খুঁজুন
বৃহস্পতিবার, ৭ মে, ২০২৬, ২৪ বৈশাখ, ১৪৩৩

মাদকসেবীকে আজান দিয়ে তওবা করাল পুলিশ

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৭ মে, ২০২৬, ১১:১৪ পূর্বাহ্ণ
মাদকসেবীকে আজান দিয়ে তওবা করাল পুলিশ
শেয়ার করুন
  • সাভারে এক মাদকাসক্ত যুবককে আটক করে আজান দেওয়ানোর পর তওবা করিয়ে ছেড়ে দিয়েছে পুলিশ। ঘটনাটি ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে।

বুধবার (৬ মে) বিকেলে বিরুলিয়া ইউনিয়নের কাকাব গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

জানা যায়, বুধবার বিকেলে মাদক সেবনের সময় রবিন নামের এক যুবককে আটক করে বিরুলিয়া ইউনিয়ন পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা। এ সময় তার মা সখিনা বেগম পুলিশের কাছে আকুতি জানিয়ে ছেলেকে শেষবারের মতো সুযোগ দেওয়ার অনুরোধ করেন।

এ সময় মা সখিনা বেগম জানান, প্রায় এক মাস আগে মাদক মামলায় কারাভোগ শেষে জামিনে মুক্তি পায় রবিন। মুক্তির পরও সে পুনরায় মাদকে আসক্ত হয়ে পড়ে এবং প্রায়ই তাকে নির্যাতন করে। পরিস্থিতি বিবেচনায় পুলিশ রবিনকে আজান দিতে বলে।

 

পরে রবিন আজান দেন এবং সবার সামনে তওবা করে ভবিষ্যতে মাদক পরিহারসহ নিয়মিত নামাজ আদায়ের অঙ্গীকার করেন। এ সময় তিনি মায়ের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করলে উপস্থিত স্থানীয় লোকজনের সম্মতিতে তাকে মায়ের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়।

ঘটনার সময় স্থানীয় ইউপি সদস্য শাহীন মিয়াসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

বিরুলিয়া ইউনিয়ন পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ আল আমিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, রবিন দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত এবং তার মাকে নির্যাতন করে আসছিল। মানবিক দিক বিবেচনায় তাকে সতর্ক করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

এদিকে, মাদকাসক্তকে আজান দেওয়ানো ও তওবা করানোর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় ঘটনাটি নিয়ে নানা আলোচনা-সমালোচনা চলছে।

তুরস্কের ইমাম হাতিপ হাইস্কুলের বাংলাদেশী শিক্ষার্থী 𝗛𝗮𝗳𝗲𝘇 𝗔𝗱𝗻𝗮𝗻 𝗝𝘂𝗵𝗮𝗿𝗶 এর তুরস্ক জয়ের গল্প!

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৭ মে, ২০২৬, ৫:০৪ অপরাহ্ণ
তুরস্কের ইমাম হাতিপ হাইস্কুলের বাংলাদেশী শিক্ষার্থী 𝗛𝗮𝗳𝗲𝘇 𝗔𝗱𝗻𝗮𝗻 𝗝𝘂𝗵𝗮𝗿𝗶 এর তুরস্ক জয়ের গল্প!
শেয়ার করুন

তুরস্কের দিয়ানেত ফাউন্ডেশন স্কলারশিপের ২০২২ ব্যাচে আগত বাংলাদেশের কক্সবাজারের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ আদনান জুহারী, সমগ্র তুরস্কের সকল ইমাম হাতিপ হাইস্কুলগুলোর মধ্যকার হিফযুল কুরআন প্রতিযোগিতায় তুরস্কের সকল প্রতিযোগীকে পেছনে ফেলে প্রথম স্থান অর্জন করার এক দুর্লভ গৌরব অর্জন করেছে, আলহামদুলিল্লাহ।

 

হাফেজ মোহাম্মদ আদনান জুহারী, বর্তমানে তুরস্কের ইস্তাম্বুলের বায়রামপাশায় অবস্থিত আন্তর্জাতিক কাপ্তান আহমেদ এরদোয়ান ইমাম হাতিপ হাইস্কুলে দ্বাদশ শ্রেণীতে অধ্যয়নরত আছে।

 

ইতিপূর্বে ২০২৪ সালের আরেকটি হিফযুল কুরআন প্রতিযোগিতায় হাফেজ মোহাম্মদ আদনান জুহারী সমগ্র ইস্তানবুলে প্রথম স্থান অর্জন করার গৌরব অর্জন করেছিল। সেই ধারাবাহিকতায় আজ সে পুরো তুরস্কে প্রথম স্থান অর্জন করে তার প্রতিভার স্বাক্ষর বজায় রেখেছে। আমরা Scholars’ Mentor পরিবার, হাফেজ মোহাম্মদ আদনানের সর্বাঙ্গীন সফলতা কামনা করি এবং তাকে আবারো অভিনন্দন জানাই! বাংলাদেশ তোমাকে নিয়ে গর্বিত আদনান! 💐

 

প্রথম কমেন্টে আদনানের তিলাওয়াতের একটি অংশ যুক্ত করে দেয়া হল।

 

Study in Turkey with Scholars’ Mentor

তিন হাসপাতাল ঘুরে ৫ মাস বয়সী সন্তানের মরদেহ নিয়ে ফিরলেন মা–বাবা

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৭ মে, ২০২৬, ২:১৪ অপরাহ্ণ
তিন হাসপাতাল ঘুরে ৫ মাস বয়সী সন্তানের মরদেহ নিয়ে ফিরলেন মা–বাবা
শেয়ার করুন
মো. তাকরিম
মো. তাকরিম

আমেনা বেগম চেয়ারে হেলান দিয়ে চোখ বন্ধ করে প্রায় অচেতনের মতো বসে ছিলেন। হঠাৎ উঠে দাঁড়িয়ে আর্তচিৎকার, ‘বাবারে কিন্তু আমি বুকে নিয়া বাসায় যামু’। স্বজনেরা তাঁকে জড়িয়ে ধরে শান্ত করার চেষ্টা করলেন। কিন্তু আমেনা বেগম শান্ত হলেন না।

‘আমি তো বাবারে এমনে আনি নাই, এখন এমনে কেমনে নিয়া যামু’, ‘বাবা তো আমার কাছে আর আসব না’, ‘আল্লাহ কেন দয়া করল না’, ‘বাবা আমার আগে কেন চইল্যা গেল’, ‘বাবারে কত কষ্ট দিছি, বাবা মাফ কইরা দিয়ো’…এভাবে আক্ষেপ চলতেই থাকে মা আমেনার।

তাকরিমের ‘লাইফ সাপোর্ট’ খুলে নেওয়া থেকে শুরু করে অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা শেষ হতে হতে দুপুর হয়ে যায়। অ্যাম্বুলেন্সের পেছনের সিটে তাকরিমের কাফনে মোড়ানো ছোট মরদেহটা রাখা হয়। আমেনা বেগমকে বসানো হয়েছিল সামনের সিটে। তখন তাঁকে সামলানো কঠিন হয়ে পড়ে। মা পেছনে তাকালেও ছেলের মরদেহের দিকে সরাসরি তাকাতে পারছিলেন না।

অ্যাম্বুলেন্সে কাফনে মোড়ানো তাকরিমের ছোট মরদেহ
অ্যাম্বুলেন্সে কাফনে মোড়ানো তাকরিমের ছোট মরদেহছবি: মানসুরা হোসাইন

গতকাল বুধবার সকালে রাজধানীর ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হাম ও অন্যান্য জটিলতায় মারা যায় পাঁচ মাস বয়সী মো. তাকরিম। সেখানে মা আমেনা বেগম আর বাবা মো. মহসীন একটানা বিলাপ করছিলেন। ভোলা জেলার বাংলাবাজারে তাঁদের বাড়ি।

গতকাল সকাল ১০টায় শিশুটি মারা যাওয়ার পর বেলা আড়াইটা পর্যন্ত মা–বাবা হাসপাতালেই ছিলেন। তখন তাঁদের সঙ্গে কথা বলার মতো পরিস্থিতি ছিল না।

মো. মহসীন একসময় মুঠোফোন বের করে তাঁর মাকে ফোন দিলেন। ওপাশ থেকে ফোন ধরার সঙ্গে সঙ্গে তিনি বললেন, ‘মা, তোমার নাতিরে আল্লায় নিয়া গেছে গো, তোমার নাতি দুনিয়া ছাইড়া চলিয়া গেছে গো, তোমার রুমে যাইয়া আর কান্না করব না তোমার নাতি।’

পিআইসিইউর (শিশুদের নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্র) দরজার একদম সামনেই ছিল তাকরিমের বিছানা। দরজার কাছ থেকেই তাকরিমের মরদেহ দেখার অনুমতি দেন চিকিৎসক। শিশুটির মরদেহ বিছানায় শোয়ানো, তখন সেখানে থাকা অন্য মায়েদের নিজের সন্তানকে বুকে জড়িয়ে ধরে বসে থাকতে দেখা গেছে।

তাকরিমের ‘লাইফ সাপোর্ট’ খুলে নেওয়া থেকে শুরু করে অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা শেষ হতে হতে দুপুর হয়ে যায়। অ্যাম্বুলেন্সের পেছনের সিটে তাকরিমের কাফনে মোড়ানো ছোট মরদেহটা রাখা হয়। আমেনা বেগমকে বসানো হয়েছিল সামনের সিটে। তখন তাঁকে সামলানো কঠিন হয়ে পড়ে। মা পেছনে তাকালেও ছেলের মরদেহের দিকে সরাসরি তাকাতে পারছিলেন না।আমেনা বেগম বলছিলেন, ছেলের হাতে ক্যানোলা থাকতে থাকতে হাত ফুলে গিয়েছিল। তিন বেলা ইনজেকশন দিতেন চিকিৎসকেরা। একসময় মুখে খাওয়ানোর ওষুধ দেন। ২০টির মতো মলমই লাগানো হয়।

ভোলা থেকে ঢাকা, আবার ভোলায় ফেরা

ভোলা থেকে ঢাকা, আবার ঢাকা থেকে ভোলায় ফেরা—সব মিলে এক মাসের লড়াই। জ্বর-কাশি, র্যাশসহ নানা জটিলতায় তাকরিমকে প্রথমে ভোলার সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। হাসপাতাল, হাসপাতাল থেকে বাসায় ফেরা আবার চিকিৎসকের চেম্বারে দেখানো—এভাবে অনেকটা সময় চলে যায়।

আমেনা বেগম বলছিলেন, ছেলের হাতে ক্যানোলা থাকতে থাকতে হাত ফুলে গিয়েছিল। তিন বেলা ইনজেকশন দিতেন চিকিৎসকেরা। একসময় মুখে খাওয়ানোর ওষুধ দেন। ২০টির মতো মলমই লাগানো হয়।

বাবা মহসীন জানান, ভোলায় চিকিৎসকেরা ছেলের হাম শনাক্ত করতে পারেননি। অ্যালার্জি হয়েছে জানিয়ে চিকিৎসা করেছেন। দিন দিন ছেলের অবস্থা খারাপ হতে থাকে। ‘ডাক্তারের কাছে ১০০ বার জিজ্ঞেস করছি বাচ্চাটার কি হাম হইছে? শুধু বলছে অ্যালার্জি হইছে। একটা বারও যদি হামের কথা বলত, তাইলে ছেলেরে আরও আগেই ঢাকায় নিয়া আসতাম’—বলেন বাবা।শিশুটিকে হাম ও হাম–পরবর্তী জটিলতা নিয়ে একদম শেষ পর্যায়ে এ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকেরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছেন। সকাল ১০টার দিকে শিশুটিকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসকেরা।

চিকিৎসার দায়িত্ব নিয়েছিলেন একজন মন্ত্রী

তাকরিমের পিআইসিইউর প্রয়োজন হলে বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করাতে হয়। হাসপাতালের বিল বাড়তে থাকলে দিশাহারা হয়ে পড়েন বাবা-মা। তাকরিমের বাবা-মা গত মঙ্গলবার একাত্তর টিভিকে জানিয়েছিলেন, চিকিৎসা সহায়তা দেওয়ার বিনিময়ে কেউ যদি তাকরিমকে নিয়ে নিতে চান, তা–ও তাঁরা দিতে রাজি আছেন। তাঁরা শুধু চান তাঁদের সন্তান বেঁচে থাকুক। বেসরকারি টেলিভিশনের এই প্রতিবেদন দেখে তাকরিমের চিকিৎসার দায়িত্ব নিয়েছিলেন সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। মন্ত্রীর প্রতিনিধি এক লাখ টাকা দিয়ে গেছেন, তিনি হাসপাতালের বিল পরিশোধ করবেন বলে জানিয়েছেন। এ ছাড়া হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ মোট বিল থেকে পরিবারকে এক লাখ টাকা ছাড় দিয়েছে।

শিশুটির বাবা মহসীন বলেন, মন্ত্রী চিকিৎসার দায়িত্ব নিলেও ছেলেকে তো বাঁচানো গেল না। মহসীন অটোরিকশা চালান। বিদেশ যাওয়ার জন্য অনেক টাকা খরচ করেছেন। তাঁর বড় মেয়ের বয়স তিন বছর। এত চেষ্টার পরও সন্তানকে বাঁচাতে না পারার আক্ষেপ নিয়ে বাবা-মা বেলা আড়াইটার দিকে অ্যাম্বুলেন্সে ওঠেন। ছেলের মরদেহ নিয়ে ভোলার পথে রওনা দেন তাঁরা।

ড. ইউনুস ও আসিফ নজরুলসহ ১৬ জনের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৭ মে, ২০২৬, ১:১৩ অপরাহ্ণ
ড. ইউনুস ও আসিফ নজরুলসহ ১৬ জনের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন
শেয়ার করুন

রাজধানীর উত্তরায় মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিমান দুর্ঘটনায় শিক্ষার্থীদের মৃত্যুর ঘটনায় বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনুস ও আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুলসহ ১৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের আবেদন করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৭ মে) সকালে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলামের আদালতে এ মামলার আবেদন করেন নিহত শিক্ষার্থী উক্য ছাইং মার্মার বাবা উসাইমং মারমা। আদালত বাদীর জবানবন্দি রেকর্ড করে আদেশ অপেক্ষমাণ রেখেছেন।বাদীপক্ষের আইনজীবী এ কে এম শারিফ উদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, আবেদনে মোট ১৬ জনকে আসামি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর এয়ার চীফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন, এয়ার কমান্ডিং অফিসার মোরশেদ মোহাম্মদ খায়ের উল আফসার, অফিসার কমান্ডিং (ম্যানটেইনেন্স গ্রুপ) ক্যাপ্টেন রিফাত আক্তার জিকু, মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের গভার্নিং বডির উপদেষ্টা নূরনবী (অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল), প্রিন্সিপাল মোহাম্মদ জিয়াউল আলম, প্রশাসনিক প্রিন্সিপাল মো. মাসুদ আলম, স্কুল শাখার প্রিন্সিপাল রিফাত নবী, রাজউকের চেয়ারম্যান, রাজউকের ফিল্ড সুপারভাইজার (উত্তরা), শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব সিদ্দিক জুবায়ের, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব, সাবেক পরিবেশ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা উপদেষ্টা ড. রেজওয়ানা হাসান এবং সাবেক প্রেস সচিব শফিকুল আলম।

মামলায় কার বিরুদ্ধে কী অভিযোগ

আবেদনে বলা হয়, মুহাম্মদ ইউনূস গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের নির্বাহী ক্ষমতার প্রধান ছিলেন এবং ওই সময় তিনি সশস্ত্র বাহিনী ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন। তার অধীনস্থ ও নিয়ন্ত্রণাধীন বিমান বাহিনীর একটি যুদ্ধবিমান ওই দুর্ঘটনার সঙ্গে জড়িত। দুর্ঘটনার পর তিনি গণমাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে সর্বোচ্চ ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ঘোষণা দিলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি বলে অভিযোগ করা হয়েছে। দায়িত্ব পালনে অবহেলা, প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ ও প্রতারণার অভিযোগও আনা হয়েছে তার বিরুদ্ধে।

অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল, পরিবেশ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিষয়ক উপদেষ্টা রেজওয়ানা হাসান, সি. আর আবরার এবং প্রেস সচিব শফিকুল আলমের বিরুদ্ধে অভিযোগে বলা হয়, তারা দুর্ঘটনার পর আহতদের চিকিৎসা, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা উপকরণ সরবরাহ এবং উদ্ধার কার্যক্রমে কার্যকর নির্দেশনা দিতে ব্যর্থ হন।

বিমান বাহিনীর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগে বলা হয়, এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খান, এয়ার কমান্ডিং অফিসার মোরশেদ মোহাম্মদ খায়ের উল আফসার এবং অফিসার কমান্ডিং (মেইনটেন্যান্স গ্রুপ) ক্যাপ্টেন রিফাত আক্তার জিকুর অনুমতি ও নির্দেশনায় বিমানগুলো উড্ডয়ন করতো। তারা দায়িত্ব পালনে অবহেলা করে ঘনবসতিপূর্ণ ঢাকা শহরে ত্রুটিযুক্ত যুদ্ধবিমান উড্ডয়নের অনুমতি দিয়েছেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের তৎকালীন কর্তৃপক্ষ—প্রিন্সিপাল নুরনবী, জিয়াউল আলম, মাসুদ আলম এবং রিফাত নবীর বিরুদ্ধে অভিযোগে বলা হয়, তাদের তত্ত্বাবধানে প্রতিষ্ঠান পরিচালিত হলেও পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা, জরুরি বহির্গমন পথ ও মানসম্মত সিঁড়ি নিশ্চিত করা হয়নি। খামখেয়ালিভাবে প্রতিষ্ঠান পরিচালনার কারণেই এত প্রাণহানি ঘটেছে বলে দাবি করা হয়েছে।

রাজউকের চেয়ারম্যান ও উত্তরা জোনের ফিল্ড সুপারভাইজারের বিরুদ্ধেও অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়, তাদের দায়িত্বে অবহেলার কারণে অনুপযুক্ত ভবনে স্কুলটি পরিচালিত হয়েছে এবং ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থা থাকা সত্ত্বেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব সিদ্দিক জুবায়েরের বিরুদ্ধেও একই ধরনের অবহেলার অভিযোগ আনা হয়েছে।

প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিবের বিরুদ্ধে অভিযোগে বলা হয়, তার অধীনস্থ যুদ্ধবিমান ব্যবস্থাপনায় ত্রুটি ও দায়িত্বহীনতার কারণেই দুর্ঘটনা ঘটে, যাতে ৩৬ জন নিহত এবং ১৭২ জন আহত বা পঙ্গুত্ব বরণ করেন। দুর্ঘটনার পর দায়ীদের চিহ্নিত ও বিচার প্রক্রিয়ায় অন্তর্ভুক্ত না করে ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনেও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ২১ জুলাই উত্তরার দিয়াবাড়িতে মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিমানবাহিনীর একটি যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়। এতে ৩৬ জন নিহত হন, যার মধ্যে ২৮ জন শিক্ষার্থী ছিলেন। পাইলট ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মো. তৌকির ইসলামও এতে নিহত হন।