খুঁজুন
বুধবার, ১৩ মে, ২০২৬, ৩০ বৈশাখ, ১৪৩৩

পাঠ্যবইয়ে যুক্ত হচ্ছে খালেদা জিয়ার ‘আপসহীন’ রাজনৈতিক অধ্যায়

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৩ মে, ২০২৬, ১০:৫৭ পূর্বাহ্ণ
পাঠ্যবইয়ে যুক্ত হচ্ছে খালেদা জিয়ার ‘আপসহীন’ রাজনৈতিক অধ্যায়
শেয়ার করুন

দেশের ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়গুলো নিয়ে সাজছে ২০২৭ সালের মাধ্যমিকের ‘ইতিহাস’ ও ‘বিজিএস’ বই / ঢাকা পোস্ট

দেশের মাধ্যমিক স্তরের ‘ইতিহাস’ ও ‘বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়’ (বিজিএস) বইয়ে বড় ধরনের পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)। ২০২৭ সালের শিক্ষাবর্ষকে সামনে রেখে এই পরিমার্জন করা হচ্ছে। এতে প্রথমবারের মতো বিশদভাবে যুক্ত হচ্ছে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ১৯৯০-পরবর্তী রাজনৈতিক ভূমিকা। বিশেষ করে, ‘আপসহীন নেত্রী’ হিসেবে তার রাজনৈতিক অবদান এবং গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার আন্দোলনের ইতিহাস শিক্ষার্থীরা বইয়ে পড়তে পারবে।

বিজ্ঞাপন

নতুন ধারাবাহিকতায় পাঠ্যবইয়ে স্থান পাচ্ছে ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের ‘বিপ্লব ও সংহতি দিবস’-এর ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট। এছাড়া, ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের ঘটনাপ্রবাহ, পটভূমি এবং এর প্রভাবকেও নতুন বইয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এনসিটিবি সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নতুন প্রজন্মকে দেশের প্রকৃত ইতিহাসের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিতেই এই সংস্কার।

নতুন পাঠ্যবইয়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ১৯৯০-পরবর্তী ‘আপসহীন’ রাজনৈতিক ভূমিকা এবং গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠায় তার অবদান বিশেষভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। একই সঙ্গে সম্রাট গোপাল থেকে শুরু করে জিয়াউর রহমান, মাওলানা ভাসানী এবং শেরে বাংলার মতো ১০-১২ জন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্বের জীবনী ও অবদান নিয়ে একটি বিশেষ অধ্যায় যুক্ত করা হচ্ছে
তাদের মতে, পাঠ্যসূচিতে দীর্ঘদিন ধরে উপেক্ষিত, আংশিকভাবে উপস্থাপিত কিংবা বিতর্কিত ঐতিহাসিক অধ্যায়গুলোকে নতুনভাবে মূল্যায়নের উদ্যোগ নিয়েছে এনসিটিবি। নতুন প্রজন্মকে দেশের রাজনৈতিক, সামাজিক ও ঐতিহাসিক বাস্তবতা সম্পর্কে আরও বস্তুনিষ্ঠ ও পূর্ণাঙ্গ ধারণা দিতেই এই পরিমার্জন কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। এই সংস্কারের অন্যতম আলোচিত বিষয় হলো ১৯৯০ সালের গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে সাবেক বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক ভূমিকা পাঠ্যবইয়ে অন্তর্ভুক্ত করা। বিশেষ করে তাকে ‘আপসহীন নেত্রী’ হিসেবে যে রাজনৈতিক পরিচয়ে দেশে উপস্থাপন করা হয়েছে, সেই অধ্যায়টি নতুন বইয়ে আলাদা অংশ হিসেবে স্থান পাচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, ১৯৯০-এর গণঅভ্যুত্থানের পর দেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার আন্দোলন, সংসদীয় গণতন্ত্রে উত্তরণ এবং রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার বিভিন্ন পর্যায়ে তার ভূমিকা নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে এ সংক্রান্ত বিষয়বস্তু প্রণয়ন ও সম্পাদনার কাজ চলমান রয়েছে।

দীর্ঘদিন উপেক্ষিত থাকা ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের ‘বিপ্লব ও সংহতি দিবস’-এর ঐতিহাসিক ও সামরিক প্রেক্ষাপট শিক্ষার্থীদের জন্য নতুনভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে। এর পাশাপাশি ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পটভূমি, অংশগ্রহণ এবং এর সুদূরপ্রসারী প্রভাবকে সমসাময়িক ইতিহাসের অংশ হিসেবে বইয়ে গুরুত্বের সঙ্গে স্থান দেওয়া হচ্ছে, যা শিক্ষার্থীদের বাস্তবধর্মী ধারণা দেবে

একই সঙ্গে দীর্ঘদিন আলোচনার বাইরে থাকা ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের ঘটনাপ্রবাহও নতুন পাঠ্যবইয়ে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। বিএনপি ও সমমনা রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে ‘বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ হিসেবে পরিচিত এই দিনটির রাজনৈতিক ও সামরিক প্রেক্ষাপট শিক্ষার্থীদের সামনে উপস্থাপনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, স্বাধীনতা-পরবর্তী বাংলাদেশের ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হওয়া সত্ত্বেও ৭ নভেম্বর দীর্ঘ সময় পাঠ্যসূচিতে অনুপস্থিত ছিল, তাই এবার একে নতুনভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। এছাড়াও ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানও নতুন পাঠ্যবইয়ে গুরুত্বের সঙ্গে স্থান পাচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ের এই আন্দোলনের পটভূমি, ছাত্র-জনতার অংশগ্রহণ, গণদাবি এবং এর প্রভাব সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের একটি বাস্তবধর্মী ধারণা দিতেই এই উদ্যোগ নিয়েছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)।

এনসিটিবি সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে প্রচলিত ‘বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়’ (বিজিএস) বইয়ে ইতিহাসের ধারাবাহিকতা রক্ষার ক্ষেত্রে কিছু সীমাবদ্ধতা ছিল। শিক্ষার্থীরা যেন প্রাচীন বাংলা থেকে আধুনিক বাংলাদেশ পর্যন্ত একটি নিরবচ্ছিন্ন ঐতিহাসিক ধারার সঙ্গে পরিচিত হতে পারে, সেই লক্ষ্যেই বইটিতে বড় ধরনের কাঠামোগত পরিবর্তন আনা হচ্ছে। বিশেষ করে ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত বিভিন্ন পাঠ্যবইয়ে নতুন বিষয়বস্তু সংযোজন, ভাষা পরিমার্জন এবং অধ্যায়গুলোর পুনর্বিন্যাস করা হবে।

এনসিটিবি পাঠ্যবইয়ের ভাষা সহজবোধ্য ও প্রাঞ্জল করার মাধ্যমে শিক্ষার কাঠিন্য কমানোর উদ্যোগ নিয়েছে। মুখস্থনির্ভর চাপের বদলে ‘লার্নিং জয়’ বা আনন্দময় শিক্ষার ধারণাকে গুরুত্ব দিয়ে অপ্রাসঙ্গিক তথ্য বাদ দেওয়া হচ্ছে। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে পরিমার্জন শেষ করে জানুয়ারিতেই শিক্ষার্থীদের হাতে বস্তুনিষ্ঠ ও শিক্ষার্থীবান্ধব বই পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন হিসেবে থাকছে একটি বিশেষ অধ্যায়, যেখানে ১০ থেকে ১২ জন ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্বের জীবনী, কর্ম এবং রাজনৈতিক ও সামাজিক অবদান তুলে ধরা হবে। প্রাচীন বাংলার পাল বংশের প্রতিষ্ঠাতা সম্রাট গোপাল থেকে শুরু করে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া, সুলতান শামসুদ্দীন ইলিয়াস শাহ, শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক, মজলুম জননেতা মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীসহ আরও কয়েকজন ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্বের অবদানও নতুন বইয়ে স্থান পাবে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, ইতিহাসের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতেই ইলিয়াস শাহী আমল থেকে শুরু করে আধুনিক বাংলাদেশের রাজনৈতিক বিকাশ পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নেতৃত্ব ও তাদের অবদানগুলোকে যথাযথ মূল্যায়নের আওতায় আনা হচ্ছে।

শুধু ইতিহাসের নতুন তথ্য সংযোজনই নয়, পাঠ্যবইয়ের ভাষা ও উপস্থাপন পদ্ধতিতেও বড় ধরনের পরিবর্তন আনার পরিকল্পনা করছে এনসিটিবি। সংশ্লিষ্টদের মতে, বর্তমানে অনেক বইয়ের বিষয়বস্তু শিক্ষার্থীদের বয়স ও মানসিক বিকাশের তুলনায় অতিরিক্ত জটিল হয়ে পড়েছে। ফলে শিক্ষার্থীরা পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ হারাচ্ছে এবং বইভিত্তিক শিক্ষা অনেক ক্ষেত্রে চাপের কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। তাই ২০২৭ সালের নতুন শিক্ষাক্রমে বইয়ের কাঠিন্য কমিয়ে আরও সহজবোধ্য, প্রাণবন্ত ও শিক্ষার্থীবান্ধব করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এ ক্ষেত্রে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে ‘লার্নিং জয়’ বা আনন্দময় শিক্ষার ধারণাকে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও সরকারের নির্দেশনায় এমন একটি শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা মুখস্থনির্ভর চাপের মধ্যে না থেকে আনন্দের সঙ্গে শিখতে পারবে। টিচার্স গাইড, কারিকুলাম, মূল্যায়ন পদ্ধতি এবং পাঠ উপস্থাপনেও সেই অনুযায়ী পরিবর্তন আনার চিন্তা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা, বিশ্লেষণ ক্ষমতা এবং ইতিহাসের প্রতি আগ্রহ বাড়াতে বইয়ের ভাষা আরও প্রাঞ্জল ও বাস্তবধর্মী করা হবে।

সরকার ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় শিক্ষাকে শিক্ষার্থীদের কাছে আরও আনন্দময় ও সহজবোধ্য করতে ‘লার্নিং জয়’ বা আনন্দময় শিক্ষা পদ্ধতি নিয়ে কাজ চলছে। একই সঙ্গে পাঠ্যবইয়ের অপ্রয়োজনীয় কাঠিন্য কমিয়ে সেগুলোকে এমনভাবে সাজানো হচ্ছে, যেন শিক্ষার্থীরা পড়ার চাপে পিষ্ট না হয়ে আনন্দের সঙ্গে শিখতে পারে
অধ্যাপক ড. এ কে এম মাসুদুল হক, সদস্য (শিক্ষাক্রম), এনসিটিবি

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো আরও জানিয়েছে, এই সংস্কারের মাধ্যমে পাঠ্যবই থেকে অপ্রাসঙ্গিক ও অপ্রয়োজনীয় অনেক বিষয় বাদ দেওয়া হবে। একই সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে ইতিহাসের যেসব অধ্যায় নিয়ে বিতর্ক বা বিকৃতির অভিযোগ ছিল, সেগুলোও নতুনভাবে পর্যালোচনা করা হচ্ছে।

এনসিটিবির একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, তারা এমন একটি ইতিহাস বই তৈরি করতে চান যা কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গির ওপর নির্ভর করবে না; বরং বস্তুনিষ্ঠ তথ্য, ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও গবেষণালব্ধ তথ্যের ভিত্তিতে নির্মিত হবে। শিক্ষার্থীদের সামনে দেশের প্রকৃত ইতিহাস ও বরেণ্য ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্বদের পরিচয় তুলে ধরাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।

 

সার্বিক বিষয়ে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) সদস্য (শিক্ষাক্রম) অধ্যাপক ড. এ কে এম মাসুদুল হক ঢাকা পোস্টকে বলেন, বর্তমানে পাঠ্যবই পরিমার্জনের কাজ পুরোদমে চলছে। মাধ্যমিক পর্যায়ের ‘ইতিহাস’ এবং ‘বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়’ বইয়ে বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হচ্ছে। আমাদের লক্ষ্য হলো ডিসেম্বরের মধ্যেই পরিমার্জিত এই বইগুলোর কাজ সম্পন্ন করা, যাতে শিক্ষার্থীরা জানুয়ারিতেই নতুন বই হাতে পেয়ে যায়।

তিনি আরও বলেন, সরকার ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় শিক্ষাকে শিক্ষার্থীদের কাছে আরও আনন্দময় ও সহজবোধ্য করতে ‘লার্নিং জয়’ বা আনন্দময় শিক্ষা পদ্ধতি নিয়ে কাজ চলছে। একই সঙ্গে পাঠ্যবইয়ের অপ্রয়োজনীয় কাঠিন্য কমিয়ে সেগুলোকে এমনভাবে সাজানো হচ্ছে, যেন শিক্ষার্থীরা পড়ার চাপে পিষ্ট না হয়ে আনন্দের সঙ্গে শিখতে পারে

রামু প্রেস ক্লাবের নতুন কমিটি

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৩ মে, ২০২৬, ৩:৩১ অপরাহ্ণ
রামু প্রেস ক্লাবের নতুন কমিটি
শেয়ার করুন

রামু প্রেস ক্লাবের নতুন কমিটি: আবদুল্লাহ আল মামুন সভাপতি, সোয়েব সাঈদ সাধারণ সম্পাদক

 

রামু প্রেস ক্লাবের কমিটি পূনর্গঠিত হয়েছে। কমিটিতে এম আব্দুল্লাহ আল মামুন সভাপতি এবং সোয়েব সাঈদ সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন। মঙ্গলবার, ১২ মে বিকাল তিনটায় রামু পাবলিক লাইব্রেরী মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত রামু প্রেস ক্লাবের বার্ষিক সাধারণ সভায় এ কমিটি গঠন করা হয়। ২১ সদস্য বিশিষ্ট নবগঠিত কমিটির অন্যান্যরা হলেন, সহ -সভাপতি খালেদ হোসেন টাপু, আল মাহমুদ ভূট্টো ও হাফেজ মুহাম্মদ আবুল মঞ্জুর, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক এইচএম হুমায়ন কবির ও হামিদুল হক, সাংগঠনিক সম্পাদক জহির উদ্দিন খন্দকার, অর্থ সম্পাদক আবুল কাশেম সাগর, দফতর সম্পাদক শওকত ইসলাম, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক কামাল শিশির, সাহিত্য-সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক কামাল হোসেন, তথ্য প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক এম এইচ আরমান, ক্রীড়া সম্পাদক মুহাম্মদ আবু বকর ছিদ্দিক, আইন বিষয়ক সম্পাদক এ্যাডভোকেট শিপ্ত বড়ুয়া, পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক মোহাম্মদ আবদুল্লাহ, নির্বাহী সদস্য খালেদ শহীদ, নীতিশ বড়ুয়া, জাফর আলম জুয়েল, হাসান তারেক মুকিম ও নুরুল হক সিকদার।

 

সভার প্রথম অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন- রামু প্রেস ক্লাবের সভাপতি নীতিশ বড়ুয়া। সাধারণ সম্পাদক সোয়েব সাঈদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় কার্যকরী পরিষদ পূনর্গঠন ও সদস্য অর্ন্তভূক্তিসহ ক্লাবের সার্বিক উন্নয়নে আলোচনা হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন- সাংবাদিক ইউনিয়ন কক্সবাজার এর সাধারণ সম্পাদক এসএম জাফর। বিশেষ অতিথি ছিলেন- চ্যানেল টুয়েন্টিফোর এর কক্সবাজার প্রতিনিধি আজিম নিহাদ, নিউজ টুয়েন্টিফোর এর কক্সবাজার প্রতিনিধি ইরফান উল হাসান, বিজয় টিভির কক্সবাজার প্রতিনিধি শাহ আলম।

সাধারণ সভা শেষে নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের লক্ষ্যে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন- রামু প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি খালেদ শহীদ। এ নির্বাচন প্রক্রিয়ায় সাংবাদিক ইউনিয়ন কক্সবাজার এর সাধারণ সম্পাদক এসএম জাফরের সমন্বয়ে আরও দায়িত্ব পালন করেন- বিদায়ী সভাপতি নীতিশ বড়ুয়া, চ্যানেল টুয়েন্টিফোর এর কক্সবাজার প্রতিনিধি আজিম নিহাদ, নিউজ টুয়েন্টিফোর এর কক্সবাজার প্রতিনিধি ইরফান উল হাসান, বিজয় টিভির কক্সবাজার প্রতিনিধি শাহ আলম।

 

সভায় রামু প্রেস ক্লাবের সদস্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন- খালেদ শহীদ, এম আব্দুল্লাহ আল মামুন, খালেদ হোসেন টাপু, হাসান তারেক মুকিম, আল মাহমুদ ভূট্টো, আবুল কাশেম সাগর, হাফেজ মুহাম্মদ আবুল মঞ্জুর, কামাল হোসেন, শওকত ইসলাম, এম এইচ আরমান, জহির উদ্দিন খন্দকার, হামিদুল হক, জাফর আলম জুয়েল, কামাল শিশির, সুজন চক্রবর্তী, মো. আবদুল্লাহ, এইচ এম জয়নাল আবেদীন।

প্রথম অধিবেশনে সকলের সম্মতিক্রমে ৯ জন কর্মরত সংবাদকর্মীকে তাঁদের আবেদনের প্রেক্ষিতে রামু প্রেস ক্লাবের সাধারণ সদস্যপদ প্রদান করা হয়। নতুন সদস্যরা হলেন- জাফর আলম জুয়েল, কামাল শিশির, কায়েদ আলম কায়সার, জাবেদুল আনোয়ার, মোহাম্মদ মোবারক, এসএম লুৎফুর কবির শিহাব, হামিদুল হক মার্শাল, নুরুল আমিন ও মোহাম্মদ ইলিয়াছ।

এতে সংবাদকর্মীদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- কায়েদ আলম কায়সার, জাবেদুল আনোয়ার, মোহাম্মদ মোবারক, এসএম লুৎফুর কবির শিহাব, হামিদুল হক মার্শাল, নুরুল আমিন, মোহাম্মদ ইলিয়াছ, নবীন সংবাদকর্মী উচ্ছ্বাস বড়ুয়া, মামুনুর রশিদ মুন্না, রায়হান উদ্দিন মাহিম, আরিফুল ইসলাম, মো. শাহারিয়া নাজিম জয়। সভার শুরুতে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত করেন- হাফেজ মুহাম্মদ আবুল মঞ্জুর। সভায় সৌদিআরব থেকে মুঠোফোনে শুভেচ্ছা জানান- ওবাইদুল হক নোমান ও কপিল উদ্দিন।

হুইপের টিস্যুবক্স নিক্ষেপ নিয়ে ‘অপপ্রচারের’ নিন্দা শরীয়তপুর প্রেসক্লাব সভাপতির

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৩ মে, ২০২৬, ২:১২ অপরাহ্ণ
হুইপের টিস্যুবক্স নিক্ষেপ নিয়ে ‘অপপ্রচারের’ নিন্দা শরীয়তপুর প্রেসক্লাব সভাপতির
শেয়ার করুন

শরীয়তপুরের গোসাইরহাট উপজেলা পরিষদ হলরুমে জেলেদের মধ্যে বকনা বাছুর বিতরণ অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে জাতীয় সংসদের হুইপ মিয়া নুরুদ্দিন আহমেদ অপুকে জড়িয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও কিছু অনলাইন পোর্টালে প্রকাশিত সংবাদকে ‘অপপ্রচার’ আখ্যা দিয়ে এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন শরীয়তপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি আবুল হোসেন সরদার।

মঙ্গলবার (১২ মে) দুপুরে নিজ কার্যালয় থেকে একটি ভিডিও বার্তায় অপপ্রচারের ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানান আবুল হোসেন সরদার।

তিনি বলেন, সম্প্রতি কয়েকটি ফেসবুক আইডি ও অনলাইন পোর্টালে দাবি করা হয়, অনুষ্ঠান চলাকালে হুইপ সাংবাদিকদের উদ্দেশে টিস্যুবক্স নিক্ষেপ করেন।

তবে অনুষ্ঠানে উপস্থিত সাংবাদিক, প্রশাসনের কর্মকর্তা ও প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্য অনুযায়ী, এ ধরনের দাবি সঠিক নয় এবং ঘটনাটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, অনুষ্ঠান চলাকালে সাময়িক বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে মিয়া নুরুদ্দিন আহমেদ অপু ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার জন্য টিস্যুবক্সটি তার এক দলীয় কর্মীকে উদ্দেশ্য করে নিক্ষেপ করেন। এটি কোনো সাংবাদিককে লক্ষ্য করে করা হয়নি এবং এ ঘটনায় কোনো সাংবাদিক অভিযোগও করেননি।

বিষয়টি শরীয়তপুর প্রেসক্লাবের নজরে আসলে মঙ্গলবার সকালে শরীয়তপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি সাংবাদিক মো. আবুল হোসেন সরদারের সভাপতিত্বে প্রেসক্লাবের অস্থায়ী কার্যালয়ে জরুরি সভা আহ্বান করেন।

সভায় উপস্থিত ছিলেন সাধারণ সম্পাদক নূরুল আমিন রবিন, সহসভাপতি শহিদুল ইসলাম পাইলট, সাংগঠনিক সম্পাদক ইসরাফিল বেপারী, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এস এম শাকিল, কোষাধ্যক্ষ ছগির হোসেন, দপ্তর সম্পাদক মো. আল-আমিন, প্রচার সম্পাদক জামাল মল্লিক, সমাজকল্যাণ সম্পাদক মো. সাইফুল ইসলাম, সদস্য ইসহাক মাদবর, বারেক ভূঁইয়া, মো. মিরাজ সিকদার, মো. সাইফুল ইসলাম ঢালী প্রমুখ। সভায় এ ‘মিথ্যা ও বানোয়াট’ সংবাদের বিষয়ে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয়।

শরীয়তপুর প্রেসক্লাব মনে করে, যথাযথ যাচাই-বাছাই ছাড়া বিভ্রান্তিকর ও অসম্পূর্ণ তথ্য প্রচার দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার নীতিমালার পরিপন্থি। এ ধরনের অপপ্রচার জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে এবং সাংবাদিক সমাজ ও গণমাধ্যমের পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও সম্মানবোধ ক্ষুণ্ন করে।

শরীয়তপুর প্রেসক্লাব সভাপতি সংশ্লিষ্ট সকল গণমাধ্যমকর্মী ও সংবাদমাধ্যমের প্রতি আহ্বান জানান, তারা যেন সত্য, নিরপেক্ষতা ও পেশাদারিত্বের ভিত্তিতে সংবাদ প্রকাশ করেন এবং বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার থেকে বিরত থাকেন।

ফ্লাইওভারে ঝুলছিল নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতার নিথর দেহ

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৩ মে, ২০২৬, ১২:৪২ অপরাহ্ণ
ফ্লাইওভারে ঝুলছিল নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতার নিথর দেহ
শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম নগরীর সাগরিকা ফ্লাইওভারে ঝুলন্ত অবস্থায় কাউসার আহমেদ নামে এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তিনি নগরীর আকবর শাহ থানা নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সম্পাদক বলে জানা গেছে।

 

সোমবার (১১ মে) রাত সাড়ে ৩টার দিকে নগরীর বিএসআরএম ডিপো সংলগ্ন ফ্লাইওভার থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। নিহত কাউসার রাউজান উপজেলার উরকিরচর এলাকায় আবুল কাশেমর ছেলে।

 

এ ঘটনায় পাহাড়তলী থানায় অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করা হয়েছে।

 

এদিকে, মরদেহ উদ্ধারের ঘটনাকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা আলোচনা চলছে। ছাত্রলীগের চট্টগ্রাম মহানগরের সাবেক কয়েকজন নেতা মঙ্গলবার (১২ মে) রাতে ফেসবুকে দাবি করেছেন, কাউসারকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে ফ্লাইওভারে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। তবে হত্যার দাবিকে গুজব বলছে পুলিশ। প্রাথমিকভাবে তাদের ধারণা কাউসার আত্মহত্যা করেছেন।

 

 

পাহাড়তলী থানার এসআই মাসুদুর রহমান বলেন, নিহত ব্যক্তি বিএসআরএমে নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে কাজ করতেন। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে পুলিশ জেনেছে, তিনি মাদকাসক্ত ছিলেন এবং দীর্ঘদিন ধরে মানসিক হতাশায় ভুগছিলেন।

 

তিনি বলেন, মরদেহে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। প্রাথমিকভাবে এটি আত্মহত্যা বলেই মনে হচ্ছে। তারপরও নিয়ম অনুযায়ী ময়নাতদন্ত করা হয়েছে।

 

মাসুদুর রহমান বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যেসব তথ্য ছড়ানো হচ্ছে, তার অনেকগুলোই ‘প্রপাগান্ডা’। এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে এবং মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

 

তবে ঘটনাটিকে আত্মহত্যা নয়, পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে দাবি করেছেন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। তাদের অভিযোগ, কাউসারকে অপহরণের পর হত্যা করে ফ্লাইওভারে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে।

 

নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের নেতা তালুকদার পারভেজ আনসারী অভিযোগ করে বলেন, ‘বিএনপি-জামায়াতের সন্ত্রাসীরা ছাত্রলীগ করার কারণে কাউসারকে অপহরণ করে হত্যা করেছে। পরে তার মরদেহ ফ্লাইওভারে ঝুলিয়ে রাখা হয়।’

ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।