ওসির স্বাক্ষর জাল করে বেতন-ভাতা আত্মসাৎ, দুদকের মামলা
কক্সবাজার সদর মডেল থানার ওসির স্বাক্ষর জাল করে বেতন-ভাতা বাবদ পুলিশের ১০ লাখ ১৫ হাজার ২৫০ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে মামলা হয়েছে। গত ১৩ আগস্ট দুদকের কক্সবাজার সমন্বিত জেলা কার্যালয় মামলাটি করলেও আজ মঙ্গলবার বিষয়টি জানাজানি হয়।
দুদকের কক্সবাজার সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক অনিক বড়ুয়া বাবু বাদী হয়ে এ মামলা করেন। তিনি বলেন, মামলার অভিযোগের বিষয়ে এখন পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করা হবে। সরকারি টাকা আত্মসাতের ঘটনায় আরও কেউ জড়িত থাকলে তাদেরও আইনের আওতায় আনা হবে।
এজাহারে বলা হয়েছে, কক্সবাজার সদর মডেল থানায় ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হিসেবে মো. ইলিয়াস খান গত বছরের ২১ নভেম্বর যোগদান করেন। থানার রেজিস্ট্রার নিজ হাতে রক্ষণাবেক্ষণ করার কথা থাকলেও সেটি হয়নি। থানার কনস্টেবল মো. জুয়েল আহমেদকে এ দায়িত্ব দেওয়া হয়। কিন্তু জুয়েল আহমেদ সুযোগ কাজে লাগিয়ে ২০২৪ সালের নভেম্বর থেকে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত ২২টি চেকের মাধ্যমে ১০ লাখ ১৫ হাজার ২৫০ টাকা আত্মসাৎ করেন। এদিকে গত ২৪ মার্চ থেকে কর্মস্থলে অনুপস্থিত কনস্টেবল জুয়েল। বিষয়টি নজরে আসার পর তার ব্যাপারে খোঁজ নিতে শুরু করেন থানার ওসি। খোঁজ নেওয়ার একপর্যায়ে জুয়েলের নানা অপকর্ম বেরিয়ে আসতে শুরু করে। এমনকি কনস্টেবল জুয়েল অনলাইন জুয়া খেলায় আসক্ত বলেও তথ্য পান ওসি। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে গত ২৭ এপ্রিল ঢাকার বসুন্ধরা সিটি কমপ্লেক্স থেকে তেজগাঁও থানার সহযোগিতায় জুয়েলকে আটক করে পুলিশ। সরকারি টাকা আত্মসাতের ঘটনায় ২৯ এপ্রিল কক্সবাজার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ৫৪ ধারায় হাজির করা হয়। ওইদিনই কনস্টেবল জুয়েল আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দেন। পরে এ বিষয়টি নিয়ে আইনী ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য কক্সবাজার সদর মডেল থানা থেকে দুদকের কক্সবাজার সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে কাগজপত্র পাঠানো হয়। দীর্ঘ প্রক্রিয়া শেষে দুদক এ মামলাটি দায়ের করে। তবে মামলার এজাহারে কতজন পুলিশ সদস্যের টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে তা উল্লেখ করা হয়নি।
এ বিষয়ে কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইলিয়াস খান বলেন, ‘আমার মনে হয় না এ ঘটনার সঙ্গে জুয়েল ছাড়া অন্য কেউ জড়িত আছে। তারপরও দুদক যখন তদন্ত করছে সব কিছু বেরিয়ে আসবে।’

আপনার মতামত লিখুন