খুঁজুন
, ,

ভারতে ভোটার তালিকা থেকে বাদ ৩৪৬ মীর জাফরের বংশধররা

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ, ২০২৬, ১:৩৯ অপরাহ্ণ
ভারতে ভোটার তালিকা থেকে বাদ ৩৪৬ মীর জাফরের বংশধররা
শেয়ার করুন

যে নবাব পরিবারের হাত ধরে ৩০০ বছর আগে বাংলা-বিহার-ওড়িশা সমৃদ্ধ হয়েছিল, যে পরিবারের দরবারে লাখ লাখ প্রজা প্রতি বছর নজরানা এবং খাজনা দিতে আসত—আজ সেই মীরজাফরের বংশধররাই নিজেদের ‘ভারতের নাগরিক’ হিসেবে প্রমাণ করতে লড়াই করছেন।

 

আসন্ন বিধানসভা ভোটের মুখে মুর্শিদাবাদের নবাব পরিবারের প্রায় শতাধিক সদস্যের নাম এসআইআর প্রক্রিয়ায় ভোটার তালিকা থেকে ‘মুছে’ দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। তারা আদৌ আসন্ন নির্বাচনে ভোট দিতে পারবেন কিনা তা নিয়ে এখন সন্দিহান নবাব পরিবারের সদস্যরা। আর এই ঘটনার পর তারা যাচ্ছেন ট্রাইব্যুনালে।

 

যদিও ‘শুনানি’র নোটিশ পেয়ে নবাব বংশের সদস্যরা সব নথি নিয়ে নির্বাচন কমিশনের সামনে হাজির হয়েছিলেন। কিন্তু শুনানির পরেও পরিবারের বেশিরভাগ সদস্যের নাম স্থায়ীভাবে তালিকা থেকে ‘ডিলিট’ করে দেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ।

 

ইতিহাসের পাতা ওল্টালে জানা যায়, ১৭৫৭ সালের পলাশীর যুদ্ধে সিরাজউদ্দৌলার পরাজয়ের পর ব্রিটিশের সহায়তায় মসনদে বসেন মীরজাফর। বর্তমানে তার ১৫তম বংশধর মহম্মদ রেজা আলি মির্জা (যিনি মুর্শিদাবাদে ‘ছোটে নবাব’ নামে পরিচিত) এখনও ‘কিল্লা নিজামত’ এলাকার ঘণ্টা ঘরের কাছে পরিবার নিয়ে বসবাস করেন। ১৬তম বংশধর সৈয়দ মহম্মদ ফাহিম মির্জাও বাবার সঙ্গে একই বাড়িতে থাকেন। ‘কিল্লা নিজামত’ চত্বরে নবাব পরিবারের আরও বহু সদস্যর বাস। তাদের অনেকের নামও ভোটার তালিকা থেকে স্থায়ীভাবে মুছে দেয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

 

মীরজাফরের ১৬তম বংশধর তথা মুর্শিদাবাদ পৌরসভার ১০ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর ফাহিম আলি মির্জা বলেন, আমার বাবা একসময় রাজ্য সরকারের অধীনে নবাবী এস্টেটে চাকরি করতেন। ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় বাবা ও আমার নাম ছিল, আমরা ভোটও দিয়েছিলাম।

তবে এবার এসআইআর প্রক্রিয়ায় লালবাগের নব আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের ১২১ নম্বর বুথে যেখানে নবাবী পরিবারের সদস্যরা ভোট দেন সেখানে প্রায় ৮৫০ জনের মধ্যে ২৮৬ জনের নাম বাদ পড়েছে, যাদের বেশিরভাগই নবাব পরিবারের। বাদ পড়া ভোটারদেরদের মধ্যে ফাহিম, তার বাবা, স্ত্রী, জ্যাঠা মহম্মদ আব্বাস আলী মির্জার দুই মেয়ে ও বড় ছেলে রয়েছেন।

 

গলায় আক্ষেপ নিয়ে ফাহিম বলেন, মুর্শিদাবাদ শহরে হাজারদুয়ারি প্রাসাদ থেকে অন্যান্য নবাবী স্থাপত্য সব আমাদের পূর্বপুরুষের তৈরি। অথচ ভোটার তালিকা থেকে আমাদের নাম কেটে নাগরিকত্বই কেড়ে নেওয়া হলো। আমার পূর্বপুরুষ (মীরজাফরের ১৩তম বংশধর) সৈয়দ ওয়াসিফ আলি মির্জাকে ভারত স্বাধীন হওয়ার সময় পাকিস্তানের রাষ্ট্রপতি হওয়ার প্রস্তাব দেয়া হয়েছিল। কিন্তু আমাদের পরিবার চিরকাল ভারতীয়। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর মুর্শিদাবাদ তিনদিন পাকিস্তানের অন্তর্ভুক্ত ছিল। শেষে আমাদের পরিবারের হস্তক্ষেপে খুলনার বিনিময়ে মুর্শিদাবাদ ভারতের অন্তর্ভুক্ত হয়।

 

তিনি মনে করিয়ে দেন, তার জ্যাঠা আব্বাস আলী মির্জা নবাবী অধিকার ফিরে পেতে কলকাতা হাইকোর্ট ও সুপ্রিম কোর্টে মামলা করেছিলেন। সুপ্রিম কোর্ট তাকে নবাবের বংশধর হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে মামলা চালানোর অধিকারও দিয়েছিল বলে জানান ফাহিম। পাশাপাশি তিনি প্রশ্ন তোলেন, এর চেয়ে বড় প্রমাণ আর কী হতে পারে যে আমরা ভারতের নাগরিক?

 

শুধু তাই নয়, নাম সংশোধনের কথাও তুললেন ফাহিম। তিনি বলেন, ২০০২ সালের তালিকায় বাবার নাম ছিল ‘মহম্মদ রেজা আলী মির্জা’ (সৈয়দ ছিল না), আমার নাম ছিল ‘সৈয়দ ফাহিম মির্জা’ (মহম্মদ ছিল না)। কমিশনের নিয়ম মেনে পরে দু’জনেই পরে নাম সংশোধন করি। যদিও এবার এসআইআর এ আমাদের নাম প্রথমে ‘বিবেচনাধীন’ ছিল। শুনানির নোটিশ পেয়ে নির্বাচন কমিশনকে সম্মান জানিয়ে অসুস্থ শরীরে আমার ৮২ বছর বয়সী বাবা নিজে লাইনে দাঁড়িয়ে সব নথি জমা দেন। কিন্তু তাতেও সমস্যার সমাধান হলো না।

 

ব্যঙ্গাত্মক সুরে ফাহিম বলেন, একসময় নবাবী দরবারে আমাদের পূর্বপুরুষরা প্রজাদের বিচার করতেন। কিন্তু এখন নির্বাচন কমিশন আমাদের পরিবারের ‘বিচার’ করে স্থায়ীভাবে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দিয়ে দিলো। তার প্রশ্ন, মুর্শিদাবাদের নবাব পরিবারের সদস্যরা কী এখন আর ভারতের নাগরিক? এর জবাব দিক জাতীয় নির্বাচন কমিশন।

 

তিনি জানান, নাম বাদ গেলে ট্রাইবুনালে আবেদনের পথ আছে, আমরা সেখানে আবেদন করব। কিন্তু শুনানি হতে এত সময় লাগবে যে ততদিনে বিধানসভা ভোট পেরিয়ে যাবে—পরিবারের কেউই এবছর ভোট দিতে পারবেন না।

 

মুর্শিদাবাদ বিধানসভা কেন্দ্রের বিদায়ী বিজেপি বিধায়ক তথা এবার ওই কেন্দ্রের প্রার্থী গৌরিশঙ্কর ঘোষ বলেন, আমাদের দল বা নির্বাচন কমিশন কোনও বৈধ ভোটারের নাম বাদ দিতে বলেনি। যদি কারও নাম কোনও কারনে বাদ গিয়ে থাকে তারা ‘ফর্ম ৬’ পূরণ করে নিজেদের নাম ভোটার তালিকায় তুলতে পারবেন।

 

এদিকে এসআইআরে নাম বাদ প্রসঙ্গে নির্বাচন কমিশনের উদ্দেশে আবারও কটাক্ষ ছুঁড়ে দিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী। সোমবার মেদিনীপুরের নারায়ণগড়ের সভা থেকে মমতা বলেন, তারা বলছে চারটা তালিকা (সংশোধিত) নাকি বেরিয়ে গেছে। একটাও চোখে দেখতে পাইনি। চক্রান্ত চলছে। ষড়যন্ত্র করে আদিবাসী-সংখ্যালঘুদের নাম বাদ দিয়েছে। তাদের টার্গেট বাংলাকে বাদ দাও।’ মমতা বলেন, বিজেপির কথায় কমিশন বেছে বেছে বিশেষ সম্প্রদায়ের মানুষকে বাদ দিয়েছে। যদিও ওদের জেতার কোনও সম্ভাবনা নেই।

জাইমা রহমানের জন্মদিনে ৫ শতাধিক ছাত্রীকে বাইসাইকেল উপহার

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:১৫ অপরাহ্ণ
জাইমা রহমানের জন্মদিনে ৫ শতাধিক ছাত্রীকে বাইসাইকেল উপহার
শেয়ার করুন

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমানের জন্মদিন উপলক্ষে বগুড়ার শিবগঞ্জে ৫৪৮ জন ছাত্রীকে বিনামূল্যে বাইসাইকেল উপহার দেওয়া হয়েছে। রবিবার (২৫ অক্টোবর) বগুড়ার শিবগঞ্জ সরকারি পাইলট উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্রীদের নিয়ে এই আয়োজন করা হয়।

স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের আয়োজনে এসব ছাত্রীদের বাইসাইকেল দেওয়া হয়। এ সময় শিক্ষার্থীরা স্লোগান দেন, ‘শুভ শুভ শুভদিন, জাইমা রহমানের জন্মদিন’ ‘করবো কাজ গড়বো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’।

এ সময় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, সাত শতাধিক মেধাবী শিক্ষার্থীর পরীক্ষা নিয়েছিলাম, যার মধ্যে অংশ নিয়েছিল ৫৪৮ জন ছাত্রী। মোট ১০২টি শিক্ষার্থী প্রতিষ্ঠানের ৫৪৮জনকে ডেকে নিয়ে বাইসাইকেল উপহার দিচ্ছি।

এছাড়া যে প্রতিষ্ঠানে এই বাইসাইকেল প্রদানের আয়োজন করা হয়, তাদেরসহ প্রায় এক হাজার শিক্ষার্থীদের জাইমা রহমানের ছবি সম্বলিত মগ উপহার দেওয়া হয়।

বাইসাইকেল পেয়ে শিক্ষার্থীরা বেশ উচ্ছ্বসিত হন। কেউ কেউ স্কুল মাঠেই সাইকেল চালিয়ে আনন্দ উপভোগ করেন।

ঝোঁপঝাড়ে ফেলে যাওয়া নবজাতককে দত্তক নিতে ১২৩ পরিবারের আবেদন

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১:৩৯ অপরাহ্ণ
ঝোঁপঝাড়ে ফেলে যাওয়া নবজাতককে দত্তক নিতে ১২৩ পরিবারের আবেদন
শেয়ার করুন

চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে ফটিকছড়িতে সড়কের পাশের ঝোপঝাড়ে ফেলে যাওয়া এক নবজাত কন্যাশিশুকে দত্তক নিতে ব্যাপক আগ্রহ দেখা দিয়েছে শিশুটির লালন-পালনের দায়িত্ব নিতে এক দিনেই ১২৩টি আবেদন জমা পড়েছে।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাত পর্যন্ত ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে আবেদনকারীদের সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, আবেদনকারীদের পারিবারিক পরিবেশ, আর্থিক সামর্থ্য, শিশুর পরিচর্যার সক্ষমতা ও অন্যান্য প্রাসঙ্গিক বিষয় বিবেচনায় নিয়ে উপযুক্ত পরিবার নির্বাচনের প্রক্রিয়া চলছে। তবে, আবেদন করলেই শিশুটিকে দত্তক নেওয়ার সুযোগ মিলবে না। এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যাচাই-বাছাই ও প্রযোজ্য আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে।

ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাঈদ মোহাম্মদ ইব্রাহিম গণমাধ্যমকে বলেন, শিশুটিকে দত্তক নিতে বিপুলসংখ্যক আবেদন জমা পড়েছে। উপযুক্ত পরিবার নির্বাচনের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। যাচাই-বাছাই ও আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

এর আগে, গত বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার পাইন্দং ইউনিয়নের উত্তর পাইন্দং এলাকার আমতলীতে সড়কের পাশের ঝোঁপঝাড় থেকে নবজাতকটিকে জীবিত উদ্ধার করা হয়।

স্থানীয় লোকজন শিশুটিকে ঝোঁপের মধ্যে পড়ে থাকতে দেখে পুলিশকে খবর দেন। পরে ফটিকছড়ি থানা-পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশুটিকে উদ্ধার করেন। উদ্ধারের পর তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, শিশুটির শারীরিক অবস্থা ভালো ছিল।তবে কে বা কারা শিশুটিকে সেখানে ফেলে গেছেন, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। শিশুটির নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে উপযুক্ত পরিবার নির্বাচনের পাশাপাশি তাকে পরিত্যক্ত অবস্থায় ফেলে যাওয়ার ঘটনার রহস্য উদঘাটন ও পরিচয় শনাক্তে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় লোকজন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রচেষ্টায় ভোলাখালে অষ্টম সেতু নির্মাণের প্রস্তাব

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১:০০ অপরাহ্ণ
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রচেষ্টায় ভোলাখালে অষ্টম সেতু নির্মাণের প্রস্তাব
শেয়ার করুন

কক্সবাজারের পেকুয়ায় ভোলাখালের ওপর মগনামা বাজারপাড়া থেকে বারবাকিয়া ইউনিয়নের বোধামাঝির ঘোনা পর্যন্ত ১০০ মিটার দীর্ঘ সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রস্তাবিত সেতুটি নির্মিত হলে মগনামা ও বারবাকিয়ার মধ্যে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ স্থাপনের পাশাপাশি পেকুয়া ও কুতুবদিয়ার মানুষের যাতায়াত, পণ্য পরিবহন ও ব্যবসা-বাণিজ্যে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে বলে আশা করছেন স্থানীয়রা।

সম্প্রতি সেতু নির্মাণের উদ্যোগের অংশ হিসেবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও কক্সবাজার-১ আসনের সংসদ সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদের প্রয়োজনীয় সুপারিশ ও প্রস্তাব স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। প্রকল্পটি অনুমোদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও কারিগরি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে সেতু নির্মাণকাজ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

স্থানীয়দের মতে, সেতুটি বাস্তবায়িত হলে মগনামা ও বারবাকিয়ার মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপনের পাশাপাশি পেকুয়া ও কুতুবদিয়ার সঙ্গে মহেশখালী হয়ে চট্টগ্রামের যোগাযোগে একটি বিকল্প ও গুরুত্বপূর্ণ সড়কপথ তৈরি হতে পারে। এতে যাতায়াতের সময় ও পেকুয়া বাজার কেন্দ্রীক যানজট ভোগান্তি কমার পাশাপাশি উপকূলীয় এ অঞ্চলের আর্থসামাজিক কর্মকাণ্ড, কৃষিপণ্য,লবণ, মৎস্য পরিবহন ও ব্যবসা-বাণিজ্যে ইতিবাচক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এদিকে ‎ভোলাখালের বিভিন্ন অংশে ইতোমধ্যে সাতটি সেতু নির্মিত হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে- মগনামা শরৎঘোনা–রাজাখালী নতুনঘোনা সেতু, পেকুয়া পশ্চিম গোঁয়াখালী অংশের রাবারড্যাম সেতু, পেকুয়া বাজার–বারবাকিয়া ফাঁশিয়াখালী সেতু, পেকুয়া মৌলভীপাড়া অংশের আঞ্চলিক মহাসড়ক সেতু, পেকুয়া-বারবাকিয়া বাজার সেতু, পেকুয়া সাবমেরিন নৌঘাঁটি সড়কের সালাহউদ্দিন সেতু এবং বাগুজারা-সাকুরপাড় সেতু।

স্থানীয়দের দাবি, এসব সেতুর ধারাবাহিকতায় মগনামা বাজারপাড়া-বোধামাঝির ঘোনা সেতুটি নির্মিত হলে ভোলাখালের ওপর এটি হবে অষ্টম গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ সেতু। সেতুটি নির্মিত হলে পেকুয়া উপজেলার অভ্যন্তরীণ যোগাযোগব্যবস্থা আরও শক্তিশালী হওয়ার পাশাপাশি কুতুবদিয়ার সঙ্গে সড়ক যোগাযোগেও নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে।

 

‎

 

‎এতে শিক্ষা, চিকিৎসা, লবণ,মৎস্য ও কৃষিপণ্য পরিবহন, ব্যবসা-বাণিজ্য ও সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন চলাচলে দুই উপজেলার মানুষ সুফল পাবেন বলে প্রত্যাশা করছেন স্থানীয়রা। একই সঙ্গে পেকুয়া বাজারকেন্দ্রিক সড়কে যানবাহনের চাপও কিছুটা কমতে পারে বলে মনে করছেন তারা।

 

এলাকাবাসী জানান, দীর্ঘদিন ধরে ভোলাখাল মগনামা ও বারবাকিয়ার মানুষের স্বাভাবিক চলাচলের ক্ষেত্রে একটি বড় প্রতিবন্ধকতা হয়ে আছে। খালের ওপর প্রস্তাবিত সেতুটি নির্মিত হলে দুই এলাকার মধ্যে যোগাযোগ সহজ হওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় অর্থনীতি ও জনজীবনেও ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে।

 

‎দীর্ঘদিনের দাবি ও প্রত্যাশার পর সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়ায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এমপির প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ব্যক্তিগত প্রেস সচিব ছফওয়ানুল করিম বলেন, ‘চকরিয়া-পেকুয়া-মাতামুহুরী অঞ্চলের যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের ধারাবাহিকতায় ভোলাখালের মগনামা বাজারপাড়া অংশে ১০০ মিটার দীর্ঘ সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সুপারিশ ও প্রস্তাব স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। প্রকল্পটি অনুমোদনের পর পরবর্তী প্রশাসনিক ও কারিগরি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে সেতু নির্মাণের কাজ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে।’

 

‎তিনি বলেন, ‘সেতুটি নির্মিত হলে মগনামা, বারবাকিয়া ও আশপাশের এলাকার মানুষের চলাচল সহজ হওয়ার পাশাপাশি পেকুয়া-চকরিয়া অঞ্চলের সড়ক যোগাযোগব্যবস্থায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করছি।’

 

‎

 

‎পেকুয়া উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসাইন বলেন, ‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের প্রচেষ্টায় মগনামা-বোধামাঝির ঘোনা সেতু নির্মাণের উদ্যোগের খবরে বারবাকিয়া ও আশপাশের এলাকার মানুষের মধ্যে উৎসাহ সৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এ অঞ্চলের মানুষ যোগাযোগের ক্ষেত্রে নানা দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। সেতুটি নির্মিত হলে বারবাকিয়াসহ আশপাশের এলাকার সঙ্গে পেকুয়া উপজেলার সরাসরি ও সহজ যোগাযোগব্যবস্থা গড়ে উঠবে। একই সঙ্গে শিক্ষা, চিকিৎসা, কৃষি, ব্যবসা-বাণিজ্য ও সাধারণ মানুষের চলাচলেও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।’

তিনি বলেন, ‘মহেশখালীর মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর, পেকুয়া ও কুতুবদিয়ার মধ্যে যাতায়াত এবং পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রেও এ সেতু গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। জনগণের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণে দ্রুত প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে সেতুটির নির্মাণকাজ শুরুর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।’