খুঁজুন
, ,

আইনের রক্ষকরাই নিরাপত্তাহীন, একের পর এক হামলায় উদ্বেগ

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩১ জুলাই, ২০২৬, ৭:২২ অপরাহ্ণ
আইনের রক্ষকরাই নিরাপত্তাহীন, একের পর এক হামলায় উদ্বেগ
শেয়ার করুন

২২ জুলাই। রাত আনুমানিক ৯টা। রাজধানীর মোহাম্মদপুরের কাদেরাবাদ হাউজিংয়ের সি ব্লকের ৪ নম্বর রোড এলাকায় স্ত্রী ও একমাত্র সন্তানসহ বাসায় ফিরছিলেন উপপরিদর্শক (এসআই) ওসমান গনি। এ সময় পেছন থেকে অজ্ঞাত এক দুর্বৃত্ত তার পিঠে ছুরিকাঘাত করে দ্রুত পালিয়ে যায়।

 

ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত হওয়ার পর প্রথমে স্থানীয় একটি ক্লিনিকে চিকিৎসা নেন এসআই ওসমান। পরে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং রাজারবাগ কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালে তাকে চিকিৎসা দেওয়া হয়। তার পিঠে সেলাই লাগে ৪৫টি।

 

দুর্বৃত্তদের হামলায় আহত পুলিশের ওই কর্মকর্তা হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশনে পুলিশের বিশেষ শাখায় (এসবি) কর্মরত।

 

ভুক্তভোগী ওই পুলিশ কর্মকর্তার ভাষ্য, ২২ জুলাই সকাল ৮টা ৪৫ মিনিটে অজ্ঞাতনামা তিনজন ব্যক্তি তার মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করে পাসপোর্টের বিষয়ে কথা বলেন।

 

হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগে গত রোববার (২৬ জুলাই) চট্টগ্রাম থেকে চারজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

 

এ ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই গত শনিবার (২৫ জুলাই) ঘটে আরেক ঘটনা। সেদিন রাত ৮টায় চট্টগ্রাম নগরের আমবাগান এলাকায় মাদক মামলার এক আসামিকে গ্রেফতার করতে গিয়েছিলেন ডবলমুরিং থানার এসআই মবিনুল ইসলাম। এসময় দুর্বৃত্তরা তার ওপর হামলা চালিয়ে আহত করে। মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন নিয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নেন এসআই মবিনুল।

 

পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য বলছে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত এই ছয় মাসে ৩১৭ জন পুলিশ সদস্যের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। জানুয়ারি মাসে এসব হামলায় আহত হয়েছেন ৪২ জন পুলিশ সদস্য। ফেব্রুয়ারি মাসে ৪২ জন, মার্চ মাসে ৬৩ জন, এপ্রিল মাসে ৬৬ জন, মে মাসে ৫৫ জন এবং জুন মাসে ৪৯ জন পুলিশ সদস্যের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে।

 

 

চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে ৩১৭ জন পুলিশ সদস্যের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে, ছবি: জাগো নিউজ গ্রাফিক্স

 

সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, সবশেষ ২০২৫ সালে ৬০১ জন পুলিশ সদস্যের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। ২০২৪ সালে ৬৪৩ জন, ২০২৩ সালে ৬০৭ জন, ২০২২ সালে ৬০১ জন, ২০২১ সালে ৬০৮ জন, ২০২০ সালে ৪৪৯ জন ও ২০১৯ সালে ৫৫৫ জন পুলিশ সদস্যের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে।

 

অর্থাৎ ২০১৯ সাল থেকে ২০২৬ সালের জুন মাস পর্যন্ত ৪ হাজার ৩৮১ জন পুলিশ সদস্যের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ পুলিশ সদর দপ্তর।

 

গত ১৬ জুন রাজধানীর আদাবরে চাপাতি ঠেকিয়ে ছিনতাইয়ের ঘটনায় অপরাধীদের ধরতে ডেল্টা গার্মেন্টসের পেছনে ছিনতাইকারীদের আস্তানায় অভিযান চালায় পুলিশ। তখন ছিনতাইকারীদের অস্ত্রের আঘাতে জখম হন দুই পুলিশ কর্মকর্তা। আত্মরক্ষার্থে গুলি করলে গুলিবদ্ধ হয় দুই ছিনতাইকারী।

 

এ ঘটনায় জড়িত আসামি গ্রেফতার করে ওইদিন রাতেই সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘কেউ অস্ত্র দিয়ে পুলিশের ওপর আক্রমণ করলে অবশ্যই আত্মরক্ষার্থে বলপ্রয়োগ করতে হবে। আজ যে ঘটনা ঘটেছে, সেখানে চেষ্টা করেছিলাম আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার না করে তাদের গ্রেফতার করতে। কিন্তু যখন তারা অস্ত্র নিয়ে পুলিশের ওপর আক্রমণ করেছে, সে সময় আমাদের আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করা ছাড়া উপায় ছিল না।’

 

 

পুলিশের ওপর একের পর এক হামলা ঘটনা ঘটলেও কতগুলোতে বিচার হয়েছে সেই তথ্য পুলিশের কাছে নেই।

 

মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশনের (এমএসএফ) প্রধান নির্বাহী অ্যাডভোকেট সাইদুর রহমান জাগো নিউকে বলেন, ‘পুলিশের ওপর অনেক হামলা হচ্ছে। যে কোনো কারণে হোক সবাই এক হয়ে পুলিশের ওপর হামলা করে। পুলিশের ওপর হামলার ক্ষেত্রে বিএনপি-জামায়াত-এনসিপি সবারই আগ্রহ। এতে পুলিশের মনোবল ভেঙে গেছে। তাদের মনোভাব এমন হয়েছে যে, যা হচ্ছে হোক।’

 

কোনো অপরাধ সংঘটিত হলে পুলিশ নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করে উল্লেখ করে সাইদুর রহমান বলেন, ‘কারণ তাদের অনীহা। তারা মনে করে আমরা যদি থামাতে যাই তখন সব দল এক হয়ে আমাদের ওপর হামলা করবে এবং তার কোনো বিচারও হবে না। পুলিশ হত্যার বিচার হয়নি। এখনো পুলিশের বিরুদ্ধে কোনো হামলা হলে তার মামলা হয় না। মামলা হলেও তার কোনো খোঁজ থাকে না। গুরুত্ব দেয় না সরকার-স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। পুলিশ কমিশন গঠন হয়েছিল। পুলিশের কিছু দাবি-দাওয়া ছিল। কোনো কিছুই পূরণ হয়নি। যার কারণে মূলত পুলিশের মনোবলও নাই।’

 

পুলিশের ওপর হামলার বিষয়ে জানতে চাইলে পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) খোন্দকার রফিকুল ইসলাম বলেন, আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার প্রবণতা আগের তুলনায় অনেক কমেছে। একসময় পুলিশের প্রতি আস্থাহীনতা ও বাহিনীর দুর্বল অবস্থার কারণে এমন ঘটনা বেশি ঘটলেও বর্তমানে পুলিশ সক্রিয়ভাবে ব্যবস্থা নেওয়ায় পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। তবে বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা ঘটলেও সেগুলোতে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

 

 

খোন্দকার রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘অপরাধীদের সাহস বেড়ে যাওয়ায় পুলিশ সদস্যদের ঝুঁকি এড়িয়ে পর্যাপ্ত প্রস্তুতি ও জনবল নিয়ে অভিযান চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবু বাস্তব পরিস্থিতিতে অভিযানের সময় মাঝেমধ্যে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটলেও পুলিশ ধীরে ধীরে পরিস্থিতির উন্নতি করছে।’

 

এদিকে জনগণের আস্থা অর্জন করে নিরপেক্ষভাবে আইন প্রয়োগ না করলে পুলিশের ওপর হামলার প্রবণতা আরও জটিল হতে পারে বলে মনে করছেন অপরাধ বিশেষজ্ঞরা।

 

এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ড. তৌহিদুল হক জাগো নিউজকে বলেন, মাঠপর্যায়ে আইন প্রয়োগকারীদের ওপর আক্রমণ মানে আইনকেই অমান্য, অবমাননা ও অশ্রদ্ধা প্রদর্শন করা।

 

তিনি বলেন, সাধারণ মানুষের মধ্যে পুলিশের প্রতি আস্থা ও শ্রদ্ধা কমে যাওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করা যাচ্ছে না। বিশেষ করে সাম্প্রতিক আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে পুলিশের বিষয়ে মানুষের মনে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। ফলে এক ধরনের আস্থাহীনতা তৈরি হয়েছে। মানুষ পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। যদিও কিছু ক্ষেত্রে পরিবর্তনের চেষ্টা দেখা যাচ্ছে, তবে তা এখনো ব্যাপক পরিসরে দৃশ্যমান নয়।

 

 

পুলিশ যদি নিরপেক্ষভাবে আইন প্রয়োগ করতে পারে এবং রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত থেকে কাজ করে, তাহলেই কেবল জনগণের আস্থা ফিরে আসবে। অন্যথায়, পুলিশের ওপর হামলার প্রবণতা ও এর ধরন আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে বলেও মন্তব্য করেন এই অপরাধ বিশেষজ্ঞ।

 

পুলিশ সদর দপ্তরের সহকারী মহাপরিদর্শক (মিডিয়া অ্যান্ড পিআর) এ এইচ এম শাহাদাত হোসাইন জাগো নিউজকে বলেন, পুলিশের হামলার শিকারের একটা বড় কারণ হচ্ছে আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী যতটুকু বলপ্রয়োগ করা দরকার, ওই স্ট্যান্ডার্ডটা ফলো করছেন পুলিশ সদস্যরা। জনসাধারণকে আইন মানার প্রবণতা বাড়াতে হবে। বা আইন মানাটা যে নিজের জন্যই জরুরি, কারণ কেউ যদি আইন ভঙ্গ করে পুলিশের ওপর আঘাত করে, দিনশেষে তিনি নিজেই নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন।

 

শাহাদাত হোসাইন বলেন, পুলিশের ওপর হামলার প্রতিটা ক্ষেত্রেই মামলা হয়েছে। এর আগে পুলিশের ওপর যারা হামলা করেছে, তাদের অনেকেই গ্রেফতার হয়েছে। বাকিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত আছে।

 

পুলিশের মনোবলের বিষয়ে জানতে চাইলে এআইজি শাহাদাত হোসাইন বলেন, পুলিশের মনোবল চাঙা করার বিষয়টা দুই বছর ধরে বলা হচ্ছে। এখন পরিস্থিতি অনেক ভালোর দিকে। এই মুহূর্তে পুলিশ বেশ চাঙা। তবে মানুষ আইন মানার প্রবণতা বাড়ালে পুলিশের মনোবল আরেকটু চাঙা হবে।

 

 

জাইমা রহমানের জন্মদিনে ৫ শতাধিক ছাত্রীকে বাইসাইকেল উপহার

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:১৫ অপরাহ্ণ
জাইমা রহমানের জন্মদিনে ৫ শতাধিক ছাত্রীকে বাইসাইকেল উপহার
শেয়ার করুন

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমানের জন্মদিন উপলক্ষে বগুড়ার শিবগঞ্জে ৫৪৮ জন ছাত্রীকে বিনামূল্যে বাইসাইকেল উপহার দেওয়া হয়েছে। রবিবার (২৫ অক্টোবর) বগুড়ার শিবগঞ্জ সরকারি পাইলট উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্রীদের নিয়ে এই আয়োজন করা হয়।

স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের আয়োজনে এসব ছাত্রীদের বাইসাইকেল দেওয়া হয়। এ সময় শিক্ষার্থীরা স্লোগান দেন, ‘শুভ শুভ শুভদিন, জাইমা রহমানের জন্মদিন’ ‘করবো কাজ গড়বো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’।

এ সময় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, সাত শতাধিক মেধাবী শিক্ষার্থীর পরীক্ষা নিয়েছিলাম, যার মধ্যে অংশ নিয়েছিল ৫৪৮ জন ছাত্রী। মোট ১০২টি শিক্ষার্থী প্রতিষ্ঠানের ৫৪৮জনকে ডেকে নিয়ে বাইসাইকেল উপহার দিচ্ছি।

এছাড়া যে প্রতিষ্ঠানে এই বাইসাইকেল প্রদানের আয়োজন করা হয়, তাদেরসহ প্রায় এক হাজার শিক্ষার্থীদের জাইমা রহমানের ছবি সম্বলিত মগ উপহার দেওয়া হয়।

বাইসাইকেল পেয়ে শিক্ষার্থীরা বেশ উচ্ছ্বসিত হন। কেউ কেউ স্কুল মাঠেই সাইকেল চালিয়ে আনন্দ উপভোগ করেন।

ঝোঁপঝাড়ে ফেলে যাওয়া নবজাতককে দত্তক নিতে ১২৩ পরিবারের আবেদন

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১:৩৯ অপরাহ্ণ
ঝোঁপঝাড়ে ফেলে যাওয়া নবজাতককে দত্তক নিতে ১২৩ পরিবারের আবেদন
শেয়ার করুন

চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে ফটিকছড়িতে সড়কের পাশের ঝোপঝাড়ে ফেলে যাওয়া এক নবজাত কন্যাশিশুকে দত্তক নিতে ব্যাপক আগ্রহ দেখা দিয়েছে শিশুটির লালন-পালনের দায়িত্ব নিতে এক দিনেই ১২৩টি আবেদন জমা পড়েছে।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাত পর্যন্ত ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে আবেদনকারীদের সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, আবেদনকারীদের পারিবারিক পরিবেশ, আর্থিক সামর্থ্য, শিশুর পরিচর্যার সক্ষমতা ও অন্যান্য প্রাসঙ্গিক বিষয় বিবেচনায় নিয়ে উপযুক্ত পরিবার নির্বাচনের প্রক্রিয়া চলছে। তবে, আবেদন করলেই শিশুটিকে দত্তক নেওয়ার সুযোগ মিলবে না। এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যাচাই-বাছাই ও প্রযোজ্য আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে।

ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাঈদ মোহাম্মদ ইব্রাহিম গণমাধ্যমকে বলেন, শিশুটিকে দত্তক নিতে বিপুলসংখ্যক আবেদন জমা পড়েছে। উপযুক্ত পরিবার নির্বাচনের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। যাচাই-বাছাই ও আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

এর আগে, গত বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার পাইন্দং ইউনিয়নের উত্তর পাইন্দং এলাকার আমতলীতে সড়কের পাশের ঝোঁপঝাড় থেকে নবজাতকটিকে জীবিত উদ্ধার করা হয়।

স্থানীয় লোকজন শিশুটিকে ঝোঁপের মধ্যে পড়ে থাকতে দেখে পুলিশকে খবর দেন। পরে ফটিকছড়ি থানা-পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশুটিকে উদ্ধার করেন। উদ্ধারের পর তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, শিশুটির শারীরিক অবস্থা ভালো ছিল।তবে কে বা কারা শিশুটিকে সেখানে ফেলে গেছেন, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। শিশুটির নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে উপযুক্ত পরিবার নির্বাচনের পাশাপাশি তাকে পরিত্যক্ত অবস্থায় ফেলে যাওয়ার ঘটনার রহস্য উদঘাটন ও পরিচয় শনাক্তে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় লোকজন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রচেষ্টায় ভোলাখালে অষ্টম সেতু নির্মাণের প্রস্তাব

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১:০০ অপরাহ্ণ
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রচেষ্টায় ভোলাখালে অষ্টম সেতু নির্মাণের প্রস্তাব
শেয়ার করুন

কক্সবাজারের পেকুয়ায় ভোলাখালের ওপর মগনামা বাজারপাড়া থেকে বারবাকিয়া ইউনিয়নের বোধামাঝির ঘোনা পর্যন্ত ১০০ মিটার দীর্ঘ সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রস্তাবিত সেতুটি নির্মিত হলে মগনামা ও বারবাকিয়ার মধ্যে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ স্থাপনের পাশাপাশি পেকুয়া ও কুতুবদিয়ার মানুষের যাতায়াত, পণ্য পরিবহন ও ব্যবসা-বাণিজ্যে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে বলে আশা করছেন স্থানীয়রা।

সম্প্রতি সেতু নির্মাণের উদ্যোগের অংশ হিসেবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও কক্সবাজার-১ আসনের সংসদ সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদের প্রয়োজনীয় সুপারিশ ও প্রস্তাব স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। প্রকল্পটি অনুমোদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও কারিগরি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে সেতু নির্মাণকাজ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

স্থানীয়দের মতে, সেতুটি বাস্তবায়িত হলে মগনামা ও বারবাকিয়ার মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপনের পাশাপাশি পেকুয়া ও কুতুবদিয়ার সঙ্গে মহেশখালী হয়ে চট্টগ্রামের যোগাযোগে একটি বিকল্প ও গুরুত্বপূর্ণ সড়কপথ তৈরি হতে পারে। এতে যাতায়াতের সময় ও পেকুয়া বাজার কেন্দ্রীক যানজট ভোগান্তি কমার পাশাপাশি উপকূলীয় এ অঞ্চলের আর্থসামাজিক কর্মকাণ্ড, কৃষিপণ্য,লবণ, মৎস্য পরিবহন ও ব্যবসা-বাণিজ্যে ইতিবাচক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এদিকে ‎ভোলাখালের বিভিন্ন অংশে ইতোমধ্যে সাতটি সেতু নির্মিত হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে- মগনামা শরৎঘোনা–রাজাখালী নতুনঘোনা সেতু, পেকুয়া পশ্চিম গোঁয়াখালী অংশের রাবারড্যাম সেতু, পেকুয়া বাজার–বারবাকিয়া ফাঁশিয়াখালী সেতু, পেকুয়া মৌলভীপাড়া অংশের আঞ্চলিক মহাসড়ক সেতু, পেকুয়া-বারবাকিয়া বাজার সেতু, পেকুয়া সাবমেরিন নৌঘাঁটি সড়কের সালাহউদ্দিন সেতু এবং বাগুজারা-সাকুরপাড় সেতু।

স্থানীয়দের দাবি, এসব সেতুর ধারাবাহিকতায় মগনামা বাজারপাড়া-বোধামাঝির ঘোনা সেতুটি নির্মিত হলে ভোলাখালের ওপর এটি হবে অষ্টম গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ সেতু। সেতুটি নির্মিত হলে পেকুয়া উপজেলার অভ্যন্তরীণ যোগাযোগব্যবস্থা আরও শক্তিশালী হওয়ার পাশাপাশি কুতুবদিয়ার সঙ্গে সড়ক যোগাযোগেও নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে।

 

‎

 

‎এতে শিক্ষা, চিকিৎসা, লবণ,মৎস্য ও কৃষিপণ্য পরিবহন, ব্যবসা-বাণিজ্য ও সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন চলাচলে দুই উপজেলার মানুষ সুফল পাবেন বলে প্রত্যাশা করছেন স্থানীয়রা। একই সঙ্গে পেকুয়া বাজারকেন্দ্রিক সড়কে যানবাহনের চাপও কিছুটা কমতে পারে বলে মনে করছেন তারা।

 

এলাকাবাসী জানান, দীর্ঘদিন ধরে ভোলাখাল মগনামা ও বারবাকিয়ার মানুষের স্বাভাবিক চলাচলের ক্ষেত্রে একটি বড় প্রতিবন্ধকতা হয়ে আছে। খালের ওপর প্রস্তাবিত সেতুটি নির্মিত হলে দুই এলাকার মধ্যে যোগাযোগ সহজ হওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় অর্থনীতি ও জনজীবনেও ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে।

 

‎দীর্ঘদিনের দাবি ও প্রত্যাশার পর সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়ায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এমপির প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ব্যক্তিগত প্রেস সচিব ছফওয়ানুল করিম বলেন, ‘চকরিয়া-পেকুয়া-মাতামুহুরী অঞ্চলের যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের ধারাবাহিকতায় ভোলাখালের মগনামা বাজারপাড়া অংশে ১০০ মিটার দীর্ঘ সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সুপারিশ ও প্রস্তাব স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। প্রকল্পটি অনুমোদনের পর পরবর্তী প্রশাসনিক ও কারিগরি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে সেতু নির্মাণের কাজ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে।’

 

‎তিনি বলেন, ‘সেতুটি নির্মিত হলে মগনামা, বারবাকিয়া ও আশপাশের এলাকার মানুষের চলাচল সহজ হওয়ার পাশাপাশি পেকুয়া-চকরিয়া অঞ্চলের সড়ক যোগাযোগব্যবস্থায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করছি।’

 

‎

 

‎পেকুয়া উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসাইন বলেন, ‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের প্রচেষ্টায় মগনামা-বোধামাঝির ঘোনা সেতু নির্মাণের উদ্যোগের খবরে বারবাকিয়া ও আশপাশের এলাকার মানুষের মধ্যে উৎসাহ সৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এ অঞ্চলের মানুষ যোগাযোগের ক্ষেত্রে নানা দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। সেতুটি নির্মিত হলে বারবাকিয়াসহ আশপাশের এলাকার সঙ্গে পেকুয়া উপজেলার সরাসরি ও সহজ যোগাযোগব্যবস্থা গড়ে উঠবে। একই সঙ্গে শিক্ষা, চিকিৎসা, কৃষি, ব্যবসা-বাণিজ্য ও সাধারণ মানুষের চলাচলেও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।’

তিনি বলেন, ‘মহেশখালীর মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর, পেকুয়া ও কুতুবদিয়ার মধ্যে যাতায়াত এবং পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রেও এ সেতু গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। জনগণের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণে দ্রুত প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে সেতুটির নির্মাণকাজ শুরুর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।’