খুঁজুন
, ,

এক ম্যাচে ৩ পেনাল্টি দেওয়া সেই রেফারি ফের আর্জেন্টিনার ম্যাচে, কে এই মার্সিনিয়াক?

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ১৪ জুন, ২০২৬, ৪:৩৫ অপরাহ্ণ
এক ম্যাচে ৩ পেনাল্টি দেওয়া সেই রেফারি ফের আর্জেন্টিনার ম্যাচে, কে এই  মার্সিনিয়াক?
শেয়ার করুন

বিশ্বকাপের শিরোপাধারী আর্জেন্টিনার সামনে ২০২৬ বিশ্বকাপ অভিযান শুরুর অপেক্ষা। গ্রুপ ‘জে’-এর প্রথম ম্যাচে আলজেরিয়ার মুখোমুখি হবে লিওনেল স্কালোনির দল। তবে ম্যাচটি ঘিরে ফুটবলপ্রেমীদের আগ্রহের আরেকটি কারণ হয়ে উঠেছেন পোল্যান্ডের রেফারি সিমন মার্সিনিয়াক। তিনি ২০২২ বিশ্বকাপ ফাইনালেও দায়িত্ব পালন করেছিলেন।

 

 

ফিফা ইতোমধ্যে নিশ্চিত করেছে, কানসাস সিটির অ্যারোহেড স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিতব্য আর্জেন্টিনা-আলজেরিয়া ম্যাচ পরিচালনা করবেন মার্সিনিয়াক। এর মাধ্যমে তৃতীয়বারের মতো আর্জেন্টিনার ম্যাচে দায়িত্ব পালন করতে যাচ্ছেন এই পোলিশ রেফারি।

 

ফুটবলার থেকে রেফারি

 

বর্তমান সময়ের অন্যতম আলোচিত ও সফল রেফারি সিমন মার্সিনিয়াকের জন্ম ১৯৮১ সালের জানুয়ারিতে। খেলোয়াড়ি জীবন শুরু করেছিলেন নিজের শহরের ক্লাব উইসলা প্লকে। পোল্যান্ডের শীর্ষ লিগেও খেলেছেন তিনি। তবে পরবর্তীতে রেফারিংকেই পেশা হিসেবে বেছে নেন।

 

মার্সিনিয়াক এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছিলেন, তরুণ বয়সে একটি ম্যাচে লাল কার্ড দেখার পর রেফারির সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে তিনি রেফারিংয়ে আগ্রহী হন। ওই রেফারি তাকে বলেছিলেন, ‘যদি মনে করো কাজটি সহজ, তাহলে নিজেই চেষ্টা করে দেখো।’ এরপরই তিনি রেফারিং কোর্সে ভর্তি হন এবং নতুন পথচলা শুরু করেন।

 

২০০৬ সালে রেফারিং ক্যারিয়ার শুরু করার পর দ্রুতই তিনি ইউরোপীয় ফুটবলের এলিট পর্যায়ে উঠে আসেন। ২০০৯ সালে পোল্যান্ডের শীর্ষ লিগ এক্সট্রাক্লাসার ম্যাচ পরিচালনা শুরু করেন এবং ২০১১ সালে ফিফার আন্তর্জাতিক রেফারির তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হন।

 

এরপর ধাপে ধাপে ইউরোপ ও বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম নির্ভরযোগ্য রেফারিতে পরিণত হন তিনি। ২০১৫ সালে অনূর্ধ্ব-২১ ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনাল পরিচালনা করেন। ২০১৬ ইউরোতে তিনটি ম্যাচে দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৮ বিশ্বকাপে দুটি ম্যাচ পরিচালনার পর একই বছর রিয়াল মাদ্রিদ ও অ্যাতলেটিকো মাদ্রিদের মধ্যকার উয়েফা সুপার কাপের দায়িত্বও পান।

 

 

বিশ্বসেরা রেফারির স্বীকৃতি

 

২০২২ বিশ্বকাপ ফাইনাল এবং ২০২৩ সালের উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ফাইনালে ম্যানচেস্টার সিটি ও ইন্টার মিলানের ম্যাচ পরিচালনা করেন মার্সিনিয়াক। টানা ২০২২ ও ২০২৩ মৌসুমে তিনি ‘দ্য ওয়ার্ল্ডস বেস্ট রেফারি’ নির্বাচিত হন। এ পর্যন্ত ৬০০টিরও বেশি ম্যাচ পরিচালনা করেছেন তিনি। তার রেফারিং ক্যারিয়ারে ২০০টির বেশি পেনাল্টির সিদ্ধান্ত দিয়েছেন।

 

গুরুতর অসুস্থতা কাটিয়ে প্রত্যাবর্তন

 

বর্তমান অবস্থানে পৌঁছানোর পথ মোটেও সহজ ছিল না মার্সিনিয়াকের জন্য। এক সময় ট্যাকিকার্ডিয়া বা অনিয়মিত দ্রুত হৃদস্পন্দনের সমস্যায় আক্রান্ত হন তিনি। প্রায় দেড় বছর মাঠের বাইরে থাকতে হয় তাকে।

 

এই কারণে ২০২১ সালে অনুষ্ঠিত ইউরো ২০২০-এ দায়িত্ব পালন করার সুযোগ হারান তিনি। পরে সুস্থ হয়ে আবারও আন্তর্জাতিক ফুটবলে ফিরে আসেন এবং নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন বিশ্ব ফুটবলের শীর্ষ রেফারিদের একজন হিসেবে।

 

আর্জেন্টিনার সঙ্গে আগের স্মৃতি

 

আর্জেন্টিনার সঙ্গে মার্সিনিয়াকের প্রথম বিশ্বকাপ-সাক্ষাৎ হয়েছিল ২০১৮ রাশিয়া বিশ্বকাপে। সে সময় আইসল্যান্ডের বিপক্ষে আর্জেন্টিনা ১-১ গোলে ড্র করেছিল। সেই ম্যাচটি স্মরণীয় হয়ে আছে লিওনেল মেসির পেনাল্টি মিসের কারণে। চার বছর পর কাতার বিশ্বকাপে শেষ ষোলোতে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে আর্জেন্টিনার ২-১ গোলের জয়ের ম্যাচেও দায়িত্বে ছিলেন মার্সিনিয়াক। ওই ম্যাচে গোল করেছিলেন মেসি।

 

তবে আর্জেন্টিনা ও মার্সিনিয়াকের সবচেয়ে স্মরণীয় অধ্যায় নিঃসন্দেহে ২০২২ বিশ্বকাপ ফাইনাল। লুসাইল স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত সেই রুদ্ধশ্বাস ফাইনালে আর্জেন্টিনা ও ফ্রান্স ৩-৩ গোলে সমতায় শেষ করে ম্যাচ। পরে টাইব্রেকারে জিতে তৃতীয় বিশ্বকাপ শিরোপা জেতে লিওনেল মেসির দল।

 

সেই ফাইনালে মার্সিনিয়াক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। ম্যাচে মোট তিনটি পেনাল্টি দেন তিনি একটি আর্জেন্টিনার পক্ষে এবং দুটি ফ্রান্সের পক্ষে। আর্জেন্টিনার হয়ে মেসি জোড়া গোল করেন, অন্যদিকে কিলিয়ান এমবাপ্পে হ্যাটট্রিক করে ম্যাচকে অবিস্মরণীয় করে তোলেন। শেষ পর্যন্ত এমিলিয়ানো ‘দিবু’ মার্টিনেজের দুর্দান্ত নৈপুণ্যে টাইব্রেকারে জয় পায় আর্জেন্টিনা।

 

ফের আর্জেন্টিনার ম্যাচে

 

বিশ্বকাপ ২০২৬-এ আর্জেন্টিনার শিরোপা রক্ষার মিশন শুরু হচ্ছে আলজেরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে। ম্যাচটি বাংলাদেশ সময় ১৭ জুন (বুধবার) সকাল ৭টায় কানসাস সিটির অ্যারোহেড স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে ম্যাচটি।

 

মার্সিনিয়াকের উপস্থিতিকে অনেক সমর্থক আর্জেন্টিনার জন্য শুভ লক্ষণ হিসেবেই দেখছেন। কারণ তার অধীনে পরিচালিত বিশ্বকাপের দুটি ম্যাচেই জয় পেয়েছে আলবিসেলেস্তেরা।

 

এবারও সেই পোলিশ রেফারির বাঁশিতে মাঠে নামবে লিওনেল মেসির দল। ফলে ২০২২ সালের বিশ্বকাপ জয়ের স্মৃতি আবারও ফিরে আসছে আর্জেন্টাইন সমর্থকদের কাছে। এখন দেখার বিষয়, ‘তৃতীয় তারকার রেফারি’ হিসেবে পরিচিত মার্সিনিয়াকের উপস্থিতিতে বিশ্বকাপ অভিযান জয় দিয়েই শুরু করতে পারে কি না বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।

ঝোঁপঝাড়ে ফেলে যাওয়া নবজাতককে দত্তক নিতে ১২৩ পরিবারের আবেদন

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১:৩৯ অপরাহ্ণ
ঝোঁপঝাড়ে ফেলে যাওয়া নবজাতককে দত্তক নিতে ১২৩ পরিবারের আবেদন
শেয়ার করুন

চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে ফটিকছড়িতে সড়কের পাশের ঝোপঝাড়ে ফেলে যাওয়া এক নবজাত কন্যাশিশুকে দত্তক নিতে ব্যাপক আগ্রহ দেখা দিয়েছে শিশুটির লালন-পালনের দায়িত্ব নিতে এক দিনেই ১২৩টি আবেদন জমা পড়েছে।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাত পর্যন্ত ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে আবেদনকারীদের সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, আবেদনকারীদের পারিবারিক পরিবেশ, আর্থিক সামর্থ্য, শিশুর পরিচর্যার সক্ষমতা ও অন্যান্য প্রাসঙ্গিক বিষয় বিবেচনায় নিয়ে উপযুক্ত পরিবার নির্বাচনের প্রক্রিয়া চলছে। তবে, আবেদন করলেই শিশুটিকে দত্তক নেওয়ার সুযোগ মিলবে না। এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যাচাই-বাছাই ও প্রযোজ্য আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে।

ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাঈদ মোহাম্মদ ইব্রাহিম গণমাধ্যমকে বলেন, শিশুটিকে দত্তক নিতে বিপুলসংখ্যক আবেদন জমা পড়েছে। উপযুক্ত পরিবার নির্বাচনের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। যাচাই-বাছাই ও আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

এর আগে, গত বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার পাইন্দং ইউনিয়নের উত্তর পাইন্দং এলাকার আমতলীতে সড়কের পাশের ঝোঁপঝাড় থেকে নবজাতকটিকে জীবিত উদ্ধার করা হয়।

স্থানীয় লোকজন শিশুটিকে ঝোঁপের মধ্যে পড়ে থাকতে দেখে পুলিশকে খবর দেন। পরে ফটিকছড়ি থানা-পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশুটিকে উদ্ধার করেন। উদ্ধারের পর তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, শিশুটির শারীরিক অবস্থা ভালো ছিল।তবে কে বা কারা শিশুটিকে সেখানে ফেলে গেছেন, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। শিশুটির নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে উপযুক্ত পরিবার নির্বাচনের পাশাপাশি তাকে পরিত্যক্ত অবস্থায় ফেলে যাওয়ার ঘটনার রহস্য উদঘাটন ও পরিচয় শনাক্তে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় লোকজন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রচেষ্টায় ভোলাখালে অষ্টম সেতু নির্মাণের প্রস্তাব

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১:০০ অপরাহ্ণ
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রচেষ্টায় ভোলাখালে অষ্টম সেতু নির্মাণের প্রস্তাব
শেয়ার করুন

কক্সবাজারের পেকুয়ায় ভোলাখালের ওপর মগনামা বাজারপাড়া থেকে বারবাকিয়া ইউনিয়নের বোধামাঝির ঘোনা পর্যন্ত ১০০ মিটার দীর্ঘ সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রস্তাবিত সেতুটি নির্মিত হলে মগনামা ও বারবাকিয়ার মধ্যে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ স্থাপনের পাশাপাশি পেকুয়া ও কুতুবদিয়ার মানুষের যাতায়াত, পণ্য পরিবহন ও ব্যবসা-বাণিজ্যে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে বলে আশা করছেন স্থানীয়রা।

সম্প্রতি সেতু নির্মাণের উদ্যোগের অংশ হিসেবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও কক্সবাজার-১ আসনের সংসদ সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদের প্রয়োজনীয় সুপারিশ ও প্রস্তাব স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। প্রকল্পটি অনুমোদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও কারিগরি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে সেতু নির্মাণকাজ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

স্থানীয়দের মতে, সেতুটি বাস্তবায়িত হলে মগনামা ও বারবাকিয়ার মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপনের পাশাপাশি পেকুয়া ও কুতুবদিয়ার সঙ্গে মহেশখালী হয়ে চট্টগ্রামের যোগাযোগে একটি বিকল্প ও গুরুত্বপূর্ণ সড়কপথ তৈরি হতে পারে। এতে যাতায়াতের সময় ও পেকুয়া বাজার কেন্দ্রীক যানজট ভোগান্তি কমার পাশাপাশি উপকূলীয় এ অঞ্চলের আর্থসামাজিক কর্মকাণ্ড, কৃষিপণ্য,লবণ, মৎস্য পরিবহন ও ব্যবসা-বাণিজ্যে ইতিবাচক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এদিকে ‎ভোলাখালের বিভিন্ন অংশে ইতোমধ্যে সাতটি সেতু নির্মিত হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে- মগনামা শরৎঘোনা–রাজাখালী নতুনঘোনা সেতু, পেকুয়া পশ্চিম গোঁয়াখালী অংশের রাবারড্যাম সেতু, পেকুয়া বাজার–বারবাকিয়া ফাঁশিয়াখালী সেতু, পেকুয়া মৌলভীপাড়া অংশের আঞ্চলিক মহাসড়ক সেতু, পেকুয়া-বারবাকিয়া বাজার সেতু, পেকুয়া সাবমেরিন নৌঘাঁটি সড়কের সালাহউদ্দিন সেতু এবং বাগুজারা-সাকুরপাড় সেতু।

স্থানীয়দের দাবি, এসব সেতুর ধারাবাহিকতায় মগনামা বাজারপাড়া-বোধামাঝির ঘোনা সেতুটি নির্মিত হলে ভোলাখালের ওপর এটি হবে অষ্টম গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ সেতু। সেতুটি নির্মিত হলে পেকুয়া উপজেলার অভ্যন্তরীণ যোগাযোগব্যবস্থা আরও শক্তিশালী হওয়ার পাশাপাশি কুতুবদিয়ার সঙ্গে সড়ক যোগাযোগেও নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে।

 

‎

 

‎এতে শিক্ষা, চিকিৎসা, লবণ,মৎস্য ও কৃষিপণ্য পরিবহন, ব্যবসা-বাণিজ্য ও সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন চলাচলে দুই উপজেলার মানুষ সুফল পাবেন বলে প্রত্যাশা করছেন স্থানীয়রা। একই সঙ্গে পেকুয়া বাজারকেন্দ্রিক সড়কে যানবাহনের চাপও কিছুটা কমতে পারে বলে মনে করছেন তারা।

 

এলাকাবাসী জানান, দীর্ঘদিন ধরে ভোলাখাল মগনামা ও বারবাকিয়ার মানুষের স্বাভাবিক চলাচলের ক্ষেত্রে একটি বড় প্রতিবন্ধকতা হয়ে আছে। খালের ওপর প্রস্তাবিত সেতুটি নির্মিত হলে দুই এলাকার মধ্যে যোগাযোগ সহজ হওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় অর্থনীতি ও জনজীবনেও ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে।

 

‎দীর্ঘদিনের দাবি ও প্রত্যাশার পর সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়ায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এমপির প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ব্যক্তিগত প্রেস সচিব ছফওয়ানুল করিম বলেন, ‘চকরিয়া-পেকুয়া-মাতামুহুরী অঞ্চলের যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের ধারাবাহিকতায় ভোলাখালের মগনামা বাজারপাড়া অংশে ১০০ মিটার দীর্ঘ সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সুপারিশ ও প্রস্তাব স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। প্রকল্পটি অনুমোদনের পর পরবর্তী প্রশাসনিক ও কারিগরি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে সেতু নির্মাণের কাজ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে।’

 

‎তিনি বলেন, ‘সেতুটি নির্মিত হলে মগনামা, বারবাকিয়া ও আশপাশের এলাকার মানুষের চলাচল সহজ হওয়ার পাশাপাশি পেকুয়া-চকরিয়া অঞ্চলের সড়ক যোগাযোগব্যবস্থায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করছি।’

 

‎

 

‎পেকুয়া উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসাইন বলেন, ‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের প্রচেষ্টায় মগনামা-বোধামাঝির ঘোনা সেতু নির্মাণের উদ্যোগের খবরে বারবাকিয়া ও আশপাশের এলাকার মানুষের মধ্যে উৎসাহ সৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এ অঞ্চলের মানুষ যোগাযোগের ক্ষেত্রে নানা দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। সেতুটি নির্মিত হলে বারবাকিয়াসহ আশপাশের এলাকার সঙ্গে পেকুয়া উপজেলার সরাসরি ও সহজ যোগাযোগব্যবস্থা গড়ে উঠবে। একই সঙ্গে শিক্ষা, চিকিৎসা, কৃষি, ব্যবসা-বাণিজ্য ও সাধারণ মানুষের চলাচলেও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।’

তিনি বলেন, ‘মহেশখালীর মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর, পেকুয়া ও কুতুবদিয়ার মধ্যে যাতায়াত এবং পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রেও এ সেতু গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। জনগণের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণে দ্রুত প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে সেতুটির নির্মাণকাজ শুরুর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।’

সাঈদীর মামলার বাদীর দাফনে আসেনি কেউ, কবর খুঁড়লেন স্ত্রী-মেয়ে-বোন

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৫১ অপরাহ্ণ
সাঈদীর মামলার বাদীর দাফনে আসেনি কেউ, কবর খুঁড়লেন স্ত্রী-মেয়ে-বোন
শেয়ার করুন

আল্লামা দেলোয়ার হোসেন সাঈদীর মামলার বাদী ও রাষ্ট্রপক্ষের অন্যতম প্রধান সাক্ষী মানিক পশারীর মরদেহ জামায়াত নেতাকর্মী ও স্থানীয়দের তোপের মুখে ১৭ ঘণ্টা পর গভীর রাতে পরিবারের নারী সদস্যদের খোঁড়া কবরে দাফন করা হয়েছে। শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাত ২টার দিকে পিরোজপুর সদর উপজেলার শংকরপাশা ইউনিয়নের চিতলিয়া গ্রামে মানিক পশারীর বাড়িতে তার মরদেহ দাফন সম্পন্ন করে পুলিশ।

এর আগে গতকাল শনিবার সকাল ১০টার দিকে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় পলাতক থাকা অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। পরে একইদিন দুপুর ১২টায় পিরোজপুর সদর উপজেলা পরিষদ চত্বরে মানিক পশারীর মরদেহ এলে স্বজনরা জেলা জামায়াতের নেতাকর্মী ও স্থানীয়দের তোপের মুখে পড়ে। পরে পুলিশের সহায়তায় মরদেহ সরিয়ে নেওয়া হয় পুলিশ লাইনসে। সেখানে বিকেল ৫টার দিকে গার্ড অব অনার শেষে নিশ্চিদ্র নিরাপত্তায় লাশ ঘিরে রাখে সদর থানা পুলিশ।

 

পরে রাত ১টার দিকে সদর থানা পুলিশ জেলা জামায়াতে ইসলামীর নেতাদের সহায়তায় মরদেহ বাড়িতে পৌঁছে। রাতে মানিক পশারীর স্ত্রী, মেয়ে ও বোনসহ পরিবারের অন্য সদস্যরা মিলে কবর খুঁড়ে রাত ২টার দিকে দাফন কাজ শেষ করা হয়। এসময় কিছু স্থানীয়রা উপস্থিত ছিলেন।

মানিক পশারীর বোন বলেন, আমার ভাইরে টুঙ্গিপাড়া দিয়া পিরোজপুর আনার পর ওখানে ঝামেলা হইছে। একবার মোরা কবর খুঁড়ছি, সেই কবর লোকজনে আবার ভরাট করে ফেলছে। আবার মোরা কবর খুঁড়ছি এবং পুলিশ লাশ আনার পরে মোরাই মাডি দিছি। কোনো পুরুষ মানুষ আয় নাই।

 

পিরোজপুর জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি আব্দুর রাজ্জাক বলেন, মানিক পশারীর লাশ দাফনে পিরোজপুর জেলা জায়ামাতের নেতা এবং অঙ্গ সংগঠনের কোনো নেতা বাঁধা সৃষ্টি করেনি। জামায়াতে ইসলামীর নেতারা লাশের রাজনীতি করে না। তাই পিরোজপুর সদর থানা পুলিশকে পুরোপুরি সহায়তা করে লাশ দাফন কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে।

 

পিরোজপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: শরিফুল ইসলাম বলেন, পুলিশের নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে মানিক পশারীর লাশ দাফন সম্পন্ন করা হয়েছে। কবরের পাশে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

মানিক পশারী (৮৭) পিরোজপুর সদর উপজেলার শংকরপাশা ইউনিয়নের চিতলিয়া গ্রামের ৭ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা। তিনি জামায়াত নেতা আল্লামা দেলোয়ার হোসেন সাঈদীর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মানবতা বিরোধী অপরাধের মামলার বাদী ও রাষ্ট্রপক্ষের অন্যতম প্রধান সাক্ষী ছিলেন। ২০২৪ সালে আগস্টে ছাত্র জনতার গণঅভ্যুত্থানের পরে তিনি যশোরে ও গোপালগঞ্জে টুঙ্গিপাড়ায় তার মেয়ের জামাইয়ের কাছে আশ্রয় নেন। মানিক গত ২ মাস ধরে অসুস্থ হয়ে মৃত্যুবরণ করেন।