খুঁজুন
, ,

নিজেদের বয়ান প্রচারের অভাবে সঙ্কটে বিএনপি

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ৪:৪৩ অপরাহ্ণ
নিজেদের বয়ান প্রচারের অভাবে সঙ্কটে বিএনপি
শেয়ার করুন

রাজনীতিতে নিজেদের ন্যারেটিভ প্রচার করতে না পারায় বিএনপি সংকটে পড়ছে বলে মনে করছেন রাজনীতি সংশ্লিষ্টরা। এছাড়া সিদ্ধান্তের দীর্ঘসূত্রতা, নেতৃত্বে চেইন অব কমান্ডের স্ট্রাকচার না থাকা, দলের নির্দিষ্ট একক কৌশল প্রণয়নে সিদ্ধান্তহীনতা, বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রার্থী নির্ধারণে দোদুল্যমানতা ও দলটির বিরুদ্ধে ব্যাপক সংঘবদ্ধ নেতিবাচক প্রচারণা তরুণদের মাঝে দলটির ভাবমূর্তিকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।

এছাড়াও ভারতপন্থী ট্যাগও দলটির চিরায়ত রাজনৈতিক ইমেজকে দারুণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

অন্যদিকে বিএনপির নেতাদেরও অনেকে মনে করছেন, বিএনপি দলটিই নিজেই একটি ন্যারেটিভ।

দলের নামের মধ্যেই রয়েছে এই সহজাত শক্তিশালী বয়ান। বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ, সবার আগে বাংলাদেশ, উদার ধর্মীয় স্বাধীনতা, সকল মত-পথ, ধর্ম-বর্ণে একক বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের চেয়ে তো আর বড় ন্যারেটিভ এখন হতে পারে না।

আমাদের এখন যে শুধু ন্যারেটিভের ব্যাপক ব্র্যান্ডিং করার সংকট তা নয়, জনের মাঝে গত দেড় বছরে বিএনপি মিডিয়া ট্রায়ালের শিকার হয়েছে। এছাড়া দলটিকে নিয়ে জনমনে ব্যাপক ইতিবাচক প্রত্যাশা এখনও বিদ্যমান।

কিন্তু জেলা-উপজেলায় দলের একটি অংশের নেতিবাচক কাজকর্মে জনমনে দলটির একাংশ সম্পর্কে আস্থার সংকটও সৃষ্টি হয়েছে। কেননা, চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অভিযোগে দল থেকে যাদের বহিষ্কার করা হয়, ঐ এলাকাতেই বিএনপির অন্য গ্রুপ তাদেরকে নিয়েই আবার দলীয় কার্যক্রম পরিচালনা করে। এতে বহিষ্কার শুধু কাগজে পরিণত হয় আর নির্বিঘ্নে চলে বহিষ্কৃতদের দখলদারি ও চাঁদাবাজি।

বিএনপির একাধিক নেতা এই ইস্যুতে নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, তারেক রহমানের বেশিরভাগ সিদ্ধান্তই এখন বাস্তবায়ন হয় না। বহিষ্কৃতদের সাথে যারা সম্পর্ক রাখবে, যদি তাদের বিরুদ্ধেও কঠোর অবস্থান নেওয়া যেত, তাহলে মানুষের মাঝে আস্থার পরিবেশ সৃষ্টি হতো। যদি চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া যেত, তাহলে আরও ভালো হতো।  তারেক রহমান বারবার পরিবর্তনের কথা বলছেন, কিন্তু সেই পরিবর্তন বিএনপি দৃশ্যমান করতে পারছে না। যার কারণে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে মন্দের ভালো হিসেবে অন্যরা সুযোগ নিচ্ছে। আর বিএনপির বিরুদ্ধে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র তো আছেই।

রাজনীতি বিশ্লেষকরা বলছেন, বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ, সূফিবাদী ইসলামী মূল্যবোধ, ভারতীয় আধিপত্যবাদ বিরোধী ন্যারেটিভের চেয়ে শক্তিশালী ন্যারেটিভ আর নেই। বিএনপির জন্ম ও জনপ্রিয়তা অর্জনের ভিত্তিও ছিল এসব। ১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বর ভারতপন্থীদের বিরুদ্ধে বিপ্লবের মাধ্যমে ৭ নভেম্বর জিয়াউর রহমানের উত্থান। সেখান থেকেই সারা দেশের ইসলামী মূল্যবোধ, দেশপ্রেমিক বাম ও উদারপন্থী মানুষের মিলনস্থল ছিল বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের ধারক বিএনপি। কিন্তু এসব প্রচার, প্রসার ও তরুণ প্রজন্মের কাছে যথাযথভাবে তুলে ধরতে বিএনপির শক্তিশালী উইং নেই। যার কারণে জেন-জি সহ তরুণ প্রজন্মের কাছে জামায়াত ও অন্যান্য দলগুলো সেই সুযোগ নিচ্ছে।

বিএনপিকে পরামর্শ দিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সাবেক এ চেয়ারম্যান আরো বলেন, খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান যদি ক্ষমতায় আসতে চান তাহলে তাদের এসব মাথায় রাখতে হবে। বিএনপি যতটা না লুটপাট করেছে, তার চেয়ে বেশি তাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার হচ্ছে। কারা করছে, এগুলো খুঁজে বের করে তাদের অপপ্রচারের জবাব দিতে হবে। বিএনপি সবসময় দোদুল্যমান। হাসিনা পতনের সময়ও দোদুল্যমান ছিল বিএনপি। বিভিন্ন বিষয়ে জামায়াত কিন্তু দোদুল্যমান ছিল না, এখনও নেই। তাই বিএনপিকে দোদুল্যমানতাও পরিহার করে কঠোর হতে হবে। জিয়ার পথ অবলম্বন করতে হবে। রাজনীতিতে মেধাভিত্তিক সৃষ্টিশীল নেতৃত্ব তৈরি করতে হবে, সেভাবেই হিলফুল ফুজুল করে জিয়াউর রহমান নেতৃত্ব তৈরি করতেন। আর ভারতের আধিপত্যবাদ বিরোধী মনোভাব রাখতে হবে। তাহলে দল টিকবে। কেননা, এই মনোভাবই বিএনপির মূল ভিত্তি।

এ বিষয়ে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বাংলানিউজকে বলেন, “ডাকসু ও জাকসু নির্বাচনে নানা ধরনের কারচুপির খবর শোনা গেছে। এসব ফলাফল ছাত্রদলের ফেভারে না যাওয়া মানেই বিএনপি অস্তিত্বহীন হয়ে পড়েছে, এমন ভাবার কোনো কারণ দেখছি না। বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রিক রাজনীতি এবং জাতীয় রাজনীতি-দুটো আলাদা বিষয়। তবে এই পরাজয় একটা প্রেক্ষাপট তৈরি করেছে, যার মাধ্যমে আমরা আমাদের প্রচার, সমন্বয় এবং ছাত্রদের সঙ্গে সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করতে পারি। ইতোমধ্যেই আমরা বিভিন্ন দিক থেকে বিশ্লেষণ শুরু করেছি, যাতে ভুল-ত্রুটি শুধরে ভবিষ্যতে আরও কার্যকর ও দৃঢ় পদক্ষেপ নেওয়া যায়। “

জাইমা রহমানের জন্মদিনে ৫ শতাধিক ছাত্রীকে বাইসাইকেল উপহার

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:১৫ অপরাহ্ণ
জাইমা রহমানের জন্মদিনে ৫ শতাধিক ছাত্রীকে বাইসাইকেল উপহার
শেয়ার করুন

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমানের জন্মদিন উপলক্ষে বগুড়ার শিবগঞ্জে ৫৪৮ জন ছাত্রীকে বিনামূল্যে বাইসাইকেল উপহার দেওয়া হয়েছে। রবিবার (২৫ অক্টোবর) বগুড়ার শিবগঞ্জ সরকারি পাইলট উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্রীদের নিয়ে এই আয়োজন করা হয়।

স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের আয়োজনে এসব ছাত্রীদের বাইসাইকেল দেওয়া হয়। এ সময় শিক্ষার্থীরা স্লোগান দেন, ‘শুভ শুভ শুভদিন, জাইমা রহমানের জন্মদিন’ ‘করবো কাজ গড়বো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’।

এ সময় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, সাত শতাধিক মেধাবী শিক্ষার্থীর পরীক্ষা নিয়েছিলাম, যার মধ্যে অংশ নিয়েছিল ৫৪৮ জন ছাত্রী। মোট ১০২টি শিক্ষার্থী প্রতিষ্ঠানের ৫৪৮জনকে ডেকে নিয়ে বাইসাইকেল উপহার দিচ্ছি।

এছাড়া যে প্রতিষ্ঠানে এই বাইসাইকেল প্রদানের আয়োজন করা হয়, তাদেরসহ প্রায় এক হাজার শিক্ষার্থীদের জাইমা রহমানের ছবি সম্বলিত মগ উপহার দেওয়া হয়।

বাইসাইকেল পেয়ে শিক্ষার্থীরা বেশ উচ্ছ্বসিত হন। কেউ কেউ স্কুল মাঠেই সাইকেল চালিয়ে আনন্দ উপভোগ করেন।

ঝোঁপঝাড়ে ফেলে যাওয়া নবজাতককে দত্তক নিতে ১২৩ পরিবারের আবেদন

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১:৩৯ অপরাহ্ণ
ঝোঁপঝাড়ে ফেলে যাওয়া নবজাতককে দত্তক নিতে ১২৩ পরিবারের আবেদন
শেয়ার করুন

চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে ফটিকছড়িতে সড়কের পাশের ঝোপঝাড়ে ফেলে যাওয়া এক নবজাত কন্যাশিশুকে দত্তক নিতে ব্যাপক আগ্রহ দেখা দিয়েছে শিশুটির লালন-পালনের দায়িত্ব নিতে এক দিনেই ১২৩টি আবেদন জমা পড়েছে।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাত পর্যন্ত ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে আবেদনকারীদের সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, আবেদনকারীদের পারিবারিক পরিবেশ, আর্থিক সামর্থ্য, শিশুর পরিচর্যার সক্ষমতা ও অন্যান্য প্রাসঙ্গিক বিষয় বিবেচনায় নিয়ে উপযুক্ত পরিবার নির্বাচনের প্রক্রিয়া চলছে। তবে, আবেদন করলেই শিশুটিকে দত্তক নেওয়ার সুযোগ মিলবে না। এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যাচাই-বাছাই ও প্রযোজ্য আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে।

ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাঈদ মোহাম্মদ ইব্রাহিম গণমাধ্যমকে বলেন, শিশুটিকে দত্তক নিতে বিপুলসংখ্যক আবেদন জমা পড়েছে। উপযুক্ত পরিবার নির্বাচনের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। যাচাই-বাছাই ও আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

এর আগে, গত বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার পাইন্দং ইউনিয়নের উত্তর পাইন্দং এলাকার আমতলীতে সড়কের পাশের ঝোঁপঝাড় থেকে নবজাতকটিকে জীবিত উদ্ধার করা হয়।

স্থানীয় লোকজন শিশুটিকে ঝোঁপের মধ্যে পড়ে থাকতে দেখে পুলিশকে খবর দেন। পরে ফটিকছড়ি থানা-পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশুটিকে উদ্ধার করেন। উদ্ধারের পর তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, শিশুটির শারীরিক অবস্থা ভালো ছিল।তবে কে বা কারা শিশুটিকে সেখানে ফেলে গেছেন, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। শিশুটির নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে উপযুক্ত পরিবার নির্বাচনের পাশাপাশি তাকে পরিত্যক্ত অবস্থায় ফেলে যাওয়ার ঘটনার রহস্য উদঘাটন ও পরিচয় শনাক্তে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় লোকজন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রচেষ্টায় ভোলাখালে অষ্টম সেতু নির্মাণের প্রস্তাব

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১:০০ অপরাহ্ণ
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রচেষ্টায় ভোলাখালে অষ্টম সেতু নির্মাণের প্রস্তাব
শেয়ার করুন

কক্সবাজারের পেকুয়ায় ভোলাখালের ওপর মগনামা বাজারপাড়া থেকে বারবাকিয়া ইউনিয়নের বোধামাঝির ঘোনা পর্যন্ত ১০০ মিটার দীর্ঘ সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রস্তাবিত সেতুটি নির্মিত হলে মগনামা ও বারবাকিয়ার মধ্যে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ স্থাপনের পাশাপাশি পেকুয়া ও কুতুবদিয়ার মানুষের যাতায়াত, পণ্য পরিবহন ও ব্যবসা-বাণিজ্যে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে বলে আশা করছেন স্থানীয়রা।

সম্প্রতি সেতু নির্মাণের উদ্যোগের অংশ হিসেবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও কক্সবাজার-১ আসনের সংসদ সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদের প্রয়োজনীয় সুপারিশ ও প্রস্তাব স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। প্রকল্পটি অনুমোদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও কারিগরি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে সেতু নির্মাণকাজ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

স্থানীয়দের মতে, সেতুটি বাস্তবায়িত হলে মগনামা ও বারবাকিয়ার মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপনের পাশাপাশি পেকুয়া ও কুতুবদিয়ার সঙ্গে মহেশখালী হয়ে চট্টগ্রামের যোগাযোগে একটি বিকল্প ও গুরুত্বপূর্ণ সড়কপথ তৈরি হতে পারে। এতে যাতায়াতের সময় ও পেকুয়া বাজার কেন্দ্রীক যানজট ভোগান্তি কমার পাশাপাশি উপকূলীয় এ অঞ্চলের আর্থসামাজিক কর্মকাণ্ড, কৃষিপণ্য,লবণ, মৎস্য পরিবহন ও ব্যবসা-বাণিজ্যে ইতিবাচক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এদিকে ‎ভোলাখালের বিভিন্ন অংশে ইতোমধ্যে সাতটি সেতু নির্মিত হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে- মগনামা শরৎঘোনা–রাজাখালী নতুনঘোনা সেতু, পেকুয়া পশ্চিম গোঁয়াখালী অংশের রাবারড্যাম সেতু, পেকুয়া বাজার–বারবাকিয়া ফাঁশিয়াখালী সেতু, পেকুয়া মৌলভীপাড়া অংশের আঞ্চলিক মহাসড়ক সেতু, পেকুয়া-বারবাকিয়া বাজার সেতু, পেকুয়া সাবমেরিন নৌঘাঁটি সড়কের সালাহউদ্দিন সেতু এবং বাগুজারা-সাকুরপাড় সেতু।

স্থানীয়দের দাবি, এসব সেতুর ধারাবাহিকতায় মগনামা বাজারপাড়া-বোধামাঝির ঘোনা সেতুটি নির্মিত হলে ভোলাখালের ওপর এটি হবে অষ্টম গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ সেতু। সেতুটি নির্মিত হলে পেকুয়া উপজেলার অভ্যন্তরীণ যোগাযোগব্যবস্থা আরও শক্তিশালী হওয়ার পাশাপাশি কুতুবদিয়ার সঙ্গে সড়ক যোগাযোগেও নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে।

 

‎

 

‎এতে শিক্ষা, চিকিৎসা, লবণ,মৎস্য ও কৃষিপণ্য পরিবহন, ব্যবসা-বাণিজ্য ও সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন চলাচলে দুই উপজেলার মানুষ সুফল পাবেন বলে প্রত্যাশা করছেন স্থানীয়রা। একই সঙ্গে পেকুয়া বাজারকেন্দ্রিক সড়কে যানবাহনের চাপও কিছুটা কমতে পারে বলে মনে করছেন তারা।

 

এলাকাবাসী জানান, দীর্ঘদিন ধরে ভোলাখাল মগনামা ও বারবাকিয়ার মানুষের স্বাভাবিক চলাচলের ক্ষেত্রে একটি বড় প্রতিবন্ধকতা হয়ে আছে। খালের ওপর প্রস্তাবিত সেতুটি নির্মিত হলে দুই এলাকার মধ্যে যোগাযোগ সহজ হওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় অর্থনীতি ও জনজীবনেও ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে।

 

‎দীর্ঘদিনের দাবি ও প্রত্যাশার পর সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়ায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এমপির প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ব্যক্তিগত প্রেস সচিব ছফওয়ানুল করিম বলেন, ‘চকরিয়া-পেকুয়া-মাতামুহুরী অঞ্চলের যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের ধারাবাহিকতায় ভোলাখালের মগনামা বাজারপাড়া অংশে ১০০ মিটার দীর্ঘ সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সুপারিশ ও প্রস্তাব স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। প্রকল্পটি অনুমোদনের পর পরবর্তী প্রশাসনিক ও কারিগরি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে সেতু নির্মাণের কাজ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে।’

 

‎তিনি বলেন, ‘সেতুটি নির্মিত হলে মগনামা, বারবাকিয়া ও আশপাশের এলাকার মানুষের চলাচল সহজ হওয়ার পাশাপাশি পেকুয়া-চকরিয়া অঞ্চলের সড়ক যোগাযোগব্যবস্থায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করছি।’

 

‎

 

‎পেকুয়া উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসাইন বলেন, ‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের প্রচেষ্টায় মগনামা-বোধামাঝির ঘোনা সেতু নির্মাণের উদ্যোগের খবরে বারবাকিয়া ও আশপাশের এলাকার মানুষের মধ্যে উৎসাহ সৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এ অঞ্চলের মানুষ যোগাযোগের ক্ষেত্রে নানা দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। সেতুটি নির্মিত হলে বারবাকিয়াসহ আশপাশের এলাকার সঙ্গে পেকুয়া উপজেলার সরাসরি ও সহজ যোগাযোগব্যবস্থা গড়ে উঠবে। একই সঙ্গে শিক্ষা, চিকিৎসা, কৃষি, ব্যবসা-বাণিজ্য ও সাধারণ মানুষের চলাচলেও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।’

তিনি বলেন, ‘মহেশখালীর মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর, পেকুয়া ও কুতুবদিয়ার মধ্যে যাতায়াত এবং পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রেও এ সেতু গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। জনগণের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণে দ্রুত প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে সেতুটির নির্মাণকাজ শুরুর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।’