খুঁজুন
, ,

উখিয়ায় যুবদল নেতার মাদক সম্রাজ্যে র‍্যাবের থাবা, নেতার মা সহ দুই নারী আটক

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ৫:১৩ অপরাহ্ণ
উখিয়ায় যুবদল নেতার মাদক সম্রাজ্যে র‍্যাবের থাবা, নেতার মা সহ দুই নারী আটক
শেয়ার করুন

কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার কুতুপালং এখন মাদকের স্বর্গরাজ্যে পরিণত হয়েছে। প্রতিদিনই এখানে প্রকাশ্যে চলছে ইয়াবাসহ বিভিন্ন মাদকদ্রব্যের বেচা–বিক্রি। মাদক ব্যবসায় অমিল বা লেনদেনে গরমিল হলেই ঘটছে সংঘর্ষ, ছিনতাই, এমনকি হত্যার ঘটনাও। সর্বশেষ এক গণমাধ্যমকর্মীরও একই ঘটনায় মৃত্যু হয়। নতুন–পুরাতন মিলে সক্রিয় হয়েছে একাধিক মাদক কারবারি সিন্ডিকেট।

স্থানীয় সূত্র জানায়, এসব সিন্ডিকেটের সঙ্গে কিছু প্রভাবশালী মহল ও অসাধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা যোগসাজশে থাকায় মাদক ব্যবসা দিন দিন বেপরোয়া হয়ে উঠছে। রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরের অভ্যন্তরে এবং আশপাশের গ্রামগুলোতেও মাদকের বিস্তার ঘটেছে। এতে সাধারণ মানুষ আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে। পাশাপাশি এলাকায় বেড়ে যাচ্ছে চুরি–ডাকাতি, ছিনতাইসহ নানা অপরাধ।

৫ আগস্টের আগে এসব মাদক বেচা–বিক্রির নেতৃত্বে ছিলেন আওয়ামী লীগের কিছু নেতাকর্মী। বর্তমানে পুরো চক্রটির নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে বিএনপির অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা।

সম্প্রতি অভিযোগ উঠেছে উখিয়ার রাজাপালং ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ড যুবদল নেতাদের বিরুদ্ধে। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, তারা বিভিন্ন কৌশলে মাদক পাচারকারীদের কাছ থেকে ইয়াবা হাতিয়ে নিয়ে নিজেদের কাছে মজুদ করে এবং পরে তা বাজারে বিক্রি করেন। এতে একদিকে যেমন এলাকায় মাদকের বিস্তার বাড়ছে, অন্যদিকে রাজনৈতিক নেতাদের সংশ্লিষ্টতা নিয়ে সৃষ্টি হয়েছে ব্যাপক চাঞ্চল্য।

সিন্ডিকেট প্রধান ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি হেলাল উদ্দিন ওরফে ডাম্পার হেলাল এবং সাধারণ সম্পাদক সেলিম উদ্দিনের নেতৃত্বে এক ইয়াবা কারবারির কাছ থেকে প্রায় ৩ লাখ পিস ইয়াবা ছিনতাই করা হয়। পরে এসব ইয়াবা নিজের বাড়িতে মজুদ রাখেন হেলাল। এ ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ এড়াতে ও নিজেদের দায় কমাতে অল্প কিছু ইয়াবা এবং একজন কারবারিকে উখিয়া থানা পুলিশের হাতে তুলে দেন তারা।

সরেজমিন ও অনুসন্ধানে জানা গেছে, গত ৬ সেপ্টেম্বর ভোরে যুবদল নেতা হেলাল উদ্দিন ও সেলিম উদ্দিনের নেতৃত্বে একটি সিন্ডিকেট রোহিঙ্গা এক ইয়াবা পাচারকারীর কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ ইয়াবার চালান ছিনতাই করে। এ ঘটনায় স্থানীয় কিছু অসাধু ব্যক্তি সিন্ডিকেটের সঙ্গে মিলে চালানটি নিজেদের মধ্যে ভাগবাটোয়ারা করেন।

পরে তারা পুলিশের সঙ্গে আঁতাত করে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চালায়। উভয়ে দায় সারতে ৩০ হাজার পিস ইয়াবা পুলিশকে দেয়। সেখান থেকে ২০ হাজার পিস নিজেরা গায়েব করে এবং ১০ হাজার পিস ইয়াবা নিয়ে ওই রোহিঙ্গা পাচারকারীকে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ টহল টিম।

এমন তথ্যের গুঞ্জন উঠলে উখিয়া থানার অফিসার্স ইনচার্জ জিয়াউল হকের সাথে যোগাযোগ করা হয়,এসময় তিনি প্রতিবেদককে বলেন ওই অভিযানে টহল টিমে ছিলেন এস আই সুমন ও এসআই কামাল। এ ব্যপারে তারা ভালো বলতে পারবেন। থানায় যা আসছে তাই নিয়া আসামীকে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

এসআই কামালের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমরা খবর পাওয়ার পর ওখানে গিয়ে দেখি একজন আসামী ধৃত আর ১০ হাজার পিছ ইয়াবা। এসব নিয়া থানায় চলে আসছি, এর বাহিরে আমরা কিছু জানি না। জানলেও সিভিল টিমে ছিল এসআই সুমন তারা জানতে পারবেন।

এসআই সুমনের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয়দের সাথে নিয়ে বিল থেকে ১০ হাজার ইয়াবাসহ একজন পাচারকারীকে আটক করেছি। ৩০ হাজার নই ১০ হাজার ছিল। সাথে যারা ছিল তারা দেখেছে। আমার কাছেও ফ্রুফ রেখেছি।

সভাপতি হেলালের মুঠোফোনে একাধিকবার কল দিয়েও সাড়া মিলেনি।

সাধারণ সম্পাদক সেলিম উদ্দিনের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন এ ঘটনায় আমি ছিলাম না। কারা ছিল আমি জানি না।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ভোরে নামাজ পড়তে যাওয়া এক মুসল্লি বলেন, নামাজ শেষে ফেরার পথে দেখি যুবদল নেতা হেলাল, সেলিম ও বাবুলসহ কয়েকজন একজনকে ধরে রেখেছে। তাদের কাছে একটি বড় পলিথিনও ছিল। কিছুক্ষণ পর পুলিশ এসে ওই ব্যক্তিকে নিয়ে যায়। আমি কাছে যাইনি, তাই ভেতরে কী ছিল জানি না।

 

পরে সকাল যেতে না যেতে একই এলাকায় ইয়াবা উদ্ধারে র‍্যাব দফায় দফায় অভিযান চালায়। এ অভিযানে যুবদল নেতা হেলালের বাড়ি থেকে প্রায় ৯০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করে। এছাড়া মাদক বিক্রির নগদ ১৬ লাখ ৭১ হাজার টাকা জব্দ করে। এ সময় হেলালের মা ও এক আত্মীয়সহ দুই নারীকে আটক করতে সক্ষম হয় র‍্যাব।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কক্সবাজার র‍্যাবের সহকারী পুলিশ সুপার ( ল এন্ড মিডিয়া)  আ. ম ফারুখ। এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে র‍্যাব আরো উল্লেখ করেন এ ঘটনায় হেলাল,সাদ্দাম,মহিউদ্দিনসহ আরো অনেকেই পালাতক রয়েছেন।

স্থানীয়রা বলছেন, কুতুপালং এলাকায় দিন দিন মাদক ব্যবসার ভয়াবহতা বাড়ছে। রাজনৈতিক আশ্রয়–প্রশ্রয়ে বেড়ে ওঠা এসব চক্রকে দমন না করলে উখিয়াকে মাদকের অভয়ারণ্যে পরিণত হতে বেশি সময় লাগবে না।

জাইমা রহমানের জন্মদিনে ৫ শতাধিক ছাত্রীকে বাইসাইকেল উপহার

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:১৫ অপরাহ্ণ
জাইমা রহমানের জন্মদিনে ৫ শতাধিক ছাত্রীকে বাইসাইকেল উপহার
শেয়ার করুন

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমানের জন্মদিন উপলক্ষে বগুড়ার শিবগঞ্জে ৫৪৮ জন ছাত্রীকে বিনামূল্যে বাইসাইকেল উপহার দেওয়া হয়েছে। রবিবার (২৫ অক্টোবর) বগুড়ার শিবগঞ্জ সরকারি পাইলট উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্রীদের নিয়ে এই আয়োজন করা হয়।

স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের আয়োজনে এসব ছাত্রীদের বাইসাইকেল দেওয়া হয়। এ সময় শিক্ষার্থীরা স্লোগান দেন, ‘শুভ শুভ শুভদিন, জাইমা রহমানের জন্মদিন’ ‘করবো কাজ গড়বো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’।

এ সময় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, সাত শতাধিক মেধাবী শিক্ষার্থীর পরীক্ষা নিয়েছিলাম, যার মধ্যে অংশ নিয়েছিল ৫৪৮ জন ছাত্রী। মোট ১০২টি শিক্ষার্থী প্রতিষ্ঠানের ৫৪৮জনকে ডেকে নিয়ে বাইসাইকেল উপহার দিচ্ছি।

এছাড়া যে প্রতিষ্ঠানে এই বাইসাইকেল প্রদানের আয়োজন করা হয়, তাদেরসহ প্রায় এক হাজার শিক্ষার্থীদের জাইমা রহমানের ছবি সম্বলিত মগ উপহার দেওয়া হয়।

বাইসাইকেল পেয়ে শিক্ষার্থীরা বেশ উচ্ছ্বসিত হন। কেউ কেউ স্কুল মাঠেই সাইকেল চালিয়ে আনন্দ উপভোগ করেন।

ঝোঁপঝাড়ে ফেলে যাওয়া নবজাতককে দত্তক নিতে ১২৩ পরিবারের আবেদন

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১:৩৯ অপরাহ্ণ
ঝোঁপঝাড়ে ফেলে যাওয়া নবজাতককে দত্তক নিতে ১২৩ পরিবারের আবেদন
শেয়ার করুন

চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে ফটিকছড়িতে সড়কের পাশের ঝোপঝাড়ে ফেলে যাওয়া এক নবজাত কন্যাশিশুকে দত্তক নিতে ব্যাপক আগ্রহ দেখা দিয়েছে শিশুটির লালন-পালনের দায়িত্ব নিতে এক দিনেই ১২৩টি আবেদন জমা পড়েছে।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাত পর্যন্ত ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে আবেদনকারীদের সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, আবেদনকারীদের পারিবারিক পরিবেশ, আর্থিক সামর্থ্য, শিশুর পরিচর্যার সক্ষমতা ও অন্যান্য প্রাসঙ্গিক বিষয় বিবেচনায় নিয়ে উপযুক্ত পরিবার নির্বাচনের প্রক্রিয়া চলছে। তবে, আবেদন করলেই শিশুটিকে দত্তক নেওয়ার সুযোগ মিলবে না। এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যাচাই-বাছাই ও প্রযোজ্য আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে।

ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাঈদ মোহাম্মদ ইব্রাহিম গণমাধ্যমকে বলেন, শিশুটিকে দত্তক নিতে বিপুলসংখ্যক আবেদন জমা পড়েছে। উপযুক্ত পরিবার নির্বাচনের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। যাচাই-বাছাই ও আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

এর আগে, গত বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার পাইন্দং ইউনিয়নের উত্তর পাইন্দং এলাকার আমতলীতে সড়কের পাশের ঝোঁপঝাড় থেকে নবজাতকটিকে জীবিত উদ্ধার করা হয়।

স্থানীয় লোকজন শিশুটিকে ঝোঁপের মধ্যে পড়ে থাকতে দেখে পুলিশকে খবর দেন। পরে ফটিকছড়ি থানা-পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশুটিকে উদ্ধার করেন। উদ্ধারের পর তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, শিশুটির শারীরিক অবস্থা ভালো ছিল।তবে কে বা কারা শিশুটিকে সেখানে ফেলে গেছেন, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। শিশুটির নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে উপযুক্ত পরিবার নির্বাচনের পাশাপাশি তাকে পরিত্যক্ত অবস্থায় ফেলে যাওয়ার ঘটনার রহস্য উদঘাটন ও পরিচয় শনাক্তে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় লোকজন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রচেষ্টায় ভোলাখালে অষ্টম সেতু নির্মাণের প্রস্তাব

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১:০০ অপরাহ্ণ
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রচেষ্টায় ভোলাখালে অষ্টম সেতু নির্মাণের প্রস্তাব
শেয়ার করুন

কক্সবাজারের পেকুয়ায় ভোলাখালের ওপর মগনামা বাজারপাড়া থেকে বারবাকিয়া ইউনিয়নের বোধামাঝির ঘোনা পর্যন্ত ১০০ মিটার দীর্ঘ সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রস্তাবিত সেতুটি নির্মিত হলে মগনামা ও বারবাকিয়ার মধ্যে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ স্থাপনের পাশাপাশি পেকুয়া ও কুতুবদিয়ার মানুষের যাতায়াত, পণ্য পরিবহন ও ব্যবসা-বাণিজ্যে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে বলে আশা করছেন স্থানীয়রা।

সম্প্রতি সেতু নির্মাণের উদ্যোগের অংশ হিসেবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও কক্সবাজার-১ আসনের সংসদ সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদের প্রয়োজনীয় সুপারিশ ও প্রস্তাব স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। প্রকল্পটি অনুমোদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও কারিগরি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে সেতু নির্মাণকাজ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

স্থানীয়দের মতে, সেতুটি বাস্তবায়িত হলে মগনামা ও বারবাকিয়ার মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপনের পাশাপাশি পেকুয়া ও কুতুবদিয়ার সঙ্গে মহেশখালী হয়ে চট্টগ্রামের যোগাযোগে একটি বিকল্প ও গুরুত্বপূর্ণ সড়কপথ তৈরি হতে পারে। এতে যাতায়াতের সময় ও পেকুয়া বাজার কেন্দ্রীক যানজট ভোগান্তি কমার পাশাপাশি উপকূলীয় এ অঞ্চলের আর্থসামাজিক কর্মকাণ্ড, কৃষিপণ্য,লবণ, মৎস্য পরিবহন ও ব্যবসা-বাণিজ্যে ইতিবাচক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এদিকে ‎ভোলাখালের বিভিন্ন অংশে ইতোমধ্যে সাতটি সেতু নির্মিত হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে- মগনামা শরৎঘোনা–রাজাখালী নতুনঘোনা সেতু, পেকুয়া পশ্চিম গোঁয়াখালী অংশের রাবারড্যাম সেতু, পেকুয়া বাজার–বারবাকিয়া ফাঁশিয়াখালী সেতু, পেকুয়া মৌলভীপাড়া অংশের আঞ্চলিক মহাসড়ক সেতু, পেকুয়া-বারবাকিয়া বাজার সেতু, পেকুয়া সাবমেরিন নৌঘাঁটি সড়কের সালাহউদ্দিন সেতু এবং বাগুজারা-সাকুরপাড় সেতু।

স্থানীয়দের দাবি, এসব সেতুর ধারাবাহিকতায় মগনামা বাজারপাড়া-বোধামাঝির ঘোনা সেতুটি নির্মিত হলে ভোলাখালের ওপর এটি হবে অষ্টম গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ সেতু। সেতুটি নির্মিত হলে পেকুয়া উপজেলার অভ্যন্তরীণ যোগাযোগব্যবস্থা আরও শক্তিশালী হওয়ার পাশাপাশি কুতুবদিয়ার সঙ্গে সড়ক যোগাযোগেও নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে।

 

‎

 

‎এতে শিক্ষা, চিকিৎসা, লবণ,মৎস্য ও কৃষিপণ্য পরিবহন, ব্যবসা-বাণিজ্য ও সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন চলাচলে দুই উপজেলার মানুষ সুফল পাবেন বলে প্রত্যাশা করছেন স্থানীয়রা। একই সঙ্গে পেকুয়া বাজারকেন্দ্রিক সড়কে যানবাহনের চাপও কিছুটা কমতে পারে বলে মনে করছেন তারা।

 

এলাকাবাসী জানান, দীর্ঘদিন ধরে ভোলাখাল মগনামা ও বারবাকিয়ার মানুষের স্বাভাবিক চলাচলের ক্ষেত্রে একটি বড় প্রতিবন্ধকতা হয়ে আছে। খালের ওপর প্রস্তাবিত সেতুটি নির্মিত হলে দুই এলাকার মধ্যে যোগাযোগ সহজ হওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় অর্থনীতি ও জনজীবনেও ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে।

 

‎দীর্ঘদিনের দাবি ও প্রত্যাশার পর সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়ায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এমপির প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ব্যক্তিগত প্রেস সচিব ছফওয়ানুল করিম বলেন, ‘চকরিয়া-পেকুয়া-মাতামুহুরী অঞ্চলের যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের ধারাবাহিকতায় ভোলাখালের মগনামা বাজারপাড়া অংশে ১০০ মিটার দীর্ঘ সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সুপারিশ ও প্রস্তাব স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। প্রকল্পটি অনুমোদনের পর পরবর্তী প্রশাসনিক ও কারিগরি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে সেতু নির্মাণের কাজ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে।’

 

‎তিনি বলেন, ‘সেতুটি নির্মিত হলে মগনামা, বারবাকিয়া ও আশপাশের এলাকার মানুষের চলাচল সহজ হওয়ার পাশাপাশি পেকুয়া-চকরিয়া অঞ্চলের সড়ক যোগাযোগব্যবস্থায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করছি।’

 

‎

 

‎পেকুয়া উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসাইন বলেন, ‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের প্রচেষ্টায় মগনামা-বোধামাঝির ঘোনা সেতু নির্মাণের উদ্যোগের খবরে বারবাকিয়া ও আশপাশের এলাকার মানুষের মধ্যে উৎসাহ সৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এ অঞ্চলের মানুষ যোগাযোগের ক্ষেত্রে নানা দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। সেতুটি নির্মিত হলে বারবাকিয়াসহ আশপাশের এলাকার সঙ্গে পেকুয়া উপজেলার সরাসরি ও সহজ যোগাযোগব্যবস্থা গড়ে উঠবে। একই সঙ্গে শিক্ষা, চিকিৎসা, কৃষি, ব্যবসা-বাণিজ্য ও সাধারণ মানুষের চলাচলেও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।’

তিনি বলেন, ‘মহেশখালীর মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর, পেকুয়া ও কুতুবদিয়ার মধ্যে যাতায়াত এবং পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রেও এ সেতু গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। জনগণের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণে দ্রুত প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে সেতুটির নির্মাণকাজ শুরুর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।’