ফোন রিসিভ করে একজন জানান, মোবাইলের মালিক বেঁচে নেই
{"remix_data":[],"remix_entry_point":"challenges","source_tags":["local"],"origin":"unknown","total_draw_time":0,"total_draw_actions":0,"layers_used":0,"brushes_used":0,"photos_added":0,"total_editor_actions":{},"tools_used":{"square_fit":1},"is_sticker":false,"edited_since_last_sticker_save":true,"containsFTESticker":false}
চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলায় দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে কলেজছাত্রী সুমাইয়া জান্নাত (২০) নিহত হয়েছেন। মর্মান্তিক এ ঘটনার আগে তার বাবা আরিফুর রহমান ফোনে মেয়ের খোঁজ নিতে গিয়ে জানতে পারেন মোবাইলের আগের মালিক আর বেঁচে নেই।
পরিবার ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা যায়, সুমাইয়া জান্নাত চট্টগ্রাম সরকারি মহিলা কলেজের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের স্নাতক প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। কলেজের হোস্টেলে সিট বরাদ্দ পাওয়ার কথা থাকায় গতকাল সকালে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করতে এবং প্রয়োজনীয় কাজ শেষ করতে তিনি রওনা হন।
একই সময়ে তার বাবা আরিফুর রহমান চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া থেকে মেয়ের কলেজের উদ্দেশে যাত্রা করছিলেন। পথে মেয়ের অবস্থান জানতে তিনি সুমাইয়ার মোবাইল নম্বরে কল করেন। কিন্তু ফোন রিসিভ করেন এক অচেনা তরুণ, যিনি জানান মোবাইলের মালিক আর জীবিত নেই। এই খবর শুনেই ভেঙে পড়েন বাবা।
এরপর লোহাগাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বারান্দায় দাঁড়িয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন আরিফুর রহমান। তিনি বলেন, বাড়ি থেকে বের হওয়ার সময়ও মেয়ের সঙ্গে কথা হয়েছিল। মেয়ের এমন মৃত্যু কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না তিনি।
স্থানীয় সূত্র ও হাইওয়ে পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার সকাল সাড়ে আটটার দিকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের চুনতি বাজার এলাকায় কক্সবাজারগামী একটি বাস এবং চট্টগ্রামগামী আরেকটি বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে দুটি বাসের সামনের অংশ ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং বেশ কয়েকজন যাত্রী আহত হন। গুরুতর আহত সুমাইয়া জান্নাতকে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা উদ্ধার করে লোহাগাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
পরিবারের সদস্যরা জানান, কলেজের হোস্টেল সিট বরাদ্দের জন্য নির্ধারিত নোটিশ অনুযায়ী অভিভাবকসহ উপস্থিত থাকার কথা ছিল। সেই কারণেই আরিফুর রহমান রাঙ্গুনিয়া থেকে এবং সুমাইয়া নানাবাড়ি কক্সবাজারের চকরিয়া এলাকা থেকে কলেজের পথে রওনা হন।
ঘটনার সময় হাসপাতালে মেয়ের মরদেহের পাশে আহাজারি করতে দেখা যায় তার মা ইয়াছমিন আক্তারকে। তিনি জানান, সেদিন সকালে মেয়েকে একটু দেরি করে বের হতে বলেছিলেন, কিন্তু সুমাইয়া তাড়াহুড়া করে চলে যায়। তার আক্ষেপ, পাঁচ মিনিট দেরি করলে হয়তো এমন ঘটনা ঘটত না।
আ.লীগ ও অঙ্গসংগঠনের তিন নেতা ধরা
দোহাজারী হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সালাহ উদ্দিন চৌধুরী জানান, দুর্ঘটনার পর পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে বাস দুটি জব্দ করেছে। চালকরা পালিয়ে গেছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
এই দুর্ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পরিবারের স্বপ্ন ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এক মুহূর্তেই থেমে যাওয়ায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন স্বজনরা।

আপনার মতামত লিখুন