খুঁজুন
, ,

একটি দল স্বৈরাচার দলটির মতো ভাষা ব্যবহার করছে: তারেক রহমান

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারি, ২০২৬, ৭:১৬ অপরাহ্ণ
একটি দল স্বৈরাচার দলটির মতো ভাষা ব্যবহার করছে: তারেক রহমান
শেয়ার করুন

জামায়াতে ইসলামীকে উদ্দেশ করে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, একটি দল স্বৈরাচার দলটির (আওয়ামী লীগ) মতো ভাষা ব্যবহার করছে। তারা বলে, বিএনপি দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন ছিল। আমার প্রশ্ন—২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত তাদেরও দুইজন সদস্য বিএনপি সরকারে ছিল। বিএনপি যদি এত খারাপই ছিল, তাহলে ওই দুইজন ব্যক্তি কেন পদত্যাগ করে সরে আসেনি?

 

মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) বিকেলে ময়মনসিংহের ঐতিহাসিক সার্কিট হাউজ ময়দানে নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

 

তারেক রহমান আরও বলেন, ‌‘ওই দুইজন সদস্য বিএনপি সরকারে থাকা অবস্থায় পদত্যাগ করেনি। কারণ তারা জানতো খালেদা জিয়া কঠোর হস্তে দুর্নীতি দমন করছে।’

 

ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা, জামালপুর ও শেরপুরে বহু সমস্যা রয়ে গেছে উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, ‘নদীভাঙন সমস্যা আছে, কর্মসংস্থানের সমস্যা আছে। বিভিন্ন জেলা-উপজেলাতে ব্রিজ, রাস্তাঘাট, স্কুল-কলেজ, কালভার্টের সমস্যা রয়ে গেছে। যেগুলো দীর্ঘ এক যুগেরও বেশি সময় ধরে সংস্কার বা নতুন করে করার দরকার ছিল। কিন্তু কোনো কাজ হয়নি। না হওয়ার কারণ ভোটের অধিকার ছিল না। যদি ভোটের অধিকার থাকতো, তাহলে জনগণের সমস্যা সমাধান হতো। যেহেতু নিশিরাতে তথাকথিত নির্বাচন হয়েছিল, তাই তখন সত্যকারের জনপ্রতিনিধি ছিল না। তাই যুবক সমাজের জন্য কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হয়নি’

 

তিনি বলেন, ‘তরুণ-যুবকরা চায় কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা। দেশে মিল-ফ্যাক্টরি হবে, ব্যবসা-বাণিজ্য হবে, যাতে তারা নিরাপদে ব্যবসা -বাণিজ্য বা চাকরি করতে পারে। মানুষ চায় অসুস্থ হলে যেন চিকিৎসা সুবিধা পায়।’

 

ময়মনসিংহে কৃষকদের অনেক সমস্যা রয়েছে উল্লেখ করে বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, ‘ময়মনসিংহের মাছের পোনা অনেক সরবরাহ করা হয়। আমাদের পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে কী করে মাছের পোনার বিষয়টিকে শুধু দেশের ভেতরে সীমাবদ্ধ না রেখে বিদেশেও রপ্তানি করা যায়।’

 

ময়মনসিংহে কৃষকদের অনেক সমস্যা রয়েছে উল্লেখ করে বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, ‘ময়মনসিংহের মাছের পোনা অনেক সরবরাহ করা হয়। আমাদের পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে কী করে মাছের পোনার বিষয়টিকে শুধু দেশের ভেতরে সীমাবদ্ধ না রেখে বিদেশেও রপ্তানি করা যায়।’

 

তিনি বলেন, ‘আপনাদের নিশ্চয়ই মনে আছে, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া মেয়েদের শিক্ষা ব্যবস্থাকে ক্লাস ওয়ান থেকে টুয়েলভ পর্যন্ত ফ্রি করেছিল। সেই মা-বোনেরা শিক্ষিত হয়েছে। এখন আমরা যে কোনো স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ে যাই, দেখবো সমান সংখ্যাক মেয়েরা লেখাপড়া করছে। আজকে জনসংখ্যা অর্ধেকেরও বেশি নারী। আমরা দেশকে যদি সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই, তাহলে দেশের জনগোষ্ঠীকে পেছনে ফেলে সামনের দিকে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব না। সেজন্য খেটে-খাওয়া নারীদের জন্য, গৃহিণীদের জন্য একটি ফ্যামিলি কার্ড মা-বোনদের দিতে চাই। যাতে এই ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে প্রত্যেকটি পরিবারের কাছে অল্প হলেও সুবিধা পৌঁছাতে পারে। এতে তারা প্রতি মাসের কয়েকটি দিন হলেও স্বাচ্ছন্দ্যে অতিবাহিত করতে পারবে।’

 

তারেক রহমান আরও বলেন, ‘একইভাবে মৎস্য চাষি, ক্ষেত-খামারে চাষবাস করেন এরকম কৃষক ভাইদের পাশেও আমরা দাঁড়াতে চাই। সেজন্য কৃষক কার্ড দেওয়ার পরিকল্পনা করছি। কারণ, দেশের অধিকাংশ মানুষ কৃষক। কৃষক ভালো থাকলে বাংলাদেশের মানুষ ভালো থাকবে।’

 

তিনি বলেন, ‘বিএনপির অতীত অভিজ্ঞতা রয়েছে কীভাবে খাদ্য উৎপাদন দ্বিগুণ করতে হয়। বিএনপির অভিজ্ঞতা রয়েছে কীভাবে গ্রাম থেকে শহর পর্যন্ত রাস্তাঘাট নির্মাণ করতে হয়, কীভাবে শিক্ষার আলো ঘরে ঘরে পৌঁছে দিতে হয়। বিএনপির অভিজ্ঞতা রয়েছে কীভাবে মানুষকে নিরাপদে রাখতে হয়।’

 

মাদক সমস্যা সমাধান করতে হলে যুবকদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে। তাই যুবকদের জন্য বিভিন্ন প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘স্বাস্থ্যখাতের উন্নতির জন্য আমরা ময়মনসিংহ বিভাগের জেলা হাসপাতালগুলো বড় করতে চাই। বিএনপি সরকার গঠন করলে সব প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করা হবে। আগামী মাসের ১২ তারিখ কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিয়ে চলে আসলে চলবে না, ভোটকেন্দ্র পাহারা দিতে হবে।’

 

ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক জাকির হোসেনের সভাপতিত্বে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা সাবেক এমপি আফজাল এইচ খান, ময়মনসিংহ বিভাগীয় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শরিফুল আলম, সহসাংগঠনিক সম্পাদক ওয়ারেছ আলী মামুন, আবু ওয়াহাব আকন্দ, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, বিএনপির আইন বিষয়ক সম্পাদক কায়সার কামাল এবং বিভাগের সবগুলো আসনের ধানের শীষের প্রার্থী ও স্থানীয় বিএনপির শীর্ষ নেতারা মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন।

জাইমা রহমানের জন্মদিনে ৫ শতাধিক ছাত্রীকে বাইসাইকেল উপহার

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:১৫ অপরাহ্ণ
জাইমা রহমানের জন্মদিনে ৫ শতাধিক ছাত্রীকে বাইসাইকেল উপহার
শেয়ার করুন

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমানের জন্মদিন উপলক্ষে বগুড়ার শিবগঞ্জে ৫৪৮ জন ছাত্রীকে বিনামূল্যে বাইসাইকেল উপহার দেওয়া হয়েছে। রবিবার (২৫ অক্টোবর) বগুড়ার শিবগঞ্জ সরকারি পাইলট উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্রীদের নিয়ে এই আয়োজন করা হয়।

স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের আয়োজনে এসব ছাত্রীদের বাইসাইকেল দেওয়া হয়। এ সময় শিক্ষার্থীরা স্লোগান দেন, ‘শুভ শুভ শুভদিন, জাইমা রহমানের জন্মদিন’ ‘করবো কাজ গড়বো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’।

এ সময় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, সাত শতাধিক মেধাবী শিক্ষার্থীর পরীক্ষা নিয়েছিলাম, যার মধ্যে অংশ নিয়েছিল ৫৪৮ জন ছাত্রী। মোট ১০২টি শিক্ষার্থী প্রতিষ্ঠানের ৫৪৮জনকে ডেকে নিয়ে বাইসাইকেল উপহার দিচ্ছি।

এছাড়া যে প্রতিষ্ঠানে এই বাইসাইকেল প্রদানের আয়োজন করা হয়, তাদেরসহ প্রায় এক হাজার শিক্ষার্থীদের জাইমা রহমানের ছবি সম্বলিত মগ উপহার দেওয়া হয়।

বাইসাইকেল পেয়ে শিক্ষার্থীরা বেশ উচ্ছ্বসিত হন। কেউ কেউ স্কুল মাঠেই সাইকেল চালিয়ে আনন্দ উপভোগ করেন।

ঝোঁপঝাড়ে ফেলে যাওয়া নবজাতককে দত্তক নিতে ১২৩ পরিবারের আবেদন

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১:৩৯ অপরাহ্ণ
ঝোঁপঝাড়ে ফেলে যাওয়া নবজাতককে দত্তক নিতে ১২৩ পরিবারের আবেদন
শেয়ার করুন

চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে ফটিকছড়িতে সড়কের পাশের ঝোপঝাড়ে ফেলে যাওয়া এক নবজাত কন্যাশিশুকে দত্তক নিতে ব্যাপক আগ্রহ দেখা দিয়েছে শিশুটির লালন-পালনের দায়িত্ব নিতে এক দিনেই ১২৩টি আবেদন জমা পড়েছে।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাত পর্যন্ত ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে আবেদনকারীদের সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, আবেদনকারীদের পারিবারিক পরিবেশ, আর্থিক সামর্থ্য, শিশুর পরিচর্যার সক্ষমতা ও অন্যান্য প্রাসঙ্গিক বিষয় বিবেচনায় নিয়ে উপযুক্ত পরিবার নির্বাচনের প্রক্রিয়া চলছে। তবে, আবেদন করলেই শিশুটিকে দত্তক নেওয়ার সুযোগ মিলবে না। এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যাচাই-বাছাই ও প্রযোজ্য আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে।

ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাঈদ মোহাম্মদ ইব্রাহিম গণমাধ্যমকে বলেন, শিশুটিকে দত্তক নিতে বিপুলসংখ্যক আবেদন জমা পড়েছে। উপযুক্ত পরিবার নির্বাচনের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। যাচাই-বাছাই ও আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

এর আগে, গত বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার পাইন্দং ইউনিয়নের উত্তর পাইন্দং এলাকার আমতলীতে সড়কের পাশের ঝোঁপঝাড় থেকে নবজাতকটিকে জীবিত উদ্ধার করা হয়।

স্থানীয় লোকজন শিশুটিকে ঝোঁপের মধ্যে পড়ে থাকতে দেখে পুলিশকে খবর দেন। পরে ফটিকছড়ি থানা-পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশুটিকে উদ্ধার করেন। উদ্ধারের পর তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, শিশুটির শারীরিক অবস্থা ভালো ছিল।তবে কে বা কারা শিশুটিকে সেখানে ফেলে গেছেন, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। শিশুটির নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে উপযুক্ত পরিবার নির্বাচনের পাশাপাশি তাকে পরিত্যক্ত অবস্থায় ফেলে যাওয়ার ঘটনার রহস্য উদঘাটন ও পরিচয় শনাক্তে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় লোকজন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রচেষ্টায় ভোলাখালে অষ্টম সেতু নির্মাণের প্রস্তাব

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১:০০ অপরাহ্ণ
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রচেষ্টায় ভোলাখালে অষ্টম সেতু নির্মাণের প্রস্তাব
শেয়ার করুন

কক্সবাজারের পেকুয়ায় ভোলাখালের ওপর মগনামা বাজারপাড়া থেকে বারবাকিয়া ইউনিয়নের বোধামাঝির ঘোনা পর্যন্ত ১০০ মিটার দীর্ঘ সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রস্তাবিত সেতুটি নির্মিত হলে মগনামা ও বারবাকিয়ার মধ্যে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ স্থাপনের পাশাপাশি পেকুয়া ও কুতুবদিয়ার মানুষের যাতায়াত, পণ্য পরিবহন ও ব্যবসা-বাণিজ্যে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে বলে আশা করছেন স্থানীয়রা।

সম্প্রতি সেতু নির্মাণের উদ্যোগের অংশ হিসেবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও কক্সবাজার-১ আসনের সংসদ সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদের প্রয়োজনীয় সুপারিশ ও প্রস্তাব স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। প্রকল্পটি অনুমোদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও কারিগরি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে সেতু নির্মাণকাজ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

স্থানীয়দের মতে, সেতুটি বাস্তবায়িত হলে মগনামা ও বারবাকিয়ার মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপনের পাশাপাশি পেকুয়া ও কুতুবদিয়ার সঙ্গে মহেশখালী হয়ে চট্টগ্রামের যোগাযোগে একটি বিকল্প ও গুরুত্বপূর্ণ সড়কপথ তৈরি হতে পারে। এতে যাতায়াতের সময় ও পেকুয়া বাজার কেন্দ্রীক যানজট ভোগান্তি কমার পাশাপাশি উপকূলীয় এ অঞ্চলের আর্থসামাজিক কর্মকাণ্ড, কৃষিপণ্য,লবণ, মৎস্য পরিবহন ও ব্যবসা-বাণিজ্যে ইতিবাচক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এদিকে ‎ভোলাখালের বিভিন্ন অংশে ইতোমধ্যে সাতটি সেতু নির্মিত হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে- মগনামা শরৎঘোনা–রাজাখালী নতুনঘোনা সেতু, পেকুয়া পশ্চিম গোঁয়াখালী অংশের রাবারড্যাম সেতু, পেকুয়া বাজার–বারবাকিয়া ফাঁশিয়াখালী সেতু, পেকুয়া মৌলভীপাড়া অংশের আঞ্চলিক মহাসড়ক সেতু, পেকুয়া-বারবাকিয়া বাজার সেতু, পেকুয়া সাবমেরিন নৌঘাঁটি সড়কের সালাহউদ্দিন সেতু এবং বাগুজারা-সাকুরপাড় সেতু।

স্থানীয়দের দাবি, এসব সেতুর ধারাবাহিকতায় মগনামা বাজারপাড়া-বোধামাঝির ঘোনা সেতুটি নির্মিত হলে ভোলাখালের ওপর এটি হবে অষ্টম গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ সেতু। সেতুটি নির্মিত হলে পেকুয়া উপজেলার অভ্যন্তরীণ যোগাযোগব্যবস্থা আরও শক্তিশালী হওয়ার পাশাপাশি কুতুবদিয়ার সঙ্গে সড়ক যোগাযোগেও নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে।

 

‎

 

‎এতে শিক্ষা, চিকিৎসা, লবণ,মৎস্য ও কৃষিপণ্য পরিবহন, ব্যবসা-বাণিজ্য ও সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন চলাচলে দুই উপজেলার মানুষ সুফল পাবেন বলে প্রত্যাশা করছেন স্থানীয়রা। একই সঙ্গে পেকুয়া বাজারকেন্দ্রিক সড়কে যানবাহনের চাপও কিছুটা কমতে পারে বলে মনে করছেন তারা।

 

এলাকাবাসী জানান, দীর্ঘদিন ধরে ভোলাখাল মগনামা ও বারবাকিয়ার মানুষের স্বাভাবিক চলাচলের ক্ষেত্রে একটি বড় প্রতিবন্ধকতা হয়ে আছে। খালের ওপর প্রস্তাবিত সেতুটি নির্মিত হলে দুই এলাকার মধ্যে যোগাযোগ সহজ হওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় অর্থনীতি ও জনজীবনেও ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে।

 

‎দীর্ঘদিনের দাবি ও প্রত্যাশার পর সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়ায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এমপির প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ব্যক্তিগত প্রেস সচিব ছফওয়ানুল করিম বলেন, ‘চকরিয়া-পেকুয়া-মাতামুহুরী অঞ্চলের যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের ধারাবাহিকতায় ভোলাখালের মগনামা বাজারপাড়া অংশে ১০০ মিটার দীর্ঘ সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সুপারিশ ও প্রস্তাব স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। প্রকল্পটি অনুমোদনের পর পরবর্তী প্রশাসনিক ও কারিগরি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে সেতু নির্মাণের কাজ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে।’

 

‎তিনি বলেন, ‘সেতুটি নির্মিত হলে মগনামা, বারবাকিয়া ও আশপাশের এলাকার মানুষের চলাচল সহজ হওয়ার পাশাপাশি পেকুয়া-চকরিয়া অঞ্চলের সড়ক যোগাযোগব্যবস্থায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করছি।’

 

‎

 

‎পেকুয়া উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসাইন বলেন, ‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের প্রচেষ্টায় মগনামা-বোধামাঝির ঘোনা সেতু নির্মাণের উদ্যোগের খবরে বারবাকিয়া ও আশপাশের এলাকার মানুষের মধ্যে উৎসাহ সৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এ অঞ্চলের মানুষ যোগাযোগের ক্ষেত্রে নানা দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। সেতুটি নির্মিত হলে বারবাকিয়াসহ আশপাশের এলাকার সঙ্গে পেকুয়া উপজেলার সরাসরি ও সহজ যোগাযোগব্যবস্থা গড়ে উঠবে। একই সঙ্গে শিক্ষা, চিকিৎসা, কৃষি, ব্যবসা-বাণিজ্য ও সাধারণ মানুষের চলাচলেও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।’

তিনি বলেন, ‘মহেশখালীর মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর, পেকুয়া ও কুতুবদিয়ার মধ্যে যাতায়াত এবং পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রেও এ সেতু গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। জনগণের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণে দ্রুত প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে সেতুটির নির্মাণকাজ শুরুর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।’