খুঁজুন
, ,

দেশের কাইজ্যা বিদেশে

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ৬:৩৩ অপরাহ্ণ
দেশের কাইজ্যা বিদেশে
শেয়ার করুন

পতিত সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত ১০ বছরে পশ্চিমা দুনিয়ার যেখানেই গেছেন, সেখানেই প্রতিরোধের চেষ্টা করেছে বিএনপি-জামায়াত। কালো পতাকা প্রদর্শনসহ নানাভাবে তার প্রতি ঘৃণা প্রকাশ করেছে দল দু’টির নেতাকর্মীরা। বিশেষ করে নিউ
ইয়র্ক ও লন্ডনে। ৩৬ জুলাই খ্যাত ৫ই আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে সব পাল্টে দিয়েছে! হাসিনা দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন ভারতে। তার নেতাকর্মীরা ছড়িয়ে আছে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে। বিপ্লবী ছাত্র-জনতার সমর্থনে গঠিত হয়েছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। যার প্রতি এখনো সমর্থন রয়েছে বিএনপি-জামায়াতসহ অভ্যুত্থানের পক্ষের শক্তিগুলোর। নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন সেই সরকারের নির্বাহী আদেশে বিচার কার্য শেষ না হওয়া পর্যন্ত দেশে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ। ফলে দেশে তারা এখনো এলোমেলো। অবশ্য বিদেশে তারা এখন অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে সক্রিয়। আওয়ামী লীগের প্রবাসী সংগঠনগুলোর নেতাকর্মীদের সঙ্গে বিদেশে আশ্রয় নেয়া দলটির পলাতক নেতাকর্মীরাও যে যার মতো করে অন্তর্বর্তী সরকারের বিরুদ্ধাচরণ করছেন। তারা সরকারের উপদেষ্টাদের বিদেশ সফরে প্রতিরোধের চেষ্টা করছেন। ঠিক যেমনটি এতবছর ধরে করে আসছিল বিএনপি-জামায়াত। তাদের প্রতি ঘৃণা প্রকাশে অভিনব সব কৌশল নিচ্ছে লীগ সমর্থক এবং তাদের প্রতি সহানুভূতিশীল গোষ্ঠী। জাতিসংঘের ৮০তম অধিবেশনে যাচ্ছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। গত রাতেই তিনি সফরসঙ্গীদের নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন।

এবারের সফরের বিশেষত্ব হচ্ছে প্রধান উপদেষ্টার টিমে সরকারের বাইরে ৩টি রাজনৈতিক দলের ৬ জন প্রতিনিধি সরকারি খরচে যুক্ত হয়েছেন। বর্ণাঢ্য আয়োজনে তাদের বরণের প্রস্তুতি নিয়েছে সফরসঙ্গী নেতাদের প্রবাসী সমর্থকরা। তবে তাদের প্রতিহত করার ঘোষণা দিয়েছে নিউ ইয়র্ক আওয়ামী লীগ। সেই ঘোষণায় বিচলিত সরকারের তরফে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ড. মুহাম্মদ ইউনূস এবং তার সফরসঙ্গীদের জন্য বাড়তি নিরাপত্তা চাওয়া হয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন- বাস্তবে ড. ইউনূসকে প্রতিহত করতে পারবে না আওয়ামী লীগ। কারণ জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যাচ্ছেন তিনি। কেবল বাংলাদেশ নয়, ১৯৩ সদস্য রাষ্ট্রের প্রতিনিধির পদভারে আগামী সপ্তাহটা মুখরিত থাকবে বিশ্বের রাজধানী খ্যাত সিটি ম্যানহাটন। সেখানে বাংলাদেশসহ দুনিয়ার বিভিন্ন দেশের সংক্ষুব্ধ মানুষদের নিজ নিজ সরকারের প্রতিনিধির প্রতি ক্ষোভ, বিক্ষোভ বা স্রেফ ঘৃণা প্রদর্শনেরও সুযোগ থাকবে। তবে তা যেন শান্তিপূর্ণ হয় সেটি নিশ্চিত করবে নিউ ইয়র্ক পুুলিশ তথা মার্কিন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। ওয়াকিবহাল সূত্র বলছে, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সংক্ষুব্ধ জনগণ নিজে থেকে তাদের প্রতিবাদ শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করেন। কিন্তু বাংলাদেশসহ কিছু দেশের প্রতিবাদকারীরা অহেতুক পরিবেশটা উত্তপ্ত করে ফেলেন। তাদের মুখের চেয়ে হস্ত আগে চলে। দেশে বিদ্যমান রাজনৈতিক বিবাদ বা কাইজ্যা বিদেশের মাটিতেও টেনে নিয়ে যান। সহিংস সেই আচরণ ঠেকাতে অ্যাকশনে যায় পুলিশ। ফলশ্রুতিতে ঘটনা থামলেও তা স্থানীয় এবং আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের শিরোনাম হয়ে দেশের ভাবমূর্তিতে দীর্ঘ মেয়াদে মারাত্মক প্রভাব ফেলে।

এবারে কাইজ্যার আশঙ্কা বেশি কেন? গত বছর অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান ড. মুহাম্মদ ইউনূস যখন জাতিসংঘে যান তখন আওয়ামী লীগ ছিল বিপর্যন্ত। সর্বাত্মক প্রতিরোধ তথা অভ্যুত্থানে ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য হওয়া আওয়ামী লীগের প্রবাসী নেতাকর্মীরা ছিল দিকভ্রান্ত-নির্দেশনাহীন। তাছাড়া আন্দোলন দমনে আওয়ামী সরকারের তরফে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ তথা গণহত্যার অভিযোগে দলটির নেতাকর্মীরা সাধারণের তোপের মুখে পড়ার আশঙ্কায় ছিল। কিন্তু এবার তারা আগের চেয়ে সংগঠিত এবং প্রতিরোধের নির্দেশনাপ্রাপ্ত। স্থানীয় সূত্রের দাবি শুরুতে ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে মাঠ ছিল তাদের দখলে এক তরফাভাবে। কিন্তু সরকার প্রধানের সফরসঙ্গী হিসেবে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, জামায়াতের নায়েবে আমীর ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের, বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, এনসিপি’র সদস্য সচিব আখতার হোসেনের নাম ঘোষণার পর পরিস্থিতি খানিকটা জটিল হয়েছে। গতকাল জামায়াত এবং এনসিপি’র আরও দুই নেতার নাম প্রধান উপদেষ্টার সফরসঙ্গীর তালিকায় যুক্ত হয়েছে। তারা হলেন- এনসিপি’র যুগ্ম আহ্বায়ক ডা. তাসনিম জারা, ও জামায়াতের সাবেক আমীর মতিউর রহমান নিজামীর ছেলে ড. নাকিবুর রহমান তারেক। নাকিবুর রহমান যুক্তরাষ্ট্রেই অবস্থান করছেন। তিনি সেখান থেকে প্রধান উপদেষ্টার বহরে যুক্ত হবেন।

প্রধান উপদেষ্টা ও নেতাদের সফর ঘিরে বিএনপি, জামায়াত এনসিপি কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। ফলে এবারে বহুপক্ষীয় কাইজ্যা হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সূত্র বলছে, আওয়ামী লীগ নিজেদের আমলের ঘটনাগুলো আড়াল করে এবার ফলাও করে ড. ইউনূসের শাসনামলে দেশে গণতন্ত্র নেই, মানবাধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে ইত্যাদি প্রচারের প্রস্তুতি নিচ্ছে। অন্যদিকে বিএনপি-জামায়াত এবং এনসিপি ‘শান্তি সমাবেশ’ করার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানা গেছে।

কঠোর নিরাপত্তা বলয়ে থাকবেন ইউনূস এবং তার সফরসঙ্গীরা: স্থানীয় সূত্র এটা নিশ্চিত করেছে যে, নিউ ইয়র্কে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যে থাকবেন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস এবং তার সফরসঙ্গীরা। তাদের জন্য বাড়তি নিরাপত্তা চেয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে নোট ভারবাল পাঠানো হয়েছে। তার সফরকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা জোরদারের জন্য নিউ ইয়র্ক পুলিশ, মেয়র অফিস এবং ফরেন সার্ভিসের কাছে বাড়তি সহায়তাও চেয়েছে বাংলাদেশ কনস্যুলেট। চিঠিতে নোবেলবিজয়ী ও বাংলাদেশ সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করা হয় বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। স্থানীয়রা জানান, প্রধান উপদেষ্টাকে স্বাগত জানাতে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীরা বিমানবন্দর, হোটেল এবং জাতিসংঘ সদর দপ্তরের সামনে গণজমায়েতের ঘোষণা দিয়েছেন।

একইসঙ্গে আওয়ামী লীগ সমর্থকরাও সেই সব স্থানের কাছাকাছি বিক্ষোভ কর্মসূচি পালনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। এ ব্যাপারে নিউ ইয়র্কে বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল মোহাম্মাদ মোজাম্মেল হক মানবজমিনকে রোববার সন্ধ্যায় বলেন, আমাদের কাছে তথ্য রয়েছে আওয়ামী লীগের তরফে প্রধান উপদেষ্টার আগমনকে কেন্দ্র করে বিমানবন্দরসহ বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ হবে। এ কারণে আমরা স্থানীয় প্রশাসন, নিউ ইয়র্ক পুলিশ, মেয়র অফিসের কাছে বাড়তি নিরাপত্তা চেয়ে চিঠি দিয়েছি। একইভাবে নিউ ইয়র্কের ফরেন সার্ভিসকে বিষয়টি অবগত করেছি। আশা করি স্থানীয় কর্তৃপক্ষ সহায়তা করবেন। কনসাল জেনারেল বলেন- প্রধান উপদেষ্টার সফর ঘিরে যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে আমরা সতর্ক অবস্থানে রয়েছি। উল্লেখ্য, ২২শে সেপ্টেম্বর মুহাম্মদ ইউনূস নিউ ইয়র্কে পৌঁছাবেন এবং ২৬শে সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে ভাষণ দেবেন। তার ভাষণে জুলাই অভ্যুত্থান-পরবর্তী গণতান্ত্রিক সংস্কার, একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে সত্যিকারের গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার প্রত্যয় এবং সাবেক স্বৈরাচারী শাসন-পরবর্তী বাংলাদেশের অগ্রযাত্রার চিত্র তুলে ধরা হবে। পাশাপাশি তার ভাষণে রোহিঙ্গা সংকট, জলবায়ু, অর্থায়ন, এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে দক্ষিণ এশিয়ার ভূমিকাসহ বিভিন্ন বিষয় স্থান পেতে পারে। তার ভাষণে ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন অনুষ্ঠানের বিষয়টি পুনর্ব্যক্ত করা হবে বলে জানানো হয়েছে। ভাষণ দেয়া ছাড়াও সাইড লাইনে উচ্চপর্যায়ের কিছু বৈঠকে অংশ নেবেন ড. ইউনূস। তাছাড়া প্রবাসীদের একটি অনুষ্ঠানেও অংশ নিবেন।

ঝোঁপঝাড়ে ফেলে যাওয়া নবজাতককে দত্তক নিতে ১২৩ পরিবারের আবেদন

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১:৩৯ অপরাহ্ণ
ঝোঁপঝাড়ে ফেলে যাওয়া নবজাতককে দত্তক নিতে ১২৩ পরিবারের আবেদন
শেয়ার করুন

চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে ফটিকছড়িতে সড়কের পাশের ঝোপঝাড়ে ফেলে যাওয়া এক নবজাত কন্যাশিশুকে দত্তক নিতে ব্যাপক আগ্রহ দেখা দিয়েছে শিশুটির লালন-পালনের দায়িত্ব নিতে এক দিনেই ১২৩টি আবেদন জমা পড়েছে।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাত পর্যন্ত ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে আবেদনকারীদের সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, আবেদনকারীদের পারিবারিক পরিবেশ, আর্থিক সামর্থ্য, শিশুর পরিচর্যার সক্ষমতা ও অন্যান্য প্রাসঙ্গিক বিষয় বিবেচনায় নিয়ে উপযুক্ত পরিবার নির্বাচনের প্রক্রিয়া চলছে। তবে, আবেদন করলেই শিশুটিকে দত্তক নেওয়ার সুযোগ মিলবে না। এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যাচাই-বাছাই ও প্রযোজ্য আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে।

ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাঈদ মোহাম্মদ ইব্রাহিম গণমাধ্যমকে বলেন, শিশুটিকে দত্তক নিতে বিপুলসংখ্যক আবেদন জমা পড়েছে। উপযুক্ত পরিবার নির্বাচনের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। যাচাই-বাছাই ও আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

এর আগে, গত বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার পাইন্দং ইউনিয়নের উত্তর পাইন্দং এলাকার আমতলীতে সড়কের পাশের ঝোঁপঝাড় থেকে নবজাতকটিকে জীবিত উদ্ধার করা হয়।

স্থানীয় লোকজন শিশুটিকে ঝোঁপের মধ্যে পড়ে থাকতে দেখে পুলিশকে খবর দেন। পরে ফটিকছড়ি থানা-পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশুটিকে উদ্ধার করেন। উদ্ধারের পর তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, শিশুটির শারীরিক অবস্থা ভালো ছিল।তবে কে বা কারা শিশুটিকে সেখানে ফেলে গেছেন, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। শিশুটির নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে উপযুক্ত পরিবার নির্বাচনের পাশাপাশি তাকে পরিত্যক্ত অবস্থায় ফেলে যাওয়ার ঘটনার রহস্য উদঘাটন ও পরিচয় শনাক্তে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় লোকজন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রচেষ্টায় ভোলাখালে অষ্টম সেতু নির্মাণের প্রস্তাব

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১:০০ অপরাহ্ণ
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রচেষ্টায় ভোলাখালে অষ্টম সেতু নির্মাণের প্রস্তাব
শেয়ার করুন

কক্সবাজারের পেকুয়ায় ভোলাখালের ওপর মগনামা বাজারপাড়া থেকে বারবাকিয়া ইউনিয়নের বোধামাঝির ঘোনা পর্যন্ত ১০০ মিটার দীর্ঘ সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রস্তাবিত সেতুটি নির্মিত হলে মগনামা ও বারবাকিয়ার মধ্যে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ স্থাপনের পাশাপাশি পেকুয়া ও কুতুবদিয়ার মানুষের যাতায়াত, পণ্য পরিবহন ও ব্যবসা-বাণিজ্যে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে বলে আশা করছেন স্থানীয়রা।

সম্প্রতি সেতু নির্মাণের উদ্যোগের অংশ হিসেবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও কক্সবাজার-১ আসনের সংসদ সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদের প্রয়োজনীয় সুপারিশ ও প্রস্তাব স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। প্রকল্পটি অনুমোদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও কারিগরি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে সেতু নির্মাণকাজ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

স্থানীয়দের মতে, সেতুটি বাস্তবায়িত হলে মগনামা ও বারবাকিয়ার মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপনের পাশাপাশি পেকুয়া ও কুতুবদিয়ার সঙ্গে মহেশখালী হয়ে চট্টগ্রামের যোগাযোগে একটি বিকল্প ও গুরুত্বপূর্ণ সড়কপথ তৈরি হতে পারে। এতে যাতায়াতের সময় ও পেকুয়া বাজার কেন্দ্রীক যানজট ভোগান্তি কমার পাশাপাশি উপকূলীয় এ অঞ্চলের আর্থসামাজিক কর্মকাণ্ড, কৃষিপণ্য,লবণ, মৎস্য পরিবহন ও ব্যবসা-বাণিজ্যে ইতিবাচক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এদিকে ‎ভোলাখালের বিভিন্ন অংশে ইতোমধ্যে সাতটি সেতু নির্মিত হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে- মগনামা শরৎঘোনা–রাজাখালী নতুনঘোনা সেতু, পেকুয়া পশ্চিম গোঁয়াখালী অংশের রাবারড্যাম সেতু, পেকুয়া বাজার–বারবাকিয়া ফাঁশিয়াখালী সেতু, পেকুয়া মৌলভীপাড়া অংশের আঞ্চলিক মহাসড়ক সেতু, পেকুয়া-বারবাকিয়া বাজার সেতু, পেকুয়া সাবমেরিন নৌঘাঁটি সড়কের সালাহউদ্দিন সেতু এবং বাগুজারা-সাকুরপাড় সেতু।

স্থানীয়দের দাবি, এসব সেতুর ধারাবাহিকতায় মগনামা বাজারপাড়া-বোধামাঝির ঘোনা সেতুটি নির্মিত হলে ভোলাখালের ওপর এটি হবে অষ্টম গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ সেতু। সেতুটি নির্মিত হলে পেকুয়া উপজেলার অভ্যন্তরীণ যোগাযোগব্যবস্থা আরও শক্তিশালী হওয়ার পাশাপাশি কুতুবদিয়ার সঙ্গে সড়ক যোগাযোগেও নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে।

 

‎

 

‎এতে শিক্ষা, চিকিৎসা, লবণ,মৎস্য ও কৃষিপণ্য পরিবহন, ব্যবসা-বাণিজ্য ও সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন চলাচলে দুই উপজেলার মানুষ সুফল পাবেন বলে প্রত্যাশা করছেন স্থানীয়রা। একই সঙ্গে পেকুয়া বাজারকেন্দ্রিক সড়কে যানবাহনের চাপও কিছুটা কমতে পারে বলে মনে করছেন তারা।

 

এলাকাবাসী জানান, দীর্ঘদিন ধরে ভোলাখাল মগনামা ও বারবাকিয়ার মানুষের স্বাভাবিক চলাচলের ক্ষেত্রে একটি বড় প্রতিবন্ধকতা হয়ে আছে। খালের ওপর প্রস্তাবিত সেতুটি নির্মিত হলে দুই এলাকার মধ্যে যোগাযোগ সহজ হওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় অর্থনীতি ও জনজীবনেও ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে।

 

‎দীর্ঘদিনের দাবি ও প্রত্যাশার পর সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়ায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এমপির প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ব্যক্তিগত প্রেস সচিব ছফওয়ানুল করিম বলেন, ‘চকরিয়া-পেকুয়া-মাতামুহুরী অঞ্চলের যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের ধারাবাহিকতায় ভোলাখালের মগনামা বাজারপাড়া অংশে ১০০ মিটার দীর্ঘ সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সুপারিশ ও প্রস্তাব স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। প্রকল্পটি অনুমোদনের পর পরবর্তী প্রশাসনিক ও কারিগরি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে সেতু নির্মাণের কাজ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে।’

 

‎তিনি বলেন, ‘সেতুটি নির্মিত হলে মগনামা, বারবাকিয়া ও আশপাশের এলাকার মানুষের চলাচল সহজ হওয়ার পাশাপাশি পেকুয়া-চকরিয়া অঞ্চলের সড়ক যোগাযোগব্যবস্থায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করছি।’

 

‎

 

‎পেকুয়া উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসাইন বলেন, ‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের প্রচেষ্টায় মগনামা-বোধামাঝির ঘোনা সেতু নির্মাণের উদ্যোগের খবরে বারবাকিয়া ও আশপাশের এলাকার মানুষের মধ্যে উৎসাহ সৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এ অঞ্চলের মানুষ যোগাযোগের ক্ষেত্রে নানা দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। সেতুটি নির্মিত হলে বারবাকিয়াসহ আশপাশের এলাকার সঙ্গে পেকুয়া উপজেলার সরাসরি ও সহজ যোগাযোগব্যবস্থা গড়ে উঠবে। একই সঙ্গে শিক্ষা, চিকিৎসা, কৃষি, ব্যবসা-বাণিজ্য ও সাধারণ মানুষের চলাচলেও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।’

তিনি বলেন, ‘মহেশখালীর মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর, পেকুয়া ও কুতুবদিয়ার মধ্যে যাতায়াত এবং পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রেও এ সেতু গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। জনগণের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণে দ্রুত প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে সেতুটির নির্মাণকাজ শুরুর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।’

সাঈদীর মামলার বাদীর দাফনে আসেনি কেউ, কবর খুঁড়লেন স্ত্রী-মেয়ে-বোন

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৫১ অপরাহ্ণ
সাঈদীর মামলার বাদীর দাফনে আসেনি কেউ, কবর খুঁড়লেন স্ত্রী-মেয়ে-বোন
শেয়ার করুন

আল্লামা দেলোয়ার হোসেন সাঈদীর মামলার বাদী ও রাষ্ট্রপক্ষের অন্যতম প্রধান সাক্ষী মানিক পশারীর মরদেহ জামায়াত নেতাকর্মী ও স্থানীয়দের তোপের মুখে ১৭ ঘণ্টা পর গভীর রাতে পরিবারের নারী সদস্যদের খোঁড়া কবরে দাফন করা হয়েছে। শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাত ২টার দিকে পিরোজপুর সদর উপজেলার শংকরপাশা ইউনিয়নের চিতলিয়া গ্রামে মানিক পশারীর বাড়িতে তার মরদেহ দাফন সম্পন্ন করে পুলিশ।

এর আগে গতকাল শনিবার সকাল ১০টার দিকে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় পলাতক থাকা অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। পরে একইদিন দুপুর ১২টায় পিরোজপুর সদর উপজেলা পরিষদ চত্বরে মানিক পশারীর মরদেহ এলে স্বজনরা জেলা জামায়াতের নেতাকর্মী ও স্থানীয়দের তোপের মুখে পড়ে। পরে পুলিশের সহায়তায় মরদেহ সরিয়ে নেওয়া হয় পুলিশ লাইনসে। সেখানে বিকেল ৫টার দিকে গার্ড অব অনার শেষে নিশ্চিদ্র নিরাপত্তায় লাশ ঘিরে রাখে সদর থানা পুলিশ।

 

পরে রাত ১টার দিকে সদর থানা পুলিশ জেলা জামায়াতে ইসলামীর নেতাদের সহায়তায় মরদেহ বাড়িতে পৌঁছে। রাতে মানিক পশারীর স্ত্রী, মেয়ে ও বোনসহ পরিবারের অন্য সদস্যরা মিলে কবর খুঁড়ে রাত ২টার দিকে দাফন কাজ শেষ করা হয়। এসময় কিছু স্থানীয়রা উপস্থিত ছিলেন।

মানিক পশারীর বোন বলেন, আমার ভাইরে টুঙ্গিপাড়া দিয়া পিরোজপুর আনার পর ওখানে ঝামেলা হইছে। একবার মোরা কবর খুঁড়ছি, সেই কবর লোকজনে আবার ভরাট করে ফেলছে। আবার মোরা কবর খুঁড়ছি এবং পুলিশ লাশ আনার পরে মোরাই মাডি দিছি। কোনো পুরুষ মানুষ আয় নাই।

 

পিরোজপুর জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি আব্দুর রাজ্জাক বলেন, মানিক পশারীর লাশ দাফনে পিরোজপুর জেলা জায়ামাতের নেতা এবং অঙ্গ সংগঠনের কোনো নেতা বাঁধা সৃষ্টি করেনি। জামায়াতে ইসলামীর নেতারা লাশের রাজনীতি করে না। তাই পিরোজপুর সদর থানা পুলিশকে পুরোপুরি সহায়তা করে লাশ দাফন কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে।

 

পিরোজপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: শরিফুল ইসলাম বলেন, পুলিশের নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে মানিক পশারীর লাশ দাফন সম্পন্ন করা হয়েছে। কবরের পাশে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

মানিক পশারী (৮৭) পিরোজপুর সদর উপজেলার শংকরপাশা ইউনিয়নের চিতলিয়া গ্রামের ৭ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা। তিনি জামায়াত নেতা আল্লামা দেলোয়ার হোসেন সাঈদীর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মানবতা বিরোধী অপরাধের মামলার বাদী ও রাষ্ট্রপক্ষের অন্যতম প্রধান সাক্ষী ছিলেন। ২০২৪ সালে আগস্টে ছাত্র জনতার গণঅভ্যুত্থানের পরে তিনি যশোরে ও গোপালগঞ্জে টুঙ্গিপাড়ায় তার মেয়ের জামাইয়ের কাছে আশ্রয় নেন। মানিক গত ২ মাস ধরে অসুস্থ হয়ে মৃত্যুবরণ করেন।