খুঁজুন
, ,

টানা ৩৪ বছর হজের খুতবা দেওয়া সৌদির গ্র্যান্ড মুফতির ইন্তেকাল

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ১০:৩৯ পূর্বাহ্ণ
টানা ৩৪ বছর হজের খুতবা দেওয়া সৌদির গ্র্যান্ড মুফতির ইন্তেকাল
শেয়ার করুন

টানা ৩৪ বছর হজের খুতবা দেওয়া সৌদি গ্র্যান্ড মুফতির মৃত্যু

সৌদি আরবের গ্র্যান্ড মুফতি ও সিনিয়র স্কলারস কাউন্সিলের প্রধান শেখ আবদুল আজিজ আল-শেখ মারা গেছেন। রিয়াদে মঙ্গলবার সকালে ৮২ বছর বয়সে তিনি মারা যান। সৌদি আরবের রাজ দরবার এক বিবৃতিতে একথা জানিয়েছে।

আবদুল আজিজ আল-শেখ ১৯৮২ সালে আরাফা প্রাঙ্গণের ঐতিহাসিক নামিরাহ মসজিদে ইমাম ও ধর্মপোদেষ্টা হিসেবে নিযুক্ত হয়েছিলেন। তিনি ২০১৪ সাল পর্যন্ত টানা ৩৪ বছর আরাফাতের ময়দানে পবিত্র হজের খুতবা পাঠ করেছিলেন।

১৯৯৯ সালে গ্র্যান্ড মুফতি শেখ আব্দুল আজিজ বিন বাজের মৃত্যুর পর আল-শেখকে সৌদি আরবের গ্র্যান্ড মুফতি নিয়োগ করা হয়েছিল।

রাজ দরবারের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “শেখ আব্দুল আজিজ আল-শেখের মৃত্যুতে সৌদি আরবসহ গোটা মুসলিম বিশ্ব এক বিশিষ্ট আলেমকে হারাল, যিনি ইসলাম ও মুসলমানদের সেবায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছিলেন।”

সৌদি আরবের স্থানীয় সময় মঙ্গলবার আসরের নামাজের পর রিয়াদে ইমাম তুর্কি বিন আব্দুল্লাহ মসজিদে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। তাছাড়া, মক্কার গ্র্যান্ড মসজি, মদিনার মসজিদে নববীসহ দেশের সব মসজিদেও গায়েবানা জানাজার নির্দেশ দিয়েছেন সৌদি বাদশাহ সালমান।

তার মৃত্যুতে সৌদি বাদশাহ সালমান বিন আব্দুল আজিজ ও যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। মৃতের পরিবার, সৌদি জনগণ এবং মুসলিম বিশ্বের প্রতি সমবেদনাও জানিয়েছেন তারা।

শেখ আবদুল আজিজ আল-শেখ জীবদ্দশায় সৌদি আরবের ‘জেনারেল প্রেসিডেন্সি অব স্কলারলি রিসার্চ অ্যান্ড ইফতা’ এবং ‘মুসলিম ওয়ার্ল্ড লিগের সুপ্রিম কাউন্সিল’-এর প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

১৯৪৩ সালের ৩০ নভেম্বর মক্কায় জন্ম নেওয়া আল-শেখ শৈশবেই কোরআন মুখস্থ করেন। ১৭ বছর বয়সে তিনি দৃষ্টিশক্তি হারান। ১৯৬১ সালে রিয়াদের ইমাম মোহাম্মদ বিন সৌদ ইসলামিক ইউনিভার্সিটির শরিয়া কলেজে ভর্তি হয়ে ১৯৬৫ সালে আরবি ও ইসলামি শরিয়ায় স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন।

একই বছর তিনি রিয়াদের ইমাম আল-দাওয়া ইনস্টিটিউটে শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন এবং সেখানে আট বছর পাঠদান করেন। এরপর তিনি ইমাম মোহাম্মদ বিন সৌদ ইসলামিক ইউনিভার্সিটির শরিয়া কলেজে যোগ দেন। সেখানে সহকারী অধ্যাপক থেকে সহযোগী অধ্যাপক পদে উন্নীত হন।

পাশাপাশি রিয়াদের ‘হাইয়ার ইনস্টিটিউট অব জুডিশিয়ারিতেও’ শিক্ষকতা করেন এবং সৌদি আরবের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কাউন্সিলের সদস্য হন।

ধর্মীয় দায়িত্বে তিনি রিয়াদের শেখ মোহাম্মদ বিন ইব্রাহিম মসজিদে ইমাম ও খতিব ছিলেন। পরে শেখ আবদুল্লাহ বিন আব্দুল লতিফ মসজিদে জুমার ইমামতি করেন। পরবর্তীতে তিনি ইমাম তুর্কি বিন আব্দুল্লাহ মসজিদের ইমাম হিসেবে দায়িত্ব নেন।

১৯৮৭ সালে আল-শেখকে কাউন্সিল অব সিনিয়র স্কলারস এর সদস্য করা হয়। ১৯৯১ সালে তিনি স্থায়ী কমিটি ফর স্কলারলি রিসার্চ অ্যান্ড ইফতায় পূর্ণকালীন সিনিয়র সদস্য হন। এরপর ১৯৯৫ সালে তিনি সৌদি আরবের ডেপুটি গ্র্যান্ড মুফতি পদে নিয়োগ পান।

প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ জানালেন মুনজারিন টাইলসের স্বত্বাধিকারী শহিদুল মোস্তফা

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:১৭ অপরাহ্ণ
প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ জানালেন মুনজারিন টাইলসের স্বত্বাধিকারী শহিদুল মোস্তফা
শেয়ার করুন

অনলাইন সংবাদমাধ্যম টেলিগ্রাম নিউজে টার্মিনালকেন্দ্রিক ইয়াবা সিন্ডিকেট নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনের একাংশের প্রতিবাদ জানিয়েছেন মুনজারিন টাইলসের স্বত্বাধিকারী শহিদুল মোস্তফা।

 

এক প্রতিবাদলিপিতে শহিদুল মোস্তফা বলেন, প্রকাশিত প্রতিবেদনে তাঁর ছবি ব্যবহার করে ইয়াবা সিন্ডিকেটের সঙ্গে তাঁকে সম্পৃক্ত হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। বিষয়টি তাঁর নজরে আসার পর তিনি বিস্ময় ও উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তাঁর দাবি, প্রতিবেদনে উত্থাপিত অভিযোগের সঙ্গে তাঁর কোনো সম্পৃক্ততা নেই।

 

শহিদুল মোস্তফা জানান, তিনি মুনজারিন টাইলসের স্বত্বাধিকারী। পাশাপাশি তিনি পশ্চিম লারপাড়া সমাজ পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক, মসজিদ পরিচালনা কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, জেলা কমিউনিটি পুলিশের সদস্য এবং লারপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সাবেক সভাপতি হিসেবে বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত রয়েছেন।

 

প্রতিবাদলিপিতে তিনি বলেন, এ ধরনের গুরুতর অভিযোগের ক্ষেত্রে কারও নাম বা ছবি ব্যবহারের আগে তথ্য ও পরিচয় যথাযথভাবে যাচাই করা প্রয়োজন। অন্যথায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সামাজিক মর্যাদা, ব্যক্তিগত সুনাম ও পেশাগত অবস্থান ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

 

শহিদুল মোস্তফা টেলিগ্রাম নিউজ কর্তৃপক্ষকে প্রকাশিত প্রতিবেদনের তথ্য ও ছবি পুনরায় যাচাই করার অনুরোধ জানিয়েছেন। একই সঙ্গে প্রকৃত ঘটনা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের কাছ থেকে তথ্য যাচাইয়ের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

 

প্রতিবাদকারী:

শহিদুল মোস্তফা

স্বত্বাধিকারী, মুনজারিন টাইলস।

রাষ্ট্রীয় সফরে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জাপান যাচ্ছেন আমজনতার তারেক

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:৪৪ অপরাহ্ণ
রাষ্ট্রীয় সফরে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জাপান যাচ্ছেন আমজনতার তারেক
শেয়ার করুন

চারদিনের রাষ্ট্রীয় সফরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে জাপান সফর যাচ্ছেন আমজনতা দলের সদস্যসচিব মো. তারেক রহমান। আজ রবিবার (২৫ অক্টোবর) রাতে প্রধানমন্ত্রীর জাপান যাওয়ার কথা রয়েছে।

 

সন্ধ্যায় ফেসবুকের এক পোস্টে তারেক রহমান লেখেন, ‘আজ জাপান যাচ্ছি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সাথে। ভালোবাসা সবাইকে।’ ওই পোস্টে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে করমর্দনরত অবস্থার হাস্যোজ্জ্বল একটি ছবি জুড়ে দিয়েছেন তারেক রহমান।

 

প্রধানমন্ত্রী ২৬ অক্টোবর থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত জাপানে অবস্থান করবেন। সফরকালে দুদেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার, মেট্রোরেলসহ চলমান অবকাঠামো প্রকল্পের ব্যয় ও ঋণের সুদের হার কমানোর বিষয়ে আলোচনা, জাপানি বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণে গুরুত্ব দেওয়া হবে।

 

সফরসূচি অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ফ্লাইটটি আগামীকাল সোমবার (২৬ অক্টোবর) স্থানীয় সময় সকাল ৯টা ২৫ মিনিটে টোকিওর নারিতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।জাপানের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নাকাসোনে ইয়াসুতাকা বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানাবেন। প্রধানমন্ত্রী টোকিওর ইম্পেরিয়াল হোটেলে অবস্থান করবেন।

টঙ্গীতে মাদ্রাসাশিক্ষার্থীকে চুমু: সেই শিক্ষকের জামিন নামঞ্জুর

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:১৫ অপরাহ্ণ
টঙ্গীতে মাদ্রাসাশিক্ষার্থীকে চুমু: সেই শিক্ষকের জামিন নামঞ্জুর
শেয়ার করুন

গাজীপুরের টঙ্গীতে মাদ্রাসার ভেতরে ছয় বছর বয়সী এক শিশু শিক্ষার্থীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া শিক্ষক মোসলেহ উদ্দিনের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন আদালত। রোববার (২৫ অক্টোবর) দুপুরে গাজীপুর মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২-এর বিচারক ওমর হায়দার উভয় পক্ষের শুনানি শেষে জামিন বাতিলের এই আদেশ দেন।

আদালতে বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মহিউদ্দীন জামিন নামঞ্জুরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, জামিনের ঘোর বিরোধিতা করে আদালতে যুক্তি উপস্থাপন করা হয় যে, আসামি এই মুহূর্তে জামিনে মুক্তি পেলে মামলার সুষ্ঠু তদন্ত ব্যাহত হতে পারে এবং সমাজে এর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। বিজ্ঞ বিচারক উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে আসামির জামিন আবেদন নাকচ করে দেন।

অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট শরিফুল আলম বলেন, আসামির অতীতে কোনো অপরাধের রেকর্ড বা পূর্ববর্তী মামলা নেই। এছাড়া তার দাবি, মামলার অভিযোগগুলো মিথ্যা এবং ঘটনার পক্ষে কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্যপ্রমাণ নেই। এসব যুক্তি তুলে ধরেই তারা জামিনের আবেদন করেছিলেন।

 

এদিকে ঘটনাটির জের ধরে দায়ের হওয়া পাল্টাপাল্টি মামলাকে কেন্দ্র করে একটি মহল পরিকল্পিতভাবে বিভ্রান্তি ও অপপ্রচার ছড়াচ্ছে বলে সতর্ক করেছে পুলিশ। উভয় মামলার নিরপেক্ষ তদন্তের আশ্বাস দিয়ে গাজীপুর মহানগর পুলিশ (জিএমপি) কমিশনার মো. ইসরাইল হাওলাদার গুজব থেকে বিরত থাকার জন্য সর্বসাধারণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে শিশুটির বাবাকে গ্রেপ্তার করতে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে বলে গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া তথ্যকে অসত্য ও ভিত্তিহীন বলে স্পষ্ট করেছেন তিনি।

 

রোববার সকালে জিএমপি ও গণমাধ্যমকর্মীদের সমন্বয়ে পরিচালিত ‘জিএমপি মিডিয়া’ নামের অফিশিয়াল হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে সাংবাদিকদের একটি সংবাদের প্রেক্ষিতে তিনি এসব তথ্য জানান।

 

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, টঙ্গীর আউচপাড়ার শফিউদ্দিন রোডে অবস্থিত ‘ক্বারিউল কুরআন ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসা’র ভেতরে প্রথম শ্রেণির ছয় বছর বয়সী এক ছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শিশুর পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা করা হলে মাদ্রাসার ভাইস প্রিন্সিপাল মো. মোসলেহ উদ্দিনকে তাৎক্ষণিকভাবে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠায় পুলিশ।

 

তবে এর পরপরই ঘটনাটি নতুন দিকে মোড় নেয়। প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ ক্বারী মো. আলমাছ হোসেন গাজীপুরী পাল্টা অভিযোগ তোলেন যে, ঘটনার পর একদল লোক মাদ্রাসায় ঢুকে ব্যাপক ভাঙচুর চালিয়েছে এবং শিক্ষক-কর্মচারীদের মারধর করেছে। এ ঘটনায় তিনি ভুক্তভোগী শিশুটির বাবা শাহজালাল রুমিসহ অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে আরেকটি মামলা দায়ের করেন।

 

পাল্টা এই মামলার পর ‘শিশুটির বাবাকে গ্রেপ্তারে মাঠে নেমেছে পুলিশ’—এমন খবর কিছু গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে তা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক ক্ষোভ ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়। বিভিন্ন ভিডিও ও মন্তব্য ছড়িয়ে পড়ে তৈরি হয় চাঞ্চল্য। তবে পুলিশ পরিষ্কার জানিয়েছে, মামলার তদন্ত আইনি নিয়ম মেনেই এগোচ্ছে এবং কোনো পক্ষকেই উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে হয়রানি করা হচ্ছে না।