খুঁজুন
, ,

আলিম পরীক্ষার নীতিমালা প্রকাশ, ‘আপত্তিকর’ কিছু লিখলে সরাসরি বাতিল হবে উত্তরপত্র

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৬ জুন, ২০২৬, ১২:১১ অপরাহ্ণ
আলিম পরীক্ষার নীতিমালা প্রকাশ, ‘আপত্তিকর’ কিছু লিখলে সরাসরি বাতিল হবে উত্তরপত্র
শেয়ার করুন

আসন্ন আলিম পরীক্ষার উত্তরপত্রে কোনো ধরনের অপ্রাসঙ্গিক বা আপত্তিকর লেখা লিখলে, কিংবা বিশেষ কোনো সাংকেতিক চিহ্ন ব্যবহার করলে সংশ্লিষ্ট পরীক্ষার্থীর উত্তরপত্র সরাসরি বাতিল করা হবে। বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড আইন ২০২০ অনুসারে প্রকাশিত ‘আলিম পরীক্ষা পরিচালনা নীতিমালা-২০২৬’-এ পরীক্ষা সংক্রান্ত জালিয়াতি ও বিশৃঙ্খলা রোধে এমন কড়া নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

সোমবার (১৫ জুন) বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড আইন ২০২০ অনুসারে আসন্ন আলিম পরীক্ষা সুষ্ঠু, বৈষম্যহীন ও সুশৃঙ্খলভাবে আয়োজন করতে পরীক্ষা পরিচালনা নীতিমালা প্রকাশ করা হয়েছে। এই নীতিমালায় শিক্ষার্থীর প্রার্থিতা, ফরম পূরণের যোগ্যতা, প্রশ্নপত্র ও উত্তরপত্র ব্যবস্থাপনা এবং কেন্দ্র কমিটির কর্মকর্তাদের দায়িত্ব-কর্তব্য নিয়ে একগুচ্ছ কঠোর ও স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

বোর্ডের নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, দাখিল পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা আলিম ১ম বর্ষে ভর্তির পর নির্ধারিত শিক্ষাবর্ষের ৩১ মার্চের মধ্যে অবশ্যই রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করতে হবে। একজন শিক্ষার্থী একই রেজিস্ট্রেশনের অধীনে স্ব-স্ব মাদ্রাসা থেকে ধারাবাহিকভাবে সর্বোচ্চ ৪ বার আলিম পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবেন। তবে বোর্ডের আগের অনুমোদন ছাড়া অন্য কোনো মাদ্রাসায় ভর্তি হওয়া বা কোনো অবৈধ শিক্ষার্থীকে পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দিলে সংশ্লিষ্ট মাদ্রাসার অধ্যক্ষ দায়ী থাকবেন এবং তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আর পাস করার পর রেজিস্ট্রেশনের মেয়াদ থাকলে শিক্ষার্থীরা পরবর্তী বছরে জিপিএ উন্নয়নের জন্য পরীক্ষা দিতে পারবেন। তবে এক্ষেত্রে শর্ত হলো, চতুর্থ বিষয় ছাড়া কোনো পরীক্ষার্থী জিপিএ-৫ এর কম পেলেই কেবল এই সুযোগ পাবেন এবং এই পরীক্ষা সর্বোচ্চ একবারই দেওয়া যাবে। জিপিএ উন্নয়ন পরীক্ষার্থীদের জন্য নির্বাচনী পরীক্ষায় অংশ নেওয়া বাধ্যতামূলক নয় এবং প্রাইভেট ও এক/দুই বিষয়ে পাস করা শিক্ষার্থীরা এই সুযোগ পাবেন না।

প্রাইভেট ও অনিয়মিত পরীক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ নিয়ম

নীতিমালায় বলা হয়েছে, প্রাইভেট পরীক্ষার্থীদেরও ২০২৬ সালের নতুন পাঠ্যসূচি অনুযায়ী নির্ধারিত মাদ্রাসার মাধ্যমে এবং নির্ধারিত কেন্দ্রেই পরীক্ষায় অংশ নিতে হবে, কোনো অবস্থাতেই কেন্দ্র পরিবর্তন করা যাবে না। প্রাইভেট পরীক্ষার্থীরা কেবল সাধারণ ও মুজাব্বিদ মাহির বিভাগে পরীক্ষা দিতে পারবেন এবং চতুর্থ বিষয়সহ ব্যবহারিক পরীক্ষা আছে এমন কোনো বিষয় তারা গ্রহণ করতে পারবেন না। এছাড়া দাখিল পরীক্ষার মূল একাডেমিক ট্রান্সক্রিপ্ট এবং নম্বরপত্র প্রথম শ্রেণির গেজেটেড কর্মকর্তা বা পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দ্বারা সত্যায়িত করে বোর্ডে জমা দিতে হবে। শিক্ষক এবং পুলিশ বা প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রার্থীদের ক্ষেত্রে চাকুরির নির্দিষ্ট মেয়াদ ও উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের সার্টিফিকেটের বাধ্যবাধকতা রাখা হয়েছে। অন্যদিকে, রেজিস্ট্রেশনের মেয়াদ থাকা পর্যন্ত অনুত্তীর্ণ বা অনিয়মিত শিক্ষার্থীদের নিজ নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দিতে বাধ্য থাকবেন প্রতিষ্ঠান প্রধানেরা।

বোর্ড জানিয়েছে, কেবল বৈধ রেজিস্ট্রেশনধারী শিক্ষার্থীরাই নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অনলাইনে আবেদন ফরম পূরণ করতে পারবেন। অনলাইনে পূরণ করা ই-এসআইএফের তথ্যে কোনো গরমিল থাকলে এবং তার জন্য ফল প্রকাশে জটিলতা তৈরি হলে বোর্ড দায়ী থাকবে না, বরং প্রতিষ্ঠান প্রধান ও শিক্ষার্থী দায়ী থাকবেন। ভুয়া রেজিস্ট্রেশন প্রমাণিত হলে পরীক্ষা চলাকালে বা ফল প্রকাশের পরও পরীক্ষা বাতিল করা হবে। উত্তরপত্রের কভার পৃষ্ঠার ওএমআরে শিক্ষার্থীর প্রয়োজনীয় তথ্য বৃত্ত ভরাট করার সুবিধার্থে পরীক্ষা শুরুর ১০ মিনিট আগে উত্তরপত্র বিতরণ করা হবে এবং পরীক্ষার্থীদের সুবিধার্থে বিষয় বা পত্রের কোড নম্বর বলে দেওয়া যাবে। উত্তরপত্রের ওএমআরে কোনো ত্রুটি থাকলে তাৎক্ষণিকভাবে নতুন উত্তরপত্র ব্যবহার করতে হবে। উত্তরপত্রের কোনো অংশে অপ্রাসঙ্গিক, আপত্তিজনক লেখা বা বিশেষ কোনো সাংকেতিক চিহ্ন থাকলে সেই উত্তরপত্র সরাসরি বাতিল বলে গণ্য হবে বলেও জানানো হয়েছে।

‘মেঘনা’ ও ‘যমুনা’ সেটের প্রশ্ন পৃথক রাখার নির্দেশ

প্রশ্নপত্র ফাঁসরোধ এবং গোপনীয়তা বজায় রাখতে নীতিমালায় কঠোর পদক্ষেপের কথা জানানো হয়েছে। বলা হয়েছে, প্রশ্নপত্র সর্টিং করার পর ‘মেঘনা’ সেটের প্রশ্নপত্র অবশ্যই ‘মেঘনা’ সেটের ট্রাংকে এবং ‘যমুনা’ সেটের প্রশ্নপত্র ‘যমুনা’ সেটের ট্রাংকে আলাদাভাবে লক করে রাখতে হবে। কোনো অবস্থাতেই এই দুই সেটের প্রশ্নপত্র একত্রে একই ট্রাংকে রাখা যাবে না। প্রশ্নপত্রের সিলগালা করা ট্রাংক যে কক্ষে সংরক্ষণ করা হবে, সেখানে অবশ্যই ‘ডাবল লক কী’ বা দ্বৈত চাবি ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। জেলা ও উপজেলা ট্রেজারি বা থানা লকার থেকে প্রশ্নপত্র সংগ্রহের সময় কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা একা যেতে পারবেন না। প্রশ্নপত্র সংগ্রহের সময় জেলা প্রশাসক বা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কর্তৃক মনোনীত ট্যাগ অফিসার এবং পুলিশ কর্মকর্তার উপস্থিতি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। পরীক্ষা শুরুর নির্ধারিত সময়ের অনধিক ১৫ মিনিট আগে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কক্ষপ্রত্যবেক্ষকদের কাছে প্রশ্নপত্র সরবরাহ করবেন। পরীক্ষা শুরুর আগে এসএমএসের মাধ্যমে নির্দেশনা পাওয়ার পর তিন জন কক্ষপ্রত্যবেক্ষকের সামনে প্রশ্নপত্রের প্যাকেট খুলতে হবে এবং প্যাকেটের ওপর সময় ও তারিখ উল্লেখ করে প্রত্যয়ন করতে হবে।

পরীক্ষা কেন্দ্রের আইনশৃঙ্খলা ও আসন বিন্যাসে কড়া নির্দেশনা

পরীক্ষাকেন্দ্রের শৃঙ্খলা বজায় রাখতে জেলা সদরে জেলা প্রশাসক এবং উপজেলায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কেন্দ্রের তত্ত্বাবধায়ক কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। তাদেরকে জেলা শিক্ষা অফিসার এবং উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার সহায়তা প্রদান করবেন। কেন্দ্র সরকারি আলিয়া মাদ্রাসায় হলে মাদ্রাসার অধ্যক্ষই তত্ত্বাবধায়ক কর্মকর্তা হবেন। যেসব কেন্দ্রে সাধারণ মানুষের অনুপ্রবেশের বা বিশৃঙ্খলার আশঙ্কা থাকবে, তার চারপাশে ২০০ গজের মধ্যে ১৪৪ ধারা জারি করে লোকজনের একক বা দলবদ্ধ চলাচল নিষিদ্ধ করা যাবে। পরীক্ষা কক্ষের আসন বিন্যাসে প্রতি ছয় ফুট লম্বা বেঞ্চে সর্বোচ্চ ২ জন পরীক্ষার্থী বসার ব্যবস্থা করতে হবে এবং বেঞ্চে রোল চিরকুট আঠা দিয়ে লাগিয়ে দিতে হবে। পরীক্ষাকেন্দ্রে প্রবেশপত্র, রেজিস্ট্রেশন কার্ড ও জ্যামিতি বক্স ছাড়া মোবাইল ফোন, ইলেকট্রনিক ডিভাইস বা কোনো প্রকার কাগজপত্র আনা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ এবং এটি অসদুপায় হিসেবে গণ্য হবে। কোনো পরীক্ষার্থীকে নকল করতে বা অন্য কারও উত্তরপত্রে তাকাতে দেখা গেলে তাকে সরাসরি বহিষ্কার করা যাবে।

নীতিমালায় বলা হয়েছে, পরীক্ষা শুরুর প্রথম দিন ১ ঘণ্টা আগে এবং পরবর্তী দিনগুলোতে ৩০ মিনিট আগে হলের দরজা খুলে দেওয়া হবে। পরীক্ষা শুরুর ১৫ মিনিট আগে একটি সতর্ক ঘণ্টা বাজবে এবং পরীক্ষা শুরুর নির্ধারিত মুহূর্তে প্রশ্নপত্র বিতরণের জন্য আরেকটি ঘণ্টা বাজানো হবে। পরীক্ষা শুরু হওয়ার পর ১ ঘণ্টা অতিবাহিত না হওয়া পর্যন্ত কোনো পরীক্ষার্থী উত্তরপত্র দাখিল করে হল ত্যাগ করতে পারবেন না। প্রাকৃতিক প্রয়োজনে বাইরে যেতে হলেও পরীক্ষা শুরুর ১ ঘণ্টার আগে অনুমতি দেওয়া হবে না এবং যাওয়ার আগে উত্তরপত্র ও প্রশ্নপত্র কক্ষপ্রত্যবেক্ষকের নিকট জমা দিয়ে যেতে হবে। পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর কক্ষপ্রত্যবেক্ষক কর্তৃক উত্তরপত্র সংগ্রহ না করা পর্যন্ত কোনো পরীক্ষার্থী আসন ত্যাগ করতে পারবেন না। যদি কোনো পরীক্ষার্থী উত্তরপত্র জমা না দিয়ে কক্ষ ত্যাগ করে চলে যায়, তবে তাৎক্ষণিকভাবে থানায় জিডি করে পুলিশের সহায়তায় উত্তরপত্র উদ্ধারের ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং বোর্ডে প্রতিবেদন পাঠানো হবে।

এছাড়া বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন (দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী, সেলেব্রাল পালসি জনিত প্রতিবন্ধী এবং যাদের হাত নেই) পরীক্ষার্থীদের জন্য বোর্ডের অনুমতি সাপেক্ষে ১০ম শ্রেণিতে অধ্যয়নরত শ্রুতিলেখক সঙ্গে নেওয়ার নিয়মও রাখা হয়েছে।

জাইমা রহমানের জন্মদিনে ৫ শতাধিক ছাত্রীকে বাইসাইকেল উপহার

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:১৫ অপরাহ্ণ
জাইমা রহমানের জন্মদিনে ৫ শতাধিক ছাত্রীকে বাইসাইকেল উপহার
শেয়ার করুন

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমানের জন্মদিন উপলক্ষে বগুড়ার শিবগঞ্জে ৫৪৮ জন ছাত্রীকে বিনামূল্যে বাইসাইকেল উপহার দেওয়া হয়েছে। রবিবার (২৫ অক্টোবর) বগুড়ার শিবগঞ্জ সরকারি পাইলট উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্রীদের নিয়ে এই আয়োজন করা হয়।

স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের আয়োজনে এসব ছাত্রীদের বাইসাইকেল দেওয়া হয়। এ সময় শিক্ষার্থীরা স্লোগান দেন, ‘শুভ শুভ শুভদিন, জাইমা রহমানের জন্মদিন’ ‘করবো কাজ গড়বো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’।

এ সময় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, সাত শতাধিক মেধাবী শিক্ষার্থীর পরীক্ষা নিয়েছিলাম, যার মধ্যে অংশ নিয়েছিল ৫৪৮ জন ছাত্রী। মোট ১০২টি শিক্ষার্থী প্রতিষ্ঠানের ৫৪৮জনকে ডেকে নিয়ে বাইসাইকেল উপহার দিচ্ছি।

এছাড়া যে প্রতিষ্ঠানে এই বাইসাইকেল প্রদানের আয়োজন করা হয়, তাদেরসহ প্রায় এক হাজার শিক্ষার্থীদের জাইমা রহমানের ছবি সম্বলিত মগ উপহার দেওয়া হয়।

বাইসাইকেল পেয়ে শিক্ষার্থীরা বেশ উচ্ছ্বসিত হন। কেউ কেউ স্কুল মাঠেই সাইকেল চালিয়ে আনন্দ উপভোগ করেন।

ঝোঁপঝাড়ে ফেলে যাওয়া নবজাতককে দত্তক নিতে ১২৩ পরিবারের আবেদন

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১:৩৯ অপরাহ্ণ
ঝোঁপঝাড়ে ফেলে যাওয়া নবজাতককে দত্তক নিতে ১২৩ পরিবারের আবেদন
শেয়ার করুন

চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে ফটিকছড়িতে সড়কের পাশের ঝোপঝাড়ে ফেলে যাওয়া এক নবজাত কন্যাশিশুকে দত্তক নিতে ব্যাপক আগ্রহ দেখা দিয়েছে শিশুটির লালন-পালনের দায়িত্ব নিতে এক দিনেই ১২৩টি আবেদন জমা পড়েছে।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাত পর্যন্ত ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে আবেদনকারীদের সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, আবেদনকারীদের পারিবারিক পরিবেশ, আর্থিক সামর্থ্য, শিশুর পরিচর্যার সক্ষমতা ও অন্যান্য প্রাসঙ্গিক বিষয় বিবেচনায় নিয়ে উপযুক্ত পরিবার নির্বাচনের প্রক্রিয়া চলছে। তবে, আবেদন করলেই শিশুটিকে দত্তক নেওয়ার সুযোগ মিলবে না। এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যাচাই-বাছাই ও প্রযোজ্য আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে।

ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাঈদ মোহাম্মদ ইব্রাহিম গণমাধ্যমকে বলেন, শিশুটিকে দত্তক নিতে বিপুলসংখ্যক আবেদন জমা পড়েছে। উপযুক্ত পরিবার নির্বাচনের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। যাচাই-বাছাই ও আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

এর আগে, গত বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার পাইন্দং ইউনিয়নের উত্তর পাইন্দং এলাকার আমতলীতে সড়কের পাশের ঝোঁপঝাড় থেকে নবজাতকটিকে জীবিত উদ্ধার করা হয়।

স্থানীয় লোকজন শিশুটিকে ঝোঁপের মধ্যে পড়ে থাকতে দেখে পুলিশকে খবর দেন। পরে ফটিকছড়ি থানা-পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশুটিকে উদ্ধার করেন। উদ্ধারের পর তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, শিশুটির শারীরিক অবস্থা ভালো ছিল।তবে কে বা কারা শিশুটিকে সেখানে ফেলে গেছেন, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। শিশুটির নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে উপযুক্ত পরিবার নির্বাচনের পাশাপাশি তাকে পরিত্যক্ত অবস্থায় ফেলে যাওয়ার ঘটনার রহস্য উদঘাটন ও পরিচয় শনাক্তে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় লোকজন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রচেষ্টায় ভোলাখালে অষ্টম সেতু নির্মাণের প্রস্তাব

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১:০০ অপরাহ্ণ
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রচেষ্টায় ভোলাখালে অষ্টম সেতু নির্মাণের প্রস্তাব
শেয়ার করুন

কক্সবাজারের পেকুয়ায় ভোলাখালের ওপর মগনামা বাজারপাড়া থেকে বারবাকিয়া ইউনিয়নের বোধামাঝির ঘোনা পর্যন্ত ১০০ মিটার দীর্ঘ সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রস্তাবিত সেতুটি নির্মিত হলে মগনামা ও বারবাকিয়ার মধ্যে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ স্থাপনের পাশাপাশি পেকুয়া ও কুতুবদিয়ার মানুষের যাতায়াত, পণ্য পরিবহন ও ব্যবসা-বাণিজ্যে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে বলে আশা করছেন স্থানীয়রা।

সম্প্রতি সেতু নির্মাণের উদ্যোগের অংশ হিসেবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও কক্সবাজার-১ আসনের সংসদ সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদের প্রয়োজনীয় সুপারিশ ও প্রস্তাব স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। প্রকল্পটি অনুমোদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও কারিগরি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে সেতু নির্মাণকাজ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

স্থানীয়দের মতে, সেতুটি বাস্তবায়িত হলে মগনামা ও বারবাকিয়ার মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপনের পাশাপাশি পেকুয়া ও কুতুবদিয়ার সঙ্গে মহেশখালী হয়ে চট্টগ্রামের যোগাযোগে একটি বিকল্প ও গুরুত্বপূর্ণ সড়কপথ তৈরি হতে পারে। এতে যাতায়াতের সময় ও পেকুয়া বাজার কেন্দ্রীক যানজট ভোগান্তি কমার পাশাপাশি উপকূলীয় এ অঞ্চলের আর্থসামাজিক কর্মকাণ্ড, কৃষিপণ্য,লবণ, মৎস্য পরিবহন ও ব্যবসা-বাণিজ্যে ইতিবাচক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এদিকে ‎ভোলাখালের বিভিন্ন অংশে ইতোমধ্যে সাতটি সেতু নির্মিত হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে- মগনামা শরৎঘোনা–রাজাখালী নতুনঘোনা সেতু, পেকুয়া পশ্চিম গোঁয়াখালী অংশের রাবারড্যাম সেতু, পেকুয়া বাজার–বারবাকিয়া ফাঁশিয়াখালী সেতু, পেকুয়া মৌলভীপাড়া অংশের আঞ্চলিক মহাসড়ক সেতু, পেকুয়া-বারবাকিয়া বাজার সেতু, পেকুয়া সাবমেরিন নৌঘাঁটি সড়কের সালাহউদ্দিন সেতু এবং বাগুজারা-সাকুরপাড় সেতু।

স্থানীয়দের দাবি, এসব সেতুর ধারাবাহিকতায় মগনামা বাজারপাড়া-বোধামাঝির ঘোনা সেতুটি নির্মিত হলে ভোলাখালের ওপর এটি হবে অষ্টম গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ সেতু। সেতুটি নির্মিত হলে পেকুয়া উপজেলার অভ্যন্তরীণ যোগাযোগব্যবস্থা আরও শক্তিশালী হওয়ার পাশাপাশি কুতুবদিয়ার সঙ্গে সড়ক যোগাযোগেও নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে।

 

‎

 

‎এতে শিক্ষা, চিকিৎসা, লবণ,মৎস্য ও কৃষিপণ্য পরিবহন, ব্যবসা-বাণিজ্য ও সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন চলাচলে দুই উপজেলার মানুষ সুফল পাবেন বলে প্রত্যাশা করছেন স্থানীয়রা। একই সঙ্গে পেকুয়া বাজারকেন্দ্রিক সড়কে যানবাহনের চাপও কিছুটা কমতে পারে বলে মনে করছেন তারা।

 

এলাকাবাসী জানান, দীর্ঘদিন ধরে ভোলাখাল মগনামা ও বারবাকিয়ার মানুষের স্বাভাবিক চলাচলের ক্ষেত্রে একটি বড় প্রতিবন্ধকতা হয়ে আছে। খালের ওপর প্রস্তাবিত সেতুটি নির্মিত হলে দুই এলাকার মধ্যে যোগাযোগ সহজ হওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় অর্থনীতি ও জনজীবনেও ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে।

 

‎দীর্ঘদিনের দাবি ও প্রত্যাশার পর সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়ায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এমপির প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ব্যক্তিগত প্রেস সচিব ছফওয়ানুল করিম বলেন, ‘চকরিয়া-পেকুয়া-মাতামুহুরী অঞ্চলের যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের ধারাবাহিকতায় ভোলাখালের মগনামা বাজারপাড়া অংশে ১০০ মিটার দীর্ঘ সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সুপারিশ ও প্রস্তাব স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। প্রকল্পটি অনুমোদনের পর পরবর্তী প্রশাসনিক ও কারিগরি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে সেতু নির্মাণের কাজ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে।’

 

‎তিনি বলেন, ‘সেতুটি নির্মিত হলে মগনামা, বারবাকিয়া ও আশপাশের এলাকার মানুষের চলাচল সহজ হওয়ার পাশাপাশি পেকুয়া-চকরিয়া অঞ্চলের সড়ক যোগাযোগব্যবস্থায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করছি।’

 

‎

 

‎পেকুয়া উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসাইন বলেন, ‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের প্রচেষ্টায় মগনামা-বোধামাঝির ঘোনা সেতু নির্মাণের উদ্যোগের খবরে বারবাকিয়া ও আশপাশের এলাকার মানুষের মধ্যে উৎসাহ সৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এ অঞ্চলের মানুষ যোগাযোগের ক্ষেত্রে নানা দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। সেতুটি নির্মিত হলে বারবাকিয়াসহ আশপাশের এলাকার সঙ্গে পেকুয়া উপজেলার সরাসরি ও সহজ যোগাযোগব্যবস্থা গড়ে উঠবে। একই সঙ্গে শিক্ষা, চিকিৎসা, কৃষি, ব্যবসা-বাণিজ্য ও সাধারণ মানুষের চলাচলেও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।’

তিনি বলেন, ‘মহেশখালীর মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর, পেকুয়া ও কুতুবদিয়ার মধ্যে যাতায়াত এবং পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রেও এ সেতু গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। জনগণের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণে দ্রুত প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে সেতুটির নির্মাণকাজ শুরুর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।’