খুঁজুন
, ,

বিদেশি মিডিয়াকে সাক্ষাৎকার

ক্ষমা চাইবেন না, আওয়ামী লীগকে বাদ দিয়ে গঠিত সরকারের অধীনে দেশে ফিরবেন না শেখ হাসিনা

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৫, ১০:৪৯ অপরাহ্ণ
ক্ষমা চাইবেন না, আওয়ামী লীগকে বাদ দিয়ে গঠিত সরকারের অধীনে দেশে ফিরবেন না শেখ হাসিনা
শেয়ার করুন

বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব পরিবারের ওপর নির্ভর করবে না। দলটিকে নির্বাচনে অংশ নেয়া নিষিদ্ধ করার পর, লাখ লাখ সমর্থক আগামী জাতীয় নির্বাচন বর্জন করবেন। বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেয়া সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেছেন দলটির নেত্রী ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ওদিকে লন্ডনের ইন্ডিপেন্ডেন্টকে আলাদাভাবে দেয়া সাক্ষাৎকারে তিনি গত বছর ছাত্রদের নেতৃত্বে বিক্ষোভের সময় নিহতদের বিষয়ে ক্ষমা চাইতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন, তার দলকে বাদ দিয়ে যে সরকার গঠিত হবে, এমন যে কোনো সরকারের অধীনে দেশে ফিরে আসবেন না। ভারতেই অবস্থান করবেন। গত বছর ৫ই আগস্ট পালিয়ে ভারতে আশ্রয় নেয়ার পর এবারই প্রথম বিদেশি সংবাদ মাধ্যমের সঙ্গে সাক্ষাৎকার দিলেন তিনি। তিনি পালিয়ে যাওয়ার পর শান্তিতে নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার বাংলাদেশে নেতৃত্ব দিচ্ছে। হাসিনার অপসারণের পর থেকেই বাংলাদেশ শাসন করছেন তারা। আগামী ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন আয়োজনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার।

শেখ হাসিনা বলেন, আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করা শুধু অন্যায় নয়, বরং সেলফ-ডিফিটিং। তিনি বলেন, পরবর্তী সরকারে অবশ্যই নির্বাচন-তাৎপর্য থাকা চাই। কোটি কোটি মানুষ আওয়ামী লীগের সমর্থক। তাই এ অবস্থায় তারা ভোটে যাবে না। কার্যকর রাজনৈতিক ব্যবস্থার জন্য কোটি কোটি মানুষকে নির্বাচন থেকে বঞ্চিত করা যায় না।

রয়টার্স লিখেছে, বাংলাদেশে নিবন্ধিত ভোটারের সংখ্যা সাড়ে ১২ কোটি ছাড়িয়ে গেছে। রাজনৈতিকভাবে আওয়ামী লীগ ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) দীর্ঘদিন ধরেই মূল দুই দল। আগামী নির্বাচনে বিএনপিকেই বিজয়ী হিসেবে দেখা হচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে নির্বাচন কমিশন মে মাসে আওয়ামী লীগের নিবন্ধন স্থগিত করেছে। তার আগে ইউনূস সরকারের অধীনে জাতীয় নিরাপত্তা ও যুদ্ধাপরাধ তদন্তের জন্য ওই দলের সব কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ করা হয়।

শেখ হাসিনা আরও বলেন, আমরা আমাদের সমর্থকদের অন্য কোনো দলকে সমর্থন করতে বলছি না। আমরা এখনও আশা করি, সাধারণ বিবেক জয়ের পথে ফিরে আসবে এবং আমাদের দল নিজে নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে।

রয়টার্স লিখেছে- তিনি জানালেন না, নিজে কিংবা তার প্রতিনিধির মাধ্যমে তারা গোপনে বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করছেন কি না, যাতে আওয়ামী লীগ নির্বাচনে অংশ নিতে পারে। ইউনূস সরকারের মুখপাত্ররা এ বিষয়ে মন্তব্য করেননি। জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ১৫ জুলাই থেকে ৫ আগস্টের মধ্যে কমপক্ষে ১,৪০০ জন নিহত হয়েছেন, যা স্বাধীনতার পর থেকে দেশের সবচেয়ে ভয়ঙ্কর সহিংসতা ছিল। হাসিনা এই অভিযোগগুলো অস্বীকার করে বলেছেন, তিনি নিজে প্রাণঘাতী বল প্রয়োগ বা অন্যান্য অভিযোগের অপরাধে অংশ নেননি। তিনি বলেছেন, তার দেশে ফেরা এখনো পরিকল্পনায় নেই। তিনি জানিয়েছেন, দল ভবিষ্যতে- সরকারে হোক বা বিরোধীদলে হোক- ভূমিকা নেবে, এবং দলের নেতৃত্ব তার পরিবারের ওপর নির্ভরশীল হবে না। তিনি বলেন, এটা আমার বা আমার পরিবারের ব্যাপার নয়। বাংলাদেশের জন্য যে ভবিষ্যত আমরা সবাই চাই, সেজন্য সাংবিধানিক শাসন ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরে আসতেই হবে। কোনো এক ব্যক্তি বা পরিবার আমাদের দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করে না। তিনি বলেন, অবশ্যই আমি দেশে যেতে চাই, শুধু যদি সরকার বৈধ হয়, সংবিধান রক্ষা পায়, এবং আইন ও শৃঙ্খলা সত্যিকারভাবে বজায় থাকে।

আলাদাভাবে তিনি বৃটেনের দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্টকে গণআন্দোলনে নিহতদের জন্য ক্ষমা চাইতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। ইন্ডিপেন্ডেন্ট তার এই বক্তব্যই তাদের শিরোনাম করেছে। হাসিনা বলেন, গত বছরের রাস্তায় বিক্ষোভ দমনে নিরাপত্তা বাহিনীর প্রাণঘাতী অভিযানের জন্য তিনি ক্ষমা চাইবেন না।

ইন্ডিপেন্ডেন্ট লিখেছে, ১৫ বছরেরও বেশি সময় ‘লৌহ মুষ্টিতে’ দেশ শাসন করা শেখ হাসিনা বর্তমানে ভারতের নির্বাসনে রয়েছেন। সাক্ষাৎকারে যখন তাকে জিজ্ঞেস করা হয়, নিহত বিক্ষোভকারীদের পরিবারের কাছে তিনি ক্ষমা চাইবেন কি না? জবাবে হাসিনা বলেন, আমি আমাদের প্রতিটি সন্তান, ভাই, বোন ও বন্ধুর মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করছি, যাদের আমরা জাতি হিসেবে হারিয়েছি। আমি তাদের প্রতি আমার সমবেদনা জানাতে থাকব। তবে হাসিনা দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করেন যে, তিনি কখনো পুলিশকে গুলি চালানোর নির্দেশ দেননি। বরং তার দাবি, ‘অনির্বাচিত’ অন্তর্বর্তী সরকারের মাধ্যমে তার দল আওয়ামী লীগকে ইচ্ছাকৃতভাবে নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। হাসিনা গত বছরের আন্দোলনের সময় তার পদক্ষেপগুলোর সাফাই দিয়ে বলেন, তিনি কোনো হত্যাকাণ্ডের দায় ব্যক্তিগতভাবে নেন না। বরং তিনি ওই ঘটনাকে বলেন ‘একটি সহিংস বিদ্রোহ’। তার দাবি, বেশির ভাগ হতাহতের কারণ ছিল মাঠ পর্যায়ে নিরাপত্তা বাহিনীর মধ্যে ‘শৃঙ্খলাভঙ্গ’ এবং তিনি বলেন, একজন নেতা হিসেবে আমি সার্বিকভাবে দায় স্বীকার করি। কিন্তু এই অভিযোগ যে আমি গুলি চালানোর নির্দেশ দিয়েছিলাম- এটি সম্পূর্ণ ভুল। তিনি বলেন, তার সরকার প্রথম হত্যাকাণ্ডগুলোর তদন্তে একটি স্বাধীন কমিশন গঠন করেছিল, যা পরে ক্ষমতা গ্রহণের পর অন্তর্বর্তী সরকার বন্ধ করে দেয়।

গত বছরের বাংলাদেশের বিক্ষোভ দমন বিশ্বকে নাড়া দিয়েছিল। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের উপ-আঞ্চলিক পরিচালক বাবুরাম পান্ট তখন বলেন, বিক্ষোভ দমনে নিহতের সংখ্যা যেভাবে বাড়ছে, তা বাংলাদেশ সরকারের প্রতিবাদ ও মতবিরোধের প্রতি সম্পূর্ণ অসহিষ্ণুতার নির্মম উদাহরণ। জাতিসংঘের মানবাধিকার প্রধান ভলকার তুর্ক মন্তব্য করেন, ছাত্র বিক্ষোভকারীদের ওপর হামলা অত্যন্ত নিন্দনীয় ও অগ্রহণযোগ্য। তবে হাসিনা ছাত্র আন্দোলনের সময় উল্লেখিত মৃতের সংখ্যা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি বলেন, ১৪০০ নিহতের সংখ্যাটি সম্ভবত অতিরঞ্জিত। হাসিনা বলেন, সরকারের পদক্ষেপ তখন ছিল- ‘সৎ উদ্দেশ্যে নেয়া ব্যবস্থা, যাতে প্রাণহানি কমানো যায়, কারণ আন্দোলন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছিল।’নিজের দেশত্যাগের সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যায় হাসিনা বলেন, ‘আমি ৫ আগস্ট দেশ ছেড়েছিলাম বাধ্য হয়ে। দেশে থাকলে শুধু আমার নয়, আমার আশপাশের মানুষের জীবনও বিপন্ন হতো।’ দেশত্যাগ ও আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ হওয়ার পরও হাসিনা বলেন, তিনি বাংলাদেশে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ‘শুধু মুক্ত, নিরপেক্ষ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচনই দেশকে সুস্থ করবে’।

ওদিকে ড. ইউনূস জানিয়েছেন, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন হবে। তবে আওয়ামী লীগ তাতে অংশ নিতে পারবে না।
নিজের উত্তরাধিকার প্রসঙ্গে হাসিনা বলেন, ‘আমি চাই মানুষ আমাকে সেই নেতা হিসেবে মনে রাখুক, যিনি ১৯৯০-এর দশকে সামরিক শাসনের পর দেশে সংসদীয় গণতন্ত্র ফিরিয়ে এনেছিলেন এবং লক্ষ লক্ষ মানুষকে দারিদ্র্য থেকে উত্তরণে সহায়তা করেছিলেন।’ তিনি বলেন, ‘এই অর্জনগুলো এখন উল্টে যাওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।’

টঙ্গীতে মাদ্রাসাশিক্ষার্থীকে চুমু: সেই শিক্ষকের জামিন নামঞ্জুর

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:১৫ অপরাহ্ণ
টঙ্গীতে মাদ্রাসাশিক্ষার্থীকে চুমু: সেই শিক্ষকের জামিন নামঞ্জুর
শেয়ার করুন

গাজীপুরের টঙ্গীতে মাদ্রাসার ভেতরে ছয় বছর বয়সী এক শিশু শিক্ষার্থীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া শিক্ষক মোসলেহ উদ্দিনের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন আদালত। রোববার (২৫ অক্টোবর) দুপুরে গাজীপুর মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২-এর বিচারক ওমর হায়দার উভয় পক্ষের শুনানি শেষে জামিন বাতিলের এই আদেশ দেন।

আদালতে বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মহিউদ্দীন জামিন নামঞ্জুরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, জামিনের ঘোর বিরোধিতা করে আদালতে যুক্তি উপস্থাপন করা হয় যে, আসামি এই মুহূর্তে জামিনে মুক্তি পেলে মামলার সুষ্ঠু তদন্ত ব্যাহত হতে পারে এবং সমাজে এর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। বিজ্ঞ বিচারক উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে আসামির জামিন আবেদন নাকচ করে দেন।

অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট শরিফুল আলম বলেন, আসামির অতীতে কোনো অপরাধের রেকর্ড বা পূর্ববর্তী মামলা নেই। এছাড়া তার দাবি, মামলার অভিযোগগুলো মিথ্যা এবং ঘটনার পক্ষে কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্যপ্রমাণ নেই। এসব যুক্তি তুলে ধরেই তারা জামিনের আবেদন করেছিলেন।

 

এদিকে ঘটনাটির জের ধরে দায়ের হওয়া পাল্টাপাল্টি মামলাকে কেন্দ্র করে একটি মহল পরিকল্পিতভাবে বিভ্রান্তি ও অপপ্রচার ছড়াচ্ছে বলে সতর্ক করেছে পুলিশ। উভয় মামলার নিরপেক্ষ তদন্তের আশ্বাস দিয়ে গাজীপুর মহানগর পুলিশ (জিএমপি) কমিশনার মো. ইসরাইল হাওলাদার গুজব থেকে বিরত থাকার জন্য সর্বসাধারণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে শিশুটির বাবাকে গ্রেপ্তার করতে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে বলে গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া তথ্যকে অসত্য ও ভিত্তিহীন বলে স্পষ্ট করেছেন তিনি।

 

রোববার সকালে জিএমপি ও গণমাধ্যমকর্মীদের সমন্বয়ে পরিচালিত ‘জিএমপি মিডিয়া’ নামের অফিশিয়াল হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে সাংবাদিকদের একটি সংবাদের প্রেক্ষিতে তিনি এসব তথ্য জানান।

 

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, টঙ্গীর আউচপাড়ার শফিউদ্দিন রোডে অবস্থিত ‘ক্বারিউল কুরআন ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসা’র ভেতরে প্রথম শ্রেণির ছয় বছর বয়সী এক ছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শিশুর পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা করা হলে মাদ্রাসার ভাইস প্রিন্সিপাল মো. মোসলেহ উদ্দিনকে তাৎক্ষণিকভাবে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠায় পুলিশ।

 

তবে এর পরপরই ঘটনাটি নতুন দিকে মোড় নেয়। প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ ক্বারী মো. আলমাছ হোসেন গাজীপুরী পাল্টা অভিযোগ তোলেন যে, ঘটনার পর একদল লোক মাদ্রাসায় ঢুকে ব্যাপক ভাঙচুর চালিয়েছে এবং শিক্ষক-কর্মচারীদের মারধর করেছে। এ ঘটনায় তিনি ভুক্তভোগী শিশুটির বাবা শাহজালাল রুমিসহ অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে আরেকটি মামলা দায়ের করেন।

 

পাল্টা এই মামলার পর ‘শিশুটির বাবাকে গ্রেপ্তারে মাঠে নেমেছে পুলিশ’—এমন খবর কিছু গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে তা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক ক্ষোভ ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়। বিভিন্ন ভিডিও ও মন্তব্য ছড়িয়ে পড়ে তৈরি হয় চাঞ্চল্য। তবে পুলিশ পরিষ্কার জানিয়েছে, মামলার তদন্ত আইনি নিয়ম মেনেই এগোচ্ছে এবং কোনো পক্ষকেই উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে হয়রানি করা হচ্ছে না।

জাইমা রহমানের জন্মদিনে ৫ শতাধিক ছাত্রীকে বাইসাইকেল উপহার

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:১৫ অপরাহ্ণ
জাইমা রহমানের জন্মদিনে ৫ শতাধিক ছাত্রীকে বাইসাইকেল উপহার
শেয়ার করুন

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমানের জন্মদিন উপলক্ষে বগুড়ার শিবগঞ্জে ৫৪৮ জন ছাত্রীকে বিনামূল্যে বাইসাইকেল উপহার দেওয়া হয়েছে। রবিবার (২৫ অক্টোবর) বগুড়ার শিবগঞ্জ সরকারি পাইলট উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্রীদের নিয়ে এই আয়োজন করা হয়।

স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের আয়োজনে এসব ছাত্রীদের বাইসাইকেল দেওয়া হয়। এ সময় শিক্ষার্থীরা স্লোগান দেন, ‘শুভ শুভ শুভদিন, জাইমা রহমানের জন্মদিন’ ‘করবো কাজ গড়বো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’।

এ সময় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, সাত শতাধিক মেধাবী শিক্ষার্থীর পরীক্ষা নিয়েছিলাম, যার মধ্যে অংশ নিয়েছিল ৫৪৮ জন ছাত্রী। মোট ১০২টি শিক্ষার্থী প্রতিষ্ঠানের ৫৪৮জনকে ডেকে নিয়ে বাইসাইকেল উপহার দিচ্ছি।

এছাড়া যে প্রতিষ্ঠানে এই বাইসাইকেল প্রদানের আয়োজন করা হয়, তাদেরসহ প্রায় এক হাজার শিক্ষার্থীদের জাইমা রহমানের ছবি সম্বলিত মগ উপহার দেওয়া হয়।

বাইসাইকেল পেয়ে শিক্ষার্থীরা বেশ উচ্ছ্বসিত হন। কেউ কেউ স্কুল মাঠেই সাইকেল চালিয়ে আনন্দ উপভোগ করেন।

ঝোঁপঝাড়ে ফেলে যাওয়া নবজাতককে দত্তক নিতে ১২৩ পরিবারের আবেদন

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১:৩৯ অপরাহ্ণ
ঝোঁপঝাড়ে ফেলে যাওয়া নবজাতককে দত্তক নিতে ১২৩ পরিবারের আবেদন
শেয়ার করুন

চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে ফটিকছড়িতে সড়কের পাশের ঝোপঝাড়ে ফেলে যাওয়া এক নবজাত কন্যাশিশুকে দত্তক নিতে ব্যাপক আগ্রহ দেখা দিয়েছে শিশুটির লালন-পালনের দায়িত্ব নিতে এক দিনেই ১২৩টি আবেদন জমা পড়েছে।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাত পর্যন্ত ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে আবেদনকারীদের সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, আবেদনকারীদের পারিবারিক পরিবেশ, আর্থিক সামর্থ্য, শিশুর পরিচর্যার সক্ষমতা ও অন্যান্য প্রাসঙ্গিক বিষয় বিবেচনায় নিয়ে উপযুক্ত পরিবার নির্বাচনের প্রক্রিয়া চলছে। তবে, আবেদন করলেই শিশুটিকে দত্তক নেওয়ার সুযোগ মিলবে না। এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যাচাই-বাছাই ও প্রযোজ্য আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে।

ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাঈদ মোহাম্মদ ইব্রাহিম গণমাধ্যমকে বলেন, শিশুটিকে দত্তক নিতে বিপুলসংখ্যক আবেদন জমা পড়েছে। উপযুক্ত পরিবার নির্বাচনের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। যাচাই-বাছাই ও আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

এর আগে, গত বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার পাইন্দং ইউনিয়নের উত্তর পাইন্দং এলাকার আমতলীতে সড়কের পাশের ঝোঁপঝাড় থেকে নবজাতকটিকে জীবিত উদ্ধার করা হয়।

স্থানীয় লোকজন শিশুটিকে ঝোঁপের মধ্যে পড়ে থাকতে দেখে পুলিশকে খবর দেন। পরে ফটিকছড়ি থানা-পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশুটিকে উদ্ধার করেন। উদ্ধারের পর তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, শিশুটির শারীরিক অবস্থা ভালো ছিল।তবে কে বা কারা শিশুটিকে সেখানে ফেলে গেছেন, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। শিশুটির নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে উপযুক্ত পরিবার নির্বাচনের পাশাপাশি তাকে পরিত্যক্ত অবস্থায় ফেলে যাওয়ার ঘটনার রহস্য উদঘাটন ও পরিচয় শনাক্তে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় লোকজন।