খুঁজুন
, ,

গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে সিদ্ধান্তহীনতা: অস্থিতিশীল দেশ

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৩ জুলাই, ২০২৫, ৩:০৬ অপরাহ্ণ
গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে সিদ্ধান্তহীনতা: অস্থিতিশীল দেশ
শেয়ার করুন

বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে অন্তর্বর্তী সরকারের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে সমন্বয়হীনতা ও দায়িত্বশীলতার অভাবে নানা ধরনের অস্থিরতা তৈরি হচ্ছে কি না এ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সম্প্রতি কয়েকটি ঘটনা তারই ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন রাজনীতিবিদরা।

রাজনীতিবিদদের মতে, সরকার সঠিক সময়ে সঠিক পদক্ষেপ নিতে না পারায় পরিস্থিতি তাদের নিয়ন্ত্রণেরও বাইরে চলে গেছে। এছাড়া অনেকদিন ধরেই সরকারের মধ্যে একটা সমন্বয়হীনতা রয়েছে।
সরকারের গুরুত্বপূর্ণ চেয়ারে বসে একেক সময় একেক ধরনের কথা বলা হয়।

মাইলস্টোনে বিমান দুর্ঘটনার পর সোমবার দিনগত রাতে এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত করা নিয়ে সিদ্ধান্তহীনতা ও মঙ্গলবার মাইলস্টোনে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিলের নম্বরে অর্থ জমা দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে পরে সমালোচনার পরিপ্রেক্ষিতে তা সরিয়ে নেওয়া সমন্বয়হীনতা ও সিদ্ধান্তহীনতার উল্লেখযোগ্য উদাহরণ।

মাইলস্টোনে মর্মান্তিক দুর্ঘটনার পর বিভিন্ন মহল থেকে মঙ্গলবারের এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিতের দাবি ওঠে। এ নিয়ে রাতে রাজধানীতে বিক্ষোভও হয়।

এমনকি অনলাইন একটিভিস্ট পিনাকী ভট্টাচার্য তার ফেসবুক পেজে জানিয়েছেন, তিনি শিক্ষা উপদেষ্টাকে ফোন করে পরীক্ষা স্থগিতের পরামর্শ দেন। কিন্তু মধ্যরাত পর্যন্ত এ নিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি।

তবে জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম আরও আশ্চর্যজনক তথ্য দিয়েছেন। কয়েকজন উপদেষ্টা নাকি শিক্ষা উপদেষ্টাকে ফোন করে পাননি।

এমন পরিস্থিতিতে রাত পৌনে তিনটায় তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা মাহফুজ আলমের ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে বলা হয়, শিক্ষা উপদেষ্টা মহোদয়ের সাথে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের মাননীয় উপদেষ্টা মাহফুজ আলমের সাক্ষাৎ হয়েছে। আজকের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা স্থগিত করার সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন মাননীয় শিক্ষা উপদেষ্টা।

কাছাকাছি সময়ে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়ার ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে বলা হয়, আজকের এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে।

এরপর দিবাগত রাত তিনটার দিকে ‘জরুরি সংবাদ বিজ্ঞপ্তি’ হিসেবে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. মামুন অর রশিদ হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে সাংবাদিকদের বলেন, রাজধানীর উত্তরার দিয়াবাড়ি এলাকায় মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিমান বিধ্বস্তে হতাহতের ঘটনায় মঙ্গলবারের (২২ জুলাই ২০২৫) এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন শিক্ষা উপদেষ্টা।

কিন্তু শিক্ষা মন্ত্রণালয় বা শিক্ষাবোর্ড এ বিষয়ে কোনো বিজ্ঞপ্তি দেয়নি।

এরপর মঙ্গলবার সকালে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে পরীক্ষা স্থগিতের বিষয়টি জানানো হয়।

পাশাপাশি সকালে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে পরীক্ষা স্থগিতের কথা জানায়।

দুর্ঘটনার পর সারাদিন অতিবাহিত হলেও মন্ত্রণালয় বা বোর্ড কোনো সিদ্ধান্ত দেয়নি। এমন এক সময় সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো যখন পরীক্ষার সময় বাকি ছিল মাত্র কয়েক ঘণ্টা। আবার সেই সিদ্ধান্ত সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় জানায়নি।  এ নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়ে। মঙ্গলবার সচিবালয়ের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন স্থানে অস্থিরতা ছড়িয়ে পড়ে। একদল ছাত্র শিক্ষা উপদেষ্টার পদত্যাগের দাবিতে সচিবালয়ের সামনে অবস্থান নেয়। তখন সরকার শিক্ষা সচিবকে প্রত্যাহার করার কথা জানায়। কিন্তু ততক্ষণে আন্দোলন সহিংস রূপ নেয়। ছাত্ররা সচিবালয়ে ঢুকে ভাঙচুর শুরু করে। পরবর্তীতে আইন শৃঙখলাবাহিনী ছাত্রদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এ নিয়ে দিনভর সচিবালয় এলাকা ও গুলিস্তান এলাকা ছিল অশান্ত।

এসব বিষয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, গতকাল থেকে আজকে পর্যন্ত যে পরিস্থিতি ডেভেলপ হচ্ছে এ ক্ষেত্রে সরকার আরও দায়িত্বশীল ও মানবিক আচরণ করতে পারতো। আমাদের কাছে মনে হয়েছে সরকারের দায়িত্বশীল আচরণ সঠিক সময়ে সঠিক পদক্ষেপ নিতে না পারায় পরিস্থিতি তাদের নিয়ন্ত্রণেরও বাইরে চলে গেছে। আজকে সারাদিন অনেক ঘটনা দেখেছেন। মাইলস্টোনের শিক্ষার্থীদের ছয় দফা দাবির সাথে সংহতি প্রকাশ করছি। কিছু কিছু উপদেষ্টার দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণ দেখেছি। বিশেষত শিক্ষা উপদেষ্টা। গতকাল রাত তিনটা চারটার সময়ে আমাদের জানতে হচ্ছে এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত করতে হবে। অন্য উপদেষ্টারা তাকে ফোন দিয়ে পাচ্ছেন না। সরকারের যদি এই অবস্থা হয়, নিজেদের উপদেষ্টাদের মধ্যে সমন্বয় নেই, যেখানে পুরো ছাত্র সমাজ ট্রমাটাইজড। সেখানে একটা সিদ্ধান্ত নিতে রাত তিনটা চারটা বাজতেছে, অনিশ্চয়তা তৈরি হচ্ছে শঙ্কা তৈরি হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে যদি সরকারের উপদেষ্টা দায়িত্বশীল আচরণ করতো তাহলে এই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হতো না।

মাইলস্টোনে দুই উপদেষ্টার অবরুদ্ধ হওয়া নিয়ে নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, শিক্ষা উপদেষ্টা যিনি রাতে একটা দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণ করলেন। তিনি জাতির সামনে ক্ষমা না চেয়ে আবার স্পটে চলে গেলেন। এই যে পুরো ঘটনাটায় আমরা দায়িত্বশীল আচরণ দেখতে পেলাম না সরকারের বিভিন্ন উপদেষ্টার জায়গা থেকে। পুরো জাতি ট্রমাইটাইজ, সেখানে আরও বেশি ক্ষোভের সঞ্চার করছে।

এদিকে মঙ্গলবার প্রধান উপদেষ্টার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ থেকে মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ ভবনে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের জন্য অর্থসহায়তা চেয়ে একটি পোস্ট দেওয়া হয়। পোস্টে বলা হয়, ‘মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত হয়ে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য যারা অর্থ সাহায্য করতে চান, তারা উপরোক্ত ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিলের উল্লেখিত নম্বরে তা জমা দিতে পারেন। হিসাবের নাম: প্রধান উপদেষ্টার ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিল, চলতি হিসাব নম্বর-০১০৭৩৩০০৪০৯৩, সোনালী ব্যাংক লি., প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় করপোরেট শাখা। ’ এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। এর কিছুক্ষণ পর পেজ থেকে পোস্টটি সরিয়ে ফেলা হয়।

এ দুই বিষয়ে অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট পিনাকী ভট্টাচার্য এক পোস্টে বলেন, ইন্টেরিম গেসে পাগল হইয়া। প্রধান উপদেষ্টার ত্রাণ তহবিলে টাকা চেয়েছিল। ………… পোস্ট ডিলেট দিয়েছে। কাল পরীক্ষা পেছনের এক সিদ্ধান্ত নিতেই এরা রাত পার করে ব্লান্ডার করেছে। অথচ ফ্রিতেই এই পরামর্শ দিয়েছিলাম বিকেল ৩টায়। আবার আজ সকালে ত্রাণের পোস্ট দিয়ে ……….। এটার পেছনে সমস্যা হচ্ছে মানুষ কি চায় সেটাকে সব সময় পপুলিজম হিসেবে নেগেটিভলি রিড করা। আর বয়স্ক উপদেষ্টাদের কথা কি বলব, এদের আমরা ফ্রি সার্ভিস দিতে দিতে আকাশে তুলেছি। স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নিজেই মুরব্বী ও অসুস্থ একজন মানুষ। এরা রাষ্ট্রটা হাতে পাইয়াও কিছুই করতে পারতেছে না। সচিবালয়ে ঢুকে পড়তে যাচ্ছে ছাত্ররা। একটা শিক্ষা দেওয়ার প্রয়োজন আছে।

বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সাধারণ সম্পাদক ও বাম গণতান্ত্রিক জোটের সমন্বয়ক রুহিন হোসেন প্রিন্স সরকারের সমন্বয়হীনতা নিয়ে এক প্রশ্নে বাংলানিউজকে বলেন, অনেকদিন ধরেই আমরা দেখে আসছি সরকারের মধ্যে একটা সমন্বয়হীনতা। একেক সময় একেক ধরনের কথা বলা হয়। বিশেষ করে সরকারের যারা প্রেসে কথা বলে বা দায়িত্বে আছে তাদের কথায় এটা বেশি দেখা যাচ্ছে। সরকার তো চলে একটা কেন্দ্র থেকে। কিন্তু এ ধরনের সমন্বয়হীন কথাবার্তায় মনে হয় আসলে কেন্দ্র কোথায়। মানুষের মধ্যে এ ধরনের নানা প্রশ্ন, বিভ্রান্তি ও সংশয় তৈরি হচ্ছে। এই যে বিমান দুর্ঘটনার মধ্য দিয়ে যে মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে গেল, তারপরে সাহায্যের কথা বলা হলো, আবার সেটা প্রত্যাহার করা হলো, গভীর রাতে এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত করা হলো। আরো অনেক ঘটনা দেখা যায়, এইসবের মধ্য দিয়ে সমন্বয়হীনতা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। এতে অস্থিতিশীলতা তৈরি হচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে দেশের মধ্যে আরো স্থিতিশীলতা বাড়বে ‌। এজন্যই আমরা আগেই বলেছিলাম, দ্রুত একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিত সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করা। সেটা যত দেরি হবে দেশে অস্থিতিশীলতাও তত বাড়বে। সুত্র:বাংলানিউজ২৪

জাইমা রহমানের জন্মদিনে ৫ শতাধিক ছাত্রীকে বাইসাইকেল উপহার

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:১৫ অপরাহ্ণ
জাইমা রহমানের জন্মদিনে ৫ শতাধিক ছাত্রীকে বাইসাইকেল উপহার
শেয়ার করুন

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমানের জন্মদিন উপলক্ষে বগুড়ার শিবগঞ্জে ৫৪৮ জন ছাত্রীকে বিনামূল্যে বাইসাইকেল উপহার দেওয়া হয়েছে। রবিবার (২৫ অক্টোবর) বগুড়ার শিবগঞ্জ সরকারি পাইলট উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্রীদের নিয়ে এই আয়োজন করা হয়।

স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের আয়োজনে এসব ছাত্রীদের বাইসাইকেল দেওয়া হয়। এ সময় শিক্ষার্থীরা স্লোগান দেন, ‘শুভ শুভ শুভদিন, জাইমা রহমানের জন্মদিন’ ‘করবো কাজ গড়বো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’।

এ সময় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, সাত শতাধিক মেধাবী শিক্ষার্থীর পরীক্ষা নিয়েছিলাম, যার মধ্যে অংশ নিয়েছিল ৫৪৮ জন ছাত্রী। মোট ১০২টি শিক্ষার্থী প্রতিষ্ঠানের ৫৪৮জনকে ডেকে নিয়ে বাইসাইকেল উপহার দিচ্ছি।

এছাড়া যে প্রতিষ্ঠানে এই বাইসাইকেল প্রদানের আয়োজন করা হয়, তাদেরসহ প্রায় এক হাজার শিক্ষার্থীদের জাইমা রহমানের ছবি সম্বলিত মগ উপহার দেওয়া হয়।

বাইসাইকেল পেয়ে শিক্ষার্থীরা বেশ উচ্ছ্বসিত হন। কেউ কেউ স্কুল মাঠেই সাইকেল চালিয়ে আনন্দ উপভোগ করেন।

ঝোঁপঝাড়ে ফেলে যাওয়া নবজাতককে দত্তক নিতে ১২৩ পরিবারের আবেদন

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১:৩৯ অপরাহ্ণ
ঝোঁপঝাড়ে ফেলে যাওয়া নবজাতককে দত্তক নিতে ১২৩ পরিবারের আবেদন
শেয়ার করুন

চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে ফটিকছড়িতে সড়কের পাশের ঝোপঝাড়ে ফেলে যাওয়া এক নবজাত কন্যাশিশুকে দত্তক নিতে ব্যাপক আগ্রহ দেখা দিয়েছে শিশুটির লালন-পালনের দায়িত্ব নিতে এক দিনেই ১২৩টি আবেদন জমা পড়েছে।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাত পর্যন্ত ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে আবেদনকারীদের সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, আবেদনকারীদের পারিবারিক পরিবেশ, আর্থিক সামর্থ্য, শিশুর পরিচর্যার সক্ষমতা ও অন্যান্য প্রাসঙ্গিক বিষয় বিবেচনায় নিয়ে উপযুক্ত পরিবার নির্বাচনের প্রক্রিয়া চলছে। তবে, আবেদন করলেই শিশুটিকে দত্তক নেওয়ার সুযোগ মিলবে না। এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যাচাই-বাছাই ও প্রযোজ্য আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে।

ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাঈদ মোহাম্মদ ইব্রাহিম গণমাধ্যমকে বলেন, শিশুটিকে দত্তক নিতে বিপুলসংখ্যক আবেদন জমা পড়েছে। উপযুক্ত পরিবার নির্বাচনের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। যাচাই-বাছাই ও আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

এর আগে, গত বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার পাইন্দং ইউনিয়নের উত্তর পাইন্দং এলাকার আমতলীতে সড়কের পাশের ঝোঁপঝাড় থেকে নবজাতকটিকে জীবিত উদ্ধার করা হয়।

স্থানীয় লোকজন শিশুটিকে ঝোঁপের মধ্যে পড়ে থাকতে দেখে পুলিশকে খবর দেন। পরে ফটিকছড়ি থানা-পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশুটিকে উদ্ধার করেন। উদ্ধারের পর তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, শিশুটির শারীরিক অবস্থা ভালো ছিল।তবে কে বা কারা শিশুটিকে সেখানে ফেলে গেছেন, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। শিশুটির নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে উপযুক্ত পরিবার নির্বাচনের পাশাপাশি তাকে পরিত্যক্ত অবস্থায় ফেলে যাওয়ার ঘটনার রহস্য উদঘাটন ও পরিচয় শনাক্তে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় লোকজন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রচেষ্টায় ভোলাখালে অষ্টম সেতু নির্মাণের প্রস্তাব

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১:০০ অপরাহ্ণ
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রচেষ্টায় ভোলাখালে অষ্টম সেতু নির্মাণের প্রস্তাব
শেয়ার করুন

কক্সবাজারের পেকুয়ায় ভোলাখালের ওপর মগনামা বাজারপাড়া থেকে বারবাকিয়া ইউনিয়নের বোধামাঝির ঘোনা পর্যন্ত ১০০ মিটার দীর্ঘ সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রস্তাবিত সেতুটি নির্মিত হলে মগনামা ও বারবাকিয়ার মধ্যে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ স্থাপনের পাশাপাশি পেকুয়া ও কুতুবদিয়ার মানুষের যাতায়াত, পণ্য পরিবহন ও ব্যবসা-বাণিজ্যে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে বলে আশা করছেন স্থানীয়রা।

সম্প্রতি সেতু নির্মাণের উদ্যোগের অংশ হিসেবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও কক্সবাজার-১ আসনের সংসদ সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদের প্রয়োজনীয় সুপারিশ ও প্রস্তাব স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। প্রকল্পটি অনুমোদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও কারিগরি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে সেতু নির্মাণকাজ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

স্থানীয়দের মতে, সেতুটি বাস্তবায়িত হলে মগনামা ও বারবাকিয়ার মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপনের পাশাপাশি পেকুয়া ও কুতুবদিয়ার সঙ্গে মহেশখালী হয়ে চট্টগ্রামের যোগাযোগে একটি বিকল্প ও গুরুত্বপূর্ণ সড়কপথ তৈরি হতে পারে। এতে যাতায়াতের সময় ও পেকুয়া বাজার কেন্দ্রীক যানজট ভোগান্তি কমার পাশাপাশি উপকূলীয় এ অঞ্চলের আর্থসামাজিক কর্মকাণ্ড, কৃষিপণ্য,লবণ, মৎস্য পরিবহন ও ব্যবসা-বাণিজ্যে ইতিবাচক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এদিকে ‎ভোলাখালের বিভিন্ন অংশে ইতোমধ্যে সাতটি সেতু নির্মিত হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে- মগনামা শরৎঘোনা–রাজাখালী নতুনঘোনা সেতু, পেকুয়া পশ্চিম গোঁয়াখালী অংশের রাবারড্যাম সেতু, পেকুয়া বাজার–বারবাকিয়া ফাঁশিয়াখালী সেতু, পেকুয়া মৌলভীপাড়া অংশের আঞ্চলিক মহাসড়ক সেতু, পেকুয়া-বারবাকিয়া বাজার সেতু, পেকুয়া সাবমেরিন নৌঘাঁটি সড়কের সালাহউদ্দিন সেতু এবং বাগুজারা-সাকুরপাড় সেতু।

স্থানীয়দের দাবি, এসব সেতুর ধারাবাহিকতায় মগনামা বাজারপাড়া-বোধামাঝির ঘোনা সেতুটি নির্মিত হলে ভোলাখালের ওপর এটি হবে অষ্টম গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ সেতু। সেতুটি নির্মিত হলে পেকুয়া উপজেলার অভ্যন্তরীণ যোগাযোগব্যবস্থা আরও শক্তিশালী হওয়ার পাশাপাশি কুতুবদিয়ার সঙ্গে সড়ক যোগাযোগেও নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে।

 

‎

 

‎এতে শিক্ষা, চিকিৎসা, লবণ,মৎস্য ও কৃষিপণ্য পরিবহন, ব্যবসা-বাণিজ্য ও সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন চলাচলে দুই উপজেলার মানুষ সুফল পাবেন বলে প্রত্যাশা করছেন স্থানীয়রা। একই সঙ্গে পেকুয়া বাজারকেন্দ্রিক সড়কে যানবাহনের চাপও কিছুটা কমতে পারে বলে মনে করছেন তারা।

 

এলাকাবাসী জানান, দীর্ঘদিন ধরে ভোলাখাল মগনামা ও বারবাকিয়ার মানুষের স্বাভাবিক চলাচলের ক্ষেত্রে একটি বড় প্রতিবন্ধকতা হয়ে আছে। খালের ওপর প্রস্তাবিত সেতুটি নির্মিত হলে দুই এলাকার মধ্যে যোগাযোগ সহজ হওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় অর্থনীতি ও জনজীবনেও ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে।

 

‎দীর্ঘদিনের দাবি ও প্রত্যাশার পর সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়ায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এমপির প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ব্যক্তিগত প্রেস সচিব ছফওয়ানুল করিম বলেন, ‘চকরিয়া-পেকুয়া-মাতামুহুরী অঞ্চলের যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের ধারাবাহিকতায় ভোলাখালের মগনামা বাজারপাড়া অংশে ১০০ মিটার দীর্ঘ সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সুপারিশ ও প্রস্তাব স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। প্রকল্পটি অনুমোদনের পর পরবর্তী প্রশাসনিক ও কারিগরি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে সেতু নির্মাণের কাজ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে।’

 

‎তিনি বলেন, ‘সেতুটি নির্মিত হলে মগনামা, বারবাকিয়া ও আশপাশের এলাকার মানুষের চলাচল সহজ হওয়ার পাশাপাশি পেকুয়া-চকরিয়া অঞ্চলের সড়ক যোগাযোগব্যবস্থায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করছি।’

 

‎

 

‎পেকুয়া উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসাইন বলেন, ‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের প্রচেষ্টায় মগনামা-বোধামাঝির ঘোনা সেতু নির্মাণের উদ্যোগের খবরে বারবাকিয়া ও আশপাশের এলাকার মানুষের মধ্যে উৎসাহ সৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এ অঞ্চলের মানুষ যোগাযোগের ক্ষেত্রে নানা দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। সেতুটি নির্মিত হলে বারবাকিয়াসহ আশপাশের এলাকার সঙ্গে পেকুয়া উপজেলার সরাসরি ও সহজ যোগাযোগব্যবস্থা গড়ে উঠবে। একই সঙ্গে শিক্ষা, চিকিৎসা, কৃষি, ব্যবসা-বাণিজ্য ও সাধারণ মানুষের চলাচলেও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।’

তিনি বলেন, ‘মহেশখালীর মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর, পেকুয়া ও কুতুবদিয়ার মধ্যে যাতায়াত এবং পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রেও এ সেতু গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। জনগণের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণে দ্রুত প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে সেতুটির নির্মাণকাজ শুরুর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।’