খুঁজুন
, ,

কক্সবাজার বিমানবন্দর আন্তর্জাতিক হচ্ছে, তবে নেই কোনো এয়ারলাইন

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ৩:২০ অপরাহ্ণ
কক্সবাজার বিমানবন্দর আন্তর্জাতিক হচ্ছে, তবে নেই কোনো এয়ারলাইন
শেয়ার করুন

কয়েক হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প শেষে কক্সবাজার বিমানবন্দর আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের জন্য প্রায় প্রস্তুত। রানওয়ে সম্প্রসারণ কাজ শেষ, নতুন টার্মিনালও শেষ হওয়ার পথে, আর বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) আনুষ্ঠানিকভাবে আন্তর্জাতিক এভিয়েশন সংস্থাগুলোকে বিমানবন্দরটির নতুন মর্যাদার খবরও দিয়েছে। তবু বিশাল এই বিনিয়োগের পরও কোনো এয়ারলাইন কক্সবাজারে এখনো ফ্লাইট চালুর ঘোষণা দেয়নি। অর্থাৎ, সরকারের উচ্চাভিলাষী ভিশন আর এয়ারলাইনগুলোর বাণিজ্যিক দ্বিধার একটি সুস্পষ্ট ফারাক দেখা যাচ্ছে। অবকাঠামো উন্নয়নে রাষ্ট্র বিপুল অর্থ ব্যয় করলেও এয়ারলাইনগুলোর দাবি, কক্সবাজার এখনো ধারাবাহিকভাবে আন্তর্জাতিক পর্যটকদের আকর্ষণ করার মতো ব্র্যান্ডিং, সুযোগ-সুবিধা ও বিনোদনের অবকাঠামো গড়ে তুলতে পারেনি।

অভ্যন্তরীণ এয়ারস্ট্রিপ থেকে আন্তর্জাতিক হাবের পথে

কক্সবাজার বিমানবন্দর উন্নয়ন প্রকল্পটি এই জেলার জন্য নেয়া তিন লাখ কোটি টাকার মেগা পরিকল্পনার অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু। মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর ও সরাসরি রেল সংযোগের মতো প্রকল্পের পাশাপাশি বিমানবন্দরকে একটি মূল প্রবেশদ্বার হিসেবে কল্পনা করা হয়েছিল, যা এ অঞ্চলকে বড় অর্থনৈতিক ও এভিয়েশন হাবে রূপান্তর করবে। ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একে “দুবাইয়ের মতো উড়োজাহাজের রিফুয়েলিং গেটওয়ে” বানানোর কথাও বলেছিলেন।

বিমানবন্দর উন্নয়নে ৪ হাজার কোটি টাকারও বেশি ব্যয়ে রানওয়ের দৈর্ঘ্য ৬,৭৭৫ ফুট থেকে ৯,০০০ ফুটে বাড়ানো হয়েছে এবং প্রস্থ বাড়িয়ে ২০০ ফুট করা হয়েছে। আরেকটি প্রকল্পে একে সমুদ্রের ভেতর ১০,৭০০ ফুট পর্যন্ত সম্প্রসারণের কাজ চলছে। এর ফলে ওয়াইড বডির এয়ারক্রাফট পূর্ণ সক্ষমতা নিয়ে নিরাপদে উঠানামা করতে পারবে। নতুন আন্তর্জাতিক টার্মিনাল ভবন, যার জন্য ৩৬২ কোটি টাকা ব্যয় হচ্ছে, ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা। এতে বছরে ১৮ লাখ যাত্রী সেবা দেওয়া যাবে—যা বর্তমান সক্ষমতার দ্বিগুণেরও বেশি।

বেবিচকের সদস্য (পরিচালনা ও পরিকল্পনা) এয়ার কমডোর আবু সাঈদ মেহবুব খান বলেন, আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষকে (আইসিএও) জানানো হয়েছে, ২ অক্টোবর থেকে বিমানবন্দরটি আন্তর্জাতিক মর্যাদা পাবে। “আমরা ইউএস-বাংলা, বিমান বাংলাদেশ এবং কিছু বিদেশি এয়ারলাইনের সঙ্গে কথা বলেছি। তবে এখনো কেউ সিদ্ধান্ত নেয়নি। তারা স্থাপনাটি পরিদর্শনের পর সিদ্ধান্ত নেবে।”

তিনি আশা প্রকাশ করেন, অক্টোবরের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট শুরু হতে পারে। শুরুতে ফ্লাইট সংখ্যা সীমিত থাকবে, তবে মার্চের মধ্যে বাড়বে।

বাণিজ্যিক সম্ভাবনা যাচাই করছে এয়ারলাইনস

বর্তমানে চারটি স্থানীয় এয়ারলাইন—বিমান বাংলাদেশ, ইউএস-বাংলা, নভোএয়ার ও এয়ার অ্যাস্ট্রা—কক্সবাজারে ফ্লাইট পরিচালনা করছে। আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চালুর জন্য স্থানীয় ও বিদেশি এয়ারলাইনগুলোকে আকৃষ্ট করতে তাদের সঙ্গে একাধিক দফা বৈঠক করেছে বেবিচক।

তবে এয়ারলাইনগুলোর জন্য এ সিদ্ধান্ত পুরোপুরি ব্যবসায়িক। ইউএস-বাংলা ও বাংলাদেশ বিমান সম্ভাব্য রুট যাচাই করছে, কিন্তু শিল্পসংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে—কয়েকটি গুরুতর উদ্বেগ থেকেই যাচ্ছে।

বিদেশি এয়ারলাইনগুলোর প্রতিনিধিত্ব করা সংগঠন—এয়ারলাইন্স অপারেটরস কমিটি-র সভাপতি দিলরুবা আখতার টিবিএসকে বলেন, “আমরা সর্বশেষ এই মাসের শুরুতে বেবিচকের সঙ্গে বৈঠক করেছি। আমি যতদূর জানি, এখনো কোনো এয়ারলাইন্স ফ্লাইট শুরু করার সিদ্ধান্ত নেয়নি।”

ইউএস-বাংলার মুখপাত্র কামরুল ইসলাম বলেন, “ঢাকা–কক্সবাজার–ব্যাংকক রুট বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে রুটে যথেষ্ট যাত্রী পাওয়া কঠিন হবে, যার ফলে ট্রানজিট অপারেশনের অতিরিক্ত খরচ মেটানো যাবে কি-না সেটা বড় প্রশ্ন।”

এয়ারলাইন্স সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কক্সবাজার থেকে সরাসরি ফ্লাইট, বিশেষত মধ্যপ্রাচ্যের সঙ্গে—বর্তমানে বাণিজ্যিকভাবে উপযোগী নয়। পর্যটক সংখ্যা ব্যাপকভাবে না বাড়লে বিমানবন্দরের নতুন অবকাঠামো নির্মাণেরও কোনো যৌক্তিকতা থাকবে না।

এখানেই বিমানবন্দরের সাফল্যের সম্ভাবনা জড়িয়ে যাচ্ছে সামগ্রিক পর্যটন খাতের সঙ্গে।

কামরুল ইসলাম বলেন, “আন্তর্জাতিকভাবে কোনো প্রচারণা নেই। নেপালের তো কোনো সমুদ্রসৈকত নেই। কক্সবাজার তাদের জন্য আকর্ষণীয় হতে পারত। কিন্তু এভাবে উপস্থাপন করা হয়নি। সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ডের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। বিদেশি পর্যটক আনতে হলে তো সঠিক ব্র্যান্ডিং ও সুযোগ-সুবিধা থাকা দরকার।”

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের মুখপাত্র এবিএম রওশন কবীর জানান, কক্সবাজার থেকে আন্তর্জাতিক রুট চালুর সম্ভাবনা এখনো যাচাই করা হচ্ছে।

এয়ার অ্যারাবিয়ার এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, (কক্সবাজারে) তারা আগ্রহ দেখালেও দৃঢ় কোনো প্রতিশ্রুতি দেননি। “চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে বিমানবন্দরটির বাণিজ্যিক সম্ভাবনা ও নিরাপত্তার ওপর।”

স্থানীয় ও বিদেশি এয়ারলাইনগুলোর কর্মকর্তাদের অভিমত—সরকার এখনো বৈশ্বিক পর্যায়ে কক্সবাজারকে যথাযথভাবে প্রচার করতে পারেনি। বিদেশি পর্যটকদের জন্য কক্সবাজারে পর্যাপ্ত বিনোদন ও আকর্ষণ না থাকাটাই এখানে সবচেয়ে বড় প্রতিবন্ধক। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) তিনটি পর্যটন পার্কের উন্নয়ন আটকে থাকা, যা প্রায় এক দশকেও বাস্তবায়িত হয়নি।

নতুন টার্মিনাল

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় সামরিক প্রয়োজনে নির্মিত কক্সবাজার বিমানবন্দর, স্বাধীনতার পর থেকে অভ্যন্তরীণ বিমানবন্দর হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। পর্যটন নগরীর বিপুল সম্ভাবনা সত্ত্বেও এটি স্থানীয় বিমানবন্দরের পর্যায়েই থাকে।

আন্তর্জাতিক মর্যাদা পেতে একটি বিমানবন্দরকে আইসিএও-র সব মানদণ্ড পূরণ করতে হয়—রানওয়ে, ট্যাক্সিওয়ে, আলোকসজ্জা, ন্যাভিগেশন সুবিধা, এবং টার্মিনাল ইমিগ্রেশন, কাস্টমস, কোয়ারেন্টাইন, নিরাপত্তা, এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল ও কার্গোসেবার সুবিধা থাকতে হয়।

তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার বিদ্যুৎকেন্দ্র, গভীর সমুদ্রবন্দর ও পর্যটন অঞ্চলসহ বিভিন্ন প্রকল্পের কাজ চলমান থাকায়— প্রত্যাশিত অতিরিক্ত ফ্লাইট চলাচল সামলাতে কক্সবাজার বিমানবন্দরের রানওয়ে সম্প্রসারণ ও নতুন টার্মিনাল নির্মাণের উদ্যোগ নেয়, যাতে এটিকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করা যায়।

দুটি প্রকল্পই সরকারি অর্থায়নে বাস্তবায়িত হচ্ছে এবং রানওয়ে সম্প্রসারণের কাজ ২০২১ সালে একটি চীনা যৌথ উদ্যোগকে দেওয়া হয়।

এয়ার কমডোর আবু সাঈদ মেহবুব খান বলেন, নতুন টার্মিনাল ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে শেষ হবে। “ততদিন বিদ্যমান টার্মিনাল থেকেই ডিপারচার চলবে, তবে এরাইভ্যালের জন্য নতুন ভবনের একটি অংশ ব্যবহার হবে। ইমিগ্রেশন, কাস্টমস, স্বাস্থ্য পরীক্ষা, ব্যাংকসহ অন্যান্য সেবার কাউন্টার বসানো হচ্ছে।”

তিনি আরও জানান, “সম্প্রসারিত রানওয়ে পুরোপুরি ব্যবহার করতে আলোকসজ্জা, ইন্সট্রুমেন্ট ল্যান্ডিং সিস্টেম ও ফ্লাইট ক্যালিব্রেশনের মতো প্রযুক্তিগত কাজ বাকি আছে। এগুলো শেষ হলে আগামী বছরের শুরুতে রানওয়ে পুরোপুরি সচল হবে।”

তার মতে, “বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক করার লক্ষ্য হলো স্থানীয় ও বিদেশি পর্যটকদের সহজে আসার সুযোগ করে দেয়া এবং এটিকে দক্ষিণ এশিয়ার একটি শীর্ষ হাব বানানো। সরকার ৪৮ ঘণ্টার ভিসা-অন-অ্যারাইভালের পরিকল্পনাও করেছে, যা পর্যটক বাড়াতে সাহায্য করবে।”

কর্তৃপক্ষ আশাবাদী

বেবিচক কর্মকর্তারা জানান, আন্তর্জাতিক সুবিধাগুলো ইতোমধ্যেই সম্প্রসারণ পরিকল্পনার অংশ ছিল, তাই অতিরিক্ত আর্থিক চাপ তৈরি হয়নি। শুরুর দিকে ফ্লাইট সীমিত হবে, তবে তারা বিশ্বাস করেন কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ধীরে ধীরে বড় প্রবেশদ্বার হয়ে উঠবে।

বিমানবন্দরটির পরিচালক গোলাম মর্তুজা হাসান বলেন, “বর্তমানে প্রতিদিন ১,৫০০ থেকে ২,০০০ যাত্রী এখানে আসা-যাওয়া করেন। পর্যটনের পিক সিজনে তা বেড়ে ২,৫০০ হয়। আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চালু হলে বিমানবন্দরের প্যাসেঞ্জার হ্যান্ডলিং সক্ষমতা দ্বিগুণের বেশি হবে।”

তিনি আরও জানান, বর্তমানে কক্সবাজার থেকে কার্গো হিসেবে চিংড়ি যশোরে পাঠানো হয়, তবে আন্তর্জাতিক কার্গো অপারেশন এখনো শুরু হয়নি।

৯ বছরেও বাস্তবায়িত হয়নি কোনো পর্যটন পার্ক

এদিকে দেশি-বিদেশি পর্যটক আকর্ষণের লক্ষ্যে বেজা তিনটি ট্যুরিজম পার্ক করার উদ্যোগ নিলেও— দীর্ঘ ৯ বছরেও একটিও আলোর মুখ দেখেনি।

কক্সবাজারে টেকনাফ, মহেশখালী উপজেলার প্রায় ১১ হাজার একর জমিতে বেজার ৩টি পর্যটন পার্ক তৈরীর পরিকল্পনা ছিল। এর মধ্যে ‍৯৬৭ একর জমিতে সাবরাং ট্যুরিজম পার্ক, ২৭১ একর জমিতে নাফ ট্যুরিজম পার্ক এবং ৯ হাজার ৪৬৭ একর জমিতে সোনাদিয়া ইকো ট্যুরিজম পার্ক তৈরী করার কথা ছিল।

সম্প্রতি পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের স্বার্থে অন্তর্বর্তী সরকার সোনাদিয়া প্রকল্পটি বাতিল করেছে। সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে সাবরাং ট্যুরিজম পার্ক। তবে এখানেও অবকাঠামো উন্নয়ন সম্পন্ন না হওয়ায় হোটেল-রিসোর্ট নির্মাণে গতি আসেনি।

বেজার নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন টিবিএসকে বলেন, “সাবরাং পর্যটনের জন্য একটি সম্ভাবনাময় অঞ্চল। তবে বর্তমানে আমরা পাঁচটি অগ্রাধিকারভিত্তিক অর্থনৈতিক অঞ্চল উন্নয়নের কাজ করছি, যার মধ্যে সাবরাং অন্তর্ভুক্ত নয়। সাবরাংয়ে অবকাঠামো উন্নয়নের কাজ চলমান রয়েছে, এবং এটিকে টেকসইভাবে উন্নয়ন করতে হবে। আমাদের প্রাথমিকভাবে গুরুত্ব দেওয়া পাঁচটি অর্থনৈতিক অঞ্চল যখন ভালো অবস্থানে পৌঁছাবে, তখন আমরা সাবরাংয়ের উন্নয়নে আরও গুরুত্বসহকারে ফোকাস করব।”

তবে সাবরাং ট্যুরিজম পার্কের জন্য আলাদা করে ১০ বছরের সময়সীমায় পরিকল্পনা রয়েছে বেজার। এ সময়ে পর্যটন পার্কটিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। সূত্র: দ্যা বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড

টঙ্গীতে মাদ্রাসাশিক্ষার্থীকে চুমু: সেই শিক্ষকের জামিন নামঞ্জুর

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:১৫ অপরাহ্ণ
টঙ্গীতে মাদ্রাসাশিক্ষার্থীকে চুমু: সেই শিক্ষকের জামিন নামঞ্জুর
শেয়ার করুন

গাজীপুরের টঙ্গীতে মাদ্রাসার ভেতরে ছয় বছর বয়সী এক শিশু শিক্ষার্থীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া শিক্ষক মোসলেহ উদ্দিনের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন আদালত। রোববার (২৫ অক্টোবর) দুপুরে গাজীপুর মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২-এর বিচারক ওমর হায়দার উভয় পক্ষের শুনানি শেষে জামিন বাতিলের এই আদেশ দেন।

আদালতে বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মহিউদ্দীন জামিন নামঞ্জুরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, জামিনের ঘোর বিরোধিতা করে আদালতে যুক্তি উপস্থাপন করা হয় যে, আসামি এই মুহূর্তে জামিনে মুক্তি পেলে মামলার সুষ্ঠু তদন্ত ব্যাহত হতে পারে এবং সমাজে এর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। বিজ্ঞ বিচারক উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে আসামির জামিন আবেদন নাকচ করে দেন।

অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট শরিফুল আলম বলেন, আসামির অতীতে কোনো অপরাধের রেকর্ড বা পূর্ববর্তী মামলা নেই। এছাড়া তার দাবি, মামলার অভিযোগগুলো মিথ্যা এবং ঘটনার পক্ষে কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্যপ্রমাণ নেই। এসব যুক্তি তুলে ধরেই তারা জামিনের আবেদন করেছিলেন।

 

এদিকে ঘটনাটির জের ধরে দায়ের হওয়া পাল্টাপাল্টি মামলাকে কেন্দ্র করে একটি মহল পরিকল্পিতভাবে বিভ্রান্তি ও অপপ্রচার ছড়াচ্ছে বলে সতর্ক করেছে পুলিশ। উভয় মামলার নিরপেক্ষ তদন্তের আশ্বাস দিয়ে গাজীপুর মহানগর পুলিশ (জিএমপি) কমিশনার মো. ইসরাইল হাওলাদার গুজব থেকে বিরত থাকার জন্য সর্বসাধারণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে শিশুটির বাবাকে গ্রেপ্তার করতে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে বলে গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া তথ্যকে অসত্য ও ভিত্তিহীন বলে স্পষ্ট করেছেন তিনি।

 

রোববার সকালে জিএমপি ও গণমাধ্যমকর্মীদের সমন্বয়ে পরিচালিত ‘জিএমপি মিডিয়া’ নামের অফিশিয়াল হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে সাংবাদিকদের একটি সংবাদের প্রেক্ষিতে তিনি এসব তথ্য জানান।

 

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, টঙ্গীর আউচপাড়ার শফিউদ্দিন রোডে অবস্থিত ‘ক্বারিউল কুরআন ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসা’র ভেতরে প্রথম শ্রেণির ছয় বছর বয়সী এক ছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শিশুর পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা করা হলে মাদ্রাসার ভাইস প্রিন্সিপাল মো. মোসলেহ উদ্দিনকে তাৎক্ষণিকভাবে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠায় পুলিশ।

 

তবে এর পরপরই ঘটনাটি নতুন দিকে মোড় নেয়। প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ ক্বারী মো. আলমাছ হোসেন গাজীপুরী পাল্টা অভিযোগ তোলেন যে, ঘটনার পর একদল লোক মাদ্রাসায় ঢুকে ব্যাপক ভাঙচুর চালিয়েছে এবং শিক্ষক-কর্মচারীদের মারধর করেছে। এ ঘটনায় তিনি ভুক্তভোগী শিশুটির বাবা শাহজালাল রুমিসহ অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে আরেকটি মামলা দায়ের করেন।

 

পাল্টা এই মামলার পর ‘শিশুটির বাবাকে গ্রেপ্তারে মাঠে নেমেছে পুলিশ’—এমন খবর কিছু গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে তা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক ক্ষোভ ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়। বিভিন্ন ভিডিও ও মন্তব্য ছড়িয়ে পড়ে তৈরি হয় চাঞ্চল্য। তবে পুলিশ পরিষ্কার জানিয়েছে, মামলার তদন্ত আইনি নিয়ম মেনেই এগোচ্ছে এবং কোনো পক্ষকেই উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে হয়রানি করা হচ্ছে না।

জাইমা রহমানের জন্মদিনে ৫ শতাধিক ছাত্রীকে বাইসাইকেল উপহার

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:১৫ অপরাহ্ণ
জাইমা রহমানের জন্মদিনে ৫ শতাধিক ছাত্রীকে বাইসাইকেল উপহার
শেয়ার করুন

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমানের জন্মদিন উপলক্ষে বগুড়ার শিবগঞ্জে ৫৪৮ জন ছাত্রীকে বিনামূল্যে বাইসাইকেল উপহার দেওয়া হয়েছে। রবিবার (২৫ অক্টোবর) বগুড়ার শিবগঞ্জ সরকারি পাইলট উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্রীদের নিয়ে এই আয়োজন করা হয়।

স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের আয়োজনে এসব ছাত্রীদের বাইসাইকেল দেওয়া হয়। এ সময় শিক্ষার্থীরা স্লোগান দেন, ‘শুভ শুভ শুভদিন, জাইমা রহমানের জন্মদিন’ ‘করবো কাজ গড়বো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’।

এ সময় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, সাত শতাধিক মেধাবী শিক্ষার্থীর পরীক্ষা নিয়েছিলাম, যার মধ্যে অংশ নিয়েছিল ৫৪৮ জন ছাত্রী। মোট ১০২টি শিক্ষার্থী প্রতিষ্ঠানের ৫৪৮জনকে ডেকে নিয়ে বাইসাইকেল উপহার দিচ্ছি।

এছাড়া যে প্রতিষ্ঠানে এই বাইসাইকেল প্রদানের আয়োজন করা হয়, তাদেরসহ প্রায় এক হাজার শিক্ষার্থীদের জাইমা রহমানের ছবি সম্বলিত মগ উপহার দেওয়া হয়।

বাইসাইকেল পেয়ে শিক্ষার্থীরা বেশ উচ্ছ্বসিত হন। কেউ কেউ স্কুল মাঠেই সাইকেল চালিয়ে আনন্দ উপভোগ করেন।

ঝোঁপঝাড়ে ফেলে যাওয়া নবজাতককে দত্তক নিতে ১২৩ পরিবারের আবেদন

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১:৩৯ অপরাহ্ণ
ঝোঁপঝাড়ে ফেলে যাওয়া নবজাতককে দত্তক নিতে ১২৩ পরিবারের আবেদন
শেয়ার করুন

চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে ফটিকছড়িতে সড়কের পাশের ঝোপঝাড়ে ফেলে যাওয়া এক নবজাত কন্যাশিশুকে দত্তক নিতে ব্যাপক আগ্রহ দেখা দিয়েছে শিশুটির লালন-পালনের দায়িত্ব নিতে এক দিনেই ১২৩টি আবেদন জমা পড়েছে।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাত পর্যন্ত ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে আবেদনকারীদের সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, আবেদনকারীদের পারিবারিক পরিবেশ, আর্থিক সামর্থ্য, শিশুর পরিচর্যার সক্ষমতা ও অন্যান্য প্রাসঙ্গিক বিষয় বিবেচনায় নিয়ে উপযুক্ত পরিবার নির্বাচনের প্রক্রিয়া চলছে। তবে, আবেদন করলেই শিশুটিকে দত্তক নেওয়ার সুযোগ মিলবে না। এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যাচাই-বাছাই ও প্রযোজ্য আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে।

ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাঈদ মোহাম্মদ ইব্রাহিম গণমাধ্যমকে বলেন, শিশুটিকে দত্তক নিতে বিপুলসংখ্যক আবেদন জমা পড়েছে। উপযুক্ত পরিবার নির্বাচনের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। যাচাই-বাছাই ও আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

এর আগে, গত বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার পাইন্দং ইউনিয়নের উত্তর পাইন্দং এলাকার আমতলীতে সড়কের পাশের ঝোঁপঝাড় থেকে নবজাতকটিকে জীবিত উদ্ধার করা হয়।

স্থানীয় লোকজন শিশুটিকে ঝোঁপের মধ্যে পড়ে থাকতে দেখে পুলিশকে খবর দেন। পরে ফটিকছড়ি থানা-পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশুটিকে উদ্ধার করেন। উদ্ধারের পর তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, শিশুটির শারীরিক অবস্থা ভালো ছিল।তবে কে বা কারা শিশুটিকে সেখানে ফেলে গেছেন, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। শিশুটির নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে উপযুক্ত পরিবার নির্বাচনের পাশাপাশি তাকে পরিত্যক্ত অবস্থায় ফেলে যাওয়ার ঘটনার রহস্য উদঘাটন ও পরিচয় শনাক্তে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় লোকজন।