খুঁজুন
, ,

৫ শতাধিক বাংলাদেশি অনিশ্চয়তায়

এক আঙুলের ছাপ দিয়ে আজ তারা ‘রোহিঙ্গা’

জসিম উদ্দিন
প্রকাশিত: রবিবার, ২ আগস্ট, ২০২৬, ১১:৩৭ পূর্বাহ্ণ
এক আঙুলের ছাপ দিয়ে আজ তারা ‘রোহিঙ্গা’
শেয়ার করুন

কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফ উপকূলের জলবায়ু-পীড়িত, দরিদ্র মানুষগুলোর দিন কাটে নিত্য অভাবের সঙ্গে লড়াই করে। চরম সেই অসহায়ত্ব আজ তাদের দাঁড় করিয়েছে এক মারাত্মক আইনি বিপর্যয়ের মুখে। সামান্য একটু ত্রাণের আশায় একটি আঙুলের ছাপ দিয়ে আজ নিজ দেশেই ‘রোহিঙ্গা’ পরিচয় নিয়ে আইনি সংকটে আটকে পড়েছেন ৫ শতাধিক স্থানীয় বাংলাদেশি। ২০১৭ সালের দিকে মিয়ানমার থেকে আসা লাখ লাখ বাস্তুচ্যুত মানুষের ঢলে যখন উখিয়া-টেকনাফ ভেসে যাচ্ছিল, তখন আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর দেওয়া ত্রাণের লাইনে দাঁড়িয়েছিলেন চরম অভাব অনটনে থাকা স্থানীয় ভুখা মানুষও। পাহাড়ি জঙ্গল, নদীভাঙন আর চরম দারিদ্র্যে দিশেহারা সেসব পরিবারের কাছে চাল-ডাল-তেলের এক প্যাকেট ত্রাণ ছিল জীবন বাঁচানোর একমাত্র অবলম্বন। কিন্তু বেঁচে থাকার এই ন্যূনতম আকুতির মুহূর্তেই নিঃশব্দে তৈরি হয় চিরদিনের আইনি ফাঁদ। কীভাবে কিংবা কীসের খাতায় তাদের নাম উঠছে, তা বোঝার মতো কোনো প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা বা সচেতনতা ছিল না এসব মানুষের। শুধু পেটের খিদে মেটাতে লাইনে দাঁড়িয়ে দেওয়া একটি আঙুলের ছাপই আন্তর্জাতিক ডাটাবেজে তাদের স্থায়ীভাবে ‘রোহিঙ্গা’ বানিয়ে দেয়। ফলশ্রুতিতে আজ নিজেদের পাসপোর্ট, জাতীয় পরিচয়পত্র কিংবা মৌলিক নাগরিক সুবিধা নিতে গিয়ে থমকে যাচ্ছেন তারা।

 

 

লজ্জার আড়ালে চাপা পড়া হাজারো আকুতি : বাংলাদেশি হয়ে রোহিঙ্গা পরিচয় বহন করা এমন বহু পরিবারের সঙ্গে প্রতিবেদকের কথা হয়, যারা নিজেদের নাম-পরিচয় প্রকাশ করতে চাননি। সমাজ আর প্রতিবেশীদের কাছে ‘রোহিঙ্গা’ হিসাবে চিহ্নিত হওয়ার তীব্র লজ্জায় তারা আড়ালেই থেকে যেতে চান। উখিয়ার এক দুর্গম গ্রামের ৬৫ বছরের এক দিনমজুর, তিনি নিজের পরিচয় গোপন রাখার শর্তে অশ্রুসজল চোখে জানান সেই দিনগুলোর কথা। ‘‘ঘরে তখন চাল ছিল না, ছোট বাচ্চা দুটো খিদের জ্বালায় কাঁদছিল। ক্যাম্পের পাশে ত্রাণের বড় বড় গাড়ি দেখে আমরা পাড়ার কয়েকজন মানুষ কৌতূহল আর পেটের তাগিদে লাইনে গিয়ে দাঁড়িয়েছিলাম। তারা ছবি তুলল, মেশিনে আঙুলের ছাপ নিল আর আমাদের হাতে একটা রেশনের কার্ড দিল। আমরা ভেবেছিলাম হয়তো গরিবদের সাহায্য করা হচ্ছে। এক-দুই বেলা দুমুঠো ভাতের আশায় দেওয়া ওই ছবি আর আঙুলের ছাপ যে আমাদের আজীবনের জন্য ‘রোহিঙ্গা’ বানিয়ে দেবে, তা জানলে বিষ খেয়ে মরে যেতাম, তবু ওই লাইনে দাঁড়াতাম না।’’

 

ছেনুয়ারা বেগমের গল্প : টেকনাফের নয়াপাড়া শিলখালী গ্রামের ৪৬ বছর বয়সি ছেনুয়ারা বেগম জন্মসূত্রে বাংলাদেশি। তার কাছে নিজের আসল এনআইডি কার্ড রয়েছে। ২০১৭ সালের সেই উত্তাল সময়ে তিনি রোহিঙ্গা ত্রাণ কার্ডের জন্য বায়োমেট্রিক নিবন্ধন করেন, যেখানে তার নাম দাঁড়ায় ‘রহিমা’। আজ সেই এক প্যাকেট চালের বিনিময়ে দেওয়া আঙুলের ছাপ তার জীবনকে স্থবির করে দিয়েছে। এক দেহে দুই পরিচয় নিয়ে ছেনুয়ারা বেগম এখন নিজ জন্মভূমিতেই যেন এক ‘ছায়ামানব’।

 

খেলার ছলে দেওয়া আঙুলের ছাপে নিষ্পাপ শিশুর ভবিষ্যৎ অন্ধকারে : উখিয়ার পালংখালী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এম গফুর উদ্দিন চৌধুরী তার এলাকার ১১ বছরের শিশু গুরার (গুরায়া) করুণ উদাহরণ তুলে ধরেন। তিনি জানান, গুরায়ার বাবা বিশার আহমদ আর মা লায়লা বেগম-দুজনেই জন্মসূত্রে নিখাদ বাংলাদেশি। গুরায়া যখন আরও ছোট, ক্ষুধা আর অবুঝ বয়সের কারণে পাড়ার অন্য বাচ্চাদের সঙ্গে ত্রাণ নেওয়ার লাইনে গিয়ে দাঁড়ায়। খেলার ছলেই বায়োমেট্রিক মেশিনে আঙুলের ছাপ দিয়ে ফেলেছিল। আজ এত বছর পর ছেলেটা যখন পাসপোর্টের আবেদন করতে গেল, ডাটাবেজ তাকে দেখাচ্ছে ‘নিবন্ধিত রোহিঙ্গা’। এভাবে একটা পুরো শিশুর ভবিষ্যৎ থমকে গেল। চেয়ারম্যান আফসোস করে বলেন, কেবল তার এলাকা থেকেই ৭০ জনের বেশি মানুষ দ্বারে দ্বারে ঘুরে বেড়াচ্ছেন, কিন্তু কোনো সুরাহা পাচ্ছেন না।

 

যা বলছে প্রশাসন : বিষয়টি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (আরআরআরসি) মোহাম্মদ মিজানুর রহমান। তিনি বলেন, উখিয়া-টেকনাফের চরম দারিদ্র্যপীড়িত ৩০০ জন বা তারও বেশি বাংলাদেশি নাগরিক কেবল ত্রাণের আশায় ও সঠিক তথ্যের অভাবে রোহিঙ্গা ডাটাবেজে যুক্ত হয়ে পড়েছিলেন। তারা কোনো চক্রান্তের অংশ ছিলেন না, বরং তাদের নিরক্ষরতা ও দারিদ্র্যের সুযোগ তৈরি হয়েছিল। এখন তারা জাতীয় পরিচয়পত্র ও পাসপোর্ট নিতে গিয়ে চরম আইনি সংকটে পড়ছেন। যেহেতু এটি আন্তর্জাতিক ডাটাবেজের বিষয়, তাই এই তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়া বেশ জটিল ও সময়সাপেক্ষ। অনেকে রোহিঙ্গা নারী বিয়ে করে ইতোমধ্যে নোয়াখালীর ভাসানচরে গিয়ে বসবাস করছেন বলে জানান তিনি।

 

কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান বলেন, রোহিঙ্গা কার্ড বাতিল করে নিজেদের বাংলাদেশি প্রমাণের জন্য আমি ইতোমধ্যে বেশ কিছু আবেদন পেয়েছি। এ সমস্যার একটি সহজ ও কার্যকর পথ বের করতে আমরা বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছি এবং খুব শিগগিরই আরআরআরসির সঙ্গে বৈঠকে বসে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেব।

ঝোঁপঝাড়ে ফেলে যাওয়া নবজাতককে দত্তক নিতে ১২৩ পরিবারের আবেদন

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১:৩৯ অপরাহ্ণ
ঝোঁপঝাড়ে ফেলে যাওয়া নবজাতককে দত্তক নিতে ১২৩ পরিবারের আবেদন
শেয়ার করুন

চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে ফটিকছড়িতে সড়কের পাশের ঝোপঝাড়ে ফেলে যাওয়া এক নবজাত কন্যাশিশুকে দত্তক নিতে ব্যাপক আগ্রহ দেখা দিয়েছে শিশুটির লালন-পালনের দায়িত্ব নিতে এক দিনেই ১২৩টি আবেদন জমা পড়েছে।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাত পর্যন্ত ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে আবেদনকারীদের সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, আবেদনকারীদের পারিবারিক পরিবেশ, আর্থিক সামর্থ্য, শিশুর পরিচর্যার সক্ষমতা ও অন্যান্য প্রাসঙ্গিক বিষয় বিবেচনায় নিয়ে উপযুক্ত পরিবার নির্বাচনের প্রক্রিয়া চলছে। তবে, আবেদন করলেই শিশুটিকে দত্তক নেওয়ার সুযোগ মিলবে না। এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যাচাই-বাছাই ও প্রযোজ্য আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে।

ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাঈদ মোহাম্মদ ইব্রাহিম গণমাধ্যমকে বলেন, শিশুটিকে দত্তক নিতে বিপুলসংখ্যক আবেদন জমা পড়েছে। উপযুক্ত পরিবার নির্বাচনের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। যাচাই-বাছাই ও আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

এর আগে, গত বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার পাইন্দং ইউনিয়নের উত্তর পাইন্দং এলাকার আমতলীতে সড়কের পাশের ঝোঁপঝাড় থেকে নবজাতকটিকে জীবিত উদ্ধার করা হয়।

স্থানীয় লোকজন শিশুটিকে ঝোঁপের মধ্যে পড়ে থাকতে দেখে পুলিশকে খবর দেন। পরে ফটিকছড়ি থানা-পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশুটিকে উদ্ধার করেন। উদ্ধারের পর তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, শিশুটির শারীরিক অবস্থা ভালো ছিল।তবে কে বা কারা শিশুটিকে সেখানে ফেলে গেছেন, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। শিশুটির নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে উপযুক্ত পরিবার নির্বাচনের পাশাপাশি তাকে পরিত্যক্ত অবস্থায় ফেলে যাওয়ার ঘটনার রহস্য উদঘাটন ও পরিচয় শনাক্তে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় লোকজন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রচেষ্টায় ভোলাখালে অষ্টম সেতু নির্মাণের প্রস্তাব

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১:০০ অপরাহ্ণ
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রচেষ্টায় ভোলাখালে অষ্টম সেতু নির্মাণের প্রস্তাব
শেয়ার করুন

কক্সবাজারের পেকুয়ায় ভোলাখালের ওপর মগনামা বাজারপাড়া থেকে বারবাকিয়া ইউনিয়নের বোধামাঝির ঘোনা পর্যন্ত ১০০ মিটার দীর্ঘ সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রস্তাবিত সেতুটি নির্মিত হলে মগনামা ও বারবাকিয়ার মধ্যে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ স্থাপনের পাশাপাশি পেকুয়া ও কুতুবদিয়ার মানুষের যাতায়াত, পণ্য পরিবহন ও ব্যবসা-বাণিজ্যে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে বলে আশা করছেন স্থানীয়রা।

সম্প্রতি সেতু নির্মাণের উদ্যোগের অংশ হিসেবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও কক্সবাজার-১ আসনের সংসদ সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদের প্রয়োজনীয় সুপারিশ ও প্রস্তাব স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। প্রকল্পটি অনুমোদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও কারিগরি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে সেতু নির্মাণকাজ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

স্থানীয়দের মতে, সেতুটি বাস্তবায়িত হলে মগনামা ও বারবাকিয়ার মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপনের পাশাপাশি পেকুয়া ও কুতুবদিয়ার সঙ্গে মহেশখালী হয়ে চট্টগ্রামের যোগাযোগে একটি বিকল্প ও গুরুত্বপূর্ণ সড়কপথ তৈরি হতে পারে। এতে যাতায়াতের সময় ও পেকুয়া বাজার কেন্দ্রীক যানজট ভোগান্তি কমার পাশাপাশি উপকূলীয় এ অঞ্চলের আর্থসামাজিক কর্মকাণ্ড, কৃষিপণ্য,লবণ, মৎস্য পরিবহন ও ব্যবসা-বাণিজ্যে ইতিবাচক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এদিকে ‎ভোলাখালের বিভিন্ন অংশে ইতোমধ্যে সাতটি সেতু নির্মিত হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে- মগনামা শরৎঘোনা–রাজাখালী নতুনঘোনা সেতু, পেকুয়া পশ্চিম গোঁয়াখালী অংশের রাবারড্যাম সেতু, পেকুয়া বাজার–বারবাকিয়া ফাঁশিয়াখালী সেতু, পেকুয়া মৌলভীপাড়া অংশের আঞ্চলিক মহাসড়ক সেতু, পেকুয়া-বারবাকিয়া বাজার সেতু, পেকুয়া সাবমেরিন নৌঘাঁটি সড়কের সালাহউদ্দিন সেতু এবং বাগুজারা-সাকুরপাড় সেতু।

স্থানীয়দের দাবি, এসব সেতুর ধারাবাহিকতায় মগনামা বাজারপাড়া-বোধামাঝির ঘোনা সেতুটি নির্মিত হলে ভোলাখালের ওপর এটি হবে অষ্টম গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ সেতু। সেতুটি নির্মিত হলে পেকুয়া উপজেলার অভ্যন্তরীণ যোগাযোগব্যবস্থা আরও শক্তিশালী হওয়ার পাশাপাশি কুতুবদিয়ার সঙ্গে সড়ক যোগাযোগেও নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে।

 

‎

 

‎এতে শিক্ষা, চিকিৎসা, লবণ,মৎস্য ও কৃষিপণ্য পরিবহন, ব্যবসা-বাণিজ্য ও সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন চলাচলে দুই উপজেলার মানুষ সুফল পাবেন বলে প্রত্যাশা করছেন স্থানীয়রা। একই সঙ্গে পেকুয়া বাজারকেন্দ্রিক সড়কে যানবাহনের চাপও কিছুটা কমতে পারে বলে মনে করছেন তারা।

 

এলাকাবাসী জানান, দীর্ঘদিন ধরে ভোলাখাল মগনামা ও বারবাকিয়ার মানুষের স্বাভাবিক চলাচলের ক্ষেত্রে একটি বড় প্রতিবন্ধকতা হয়ে আছে। খালের ওপর প্রস্তাবিত সেতুটি নির্মিত হলে দুই এলাকার মধ্যে যোগাযোগ সহজ হওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় অর্থনীতি ও জনজীবনেও ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে।

 

‎দীর্ঘদিনের দাবি ও প্রত্যাশার পর সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়ায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এমপির প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ব্যক্তিগত প্রেস সচিব ছফওয়ানুল করিম বলেন, ‘চকরিয়া-পেকুয়া-মাতামুহুরী অঞ্চলের যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের ধারাবাহিকতায় ভোলাখালের মগনামা বাজারপাড়া অংশে ১০০ মিটার দীর্ঘ সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সুপারিশ ও প্রস্তাব স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। প্রকল্পটি অনুমোদনের পর পরবর্তী প্রশাসনিক ও কারিগরি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে সেতু নির্মাণের কাজ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে।’

 

‎তিনি বলেন, ‘সেতুটি নির্মিত হলে মগনামা, বারবাকিয়া ও আশপাশের এলাকার মানুষের চলাচল সহজ হওয়ার পাশাপাশি পেকুয়া-চকরিয়া অঞ্চলের সড়ক যোগাযোগব্যবস্থায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করছি।’

 

‎

 

‎পেকুয়া উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসাইন বলেন, ‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের প্রচেষ্টায় মগনামা-বোধামাঝির ঘোনা সেতু নির্মাণের উদ্যোগের খবরে বারবাকিয়া ও আশপাশের এলাকার মানুষের মধ্যে উৎসাহ সৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এ অঞ্চলের মানুষ যোগাযোগের ক্ষেত্রে নানা দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। সেতুটি নির্মিত হলে বারবাকিয়াসহ আশপাশের এলাকার সঙ্গে পেকুয়া উপজেলার সরাসরি ও সহজ যোগাযোগব্যবস্থা গড়ে উঠবে। একই সঙ্গে শিক্ষা, চিকিৎসা, কৃষি, ব্যবসা-বাণিজ্য ও সাধারণ মানুষের চলাচলেও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।’

তিনি বলেন, ‘মহেশখালীর মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর, পেকুয়া ও কুতুবদিয়ার মধ্যে যাতায়াত এবং পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রেও এ সেতু গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। জনগণের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণে দ্রুত প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে সেতুটির নির্মাণকাজ শুরুর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।’

সাঈদীর মামলার বাদীর দাফনে আসেনি কেউ, কবর খুঁড়লেন স্ত্রী-মেয়ে-বোন

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৫১ অপরাহ্ণ
সাঈদীর মামলার বাদীর দাফনে আসেনি কেউ, কবর খুঁড়লেন স্ত্রী-মেয়ে-বোন
শেয়ার করুন

আল্লামা দেলোয়ার হোসেন সাঈদীর মামলার বাদী ও রাষ্ট্রপক্ষের অন্যতম প্রধান সাক্ষী মানিক পশারীর মরদেহ জামায়াত নেতাকর্মী ও স্থানীয়দের তোপের মুখে ১৭ ঘণ্টা পর গভীর রাতে পরিবারের নারী সদস্যদের খোঁড়া কবরে দাফন করা হয়েছে। শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাত ২টার দিকে পিরোজপুর সদর উপজেলার শংকরপাশা ইউনিয়নের চিতলিয়া গ্রামে মানিক পশারীর বাড়িতে তার মরদেহ দাফন সম্পন্ন করে পুলিশ।

এর আগে গতকাল শনিবার সকাল ১০টার দিকে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় পলাতক থাকা অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। পরে একইদিন দুপুর ১২টায় পিরোজপুর সদর উপজেলা পরিষদ চত্বরে মানিক পশারীর মরদেহ এলে স্বজনরা জেলা জামায়াতের নেতাকর্মী ও স্থানীয়দের তোপের মুখে পড়ে। পরে পুলিশের সহায়তায় মরদেহ সরিয়ে নেওয়া হয় পুলিশ লাইনসে। সেখানে বিকেল ৫টার দিকে গার্ড অব অনার শেষে নিশ্চিদ্র নিরাপত্তায় লাশ ঘিরে রাখে সদর থানা পুলিশ।

 

পরে রাত ১টার দিকে সদর থানা পুলিশ জেলা জামায়াতে ইসলামীর নেতাদের সহায়তায় মরদেহ বাড়িতে পৌঁছে। রাতে মানিক পশারীর স্ত্রী, মেয়ে ও বোনসহ পরিবারের অন্য সদস্যরা মিলে কবর খুঁড়ে রাত ২টার দিকে দাফন কাজ শেষ করা হয়। এসময় কিছু স্থানীয়রা উপস্থিত ছিলেন।

মানিক পশারীর বোন বলেন, আমার ভাইরে টুঙ্গিপাড়া দিয়া পিরোজপুর আনার পর ওখানে ঝামেলা হইছে। একবার মোরা কবর খুঁড়ছি, সেই কবর লোকজনে আবার ভরাট করে ফেলছে। আবার মোরা কবর খুঁড়ছি এবং পুলিশ লাশ আনার পরে মোরাই মাডি দিছি। কোনো পুরুষ মানুষ আয় নাই।

 

পিরোজপুর জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি আব্দুর রাজ্জাক বলেন, মানিক পশারীর লাশ দাফনে পিরোজপুর জেলা জায়ামাতের নেতা এবং অঙ্গ সংগঠনের কোনো নেতা বাঁধা সৃষ্টি করেনি। জামায়াতে ইসলামীর নেতারা লাশের রাজনীতি করে না। তাই পিরোজপুর সদর থানা পুলিশকে পুরোপুরি সহায়তা করে লাশ দাফন কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে।

 

পিরোজপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: শরিফুল ইসলাম বলেন, পুলিশের নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে মানিক পশারীর লাশ দাফন সম্পন্ন করা হয়েছে। কবরের পাশে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

মানিক পশারী (৮৭) পিরোজপুর সদর উপজেলার শংকরপাশা ইউনিয়নের চিতলিয়া গ্রামের ৭ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা। তিনি জামায়াত নেতা আল্লামা দেলোয়ার হোসেন সাঈদীর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মানবতা বিরোধী অপরাধের মামলার বাদী ও রাষ্ট্রপক্ষের অন্যতম প্রধান সাক্ষী ছিলেন। ২০২৪ সালে আগস্টে ছাত্র জনতার গণঅভ্যুত্থানের পরে তিনি যশোরে ও গোপালগঞ্জে টুঙ্গিপাড়ায় তার মেয়ের জামাইয়ের কাছে আশ্রয় নেন। মানিক গত ২ মাস ধরে অসুস্থ হয়ে মৃত্যুবরণ করেন।