খুঁজুন
, ,

তদন্তে শিক্ষিকাকে ধর্ষণের অভিযোগ প্রমাণিত, রেহাই মিলল ডিও লেটারে

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৯ আগস্ট, ২০২৬, ৯:৫০ অপরাহ্ণ
তদন্তে শিক্ষিকাকে ধর্ষণের অভিযোগ প্রমাণিত, রেহাই মিলল ডিও লেটারে
শেয়ার করুন

তদন্তে শিক্ষিকাকে ধর্ষণের অভিযোগ প্রমাণিত, রেহাই মিলল ডিও লেটারে

তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে সহকর্মী এক শিক্ষিকাকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে অনৈতিক সম্পর্ক (ধর্ষণ) স্থাপন, পরে তা অস্বীকার এবং অভিযোগকারী ও তার সন্তানকে হত্যার হুমকির অভিযোগের প্রমাণ মিললেও শেষ পর্যন্ত বিভাগীয় শাস্তি থেকে অব্যাহতি পেয়েছেন এক সরকারি কলেজের সহযোগী অধ্যাপক। এই অব্যাহতির নেপথ্যে বড় ভূমিকা রাখার অভিযোগ উঠেছে বগুড়া-জয়পুরহাটের সংরক্ষিত নারী আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য সুরাইয়া জেরিনের বিরুদ্ধে। অভিযোগ অনুযায়ী, সুরাইয়া জেরিন অভিযুক্ত শিক্ষকের পক্ষে সাফাই গেছে একটি আধা-সরকারি (ডিও) চিঠি পাঠান মন্ত্রণালয়ে। চিঠিতে অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগকে তিনি ‘ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে উল্লেখ করেছেন। পরে মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে তদন্ত প্রতিবেদনসহ ওই ডিও লেটার বিবেচনায় নিয়েই বিভাগীয় মামলা থেকে তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

বিভাগীয় মামলা থেকে অব্যাহতি পাওয়া শিক্ষকের নাম ড. গাজী তৌহিদুল আলম চৌধুরী। বর্তমানে তিনি জয়পুরহাট সরকারী কলেজের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। তবে ধর্ষণের অভিযোগের ঘটনাটি তিনি যখন বগুড়া সরকারি আজিজুল হক কলেজে কর্মরত ছিলেন তখনকার বলে জানা গেছে। বিষয়টি নিয়ে ২০২৪ সালের নভেম্বরে ভুক্তভোগী নারী তৌহিদুল আলম চৌধুরীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ কিছু ছবি প্রমাণ হিসেবে সংযুক্ত করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবার লিখিত অভিযোগ করেন। এই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে মন্ত্রণালয়ের শৃঙ্খলা বিষয়ক শাখার উপসচিব শাহিনা পারভিন অভিযোগ তদন্ত করে ১৫ কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা শিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) তৎকালীন মহাপরিচালককে অনুরোধ করেন
অভিযোগের তদন্ত চলাকালীনই ড. গাজী তৌহিদুল আলম চৌধুরীকে ২০২৫ সালের ২০ জানুয়ারি চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ হাজী আবদুল বাতেন সরকারি কলেজে বদলি করা হয়েছিল। সেখান থেকে পরবর্তীতে জয়পুরহাট সরকারি কলেজে বদলি হয়ে আসেন তিনি।

গত ১৭ আগস্ট বিভাগীয় মামলা থেকে অব্যাহতি পান ড. গাজী তৌহিদুল আলম চৌধুরী। তাকে অব্যাহতি দেওয়ার প্রজ্ঞাপনে স্বাক্ষর করেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব (শৃঙ্খলা) মো. আব্দুল জলিল মজুমদার।এর আগে চলতি বছরের ২২ জানুয়ারি অভিযোগের বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে ব্যক্তিগত শুনানীতে অংশগ্রহণ করেন তৌহিদুল আলম চৌধুরী। ওই শুনানী তার জবাব সন্তোষজনক না হওয়ায় পরবর্তীতে বিষয়টি অধিক তদন্ত করতে একজন তদন্তকারী কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়। ওই তদন্ত কর্মকর্তা গত ৬ জুলাই এ ‍সংক্রান্ত প্রতিবেদন জমা দেন। ওই প্রতিবেদনেও ড. গাজী তৌহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের অংশিক প্রমাণিত বলে উল্লেখ করা হয়। এরপর তাকে কোনো শাস্তি না দিয়েই বিভাগীয় মামলা থেকে অব্যাহতি দেয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়।এর আগে, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর কর্তৃক গঠিত তদন্ত কমিটির তদন্তে নৈতিক চরিত্র স্খলনের দায়ে অভিযুক্ত হওয়ায় সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ এর ৩ (খ) বিধি অনুযায়ী অসদাচরণের অভিযোগে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা রুজু করা হয় এবং কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদান করা হয়।

ড. গাজীকে অব্যাহতি দেওয়া প্রজ্ঞাপনেও তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের প্রমাণ মেলার কথা উল্লেখ রয়েছে। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ড. গাজী তহিদুল চৌধুরী সরকারি আজিজুল হক কলেজে কর্মকালীন জেসমিন আক্তার নামে এক নারীকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে অনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করেন। পরবর্তীতে ঢাকা শহরে নিয়ে এসে কাজী ছাড়া শুধু হুজুর দিয়ে বিয়ে করেন; যা পরবর্তীতে তিনি অস্বীকার করেন। তিনি জেসমিন আক্তার ও তার ছেলেকে হত্যার হুমকি প্রদান করেন; যা মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর কর্তৃক গঠিত তদন্ত কমিটির তদন্তে প্রমাণিত হয় এবং তিনি নৈতিক চরিত্র স্খলনের দায়ে অভিযুক্ত হওয়ায় সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ এর ৩(খ) বিধি অনুযায়ী অসদাচরণ এর অভিযোগে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা রুজু করা হয় এবং কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদান করা হয়।পরবর্তীতে শোকজের জবাব দেন ড. গাজী এবং ব্যক্তিগত শুনানীতে অংশগ্রহণ করেন। শুনানীতে প্রদত্ত বক্তব্য সন্তোষজনক না হওয়ায় তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের প্রেক্ষিতে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮-এর বিধি ৭(২)(ঘ) অনুযায়ী তদন্তের জন্য তদন্তকারী কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়। তদন্ত কর্মকর্তা বিস্তারিত তদন্ত শেষে গত ৬ জুলাই তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেন। তদন্ত প্রতিবেদনে তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ আংশিক প্রমাণিত হলেও বগুড়া জয়পুরহাটের সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য সুরাইয়া জেরিনের আধা-সরকারি পত্রে উল্লেখ করেছেন অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যে প্রণোদিত। বিভাগীয় মামলার অভিযোগনামা ও অভিযোগ বিবরণী, তদন্ত প্রতিবেদন, সংসদ সদস্যের আধা-সরকারি পত্র এবং বিভাগীয় মামলার প্রাসঙ্গিক রেকর্ডপত্র পর্যালোচনায় তাকে সতর্ক করে বিভাগীয় মামলার দায় হতে অব্যাহতি দেওয়া হলো।’ এ বিষয়ে জানতে চাইলে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (নিরীক্ষা ও আইন) মো: মাহবুবুল হক পাটোয়ারী বলেন, ‘এমপির ডিও লেটারে বিভাগীয় মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়ার বিষয়টি সঠিক নয়। বিভাগীয় মামলা নিষ্পত্তির নির্দিষ্ট প্রসিডিউর রয়েছে। সেই প্রসিডিউর অনুযায়ী অভিযুক্তকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। ড. গাজী তহিদুল চৌধুরীর ক্ষেত্রে কী হয়েছে তা এই মুহূর্তে বলা সম্ভব হচ্ছে না।’

ধর্ষণের মতো স্পর্শকাতর ঘটনায় ডিও লেটার পাঠানোর বিষয়ে বক্তব্য জানতে বগুড়া-জয়পুরহাটের সংরক্ষিত নারী আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য সুরাইয়া জেরিনের ব্যবহৃত মুঠোফোনে একাধিকবার কল দেওয়া হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। পরে তার হোয়াটসঅ্যাপে কল দেওয়া হলে ফুয়াদ নামে একজন ফোন রিসিভ করে জানান ‘এমপি মহোদয় চীফ হুইপের রুমে রয়েছে।’ ড. গাজী তৌহিদুল আলম চৌধুরীর পক্ষে সুরাইয়া জেরিন ডিও লেটার পাঠিয়েছিল কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে ফুয়াদ জানান, ‘বিষয়টি আমি জানি, ম্যাডাম ডিও লেটার পাঠিয়েছিলেন। ড. গাজী তৌহিদুল আলম চৌধুরীর পক্ষে সুরাইয়া জেরিন ডিও লেটার পাঠিয়েছিল কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে সংসদ সদস্যের বক্তিগত সহকারী ফুয়াদ জানান, ‘বিষয়টি আমি জানি, ম্যাডাম ডিও লেটার পাঠিয়েছিলেন।’

ড. গাজী তৌহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ

ভুক্তভোগী নারীর লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে স্বামী মারা যাওয়ার পর তিনি বগুড়া শহরে এক সন্তানকে নিয়ে বসবাস করতেন। ২০২২ সালে একটি অনুষ্ঠানে ড. গাজী মো. তৌহিদুল আলম চৌধুরীর সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। এরপর থেকে দু’জনের ঘনিষ্ঠতা বাড়তে থাকে। একপর্যায়ে তৌহিদুল আলম তাঁকে দ্বিতীয় স্ত্রী করার প্রস্তাব দেন এবং বগুড়া শহরের বাসায় নিয়মিত যাতায়াত শুরু করেন।
ভুক্তভোগী নারী অভিযোগ করেন, বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে তৌহিদুল আলম বগুড়ায় এবং ঢাকায় নিয়ে গিয়ে ২০২৪ সাল পর্যন্ত তাঁকে ‘ধর্ষণ’ করেন। একপর্যায়ে বিয়ের জন্য চাপ দিলে, তিনি যোগাযোগ বন্ধ করে দেন এবং সম্পর্ক অস্বীকার করেন। পরবর্তীতে বিষয়টি নিয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব বরাবর লিখিত অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী নারী।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে ড. গাজী তৌহিদুল আলম চৌধুরীর ব্যবহৃত মুঠোফোনে একাধিকবার কল দেওয়া হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। পরে হোয়াটসঅ্যাপে খুদে বার্তা পাঠানো হলেও তিনি কোনো উত্তর দেননি।

টঙ্গীতে মাদ্রাসাশিক্ষার্থীকে চুমু: সেই শিক্ষকের জামিন নামঞ্জুর

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:১৫ অপরাহ্ণ
টঙ্গীতে মাদ্রাসাশিক্ষার্থীকে চুমু: সেই শিক্ষকের জামিন নামঞ্জুর
শেয়ার করুন

গাজীপুরের টঙ্গীতে মাদ্রাসার ভেতরে ছয় বছর বয়সী এক শিশু শিক্ষার্থীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া শিক্ষক মোসলেহ উদ্দিনের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন আদালত। রোববার (২৫ অক্টোবর) দুপুরে গাজীপুর মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২-এর বিচারক ওমর হায়দার উভয় পক্ষের শুনানি শেষে জামিন বাতিলের এই আদেশ দেন।

আদালতে বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মহিউদ্দীন জামিন নামঞ্জুরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, জামিনের ঘোর বিরোধিতা করে আদালতে যুক্তি উপস্থাপন করা হয় যে, আসামি এই মুহূর্তে জামিনে মুক্তি পেলে মামলার সুষ্ঠু তদন্ত ব্যাহত হতে পারে এবং সমাজে এর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। বিজ্ঞ বিচারক উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে আসামির জামিন আবেদন নাকচ করে দেন।

অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট শরিফুল আলম বলেন, আসামির অতীতে কোনো অপরাধের রেকর্ড বা পূর্ববর্তী মামলা নেই। এছাড়া তার দাবি, মামলার অভিযোগগুলো মিথ্যা এবং ঘটনার পক্ষে কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্যপ্রমাণ নেই। এসব যুক্তি তুলে ধরেই তারা জামিনের আবেদন করেছিলেন।

 

এদিকে ঘটনাটির জের ধরে দায়ের হওয়া পাল্টাপাল্টি মামলাকে কেন্দ্র করে একটি মহল পরিকল্পিতভাবে বিভ্রান্তি ও অপপ্রচার ছড়াচ্ছে বলে সতর্ক করেছে পুলিশ। উভয় মামলার নিরপেক্ষ তদন্তের আশ্বাস দিয়ে গাজীপুর মহানগর পুলিশ (জিএমপি) কমিশনার মো. ইসরাইল হাওলাদার গুজব থেকে বিরত থাকার জন্য সর্বসাধারণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে শিশুটির বাবাকে গ্রেপ্তার করতে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে বলে গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া তথ্যকে অসত্য ও ভিত্তিহীন বলে স্পষ্ট করেছেন তিনি।

 

রোববার সকালে জিএমপি ও গণমাধ্যমকর্মীদের সমন্বয়ে পরিচালিত ‘জিএমপি মিডিয়া’ নামের অফিশিয়াল হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে সাংবাদিকদের একটি সংবাদের প্রেক্ষিতে তিনি এসব তথ্য জানান।

 

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, টঙ্গীর আউচপাড়ার শফিউদ্দিন রোডে অবস্থিত ‘ক্বারিউল কুরআন ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসা’র ভেতরে প্রথম শ্রেণির ছয় বছর বয়সী এক ছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শিশুর পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা করা হলে মাদ্রাসার ভাইস প্রিন্সিপাল মো. মোসলেহ উদ্দিনকে তাৎক্ষণিকভাবে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠায় পুলিশ।

 

তবে এর পরপরই ঘটনাটি নতুন দিকে মোড় নেয়। প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ ক্বারী মো. আলমাছ হোসেন গাজীপুরী পাল্টা অভিযোগ তোলেন যে, ঘটনার পর একদল লোক মাদ্রাসায় ঢুকে ব্যাপক ভাঙচুর চালিয়েছে এবং শিক্ষক-কর্মচারীদের মারধর করেছে। এ ঘটনায় তিনি ভুক্তভোগী শিশুটির বাবা শাহজালাল রুমিসহ অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে আরেকটি মামলা দায়ের করেন।

 

পাল্টা এই মামলার পর ‘শিশুটির বাবাকে গ্রেপ্তারে মাঠে নেমেছে পুলিশ’—এমন খবর কিছু গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে তা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক ক্ষোভ ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়। বিভিন্ন ভিডিও ও মন্তব্য ছড়িয়ে পড়ে তৈরি হয় চাঞ্চল্য। তবে পুলিশ পরিষ্কার জানিয়েছে, মামলার তদন্ত আইনি নিয়ম মেনেই এগোচ্ছে এবং কোনো পক্ষকেই উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে হয়রানি করা হচ্ছে না।

জাইমা রহমানের জন্মদিনে ৫ শতাধিক ছাত্রীকে বাইসাইকেল উপহার

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:১৫ অপরাহ্ণ
জাইমা রহমানের জন্মদিনে ৫ শতাধিক ছাত্রীকে বাইসাইকেল উপহার
শেয়ার করুন

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমানের জন্মদিন উপলক্ষে বগুড়ার শিবগঞ্জে ৫৪৮ জন ছাত্রীকে বিনামূল্যে বাইসাইকেল উপহার দেওয়া হয়েছে। রবিবার (২৫ অক্টোবর) বগুড়ার শিবগঞ্জ সরকারি পাইলট উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্রীদের নিয়ে এই আয়োজন করা হয়।

স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের আয়োজনে এসব ছাত্রীদের বাইসাইকেল দেওয়া হয়। এ সময় শিক্ষার্থীরা স্লোগান দেন, ‘শুভ শুভ শুভদিন, জাইমা রহমানের জন্মদিন’ ‘করবো কাজ গড়বো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’।

এ সময় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, সাত শতাধিক মেধাবী শিক্ষার্থীর পরীক্ষা নিয়েছিলাম, যার মধ্যে অংশ নিয়েছিল ৫৪৮ জন ছাত্রী। মোট ১০২টি শিক্ষার্থী প্রতিষ্ঠানের ৫৪৮জনকে ডেকে নিয়ে বাইসাইকেল উপহার দিচ্ছি।

এছাড়া যে প্রতিষ্ঠানে এই বাইসাইকেল প্রদানের আয়োজন করা হয়, তাদেরসহ প্রায় এক হাজার শিক্ষার্থীদের জাইমা রহমানের ছবি সম্বলিত মগ উপহার দেওয়া হয়।

বাইসাইকেল পেয়ে শিক্ষার্থীরা বেশ উচ্ছ্বসিত হন। কেউ কেউ স্কুল মাঠেই সাইকেল চালিয়ে আনন্দ উপভোগ করেন।

ঝোঁপঝাড়ে ফেলে যাওয়া নবজাতককে দত্তক নিতে ১২৩ পরিবারের আবেদন

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১:৩৯ অপরাহ্ণ
ঝোঁপঝাড়ে ফেলে যাওয়া নবজাতককে দত্তক নিতে ১২৩ পরিবারের আবেদন
শেয়ার করুন

চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে ফটিকছড়িতে সড়কের পাশের ঝোপঝাড়ে ফেলে যাওয়া এক নবজাত কন্যাশিশুকে দত্তক নিতে ব্যাপক আগ্রহ দেখা দিয়েছে শিশুটির লালন-পালনের দায়িত্ব নিতে এক দিনেই ১২৩টি আবেদন জমা পড়েছে।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাত পর্যন্ত ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে আবেদনকারীদের সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, আবেদনকারীদের পারিবারিক পরিবেশ, আর্থিক সামর্থ্য, শিশুর পরিচর্যার সক্ষমতা ও অন্যান্য প্রাসঙ্গিক বিষয় বিবেচনায় নিয়ে উপযুক্ত পরিবার নির্বাচনের প্রক্রিয়া চলছে। তবে, আবেদন করলেই শিশুটিকে দত্তক নেওয়ার সুযোগ মিলবে না। এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যাচাই-বাছাই ও প্রযোজ্য আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে।

ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাঈদ মোহাম্মদ ইব্রাহিম গণমাধ্যমকে বলেন, শিশুটিকে দত্তক নিতে বিপুলসংখ্যক আবেদন জমা পড়েছে। উপযুক্ত পরিবার নির্বাচনের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। যাচাই-বাছাই ও আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

এর আগে, গত বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার পাইন্দং ইউনিয়নের উত্তর পাইন্দং এলাকার আমতলীতে সড়কের পাশের ঝোঁপঝাড় থেকে নবজাতকটিকে জীবিত উদ্ধার করা হয়।

স্থানীয় লোকজন শিশুটিকে ঝোঁপের মধ্যে পড়ে থাকতে দেখে পুলিশকে খবর দেন। পরে ফটিকছড়ি থানা-পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশুটিকে উদ্ধার করেন। উদ্ধারের পর তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, শিশুটির শারীরিক অবস্থা ভালো ছিল।তবে কে বা কারা শিশুটিকে সেখানে ফেলে গেছেন, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। শিশুটির নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে উপযুক্ত পরিবার নির্বাচনের পাশাপাশি তাকে পরিত্যক্ত অবস্থায় ফেলে যাওয়ার ঘটনার রহস্য উদঘাটন ও পরিচয় শনাক্তে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় লোকজন।