উখিয়ায় বিনামূল্যে খাবার বিতরণ, দিনমজুর-রিকশাচালকদের মুখে আনন্দ
উখিয়ায় দিনভর হতদরিদ্র, অসহায়, দিনমজুর ও পথচারীদের দুঃখ-কষ্ট ভাগ করে নিতে বিনামূল্যে খাবার বিতরণ করেছে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন তারুণ্যের অভিযাত্রিক। মানবতার কল্যাণে নিবেদিত এ আয়োজনটি স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
জানা গেছে, শনিবার সকাল থেকে এ সংগঠনের তরুণ স্বেচ্ছাসেবীরা খাবারের প্যাকেট হাতে নিয়ে উখিয়া সদর, কোর্টবাজার, মরিচ্যা, চেকপোস্ট এবং কুতুপালং এলাকায় ছুটে যান। কর্মব্যস্ত সড়ক, বাজার কিংবা রোদে-ঘামে ক্লান্ত রিকশাচালকদের হাতে খাবার তুলে দেওয়ার মুহূর্তে চারপাশে সৃষ্টি হয় এক অনন্য আবেগঘন পরিবেশ।
খাবার পেয়ে অসহায় মানুষদের চোখেমুখে ফুটে ওঠে আনন্দের ঝলক। দুপুরের তপ্ত রোদে হঠাৎ করে হাতে খাবারের প্যাকেট পেয়ে অনেকেই কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
এসময় রিকশাচালক ও দিনমজুর শ্রমিক মানুষরা জানান, দিন শেষে তারা কষ্টার্জিত আয়ে নিজেদের এবং পরিবারের ভরণপোষণ চালায়। তাই হঠাৎ এভাবে বিনামূল্যে খাবার হাতে পাওয়া তাদের জন্য সত্যিই আশীর্বাদস্বরূপ।
এ কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সক্রিয় সদস্য জিসেন বড়ুয়া, দিপু বড়ুয়া, ওমর ফারুক, রুবেল বড়ুয়া রাজ, শান্ত বড়ুয়া বিপ্লব, মিশু বড়ুয়া, হিমু বড়ুয়া রনি, সৌরভ বড়ুয়া, রিদুয়ান কবির নয়নসহ আরও অনেকে। প্রত্যেকে নিজ নিজ দায়িত্ব ভাগ করে নিয়ে পথচারী, অসহায় নারী-পুরুষ এবং রিকশাচালকদের মাঝে খাবার বিতরণ করেন।
সংগঠন সুত্রে জানা গেছে, তারুণ্যের অভিযাত্রিক একটি অরাজনৈতিক, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই সংগঠনটি মানবকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে নিজেদের নিয়োজিত রেখেছে। বিশেষ করে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো, শিক্ষামূলক কার্যক্রম পরিচালনা, পরিবেশ রক্ষায় সচেতনতা সৃষ্টি এবং সামাজিক উন্নয়নমূলক কাজে সদস্যরা নিয়মিত ভূমিকা রেখে আসছেন। খাবার বিতরণের এই কর্মসূচি তারই ধারাবাহিক অংশ।
এ কর্মসূচি ঘিরে সদস্যদের মধ্যে ছিল বিশেষ উৎসাহ-উদ্দীপনা। দিনব্যাপী তারা খাবারের প্যাকেট প্রস্তুত করেন এবং নির্দিষ্ট সময়ে তা বিতরণের জন্য বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়েন।
সংগঠনের নেতৃবৃন্দরা জানান, দিনমজুর ও অসহায় মানুষের মুখে হাসি ফোটানো তাদের সবচেয়ে বড় সাফল্য। মানবতার সেবায় ছোট ছোট পদক্ষেপই বড় পরিবর্তনের সূচনা করে।

আপনার মতামত লিখুন