রয়েছে উল্লেখ করে তাসনিম জারা বলেন, কোনো ব্যক্তির মুক্তিযোদ্ধা পরিচয় নিয়ে আপত্তি থাকতেই পারে। কিন্তু সেই বিরোধের নিষ্পত্তি দাফন আটকে দিয়ে কিংবা মাইকে ঘোষণা দিয়ে করা যায় না।

 

তিনি লেখেন, ‘মানিক পশারী মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন কি না, সেই প্রশ্ন আপনি চাইলে তুলতে পারেন। তোলার জায়গাও আছে। যাচাইয়ের জন্য রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠান আছে, আদালত আছে।’

 

মৃত ব্যক্তির প্রতি সামাজিক ও ধর্মীয় মর্যাদা রক্ষার বিষয়টি তুলে ধরে তিনি বলেন, সাধারণত জানাজার আগে মৃতের পরিবারের সদস্যরা তার ভুলত্রুটির জন্য সবার কাছে ক্ষমা চান। কিন্তু পিরোজপুরের ঘটনায় সেই সুযোগও পায়নি মানিক পশারীর পরিবার। এমনকি নিজের গ্রামে তার জানাজাও অনুষ্ঠিত হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।

 

জামায়াতের ভূমিকার সমালোচনা করে তাসনিম জারা লেখেন, ‘পিরোজপুরের মাটিতে দাফন করতে দেওয়া হবে না’ এই কথাটা ওনারা এমনভাবে বলেন, যেন এই মাটির দলিল ওনাদের নামে লেখা। যেন একজন মানুষ নিজের বাড়ির পারিবারিক কবরস্থানে শুয়ে থাকবেন কি না, সেই অনুমতিও তাদের কাছ থেকে নিতে হবে।’

 

একাত্তরে জামায়াতের ভূমিকার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, স্বাধীনতাযুদ্ধের সময় দল হিসেবে জামায়াত বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছিল। অথচ এখন সেই দলের নেতাকর্মীরাই কে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা, কে রাষ্ট্রীয় সম্মান পাবেন কিংবা কার কবর কোথায় হবে, তা নির্ধারণ করতে চাইছেন।

 

তাসনিম জারা আরও বলেন, একসময় জামায়াতের নেতাকর্মীদের উদ্দেশেও দেশ ছাড়ার স্লোগান দেওয়া হতো। এমন বক্তব্য কতটা অন্যায়, তা তাদের বোঝার কথা। কিন্তু বিরোধী দলে থাকা অবস্থাতেই তারা সেই অভিজ্ঞতা ভুলে গেছেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।

 

পোস্টের শেষাংশে জামায়াতের ন্যায়বিচার ও মানবাধিকারের অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তুলে তাসনিম জারা লেখেন, ‘নিজেদের নেতাদের ক্ষেত্রে জামায়াত ন্যায়বিচার, মানবাধিকার, ডিউ প্রোসেস আর মানবিক মর্যাদার কথা বলেন। কিন্তু অন্যদের ক্ষেত্রে সেটা করতে নারাজ।’

 

তিনি আরও লেখেন, ‘ভোটের আগে আর বক্তৃতায় ইনসাফের কথা বলেন। কিন্তু একজন মৃত মানুষের সঙ্গে ও তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের সঙ্গে এমন আচরণ করেন। বিরোধীদলে থাকতেই নিজের বসতভিটায় কবর দিতে বাধা দিচ্ছেন, রাষ্ট্রের সব ক্ষমতা ওনাদের হাতে গেলে কী করবেন?’

 

তবে তাসনিম জারার এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট জামায়াত নেতাদের কোনো নতুন বক্তব্য ওই পোস্টে উল্লেখ করা হয়নি।

এইচএসসির ফল প্রকাশের দুই দিন আগে ঢাকা বোর্ডের সচিবকে ‍কুমিল্লায় বদলি

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:১০ অপরাহ্ণ
এইচএসসির ফল প্রকাশের দুই দিন আগে ঢাকা বোর্ডের সচিবকে ‍কুমিল্লায় বদলি
শেয়ার করুন

এর আগে চলতি বছরের মে মাসে ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডে নতুন সচিব পদে নিযুক্ত হন অধ্যাপক এস এম কামাল উদ্দিন হায়দার। তিনি বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রণ পদে কর্মরত ছিলেন। ১৮ মে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের এক প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছিল, ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক হিসেবে দায়িত্ব পালন করা অধ্যাপক এস এম কামাল উদ্দিন হায়দারকে বোর্ডটির সচিব পদে নিযুক্ত করা হয়।