খুঁজুন
, ,

সুইজারল্যান্ডে পাকিস্তানের সেনাপ্রধানকে হত্যার ছক কষেছিল ইসরায়েল

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৪ জুন, ২০২৬, ১১:১৩ অপরাহ্ণ
সুইজারল্যান্ডে পাকিস্তানের সেনাপ্রধানকে হত্যার ছক কষেছিল ইসরায়েল
শেয়ার করুন

ব্রাজিলীয় অনুসন্ধানী সাংবাদিক ও ভূ-কৌশল বিশেষজ্ঞ পেপে এসকোবার দাবি করেছেন, ইরান শান্তি আলোচনায় অংশ নিতে সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় থাকাকালীন পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর প্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির এবং পুরো প্রতিনিধিদলকে গুপ্তহত্যার ষড়যন্ত্র করেছিল ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ। তবে পাকিস্তানি সাংবাদিকরা এই চাঞ্চল্যকর দাবি প্রত্যাখ্যান করেছেন।

 

সম্প্রতি রাজনৈতিক ভাষ্যকার ও ইন্টারনেট ব্যক্তিত্ব মারিও নওফালের সঞ্চালিত একটি পডকাস্টে এসকোবার আসিম মুনিরকে হত্যা করার মোসাদের ষড়যন্ত্রের চাঞ্চল্যকর দাবিটি করেন।

 

 

এসকোবার দাবি করেছেন, পাকিস্তানি সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা এমন ‘অত্যন্ত বিশ্বাসযোগ্য তথ্য’ পেয়েছে, যা থেকে ইঙ্গিত পাওয়া যায় যে সুইজারল্যান্ডে উচ্চ-পর্যায়ের আলোচনা চলাকালে মোসাদ মুনিরকে এবং সম্ভবত পাকিস্তানি প্রতিনিধিদলের অন্যান্য সদস্যদেরও হত্যা করার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। তবে পাকিস্তানি গোয়েন্দারা বিষয়টি জানতে পারায় সেই পরিকল্পনা ভেস্তে যায়।

 

মূলত, পাকিস্তান যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালনের চেষ্টা করছে এবং প্রাথমিক চুক্তিটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক’। এ নিয়ে চলতি সপ্তাহে জেনেভায় অনুষ্ঠিত হয় পরবর্তী আলোচনা। এতে মার্কিন প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে ছিলেন দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভান্স এবং ইরানের পক্ষ ছিলেন দেশটির পার্লামেন্ট স্পিকার বাঘার গালিবাফ ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ছিলেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ এবং ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির।

 

তবে শুরু থেকেই ইসরায়েলি নেতারা ইরান-মার্কিন শান্তি চুক্তির সমালোচনা করে আসছে এবং লেবাননে হামলার মাধ্যমে চুক্তিটি ভেস্তে দেওয়ার পাঁয়তারা করতে থাকে।

 

পডকাস্টে মারিও নওফাল কূটনৈতিক আলোচনার নেপথ্যে পাকিস্তান ও ইসরায়েলের মধ্যে উত্তেজনার খবর সম্পর্কে এসকোবারকে জিজ্ঞাসা করেন।

 

 

জবাবে এসকোবার বলেন, ‘পাকিস্তানি সামরিক বাহিনী অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য তথ্য পায় যে, ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নির্দেশে মোসাদ আসিম মুনির এবং সম্ভবত সুইজারল্যান্ডে অবস্থানরত বাকি পাকিস্তানি প্রতিনিধিদলকে হত্যার প্রস্তুতি নিয়েছে।

 

তিনি আরও বলেন, মোসাদের কথিত ষড়যন্ত্রের কথা জানতে পেরে পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষ কূটনৈতিক মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ইসরায়েলকে কড়া হুঁশিয়ারি দেয়। এর পরই ভয়াবহ সেই পরিক্লপনা থেকে সরে আসে মোসাদ।

 

এসকোবার বলেন, “পাকিস্তানিরা তাদের চিরাচরিত মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে একটি সরাসরি বার্তা পাঠিয়েছে। আমি বাজি ধরে বলতে পারি, এক্ষেত্রে বার্তাটি ওমানের পক্ষ থেকে সরাসরি ইসরায়েলকে পাঠানো হয়েছে, যেখানে বলা হয়েছে, ‘তোমরা যদি আমাদের প্রতিনিধিদলের গায়ে হাত দাও, তাহলে আমরা তোমাদের মানচিত্র থেকে নিশ্চিহ্ন করে দেব, ব্যস।’ আমি হুবহু উদ্ধৃত করছি। আমাদের সূত্র আমাদের এটাই জানিয়েছে।”

 

পাকিস্তানই একমাত্র ইসলামী দেশ যার পারমাণবিক অস্ত্র রয়েছে। ইসরায়েলকেও একটি পারমাণবিক শক্তি হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।

 

এসকোবারের দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি এবং পাকিস্তান ও ইসরায়েল সরকারও তা নিশ্চিত করেনি। এসকোবারের করা দাবির সমর্থনে কোনো প্রমাণও নেই।

 

পাকিস্তানি সাংবাদিকরাও এসকোবারের দাবি প্রত্যাখ্যান করে একে ‘বাস্তবতা-বিহীন একটি গল্প’ বলে আখ্যা দিয়েছেন।

প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ জানালেন মুনজারিন টাইলসের স্বত্বাধিকারী শহিদুল মোস্তফা

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:১৭ অপরাহ্ণ
প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ জানালেন মুনজারিন টাইলসের স্বত্বাধিকারী শহিদুল মোস্তফা
শেয়ার করুন

অনলাইন সংবাদমাধ্যম টেলিগ্রাম নিউজে টার্মিনালকেন্দ্রিক ইয়াবা সিন্ডিকেট নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনের একাংশের প্রতিবাদ জানিয়েছেন মুনজারিন টাইলসের স্বত্বাধিকারী শহিদুল মোস্তফা।

 

এক প্রতিবাদলিপিতে শহিদুল মোস্তফা বলেন, প্রকাশিত প্রতিবেদনে তাঁর ছবি ব্যবহার করে ইয়াবা সিন্ডিকেটের সঙ্গে তাঁকে সম্পৃক্ত হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। বিষয়টি তাঁর নজরে আসার পর তিনি বিস্ময় ও উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তাঁর দাবি, প্রতিবেদনে উত্থাপিত অভিযোগের সঙ্গে তাঁর কোনো সম্পৃক্ততা নেই।

 

শহিদুল মোস্তফা জানান, তিনি মুনজারিন টাইলসের স্বত্বাধিকারী। পাশাপাশি তিনি পশ্চিম লারপাড়া সমাজ পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক, মসজিদ পরিচালনা কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, জেলা কমিউনিটি পুলিশের সদস্য এবং লারপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সাবেক সভাপতি হিসেবে বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত রয়েছেন।

 

প্রতিবাদলিপিতে তিনি বলেন, এ ধরনের গুরুতর অভিযোগের ক্ষেত্রে কারও নাম বা ছবি ব্যবহারের আগে তথ্য ও পরিচয় যথাযথভাবে যাচাই করা প্রয়োজন। অন্যথায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সামাজিক মর্যাদা, ব্যক্তিগত সুনাম ও পেশাগত অবস্থান ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

 

শহিদুল মোস্তফা টেলিগ্রাম নিউজ কর্তৃপক্ষকে প্রকাশিত প্রতিবেদনের তথ্য ও ছবি পুনরায় যাচাই করার অনুরোধ জানিয়েছেন। একই সঙ্গে প্রকৃত ঘটনা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের কাছ থেকে তথ্য যাচাইয়ের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

 

প্রতিবাদকারী:

শহিদুল মোস্তফা

স্বত্বাধিকারী, মুনজারিন টাইলস।

রাষ্ট্রীয় সফরে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জাপান যাচ্ছেন আমজনতার তারেক

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:৪৪ অপরাহ্ণ
রাষ্ট্রীয় সফরে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জাপান যাচ্ছেন আমজনতার তারেক
শেয়ার করুন

চারদিনের রাষ্ট্রীয় সফরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে জাপান সফর যাচ্ছেন আমজনতা দলের সদস্যসচিব মো. তারেক রহমান। আজ রবিবার (২৫ অক্টোবর) রাতে প্রধানমন্ত্রীর জাপান যাওয়ার কথা রয়েছে।

 

সন্ধ্যায় ফেসবুকের এক পোস্টে তারেক রহমান লেখেন, ‘আজ জাপান যাচ্ছি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সাথে। ভালোবাসা সবাইকে।’ ওই পোস্টে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে করমর্দনরত অবস্থার হাস্যোজ্জ্বল একটি ছবি জুড়ে দিয়েছেন তারেক রহমান।

 

প্রধানমন্ত্রী ২৬ অক্টোবর থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত জাপানে অবস্থান করবেন। সফরকালে দুদেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার, মেট্রোরেলসহ চলমান অবকাঠামো প্রকল্পের ব্যয় ও ঋণের সুদের হার কমানোর বিষয়ে আলোচনা, জাপানি বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণে গুরুত্ব দেওয়া হবে।

 

সফরসূচি অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ফ্লাইটটি আগামীকাল সোমবার (২৬ অক্টোবর) স্থানীয় সময় সকাল ৯টা ২৫ মিনিটে টোকিওর নারিতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।জাপানের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নাকাসোনে ইয়াসুতাকা বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানাবেন। প্রধানমন্ত্রী টোকিওর ইম্পেরিয়াল হোটেলে অবস্থান করবেন।

টঙ্গীতে মাদ্রাসাশিক্ষার্থীকে চুমু: সেই শিক্ষকের জামিন নামঞ্জুর

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:১৫ অপরাহ্ণ
টঙ্গীতে মাদ্রাসাশিক্ষার্থীকে চুমু: সেই শিক্ষকের জামিন নামঞ্জুর
শেয়ার করুন

গাজীপুরের টঙ্গীতে মাদ্রাসার ভেতরে ছয় বছর বয়সী এক শিশু শিক্ষার্থীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া শিক্ষক মোসলেহ উদ্দিনের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন আদালত। রোববার (২৫ অক্টোবর) দুপুরে গাজীপুর মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২-এর বিচারক ওমর হায়দার উভয় পক্ষের শুনানি শেষে জামিন বাতিলের এই আদেশ দেন।

আদালতে বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মহিউদ্দীন জামিন নামঞ্জুরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, জামিনের ঘোর বিরোধিতা করে আদালতে যুক্তি উপস্থাপন করা হয় যে, আসামি এই মুহূর্তে জামিনে মুক্তি পেলে মামলার সুষ্ঠু তদন্ত ব্যাহত হতে পারে এবং সমাজে এর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। বিজ্ঞ বিচারক উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে আসামির জামিন আবেদন নাকচ করে দেন।

অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট শরিফুল আলম বলেন, আসামির অতীতে কোনো অপরাধের রেকর্ড বা পূর্ববর্তী মামলা নেই। এছাড়া তার দাবি, মামলার অভিযোগগুলো মিথ্যা এবং ঘটনার পক্ষে কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্যপ্রমাণ নেই। এসব যুক্তি তুলে ধরেই তারা জামিনের আবেদন করেছিলেন।

 

এদিকে ঘটনাটির জের ধরে দায়ের হওয়া পাল্টাপাল্টি মামলাকে কেন্দ্র করে একটি মহল পরিকল্পিতভাবে বিভ্রান্তি ও অপপ্রচার ছড়াচ্ছে বলে সতর্ক করেছে পুলিশ। উভয় মামলার নিরপেক্ষ তদন্তের আশ্বাস দিয়ে গাজীপুর মহানগর পুলিশ (জিএমপি) কমিশনার মো. ইসরাইল হাওলাদার গুজব থেকে বিরত থাকার জন্য সর্বসাধারণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে শিশুটির বাবাকে গ্রেপ্তার করতে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে বলে গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া তথ্যকে অসত্য ও ভিত্তিহীন বলে স্পষ্ট করেছেন তিনি।

 

রোববার সকালে জিএমপি ও গণমাধ্যমকর্মীদের সমন্বয়ে পরিচালিত ‘জিএমপি মিডিয়া’ নামের অফিশিয়াল হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে সাংবাদিকদের একটি সংবাদের প্রেক্ষিতে তিনি এসব তথ্য জানান।

 

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, টঙ্গীর আউচপাড়ার শফিউদ্দিন রোডে অবস্থিত ‘ক্বারিউল কুরআন ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসা’র ভেতরে প্রথম শ্রেণির ছয় বছর বয়সী এক ছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শিশুর পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা করা হলে মাদ্রাসার ভাইস প্রিন্সিপাল মো. মোসলেহ উদ্দিনকে তাৎক্ষণিকভাবে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠায় পুলিশ।

 

তবে এর পরপরই ঘটনাটি নতুন দিকে মোড় নেয়। প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ ক্বারী মো. আলমাছ হোসেন গাজীপুরী পাল্টা অভিযোগ তোলেন যে, ঘটনার পর একদল লোক মাদ্রাসায় ঢুকে ব্যাপক ভাঙচুর চালিয়েছে এবং শিক্ষক-কর্মচারীদের মারধর করেছে। এ ঘটনায় তিনি ভুক্তভোগী শিশুটির বাবা শাহজালাল রুমিসহ অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে আরেকটি মামলা দায়ের করেন।

 

পাল্টা এই মামলার পর ‘শিশুটির বাবাকে গ্রেপ্তারে মাঠে নেমেছে পুলিশ’—এমন খবর কিছু গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে তা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক ক্ষোভ ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়। বিভিন্ন ভিডিও ও মন্তব্য ছড়িয়ে পড়ে তৈরি হয় চাঞ্চল্য। তবে পুলিশ পরিষ্কার জানিয়েছে, মামলার তদন্ত আইনি নিয়ম মেনেই এগোচ্ছে এবং কোনো পক্ষকেই উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে হয়রানি করা হচ্ছে না।