খুঁজুন
, ,

কক্সবাজারে স্ত্রী হত্যা: পরকীয়া নয়, ইয়াবা কারবার ফাঁসের আশঙ্কাই মূল কারণ!

শাহেদ ফেরদৌস হিরু
প্রকাশিত: শনিবার, ২৫ এপ্রিল, ২০২৬, ৪:২০ অপরাহ্ণ
কক্সবাজারে স্ত্রী হত্যা: পরকীয়া নয়, ইয়াবা কারবার ফাঁসের আশঙ্কাই মূল কারণ!
শেয়ার করুন

কক্সবাজার শহরের জানারঘোনা এলাকায় স্ত্রীকে নৃশংসভাবে হত্যা করে হাত ও মাথা বিচ্ছিন্ন করার ঘটনায় নতুন মোড় নিয়েছে তদন্ত। শুরুতে স্বামী সাইফুল পরকীয়ার জেরে হত্যার কথা স্বীকার করলেও, অনুসন্ধানে উঠে এসেছে ভিন্ন চিত্র। ইয়াবা কারবার ফাঁস হয়ে যাওয়ার আশঙ্কাই এই হত্যার মূল কারণ হতে পারে বলে জানিয়েছে নিহত মুন্নির পরিবারের একটি সূত্র।

 

সূত্র জানায়, আয়ুব, সাইফুল এবং ইয়াছিন মিলে একটি ইয়াবা সিন্ডিকেট পরিচালনা করতেন। সাইফুলের স্ত্রী মুন্নি এই অবৈধ ব্যবসার বিষয়টি প্রশাসনকে জানিয়ে দেওয়ার হুমকি দিলে পারিবারিক বিরোধ চরমে পৌঁছে। এ বিরোধ থেকেই হত্যাকাণ্ডটি সংঘটিত হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

 

স্থানীয়দের দাবি, আয়ুব দীর্ঘদিন ধরে এই চক্রের মূল ডিলার হিসেবে কাজ করছিলেন। তার ছেলে এবং সাইফুল ইয়াবা পরিবহনের দায়িত্বে ছিলেন। ইয়াবা ব্যবসা পরিচালনার সুবিধার্থে আয়ুব নিজ বাড়িতে সাইফুলকে থাকতে দেন। হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই আয়ুব আত্মগোপনে রয়েছেন।

 

এলাকাবাসীর ভাষ্য অনুযায়ী, সাইফুল প্রায়ই মাদকাসক্ত অবস্থায় স্ত্রীকে নির্যাতন করতেন। বিভিন্ন সময় মুন্নি শারীরিক নির্যাতনের শিকার হন এবং এ বিষয়ে পরিবার ও প্রতিবেশীদের কাছে অভিযোগও করেছিলেন। এমনকি তিনি কয়েকবার প্রশাসনের সহায়তা নেওয়ার চেষ্টা করেন বলেও জানা গেছে।

 

পরিবারের একটি সূত্র জানায়, মুন্নি দীর্ঘদিন ধরে স্বামীর নির্যাতন সহ্য করছিলেন। পরে তিনি ইয়াবা কারবারের বিষয়টি প্রশাসনকে জানানোর হুমকি দিলে সাইফুল ও তার সহযোগীরা মিলে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটায় বলে অভিযোগ রয়েছে।

 

আরও জানা যায়, আয়ুব ইয়াবা ব্যবসার অর্থ দিয়ে জানারঘোনা এলাকায় একটি বাড়ি নির্মাণ করেন। প্রথমে সেখানে এক সাংবাদিক ভাড়ায় থাকলেও পরে তাকে সরিয়ে দিয়ে সাইফুলকে রাখা হয়। স্থানীয়দের মতে, ওই বাড়ি থেকেই নিয়মিত ইয়াবা পাচার হতো। বিভিন্ন ধরনের যানবাহনের যাতায়াত ছিল সেখানে। আয়ুব মাঝে মধ্যে এলেও মুখ ঢেকে চলাফেরা করতেন। তার ছেলে ইয়াছিন ও সাইফুল ইয়াবা পাচারে সক্রিয় ছিলেন।

 

অভিযোগ রয়েছে, আয়ুব একজন রোহিঙ্গা, যার পরিবার ২০১৭ সালে বাংলাদেশে আসে। বর্তমানে তার আত্মীয়রা কুতুপালং এলাকায় বসবাস করছেন। তিনি চট্টগ্রামের পাহাড়তলী এলাকা থেকে জাতীয় পরিচয়পত্র সংগ্রহ করে নিজের পরিচয় গোপন করে বাড়ি নির্মাণ করেছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।

 

স্থানীয়দের দাবি, আয়ুব বর্তমানে কলঘর এলাকায় তার নতুন বাড়িতে আত্মগোপনে রয়েছেন, যদিও তার পরিবার দাবি করছে তিনি বিদেশে অবস্থান করছেন।

 

পুলিশ জানায়, হত্যাকান্ডের পর আয়ুবের ছেলে ইয়াছিনকে থানায় আসার জন্য বার বার যোগাযোগ করা হলেও সে থানায় আসতে গড়িমসি করে। পরে সাইফুল গ্রেফতার হওয়ার পর অনেকটা বাধ্য হয়ে থানায় আসে।

 

এলাকাবাসীর মতে, আয়ুবের সক্রিয়তায় এলাকায় আবারও ইয়াবা কারবার বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির জন্য হুমকি হয়ে উঠছে। তাদের দাবি, এই হত্যাকাণ্ড শুধু পারিবারিক ট্র্যাজেডি নয়, বরং এর পেছনে একটি সংগঠিত মাদক চক্রের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে।

 

সাবেক এক ভাড়াটিয়া সাংবাদিক জানান, শুরুতে আয়ুবের ইয়াবা কারবার সম্পর্কে তিনি অবগত ছিলেন না। পরে স্থানীয়দের কাছ থেকে জানতে পারেন, বাড়িটি “ইয়াবা দালান” নামে পরিচিত। হত্যাকাণ্ডের প্রায় পাঁচ মাস আগে তাকে বাসা ছাড়তে বলা হয়। এর কিছুদিন পরই সেখানে আলোচিত হত্যাকাণ্ড ঘটে। অভিযোগ রয়েছে, আয়ুব সহযোগী শামশুল আলমকে নিয়ে ভবনটি নির্মাণ করেন এবং পরে ইয়াবা কারবারে জড়িয়ে পড়েন। সংশ্লিষ্টদের দাবি, আয়ুব ও তার ছেলে ইয়াছিনকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বেরিয়ে আসতে পারে।

 

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে বাড়ির মালিক আয়ুবের ছেলে ইয়াছিন সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে ফোন কেটে দেন।

 

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই রাজীব পাল বলেন, আসামি একবার জবানবন্দি দিয়েছেন। প্রয়োজনে তাকে আবার রিমান্ডে এনে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করা হবে।

জাইমা রহমানের জন্মদিনে ৫ শতাধিক ছাত্রীকে বাইসাইকেল উপহার

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:১৫ অপরাহ্ণ
জাইমা রহমানের জন্মদিনে ৫ শতাধিক ছাত্রীকে বাইসাইকেল উপহার
শেয়ার করুন

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমানের জন্মদিন উপলক্ষে বগুড়ার শিবগঞ্জে ৫৪৮ জন ছাত্রীকে বিনামূল্যে বাইসাইকেল উপহার দেওয়া হয়েছে। রবিবার (২৫ অক্টোবর) বগুড়ার শিবগঞ্জ সরকারি পাইলট উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্রীদের নিয়ে এই আয়োজন করা হয়।

স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের আয়োজনে এসব ছাত্রীদের বাইসাইকেল দেওয়া হয়। এ সময় শিক্ষার্থীরা স্লোগান দেন, ‘শুভ শুভ শুভদিন, জাইমা রহমানের জন্মদিন’ ‘করবো কাজ গড়বো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’।

এ সময় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, সাত শতাধিক মেধাবী শিক্ষার্থীর পরীক্ষা নিয়েছিলাম, যার মধ্যে অংশ নিয়েছিল ৫৪৮ জন ছাত্রী। মোট ১০২টি শিক্ষার্থী প্রতিষ্ঠানের ৫৪৮জনকে ডেকে নিয়ে বাইসাইকেল উপহার দিচ্ছি।

এছাড়া যে প্রতিষ্ঠানে এই বাইসাইকেল প্রদানের আয়োজন করা হয়, তাদেরসহ প্রায় এক হাজার শিক্ষার্থীদের জাইমা রহমানের ছবি সম্বলিত মগ উপহার দেওয়া হয়।

বাইসাইকেল পেয়ে শিক্ষার্থীরা বেশ উচ্ছ্বসিত হন। কেউ কেউ স্কুল মাঠেই সাইকেল চালিয়ে আনন্দ উপভোগ করেন।

ঝোঁপঝাড়ে ফেলে যাওয়া নবজাতককে দত্তক নিতে ১২৩ পরিবারের আবেদন

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১:৩৯ অপরাহ্ণ
ঝোঁপঝাড়ে ফেলে যাওয়া নবজাতককে দত্তক নিতে ১২৩ পরিবারের আবেদন
শেয়ার করুন

চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে ফটিকছড়িতে সড়কের পাশের ঝোপঝাড়ে ফেলে যাওয়া এক নবজাত কন্যাশিশুকে দত্তক নিতে ব্যাপক আগ্রহ দেখা দিয়েছে শিশুটির লালন-পালনের দায়িত্ব নিতে এক দিনেই ১২৩টি আবেদন জমা পড়েছে।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাত পর্যন্ত ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে আবেদনকারীদের সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, আবেদনকারীদের পারিবারিক পরিবেশ, আর্থিক সামর্থ্য, শিশুর পরিচর্যার সক্ষমতা ও অন্যান্য প্রাসঙ্গিক বিষয় বিবেচনায় নিয়ে উপযুক্ত পরিবার নির্বাচনের প্রক্রিয়া চলছে। তবে, আবেদন করলেই শিশুটিকে দত্তক নেওয়ার সুযোগ মিলবে না। এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যাচাই-বাছাই ও প্রযোজ্য আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে।

ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাঈদ মোহাম্মদ ইব্রাহিম গণমাধ্যমকে বলেন, শিশুটিকে দত্তক নিতে বিপুলসংখ্যক আবেদন জমা পড়েছে। উপযুক্ত পরিবার নির্বাচনের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। যাচাই-বাছাই ও আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

এর আগে, গত বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার পাইন্দং ইউনিয়নের উত্তর পাইন্দং এলাকার আমতলীতে সড়কের পাশের ঝোঁপঝাড় থেকে নবজাতকটিকে জীবিত উদ্ধার করা হয়।

স্থানীয় লোকজন শিশুটিকে ঝোঁপের মধ্যে পড়ে থাকতে দেখে পুলিশকে খবর দেন। পরে ফটিকছড়ি থানা-পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশুটিকে উদ্ধার করেন। উদ্ধারের পর তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, শিশুটির শারীরিক অবস্থা ভালো ছিল।তবে কে বা কারা শিশুটিকে সেখানে ফেলে গেছেন, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। শিশুটির নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে উপযুক্ত পরিবার নির্বাচনের পাশাপাশি তাকে পরিত্যক্ত অবস্থায় ফেলে যাওয়ার ঘটনার রহস্য উদঘাটন ও পরিচয় শনাক্তে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় লোকজন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রচেষ্টায় ভোলাখালে অষ্টম সেতু নির্মাণের প্রস্তাব

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১:০০ অপরাহ্ণ
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রচেষ্টায় ভোলাখালে অষ্টম সেতু নির্মাণের প্রস্তাব
শেয়ার করুন

কক্সবাজারের পেকুয়ায় ভোলাখালের ওপর মগনামা বাজারপাড়া থেকে বারবাকিয়া ইউনিয়নের বোধামাঝির ঘোনা পর্যন্ত ১০০ মিটার দীর্ঘ সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রস্তাবিত সেতুটি নির্মিত হলে মগনামা ও বারবাকিয়ার মধ্যে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ স্থাপনের পাশাপাশি পেকুয়া ও কুতুবদিয়ার মানুষের যাতায়াত, পণ্য পরিবহন ও ব্যবসা-বাণিজ্যে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে বলে আশা করছেন স্থানীয়রা।

সম্প্রতি সেতু নির্মাণের উদ্যোগের অংশ হিসেবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও কক্সবাজার-১ আসনের সংসদ সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদের প্রয়োজনীয় সুপারিশ ও প্রস্তাব স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। প্রকল্পটি অনুমোদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও কারিগরি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে সেতু নির্মাণকাজ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

স্থানীয়দের মতে, সেতুটি বাস্তবায়িত হলে মগনামা ও বারবাকিয়ার মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপনের পাশাপাশি পেকুয়া ও কুতুবদিয়ার সঙ্গে মহেশখালী হয়ে চট্টগ্রামের যোগাযোগে একটি বিকল্প ও গুরুত্বপূর্ণ সড়কপথ তৈরি হতে পারে। এতে যাতায়াতের সময় ও পেকুয়া বাজার কেন্দ্রীক যানজট ভোগান্তি কমার পাশাপাশি উপকূলীয় এ অঞ্চলের আর্থসামাজিক কর্মকাণ্ড, কৃষিপণ্য,লবণ, মৎস্য পরিবহন ও ব্যবসা-বাণিজ্যে ইতিবাচক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এদিকে ‎ভোলাখালের বিভিন্ন অংশে ইতোমধ্যে সাতটি সেতু নির্মিত হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে- মগনামা শরৎঘোনা–রাজাখালী নতুনঘোনা সেতু, পেকুয়া পশ্চিম গোঁয়াখালী অংশের রাবারড্যাম সেতু, পেকুয়া বাজার–বারবাকিয়া ফাঁশিয়াখালী সেতু, পেকুয়া মৌলভীপাড়া অংশের আঞ্চলিক মহাসড়ক সেতু, পেকুয়া-বারবাকিয়া বাজার সেতু, পেকুয়া সাবমেরিন নৌঘাঁটি সড়কের সালাহউদ্দিন সেতু এবং বাগুজারা-সাকুরপাড় সেতু।

স্থানীয়দের দাবি, এসব সেতুর ধারাবাহিকতায় মগনামা বাজারপাড়া-বোধামাঝির ঘোনা সেতুটি নির্মিত হলে ভোলাখালের ওপর এটি হবে অষ্টম গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ সেতু। সেতুটি নির্মিত হলে পেকুয়া উপজেলার অভ্যন্তরীণ যোগাযোগব্যবস্থা আরও শক্তিশালী হওয়ার পাশাপাশি কুতুবদিয়ার সঙ্গে সড়ক যোগাযোগেও নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে।

 

‎

 

‎এতে শিক্ষা, চিকিৎসা, লবণ,মৎস্য ও কৃষিপণ্য পরিবহন, ব্যবসা-বাণিজ্য ও সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন চলাচলে দুই উপজেলার মানুষ সুফল পাবেন বলে প্রত্যাশা করছেন স্থানীয়রা। একই সঙ্গে পেকুয়া বাজারকেন্দ্রিক সড়কে যানবাহনের চাপও কিছুটা কমতে পারে বলে মনে করছেন তারা।

 

এলাকাবাসী জানান, দীর্ঘদিন ধরে ভোলাখাল মগনামা ও বারবাকিয়ার মানুষের স্বাভাবিক চলাচলের ক্ষেত্রে একটি বড় প্রতিবন্ধকতা হয়ে আছে। খালের ওপর প্রস্তাবিত সেতুটি নির্মিত হলে দুই এলাকার মধ্যে যোগাযোগ সহজ হওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় অর্থনীতি ও জনজীবনেও ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে।

 

‎দীর্ঘদিনের দাবি ও প্রত্যাশার পর সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়ায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এমপির প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ব্যক্তিগত প্রেস সচিব ছফওয়ানুল করিম বলেন, ‘চকরিয়া-পেকুয়া-মাতামুহুরী অঞ্চলের যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের ধারাবাহিকতায় ভোলাখালের মগনামা বাজারপাড়া অংশে ১০০ মিটার দীর্ঘ সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সুপারিশ ও প্রস্তাব স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। প্রকল্পটি অনুমোদনের পর পরবর্তী প্রশাসনিক ও কারিগরি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে সেতু নির্মাণের কাজ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে।’

 

‎তিনি বলেন, ‘সেতুটি নির্মিত হলে মগনামা, বারবাকিয়া ও আশপাশের এলাকার মানুষের চলাচল সহজ হওয়ার পাশাপাশি পেকুয়া-চকরিয়া অঞ্চলের সড়ক যোগাযোগব্যবস্থায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করছি।’

 

‎

 

‎পেকুয়া উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসাইন বলেন, ‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের প্রচেষ্টায় মগনামা-বোধামাঝির ঘোনা সেতু নির্মাণের উদ্যোগের খবরে বারবাকিয়া ও আশপাশের এলাকার মানুষের মধ্যে উৎসাহ সৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এ অঞ্চলের মানুষ যোগাযোগের ক্ষেত্রে নানা দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। সেতুটি নির্মিত হলে বারবাকিয়াসহ আশপাশের এলাকার সঙ্গে পেকুয়া উপজেলার সরাসরি ও সহজ যোগাযোগব্যবস্থা গড়ে উঠবে। একই সঙ্গে শিক্ষা, চিকিৎসা, কৃষি, ব্যবসা-বাণিজ্য ও সাধারণ মানুষের চলাচলেও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।’

তিনি বলেন, ‘মহেশখালীর মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর, পেকুয়া ও কুতুবদিয়ার মধ্যে যাতায়াত এবং পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রেও এ সেতু গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। জনগণের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণে দ্রুত প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে সেতুটির নির্মাণকাজ শুরুর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।’