খুঁজুন
, ,

ডাকসু তারেক রহমানকে নতুন সুযোগ এনে দিয়েছে

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ৩:০৭ অপরাহ্ণ
ডাকসু তারেক রহমানকে নতুন সুযোগ এনে দিয়েছে
শেয়ার করুন

ডাকসু’র ফলাফল নিয়ে অন্তহীন বিতর্ক। নানা মূল্যায়ন। এসব মূল্যায়নে ভবিষ্যৎ রাজনীতির ইঙ্গিত। কী হলো, কী হবে? ভবিষ্যৎ রাজনীতি কি এভাবেই ওলটপালট হয়ে যাবে! অনেক পর্যবেক্ষক সংশয় প্রকাশ করছেন। বলছেন, এটা নাও হতে পারে। তবে এটা যে ওয়েক-আপ কল এতে কোনো সন্দেহ নেই। ভারতীয় কূটনৈতিক, বিশ্লেষক এবং সংসদ সদস্য শশী থারুরের বিশ্লেষণের দিকে অনেকেই নজর রাখছেন। তিনি বলছেন, বাংলাদেশের বড় দু’টি দলের অতীত এবং বর্তমান কার্যক্রম থেকে অনেক ভোটার নিষ্কৃতি পেতে চাচ্ছেন। যে কারণে ভোটের বাক্সে বিপ্লব ঘটেছে শিবির তথা জামায়াতের। ভোট নিয়ে অনেক অনিয়মের কথাই শুনছি। তবে কিছু  আশ্চর্যজনক কৌশল যে ছিল- এতে কোনো সন্দেহ নেই। এখানে মানবিকতার কৌশলকে খাটো করে দেখার সুযোগ নেই। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলোতে গত এক বছরে শিবির যে কার্যক্রম চালিয়েছে তাও আমলে নেয়নি জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। শিবিরের প্রার্থী সিলেকেশন দেখে তারা ঘুণাক্ষরেও টের পায়নি ওরা কী কৌশল নিচ্ছে। আর ভিপি প্রার্থী সাদিক কায়েমের পরিচিতি তো আগেই ছিল। ছাত্রদল বাইরের পপুলার ভোটের উপর ভরসা করে বিজয় ছিনিয়ে নিতে চেয়েছিল। সবসময় পপুলার ভোটে জয়ী হওয়া যায় না। তাহলে তো হিলারি ক্লিনটনের জয় পাওয়ার কথা ছিল। ডনাল্ড ট্রাম্প অপ্রত্যাশিতভাবে জয়ী হয়েছিলেন।

রাজাকার ইস্যুটি যে আর মানুষ ভালোভাবে নেয় না তা শেখ হাসিনার পতন দেখে বিএনপি নেতারা বুঝতে পারেননি। ডাকসু নির্বাচনে ছাত্রদলের এই কৌশল ছিল ভুল। প্রার্থী সিলেকশনেও দক্ষতার পরিচয় দেয়া হয়নি। শুধু বয়স কম দেখেই প্রার্থী করা হয়েছে। এখনই হল কমিটি গঠনের কী প্রয়োজন ছিল। যে কারণে হল কমিটি নিয়ে বিদ্রোহ দেখা দেয়। যিনি এর নেপথ্যের নায়ক তিনি এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরেই রয়ে গেছেন। নারী ভোটারদের আকৃষ্ট করার মতো কোনো কার্যক্রমই চোখে পড়েনি। তাছাড়া যে যুক্তিতে বিএনপি এই নির্বাচনে অংশ নিয়েছিল তা আখেরে ভুল প্রমাণিত হয়েছে। জামায়াত জাতীয় নির্বাচনে অংশ নেবে ডাকসুতে ভোটে জিতে গেলে এই যুক্তি দেখিয়েছিলেন কেউ কেউ। ভোটে অংশ না নেয়ার পক্ষেও কিন্তু যুক্তি ছিল প্রবল। এখন কি জামায়াত সহজে ভোটমুখী হবে? তারা তো এখন নিজেদের মতো ভোট চাইবে।  ইতিমধ্যেই আরও কয়েকটি দল নিয়ে আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। বিএনপি’র কৌশলগত ভুল ছিল চোখে পড়ার মতো। জামায়াত নেতা শিশির মনিরকে নিয়ে ছাত্রদল রীতিমতো ব্যঙ্গ করেছে। অথচ শিশির মনিরই তারেক রহমানের আইনজীবী ছিলেন। এই বিষয়টিও খেয়াল রাখেনি তারা।

অভ্যুত্থানের পর প্রেসিডেন্টকে রাখতে হবে, নিষিদ্ধ করা যাবে না জাতীয় পার্টিকেও। টকশোতে আওয়ামী লীগ সম্পর্কে কয়েকজন বিএনপি নেতার মূল্যায়ন দেখেও অনেকেই বিরক্ত হয়েছেন। সচেতন ডাকসু ভোটাররা বিচ্ছিন্ন কোনো দ্বীপের বাসিন্দা নন। এসব কারণেই এই জেনারেশনের ছেলেমেয়েরা বিএনপি’র সিদ্ধান্তগুলোকে বাঁকা চোখে দেখেছে। অথচ মজার ব্যাপার হলো আওয়ামী লীগ তাদের পাশে দাঁড়ায়নি। বরং ভোটের পাঁচদিন আগে শেখ হাসিনা প্রফেসর ইউনূস ও তারেক রহমানের সমালোচনা করেন একই ভাষায়। এটা কোনো কাকতালীয় ঘটনা নয়। সময় যত গড়াচ্ছে ততই বের হয়ে আসছে লুকায়িত সত্য।

ভোট গণনাকালে পরিস্থিতি নাজুক রূপ নেয়। দুশ্চিন্তায় পড়ে যায় অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। দফায় দফায় বৈঠক হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের চারপাশে লোক জড়ো হতে দেখে অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসন বেসামাল হয়ে পড়ে। তাদের ধারণা ছিল, ফল গণনাকে কেন্দ্র করে বড় কিছু ঘটে যেতে পারে। যা তাদেরকেও স্পর্শ করবে। তখনই একটি সমঝোতার প্রস্তাব মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে। যদিও শেষ পর্যন্ত কিছু ঘটেনি তারেক রহমানের একক সিদ্ধান্তে। তিনি নির্দেশ দিয়েছিলেন, ফল যাই হোক গোলযোগ সৃষ্টি করা যাবে না। তখন পর্যন্ত অবশ্য তাদের কাছে ভোটের ফলাফলের সঠিক চিত্র ছিল না। ভোটের ফলাফল বিশ্লেষণ করতে গিয়ে অনেকেই বলছেন, জামায়াত নেতারা তো বিএনপি’র শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু বিএনপি সাড়া দেয়নি।

যাই হোক, কেন শিবির জিতলো তার মূল্যায়নেরও দাবি রাখে। পানির জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলোতে ছেলেমেয়েরা যখন সীমাহীন কষ্টে পড়েছিল তখন ছাত্রশিবির  কীভাবে তাদের পাশে দাঁড়িয়েছিল তা কিন্তু কারও অজানা নয়।  তারা কীভাবেই বা ম্যানেজ করেছে এ নিয়ে আপনি নানা গল্প সাজাতে পারেন, কিন্তু দিনের শেষে ফলাফল ভিন্ন হবেই এবং তাই হয়েছে। এখানেই শেষ নয়। তারা এক বছর আগে থেকে ডাটাবেজ তৈরি করেছিল। ছাত্র-ছাত্রীদের বাড়ির ঠিকানা লিপিবদ্ধ করেছিল সফটওয়্যারে। তারা সবার পরিচয় জানতে পেরেছিল। তাই তারা ভোটের আগে নানা উপহার নিয়ে হাজির হয়েছে ভোটারদের বাড়িতে। জামায়াতের স্থানীয় নেতারা এখানে এক মুখ্য ভূমিকা রেখেছেন।

আগস্ট অভ্যুত্থানে যারা শহীদ হয়েছেন তাদের পাশেও দাঁড়িয়েছিলেন দু’হাত বাড়িয়ে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন নিরপেক্ষ ছিল না- এটা বোধ করি নতুন করে বলার অপেক্ষা রাখে না। ভোট গণনার মেশিন OMR নামে পরিচিত। যেটি নিয়ে নানা বিতর্ক রয়েছে। এটায় টেম্পারিংয়ের সুযোগ আছে। টেম্পারিং হয়েছে কিনা তদন্ত করলে হয়তো জানা যেত। কিন্তু তদন্তের কোনো আওয়াজ নেই। ভোটার তালিকাও প্রকাশিত হয়েছে একজন জামায়াত নেতা পরিচালিত প্রেস থেকে। সাদা দলের  শিক্ষকরা নির্বাচন পরিচালনায় অনুপস্থিত ছিলেন। এটাও এক রহস্যজনক ঘটনা। ভিসির টেবিলের সামনে দাঁড়িয়ে যে ভাষায় প্রতিবাদ জানানো হয়েছিল তা সংশ্লিষ্ট অনেককেই হতাশ করে। পরবর্তীকালে এ নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা হয়। প্রতিক্রিয়া হয় ভোটারদের মধ্যেও।

এসবের পরেও শিবিরের বিজয়কে ছোট করে দেখার সুযোগ নেই। আপনি স্বীকার করুন আর নাই করুন- ডাকসু নির্বাচনের ফলাফল বাংলাদেশের রাজনীতিকে অনেকটা ওলটপালট করে দিয়েছে। বিতর্ক হচ্ছে- ছাত্রলীগের ভোট কোথায় গেল? আওয়ামী লীগের ওয়েবসাইটে ডাকসু নিয়ে কোনো মূল্যায়ন নেই। তবে ভাষ্যকাররা খোলামেলাই বলছেন, শিবিরকেই ভোট দিয়েছে ছাত্রলীগ। পর্দার আড়ালেই অনেক কিছু ঘটেছে। যা বিএনপি নেতারা জানতেন না, জানার চেষ্টাও করেননি। এখন তারা নানা কথাই বলছেন। কেউ জানাচ্ছেন ব্যক্তিগতভাবে অভিনন্দন। কারও মতে, অন্ধকারের এক শক্তি ভোটের বাক্স বোঝাই করেছে।

যাই হোক, ডাকসু নির্বাচন বিএনপিকে নতুন করে ভাববার সুযোগ করে দিয়েছে। কেউ কেউ বলছেন, তারেক রহমান এখন আরও কঠোর হতে পারেন। যাদের গায়ে ময়লা তাদেরকে দূরে সরিয়ে নিতে পারেন নির্বাচনী সিদ্ধান্ত। যেটা আগে সম্ভব ছিল না। মানতেই হবে-অনেক বড় নেতার গায়েও কিন্তু ময়লা লেগেছে। ভোটের হিসাবনিকাশ যখন পাল্টে যাচ্ছে তখন নতুন করে ঘুঁটি সাজাতে হবে দাবা খেলার মতো। দলে চালাতে হবে শুদ্ধি অভিযান। তা না হলে, পপুলার ভোটের পরিণতি যা হয় তাই হবে।

শেষ কথা হচ্ছে, ডাকসু নির্বাচনই সব কিছু নয়। ডাকসুতে জিতে মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম ও মাহমুদুর রহমান মান্না নেতা হয়েছেন বটে, দল কিন্তু দাঁড়ায়নি। ভোটেও তারা জিতেননি।সুত্র : মানবজমিন

ঝোঁপঝাড়ে ফেলে যাওয়া নবজাতককে দত্তক নিতে ১২৩ পরিবারের আবেদন

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১:৩৯ অপরাহ্ণ
ঝোঁপঝাড়ে ফেলে যাওয়া নবজাতককে দত্তক নিতে ১২৩ পরিবারের আবেদন
শেয়ার করুন

চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে ফটিকছড়িতে সড়কের পাশের ঝোপঝাড়ে ফেলে যাওয়া এক নবজাত কন্যাশিশুকে দত্তক নিতে ব্যাপক আগ্রহ দেখা দিয়েছে শিশুটির লালন-পালনের দায়িত্ব নিতে এক দিনেই ১২৩টি আবেদন জমা পড়েছে।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাত পর্যন্ত ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে আবেদনকারীদের সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, আবেদনকারীদের পারিবারিক পরিবেশ, আর্থিক সামর্থ্য, শিশুর পরিচর্যার সক্ষমতা ও অন্যান্য প্রাসঙ্গিক বিষয় বিবেচনায় নিয়ে উপযুক্ত পরিবার নির্বাচনের প্রক্রিয়া চলছে। তবে, আবেদন করলেই শিশুটিকে দত্তক নেওয়ার সুযোগ মিলবে না। এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যাচাই-বাছাই ও প্রযোজ্য আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে।

ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাঈদ মোহাম্মদ ইব্রাহিম গণমাধ্যমকে বলেন, শিশুটিকে দত্তক নিতে বিপুলসংখ্যক আবেদন জমা পড়েছে। উপযুক্ত পরিবার নির্বাচনের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। যাচাই-বাছাই ও আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

এর আগে, গত বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার পাইন্দং ইউনিয়নের উত্তর পাইন্দং এলাকার আমতলীতে সড়কের পাশের ঝোঁপঝাড় থেকে নবজাতকটিকে জীবিত উদ্ধার করা হয়।

স্থানীয় লোকজন শিশুটিকে ঝোঁপের মধ্যে পড়ে থাকতে দেখে পুলিশকে খবর দেন। পরে ফটিকছড়ি থানা-পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশুটিকে উদ্ধার করেন। উদ্ধারের পর তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, শিশুটির শারীরিক অবস্থা ভালো ছিল।তবে কে বা কারা শিশুটিকে সেখানে ফেলে গেছেন, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। শিশুটির নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে উপযুক্ত পরিবার নির্বাচনের পাশাপাশি তাকে পরিত্যক্ত অবস্থায় ফেলে যাওয়ার ঘটনার রহস্য উদঘাটন ও পরিচয় শনাক্তে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় লোকজন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রচেষ্টায় ভোলাখালে অষ্টম সেতু নির্মাণের প্রস্তাব

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১:০০ অপরাহ্ণ
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রচেষ্টায় ভোলাখালে অষ্টম সেতু নির্মাণের প্রস্তাব
শেয়ার করুন

কক্সবাজারের পেকুয়ায় ভোলাখালের ওপর মগনামা বাজারপাড়া থেকে বারবাকিয়া ইউনিয়নের বোধামাঝির ঘোনা পর্যন্ত ১০০ মিটার দীর্ঘ সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রস্তাবিত সেতুটি নির্মিত হলে মগনামা ও বারবাকিয়ার মধ্যে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ স্থাপনের পাশাপাশি পেকুয়া ও কুতুবদিয়ার মানুষের যাতায়াত, পণ্য পরিবহন ও ব্যবসা-বাণিজ্যে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে বলে আশা করছেন স্থানীয়রা।

সম্প্রতি সেতু নির্মাণের উদ্যোগের অংশ হিসেবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও কক্সবাজার-১ আসনের সংসদ সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদের প্রয়োজনীয় সুপারিশ ও প্রস্তাব স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। প্রকল্পটি অনুমোদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও কারিগরি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে সেতু নির্মাণকাজ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

স্থানীয়দের মতে, সেতুটি বাস্তবায়িত হলে মগনামা ও বারবাকিয়ার মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপনের পাশাপাশি পেকুয়া ও কুতুবদিয়ার সঙ্গে মহেশখালী হয়ে চট্টগ্রামের যোগাযোগে একটি বিকল্প ও গুরুত্বপূর্ণ সড়কপথ তৈরি হতে পারে। এতে যাতায়াতের সময় ও পেকুয়া বাজার কেন্দ্রীক যানজট ভোগান্তি কমার পাশাপাশি উপকূলীয় এ অঞ্চলের আর্থসামাজিক কর্মকাণ্ড, কৃষিপণ্য,লবণ, মৎস্য পরিবহন ও ব্যবসা-বাণিজ্যে ইতিবাচক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এদিকে ‎ভোলাখালের বিভিন্ন অংশে ইতোমধ্যে সাতটি সেতু নির্মিত হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে- মগনামা শরৎঘোনা–রাজাখালী নতুনঘোনা সেতু, পেকুয়া পশ্চিম গোঁয়াখালী অংশের রাবারড্যাম সেতু, পেকুয়া বাজার–বারবাকিয়া ফাঁশিয়াখালী সেতু, পেকুয়া মৌলভীপাড়া অংশের আঞ্চলিক মহাসড়ক সেতু, পেকুয়া-বারবাকিয়া বাজার সেতু, পেকুয়া সাবমেরিন নৌঘাঁটি সড়কের সালাহউদ্দিন সেতু এবং বাগুজারা-সাকুরপাড় সেতু।

স্থানীয়দের দাবি, এসব সেতুর ধারাবাহিকতায় মগনামা বাজারপাড়া-বোধামাঝির ঘোনা সেতুটি নির্মিত হলে ভোলাখালের ওপর এটি হবে অষ্টম গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ সেতু। সেতুটি নির্মিত হলে পেকুয়া উপজেলার অভ্যন্তরীণ যোগাযোগব্যবস্থা আরও শক্তিশালী হওয়ার পাশাপাশি কুতুবদিয়ার সঙ্গে সড়ক যোগাযোগেও নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে।

 

‎

 

‎এতে শিক্ষা, চিকিৎসা, লবণ,মৎস্য ও কৃষিপণ্য পরিবহন, ব্যবসা-বাণিজ্য ও সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন চলাচলে দুই উপজেলার মানুষ সুফল পাবেন বলে প্রত্যাশা করছেন স্থানীয়রা। একই সঙ্গে পেকুয়া বাজারকেন্দ্রিক সড়কে যানবাহনের চাপও কিছুটা কমতে পারে বলে মনে করছেন তারা।

 

এলাকাবাসী জানান, দীর্ঘদিন ধরে ভোলাখাল মগনামা ও বারবাকিয়ার মানুষের স্বাভাবিক চলাচলের ক্ষেত্রে একটি বড় প্রতিবন্ধকতা হয়ে আছে। খালের ওপর প্রস্তাবিত সেতুটি নির্মিত হলে দুই এলাকার মধ্যে যোগাযোগ সহজ হওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় অর্থনীতি ও জনজীবনেও ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে।

 

‎দীর্ঘদিনের দাবি ও প্রত্যাশার পর সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়ায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এমপির প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ব্যক্তিগত প্রেস সচিব ছফওয়ানুল করিম বলেন, ‘চকরিয়া-পেকুয়া-মাতামুহুরী অঞ্চলের যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের ধারাবাহিকতায় ভোলাখালের মগনামা বাজারপাড়া অংশে ১০০ মিটার দীর্ঘ সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সুপারিশ ও প্রস্তাব স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। প্রকল্পটি অনুমোদনের পর পরবর্তী প্রশাসনিক ও কারিগরি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে সেতু নির্মাণের কাজ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে।’

 

‎তিনি বলেন, ‘সেতুটি নির্মিত হলে মগনামা, বারবাকিয়া ও আশপাশের এলাকার মানুষের চলাচল সহজ হওয়ার পাশাপাশি পেকুয়া-চকরিয়া অঞ্চলের সড়ক যোগাযোগব্যবস্থায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করছি।’

 

‎

 

‎পেকুয়া উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসাইন বলেন, ‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের প্রচেষ্টায় মগনামা-বোধামাঝির ঘোনা সেতু নির্মাণের উদ্যোগের খবরে বারবাকিয়া ও আশপাশের এলাকার মানুষের মধ্যে উৎসাহ সৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এ অঞ্চলের মানুষ যোগাযোগের ক্ষেত্রে নানা দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। সেতুটি নির্মিত হলে বারবাকিয়াসহ আশপাশের এলাকার সঙ্গে পেকুয়া উপজেলার সরাসরি ও সহজ যোগাযোগব্যবস্থা গড়ে উঠবে। একই সঙ্গে শিক্ষা, চিকিৎসা, কৃষি, ব্যবসা-বাণিজ্য ও সাধারণ মানুষের চলাচলেও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।’

তিনি বলেন, ‘মহেশখালীর মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর, পেকুয়া ও কুতুবদিয়ার মধ্যে যাতায়াত এবং পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রেও এ সেতু গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। জনগণের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণে দ্রুত প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে সেতুটির নির্মাণকাজ শুরুর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।’

সাঈদীর মামলার বাদীর দাফনে আসেনি কেউ, কবর খুঁড়লেন স্ত্রী-মেয়ে-বোন

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৫১ অপরাহ্ণ
সাঈদীর মামলার বাদীর দাফনে আসেনি কেউ, কবর খুঁড়লেন স্ত্রী-মেয়ে-বোন
শেয়ার করুন

আল্লামা দেলোয়ার হোসেন সাঈদীর মামলার বাদী ও রাষ্ট্রপক্ষের অন্যতম প্রধান সাক্ষী মানিক পশারীর মরদেহ জামায়াত নেতাকর্মী ও স্থানীয়দের তোপের মুখে ১৭ ঘণ্টা পর গভীর রাতে পরিবারের নারী সদস্যদের খোঁড়া কবরে দাফন করা হয়েছে। শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাত ২টার দিকে পিরোজপুর সদর উপজেলার শংকরপাশা ইউনিয়নের চিতলিয়া গ্রামে মানিক পশারীর বাড়িতে তার মরদেহ দাফন সম্পন্ন করে পুলিশ।

এর আগে গতকাল শনিবার সকাল ১০টার দিকে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় পলাতক থাকা অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। পরে একইদিন দুপুর ১২টায় পিরোজপুর সদর উপজেলা পরিষদ চত্বরে মানিক পশারীর মরদেহ এলে স্বজনরা জেলা জামায়াতের নেতাকর্মী ও স্থানীয়দের তোপের মুখে পড়ে। পরে পুলিশের সহায়তায় মরদেহ সরিয়ে নেওয়া হয় পুলিশ লাইনসে। সেখানে বিকেল ৫টার দিকে গার্ড অব অনার শেষে নিশ্চিদ্র নিরাপত্তায় লাশ ঘিরে রাখে সদর থানা পুলিশ।

 

পরে রাত ১টার দিকে সদর থানা পুলিশ জেলা জামায়াতে ইসলামীর নেতাদের সহায়তায় মরদেহ বাড়িতে পৌঁছে। রাতে মানিক পশারীর স্ত্রী, মেয়ে ও বোনসহ পরিবারের অন্য সদস্যরা মিলে কবর খুঁড়ে রাত ২টার দিকে দাফন কাজ শেষ করা হয়। এসময় কিছু স্থানীয়রা উপস্থিত ছিলেন।

মানিক পশারীর বোন বলেন, আমার ভাইরে টুঙ্গিপাড়া দিয়া পিরোজপুর আনার পর ওখানে ঝামেলা হইছে। একবার মোরা কবর খুঁড়ছি, সেই কবর লোকজনে আবার ভরাট করে ফেলছে। আবার মোরা কবর খুঁড়ছি এবং পুলিশ লাশ আনার পরে মোরাই মাডি দিছি। কোনো পুরুষ মানুষ আয় নাই।

 

পিরোজপুর জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি আব্দুর রাজ্জাক বলেন, মানিক পশারীর লাশ দাফনে পিরোজপুর জেলা জায়ামাতের নেতা এবং অঙ্গ সংগঠনের কোনো নেতা বাঁধা সৃষ্টি করেনি। জামায়াতে ইসলামীর নেতারা লাশের রাজনীতি করে না। তাই পিরোজপুর সদর থানা পুলিশকে পুরোপুরি সহায়তা করে লাশ দাফন কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে।

 

পিরোজপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: শরিফুল ইসলাম বলেন, পুলিশের নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে মানিক পশারীর লাশ দাফন সম্পন্ন করা হয়েছে। কবরের পাশে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

মানিক পশারী (৮৭) পিরোজপুর সদর উপজেলার শংকরপাশা ইউনিয়নের চিতলিয়া গ্রামের ৭ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা। তিনি জামায়াত নেতা আল্লামা দেলোয়ার হোসেন সাঈদীর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মানবতা বিরোধী অপরাধের মামলার বাদী ও রাষ্ট্রপক্ষের অন্যতম প্রধান সাক্ষী ছিলেন। ২০২৪ সালে আগস্টে ছাত্র জনতার গণঅভ্যুত্থানের পরে তিনি যশোরে ও গোপালগঞ্জে টুঙ্গিপাড়ায় তার মেয়ের জামাইয়ের কাছে আশ্রয় নেন। মানিক গত ২ মাস ধরে অসুস্থ হয়ে মৃত্যুবরণ করেন।