খুঁজুন
সোমবার, ১১ মে, ২০২৬, ২৮ বৈশাখ, ১৪৩৩

হাসিনার পরামর্শে ভোট ইঞ্জিনিয়ারিং করে মমতাকে হারানো হয়েছে

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ১১ মে, ২০২৬, ২:০৯ পূর্বাহ্ণ
হাসিনার পরামর্শে ভোট ইঞ্জিনিয়ারিং করে মমতাকে হারানো হয়েছে
শেয়ার করুন

পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনে শেখ হাসিনার পরামর্শে ভোট ইঞ্জিনিয়ারিং করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হারিয়ে শুভেন্দু অধিকারীকে ক্ষমতায় বসানো হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ (বীর বিক্রম)।

রোববার (১০ মে) চট্টগ্রাম ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে ১১ দলীয় ঐক্যের সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

অলি আহমদ বলেন, কিছুদিন আগে পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচন হয়েছে। সেখানেও বাংলাদেশ থেকে দীক্ষিত হয়ে এবং হাসিনার পরামর্শে ভোট ইঞ্জিনিয়ারিং করা হয়েছে। মমতাকে হারিয়ে শুভেন্দু অধিকারীকে ক্ষমতায় বসানো হয়েছে। নির্বাচনের পর সেখানে সংখ্যালঘু মুসলমানদের ওপর নির্যাতন করা হচ্ছে। পত্র-পত্রিকায় দেখলাম, মুসলমানদের গাড়িতে বেঁধে টেনে নিয়ে নির্যাতন করা হচ্ছে।

এলডিপি সভাপতি বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর বিএনপি দ্রুত নির্বাচন চেয়েছিল। আমরা বলেছি, আগে বিচার, সংস্কার ও নতুন সংবিধান। গণভোটে ৭০ শতাংশ জনগণ ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়ে ‘জুলাই সনদ’কে বৈধতা দিয়েছে। কিন্তু সরকার গঠনের পর বিএনপি সেই অবস্থান থেকে সরে এসেছে। এর ফলেই আজকের সংকট তৈরি হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে সাবেক এই মন্ত্রী বলেন, চাটুকারদের বেষ্টনী থেকে বের হয়ে জনগণের ইচ্ছার প্রতি ফিরে আসুন। বেগম জিয়া ও জিয়াউর রহমানের মর্যাদা রক্ষা করুন। ইচ্ছা করলেই ক্ষমতায় থাকা যায় না। ক্ষমতায় থাকতে হলে নীতি-নৈতিকতা ও জনগণের সমর্থন প্রয়োজন। দেশের ৭০ শতাংশ মানুষের ইচ্ছার বিরুদ্ধে গিয়ে ক্ষমতায় থাকা সম্ভব নয়।

বিশ্ব তৃতীয় যুদ্ধের দিকে এগোচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশে সারসহ নিত্যপণ্যের দাম বাড়ছে। খুনখারাবি ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে। এসব বিষয়ে সরকারকে মনোযোগী হতে হবে।

তিনি বলেন, গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে নিয়োগে দলীয়করণ বন্ধ করতে হবে। দ্রব্যমূল্যের কারণে মানুষের মধ্যে অশান্তি সৃষ্টি হলে সরকার সেটি সামাল দিতে পারবে না। বিরোধী দলও আঙুল চুষে বসে থাকবে না।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগরীর আমির মুহাম্মদ নজরুল ইসলামের সভাপতিত্বে সেমিনারে প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার।

এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ শাহজাহান, সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী ও জহিরুল ইসলাম, সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ব্যারিস্টার মুহাম্মদ বেলায়েত হোসেন, জাতীয় নাগরিক পার্টির কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক সরোয়ার তুষার এবং ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মুহাম্মদ শহীদুল ইসলাম। সেমিনারে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অ্যাডভোকেট শিশির মনির

ব্যারিস্টার সুমনের জামিন বহাল

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ১১ মে, ২০২৬, ৪:০৩ অপরাহ্ণ
ব্যারিস্টার সুমনের জামিন বহাল
শেয়ার করুন

চব্বিশের গণআন্দোলনের সময় রাজধানীর মিরপুরে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে করা মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সৈয়দ সায়েদুল হক সুমনের জামিন বহাল রেখেছেন সর্বোচ্চ আদালত।

 

সোমবার (১১ মে) বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলামের নেতৃত্বাধীন চার বিচারপতির আপিল বেঞ্চ তার জামিন বহাল রেখে আদেশ দেন। হাইকোর্টের দেওয়া জামিন স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদন নিষ্পত্তি এ আদেশ দেওয়া হয়।

 

আদালতে সুমনের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মো. মনসুরুল হক চৌধুরী, সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী মো. লিটন আহমেদ।

 

 

রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে ছিলেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল অনীক আর হক।

আইনজীবী লিটন আহমেদ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে ব্যারিস্টার সুমনের বিরুদ্ধে হত্যা ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে সাতটি মামলা হয়। মিরপুর থানার এ হত্যাচেষ্টার মামলায় গত ৩ মে হাইকোর্ট থেকে তিনি অন্তর্বর্তী জামিন পান। পরে জামিন স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল বিভাগের চেম্বার আদালতে আবেদন করে।

 

গত ৫ মে আবেদনটি শুনানির জন্য আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে পাঠিয়ে দেন চেম্বার আদালত। শুনানির পর তা নিষ্পত্তি করে জামিন বহালের আদেশ দিলেন আপিল বিভাগ। বাকি ছয় মামলায় জামিন না পাওয়া পর্যস্ত ব্যারিস্টার সুমনের কারামুক্তি হচ্ছে না বলে জানান লিটন আহমেদ। এ আইনজীবী বলেন, ‘বাকি ছয় মামলার মধ্যে তিনটি হত্যা ও তিনটি হত্যাচেষ্টার মামলা।

এরমধ্যে হত্যা ও হত্যাচেষ্টার চার মামলায় হাইকোর্ট তার জামিন প্রশ্নে রুল জারি করেছেন। অন্য দুটি মামলায় হাইকোর্টে জামিন আবেদনের প্রস্তুতি চলছে।

সৈয়দ সায়েদুল হক আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর ছিলেন। দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালনের পর প্রসিকিউশন থেকে পদত্যাগ করলেও তিনি আইন পেশায় যুক্ত ছিলেন। আইন পেশার পাশাপাশি ক্রিড়া সংগঠক হিসেবে তার জনপ্রিয়তা ছিল দেশজুড়ে।

 

 

২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারি দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্রপ্রার্থী হিসেবে তিনি হবিগঞ্জ-৪ (চুনারুঘাট-মাধবপুর) আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ওই বছর ২২ অক্টোবর সৈয়দ সায়েদুল হককে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে মিরপুর মডেল থানার এ হত্যাচেষ্টা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। গণআন্দোলনের সময় গুলি করে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে ২০২৪ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর এ মামলা করেছিলেন হবিগঞ্জের মাধবপুর ১০ নম্বর হাতিয়াইন ইউনিয়ন যুবদলের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি হৃদয় মিয়া।

 

নারী উদ্যোক্তাদের প্রশিক্ষণ দারিদ্র্যতা দূর করবে: ডা. জুবাইদা রহমান

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ১১ মে, ২০২৬, ১:২৩ অপরাহ্ণ
নারী উদ্যোক্তাদের প্রশিক্ষণ দারিদ্র্যতা দূর করবে: ডা. জুবাইদা রহমান
শেয়ার করুন

নারী উদ্যোক্তাদের প্রশিক্ষণ পারিবারিক স্বচ্ছলতা বৃদ্ধির পাশাপাশি দারিদ্র্য দূরীকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মন্তব্য করেছেন ডা. জুবাইদা রহমান। তিনি বলেন, সমাজের প্রতিটি মানুষ নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্ব পালন করলে একটি সুন্দর ও কাঙ্ক্ষিত সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।

পুলিশ সপ্তাহ-২০২৬ উপলক্ষে রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ লাইনস–এ আয়োজিত পুলিশ নারী কল্যাণ সমিতি (পুনাক)–এর বার্ষিক সমাবেশ ও আনন্দমেলায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

অনুষ্ঠানের শুরুতে ডা. জুবাইদা রহমান বিশেষ অতিথি ও আমন্ত্রিতদের সঙ্গে পুনাকের বিভিন্ন কার্যক্রম নিয়ে নির্মিত তথ্যচিত্র উপভোগ করেন। পরে রাজধানীর শহীদ পুলিশ স্মৃতি স্কুল অ্যান্ড কলেজের মেধাবী শিক্ষার্থীদের হাতে সনদ তুলে দেন তিনি।

তিনি বলেন, প্রতিটি মেয়েকে নিজের ভবিষ্যৎ গড়ার স্বপ্ন দেখতে হবে এবং সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য সুযোগ তৈরি করা জরুরি। পুনাকের কার্যক্রম আগামী প্রজন্মকে দেশের উন্নয়নে অবদান রাখার অনুপ্রেরণা দিচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সহধর্মিণী হাসিনা আহমেদ বলেন, নারীর ক্ষমতায়ন ছাড়া প্রকৃত উন্নয়ন সম্ভব নয়। তিনি আরও বলেন, পুনাক দেশের অর্থনীতি ও জিডিপিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে।

এ সময় পুনাকের সহসভানেত্রী সংগঠনটির বার্ষিক প্রতিবেদন-২০২৬ উপস্থাপন করেন। পরে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে সমাবেশের সমাপ্তি ঘটে।

ঢাবির সহকারী প্রক্টর পদ ছাড়লেন শেহরিন মোনামী

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ১১ মে, ২০২৬, ১:০১ অপরাহ্ণ
ঢাবির সহকারী প্রক্টর পদ ছাড়লেন শেহরিন মোনামী
শেয়ার করুন

সোমবার (১১ মে) ফেসবুকে দেয়া এক পোস্টে পদত্যাগের কথা জানান মোনামী। সেখানে তিনি উল্লেখ করেন, ‘আমি আনুষ্ঠানিকভাবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টরের পদ থেকে পদত্যাগ করেছি।’

ফেসবুক পোস্টে মোনামী বলেন, ‘শিক্ষকতা পেশার ৭ বছরে কখনো এক মুহূর্তের জন্য প্রশাসনিক কোনো দায়িত্ব পালোনের ইচ্ছা আমার হয়নি। বিইউপি, জগন্নাথ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকাকালীন কখনো ভাবিনি আমি প্রশাসনিক কোনো দায়িত্ব কখনো নেব। তবে ২৮ আগস্ট, ২০২৪-এ যখন প্রক্টর স্যার (সাইফুদ্দীন আহমেদ) আমাকে কল দিয়ে বললেন, তিনি আমাকে সহকারী প্রক্টর হিসেবে চান, আমি আসলেই অনেক এক্সাইটেড ছিলাম। আমি সামান্য লেকচারার, তার চেয়েও সামান্য একজন মানুষ, এতো বড় দায়িত্ব যা সচরাচর একটু সিনিয়র শিক্ষকরা পান, সেই দায়িত্বে আমি!’

নতুন নেয়া সেই দায়িত্ব সম্পর্কে তিনি আরও বলেন, ‘একে তো নতুন বাংলাদেশ, অনেক আশা, অনেক স্বপ্ন আমাদের সবার চোখে।  নিজের দেশ, নিজের আলমা ম্যাটারের জন্য যদি ভালো কিছু করতে পারি, তবে এর চেয়ে সৌভাগ্যের কি হতে পারে! তার উপর আমার ডিপার্টমেন্টের বড় ভাই-স্যার, আমি মানা করবো!’

গতকাল পদত্যাগ করা প্রক্টর সম্পর্কে মোনামী বলেন, ‘গত ২টি বছর আমি সাইফুদ্দীন স্যারের কাছে থেকে শিখেছি, কীভাবে একজন প্রক্টরকে অতিমানব মাত্রার ধৈর্য ধরতে হয়, উত্তপ্ত পরিস্থিতি কীভাবে হাসিমুখে নির্বিকার থেকে ট্যাকেল দিতে হয় আর সর্বোপরি কিভাবে নিজের আত্মসম্মান সমুন্নত রাখতে হয়।  ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও ক্ষমা ও মমতায় তিনি শিক্ষার্থীদের আগলে রেখেছিলেন, ওনার টিম মেম্বার হিসেবে আমরাও তাই করার চেষ্টা করেছি, করছি।

নিজের দায়িত্বকাল নিয়ে মোনামী বলেন, ‘আমার টেনিউরে (সময়ে) আমি কী করতে পেরেছি, কতটা সফল ছিলাম এসব হিসাব করবো না। আমি জানিও না সত্যি বলতে।
আমি কেবল জানি একজন অসাধারণ মানুষের নেতৃত্ব, চমৎকার একটি টিমের সাথে একটা অভাবনীয় অভিজ্ঞতা আমার হয়েছে।  জুলাই  এবং জুলাই পরবর্তী এমন সময় আর সিচুয়েশন আদৌ এই দেশে আর আসবে কিনা আমি জানি না। সম্ভবত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আর কোনো প্রক্টর ও তার টিম এমন সিচুয়েশন ফেস করেনি, সম্ভবত করবেও না।’

স্ট্যাটাসের শেষে মোনামী বলেন, ‘আমার দলের অন্যদের সঙ্গে এবং আমাদের প্রক্টর সাইফুদ্দিন আহমেদ স্যারের নেতৃত্বে দায়িত্ব পালন করা সত্যিই ছিল অত্যন্ত সম্মানের। নতুন প্রক্টর এবং তার দলকে আন্তরিক অভিনন্দন। এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সফলভাবে পালন করার জন্য তাদের প্রতি রইল শুভকামনা।’