ক্ষমতাচ্যুত কুতুবজোম চেয়ারম্যান যুবলীগ নেতা শেখ কামালের কান্ড! হুমকির মুখে সোনাদিয়া দ্বীপ
মহেশখালীর সোনাদিয়া দ্বীপে আবারও গড়ে উঠছে অবৈধ কটেজ ও পর্যটন স্থাপনা নির্মাণ।জানা গেছে, ক্ষমতাচ্যুক আ’লীগের অঙ্গ সংগঠন যুবলীগ নেতা কুতুবজোম চেয়ারম্যানসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রভাবশালী ব্যক্তিদের ছত্রছায়ায় এবং স্থানীয় সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর ভাগ-বাটোয়ারার মাধ্যমে প্রতিনিয়তই নতুন নতুন কটেজ ও অস্থায়ী অবকাঠামো গড়ে উঠছে।
এই সব নির্মাণে নির্বিচারে ব্যবহার করা হচ্ছে ঝাউগাছের কাঠ। অনেক জায়গায় পুরোপুরি কেটে ফেলা হচ্ছে ঝাউবনের সেই প্রাকৃতিক বেষ্টনী, যা দীর্ঘদিন ধরে দ্বীপটিকে জলোচ্ছ্বাস, ঘূর্ণিঝড় ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের প্রথম আঘাত থেকে রক্ষা করে আসছে।
পরিবেশবিদদের মতে, ঝাউবন ধ্বংস হলে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে পড়বে মহেশখালী দ্বীপের উপকূলীয় অংশ। সাগরের ঢেউ প্রতিরোধে ঝাউবন একটি প্রাকৃতিক প্রাচীর হিসেবে কাজ করে। অথচ কটেজ নির্মাণের নামে সেই সুরক্ষা বলয় ধীরে ধীরে নিশ্চিহ্ন হয়ে যাচ্ছে।
সেভ দ্যা মহেশখালী আইল্যান্ডের তরুণ কন্ঠস্বর রুহুল আমিন বলেন, প্রতিবছর শীতের শুরুতেই পর্যটক মৌসুমকে টার্গেট করে এসব স্থাপনা নির্মাণ করে আসছে তারা। আমরা চাই এসব রাঘববোয়ালদের হাত থেকে সোনাদিয়াকে রক্ষা করতে।
তরুণ সংবাদকর্মী ও একটিভিস্ট নুরুল আবছার বলেন, আমরা এসব অনিয়মের বিরুদ্ধে প্রতিবছরই লিখি প্রশাসন ও প্রতিবছর অভিযান চালায়। সুতরাং এসব লোকদেখানো অভিযানের গালগল্প আর না শুনিয়ে সোনাদিয়া দ্বীপ রক্ষায় সর্বোচ্চ পদক্ষেপ নিয়ে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করার জোর দাবি জানাচ্ছি
স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, প্রশাসনের চোখের সামনে এমন অবৈধ স্থাপনা গড়ে উঠলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। বরং প্রভাবশালী মহল নিজেদের স্বার্থে দ্বীপের পরিবেশকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
যদি এখনই এসব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ ও ঝাউবন রক্ষায় শক্ত পদক্ষেপ না নেওয়া হয়, তবে নিকট ভবিষ্যতে বড় কোনো ঘূর্ণিঝড় বা জলোচ্ছ্বাসে সোনাদিয়া ও মহেশখালী দ্বীপ ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখে পড়তে পারে—এমন আশঙ্কায় রয়েছে দ্বীপের সাধারণ মানুষ।
অবিলম্বে দৃষ্টি না দিলে অতীতের বহু সতর্কবার্তা ও
লোকদেখানো নামেমাত্র অভিযানের মতো এ সতর্কবার্তাও হয়তো শুধু কাগজেই থেকে যাবে, আর বিলীন হয়ে যাবে মূল্যবান ঝাউবন ও দ্বীপের প্রাণ প্রকৃতি।

আপনার মতামত লিখুন