খুঁজুন
, ,

ইসরায়েলকে ৩৮০ কোটি ডলারের নিরাপত্তা সহায়তা বন্ধের ঘোষণা ট্রাম্পের

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬, ১:৩১ পূর্বাহ্ণ
ইসরায়েলকে ৩৮০ কোটি ডলারের নিরাপত্তা সহায়তা বন্ধের ঘোষণা ট্রাম্পের
শেয়ার করুন

যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে প্রতি বছর নিরাপত্তা সহায়তা হিসেবে ৩৮০ কোটি ডলার পেয়ে থাকে ইসরায়েল। আকস্মিক এক ঘোষণা দিয়ে ট্রাম্প বলেছেন, ‘ইসরায়েলের আর এই সহায়তা প্রয়োজন নেই’।

ওই ১০ বছর মেয়াদি নিরাপত্তা সহায়তা চুক্তির আওতায় ২০২৮ সাল পর্যন্ত প্রতি বছর যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে ৩৮০ কোটি ডলার করে পাওয়ার কথা ইসরায়েলের। এর মধ্যে ৩৩০ কোটি ডলার বৈদেশিক সামরিক অর্থায়ন এবং ৫০ কোটি ডলার ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা কর্মসূচির জন্য বরাদ্দ। মূলত অস্ত্র কেনার জন্য এই সহায়তা পায় তেল আবিব।

 

তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আজ জানান, এ বছর শেষেই এই সহায়তা চুক্তি বাতিল হচ্ছে।

ট্রাম্প বলেন, এই সহায়তা বন্ধের বিষয়ে ইসরায়েলের আপত্তি নেই। ২০১৯ সালে এ সহায়তা কর্মসূচি শুরু হয়। ২০১৬ সালে বারাক ওবামার আমলে ওই চুক্তি সই হয়েছিল।

 

যুক্তরাষ্ট্রের ‘ফক্স অ্যান্ড ফ্রেন্ডস’ অনুষ্ঠানে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প আরও বলেন, ‘ইসরায়েলের প্রয়োজন হলে আমরা সহায়তা করব।’

 

দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে আলোচনা করেই এ সহায়তা বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলেও জানান তিনি।

ট্রাম্প আরও বলেন, ‘ইসরায়েল আমাদের এক নম্বর মিত্র। আমরা অন্য যেকোনো দেশের চেয়ে তাদের বেশি সহায়তা দিই। এখন তাদের আর এ সহায়তার প্রয়োজন নেই। … যদি প্রয়োজন হতো, তাহলে আমি বলতাম, সহায়তা চালিয়ে যাও।’

 

কাউন্সিল অন ফরেন রিলেশনসের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৪৮ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে অর্থনৈতিক ও সামরিক সহায়তা হিসেবে ৩০ হাজার কোটি ডলারের বেশি পেয়েছে ইসরায়েল। মূল্যস্ফীতি বিবেচনায় নিলে এ অর্থ ১৯৪৬ সালের পর থেকে অন্য যেকোনো দেশকে দেওয়া মার্কিন সহায়তার চেয়ে অনেক বেশি।

 

জানুয়ারিতে ‘দ্য ইকোনমিস্ট’কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু বলেন, আগামী এক দশকের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তার ওপর নির্ভরতা কমানোর আশা করছেন তিনি।

 

মে মাসে মার্কিন সম্প্রচারমাধ্যম সিবিএসকে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা ‘শূন্যে’ নামিয়ে আনতে চান।

 

জুনে নেতানিয়াহু তার দেশের সামরিক স্বনির্ভরতা বাড়ানো এবং ওয়াশিংটনের ওপর নির্ভরতা কমানোর আহ্বান জানান।

সরকারের প্ল্যান শুধু দফায় দফায় দাম বাড়ানো

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬, ২:০১ পূর্বাহ্ণ
সরকারের প্ল্যান শুধু দফায় দফায় দাম বাড়ানো
শেয়ার করুন

ক্ষমতায় এসে সরকার জনগণের সমস্যা সমাধানে ব্যর্থ হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন এবি পার্টি চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু।

তিনি বলেছেন, ‘সরকার একটি পরিকল্পনা আছে বলে জানিয়েছিল। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে, সরকারের পরিকল্পনা শুধু দফায় দফায় সবকিছুর দাম বাড়ানো এবং জনগণকে দুর্ভোগে ফেলা।’

আজ মঙ্গলবার রাজধানীর বিজয়নগরে এবি পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এবি স্বেচ্ছাসেবক পার্টির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ মন্তব্য করেন তিনি।

সভায় মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, ‘বিদ্যুৎ ও গ্যাসের দাম দফায় দফায় বাড়ছে, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য বেড়েছে, সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বেড়েছে, একই সঙ্গে বেড়েছে মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়। ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে দিন দিন ক্ষোভ ও হতাশা বাড়ছে।’

তিনি বলছিলেন, ‘গত ৫৪ বছর ধরে দেশে গতানুগতিক রাজনীতি চলছে। এত রাজনৈতিক দল, বিশ্ববিদ্যালয়, স্কুল-কলেজ, মসজিদ-মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্য কী? নিশ্চয়ই রাষ্ট্রকে সঠিক পথে পরিচালিত করা এবং মানুষের জীবনমানের পরিবর্তন আনা। কিন্তু এত আয়োজনের পরও আমরা কেন রাষ্ট্রকে ঠিক করতে পারছি না? রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে পারস্পরিক পরিচয় ও বোঝাপড়ার অভাবে সামান্য বিষয়েও অবিশ্বাস ও দূরত্ব তৈরি হচ্ছে।’

মঞ্জু আরও বলেছেন, ‘আওয়ামী লীগ নানা আশ্বাস দিয়ে জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করেছে। বিএনপিও এক কোটি মানুষের কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, কিন্তু সেই প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে পারছে না। প্রতিশ্রুতির ফুলঝুরি নয়, বরং জনগণের বাস্তব সমস্যা সমাধানের কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন।’

সভায় আরো বক্তব্য দেন— এবি পার্টির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবিএম খালিদ হাসান, মো. আলতাফ হোসাইন, শাহাদাতুল্লাহ টুটুল, প্রবাসী কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক গোলাম রব্বানী রাজা, এবি যুব পার্টির সদস্যসচিব হাদীউজ্জামান খোকন, কর্মসংস্থান বিষয়ক সম্পাদক সফিউল বাশার, সহকারী দপ্তর সম্পাদক আব্দুল হালিম নান্নু, স্বেচ্ছাসেবক পার্টির যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল মান্নান, যুগ্ম সদস্যসচিব রাশিদা আক্তার মিতু, মিজানুর রহমান মিঠু ও কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য খোরশেদ আলম পলাশ।

ফটোসাংবাদিককে আটকে বিএনপি নেতা বললেন ‘প্যান্ট খুলে তল্লাশি করা হোক’

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর, ২০২৬, ১১:২১ অপরাহ্ণ
ফটোসাংবাদিককে আটকে বিএনপি নেতা বললেন ‘প্যান্ট খুলে তল্লাশি করা হোক’
শেয়ার করুন

ঢাকার নবীনগর-চন্দ্রা সড়কের কবিরপুর এলাকায় হেনস্তার শিকার হয়েছেন দৈনিক আগামীর সময়ের ফটোসাংবাদিক মহুবার রহমান। একটি পোশাক কারখানার সামনে ছবি তুলতে গিয়ে নিরাপত্তাকর্মী ও ব্যবস্থাপকের তোপের মুখে পড়েন তিনি। কেড়ে নেওয়া হয় তার মোবাইল ফোন। পরে তাকে আটকে রেখে খবর দেওয়া হয় স্থানীয় এক বিএনপি নেতাকে। ওই নেতা এসে ফটোসাংবাদিককে প্যান্ট খুলে তল্লাশির হুমকি দেন।

 

ঘটনাটি আজ মঙ্গলবার দুপুরের। এদিন ন্যূনতম মজুরির দাবিতে পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলন চলছিল। কবিরপুর এলাকায় ছবি ও ভিডিও নিতে গিয়েছিলেন মহুবার। গিয়ে দেখতে পান টানা কয়েক দিনের আন্দোলনের মধ্যে পরিস্থিতি অনেকটাই স্বাভাবিক সেখানে। কাজে ফিরেছেন পোশাকশ্রমিকদের অনেকেই। প্রথমে ইকোটেক্স গার্মেন্টসের সামনে তাদের কর্মস্থলে ফেরার ছবি নেন। আশানুরূপ না হওয়ায় যান একটু দূরে, পলমল গার্মেন্টসের সামনে। সেখানে চলছিল দুপুরের খাবারের বিরতি। শ্রমিকরা কারখানা থেকে বেরোবার সময় সড়ক বিভাজকে দাঁড়িয়ে ছবি ও ফুটেজ নেন তিনি।

 

এমন সময় কারখানার এক নিরাপত্তাকর্মী মহুবারকে ছবি তোলা শেষে দেখা করে যেতে বলেন। পরে ফটকের সামনে গেলে তার কাছে ছবি তোলার অনুমতি আছে কিনা জানতে চাওয়া হয়। মহুবার প্রশ্ন করেন, কারখানার বাইরের ছবি তুলতে অনুমতি নিতে হবে কেন? তিনি শুধু শ্রমিকদের বের হওয়ার ছবি ও ফুটেজ নিয়েছেন।

 

এরপর কারখানার ব্যবস্থাপকদের একজন তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে জানিয়ে মহুবার বলেন, ‘ওই ব্যবস্থাপক আমাকে পাশের একটি ফটকের সামনে নিয়ে যান। সাংবাদিক পরিচয় দেওয়ার পরও ছাড়েনি। তিনি আমাকে কারখানার ভেতরে নিতে চাপ দিচ্ছিলেন। রাজি না হওয়ায় পাশের একটি চায়ের দোকানে নিয়ে যান। সেখানে আমাকে আটকে রেখে ফোন কেড়ে নেওয়া হয়। মুছে দেওয়া হয় ফোনে থাকা ছবি ও তাদের কথোপকথনের ভিডিও।’

 

এ সময় ওই ব্যবস্থাপক ফোন করে সেখানে স্থানীয় এক বিএনপি নেতাকে আসতে বলেন। মহুবারের অভিযোগ, ‘ওই নেতা এসে বলে, ‘প্যান্ট খুলে তল্লাশি করা হোক।’ পরে আমার ব্যাগ খুলে ক্যামেরাসহ অন্যান্য সরঞ্জাম পরীক্ষা করা হয়। তবে ক্যামেরায় নেওয়া ছবিগুলো পরীক্ষা করা হয়নি।’

 

এরপর ফোনটি ফেরত দিলেও তাকে জোর করে কারখানার ভেতরে নেওয়া হয়। সেখানে প্রায় ১৫ মিনিট অবরুদ্ধ রাখার পর তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

 

এ বিষয়ে আশুলিয়া থানার ওসি তরিকুল ইসলাম আগামীর সময়কে বলেন, ‘দুপুরে স্থানীয় সাংবাদিকের মাধ্যমে বিষয়টি জেনেছি। ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠাবার কথা ছিল। তবে তিনি আগেই ছাড়া পান।’ এ ঘটনায় অভিযুক্তদের এখনো শনাক্ত করা যায়নি বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

দফাদার এখন ‘গ্রাম পুলিশ প্রধান’, মহল্লাদার হবেন ‘গ্রাম পুলিশ’

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর, ২০২৬, ১০:৫৩ অপরাহ্ণ
দফাদার এখন ‘গ্রাম পুলিশ প্রধান’, মহল্লাদার হবেন ‘গ্রাম পুলিশ’
শেয়ার করুন

ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম পুলিশ বাহিনী সংক্রান্ত বিধিমালায় গুরুত্বপূর্ণ সংশোধন এনেছে সরকার। এখন থেকে ইউনিয়ন পরিষদের ‘দফাদার’ পরিচিত হবেন ‘গ্রাম পুলিশ প্রধান’ নামে আর ‘মহল্লাদার’ পরিচয় পাবেন ‘গ্রাম পুলিশ’ নামে।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. বোরহান উদ্দীনের সই করা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গত ১ নভেম্বর স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে প্রজ্ঞাপনে সই করেন সিনিয়র সহকারী সচিব আতিকুল ইসলাম।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন, ২০০৯-এর ৯৬ ও ৪৮ ধারায় দেয়া ক্ষমতাবলে স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) গ্রাম পুলিশ বাহিনীর গঠন, প্রশিক্ষণ, শৃঙ্খলা ও চাকরির শর্তাবলি সম্পর্কিত বিধিমালা, ২০১৫-এর সংশোধন করা হয়েছে।

সংশোধনী অনুযায়ী, মূল বিধিমালার সর্বত্র ব্যবহৃত ‘দফাদার’ শব্দের পরিবর্তে ‘গ্রাম পুলিশ প্রধান’ এবং ‘মহল্লাদার’ শব্দের পরিবর্তে ‘গ্রাম পুলিশ’ শব্দ প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।