খুঁজুন
, ,

জামায়াতের সঙ্গে ‘বন্ধুত্ব করতে চায়’ যুক্তরাষ্ট্র

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারি, ২০২৬, ১২:৫৫ অপরাহ্ণ
জামায়াতের সঙ্গে ‘বন্ধুত্ব করতে চায়’ যুক্তরাষ্ট্র
শেয়ার করুন

বাংলাদেশে অতীতে দুইবার নিষিদ্ধ হওয়া দল জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে নতুন করে সখ্য গড়ে তুলতে আগ্রহী হয়ে উঠেছে যুক্তরাষ্ট্র। ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তন এবং ছাত্র রাজনীতিতে দলটির প্রভাব বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে ওয়াশিংটন এখন জামায়াতকে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে বিবেচনা করছে। মার্কিন কূটনীতিকদের মতে, আগামী নির্বাচনে জামায়াত বড় ধরনের সাফল্য পেতে পারে। এই পরিবর্তনকে ইতিবাচক হিসেবে দেখে যুক্তরাষ্ট্র দলটির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ বা ‘বন্ধুত্ব’ স্থাপনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। তবে জামায়াত ক্ষমতায় গিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থবিরোধী কোনও কট্টর অবস্থান নিলে, ওয়াশিংটন পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে তৈরি পোশাক খাতে উচ্চ শুল্ক আরোপসহ কঠোর অর্থনৈতিক পদক্ষেপের হুঁশিয়ারিও দিয়ে রেখেছে। বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) প্রকাশিত মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট-এ প্রকাশিত এক বিশেষ প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। বাংলা ট্রিবিউনের পাঠকদের জন্য প্রতিবেদনটির ভাষান্তর তুলে ধরা হলো:

 

আগামী মাসে অনুষ্ঠেয় বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচনে দেশটির বৃহত্তম ইসলামপন্থি দল জামায়াতে ইসলামী অভাবনীয় ভালো ফল করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে দলটির সঙ্গে যোগাযোগ ও সম্পৃক্ততা বাড়ানোর পরিকল্পনা করছেন মার্কিন কূটনীতিকরা। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট-এর হাতে আসা কিছু অডিও রেকর্ড থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

 

বাংলাদেশের ইতিহাসে জামায়াতে ইসলামী একাধিকবার নিষিদ্ধ হয়েছে। সর্বশেষ ২০২৪ সালে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার আগে শেখ হাসিনার সরকার দলটিকে নিষিদ্ধ করেছিল। ঐতিহাসিকভাবে দলটি শরিয়াহ আইন ও শিশুদের লালন-পালনের সুবিধার্থে নারীদের কর্মঘণ্টা কমানোর পক্ষে কথা বললেও, সম্প্রতি তারা জনমনে নিজেদের ভাবমূর্তি পরিবর্তনের চেষ্টা করছে। বর্তমানে তারা প্রধানত দুর্নীতি নির্মূলের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে বলে জানাচ্ছে।

 

বাংলাদেশের পরিবর্তিত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে মার্কিন কূটনীতিকরা এই ইসলামপন্থি দলটির সঙ্গে কাজ করার ইঙ্গিত দিয়েছেন। গত ১ ডিসেম্বর ঢাকায় নারী সাংবাদিকদের সঙ্গে এক রুদ্ধদ্বার বৈঠকে একজন মার্কিন কূটনীতিক বলেন, বাংলাদেশ ‘ইসলামিক ধারায়’ মোড় নিয়েছে। অডিও রেকর্ড অনুযায়ী ওই কূটনীতিক ধারণা প্রকাশ করেন যে, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে জামায়াত তাদের ইতিহাসের সেরা ফল করতে যাচ্ছে।

 

ওই কূটনীতিক বলেন, ‘আমরা চাই তারা আমাদের বন্ধু হোক।’ তিনি সাংবাদিকদের জিজ্ঞেস করেন, তারা কি জামায়াতের প্রভাবশালী ছাত্রসংগঠনের সদস্যদের তাদের অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানাবেন? তিনি প্রশ্ন করেন, ‘আপনারা কি তাদের সঙ্গে কথা বলতে পারেন? তারা কি আপনাদের অনুষ্ঠানে আসবে?’

 

নিরাপত্তাজনিত কারণে নাম প্রকাশ না করা ওই মার্কিন কূটনীতিক জামায়াত কর্তৃক শরিয়াহ আইন চাপিয়ে দেওয়ার শঙ্কাকে নাকচ করে দেন। তিনি জানান, ওয়াশিংটন প্রয়োজনে চাপ দেওয়ার ক্ষমতা রাখে। তিনি বলেন, ‘আমি মোটেও বিশ্বাস করি না যে জামায়াত শরিয়াহ আইন চাপিয়ে দিতে পারবে।’ তিনি আরও বলেছেন, যদি দলটির নেতারা উদ্বেগজনক কোনও পদক্ষেপ নেন, তবে যুক্তরাষ্ট্র পরদিনই তাদের ওপর ‘শতভাগ ট্যারিফ (শুল্ক)’ আরোপ করবে।

 

ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মুখপাত্র মনিকা শাই ওয়াশিংটন পোস্টকে এক বিবৃতিতে বলেন, ডিসেম্বরের সেই বৈঠকটি ছিল মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে স্থানীয় সাংবাদিকদের একটি নিয়মিত ও ঘরোয়া আলোচনা। তিনি জানান, সেখানে অনেক রাজনৈতিক দল নিয়েই আলোচনা হয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্র কোনও বিশেষ দলের পক্ষ নেয় না। বাংলাদেশের জনগণ যাদের নির্বাচিত করবে, তাদের সঙ্গেই কাজ করার পরিকল্পনা রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের।

 

জামায়াতে ইসলামীর মার্কিন মুখপাত্র মোহাম্মদ রহমান এক বিবৃতিতে জানান, একটি ব্যক্তিগত কূটনৈতিক বৈঠকে দেওয়া মন্তব্যের বিষয়ে তারা কোনও মন্তব্য করতে চান না।

 

এখন পর্যন্ত অপ্রকাশিত এসব মন্তব্য থেকে বোঝা যায় যে, বাংলাদেশের এই গুরুত্বপূর্ণ রূপান্তরকালে দেশটির রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে মার্কিন কূটনীতিকরা কী ভাবছেন। শেখ হাসিনা-বিরোধী আন্দোলনের পর নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন এবং আসন্ন নির্বাচনের পথ প্রশস্ত হয়, যা দশকের পর দশক ধরে চলা অস্থিতিশীলতার পর একটি প্রকৃত গণতান্ত্রিক পরিবর্তনের সূচনা বলে মনে করা হচ্ছে।

 

আটলান্টিক কাউন্সিলের দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক সিনিয়র ফেলো মাইকেল কুগেলম্যান মনে করেন, জামায়াতের সঙ্গে এই মার্কিন যোগাযোগ যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের মধ্যে নতুন করে দূরত্ব তৈরি করতে পারে। ভারত-পাকিস্তান সংঘাত, রাশিয়ার তেল ক্রয় ও বাণিজ্য শুল্ক নিয়ে এমনিতেই দুই দেশের সম্পর্ক এখন টানাপোড়েনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।

 

কুগেলম্যান বলেন, ‘বহু বছর ধরে বাংলাদেশে ভারতের সবচেয়ে বড় ভয়ের কারণ হলো জামায়াত।’ তার মতে, ভারত এই দলটিকে পাকিস্তানের মিত্র এবং তাদের আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে দেখে।

 

তবে মনিকা শাই তার বিবৃতিতে জানিয়েছেন, বাংলাদেশের নির্বাচনের প্রভাব ভারত-মার্কিন সম্পর্কে পড়বে না। ঢাকা ও নয়াদিল্লির সঙ্গে ওয়াশিংটনের সম্পর্ক নিজস্ব গুরুত্বের ওপর ভিত্তি করে দাঁড়িয়ে আছে।

 

মূলধারায়’ ফিরছে জামায়াত

 

১৯৭১ সালে পাকিস্তানের কাছ থেকে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীনতা অর্জনের পর থেকে বাংলাদেশ নানা চড়াই-উতরাই পার করেছে। বিগত কয়েক দশকে দেশটি সামরিক অভ্যুত্থান, একনায়কতন্ত্র এবং প্রধান দুটি দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপির পাল্টাপাল্টি শাসন দেখেছে। চীন ও ভারতের মতো আঞ্চলিক শক্তির সঙ্গে সম্পর্কের ভারসাম্য বজায় রাখাটাও ছিল বাংলাদেশের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ।

 

বর্তমানে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক তলানিতে ঠেকেছে। শেখ হাসিনা ছিলেন ভারতের ঘনিষ্ঠ মিত্র এবং ক্ষমতাচ্যুতির পর তিনি সেখানেই আশ্রয় নিয়েছেন। নভেম্বরে বাংলাদেশের একটি ট্রাইব্যুনাল তাকে মৃত্যুদণ্ড দেয়। তবে অন্তর্বর্তী সরকারের অনুরোধ সত্ত্বেও ভারত তাকে ফেরত পাঠায়নি।

 

ডিসেম্বরের বৈঠকে মার্কিন কূটনীতিক শেখ হাসিনার বিচার প্রসঙ্গে বলেন, ‘হাসিনাকে দোষী সাব্যস্ত করা ছিল রাজনৈতিকভাবে একটি চতুর কৌশল।’ তিনি মনে করেন ট্রাইব্যুনাল পুরোপুরি ‘অবাধ ও নিরপেক্ষ’ না হলেও তারা হাসিনার অপরাধ প্রমাণ করতে পেরেছে, যা ছিল লক্ষ্যণীয়।

 

বাংলাদেশের হিন্দুদের ওপর সাম্প্রতিক কিছু হামলার ঘটনা দুই দেশের উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। চট্টগ্রামে ভিসা কার্যক্রম স্থগিত করেছে ভারত, অন্যদিকে দিল্লিতে হিন্দুত্ববাদী বিক্ষোভকারীরা ড. ইউনূসের ছবি পোড়ানোর পর বাংলাদেশও সেখানে ভিসা কার্যক্রম বন্ধ রাখে।

 

অন্তর্বর্তী সরকার দেশে শৃঙ্খলা ফেরানোর চেষ্টা করছে। ২০২৪ সালে ক্ষমতা গ্রহণের পর ড. ইউনূস বলেছিলেন, ‘বাংলাদেশ একটি পরিবার, আমাদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।’ গত সপ্তাহে এক্স-এ (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে তিনি জোর দিয়ে বলেন, নির্বাচন ১২ ফেব্রুয়ারিতেই হবে।

 

রাজনৈতিক বিশ্লেষক মোবাশার হাসানের মতে, দীর্ঘদিন কোণঠাসা থাকার পর জামায়াত এখন মূলধারার রাজনীতিতে শক্তিশালী অবস্থানে ফিরছে। জামায়াত মুখপাত্র মোহাম্মদ রহমান বলেন, তারা ‘দুর্নীতিবিরোধী, স্বচ্ছতা ও সুশাসন’, এই এজেন্ডা নিয়ে কাজ করছেন। নারীদের কর্মঘণ্টা কমানোর বিষয়টি প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে এবং শরিয়াহ আইন চালুর কোনও পরিকল্পনা নেই।

 

নির্বাচনে জামায়াতের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি। দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমান দীর্ঘ নির্বাসন শেষে ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফিরেছেন, নির্বাচনে জিতলে তিনিই প্রধানমন্ত্রী হতে পারেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, তারেক রহমানও মনে করেন জামায়াত নির্বাচনে ভালো করবে, তবে তিনি তাদের নিয়ে জোট সরকার গঠনের পক্ষে নন।

 

জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান গত জানুয়ারিতে রয়টার্সকে বলেছিলেন, তারা বিএনপির সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী। ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট সরকারে জামায়াত শরিক দল ছিল।

 

২০২৪ সালে হাসিনার পতনের পর থেকে জামায়াত ওয়াশিংটনে মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে চারটি এবং ঢাকায় বেশ কয়েকটি বৈঠক করেছে। এমনকি গত শুক্রবার মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি (ইউএসটিআর) জেমিসন গ্রিয়ারের সঙ্গেও জামায়াত আমিরের ভার্চ্যুয়াল বৈঠক হয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এসব বৈঠককে ‘রুটিন কূটনৈতিক কাজ’ হিসেবে অভিহিত করেছে।

 

ঢাকায় মার্কিন কূটনীতিক আভাস দিয়েছেন, জামায়াত ছাড়াও তারা হেফাজতে ইসলাম ও ইসলামী আন্দোলনের মতো রক্ষণশীল দলগুলোর সঙ্গেও যোগাযোগ রাখছেন। তিনি বলেন, ‘আমরা চাই তারা আমাদের বন্ধু হোক, যাতে প্রয়োজনে তাদের ফোনে পাওয়া যায় এবং সরাসরি কথা বলা যায়।’

 

তবে ওই কূটনীতিক সতর্ক করে বলেন, জামায়াত যদি ক্ষমতায় এসে ওয়াশিংটনের স্বার্থবিরোধী নীতি গ্রহণ করে, তবে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতের ওপর বড় আঘাত আসবে। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের অর্থনীতির বড় অংশ মার্কিন বাজারের ওপর নির্ভরশীল। যদি তারা নারীদের কাজের অধিকার হরণ করে বা শরিয়াহ আইন চাপিয়ে দেয়, তবে আর কোনও অর্ডার (ক্রয়াদেশ) আসবে না। আর অর্ডার না থাকলে বাংলাদেশের অর্থনীতিও থাকবে না।’ তবে তিনি এও বিশ্বাস করেন যে, জামায়াত এমনটা করবে না কারণ দলটিতে অনেক শিক্ষিত ও বুদ্ধিমান মানুষ রয়েছেন।

 

বিশ্লেষকদের মতে, এতে ভারতের উদ্বেগ কমবে না। কুগেলম্যান বলেন, ভারত-মার্কিন সম্পর্ক যদি ভালো অবস্থায় থাকত, তবে যুক্তরাষ্ট্র হয়তো ভারতের উদ্বেগ আমলে নিত। কিন্তু বর্তমান বৈরী সম্পর্কের জেরে মার্কিন কর্মকর্তারা ভারতের উদ্বেগকে খুব একটা পাত্তা দিচ্ছেন না।

রাষ্ট্রীয় সফরে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জাপান যাচ্ছেন আমজনতার তারেক

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:৪৪ অপরাহ্ণ
রাষ্ট্রীয় সফরে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জাপান যাচ্ছেন আমজনতার তারেক
শেয়ার করুন

চারদিনের রাষ্ট্রীয় সফরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে জাপান সফর যাচ্ছেন আমজনতা দলের সদস্যসচিব মো. তারেক রহমান। আজ রবিবার (২৫ অক্টোবর) রাতে প্রধানমন্ত্রীর জাপান যাওয়ার কথা রয়েছে।

 

সন্ধ্যায় ফেসবুকের এক পোস্টে তারেক রহমান লেখেন, ‘আজ জাপান যাচ্ছি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সাথে। ভালোবাসা সবাইকে।’ ওই পোস্টে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে করমর্দনরত অবস্থার হাস্যোজ্জ্বল একটি ছবি জুড়ে দিয়েছেন তারেক রহমান।

 

প্রধানমন্ত্রী ২৬ অক্টোবর থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত জাপানে অবস্থান করবেন। সফরকালে দুদেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার, মেট্রোরেলসহ চলমান অবকাঠামো প্রকল্পের ব্যয় ও ঋণের সুদের হার কমানোর বিষয়ে আলোচনা, জাপানি বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণে গুরুত্ব দেওয়া হবে।

 

সফরসূচি অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ফ্লাইটটি আগামীকাল সোমবার (২৬ অক্টোবর) স্থানীয় সময় সকাল ৯টা ২৫ মিনিটে টোকিওর নারিতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।জাপানের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নাকাসোনে ইয়াসুতাকা বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানাবেন। প্রধানমন্ত্রী টোকিওর ইম্পেরিয়াল হোটেলে অবস্থান করবেন।

টঙ্গীতে মাদ্রাসাশিক্ষার্থীকে চুমু: সেই শিক্ষকের জামিন নামঞ্জুর

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:১৫ অপরাহ্ণ
টঙ্গীতে মাদ্রাসাশিক্ষার্থীকে চুমু: সেই শিক্ষকের জামিন নামঞ্জুর
শেয়ার করুন

গাজীপুরের টঙ্গীতে মাদ্রাসার ভেতরে ছয় বছর বয়সী এক শিশু শিক্ষার্থীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া শিক্ষক মোসলেহ উদ্দিনের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন আদালত। রোববার (২৫ অক্টোবর) দুপুরে গাজীপুর মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২-এর বিচারক ওমর হায়দার উভয় পক্ষের শুনানি শেষে জামিন বাতিলের এই আদেশ দেন।

আদালতে বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মহিউদ্দীন জামিন নামঞ্জুরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, জামিনের ঘোর বিরোধিতা করে আদালতে যুক্তি উপস্থাপন করা হয় যে, আসামি এই মুহূর্তে জামিনে মুক্তি পেলে মামলার সুষ্ঠু তদন্ত ব্যাহত হতে পারে এবং সমাজে এর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। বিজ্ঞ বিচারক উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে আসামির জামিন আবেদন নাকচ করে দেন।

অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট শরিফুল আলম বলেন, আসামির অতীতে কোনো অপরাধের রেকর্ড বা পূর্ববর্তী মামলা নেই। এছাড়া তার দাবি, মামলার অভিযোগগুলো মিথ্যা এবং ঘটনার পক্ষে কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্যপ্রমাণ নেই। এসব যুক্তি তুলে ধরেই তারা জামিনের আবেদন করেছিলেন।

 

এদিকে ঘটনাটির জের ধরে দায়ের হওয়া পাল্টাপাল্টি মামলাকে কেন্দ্র করে একটি মহল পরিকল্পিতভাবে বিভ্রান্তি ও অপপ্রচার ছড়াচ্ছে বলে সতর্ক করেছে পুলিশ। উভয় মামলার নিরপেক্ষ তদন্তের আশ্বাস দিয়ে গাজীপুর মহানগর পুলিশ (জিএমপি) কমিশনার মো. ইসরাইল হাওলাদার গুজব থেকে বিরত থাকার জন্য সর্বসাধারণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে শিশুটির বাবাকে গ্রেপ্তার করতে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে বলে গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া তথ্যকে অসত্য ও ভিত্তিহীন বলে স্পষ্ট করেছেন তিনি।

 

রোববার সকালে জিএমপি ও গণমাধ্যমকর্মীদের সমন্বয়ে পরিচালিত ‘জিএমপি মিডিয়া’ নামের অফিশিয়াল হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে সাংবাদিকদের একটি সংবাদের প্রেক্ষিতে তিনি এসব তথ্য জানান।

 

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, টঙ্গীর আউচপাড়ার শফিউদ্দিন রোডে অবস্থিত ‘ক্বারিউল কুরআন ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসা’র ভেতরে প্রথম শ্রেণির ছয় বছর বয়সী এক ছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শিশুর পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা করা হলে মাদ্রাসার ভাইস প্রিন্সিপাল মো. মোসলেহ উদ্দিনকে তাৎক্ষণিকভাবে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠায় পুলিশ।

 

তবে এর পরপরই ঘটনাটি নতুন দিকে মোড় নেয়। প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ ক্বারী মো. আলমাছ হোসেন গাজীপুরী পাল্টা অভিযোগ তোলেন যে, ঘটনার পর একদল লোক মাদ্রাসায় ঢুকে ব্যাপক ভাঙচুর চালিয়েছে এবং শিক্ষক-কর্মচারীদের মারধর করেছে। এ ঘটনায় তিনি ভুক্তভোগী শিশুটির বাবা শাহজালাল রুমিসহ অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে আরেকটি মামলা দায়ের করেন।

 

পাল্টা এই মামলার পর ‘শিশুটির বাবাকে গ্রেপ্তারে মাঠে নেমেছে পুলিশ’—এমন খবর কিছু গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে তা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক ক্ষোভ ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়। বিভিন্ন ভিডিও ও মন্তব্য ছড়িয়ে পড়ে তৈরি হয় চাঞ্চল্য। তবে পুলিশ পরিষ্কার জানিয়েছে, মামলার তদন্ত আইনি নিয়ম মেনেই এগোচ্ছে এবং কোনো পক্ষকেই উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে হয়রানি করা হচ্ছে না।

জাইমা রহমানের জন্মদিনে ৫ শতাধিক ছাত্রীকে বাইসাইকেল উপহার

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:১৫ অপরাহ্ণ
জাইমা রহমানের জন্মদিনে ৫ শতাধিক ছাত্রীকে বাইসাইকেল উপহার
শেয়ার করুন

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমানের জন্মদিন উপলক্ষে বগুড়ার শিবগঞ্জে ৫৪৮ জন ছাত্রীকে বিনামূল্যে বাইসাইকেল উপহার দেওয়া হয়েছে। রবিবার (২৫ অক্টোবর) বগুড়ার শিবগঞ্জ সরকারি পাইলট উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্রীদের নিয়ে এই আয়োজন করা হয়।

স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের আয়োজনে এসব ছাত্রীদের বাইসাইকেল দেওয়া হয়। এ সময় শিক্ষার্থীরা স্লোগান দেন, ‘শুভ শুভ শুভদিন, জাইমা রহমানের জন্মদিন’ ‘করবো কাজ গড়বো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’।

এ সময় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, সাত শতাধিক মেধাবী শিক্ষার্থীর পরীক্ষা নিয়েছিলাম, যার মধ্যে অংশ নিয়েছিল ৫৪৮ জন ছাত্রী। মোট ১০২টি শিক্ষার্থী প্রতিষ্ঠানের ৫৪৮জনকে ডেকে নিয়ে বাইসাইকেল উপহার দিচ্ছি।

এছাড়া যে প্রতিষ্ঠানে এই বাইসাইকেল প্রদানের আয়োজন করা হয়, তাদেরসহ প্রায় এক হাজার শিক্ষার্থীদের জাইমা রহমানের ছবি সম্বলিত মগ উপহার দেওয়া হয়।

বাইসাইকেল পেয়ে শিক্ষার্থীরা বেশ উচ্ছ্বসিত হন। কেউ কেউ স্কুল মাঠেই সাইকেল চালিয়ে আনন্দ উপভোগ করেন।