খুঁজুন
, ,

গোপন ভিডিও মুছতে প্রেমিকা তারিনের পরিকল্পনায় খুন

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল, ২০২৬, ১২:১৩ অপরাহ্ণ
গোপন ভিডিও মুছতে প্রেমিকা তারিনের পরিকল্পনায় খুন
শেয়ার করুন

কক্সবাজারে ছাত্রদল কর্মী ও জুলাই আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক খোরশেদ আলম হত্যাকাণ্ডে পুলিশ এখনো কোনো কূলকিনারা করতে পারেনি। তবে যুগান্তরের অনুসন্ধানে চাঞ্চল্যকর তথ্য ওঠে এসেছে। প্রেমের সম্পর্কের টানাপোড়েন ও ব্যক্তিগত ‘গোপন ভিডিও’ ঘিরেই এই নির্মম হত্যার ঘটনা ঘটেছে। গত ২৪ মার্চ রাত ১০টার দিকে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকত সংলগ্ন ঝাউবাগানের কবিতা চত্বরে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয় খোরশেদকে।

নুসন্ধান বলছে, নিজের গোপন ভিডিও মুছে ফেলতে পেশাদার ছিনতাইকারী-সন্ত্রাসী ভাড়া করেছিলেন প্রেমিকা তারিন। তার পরিকল্পনাতেই খোরশেদ খুন হন। এতে নেতৃত্ব দেয় মোহাম্মদ হারুন, মোহাম্মদ জিসান (বাসানি) ও বেলাল ওরফে ঘোড়া বেলাল। ঘটনার পর তারা সমিতিপাড়া এলাকায় বিমানবন্দর উন্নয়ন প্রজেক্টে কাজ করা নাইটগার্ড রিয়াদের আশ্রয়ে রাত কাটায় এবং মাদক সেবন করে। মাত্র ৫টি ইয়াবার বিনিময়ে রিয়াদ তাদের আশ্রয় দিয়েছিলেন।

এ ঘটনায় মামলা হলেও অভিযোগ রয়েছে, প্রকৃত আসামিরা বাদ পড়েছে এবং তারিনকে মামলার সাক্ষী করা হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে একটি ছুরি ও কয়েকটি মাথার খোপা (ফুল) উদ্ধার করা হয়। ছুরিটি তারিনের বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।

খুনিদের পরিচয় : খোরশেদ হত্যায় ৪/৫ জনের সম্পৃক্ততা থাকলেও তিনজনের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে। তারা হলেন-পেশাদার ছিনতাইকারী মোহাম্মদ হারুন। সে ক্রসফায়ারে নিহত খারুল আমিনের ভাই। তার বাবার নাম বশির আহমেদ। স্থায়ী ঠিকানা মহেশখালী। তার বিরুদ্ধে অন্তত তিন ডজন মামলা রয়েছে। সম্প্রতি ছিনতাইকারী হিসাবে গ্রেফতার হয়ে বর্তমানে কারাগারে। মোহাম্মদ জিসান (বাসানি) বিচ বাইকচালক হলেও পেশাদার ছিনতাইকারী। তার বাবা নূরুল ইসলাম বাসানি। সমিতিপাড়া ১ নম্বর মসজিদ গেট এলাকার বাসিন্দা। বেলাল ওরফে ঘোড়া বেলালের বাবার নাম নুরু সালাম। বালিকা মাদ্রাসা এলাকার বাসিন্দা সে। সেও পেশাদার ছিনতাইকারী।

গোপন ভিডিও ঘিরে দ্বন্দ্ব : অনুসন্ধানে জানা যায়, দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্কের কারণে খোরশেদের কাছে তারিনের সঙ্গে একান্ত সময় কাটানোর একাধিক ভিডিও ও ছবি ছিল। সম্প্রতি তারিন ঢাকায় গিয়ে অন্য এক যুবকের সঙ্গে সম্পর্কে জড়ালে বিষয়টি নিয়ে দুজনের মধ্যে উত্তেজনা বাড়তে থাকে। বিরোধ একপর্যায়ে এমন অবস্থায় পৌঁছায়, দুজনই একে অপরকে হুমকি দিতে শুরু করেন। বেশি বাড়াবাড়ি করলে খোরশেদ ভিডিও প্রকাশের হুমকি দিয়ে তারিনকে দমানোর চেষ্টা করেন। এতে তারিন আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠেন। শেষ পর্যন্ত ‘সমঝোতার’ কথা বলে সৈকতের কবিতা চত্বরে দুজনের দেখা করার সিদ্ধান্ত হয়।

ছিনতাইকারী হারুনের ঘনিষ্ঠ এক ব্যক্তি জানান, ঘটনার দিন সন্ধ্যায় হারুনের মোবাইলে একটি কল আসে। কলদাতা জানায়, কবিতা চত্বরে এক ছেলে ও এক মেয়ে দেখা করবে; বনিবনা না হলে ছেলেটির মোবাইল ছিনতাই করে মেয়েটির কাছে পৌঁছে দিতে হবে। তার দাবি, কলদাতা আয়ুব নামের এক ব্যক্তি, যিনি হারুনের বন্ধু এবং তারিনেরও ঘনিষ্ঠ।

যেভাবে খোরশেদ হত্যাকাণ্ড : ঘটনার দিন রাত ৯টার পর খোরশেদ ও তারিন আলাদা রিকশায় কবিতা চত্বরে পৌঁছান। সেখান থেকে তারা সৈকতের বালিয়াড়িতে নেমে কথা বলতে শুরু করেন, যা দ্রুত তর্ক-বিতর্ক ও হাতাহাতিতে রূপ নেয়।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, একপর্যায়ে তারিন ব্যাগ থেকে একটি ছুরি বের করে আঘাতের চেষ্টা করলে খোরশেদ আত্মরক্ষায় তার চুলের মুঠি ধরে ধস্তাধস্তি করেন। ঠিক তখনই ঝাউবনের আড়াল থেকে বেরিয়ে আসে ওতপেতে থাকা হারুন, জিসান ও বেলালসহ অন্তত চারজন। তারা ছুরি দেখিয়ে খোরশেদের মোবাইলসহ সবকিছু দিতে বলে। আশ্চর্যজনকভাবে ঝগড়া ভুলে তারিনও খোরশেদকে মোবাইল ছিনতাকারীদের দিয়ে দিতে বলেন। তবে খোরশেদ প্রতিরোধের চেষ্টা করেন। এ সময় তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত ও কিল-ঘুসি মারে তারা। একপর্যায়ে মোবাইল ছিনিয়ে নেওয়ার পর সেটি তারিনের হাতে তুলে দেওয়া হয়। এরপর তারিন ঘটনাস্থল থেকে কিছুটা দূরে সরে গিয়ে ফোনটি যাচাই করতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। ধারণা করা হচ্ছে, সেসব ভিডিও তখনই মুছে ফেলা হয়। হামলাকারীরা তাকে ফেলে পালিয়ে যায়।

সূত্র বলছে, ঘটনার প্রায় ২০ মিনিট পর তারিন আবার খোরশেদের কাছে ফিরে যান। ততক্ষণে ব্যাপক রক্তক্ষরণ হয় খোরশেদের।

আগেই দেখে নেওয়ার হুমকি দেন তারিন : নিহত খোরশেদের বন্ধু রবিউল হোসেন জানান, ১৯ মার্চ রাতে আপন টাওয়ারের পাশে তাদের অস্থায়ী হালিম-বিরিয়ানি দোকানে উপস্থিত হন তারিন। এ সময় খোরশেদ কোথায়-জানতে চাইলে তারা জানান, জানেন না। এ সময় রবিউল ছাড়াও আকিব, ফেরদৌস ও ইয়াসিন উপস্থিত ছিলেন। পরে তারিন বলেন, তার ফোনে ব্যালেন্স নেই এবং একটি ফোন চান। ইয়াসিন তার ফোনটি দিলে খোরশেদকে কল করেন তারিন। ওইদিন ইয়াসিনের ব্যবহৃত ০১৮৮৩৪৯৬০৭০ নম্বর থেকে রাত ৮টা ৩৬ মিনিটে ২ মিনিট ১১ সেকেন্ড কথা বলেন তারিন। এ সময় খোরশেদকে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করেন এবং ৫ মিনিটের মধ্যে তার কাছে না এলে দেখে নেওয়ার হুমকি দেন বলে জানান রবিউল।

তারিনের যত অসংগতিপূর্ণ আচরণ : সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, খোরশেদ বাসা থেকে বের হন রাত ৯টা ১৭ মিনিটে এবং তারিন রিকশায় কবিতা চত্বরে পৌঁছান ৯টা ২৭ মিনিটে। লাশ উদ্ধার করা খোরশেদের বন্ধু শাহজাহান জানান, রাত ১০টা ১৭ মিনিটে তারিন নিজের মোবাইল থেকে তাকে কল দেন, তবে তিনি রিসিভ করেননি। পরে ১০টা ২৪ মিনিটে খোরশেদের মোবাইল থেকে কল পেয়ে তিনি জানান, খোরশেদকে ছুরিকাঘাত করা হয়েছে। পরে শাহজাহান ঘটনাস্থলে গিয়ে খোরশেদকে উদ্ধার করে ১০টা ৪১ মিনিটে হাসপাতালে নেন, সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

শাহজাহানের দাবি, ফোন পাওয়ার ১ মিনিটের মধ্যেই তিনি ঘটনাস্থলের উদ্দেশে রওয়ানা দেন এবং ১০ মিনিটের কম সময়ে পৌঁছান। তারিন তাদেরকে দেখে চিৎকার করে বলেন, ছিনতাইকারীরা খোরশেদকে ছুরিকাঘাত করেছে। তিনি প্রায় ৩০০ ফুট দূর থেকে খোরশেদের অবস্থান দেখিয়ে দেন। শাহজাহান জানান, খোরশেদকে গাড়িতে তোলার সঙ্গে সঙ্গেই তারিন ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। তারিন খোরশেদের মোবাইল থেকে কল দিলেও সেদিন খোরশেদের প্যান্টের পকেটেই তার মোবাইল পাওয়া যায়।

শাহাজান আরও জানান, ঘটনাস্থলে তারিনকে থ্রি-পিস পরা অবস্থায় দেখা গেলেও হাসপাতালে তিনি বোরকা ও মাস্ক পরে আসেন এবং অন্তত ২০-৩০ মিনিট পর সেখানে পৌঁছান, যা ছিল রহস্যজনক।

খোরশেদের মা সাবেকুন নাহার বলেন, তারিনই তাকে ডেকে নিয়ে হত্যার ফাঁদে ফেলেছে। তিনি দাবি করেন, তাদের মধ্যে তিন মাস ধরে কোনো সম্পর্ক ছিল না।

মামলার বাদী খোরশেদের ছোট ভাই নাওশাদ ও ঘনিষ্ঠদের কেউ কেউ জানান, ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার ছুরিটি তারিনেরই ছিল। সেটা দিয়ে সে সবসময় বন্ধুদের ভয় দেখাতো।

এদিকে ঘটনার পর থেকে তারিনকে নিয়ে নানা অভিযোগ উঠলে তিনি আত্মগোপনে চলে যান। গত তিন সপ্তাহ ধরে তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও সফল হননি প্রতিবেদক। কয়েক দফায় সামনাসামনি কথা বলার আশ্বাস দিলেও শেষ পর্যন্ত তিনি এড়িয়ে যান। তবে ফোনে তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন। অন্যদিকে মামলার কয়েকজন আসামি ভিডিও ও সিসিটিভি ফুটেজ দেখিয়ে নিজেদের নির্দোষ দাবি করেছেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. অহিদুর রহমান বলেন, খোরশেদ হত্যার বিষয়ে কয়েকদিনের মধ্যে অগ্রগতি পাওয়া যাবে। তিনি বলেন, মামলায় কার নাম আছে বা নেই, সেটি বড় বিষয় নয়, পুলিশ প্রকৃত খুনিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার জন্য কাজ করছে।

জাইমা রহমানের জন্মদিনে ৫ শতাধিক ছাত্রীকে বাইসাইকেল উপহার

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:১৫ অপরাহ্ণ
জাইমা রহমানের জন্মদিনে ৫ শতাধিক ছাত্রীকে বাইসাইকেল উপহার
শেয়ার করুন

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমানের জন্মদিন উপলক্ষে বগুড়ার শিবগঞ্জে ৫৪৮ জন ছাত্রীকে বিনামূল্যে বাইসাইকেল উপহার দেওয়া হয়েছে। রবিবার (২৫ অক্টোবর) বগুড়ার শিবগঞ্জ সরকারি পাইলট উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্রীদের নিয়ে এই আয়োজন করা হয়।

স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের আয়োজনে এসব ছাত্রীদের বাইসাইকেল দেওয়া হয়। এ সময় শিক্ষার্থীরা স্লোগান দেন, ‘শুভ শুভ শুভদিন, জাইমা রহমানের জন্মদিন’ ‘করবো কাজ গড়বো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’।

এ সময় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, সাত শতাধিক মেধাবী শিক্ষার্থীর পরীক্ষা নিয়েছিলাম, যার মধ্যে অংশ নিয়েছিল ৫৪৮ জন ছাত্রী। মোট ১০২টি শিক্ষার্থী প্রতিষ্ঠানের ৫৪৮জনকে ডেকে নিয়ে বাইসাইকেল উপহার দিচ্ছি।

এছাড়া যে প্রতিষ্ঠানে এই বাইসাইকেল প্রদানের আয়োজন করা হয়, তাদেরসহ প্রায় এক হাজার শিক্ষার্থীদের জাইমা রহমানের ছবি সম্বলিত মগ উপহার দেওয়া হয়।

বাইসাইকেল পেয়ে শিক্ষার্থীরা বেশ উচ্ছ্বসিত হন। কেউ কেউ স্কুল মাঠেই সাইকেল চালিয়ে আনন্দ উপভোগ করেন।

ঝোঁপঝাড়ে ফেলে যাওয়া নবজাতককে দত্তক নিতে ১২৩ পরিবারের আবেদন

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১:৩৯ অপরাহ্ণ
ঝোঁপঝাড়ে ফেলে যাওয়া নবজাতককে দত্তক নিতে ১২৩ পরিবারের আবেদন
শেয়ার করুন

চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে ফটিকছড়িতে সড়কের পাশের ঝোপঝাড়ে ফেলে যাওয়া এক নবজাত কন্যাশিশুকে দত্তক নিতে ব্যাপক আগ্রহ দেখা দিয়েছে শিশুটির লালন-পালনের দায়িত্ব নিতে এক দিনেই ১২৩টি আবেদন জমা পড়েছে।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাত পর্যন্ত ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে আবেদনকারীদের সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, আবেদনকারীদের পারিবারিক পরিবেশ, আর্থিক সামর্থ্য, শিশুর পরিচর্যার সক্ষমতা ও অন্যান্য প্রাসঙ্গিক বিষয় বিবেচনায় নিয়ে উপযুক্ত পরিবার নির্বাচনের প্রক্রিয়া চলছে। তবে, আবেদন করলেই শিশুটিকে দত্তক নেওয়ার সুযোগ মিলবে না। এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যাচাই-বাছাই ও প্রযোজ্য আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে।

ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাঈদ মোহাম্মদ ইব্রাহিম গণমাধ্যমকে বলেন, শিশুটিকে দত্তক নিতে বিপুলসংখ্যক আবেদন জমা পড়েছে। উপযুক্ত পরিবার নির্বাচনের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। যাচাই-বাছাই ও আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

এর আগে, গত বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার পাইন্দং ইউনিয়নের উত্তর পাইন্দং এলাকার আমতলীতে সড়কের পাশের ঝোঁপঝাড় থেকে নবজাতকটিকে জীবিত উদ্ধার করা হয়।

স্থানীয় লোকজন শিশুটিকে ঝোঁপের মধ্যে পড়ে থাকতে দেখে পুলিশকে খবর দেন। পরে ফটিকছড়ি থানা-পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশুটিকে উদ্ধার করেন। উদ্ধারের পর তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, শিশুটির শারীরিক অবস্থা ভালো ছিল।তবে কে বা কারা শিশুটিকে সেখানে ফেলে গেছেন, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। শিশুটির নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে উপযুক্ত পরিবার নির্বাচনের পাশাপাশি তাকে পরিত্যক্ত অবস্থায় ফেলে যাওয়ার ঘটনার রহস্য উদঘাটন ও পরিচয় শনাক্তে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় লোকজন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রচেষ্টায় ভোলাখালে অষ্টম সেতু নির্মাণের প্রস্তাব

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১:০০ অপরাহ্ণ
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রচেষ্টায় ভোলাখালে অষ্টম সেতু নির্মাণের প্রস্তাব
শেয়ার করুন

কক্সবাজারের পেকুয়ায় ভোলাখালের ওপর মগনামা বাজারপাড়া থেকে বারবাকিয়া ইউনিয়নের বোধামাঝির ঘোনা পর্যন্ত ১০০ মিটার দীর্ঘ সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রস্তাবিত সেতুটি নির্মিত হলে মগনামা ও বারবাকিয়ার মধ্যে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ স্থাপনের পাশাপাশি পেকুয়া ও কুতুবদিয়ার মানুষের যাতায়াত, পণ্য পরিবহন ও ব্যবসা-বাণিজ্যে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে বলে আশা করছেন স্থানীয়রা।

সম্প্রতি সেতু নির্মাণের উদ্যোগের অংশ হিসেবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও কক্সবাজার-১ আসনের সংসদ সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদের প্রয়োজনীয় সুপারিশ ও প্রস্তাব স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। প্রকল্পটি অনুমোদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও কারিগরি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে সেতু নির্মাণকাজ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

স্থানীয়দের মতে, সেতুটি বাস্তবায়িত হলে মগনামা ও বারবাকিয়ার মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপনের পাশাপাশি পেকুয়া ও কুতুবদিয়ার সঙ্গে মহেশখালী হয়ে চট্টগ্রামের যোগাযোগে একটি বিকল্প ও গুরুত্বপূর্ণ সড়কপথ তৈরি হতে পারে। এতে যাতায়াতের সময় ও পেকুয়া বাজার কেন্দ্রীক যানজট ভোগান্তি কমার পাশাপাশি উপকূলীয় এ অঞ্চলের আর্থসামাজিক কর্মকাণ্ড, কৃষিপণ্য,লবণ, মৎস্য পরিবহন ও ব্যবসা-বাণিজ্যে ইতিবাচক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এদিকে ‎ভোলাখালের বিভিন্ন অংশে ইতোমধ্যে সাতটি সেতু নির্মিত হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে- মগনামা শরৎঘোনা–রাজাখালী নতুনঘোনা সেতু, পেকুয়া পশ্চিম গোঁয়াখালী অংশের রাবারড্যাম সেতু, পেকুয়া বাজার–বারবাকিয়া ফাঁশিয়াখালী সেতু, পেকুয়া মৌলভীপাড়া অংশের আঞ্চলিক মহাসড়ক সেতু, পেকুয়া-বারবাকিয়া বাজার সেতু, পেকুয়া সাবমেরিন নৌঘাঁটি সড়কের সালাহউদ্দিন সেতু এবং বাগুজারা-সাকুরপাড় সেতু।

স্থানীয়দের দাবি, এসব সেতুর ধারাবাহিকতায় মগনামা বাজারপাড়া-বোধামাঝির ঘোনা সেতুটি নির্মিত হলে ভোলাখালের ওপর এটি হবে অষ্টম গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ সেতু। সেতুটি নির্মিত হলে পেকুয়া উপজেলার অভ্যন্তরীণ যোগাযোগব্যবস্থা আরও শক্তিশালী হওয়ার পাশাপাশি কুতুবদিয়ার সঙ্গে সড়ক যোগাযোগেও নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে।

 

‎

 

‎এতে শিক্ষা, চিকিৎসা, লবণ,মৎস্য ও কৃষিপণ্য পরিবহন, ব্যবসা-বাণিজ্য ও সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন চলাচলে দুই উপজেলার মানুষ সুফল পাবেন বলে প্রত্যাশা করছেন স্থানীয়রা। একই সঙ্গে পেকুয়া বাজারকেন্দ্রিক সড়কে যানবাহনের চাপও কিছুটা কমতে পারে বলে মনে করছেন তারা।

 

এলাকাবাসী জানান, দীর্ঘদিন ধরে ভোলাখাল মগনামা ও বারবাকিয়ার মানুষের স্বাভাবিক চলাচলের ক্ষেত্রে একটি বড় প্রতিবন্ধকতা হয়ে আছে। খালের ওপর প্রস্তাবিত সেতুটি নির্মিত হলে দুই এলাকার মধ্যে যোগাযোগ সহজ হওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় অর্থনীতি ও জনজীবনেও ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে।

 

‎দীর্ঘদিনের দাবি ও প্রত্যাশার পর সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়ায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এমপির প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ব্যক্তিগত প্রেস সচিব ছফওয়ানুল করিম বলেন, ‘চকরিয়া-পেকুয়া-মাতামুহুরী অঞ্চলের যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের ধারাবাহিকতায় ভোলাখালের মগনামা বাজারপাড়া অংশে ১০০ মিটার দীর্ঘ সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সুপারিশ ও প্রস্তাব স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। প্রকল্পটি অনুমোদনের পর পরবর্তী প্রশাসনিক ও কারিগরি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে সেতু নির্মাণের কাজ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে।’

 

‎তিনি বলেন, ‘সেতুটি নির্মিত হলে মগনামা, বারবাকিয়া ও আশপাশের এলাকার মানুষের চলাচল সহজ হওয়ার পাশাপাশি পেকুয়া-চকরিয়া অঞ্চলের সড়ক যোগাযোগব্যবস্থায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করছি।’

 

‎

 

‎পেকুয়া উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসাইন বলেন, ‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের প্রচেষ্টায় মগনামা-বোধামাঝির ঘোনা সেতু নির্মাণের উদ্যোগের খবরে বারবাকিয়া ও আশপাশের এলাকার মানুষের মধ্যে উৎসাহ সৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এ অঞ্চলের মানুষ যোগাযোগের ক্ষেত্রে নানা দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। সেতুটি নির্মিত হলে বারবাকিয়াসহ আশপাশের এলাকার সঙ্গে পেকুয়া উপজেলার সরাসরি ও সহজ যোগাযোগব্যবস্থা গড়ে উঠবে। একই সঙ্গে শিক্ষা, চিকিৎসা, কৃষি, ব্যবসা-বাণিজ্য ও সাধারণ মানুষের চলাচলেও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।’

তিনি বলেন, ‘মহেশখালীর মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর, পেকুয়া ও কুতুবদিয়ার মধ্যে যাতায়াত এবং পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রেও এ সেতু গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। জনগণের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণে দ্রুত প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে সেতুটির নির্মাণকাজ শুরুর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।’