খুঁজুন
, ,

কক্সবাজারের অগ্নি দুর্ঘটনা নিয়ে এলপিজি স্টেশনের মালিক এন. আলমের বিবৃতি

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১১:৩৪ অপরাহ্ণ
কক্সবাজারের অগ্নি দুর্ঘটনা নিয়ে এলপিজি স্টেশনের মালিক এন. আলমের বিবৃতি
শেয়ার করুন

কক্সবাজারের কলাতলীর এলপিজি গ্যাস পাম্পে ঘটে যাওয়া দুর্ঘটনা নিয়ে এবার মুখ বলেছেন কক্সবাজার ফিলিং স্টেশনের মালিক এন আলম। গণমাধ্যমে পাঠানো তার বিবৃতি টি হুবুহু তুলে ধরা হলো।

আসসালামু আলাইকুম
প্রিয় কক্সবাজার বাসি, গত বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) আমার মালিকানাধীন ‘কক্সবাজার এলপিজি স্টেশন’-এ অগ্নি দুর্ঘটনার ঘটনার ঘটেছে। ঘটনাটি একেবারে অনাকাঙ্ক্ষিত ও নিছক দুর্ঘটনা। আমি সবার আগে এই দুর্ঘটনায় অগ্নিদগ্ধ হয়ে চিকিৎসাধীন লোকজন ও তাদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি। তাদের কষ্টে-যন্ত্রণায় আমি সমব্যথী। তাদের এই যন্ত্রণা আমার মনে মারাত্মকভাবে আঘাত করেছে। ঘটনার পর থেকে অসুস্থ হয়ে আমি শয্যাশায়ী অবস্থায় আছি।
প্রথম, আমি একজন প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী। এলপিজি ও জ্বালানি তেল ব্যবসায় আমার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে। রামু উপজেলা/ চকরিয়া উপজেলায় আরো কয়েকটি প্রতিষ্ঠান রয়েছে প্রতিষ্ঠানটি সরকারি ও পরিবেশগত সর্বোচ্চ নিয়ম-নীতি বাস্তবায়ন করে প্রতিষ্ঠা করেছি। দক্ষ প্রতিষ্ঠান দিয়ে এই এলপিজি স্টেশনটি নির্মাণ করা হয়েছে এবং দক্ষ নিয়োগ দিয়ে পরিচালনা করার চিন্তা ছিল । কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস, অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে এই দুর্ঘটনাটি ঘটেছে। দুর্ঘটনায়, ৮জন অগ্নিদগ্ধ হয়েছে৷ তাদের মধ্যে ছয়জনের অবস্থা গুরুতর হয়েছে। ঘটনার পর থেকে তাদের চিকিৎসার সম্পূর্ণ দায়দায়িত্ব আমি গ্রহণ করেছি। বর্তমানে তাদের ছয়জনের মধ্যে ৩ জন চট্টগ্রামে ও ৩ জন ঢাকায় সর্বোচ্চ চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। এসব রোগীদের সাথে আমি এবং আমার লোকজন সার্বক্ষণিক নিয়োজিত। সঠিক ও সর্বোচ্চ চিকিৎসা নিশ্চিত করতে আমাদের কোনো ধরণের গাফিলতি নেই। এছাড়া আগুনে ঘরপুড়ে এবং নানাভাবে আরো যারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তাদের পাশে দাঁড়ানোর ইচ্ছা পোষণ করেছি আমি। আইনকে শ্রদ্ধা করে আইন মতে তাদের ক্ষতিপূরণ দেয়া হবে, ইনশাআল্লাহ।
একটি কথা সবাই জানবেন, এত বড় দুর্ঘটনা কেউ ইচ্ছে করে ঘটায় না বা কাজে এরকম কোনো অবহেলা রাখে না। দুর্ঘটনা সম্পূর্ণ আল্লাহর হাতে। দুর্ঘটনায় আমার অপূ্রণীয় আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। কিন্তু তাতে আমার একবিন্দু কষ্ট নেই। আমার কষ্ট অগ্নিদগ্ধে হাসপাতালের বিছানায় যন্ত্রণায় কাতরানো মানুষগুলোর কষ্টে। আর নানাভাবে ক্ষতিগ্রস্ত লোকজনের দুঃখে। এখন আমরা প্রধান ও একমাত্র কাজ দ্রুত সময়ের মধ্যে আহতদের সুস্থ করে তোলা। তার জন্য আমার যা যা করার দরকার সব করে যাবো ইনশাআল্লাহ ।
জেলা প্রশাসন এই ঘটনার তদন্ত কমিটি গঠন করছে। টিমের কাছে আমার ও ক্ষতিগ্রস্ত লোকজন বক্তব্য দিয়েছে। তদন্তে যাই উঠে আসে আমি তাই মেনে নেবো। আমার যা শাস্তি হয় তাই মাথা পেতে নেবো৷ কিন্তু এই ঘটনায় একটি কুচক্রী মহলের ষড়যন্ত্রের আভাস রয়েছে। প্রথমে সন্ধ্যা ৭টার দিকে গ্যাস লিকেজ হয়, কিন্তু অগ্নিকান্ড । তখন বালু ও অগ্নিনির্বাপন যন্ত্র এবং ফায়ার সার্ভিসের সহযোগিতায় লিকেজ আগুন বন্ধ করা হয়। কিন্তু পুনরায় দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকায় ফায়ার সার্ভিসের পরামর্শক্রমে টাংকিতে থাকা গ্যাস ছেড়ে দেয়া হয়। এসময় ফায়ার সার্ভিস আশেপাশে কোনো ধরনের আগুন না জ্বালাতে মাইকিং করে সবাইকে সতর্ক করেন। কিন্তু সন্দেহ হচ্ছে, গ্যাস ছেড়ে দেওয়া কালে আমার অ্যাসোসিয়েশনের পার্শ্ববর্তী বেলায়েত এবং সোহেল গং আমার স্টাফদের উপরে আক্রমণ করে একজনকে আহত করে।
তাকে সদর হাসপাতালে পাঠানো হয় এর পরবর্তীতে বেলায়েত-সোহেল গং আমার স্টাফদেরকে বলে- সবাই বের হয়ে যাও আমরা থাকবো ভিতরে। এর পরবর্তীতে ১০টা ৫ মিনিটের দিকে পাম্পের ৩০০ ফুট দূরের একটি গ্যারেজের সেখান থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়। স্থানীয়রা এবং আমি মনে করছি , ওই কুচক্রটি ষড়যন্ত্রমূলকভাবে গ্যারেজে ওয়েল্ডিং করে নাশকতার উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে আগুনের সূত্রপাত ঘটিয়েছে। এতে আগুন লেগে আহত ও ঘরবাড়ি পুড়ে গেছে।

এদিকে আলামত নষ্ট না হওয়ার জন্য প্রশাসনের পরামর্শক্রমে পাম্প বেড়া দিয়ে ঘেরাও করার কাজ করা হয়। কিন্তু ওই চক্রটি সংঘবদ্ধভাবে হামলা করে বেড়া ভাংচুর করেছে এবং গতকাল রাত্রে পাম্পের অনেক কিছু লুটপাট করে নিয়ে যায় ও পেছনের একটি দেওয়ালও ভেঙে ফেলে। আরো দেখা যায়, আমাদের বিদ্যুতের তার, লাইটের তার, সিসি ক্যামেরার তার ছিঁড়ে ফেলে। একইসাথে চক্রটি বিভিন্ন ফেসবুক পেজ এবং নিজেদের আইডিতে বিভ্রমূলক প্রপাগাণ্ডা ছড়াচ্ছে। ঘটনাটি অবগত হয়ে সদর থানার পুলিশের দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। একইভাবে চক্রটি সাংবাদিকদের মিসগাইড করে নানা ধরণের মিথ্যা প্রপাগাণ্ডা ছড়াচ্ছেন।
এই বেলায়েত এবং সোহেলদের দ্বারাই পরবর্তী আগুনটা হয়েছে বলে প্রতীয়মান হচ্ছে। সেই জন্য ওদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে ঘটনার অনেক গোপনীয় রহস্য বের হতে পারে। এই বিষয়ে তদন্ত কমিটির প্রধান ও ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসিকে লিখিতভাবে অবহিত করা হবে।

পরিশেষে আমি দৃঢ়ভাবে বলছি, পরিবেশ অধিদপ্তর, বিস্ফোরক অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরের প্রয়োজনীয় সব লাইসেন্স ও অনুপতিপত্র নিয়ে দুর্ঘটনার শিকার ‘কক্সবাজার এলপিজি স্টেশনটি’ সম্পূর্ণ বৈধপন্থায় যাত্রা করা হয়। তার সব কাগজপত্র আমি তদন্ত কমিটির কাছে হস্তান্তর করেছি। এছাড়া সকলের জ্ঞাতার্থে প্রকাশ করছি।

কিন্তু কিছু সাংবাদিক ভাই ও সাধারণ লোকজন তথ্য অবগত না হয়ে এই গ্যাস পাম্পটি অবৈধ বলে প্রচার করছে- এটা সত্য নয়। পরিশেষে আহত হয়ে পবিত্র রমজানে হাসপাতালে যন্ত্রণায় কাতরানো মানুষগুলোর জন্য সবাই দোয়া করবেন। আমি তাদের পাশে আছি।

এইচ এম নুরুল আলম (এন আলম)
স্বত্বাধিকারী, দুর্ঘটনার শিকার ‘কক্সবাজার এলপিজি স্টেশন’

জাইমা রহমানের জন্মদিনে ৫ শতাধিক ছাত্রীকে বাইসাইকেল উপহার

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:১৫ অপরাহ্ণ
জাইমা রহমানের জন্মদিনে ৫ শতাধিক ছাত্রীকে বাইসাইকেল উপহার
শেয়ার করুন

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমানের জন্মদিন উপলক্ষে বগুড়ার শিবগঞ্জে ৫৪৮ জন ছাত্রীকে বিনামূল্যে বাইসাইকেল উপহার দেওয়া হয়েছে। রবিবার (২৫ অক্টোবর) বগুড়ার শিবগঞ্জ সরকারি পাইলট উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্রীদের নিয়ে এই আয়োজন করা হয়।

স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের আয়োজনে এসব ছাত্রীদের বাইসাইকেল দেওয়া হয়। এ সময় শিক্ষার্থীরা স্লোগান দেন, ‘শুভ শুভ শুভদিন, জাইমা রহমানের জন্মদিন’ ‘করবো কাজ গড়বো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’।

এ সময় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, সাত শতাধিক মেধাবী শিক্ষার্থীর পরীক্ষা নিয়েছিলাম, যার মধ্যে অংশ নিয়েছিল ৫৪৮ জন ছাত্রী। মোট ১০২টি শিক্ষার্থী প্রতিষ্ঠানের ৫৪৮জনকে ডেকে নিয়ে বাইসাইকেল উপহার দিচ্ছি।

এছাড়া যে প্রতিষ্ঠানে এই বাইসাইকেল প্রদানের আয়োজন করা হয়, তাদেরসহ প্রায় এক হাজার শিক্ষার্থীদের জাইমা রহমানের ছবি সম্বলিত মগ উপহার দেওয়া হয়।

বাইসাইকেল পেয়ে শিক্ষার্থীরা বেশ উচ্ছ্বসিত হন। কেউ কেউ স্কুল মাঠেই সাইকেল চালিয়ে আনন্দ উপভোগ করেন।

ঝোঁপঝাড়ে ফেলে যাওয়া নবজাতককে দত্তক নিতে ১২৩ পরিবারের আবেদন

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১:৩৯ অপরাহ্ণ
ঝোঁপঝাড়ে ফেলে যাওয়া নবজাতককে দত্তক নিতে ১২৩ পরিবারের আবেদন
শেয়ার করুন

চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে ফটিকছড়িতে সড়কের পাশের ঝোপঝাড়ে ফেলে যাওয়া এক নবজাত কন্যাশিশুকে দত্তক নিতে ব্যাপক আগ্রহ দেখা দিয়েছে শিশুটির লালন-পালনের দায়িত্ব নিতে এক দিনেই ১২৩টি আবেদন জমা পড়েছে।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাত পর্যন্ত ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে আবেদনকারীদের সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, আবেদনকারীদের পারিবারিক পরিবেশ, আর্থিক সামর্থ্য, শিশুর পরিচর্যার সক্ষমতা ও অন্যান্য প্রাসঙ্গিক বিষয় বিবেচনায় নিয়ে উপযুক্ত পরিবার নির্বাচনের প্রক্রিয়া চলছে। তবে, আবেদন করলেই শিশুটিকে দত্তক নেওয়ার সুযোগ মিলবে না। এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যাচাই-বাছাই ও প্রযোজ্য আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে।

ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাঈদ মোহাম্মদ ইব্রাহিম গণমাধ্যমকে বলেন, শিশুটিকে দত্তক নিতে বিপুলসংখ্যক আবেদন জমা পড়েছে। উপযুক্ত পরিবার নির্বাচনের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। যাচাই-বাছাই ও আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

এর আগে, গত বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার পাইন্দং ইউনিয়নের উত্তর পাইন্দং এলাকার আমতলীতে সড়কের পাশের ঝোঁপঝাড় থেকে নবজাতকটিকে জীবিত উদ্ধার করা হয়।

স্থানীয় লোকজন শিশুটিকে ঝোঁপের মধ্যে পড়ে থাকতে দেখে পুলিশকে খবর দেন। পরে ফটিকছড়ি থানা-পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশুটিকে উদ্ধার করেন। উদ্ধারের পর তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, শিশুটির শারীরিক অবস্থা ভালো ছিল।তবে কে বা কারা শিশুটিকে সেখানে ফেলে গেছেন, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। শিশুটির নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে উপযুক্ত পরিবার নির্বাচনের পাশাপাশি তাকে পরিত্যক্ত অবস্থায় ফেলে যাওয়ার ঘটনার রহস্য উদঘাটন ও পরিচয় শনাক্তে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় লোকজন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রচেষ্টায় ভোলাখালে অষ্টম সেতু নির্মাণের প্রস্তাব

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১:০০ অপরাহ্ণ
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রচেষ্টায় ভোলাখালে অষ্টম সেতু নির্মাণের প্রস্তাব
শেয়ার করুন

কক্সবাজারের পেকুয়ায় ভোলাখালের ওপর মগনামা বাজারপাড়া থেকে বারবাকিয়া ইউনিয়নের বোধামাঝির ঘোনা পর্যন্ত ১০০ মিটার দীর্ঘ সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রস্তাবিত সেতুটি নির্মিত হলে মগনামা ও বারবাকিয়ার মধ্যে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ স্থাপনের পাশাপাশি পেকুয়া ও কুতুবদিয়ার মানুষের যাতায়াত, পণ্য পরিবহন ও ব্যবসা-বাণিজ্যে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে বলে আশা করছেন স্থানীয়রা।

সম্প্রতি সেতু নির্মাণের উদ্যোগের অংশ হিসেবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও কক্সবাজার-১ আসনের সংসদ সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদের প্রয়োজনীয় সুপারিশ ও প্রস্তাব স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। প্রকল্পটি অনুমোদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও কারিগরি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে সেতু নির্মাণকাজ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

স্থানীয়দের মতে, সেতুটি বাস্তবায়িত হলে মগনামা ও বারবাকিয়ার মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপনের পাশাপাশি পেকুয়া ও কুতুবদিয়ার সঙ্গে মহেশখালী হয়ে চট্টগ্রামের যোগাযোগে একটি বিকল্প ও গুরুত্বপূর্ণ সড়কপথ তৈরি হতে পারে। এতে যাতায়াতের সময় ও পেকুয়া বাজার কেন্দ্রীক যানজট ভোগান্তি কমার পাশাপাশি উপকূলীয় এ অঞ্চলের আর্থসামাজিক কর্মকাণ্ড, কৃষিপণ্য,লবণ, মৎস্য পরিবহন ও ব্যবসা-বাণিজ্যে ইতিবাচক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এদিকে ‎ভোলাখালের বিভিন্ন অংশে ইতোমধ্যে সাতটি সেতু নির্মিত হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে- মগনামা শরৎঘোনা–রাজাখালী নতুনঘোনা সেতু, পেকুয়া পশ্চিম গোঁয়াখালী অংশের রাবারড্যাম সেতু, পেকুয়া বাজার–বারবাকিয়া ফাঁশিয়াখালী সেতু, পেকুয়া মৌলভীপাড়া অংশের আঞ্চলিক মহাসড়ক সেতু, পেকুয়া-বারবাকিয়া বাজার সেতু, পেকুয়া সাবমেরিন নৌঘাঁটি সড়কের সালাহউদ্দিন সেতু এবং বাগুজারা-সাকুরপাড় সেতু।

স্থানীয়দের দাবি, এসব সেতুর ধারাবাহিকতায় মগনামা বাজারপাড়া-বোধামাঝির ঘোনা সেতুটি নির্মিত হলে ভোলাখালের ওপর এটি হবে অষ্টম গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ সেতু। সেতুটি নির্মিত হলে পেকুয়া উপজেলার অভ্যন্তরীণ যোগাযোগব্যবস্থা আরও শক্তিশালী হওয়ার পাশাপাশি কুতুবদিয়ার সঙ্গে সড়ক যোগাযোগেও নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে।

 

‎

 

‎এতে শিক্ষা, চিকিৎসা, লবণ,মৎস্য ও কৃষিপণ্য পরিবহন, ব্যবসা-বাণিজ্য ও সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন চলাচলে দুই উপজেলার মানুষ সুফল পাবেন বলে প্রত্যাশা করছেন স্থানীয়রা। একই সঙ্গে পেকুয়া বাজারকেন্দ্রিক সড়কে যানবাহনের চাপও কিছুটা কমতে পারে বলে মনে করছেন তারা।

 

এলাকাবাসী জানান, দীর্ঘদিন ধরে ভোলাখাল মগনামা ও বারবাকিয়ার মানুষের স্বাভাবিক চলাচলের ক্ষেত্রে একটি বড় প্রতিবন্ধকতা হয়ে আছে। খালের ওপর প্রস্তাবিত সেতুটি নির্মিত হলে দুই এলাকার মধ্যে যোগাযোগ সহজ হওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় অর্থনীতি ও জনজীবনেও ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে।

 

‎দীর্ঘদিনের দাবি ও প্রত্যাশার পর সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়ায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এমপির প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ব্যক্তিগত প্রেস সচিব ছফওয়ানুল করিম বলেন, ‘চকরিয়া-পেকুয়া-মাতামুহুরী অঞ্চলের যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের ধারাবাহিকতায় ভোলাখালের মগনামা বাজারপাড়া অংশে ১০০ মিটার দীর্ঘ সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সুপারিশ ও প্রস্তাব স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। প্রকল্পটি অনুমোদনের পর পরবর্তী প্রশাসনিক ও কারিগরি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে সেতু নির্মাণের কাজ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে।’

 

‎তিনি বলেন, ‘সেতুটি নির্মিত হলে মগনামা, বারবাকিয়া ও আশপাশের এলাকার মানুষের চলাচল সহজ হওয়ার পাশাপাশি পেকুয়া-চকরিয়া অঞ্চলের সড়ক যোগাযোগব্যবস্থায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করছি।’

 

‎

 

‎পেকুয়া উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসাইন বলেন, ‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের প্রচেষ্টায় মগনামা-বোধামাঝির ঘোনা সেতু নির্মাণের উদ্যোগের খবরে বারবাকিয়া ও আশপাশের এলাকার মানুষের মধ্যে উৎসাহ সৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এ অঞ্চলের মানুষ যোগাযোগের ক্ষেত্রে নানা দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। সেতুটি নির্মিত হলে বারবাকিয়াসহ আশপাশের এলাকার সঙ্গে পেকুয়া উপজেলার সরাসরি ও সহজ যোগাযোগব্যবস্থা গড়ে উঠবে। একই সঙ্গে শিক্ষা, চিকিৎসা, কৃষি, ব্যবসা-বাণিজ্য ও সাধারণ মানুষের চলাচলেও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।’

তিনি বলেন, ‘মহেশখালীর মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর, পেকুয়া ও কুতুবদিয়ার মধ্যে যাতায়াত এবং পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রেও এ সেতু গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। জনগণের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণে দ্রুত প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে সেতুটির নির্মাণকাজ শুরুর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।’