খুঁজুন
, ,

অনুমোদন পেলো আনোয়ারা-চকরিয়া মহাসড়ক, অগ্রগতি নেই চট্টগ্রাম-কক্সবাজারের

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১১ জুন, ২০২৬, ১০:১৭ পূর্বাহ্ণ
অনুমোদন পেলো আনোয়ারা-চকরিয়া মহাসড়ক, অগ্রগতি নেই চট্টগ্রাম-কক্সবাজারের
শেয়ার করুন

দক্ষিণ চট্টগ্রামের যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে ‘আনোয়ারা-বাঁশখালী-টইটং-পেকুয়া-বদরখালী-চকরিয়া আঞ্চলিক মহাসড়ক যথাযথ মান ও প্রশস্ততায় উন্নীতকরণ প্রকল্প’ অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)।

অন্যদিকে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন ও অর্থনৈতিক করিডোর চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ককে চার বা ছয় লেনে উন্নীত করার দাবি এখনও পরিকল্পনার পর্যায়ে পৌঁছাতে পারেনি। একনেকে আনোয়ারা-চকরিয়া আঞ্চলিক সড়ক উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন পেলেও চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক সম্প্রসারণে দৃশ্যমান অগ্রগতি না থাকায় এ সড়কে চলাচলকারী যাত্রীদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা দেখা দিয়েছে।

মঙ্গলবার (৯ জুন) প্রধানমন্ত্রী ও একনেক সভাপতি তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় প্রকল্পটির অনুমোদন দেওয়া হয়।

পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, সভায় মোট ১০টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যয় ধরা হয়েছে তিন হাজার আটশ ৯০ কোটি ৯৭ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন তিন হাজার আটশ ১০ কোটি ৬২ লাখ টাকা এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন ৮০ কোটি ৩৫ লাখ টাকা। অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর অন্যতম হলো আনোয়ারা-চকরিয়া সড়ক উন্নয়ন প্রকল্প।

প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, কালাবিবির দিঘি থেকে শুরু হয়ে চকরিয়ার ঈদমনি পর্যন্ত বিদ্যমান ৫৮ দশমিক ২০ কিলোমিটার সড়ক উন্নয়ন ও প্রশস্তকরণের মাধ্যমে ১০ দশমিক ৩০ মিটার প্রস্থে উন্নীত করা হবে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, সড়কটি দক্ষিণ চট্টগ্রামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যস্ততম আঞ্চলিক সড়ক। এ পথে বাঁশখালী ইকোপার্ক, বাঁশখালী সমুদ্রসৈকত, বৈলগাঁও চা-বাগান, নৌবাহিনীর সাবমেরিন ঘাঁটি, মাতারবাড়ী কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, গন্ডামারা বিদ্যুৎকেন্দ্র, কর্ণফুলী টানেল, কেইপিজেড, পেকুয়া, চকরিয়া ও কক্সবাজারসহ বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে যাতায়াত করা হয়। সড়কটি যানবাহনের চাপের তুলনায় সরু হওয়ায় প্রায়ই যানজট ও দুর্ঘটনা ঘটে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে নিরাপদ ও উন্নত সড়ক যোগাযোগ নিশ্চিত হবে এবং দুর্ঘটনা হ্রাস পাবে। পাশাপাশি প্রায় ৫৮ কিলোমিটার দীর্ঘ এ সড়ক কর্ণফুলী টানেলের মাধ্যমে সরাসরি চকরিয়া-বদরখালী আঞ্চলিক মহাসড়কের সঙ্গে সংযুক্ত হবে। ফলে এলাকার আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার পাশাপাশি প্রায় দুই হাজার মানুষের অস্থায়ী কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।

পরিকল্পনাবিদদের মতে, বর্তমানে ঢাকা থেকে মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দরগামী যানবাহনকে কর্ণফুলী টানেল হয়ে আনোয়ারা-শিকলবাহা ওয়াই জংশন-পটিয়া বাইপাস-গাছবাড়িয়া-চকরিয়া-বদরখালী-মাতারবাড়ী রুটে প্রায় একশ ৩১ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করতে হয়। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে কর্ণফুলী টানেল থেকে কালাবিবির দিঘি-বাঁশখালী-টইটং-পেকুয়া-চকরিয়া-বদরখালী-মাতারবাড়ী রুটে দূরত্ব কমে ৯১ কিলোমিটারে নেমে আসবে। এতে প্রায় ৪০ কিলোমিটার পথ এবং প্রায় এক ঘণ্টা যাত্রাসময় সাশ্রয় হবে। নগরায়নের সঙ্গে তাল মিলিয়ে যোগাযোগ অবকাঠামোর উন্নয়নের বিকল্প নেই। বিশেষ করে কর্ণফুলী টানেলের কার্যকারিতা বাড়াতে সংযোগ সড়কগুলোকে প্রশস্ত ও উন্নত করতে হবে। এতে মাতারবাড়ী, চট্টগ্রাম বন্দর এবং টানেল ব্যবহারের সুবিধা বাড়বে, দুর্ঘটনা কমবে এবং অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

অন্যদিকে, কক্সবাজারগামী যানবাহন কর্ণফুলী টানেল হয়ে কালাবিবির দিঘি-বাঁশখালী-টইটং-পেকুয়া-একতাবাজার অথবা ঈদমনি-চকরিয়া রুট ব্যবহার করলে প্রায় ২৮ কিলোমিটার দূরত্ব এবং ৪৫ মিনিট সময় সাশ্রয় হবে।

সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, প্রকল্পের আওতায় ৩০ দশমিক ৮৬ হেক্টর ভূমি অধিগ্রহণ, ১৪ লাখ ১০ হাজার সাতশ ৮৩ ঘনমিটার মাটির কাজ, ৪৪ দশমিক তিনশ ৮৯ কিলোমিটার পেভমেন্ট প্রশস্তকরণ ও মজবুতিকরণ, ৪৮ দশমিক ০৪৮ কিলোমিটার সার্ফেসিং এবং ১০ দশমিক একশ ৫২ কিলোমিটার আরসিসি পেভমেন্ট নির্মাণ করা হবে।

এ ছাড়া, ৩০টি বাস-বে, ৭৮টি নতুন আরসিসি বক্স কালভার্ট, ১৩টি কালভার্ট প্রশস্তকরণ, প্রায় ১০ কিলোমিটার ইউ-ড্রেন, ১৫ কিলোমিটার সসার ড্রেন, ১২ হাজার বর্গমিটার সিসি ব্লক, দুই কিলোমিটার আরসিসি রিটেইনিং ওয়াল, তিন কিলোমিটার এমএস পাইপ প্যালাসাইডিং এবং ৫৮ দশমিক ২০ কিলোমিটার সড়কের নির্মাণকালীন রক্ষণাবেক্ষণের কাজ করা হবে।

অগ্রগতি নেই চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের

এদিকে কক্সবাজারে পর্যটকদের যাতায়াত, দক্ষিণ চট্টগ্রামের লাখো মানুষের দৈনন্দিন চলাচল এবং বাণিজ্যিক পরিবহনের প্রধান ভরসা চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক বর্তমানে তীব্র যানজট ও ঘনঘন দুর্ঘটনার কারণে জনদুর্ভোগের প্রতীকে পরিণত হয়েছে। সরু দুই লেনের এ মহাসড়কে প্রতিনিয়ত প্রাণহানি ও আহতের ঘটনা ঘটায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। ফলে নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন যোগাযোগ নিশ্চিত করতে সড়কটি চার বা ছয় লেনে উন্নীত করার দাবি আরও জোরালো হয়েছে। যদিও মেগা প্রকল্প হিসেবে এখনও অনুমোদন না পেলেও দুর্ঘটনা এড়াতে সওজ জরুরি কিছু স্থানে সড়ক প্রশস্তকরণের কাজ শুরু করেছে।

দেখা গেছে, দুর্ঘটনাপ্রবণ হটস্পট হিসেবে পরিচিত লোহাগাড়ার জাঙ্গালিয়া এলাকায় নয়শ মিটার সড়ক চার লেনে উন্নীতকরণের কাজ চলছে। গত ১১ মে চুনতি জাঙ্গালিয়া এলাকায় দোহাজারী হাইওয়ে সড়ক বিভাগের আওতায় এ কাজ শুরু হয়।

সওজ সূত্র জানায়, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের লোহাগাড়া ও সাতকানিয়া অংশে সড়ক প্রশস্তকরণের কাজ তিনটি প্যাকেজে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এর মধ্যে সাতকানিয়া রাস্তার মাথা থেকে লোহাগাড়ার রাজঘাটা ব্রিজ পর্যন্ত আট দশমিক চার কিলোমিটার সড়ক প্রশস্তকরণের কাজ করছে এমএএইচ কনস্ট্রাকশন। এ প্যাকেজের ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৫ কোটি টাকা।

লোহাগাড়ার রাজঘাটা থেকে চুনতির মিঠার দোকান এলাকা পর্যন্ত সাত কিলোমিটার সড়ক প্রশস্তকরণের কাজ করছে এমএ কনস্ট্রাকশন, যার ব্যয় ৩৪ কোটি টাকা। আর চুনতির মিঠার দোকান থেকে জাঙ্গালিয়া পর্যন্ত ছয় কিলোমিটার সড়ক প্রশস্তকরণের কাজ করছে এমএএইচ কনস্ট্রাকশন, যার ব্যয় ৩০ কোটি টাকা।

এ ছাড়া চন্দনাইশ স্টেশন, লোহাগাড়া উপজেলা সদর বটতলী স্টেশন এবং পদুয়া স্টেশন এলাকায় মহাসড়ক প্রশস্তকরণ ও সড়কের দুই পাশে ড্রেন নির্মাণের কাজ করছে মাসুদ হাইটেক নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। এ প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে ১০ কোটি টাকা।

সওজের চট্টগ্রাম দক্ষিণ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী পিন্টু চাকমা বলেন, আনোয়ারা-চকরিয়া সড়ক প্রকল্পের খসড়া প্রণয়ন করে অনুমোদনের জন্য একনেকে পাঠানো হয়েছিল। জনগুরুত্বপূর্ণ বিবেচনায় প্রকল্পটি অনুমোদন পেয়েছে। এখন টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী জানুয়ারি থেকে প্রকল্পের কাজ শুরু করা সম্ভব হবে।

তিনি আরও বলেন, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ককে চার বা ছয় লেনে উন্নীত করার যে পরিকল্পনা রয়েছে, সেটি বাস্তবায়নের পর্যায়ে যেতে আরও চার থেকে পাঁচ বছর সময় লাগতে পারে। এর মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনা রোধে আমরা কিছু গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সড়ক প্রশস্ত করছি, যাতে দুর্ঘটনা কমিয়ে আনা যায়।

জাইমা রহমানের জন্মদিনে ৫ শতাধিক ছাত্রীকে বাইসাইকেল উপহার

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:১৫ অপরাহ্ণ
জাইমা রহমানের জন্মদিনে ৫ শতাধিক ছাত্রীকে বাইসাইকেল উপহার
শেয়ার করুন

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমানের জন্মদিন উপলক্ষে বগুড়ার শিবগঞ্জে ৫৪৮ জন ছাত্রীকে বিনামূল্যে বাইসাইকেল উপহার দেওয়া হয়েছে। রবিবার (২৫ অক্টোবর) বগুড়ার শিবগঞ্জ সরকারি পাইলট উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্রীদের নিয়ে এই আয়োজন করা হয়।

স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের আয়োজনে এসব ছাত্রীদের বাইসাইকেল দেওয়া হয়। এ সময় শিক্ষার্থীরা স্লোগান দেন, ‘শুভ শুভ শুভদিন, জাইমা রহমানের জন্মদিন’ ‘করবো কাজ গড়বো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’।

এ সময় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, সাত শতাধিক মেধাবী শিক্ষার্থীর পরীক্ষা নিয়েছিলাম, যার মধ্যে অংশ নিয়েছিল ৫৪৮ জন ছাত্রী। মোট ১০২টি শিক্ষার্থী প্রতিষ্ঠানের ৫৪৮জনকে ডেকে নিয়ে বাইসাইকেল উপহার দিচ্ছি।

এছাড়া যে প্রতিষ্ঠানে এই বাইসাইকেল প্রদানের আয়োজন করা হয়, তাদেরসহ প্রায় এক হাজার শিক্ষার্থীদের জাইমা রহমানের ছবি সম্বলিত মগ উপহার দেওয়া হয়।

বাইসাইকেল পেয়ে শিক্ষার্থীরা বেশ উচ্ছ্বসিত হন। কেউ কেউ স্কুল মাঠেই সাইকেল চালিয়ে আনন্দ উপভোগ করেন।

ঝোঁপঝাড়ে ফেলে যাওয়া নবজাতককে দত্তক নিতে ১২৩ পরিবারের আবেদন

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১:৩৯ অপরাহ্ণ
ঝোঁপঝাড়ে ফেলে যাওয়া নবজাতককে দত্তক নিতে ১২৩ পরিবারের আবেদন
শেয়ার করুন

চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে ফটিকছড়িতে সড়কের পাশের ঝোপঝাড়ে ফেলে যাওয়া এক নবজাত কন্যাশিশুকে দত্তক নিতে ব্যাপক আগ্রহ দেখা দিয়েছে শিশুটির লালন-পালনের দায়িত্ব নিতে এক দিনেই ১২৩টি আবেদন জমা পড়েছে।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাত পর্যন্ত ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে আবেদনকারীদের সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, আবেদনকারীদের পারিবারিক পরিবেশ, আর্থিক সামর্থ্য, শিশুর পরিচর্যার সক্ষমতা ও অন্যান্য প্রাসঙ্গিক বিষয় বিবেচনায় নিয়ে উপযুক্ত পরিবার নির্বাচনের প্রক্রিয়া চলছে। তবে, আবেদন করলেই শিশুটিকে দত্তক নেওয়ার সুযোগ মিলবে না। এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যাচাই-বাছাই ও প্রযোজ্য আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে।

ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাঈদ মোহাম্মদ ইব্রাহিম গণমাধ্যমকে বলেন, শিশুটিকে দত্তক নিতে বিপুলসংখ্যক আবেদন জমা পড়েছে। উপযুক্ত পরিবার নির্বাচনের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। যাচাই-বাছাই ও আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

এর আগে, গত বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার পাইন্দং ইউনিয়নের উত্তর পাইন্দং এলাকার আমতলীতে সড়কের পাশের ঝোঁপঝাড় থেকে নবজাতকটিকে জীবিত উদ্ধার করা হয়।

স্থানীয় লোকজন শিশুটিকে ঝোঁপের মধ্যে পড়ে থাকতে দেখে পুলিশকে খবর দেন। পরে ফটিকছড়ি থানা-পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশুটিকে উদ্ধার করেন। উদ্ধারের পর তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, শিশুটির শারীরিক অবস্থা ভালো ছিল।তবে কে বা কারা শিশুটিকে সেখানে ফেলে গেছেন, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। শিশুটির নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে উপযুক্ত পরিবার নির্বাচনের পাশাপাশি তাকে পরিত্যক্ত অবস্থায় ফেলে যাওয়ার ঘটনার রহস্য উদঘাটন ও পরিচয় শনাক্তে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় লোকজন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রচেষ্টায় ভোলাখালে অষ্টম সেতু নির্মাণের প্রস্তাব

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১:০০ অপরাহ্ণ
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রচেষ্টায় ভোলাখালে অষ্টম সেতু নির্মাণের প্রস্তাব
শেয়ার করুন

কক্সবাজারের পেকুয়ায় ভোলাখালের ওপর মগনামা বাজারপাড়া থেকে বারবাকিয়া ইউনিয়নের বোধামাঝির ঘোনা পর্যন্ত ১০০ মিটার দীর্ঘ সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রস্তাবিত সেতুটি নির্মিত হলে মগনামা ও বারবাকিয়ার মধ্যে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ স্থাপনের পাশাপাশি পেকুয়া ও কুতুবদিয়ার মানুষের যাতায়াত, পণ্য পরিবহন ও ব্যবসা-বাণিজ্যে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে বলে আশা করছেন স্থানীয়রা।

সম্প্রতি সেতু নির্মাণের উদ্যোগের অংশ হিসেবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও কক্সবাজার-১ আসনের সংসদ সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদের প্রয়োজনীয় সুপারিশ ও প্রস্তাব স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। প্রকল্পটি অনুমোদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও কারিগরি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে সেতু নির্মাণকাজ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

স্থানীয়দের মতে, সেতুটি বাস্তবায়িত হলে মগনামা ও বারবাকিয়ার মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপনের পাশাপাশি পেকুয়া ও কুতুবদিয়ার সঙ্গে মহেশখালী হয়ে চট্টগ্রামের যোগাযোগে একটি বিকল্প ও গুরুত্বপূর্ণ সড়কপথ তৈরি হতে পারে। এতে যাতায়াতের সময় ও পেকুয়া বাজার কেন্দ্রীক যানজট ভোগান্তি কমার পাশাপাশি উপকূলীয় এ অঞ্চলের আর্থসামাজিক কর্মকাণ্ড, কৃষিপণ্য,লবণ, মৎস্য পরিবহন ও ব্যবসা-বাণিজ্যে ইতিবাচক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এদিকে ‎ভোলাখালের বিভিন্ন অংশে ইতোমধ্যে সাতটি সেতু নির্মিত হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে- মগনামা শরৎঘোনা–রাজাখালী নতুনঘোনা সেতু, পেকুয়া পশ্চিম গোঁয়াখালী অংশের রাবারড্যাম সেতু, পেকুয়া বাজার–বারবাকিয়া ফাঁশিয়াখালী সেতু, পেকুয়া মৌলভীপাড়া অংশের আঞ্চলিক মহাসড়ক সেতু, পেকুয়া-বারবাকিয়া বাজার সেতু, পেকুয়া সাবমেরিন নৌঘাঁটি সড়কের সালাহউদ্দিন সেতু এবং বাগুজারা-সাকুরপাড় সেতু।

স্থানীয়দের দাবি, এসব সেতুর ধারাবাহিকতায় মগনামা বাজারপাড়া-বোধামাঝির ঘোনা সেতুটি নির্মিত হলে ভোলাখালের ওপর এটি হবে অষ্টম গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ সেতু। সেতুটি নির্মিত হলে পেকুয়া উপজেলার অভ্যন্তরীণ যোগাযোগব্যবস্থা আরও শক্তিশালী হওয়ার পাশাপাশি কুতুবদিয়ার সঙ্গে সড়ক যোগাযোগেও নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে।

 

‎

 

‎এতে শিক্ষা, চিকিৎসা, লবণ,মৎস্য ও কৃষিপণ্য পরিবহন, ব্যবসা-বাণিজ্য ও সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন চলাচলে দুই উপজেলার মানুষ সুফল পাবেন বলে প্রত্যাশা করছেন স্থানীয়রা। একই সঙ্গে পেকুয়া বাজারকেন্দ্রিক সড়কে যানবাহনের চাপও কিছুটা কমতে পারে বলে মনে করছেন তারা।

 

এলাকাবাসী জানান, দীর্ঘদিন ধরে ভোলাখাল মগনামা ও বারবাকিয়ার মানুষের স্বাভাবিক চলাচলের ক্ষেত্রে একটি বড় প্রতিবন্ধকতা হয়ে আছে। খালের ওপর প্রস্তাবিত সেতুটি নির্মিত হলে দুই এলাকার মধ্যে যোগাযোগ সহজ হওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় অর্থনীতি ও জনজীবনেও ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে।

 

‎দীর্ঘদিনের দাবি ও প্রত্যাশার পর সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়ায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এমপির প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ব্যক্তিগত প্রেস সচিব ছফওয়ানুল করিম বলেন, ‘চকরিয়া-পেকুয়া-মাতামুহুরী অঞ্চলের যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের ধারাবাহিকতায় ভোলাখালের মগনামা বাজারপাড়া অংশে ১০০ মিটার দীর্ঘ সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সুপারিশ ও প্রস্তাব স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। প্রকল্পটি অনুমোদনের পর পরবর্তী প্রশাসনিক ও কারিগরি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে সেতু নির্মাণের কাজ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে।’

 

‎তিনি বলেন, ‘সেতুটি নির্মিত হলে মগনামা, বারবাকিয়া ও আশপাশের এলাকার মানুষের চলাচল সহজ হওয়ার পাশাপাশি পেকুয়া-চকরিয়া অঞ্চলের সড়ক যোগাযোগব্যবস্থায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করছি।’

 

‎

 

‎পেকুয়া উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসাইন বলেন, ‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের প্রচেষ্টায় মগনামা-বোধামাঝির ঘোনা সেতু নির্মাণের উদ্যোগের খবরে বারবাকিয়া ও আশপাশের এলাকার মানুষের মধ্যে উৎসাহ সৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এ অঞ্চলের মানুষ যোগাযোগের ক্ষেত্রে নানা দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। সেতুটি নির্মিত হলে বারবাকিয়াসহ আশপাশের এলাকার সঙ্গে পেকুয়া উপজেলার সরাসরি ও সহজ যোগাযোগব্যবস্থা গড়ে উঠবে। একই সঙ্গে শিক্ষা, চিকিৎসা, কৃষি, ব্যবসা-বাণিজ্য ও সাধারণ মানুষের চলাচলেও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।’

তিনি বলেন, ‘মহেশখালীর মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর, পেকুয়া ও কুতুবদিয়ার মধ্যে যাতায়াত এবং পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রেও এ সেতু গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। জনগণের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণে দ্রুত প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে সেতুটির নির্মাণকাজ শুরুর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।’