পশু কোরবানি ছাড়াই গাজায় টানা তৃতীয় ঈদ!
ইসরায়েলি অবরোধ ও চলমান যুদ্ধের কারণে টানা তৃতীয়বারের মতো কোরবানির পশু ছাড়াই ঈদুল আজহা পালন করতে যাচ্ছেন গাজাবাসী। অবরুদ্ধ এই উপত্যকায় পশু প্রবেশ পুরোপুরি বন্ধ থাকায় এবারও কোরবানি দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না বলে জানিয়েছে গাজার স্থানীয় কৃষি মন্ত্রণালয়।
সারা বিশ্বের মুসলিমরা যখন ঈদুল আজহা উদযাপনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন, গাজাবাসীর মনে তখন বিন্দুমাত্র উৎসবের আমেজ নেই। একসময়ের ব্যস্ত কসাইখানাগুলো এখন পরিণত হয়েছে বাস্তুচ্যুতদের আশ্রয় শিবিরে; নষ্ট হয়ে গেছে কোরবানির কাজে ব্যবহৃত সরঞ্জামও। এক স্থানীয় বাসিন্দা আক্ষেপ করে বলেন, ‘যুদ্ধের আগে ঈদে গরু-ছাগল কোরবানি হতো, শিশুরা আনন্দ করত। কিন্তু এখন গাজায় কোনো ঈদ নেই, যুদ্ধবিরতিতেও হামলা হচ্ছে।” আরেক বাসিন্দার আকুতি, “আমরা চাই মুসলিম বিশ্ব আমাদের জন্য পশু পাঠাক। আমাদের শিশুরা কেন এই আনন্দ থেকে বঞ্চিত হবে?’
অথচ যুদ্ধের আগে গাজায় প্রতি বছর কোরবানির জন্য প্রায় ২০ হাজার গরু ও ৪০ হাজার ভেড়া আমদানি করা হতো। কিন্তু বর্তমানে সেখানে সামান্য খাদ্য সহায়তা ছাড়া আর কোনো সরবরাহ নেই। গাজার কৃষি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা বাহা আগা জানান, যুদ্ধের সময় ৮০ হাজারের বেশি গবাদিপশু মারা গেছে। তাছাড়া গাজার ৬০ শতাংশের বেশি এলাকা বর্তমানে ইসরায়েলি নিয়ন্ত্রণাধীন ‘ইয়েলো জোন’-এর অন্তর্ভুক্ত, যেখানে উপত্যকাটির অধিকাংশ খামার অবস্থিত। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ইসরায়েলের টানা সামরিক অভিযানে এসব পশুর খামার, চিকিৎসাকেন্দ্র ও খাদ্যের গুদাম পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে।
জাতিসংঘের পক্ষ থেকে গাজায় ত্রাণ ও নিত্যপণ্যের অবাধ প্রবেশের আহ্বান জানানো হলেও বর্তমানে ত্রাণ সরবরাহ প্রায় এক-চতুর্থাংশে নেমে এসেছে। সব মিলিয়ে চরম এক মানবিক সংকটের মধ্যে আশ্রয় শিবিরগুলোতে মানবেতর জীবনযাপন করা বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনি শিশুরা টানা কয়েক বছর ধরে ঈদের আনন্দ থেকে পুরোপুরি বঞ্চিত রয়ে গেছে।
সূত্র: মিডল ইস্ট আই

আপনার মতামত লিখুন