খুঁজুন
, ,

#বদলে দিতে পারে দেশের শিল্প, জ্বালানি ও প্রযুক্তির ভবিষ্যৎ #৯৬ শতাংশ বিশুদ্ধতার এই খনিজ আন্তর্জাতিক মানের শিল্পকারখানায় ব্যবহারের উপযোগী

কক্সবাজার সৈকতের বালুতে কয়েক বিলিয়ন ডলারের মূল্যবান খনিজ জিরকন

জসিম উদ্দিন:
প্রকাশিত: সোমবার, ২৯ জুন, ২০২৬, ১২:৩৯ অপরাহ্ণ
কক্সবাজার সৈকতের বালুতে কয়েক বিলিয়ন ডলারের মূল্যবান খনিজ জিরকন
শেয়ার করুন

বিশ্বজুড়ে যখন কৌশলগত খনিজ সম্পদের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে পরাশক্তিগুলোর প্রতিযোগিতা তীব্র, তখন কক্সবাজার উপকূলে নীরবে পড়ে আছে বিলিয়ন ডলারের সম্ভাবনাময় এক প্রাকৃতিক সম্পদ—জিরকন। উচ্চপ্রযুক্তি শিল্প, পরিচ্ছন্ন জ্বালানি ও উন্নত উৎপাদন খাতের সম্প্রসারণের সঙ্গে সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাজারে এই কৌশলগত খনিজের চাহিদাও দ্রুত বাড়ছে।

 

বিজ্ঞানীদের মতে, কক্সবাজারের সৈকতের বালুতে ইউরেনিয়ামের উপস্থিতি পাওয়া না গেলেও জিরকনের পাশাপাশি ইলমেনাইট, রুটাইল, গারনেট, ম্যাগনেটাইট, কায়ানাইট ও মোনাজাইটের মতো গুরুত্বপূর্ণ ভারী খনিজও রয়েছে। পরিবেশগত সুরক্ষা নিশ্চিত করে আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে এসব খনিজ উত্তোলন ও প্রক্রিয়াজাত করা গেলে তা দেশের শিল্পায়ন, বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন এবং কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে। তবে এই সম্ভাবনাকে কাজে লাগানো নির্ভর করছে দীর্ঘমেয়াদি রাষ্ট্রীয় পরিকল্পনা ওপরে। কক্সবাজারের বালুতে কয়েক বিলিয়ন ডলারের জিরকনসহ প্রকৃতিক সম্পদ রয়েছে বলে জানান,ইনস্টিটিউট অব নিউক্লিয়ার জিওলজিক্যাল সায়েন্সেস-এর পরিচালক ও প্রধান ভূতত্ত্ববিদ ড. মো. গোলাম রসুল।

 

#জিরকনের ব্যবহার ও বৈশ্বিক বাজার

 

ইনস্টিটিউট অব নিউক্লিয়ার জিওলজিক্যাল সায়েন্সেস-এর মুখ্য ভূতত্ত্ববিদ ড. মোহাম্মদ রাজীব জানান,আধুনিক শিল্প ও প্রযুক্তির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কাঁচামাল জিরকন। জিরকন থেকে উৎপাদিত জিরকোনিয়াম ও এর যৌগ উচ্চপ্রযুক্তি শিল্প, জেট ইঞ্জিন, মহাকাশ প্রযুক্তি, পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, বিশেষ ধাতব সংকর (অ্যালয়), চিকিৎসা সরঞ্জাম, ইলেকট্রনিকস, সেমিকন্ডাক্টর, প্রতিরক্ষা শিল্প, উচ্চমানের সিরামিক এবং রিফ্র্যাক্টরি শিল্পে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়। এ কারণে বিশ্ববাজারে জিরকনের চাহিদা ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। বর্তমানে অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা ও চীন বিশ্বের প্রধান জিরকন উৎপাদনকারী দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম বলে জানান এই বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা।

 

জিরকনের পাশাপাশি কক্সবাজার উপকূলে পাওয়া ইলমেনাইট ও রুটাইল টাইটানিয়াম ডাই-অক্সাইড উৎপাদনের গুরুত্বপূর্ণ কাঁচামাল, যা রং, প্লাস্টিক, কাগজ ও বিভিন্ন শিল্পপণ্যে ব্যবহৃত হয়। ম্যাগনেটাইট ও গারনেট ধাতব শিল্প এবং ঘর্ষণ উপকরণ তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। অন্যদিকে মোনাজাইটে থাকা বিরল মৃত্তিকা উপাদান (Rare Earth Elements) এবং তেজস্ক্রিয় উপাদান উন্নত ইলেকট্রনিকস, শক্তিশালী চুম্বক, নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রযুক্তি ও অন্যান্য উচ্চপ্রযুক্তি শিল্পে গুরুত্বপূর্ণ কাঁচামাল হিসেবে বিবেচিত হয়।

 

বিজ্ঞানীরা বলছেন, এসব খনিজের সম্মিলিত উপস্থিতি কক্সবাজার উপকূলকে একটি সম্ভাবনাময় কৌশলগত খনিজ অঞ্চলে পরিণত করেছে। তবে এখনো এসব সম্পদের পূর্ণাঙ্গ বাণিজ্যিক ব্যবহার শুরু হয়নি। তাদের মতে, আন্তর্জাতিক মানের অনুসন্ধান, পরিবেশগত সুরক্ষা এবং আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা গেলে কক্সবাজারের এই সম্পদ দেশের শিল্পায়ন, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা এবং অর্থনীতির জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করতে পারে।

 

# কক্সবাজারসহ দেশের ১৭ স্থানে জিরকনসহ মূল্যবানখনিজসম্পদের সন্ধান

 

কক্সবাজার সৈকত খনিজ বালি আহরণ কেন্দ্রের (বিএসএমইসি) গবেষকদের তথ্য অনুযায়ী, দেশের সমুদ্রসৈকত ও উপকূলীয় অঞ্চলে কয়েক দশক ধরে পরিচালিত অনুসন্ধানে মোট ১৭টি স্থানে বিরল ভারী খনিজের ভান্ডারের অস্তিত্ব শনাক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৫টি কক্সবাজার জেলায় এবং বাকি দুটি নিঝুম দ্বীপ ও কুয়াকাটা এলাকায় অবস্থিত।

 

তথ্য অনুযায়ী, কক্সবাজার থেকে টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপ পর্যন্ত প্রায় ১০০ কিলোমিটার দীর্ঘ উপকূলজুড়ে ছয়টি পৃথক খনিজ ভান্ডার চিহ্নিত করা হয়েছে। এ ছাড়া মহেশখালীতে সাতটি, মাতারবাড়ীতে একটি এবং কুতুবদিয়ায় একটি খনিজ ভান্ডারের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। তবে এসব ভান্ডারের কোনোটিরই এখনো সুনির্দিষ্ট সীমানা নির্ধারণ বা সুরক্ষিতভাবে চিহ্নিতকরণ করা হয়নি।

 

বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন (বিএইসি) ও সংশ্লিষ্ট গবেষণা এবং জরিপ তথ্য অনুযায়ী, এসব এলাকায় প্রায় ২ কোটি ৫ লাখ টন বালুর মধ্যে আনুমানিক ৪৪ লাখ টন ভারী খনিজের উপস্থিতি রয়েছে। এর মধ্যে অর্থনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ও বাণিজ্যিকভাবে সম্ভাবনাময় খনিজের পরিমাণ প্রায় ১৭ লাখ ৬১ হাজার টন।

 

উল্লেখযোগ্য ভারী খনিজগুলোর মধ্যে রয়েছে জিরকন, ইলমেনাইট, রুটাইল, গারনেট, ম্যাগনেটাইট, কায়ানাইট ও মোনাজাইট। বিভিন্ন জরিপ অনুযায়ী, মোট ভারী খনিজের মধ্যে জিরকনের মজুদ প্রায় ১ লাখ ৫৮ হাজার টন। এ ছাড়া ইলমেনাইটের মজুদ প্রায় ১০ লাখ ৮ হাজার টন, রুটাইল ১ লাখ ৯১ হাজার টন, গারনেট ৩ লাখ ৫১ হাজার টন, ম্যাগনেটাইট ২ লাখ ৬৭ হাজার টন এবং মোনাজাইট প্রায় ১৭ হাজার টন।

 

 

#বাংলাদেশের জিরকনের বিশুদ্ধতা প্রায় ৯৬ শতাংশ

 

কক্সবাজার উপকূলের বালুতে পাওয়া জিরকন আন্তর্জাতিক মানের শিল্প খনিজ হিসেবে ব্যবহারের যথেষ্ট সম্ভাবনা বহন করে বলে গবেষণায় উঠে এসেছে। অস্ট্রেলিয়ার অস্ট্রালেশিয়ান ইনস্টিটিউট অব মাইনিং অ্যান্ড মেটালার্জি (AusIMM)-এর MINPREX 2000 সম্মেলনে উপস্থাপিত ‘Physical, Chemical and Mineralogical Investigations on Bangladesh Zircon’ শীর্ষক গবেষণায় এ তথ্য উল্লেখ করা হয়।

বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের (বিএইসি) কক্সবাজার পাইলট প্ল্যান্ট থেকে সংগৃহীত নমুনায় রাসায়নিক বিশ্লেষণ, এক্স-রে ডিফ্র্যাকশন (XRD) ও মাইক্রোস্কোপিক পরীক্ষায় গবেষক এস. নাহার ও অধ্যাপক এ. এস. এম. এ. হাসিব দেখেছেন, বাংলাদেশের জিরকনের বিশুদ্ধতা প্রায় ৯৫ দশমিক ৮৮ শতাংশ।

 

গবেষকদের মতে, এতে প্রধান অমিশ্রণ টাইটানিয়াম অক্সাইড (প্রায় ৩.১ শতাংশ), পাশাপাশি সামান্য আয়রন অক্সাইড ও অন্যান্য উপাদান রয়েছে। মাইক্রোস্কোপিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, নমুনার প্রায় ৯৪ শতাংশ জিরকন এবং বাকি অংশে রুটাইল, ইলমেনাইট ও মোনাজাইটের উপস্থিতি রয়েছে।

 

গবেষণায় আরও বলা হয়, এসব অমিশ্রণ পৃথক খনিজ আকারে থাকায় আধুনিক প্রযুক্তিতে সহজেই আলাদা করা সম্ভব। গবেষকদের মতে, কক্সবাজারের জিরকন উচ্চমানের স্ফটিক কাঠামো (good crystallinity) ধারণ করে এবং আন্তর্জাতিক শিল্পমানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি শুধু একটি খনিজ নয়; বরং বাংলাদেশের জন্য একটি কৌশলগত সম্পদ, যা ভবিষ্যতে উচ্চমূল্যের শিল্প, প্রযুক্তি ও পারমাণবিক খাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

 

মুখ্য ভূতত্ত্ববিদ ড. মোহাম্মদ রাজীব যুগান্তরকে বলেন, কক্সবাজার উপকূলের বালুতে ১৯৬০-এর দশক জিরকনের উপস্থিতি সনাক্ত হয়। পরবর্তীতে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন (বিএইসি) বিভিন্ন এলাকায় অনুসন্ধান চালিয়ে কক্সবাজার–চট্টগ্রাম উপকূল এবং কুয়াকাটা এলাকায় মোট ১৭টি ভারী খনিজসমৃদ্ধ অঞ্চল চিহ্নিত করে। সে অনুযায়ী জিরকনের অর্থনৈতিকভাবে ব্যবহারযোগ্য মজুদের পরিমাণ ছিল প্রায় ১ লাখ ৫৮ হাজার টন।

 

তিনি বলেন, কয়েক বছর আগে একটি দেশীয় বেসরকারি কোম্পানি নিজস্ব জরিপে জিরকনসহ অন্যান্য ভারী খনিজের মজুদের পরিমাণ সরকারি হিসাবের তুলনায় বহুগুণ বেশি হওয়ার ইঙ্গিত পাওয়ার দাবি করেছিল। কোম্পানিটি এ খাতে বিনিয়োগে আগ্রহ প্রকাশ করেছিল, তবে সরকারি পর্যায়ে সে উদ্যোগে তখন কোনো অগ্রগতি হয়নি বলে জানা যায়।

 

গবেষণা কার্যক্রম বন্ধ থাকার বিষয়ে তিনি বলেন, পরিবেশ অধিদপ্তর থেকে সৈকত এলাকা থেকে বালু উত্তোলনের অনুমতির ক্ষেত্রে যেসব শর্ত দেওয়া হয়েছে, সেগুলো একটি সরকারি প্রতিষ্ঠানের পক্ষে বাস্তবায়ন করা প্রায় অসম্ভব। এ কারণে বালু উত্তোলন সম্ভব না

 

#কয়েক বিলিয়ন ডলার আয়ের সম্ভাবনা

 

কক্সবাজার খনিজ বালি আহরণ কেন্দ্রের সাবেক পরিচালক এবং ইনস্টিটিউট অব নিউক্লিয়ার জিওলজিক্যাল সায়েন্সেসের পরিচালক ও প্রধান ভূতত্ত্ববিদ ড. মো. গোলাম রসুল যুগান্তরকে বলেন, জিরকনের প্রায় ১ লাখ ৫৮ হাজার টন মজুদের যে হিসাব প্রচলিত রয়েছে, তা পুরোনো তথ্যের ভিত্তিতে নির্ধারিত। ১৯৮৬ সালের পর এ বিষয়ে আর কোনো পূর্ণাঙ্গ ডিপোজিটভিত্তিক পুনর্মূল্যায়ন করা হয়নি। ফলে বর্তমানে জিরকনের প্রকৃত মজুদ সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট তথ্য নেই। তবে তার মতে, কক্সবাজার উপকূলে কয়েক বিলিয়ন ডলার মূল্যের জিরকনসহ গুরুত্বপূর্ণ খনিজসম্পদের সম্ভাবনা রয়েছে।

 

তিনি বলেন, পরমাণুবিজ্ঞানী ড. এম. এ. ওয়াজেদ মিয়ার উদ্যোগে ১৯৯৫ সালে পাইলট প্রকল্প হিসেবে কক্সবাজারে খনিজ বালি পৃথকীকরণ কার্যক্রম শুরু হয়। এরপর পাঁচ বছর ধরে এ খনিজসম্পদ নিয়ে গবেষণা পরিচালিত হয়। কিন্তু পরবর্তীতে সরকার পাইলট প্রকল্পটি বাতিল করে। সে সময় থেকেই খনিজসম্পদের বাণিজ্যিক আহরণ নিয়ে সরকারের কাছে বিভিন্ন প্রস্তাব ও সুপারিশ তুলে ধরা হলেও এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো বাণিজ্যিক প্রকল্প গ্রহণ করা হয়নি।

 

ড. গোলাম রসুল বলেন, “আমার দীর্ঘদিনের ইচ্ছা, একটি সফল প্রকল্পের মাধ্যমে জিরকনসহ এসব খনিজসম্পদ উত্তোলন করে দেশের অর্থনীতি ও শিল্প খাতে অবদান রাখতে পারি।

 

তৎকালীন বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের (বিএইসি) চেয়ারম্যান ড. আনোয়ার হোসেন ২০০৯ সালে জিরকনের মূল্যায়ন প্রসঙ্গে বলেছিলেন, কক্সবাজার উপকূলের বালুতে কয়েক বিলিয়ন ডলার মূল্যের খনিজসম্পদ থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। সে সময়ের প্রাথমিক জরিপ অনুযায়ী, এসব খনিজের সম্ভাব্য মূল্য ১৬ হাজার কোটি টাকারও বেশি হতে পারে। তবে আন্তর্জাতিক বাজারে কৌশলগত খনিজের মূল্য বৃদ্ধির কারণে বর্তমানে এর অর্থনৈতিক সম্ভাবনা আরও বেড়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

 

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা জানান, ইতিমধ্য অস্ট্রেলিয়া সহ কয়েকটি দেশ এবং কয়েকটি বেসরকারি কোম্পানি বিনিয়োগের আগ্রহ দেখালেও কোন সরকারই এতে সাড়া দেননি।

 

বিশেষজ্ঞদের মতে, জিরকনসহ এসব খনিজের সম্ভাব্য বাজারমূল্য বর্তমানে কয়েক বিলিয়ন মার্কিন ডলারের সমপরিমাণ। সঠিকভাবে আহরণ ও প্রক্রিয়াজাত করা গেলে দেশের জন্য বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে। তবে এ মূল্যায়নের বেশিরভাগ তথ্যই কয়েক দশক আগের বিএইসি এবং বিভিন্ন জরিপ ও গবেষণার ওপর ভিত্তি করে তৈরি। তাদের মতে, আধুনিক প্রযুক্তি ও উন্নত ভূ-ভৌত জরিপ পদ্ধতি ব্যবহার করে নতুন করে অনুসন্ধান চালানো হলে এসব খনিজসম্পদের প্রকৃত মজুদ আরও বেশি হতে পারে এবং এর অর্থনৈতিক সম্ভাবনার বিষয়ে আরও নির্ভরযোগ্য চিত্র পাওয়া সম্ভব।

 

 

#বেহাল দশা কক্সবাজার সৈকত খনিজ বালি আহরণ কেন্দ্রের

 

কক্সবাজার সৈকত খনিজ বালি আহরণ কেন্দ্রের (বিএসএমইসি) কার্যক্রম দীর্ঘদিন ধরে স্থবির হয়ে রয়েছে। মাঠপর্যায়ে দেখা গেছে, কেন্দ্রটির বিভিন্ন গবেষণাগার ও যন্ত্রপাতির অনেকগুলোই প্রায় অচল হয়ে পড়েছে। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় জনবল সংকটও প্রকট আকার ধারণ করেছে।

 

কেন্দ্রটির পরিচালক শেখ জাফরুল হাসান অনেকটা বিরক্তির সুরে প্রতিবেদককে বলেন, আমি মহাকাশ গবেষণার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একজন মানুষ। আমাকে এখানে পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ২০০৫ সালের পর থেকে এখানে উল্লেখযোগ্য কোনো কার্যক্রম নেই। এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে চাইলে ঢাকায় যারা দায়িত্বে আছেন, তাদের সঙ্গে কথা বলুন।

 

সরেজমিনে দেখা যায়, কেন্দ্রটির অধিকাংশ গবেষণাগার ও ল্যাব সরঞ্জাম দীর্ঘদিনের অযত্নে প্রায় নষ্ট হয়ে গেছে।৮০ জনবলকাঠামোর এই কেন্দ্রেটিতে বর্তমানে পরিচালক ছাড়াও মাত্র একজন প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও টেকনিশিয়ান এবং একজন দারোয়ান কর্মরত রয়েছেন। জনবল ও কার্যক্রমের অভাবে একসময় দেশের মূল্যবান খনিজসম্পদ নিয়ে গবেষণার জন্য প্রতিষ্ঠিত এ কেন্দ্রটি এখন অনেকটাই নিষ্ক্রিয় অবস্থায় রয়েছে।

 

সূত্রমতে, ১৯৬০-এর দশকে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান আমলে কক্সবাজার উপকূলে প্রথম ভারী খনিজের উপস্থিতি শনাক্ত করা হয়। পরবর্তীতে স্বাধীনতার পর বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন (বিএইসি) কক্সবাজার–চট্টগ্রাম ও কুয়াকাটা উপকূলে নিয়মিত জরিপ ও গবেষণা পরিচালনা করে।

 

কক্সবাজারের কলাতলীতে সৈকত বালি আহরণ কেন্দ্র (বিএসএমইসি) ১১ দশমিক ২ একর জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রধান ভবনটি নির্মিত হয় ১৯৭৮ সালে। ১৯৮০ সালে প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সরকারের সময় এ কেন্দ্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া হয়।দীর্ঘ ৪৬ বছরেও এ কেন্দ্রের কার্যক্রম কাঙ্ক্ষিত গতিতে এগোয়নি।

#####

মেয়ের ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কায় রুমি, ছেড়েছেন গাজীপুর

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:১৩ পূর্বাহ্ণ
মেয়ের ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কায় রুমি, ছেড়েছেন গাজীপুর
শেয়ার করুন

গাজীপুরের টঙ্গীতে এক মাদ্রাসায় নিজের কন্যাশিশুকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগের পর ‘ভবিষ্যতের চিন্তায়’ এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে রয়েছেন শাহজালাল রুমি। পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন মুঠোফোন নম্বর থেকে হত্যার হুমকি পাওয়ার অভিযোগে তিনি বাসা ছেড়েছেন বলে জানিয়েছেন ভবনটির কেয়ারটেকার। তবে স্ত্রী ও দুই সন্তানসহ তিনি বর্তমানে কোথায় অবস্থান করছেন, তা জানা যায়নি।

ভবনটির কেয়ারটেকার জানান, টঙ্গীর মাদ্রাসায় ওই ঘটনার পর থেকেই রুমি হুমকি পাওয়ার অভিযোগ করছিলেন। একই সঙ্গে গ্রেপ্তার হওয়ার আশঙ্কায়ও ছিলেন তিনি। স্ত্রী, দুই সন্তান এবং শ্বশুর-শাশুড়ির নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে বাসা ছেড়ে অন্যত্র চলে গেছেন রুমি।

রোববার (২৫ অক্টোবর) টঙ্গীতে রুমির বাসায় গিয়ে দরজায় তালা দেখা যায়। কেয়ারটেকার হাবিবুর রহমানের ভাষ্য অনুযায়ী, গত দুই থেকে তিন দিন ধরে ভয়ের কারণে রুমির পরিবারের সদস্যরা বাসায় থাকছেন না।

 

হাবিবুর রহমান আরও জানান, যে মেয়েটির সঙ্গে এসব ঘটেছে, সেও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত। রুমি এখন মেয়ের ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কায় আছেন বলে আমাদের জানিয়ে গেছেন।

রুমি পেশায় একজন ফেব্রিক ব্যবসায়ী। পাশাপাশি বডি বিল্ডিংয়ের সঙ্গেও তার সম্পৃক্ততা রয়েছে। ঢাকায় ব্যবসার সুবাদে তিনি তার বাবার ফ্ল্যাটে স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে বসবাস করতেন। তার এক মেয়ে ও এক ছেলে রয়েছে। মেয়ের বয়স আট বছর এবং ছেলের বয়স চার বছর। রুমির শ্বশুরের নাম হাজি মোহাম্মদ মোকাররম আলী।

 

মাদ্রাসার ঘটনাকে কেন্দ্র করে সংবাদ সম্মেলন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা ছড়িয়ে পড়ার পর থেকে রুমি এবং তার পরিবারের মধ্যে উদ্বেগ বাড়তে থাকে। রুমি ফেসবুক লাইভে একাধিকবার তার ও পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন। বিভিন্ন ব্যক্তি তাকে হুমকি দিয়েছেন বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি।

 

পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের পাশাপাশি দুই শিশুর ভবিষ্যৎ নিয়েও শঙ্কা তৈরি হয়েছে। সন্তানদের ভালোভাবে পড়াশোনা করিয়ে মানুষ করার স্বপ্ন নিয়ে মেয়েকে মাদ্রাসায় ভর্তি করিয়েছিলেন বলে জানিয়েছেন রুমি। কিন্তু সেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে ঘিরে এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে, তা কখনো কল্পনাও করেননি বলে তার বক্তব্যে উঠে এসেছে।

 

ঘটনাটি সামনে আসার পর থেকে রুমি ও তার পরিবারের সদস্যদের নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা আলোচনা চলছে। একই সঙ্গে অভিযোগের পক্ষে-বিপক্ষে বিভিন্ন বক্তব্য ছড়িয়ে পড়ছে। এর মধ্যে হুমকি ও নিরাপত্তাহীনতার অভিযোগ পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলেছে।

 

পাল্টাপাল্টি মামলা, তদন্তে পুলিশ

 

মাদ্রাসার ঘটনাকে কেন্দ্র করে বর্তমানে দুটি পৃথক মামলা হয়েছে। একটি মামলা করেছে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ এবং অন্যটি করেছেন শিশুটির বাবা রুমি। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ ও বক্তব্য সামনে এসেছে। মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের মামলায় অর্থ আত্মসাৎ, ভাঙচুরসহ বিভিন্ন অভিযোগের বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। অন্যদিকে, রুমি তার মেয়ের সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনার বিচার চেয়ে আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন।

 

টঙ্গী পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফ হোসেন বলেন, ‘দুটি মামলাই আমরা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ ও তদন্ত করছি। তদন্ত সাপেক্ষে পুরো বিষয়টি আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।’

 

তদন্তের স্বার্থে মামলার বিস্তারিত বিষয়ে আপাতত কিছু জানাতে চাননি সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তা।

 

মাদ্রাসা ও রুমির বাসায় গণমাধ্যমকর্মীদের ভিড়

 

ঘটনাটি দেশজুড়ে আলোচনায় আসার পর থেকে সংশ্লিষ্ট মাদ্রাসা এবং রুমির বাসায় গণমাধ্যমকর্মীদের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। ঘটনার প্রকৃত তথ্য, দুই পক্ষের বক্তব্য এবং তদন্তের অগ্রগতি জানতে সাংবাদিকেরা সেখানে যাচ্ছেন।

প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ জানালেন মুনজারিন টাইলসের স্বত্বাধিকারী শহিদুল মোস্তফা

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:১৭ অপরাহ্ণ
প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ জানালেন মুনজারিন টাইলসের স্বত্বাধিকারী শহিদুল মোস্তফা
শেয়ার করুন

অনলাইন সংবাদমাধ্যম টেলিগ্রাম নিউজে টার্মিনালকেন্দ্রিক ইয়াবা সিন্ডিকেট নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনের একাংশের প্রতিবাদ জানিয়েছেন মুনজারিন টাইলসের স্বত্বাধিকারী শহিদুল মোস্তফা।

 

এক প্রতিবাদলিপিতে শহিদুল মোস্তফা বলেন, প্রকাশিত প্রতিবেদনে তাঁর ছবি ব্যবহার করে ইয়াবা সিন্ডিকেটের সঙ্গে তাঁকে সম্পৃক্ত হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। বিষয়টি তাঁর নজরে আসার পর তিনি বিস্ময় ও উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তাঁর দাবি, প্রতিবেদনে উত্থাপিত অভিযোগের সঙ্গে তাঁর কোনো সম্পৃক্ততা নেই।

 

শহিদুল মোস্তফা জানান, তিনি মুনজারিন টাইলসের স্বত্বাধিকারী। পাশাপাশি তিনি পশ্চিম লারপাড়া সমাজ পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক, মসজিদ পরিচালনা কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, জেলা কমিউনিটি পুলিশের সদস্য এবং লারপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সাবেক সভাপতি হিসেবে বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত রয়েছেন।

 

প্রতিবাদলিপিতে তিনি বলেন, এ ধরনের গুরুতর অভিযোগের ক্ষেত্রে কারও নাম বা ছবি ব্যবহারের আগে তথ্য ও পরিচয় যথাযথভাবে যাচাই করা প্রয়োজন। অন্যথায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সামাজিক মর্যাদা, ব্যক্তিগত সুনাম ও পেশাগত অবস্থান ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

 

শহিদুল মোস্তফা টেলিগ্রাম নিউজ কর্তৃপক্ষকে প্রকাশিত প্রতিবেদনের তথ্য ও ছবি পুনরায় যাচাই করার অনুরোধ জানিয়েছেন। একই সঙ্গে প্রকৃত ঘটনা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের কাছ থেকে তথ্য যাচাইয়ের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

 

প্রতিবাদকারী:

শহিদুল মোস্তফা

স্বত্বাধিকারী, মুনজারিন টাইলস।

রাষ্ট্রীয় সফরে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জাপান যাচ্ছেন আমজনতার তারেক

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:৪৪ অপরাহ্ণ
রাষ্ট্রীয় সফরে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জাপান যাচ্ছেন আমজনতার তারেক
শেয়ার করুন

চারদিনের রাষ্ট্রীয় সফরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে জাপান সফর যাচ্ছেন আমজনতা দলের সদস্যসচিব মো. তারেক রহমান। আজ রবিবার (২৫ অক্টোবর) রাতে প্রধানমন্ত্রীর জাপান যাওয়ার কথা রয়েছে।

 

সন্ধ্যায় ফেসবুকের এক পোস্টে তারেক রহমান লেখেন, ‘আজ জাপান যাচ্ছি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সাথে। ভালোবাসা সবাইকে।’ ওই পোস্টে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে করমর্দনরত অবস্থার হাস্যোজ্জ্বল একটি ছবি জুড়ে দিয়েছেন তারেক রহমান।

 

প্রধানমন্ত্রী ২৬ অক্টোবর থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত জাপানে অবস্থান করবেন। সফরকালে দুদেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার, মেট্রোরেলসহ চলমান অবকাঠামো প্রকল্পের ব্যয় ও ঋণের সুদের হার কমানোর বিষয়ে আলোচনা, জাপানি বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণে গুরুত্ব দেওয়া হবে।

 

সফরসূচি অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ফ্লাইটটি আগামীকাল সোমবার (২৬ অক্টোবর) স্থানীয় সময় সকাল ৯টা ২৫ মিনিটে টোকিওর নারিতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।জাপানের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নাকাসোনে ইয়াসুতাকা বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানাবেন। প্রধানমন্ত্রী টোকিওর ইম্পেরিয়াল হোটেলে অবস্থান করবেন।