খুঁজুন
, ,

পাঠ্যবইয়ে যুক্ত হচ্ছে খালেদা জিয়ার ‘আপসহীন’ রাজনৈতিক অধ্যায়

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৩ মে, ২০২৬, ১০:৫৭ পূর্বাহ্ণ
পাঠ্যবইয়ে যুক্ত হচ্ছে খালেদা জিয়ার ‘আপসহীন’ রাজনৈতিক অধ্যায়
শেয়ার করুন

দেশের ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়গুলো নিয়ে সাজছে ২০২৭ সালের মাধ্যমিকের ‘ইতিহাস’ ও ‘বিজিএস’ বই / ঢাকা পোস্ট

দেশের মাধ্যমিক স্তরের ‘ইতিহাস’ ও ‘বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়’ (বিজিএস) বইয়ে বড় ধরনের পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)। ২০২৭ সালের শিক্ষাবর্ষকে সামনে রেখে এই পরিমার্জন করা হচ্ছে। এতে প্রথমবারের মতো বিশদভাবে যুক্ত হচ্ছে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ১৯৯০-পরবর্তী রাজনৈতিক ভূমিকা। বিশেষ করে, ‘আপসহীন নেত্রী’ হিসেবে তার রাজনৈতিক অবদান এবং গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার আন্দোলনের ইতিহাস শিক্ষার্থীরা বইয়ে পড়তে পারবে।

বিজ্ঞাপন

নতুন ধারাবাহিকতায় পাঠ্যবইয়ে স্থান পাচ্ছে ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের ‘বিপ্লব ও সংহতি দিবস’-এর ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট। এছাড়া, ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের ঘটনাপ্রবাহ, পটভূমি এবং এর প্রভাবকেও নতুন বইয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এনসিটিবি সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নতুন প্রজন্মকে দেশের প্রকৃত ইতিহাসের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিতেই এই সংস্কার।

নতুন পাঠ্যবইয়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ১৯৯০-পরবর্তী ‘আপসহীন’ রাজনৈতিক ভূমিকা এবং গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠায় তার অবদান বিশেষভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। একই সঙ্গে সম্রাট গোপাল থেকে শুরু করে জিয়াউর রহমান, মাওলানা ভাসানী এবং শেরে বাংলার মতো ১০-১২ জন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্বের জীবনী ও অবদান নিয়ে একটি বিশেষ অধ্যায় যুক্ত করা হচ্ছে
তাদের মতে, পাঠ্যসূচিতে দীর্ঘদিন ধরে উপেক্ষিত, আংশিকভাবে উপস্থাপিত কিংবা বিতর্কিত ঐতিহাসিক অধ্যায়গুলোকে নতুনভাবে মূল্যায়নের উদ্যোগ নিয়েছে এনসিটিবি। নতুন প্রজন্মকে দেশের রাজনৈতিক, সামাজিক ও ঐতিহাসিক বাস্তবতা সম্পর্কে আরও বস্তুনিষ্ঠ ও পূর্ণাঙ্গ ধারণা দিতেই এই পরিমার্জন কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। এই সংস্কারের অন্যতম আলোচিত বিষয় হলো ১৯৯০ সালের গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে সাবেক বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক ভূমিকা পাঠ্যবইয়ে অন্তর্ভুক্ত করা। বিশেষ করে তাকে ‘আপসহীন নেত্রী’ হিসেবে যে রাজনৈতিক পরিচয়ে দেশে উপস্থাপন করা হয়েছে, সেই অধ্যায়টি নতুন বইয়ে আলাদা অংশ হিসেবে স্থান পাচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, ১৯৯০-এর গণঅভ্যুত্থানের পর দেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার আন্দোলন, সংসদীয় গণতন্ত্রে উত্তরণ এবং রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার বিভিন্ন পর্যায়ে তার ভূমিকা নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে এ সংক্রান্ত বিষয়বস্তু প্রণয়ন ও সম্পাদনার কাজ চলমান রয়েছে।

দীর্ঘদিন উপেক্ষিত থাকা ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের ‘বিপ্লব ও সংহতি দিবস’-এর ঐতিহাসিক ও সামরিক প্রেক্ষাপট শিক্ষার্থীদের জন্য নতুনভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে। এর পাশাপাশি ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পটভূমি, অংশগ্রহণ এবং এর সুদূরপ্রসারী প্রভাবকে সমসাময়িক ইতিহাসের অংশ হিসেবে বইয়ে গুরুত্বের সঙ্গে স্থান দেওয়া হচ্ছে, যা শিক্ষার্থীদের বাস্তবধর্মী ধারণা দেবে

একই সঙ্গে দীর্ঘদিন আলোচনার বাইরে থাকা ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের ঘটনাপ্রবাহও নতুন পাঠ্যবইয়ে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। বিএনপি ও সমমনা রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে ‘বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ হিসেবে পরিচিত এই দিনটির রাজনৈতিক ও সামরিক প্রেক্ষাপট শিক্ষার্থীদের সামনে উপস্থাপনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, স্বাধীনতা-পরবর্তী বাংলাদেশের ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হওয়া সত্ত্বেও ৭ নভেম্বর দীর্ঘ সময় পাঠ্যসূচিতে অনুপস্থিত ছিল, তাই এবার একে নতুনভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। এছাড়াও ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানও নতুন পাঠ্যবইয়ে গুরুত্বের সঙ্গে স্থান পাচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ের এই আন্দোলনের পটভূমি, ছাত্র-জনতার অংশগ্রহণ, গণদাবি এবং এর প্রভাব সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের একটি বাস্তবধর্মী ধারণা দিতেই এই উদ্যোগ নিয়েছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)।

এনসিটিবি সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে প্রচলিত ‘বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়’ (বিজিএস) বইয়ে ইতিহাসের ধারাবাহিকতা রক্ষার ক্ষেত্রে কিছু সীমাবদ্ধতা ছিল। শিক্ষার্থীরা যেন প্রাচীন বাংলা থেকে আধুনিক বাংলাদেশ পর্যন্ত একটি নিরবচ্ছিন্ন ঐতিহাসিক ধারার সঙ্গে পরিচিত হতে পারে, সেই লক্ষ্যেই বইটিতে বড় ধরনের কাঠামোগত পরিবর্তন আনা হচ্ছে। বিশেষ করে ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত বিভিন্ন পাঠ্যবইয়ে নতুন বিষয়বস্তু সংযোজন, ভাষা পরিমার্জন এবং অধ্যায়গুলোর পুনর্বিন্যাস করা হবে।

এনসিটিবি পাঠ্যবইয়ের ভাষা সহজবোধ্য ও প্রাঞ্জল করার মাধ্যমে শিক্ষার কাঠিন্য কমানোর উদ্যোগ নিয়েছে। মুখস্থনির্ভর চাপের বদলে ‘লার্নিং জয়’ বা আনন্দময় শিক্ষার ধারণাকে গুরুত্ব দিয়ে অপ্রাসঙ্গিক তথ্য বাদ দেওয়া হচ্ছে। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে পরিমার্জন শেষ করে জানুয়ারিতেই শিক্ষার্থীদের হাতে বস্তুনিষ্ঠ ও শিক্ষার্থীবান্ধব বই পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন হিসেবে থাকছে একটি বিশেষ অধ্যায়, যেখানে ১০ থেকে ১২ জন ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্বের জীবনী, কর্ম এবং রাজনৈতিক ও সামাজিক অবদান তুলে ধরা হবে। প্রাচীন বাংলার পাল বংশের প্রতিষ্ঠাতা সম্রাট গোপাল থেকে শুরু করে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া, সুলতান শামসুদ্দীন ইলিয়াস শাহ, শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক, মজলুম জননেতা মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীসহ আরও কয়েকজন ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্বের অবদানও নতুন বইয়ে স্থান পাবে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, ইতিহাসের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতেই ইলিয়াস শাহী আমল থেকে শুরু করে আধুনিক বাংলাদেশের রাজনৈতিক বিকাশ পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নেতৃত্ব ও তাদের অবদানগুলোকে যথাযথ মূল্যায়নের আওতায় আনা হচ্ছে।

শুধু ইতিহাসের নতুন তথ্য সংযোজনই নয়, পাঠ্যবইয়ের ভাষা ও উপস্থাপন পদ্ধতিতেও বড় ধরনের পরিবর্তন আনার পরিকল্পনা করছে এনসিটিবি। সংশ্লিষ্টদের মতে, বর্তমানে অনেক বইয়ের বিষয়বস্তু শিক্ষার্থীদের বয়স ও মানসিক বিকাশের তুলনায় অতিরিক্ত জটিল হয়ে পড়েছে। ফলে শিক্ষার্থীরা পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ হারাচ্ছে এবং বইভিত্তিক শিক্ষা অনেক ক্ষেত্রে চাপের কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। তাই ২০২৭ সালের নতুন শিক্ষাক্রমে বইয়ের কাঠিন্য কমিয়ে আরও সহজবোধ্য, প্রাণবন্ত ও শিক্ষার্থীবান্ধব করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এ ক্ষেত্রে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে ‘লার্নিং জয়’ বা আনন্দময় শিক্ষার ধারণাকে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও সরকারের নির্দেশনায় এমন একটি শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা মুখস্থনির্ভর চাপের মধ্যে না থেকে আনন্দের সঙ্গে শিখতে পারবে। টিচার্স গাইড, কারিকুলাম, মূল্যায়ন পদ্ধতি এবং পাঠ উপস্থাপনেও সেই অনুযায়ী পরিবর্তন আনার চিন্তা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা, বিশ্লেষণ ক্ষমতা এবং ইতিহাসের প্রতি আগ্রহ বাড়াতে বইয়ের ভাষা আরও প্রাঞ্জল ও বাস্তবধর্মী করা হবে।

সরকার ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় শিক্ষাকে শিক্ষার্থীদের কাছে আরও আনন্দময় ও সহজবোধ্য করতে ‘লার্নিং জয়’ বা আনন্দময় শিক্ষা পদ্ধতি নিয়ে কাজ চলছে। একই সঙ্গে পাঠ্যবইয়ের অপ্রয়োজনীয় কাঠিন্য কমিয়ে সেগুলোকে এমনভাবে সাজানো হচ্ছে, যেন শিক্ষার্থীরা পড়ার চাপে পিষ্ট না হয়ে আনন্দের সঙ্গে শিখতে পারে
অধ্যাপক ড. এ কে এম মাসুদুল হক, সদস্য (শিক্ষাক্রম), এনসিটিবি

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো আরও জানিয়েছে, এই সংস্কারের মাধ্যমে পাঠ্যবই থেকে অপ্রাসঙ্গিক ও অপ্রয়োজনীয় অনেক বিষয় বাদ দেওয়া হবে। একই সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে ইতিহাসের যেসব অধ্যায় নিয়ে বিতর্ক বা বিকৃতির অভিযোগ ছিল, সেগুলোও নতুনভাবে পর্যালোচনা করা হচ্ছে।

এনসিটিবির একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, তারা এমন একটি ইতিহাস বই তৈরি করতে চান যা কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গির ওপর নির্ভর করবে না; বরং বস্তুনিষ্ঠ তথ্য, ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও গবেষণালব্ধ তথ্যের ভিত্তিতে নির্মিত হবে। শিক্ষার্থীদের সামনে দেশের প্রকৃত ইতিহাস ও বরেণ্য ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্বদের পরিচয় তুলে ধরাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।

 

সার্বিক বিষয়ে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) সদস্য (শিক্ষাক্রম) অধ্যাপক ড. এ কে এম মাসুদুল হক ঢাকা পোস্টকে বলেন, বর্তমানে পাঠ্যবই পরিমার্জনের কাজ পুরোদমে চলছে। মাধ্যমিক পর্যায়ের ‘ইতিহাস’ এবং ‘বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়’ বইয়ে বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হচ্ছে। আমাদের লক্ষ্য হলো ডিসেম্বরের মধ্যেই পরিমার্জিত এই বইগুলোর কাজ সম্পন্ন করা, যাতে শিক্ষার্থীরা জানুয়ারিতেই নতুন বই হাতে পেয়ে যায়।

তিনি আরও বলেন, সরকার ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় শিক্ষাকে শিক্ষার্থীদের কাছে আরও আনন্দময় ও সহজবোধ্য করতে ‘লার্নিং জয়’ বা আনন্দময় শিক্ষা পদ্ধতি নিয়ে কাজ চলছে। একই সঙ্গে পাঠ্যবইয়ের অপ্রয়োজনীয় কাঠিন্য কমিয়ে সেগুলোকে এমনভাবে সাজানো হচ্ছে, যেন শিক্ষার্থীরা পড়ার চাপে পিষ্ট না হয়ে আনন্দের সঙ্গে শিখতে পারে

জাইমা রহমানের জন্মদিনে ৫ শতাধিক ছাত্রীকে বাইসাইকেল উপহার

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:১৫ অপরাহ্ণ
জাইমা রহমানের জন্মদিনে ৫ শতাধিক ছাত্রীকে বাইসাইকেল উপহার
শেয়ার করুন

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমানের জন্মদিন উপলক্ষে বগুড়ার শিবগঞ্জে ৫৪৮ জন ছাত্রীকে বিনামূল্যে বাইসাইকেল উপহার দেওয়া হয়েছে। রবিবার (২৫ অক্টোবর) বগুড়ার শিবগঞ্জ সরকারি পাইলট উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্রীদের নিয়ে এই আয়োজন করা হয়।

স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের আয়োজনে এসব ছাত্রীদের বাইসাইকেল দেওয়া হয়। এ সময় শিক্ষার্থীরা স্লোগান দেন, ‘শুভ শুভ শুভদিন, জাইমা রহমানের জন্মদিন’ ‘করবো কাজ গড়বো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’।

এ সময় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, সাত শতাধিক মেধাবী শিক্ষার্থীর পরীক্ষা নিয়েছিলাম, যার মধ্যে অংশ নিয়েছিল ৫৪৮ জন ছাত্রী। মোট ১০২টি শিক্ষার্থী প্রতিষ্ঠানের ৫৪৮জনকে ডেকে নিয়ে বাইসাইকেল উপহার দিচ্ছি।

এছাড়া যে প্রতিষ্ঠানে এই বাইসাইকেল প্রদানের আয়োজন করা হয়, তাদেরসহ প্রায় এক হাজার শিক্ষার্থীদের জাইমা রহমানের ছবি সম্বলিত মগ উপহার দেওয়া হয়।

বাইসাইকেল পেয়ে শিক্ষার্থীরা বেশ উচ্ছ্বসিত হন। কেউ কেউ স্কুল মাঠেই সাইকেল চালিয়ে আনন্দ উপভোগ করেন।

ঝোঁপঝাড়ে ফেলে যাওয়া নবজাতককে দত্তক নিতে ১২৩ পরিবারের আবেদন

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১:৩৯ অপরাহ্ণ
ঝোঁপঝাড়ে ফেলে যাওয়া নবজাতককে দত্তক নিতে ১২৩ পরিবারের আবেদন
শেয়ার করুন

চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে ফটিকছড়িতে সড়কের পাশের ঝোপঝাড়ে ফেলে যাওয়া এক নবজাত কন্যাশিশুকে দত্তক নিতে ব্যাপক আগ্রহ দেখা দিয়েছে শিশুটির লালন-পালনের দায়িত্ব নিতে এক দিনেই ১২৩টি আবেদন জমা পড়েছে।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাত পর্যন্ত ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে আবেদনকারীদের সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, আবেদনকারীদের পারিবারিক পরিবেশ, আর্থিক সামর্থ্য, শিশুর পরিচর্যার সক্ষমতা ও অন্যান্য প্রাসঙ্গিক বিষয় বিবেচনায় নিয়ে উপযুক্ত পরিবার নির্বাচনের প্রক্রিয়া চলছে। তবে, আবেদন করলেই শিশুটিকে দত্তক নেওয়ার সুযোগ মিলবে না। এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যাচাই-বাছাই ও প্রযোজ্য আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে।

ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাঈদ মোহাম্মদ ইব্রাহিম গণমাধ্যমকে বলেন, শিশুটিকে দত্তক নিতে বিপুলসংখ্যক আবেদন জমা পড়েছে। উপযুক্ত পরিবার নির্বাচনের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। যাচাই-বাছাই ও আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

এর আগে, গত বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার পাইন্দং ইউনিয়নের উত্তর পাইন্দং এলাকার আমতলীতে সড়কের পাশের ঝোঁপঝাড় থেকে নবজাতকটিকে জীবিত উদ্ধার করা হয়।

স্থানীয় লোকজন শিশুটিকে ঝোঁপের মধ্যে পড়ে থাকতে দেখে পুলিশকে খবর দেন। পরে ফটিকছড়ি থানা-পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশুটিকে উদ্ধার করেন। উদ্ধারের পর তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, শিশুটির শারীরিক অবস্থা ভালো ছিল।তবে কে বা কারা শিশুটিকে সেখানে ফেলে গেছেন, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। শিশুটির নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে উপযুক্ত পরিবার নির্বাচনের পাশাপাশি তাকে পরিত্যক্ত অবস্থায় ফেলে যাওয়ার ঘটনার রহস্য উদঘাটন ও পরিচয় শনাক্তে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় লোকজন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রচেষ্টায় ভোলাখালে অষ্টম সেতু নির্মাণের প্রস্তাব

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১:০০ অপরাহ্ণ
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রচেষ্টায় ভোলাখালে অষ্টম সেতু নির্মাণের প্রস্তাব
শেয়ার করুন

কক্সবাজারের পেকুয়ায় ভোলাখালের ওপর মগনামা বাজারপাড়া থেকে বারবাকিয়া ইউনিয়নের বোধামাঝির ঘোনা পর্যন্ত ১০০ মিটার দীর্ঘ সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রস্তাবিত সেতুটি নির্মিত হলে মগনামা ও বারবাকিয়ার মধ্যে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ স্থাপনের পাশাপাশি পেকুয়া ও কুতুবদিয়ার মানুষের যাতায়াত, পণ্য পরিবহন ও ব্যবসা-বাণিজ্যে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে বলে আশা করছেন স্থানীয়রা।

সম্প্রতি সেতু নির্মাণের উদ্যোগের অংশ হিসেবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও কক্সবাজার-১ আসনের সংসদ সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদের প্রয়োজনীয় সুপারিশ ও প্রস্তাব স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। প্রকল্পটি অনুমোদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও কারিগরি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে সেতু নির্মাণকাজ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

স্থানীয়দের মতে, সেতুটি বাস্তবায়িত হলে মগনামা ও বারবাকিয়ার মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপনের পাশাপাশি পেকুয়া ও কুতুবদিয়ার সঙ্গে মহেশখালী হয়ে চট্টগ্রামের যোগাযোগে একটি বিকল্প ও গুরুত্বপূর্ণ সড়কপথ তৈরি হতে পারে। এতে যাতায়াতের সময় ও পেকুয়া বাজার কেন্দ্রীক যানজট ভোগান্তি কমার পাশাপাশি উপকূলীয় এ অঞ্চলের আর্থসামাজিক কর্মকাণ্ড, কৃষিপণ্য,লবণ, মৎস্য পরিবহন ও ব্যবসা-বাণিজ্যে ইতিবাচক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এদিকে ‎ভোলাখালের বিভিন্ন অংশে ইতোমধ্যে সাতটি সেতু নির্মিত হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে- মগনামা শরৎঘোনা–রাজাখালী নতুনঘোনা সেতু, পেকুয়া পশ্চিম গোঁয়াখালী অংশের রাবারড্যাম সেতু, পেকুয়া বাজার–বারবাকিয়া ফাঁশিয়াখালী সেতু, পেকুয়া মৌলভীপাড়া অংশের আঞ্চলিক মহাসড়ক সেতু, পেকুয়া-বারবাকিয়া বাজার সেতু, পেকুয়া সাবমেরিন নৌঘাঁটি সড়কের সালাহউদ্দিন সেতু এবং বাগুজারা-সাকুরপাড় সেতু।

স্থানীয়দের দাবি, এসব সেতুর ধারাবাহিকতায় মগনামা বাজারপাড়া-বোধামাঝির ঘোনা সেতুটি নির্মিত হলে ভোলাখালের ওপর এটি হবে অষ্টম গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ সেতু। সেতুটি নির্মিত হলে পেকুয়া উপজেলার অভ্যন্তরীণ যোগাযোগব্যবস্থা আরও শক্তিশালী হওয়ার পাশাপাশি কুতুবদিয়ার সঙ্গে সড়ক যোগাযোগেও নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে।

 

‎

 

‎এতে শিক্ষা, চিকিৎসা, লবণ,মৎস্য ও কৃষিপণ্য পরিবহন, ব্যবসা-বাণিজ্য ও সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন চলাচলে দুই উপজেলার মানুষ সুফল পাবেন বলে প্রত্যাশা করছেন স্থানীয়রা। একই সঙ্গে পেকুয়া বাজারকেন্দ্রিক সড়কে যানবাহনের চাপও কিছুটা কমতে পারে বলে মনে করছেন তারা।

 

এলাকাবাসী জানান, দীর্ঘদিন ধরে ভোলাখাল মগনামা ও বারবাকিয়ার মানুষের স্বাভাবিক চলাচলের ক্ষেত্রে একটি বড় প্রতিবন্ধকতা হয়ে আছে। খালের ওপর প্রস্তাবিত সেতুটি নির্মিত হলে দুই এলাকার মধ্যে যোগাযোগ সহজ হওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় অর্থনীতি ও জনজীবনেও ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে।

 

‎দীর্ঘদিনের দাবি ও প্রত্যাশার পর সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়ায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এমপির প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ব্যক্তিগত প্রেস সচিব ছফওয়ানুল করিম বলেন, ‘চকরিয়া-পেকুয়া-মাতামুহুরী অঞ্চলের যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের ধারাবাহিকতায় ভোলাখালের মগনামা বাজারপাড়া অংশে ১০০ মিটার দীর্ঘ সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সুপারিশ ও প্রস্তাব স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। প্রকল্পটি অনুমোদনের পর পরবর্তী প্রশাসনিক ও কারিগরি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে সেতু নির্মাণের কাজ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে।’

 

‎তিনি বলেন, ‘সেতুটি নির্মিত হলে মগনামা, বারবাকিয়া ও আশপাশের এলাকার মানুষের চলাচল সহজ হওয়ার পাশাপাশি পেকুয়া-চকরিয়া অঞ্চলের সড়ক যোগাযোগব্যবস্থায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করছি।’

 

‎

 

‎পেকুয়া উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসাইন বলেন, ‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের প্রচেষ্টায় মগনামা-বোধামাঝির ঘোনা সেতু নির্মাণের উদ্যোগের খবরে বারবাকিয়া ও আশপাশের এলাকার মানুষের মধ্যে উৎসাহ সৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এ অঞ্চলের মানুষ যোগাযোগের ক্ষেত্রে নানা দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। সেতুটি নির্মিত হলে বারবাকিয়াসহ আশপাশের এলাকার সঙ্গে পেকুয়া উপজেলার সরাসরি ও সহজ যোগাযোগব্যবস্থা গড়ে উঠবে। একই সঙ্গে শিক্ষা, চিকিৎসা, কৃষি, ব্যবসা-বাণিজ্য ও সাধারণ মানুষের চলাচলেও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।’

তিনি বলেন, ‘মহেশখালীর মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর, পেকুয়া ও কুতুবদিয়ার মধ্যে যাতায়াত এবং পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রেও এ সেতু গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। জনগণের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণে দ্রুত প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে সেতুটির নির্মাণকাজ শুরুর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।’