ডাকসু থেকে জকসু: শিবিরের ধারাবাহিক জয়, গ্রুপিংয়ের রাজনীতিতে কোণঠাসা ছাত্রদল
ডাকসু থেকে শুরু করে জকসু, দেশের প্রায় সব গুরুত্বপূর্ণ ছাত্র সংসদ নির্বাচনে একের পর এক জয় তুলে নিচ্ছে ইসলামী ছাত্রশিবির। বিপরীতে ধারাবাহিক পরাজয়ে পড়ছে বিএনপিপন্থী ছাত্রদল। এই পরিস্থিতিতে ছাত্রদলের তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা দেখা দিয়েছে। তাদের অভিযোগ, সংগঠনের ভেতরের গ্রুপিংয়ের রাজনীতিই ছাত্রদলের পরাজয়ের প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজ ছাত্র সংসদ নির্বাচনের ফলাফল বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, যেখানে প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছিল, সেখানেই শিবির প্রার্থীরা তুলনামূলকভাবে সংগঠিত ও ঐক্যবদ্ধ অবস্থান নিয়ে জয় ছিনিয়ে নিয়েছে। অন্যদিকে ছাত্রদলের প্রার্থীরা অভ্যন্তরীণ কোন্দল, নেতৃত্বের দ্বন্দ্ব এবং গ্রুপিংয়ের কারণে মাঠে কার্যকর ভূমিকা রাখতে ব্যর্থ হচ্ছেন বলে দাবি তৃণমূলের।
কক্সবাজার সদর উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক আহবায়ক (ভারপ্রাপ্ত) আবুবক্কর ছিদ্দিক তার ফেসবুকে লিখেন, আর কত পরাজিত হলে আপনারা সংগঠনের প্রতি মনোযোগী হবেন?
তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের আরও অভিযোগ, এসব বিষয় নিয়ে প্রকাশ্যে কথা বললে অনেক সময় ‘চক্ষুশূল’ হতে হয়। প্রতিবাদ করলেই সাংগঠনিকভাবে কোণঠাসা করা হয় বা দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। ফলে অনেকেই মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ছাত্র রাজনীতিতে ধারাবাহিক সাফল্যের জন্য সাংগঠনিক ঐক্য ও শৃঙ্খলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শিবির সেই জায়গায় তুলনামূলকভাবে এগিয়ে থাকলেও ছাত্রদল অভ্যন্তরীণ বিভাজনের কারণে পিছিয়ে পড়ছে। দ্রুত এসব সমস্যার সমাধান না হলে ভবিষ্যতের নির্বাচনগুলোতেও একই চিত্র দেখা যেতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এদিকে, ডাকসু থেকে জকসু—ছাত্র সংসদ নির্বাচনে একের পর এক পরাজয় ছাত্রদলের ভেতরে আত্মসমালোচনার সুযোগ তৈরি করেছে। এখন দেখার বিষয়, সংগঠনের শীর্ষ নেতৃত্ব গ্রুপিংয়ের রাজনীতি কাটিয়ে উঠে তৃণমূলের অভিযোগ কতটা গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করে এবং সাংগঠনিক ঐক্য ফিরিয়ে আনতে কী পদক্ষেপ নেয়।

আপনার মতামত লিখুন