খুঁজুন
, ,

জুলাই আন্দোলনে ইন্টারনেট শাটডাউনের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ ওঠে কামাল আহমেদের বিরুদ্ধে। এই অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালেও হাজিরা দিয়েছেন তিনি। এবার পেলেন পদোন্নতি।

পদোন্নতি পেলেন গণঅভ্যুত্থানে ইন্টারনেট বন্ধে জড়িত কর্মকর্তা

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:৩৯ অপরাহ্ণ
পদোন্নতি পেলেন গণঅভ্যুত্থানে ইন্টারনেট বন্ধে জড়িত কর্মকর্তা
শেয়ার করুন

চব্বিশের ৫ আগস্টের পর রাজনৈতিক পরিবর্তন হলেও আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সুবিধাভোগী হিসেবে পরিচিত অনেক কর্মকর্তা এখনও স্বপদে বহাল রয়েছেন। শুধু তা-ই নয়, আওয়ামী সরকারের সহযোগী হিসেবে অভিযুক্ত এসব কর্মকর্তার অনেকেই পাচ্ছেন পদোন্নতি। এমনই একজন টেলিকম ক্যাডারের কর্মকর্তা মির্জা কামাল আহম্মদ।

 

জুলাই আন্দোলনের সময় ইন্টারনেট শাটডাউনের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ ওঠে কামাল আহম্মদের বিরুদ্ধে। এই অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালেও একাধিকবার হাজিরা দিয়েছেন তিনি। এবার পেলেন পদোন্নতি।

 

বর্তমানে মির্জা কামাল আহম্মদ বিটিসিএলের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক (রক্ষণাবেক্ষণ ও চালনা) পদে কর্মরত রয়েছেন।

 

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ৭ সেপ্টেম্বর (সোমবার) ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে টেলিকম ক্যাডারের ২০ জন কর্মকর্তাকে একযোগে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। গত ৭ সেপ্টেম্বর দেওয়া পদোন্নতির তালিকার ৫ নম্বরে রয়েছে মির্জা কামাল আহম্মদের নাম। পদোন্নতি পেয়ে এই কর্মকর্তা পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ার) চতুর্থ গ্রেড থেকে জিএম (ইঞ্জিনিয়ার) তৃতীয় গ্রেডে উন্নীত হয়েছেন।

 

জুলাই আন্দোলনের সময় ইন্টারনেট শাটডাউনের সঙ্গে জড়িতের থাকার অভিযোগের পাশাপাশি সরকারি সাবমেরিন কেবলে কোম্পানির এমডির দায়িত্বে থাকা অবস্থায় মির্জা কামালের বিরুদ্ধে ছিল বিস্তর অভিযোগ। নানা অভিযোগে তাকে পদ থেকে সরিয়ে দেয় অন্তর্বর্তী সরকার।

 

দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘ সময়ের জন্য ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন রাখা হয় ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে। জুলাই আন্দোলনকে নিয়ন্ত্রণ করার জন্য ১৫ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত টানা ২২ দিন নানা স্তরে ইন্টারনেট শাটডাউন করে তৎকালীন সরকার। এক অদৃশ্য ‘তথ্য-অন্ধকার’ সৃষ্টির মাধ্যমে গণহত্যা চলে।

বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর সেই গণহত্যার মামলায় সাবেক আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলককে গ্রেপ্তোর করা হলেও, ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি ইন্টারনেট শাটডাউনের সঙ্গে জড়িত অনেক সরকারি ককর্তার বিরুদ্ধে।

 

সেই সময় জুনাইদ আহমেদ পলককের নির্দেশে ইন্টারনেট শাটডাউন করেছিলেন সরকারি সাবমেরিন কেবল কোম্পানি (বিএসপিএলসি) তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মির্জা কামাল আহম্মদ। এই অভিযোগের বিষয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে তাকে কয়েকবার ডাকা হয়।

 

ট্রাইব্যুনালকে কামাল আহম্মদ বলেন, ‘১৮ জুলাই রাতে প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক আমাকে ফোন দিয়ে ইন্টারনেট বন্ধ করার নির্দেশনা দেন, তার নির্দেশে ১৫ মিনিটের মধ্যে সাবমেরিন দুটো শাটডাউন করা হয়।’

 

ট্রাইব্যুনালকে জুনাইদ আহমেদ পলকের নির্দেশে ইন্টারনেট বন্ধ করার কথা জানালেও, বিএসসিপিএলসির অনেকের অভিযোগ, জুলাই আন্দোলনের সময়ে মন্ত্রণালয়ের কোনো আদেশ ছাড়াই শুধু পলকের মৌখিক নির্দেশে তিনি দেশের দুটি সাবমেরিন কেবল বন্ধ করেন। বরং আওয়ামী সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা থাকার কারণেই তিনি ইন্টারনেট বন্ধের ক্ষেত্রে বেশি আগ্রহী ছিলেন।

 

ইন্টারনেট শাটডাউনের সঙ্গে জড়িত এই কর্মকর্তা আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য সাজ্জাদুল হাসানের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ছিলেন। তার ক্ষমতার বলে তিনি নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত ছিলেন।

 

ইন্টারনেট শাটডাউন ছাড়াও সাবমেরিন কেবলের এমডির দায়িত্বে থাকা অবস্থায় মির্জা কামালের বিরুদ্ধে ছিল বিস্তর অভিযোগ। তিনি ২০১৬ সালে টেলিকম ক্যাডার থেকে প্রেষণে উপমহাব্যবস্থাপক হিসেবে বিএসসিপিএলসিতে যোগ দেন। ক্যাডার সার্ভিসে কোনো পদোন্নতি না পেলেও মাত্র দুই বছরের মধ্যেই তিনি জোর তদবির চালিয়ে উপমহাব্যবস্থাপকের পরিবর্তে মহাব্যবস্থাপক হিসেবে প্রেষণাদেশ করিয়ে জিএম (প্রশাসন ও অর্থ) পদটিতে চেপে বসেন।

 

অন্যদিকে বিএসসিপিএলসিতে সরাসরি নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। ২০০৯ সালে কোম্পানিতে উপমহাব্যবস্থাপক হিসেবে যোগদান করা অনেক কর্মকর্তা গত ১৭ বছরেও মহাব্যবস্থাপক পদে পদোন্নতি পাননি, একই পদে স্থবির হয়ে রয়েছেন।

 

অভিযোগ রয়েছে, মহাব্যবস্থাপক পদে থেকে মির্জা কামাল কোম্পানির আর্থিক ও প্রশাসনিক ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন। একই সঙ্গে এফডিআর বাণিজ্য ও কোম্পানির বিপুল পরিমাণ বকেয়ার সঙ্গে তার সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। মির্জা কামাল যখন বকেয়া আদায় কমিটির আহ্বায়ক ছিলেন, তখন দুই বছরে কোম্পানির বকেয়া বাড়ে ১৬০ কোটি টাকা। বকেয়া আদায় না করলেও নিয়মিতই বকেয়া আদায়ের সভা করতেন মির্জা কামাল এবং ৮০টির বেশি সভায় প্রায় ২০ লাখ টাকার বেশি সম্মানী নিয়েছেন কমিটির সদস্যরা।

অন্যদিকে কোম্পানির ব্যাংকিং ও ইনভেস্টমেন্ট পলিসি না মেনে নিজস্ব স্বার্থে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোতে বিনিয়োগ করা হয়েছে। শুধু এস আলমের ঝুঁকিপূর্ণ তিন ব্যাংকে বিনিয়োগ করা হয়েছে প্রায় ৫০ কোটি টাকা।

 

মির্জা কামাল এমডি থাকায় অবস্থায় সাবমেরিন কেবল কোম্পানির আয় ও মুনাফায় ধস দেখা দেয়। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে মির্জা কামাল এমডি থাকা অবস্থায় কোম্পানির আয় (রেভিনিউ) কমে দাঁড়ায় ৩৯৮ কোটি টাকা, যা ২০২২-২৩ হিসাব বছরে ছিল ৫১৫ কোটি টাকা। অর্থাৎ বছরের ব্যবধানে আয় কমেছে ১১৩ কোটি টাকা। আয় কমে যাওয়ায় ২০২৩-২৪ হিসাব বছরে বিএসসিপিএলসির নিট মুনাফা কমে দাঁড়ায় ১৮২ কোটি টাকা। যেখানে আগের অর্থবছরে কোম্পানিটি মুনাফা করেছিল ২৭৯ কোটি টাকা। অর্থাৎ বছরের ব্যবধানে মুনাফা কমে ৯৭ কোটি টাকা।

 

এমন একজন কর্মকর্তার পদোন্নতিতে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন পদোন্নতিপ্রাপ্ত অন্য কর্মকর্তারাও। কীভাবে এবং কার তদবিরে তিনি এই পদোন্নতি পেলেন, তা নিয়ে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মহলে উঠছে প্রশ্ন।

 

এর আগে জুলাই আন্দোলনে আন্দোলনে ইন্টারনেট বন্ধ এবং বিএসপিপিএলসিতে থাকা অবস্থায় নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত থাকার অপরাধে মির্জা কামালকে সাবমেরিন কেবলের এমডি পদ থেকে সরিয়ে দেয় অন্তর্বর্তী সরকার। এমডি পদ থেকে সরিয়ে নেওয়া হলেও কোনো কার্যকর শাস্তির আওতায় আনা হয়নি এই কর্মকর্তাকে।

 

সম্প্রতি তৃতীয় গ্রেডে পদোন্নতি পাওয়ার পর সাবমেরিন কেবলের এমডি পদে ফিরতে জোরালোভাবে চেষ্টা চালাচ্ছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে নানা অনিয়মে অভিযুক্ত মির্জা কামাল আহম্মদের বিরুদ্ধে।

 

এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে মির্জা কামাল আহম্মদের মোবাইল নম্বরে কয়েকবার ফোন করলে তা বন্ধ পাওয়া যায়। কিছুক্ষণ আবার কল দিলে কল ঢুকলেও তিনি কেটে দেন। তার বিরুদ্ধে ওঠা সুনির্দিষ্ট এসব অভিযোগের উত্তর জানতে চেয়ে হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠানো হয়। এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তিনি কোনো জবাব দেননি।

টঙ্গীতে মাদ্রাসাশিক্ষার্থীকে চুমু: সেই শিক্ষকের জামিন নামঞ্জুর

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:১৫ অপরাহ্ণ
টঙ্গীতে মাদ্রাসাশিক্ষার্থীকে চুমু: সেই শিক্ষকের জামিন নামঞ্জুর
শেয়ার করুন

গাজীপুরের টঙ্গীতে মাদ্রাসার ভেতরে ছয় বছর বয়সী এক শিশু শিক্ষার্থীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া শিক্ষক মোসলেহ উদ্দিনের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন আদালত। রোববার (২৫ অক্টোবর) দুপুরে গাজীপুর মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২-এর বিচারক ওমর হায়দার উভয় পক্ষের শুনানি শেষে জামিন বাতিলের এই আদেশ দেন।

আদালতে বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মহিউদ্দীন জামিন নামঞ্জুরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, জামিনের ঘোর বিরোধিতা করে আদালতে যুক্তি উপস্থাপন করা হয় যে, আসামি এই মুহূর্তে জামিনে মুক্তি পেলে মামলার সুষ্ঠু তদন্ত ব্যাহত হতে পারে এবং সমাজে এর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। বিজ্ঞ বিচারক উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে আসামির জামিন আবেদন নাকচ করে দেন।

অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট শরিফুল আলম বলেন, আসামির অতীতে কোনো অপরাধের রেকর্ড বা পূর্ববর্তী মামলা নেই। এছাড়া তার দাবি, মামলার অভিযোগগুলো মিথ্যা এবং ঘটনার পক্ষে কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্যপ্রমাণ নেই। এসব যুক্তি তুলে ধরেই তারা জামিনের আবেদন করেছিলেন।

 

এদিকে ঘটনাটির জের ধরে দায়ের হওয়া পাল্টাপাল্টি মামলাকে কেন্দ্র করে একটি মহল পরিকল্পিতভাবে বিভ্রান্তি ও অপপ্রচার ছড়াচ্ছে বলে সতর্ক করেছে পুলিশ। উভয় মামলার নিরপেক্ষ তদন্তের আশ্বাস দিয়ে গাজীপুর মহানগর পুলিশ (জিএমপি) কমিশনার মো. ইসরাইল হাওলাদার গুজব থেকে বিরত থাকার জন্য সর্বসাধারণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে শিশুটির বাবাকে গ্রেপ্তার করতে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে বলে গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া তথ্যকে অসত্য ও ভিত্তিহীন বলে স্পষ্ট করেছেন তিনি।

 

রোববার সকালে জিএমপি ও গণমাধ্যমকর্মীদের সমন্বয়ে পরিচালিত ‘জিএমপি মিডিয়া’ নামের অফিশিয়াল হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে সাংবাদিকদের একটি সংবাদের প্রেক্ষিতে তিনি এসব তথ্য জানান।

 

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, টঙ্গীর আউচপাড়ার শফিউদ্দিন রোডে অবস্থিত ‘ক্বারিউল কুরআন ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসা’র ভেতরে প্রথম শ্রেণির ছয় বছর বয়সী এক ছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শিশুর পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা করা হলে মাদ্রাসার ভাইস প্রিন্সিপাল মো. মোসলেহ উদ্দিনকে তাৎক্ষণিকভাবে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠায় পুলিশ।

 

তবে এর পরপরই ঘটনাটি নতুন দিকে মোড় নেয়। প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ ক্বারী মো. আলমাছ হোসেন গাজীপুরী পাল্টা অভিযোগ তোলেন যে, ঘটনার পর একদল লোক মাদ্রাসায় ঢুকে ব্যাপক ভাঙচুর চালিয়েছে এবং শিক্ষক-কর্মচারীদের মারধর করেছে। এ ঘটনায় তিনি ভুক্তভোগী শিশুটির বাবা শাহজালাল রুমিসহ অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে আরেকটি মামলা দায়ের করেন।

 

পাল্টা এই মামলার পর ‘শিশুটির বাবাকে গ্রেপ্তারে মাঠে নেমেছে পুলিশ’—এমন খবর কিছু গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে তা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক ক্ষোভ ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়। বিভিন্ন ভিডিও ও মন্তব্য ছড়িয়ে পড়ে তৈরি হয় চাঞ্চল্য। তবে পুলিশ পরিষ্কার জানিয়েছে, মামলার তদন্ত আইনি নিয়ম মেনেই এগোচ্ছে এবং কোনো পক্ষকেই উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে হয়রানি করা হচ্ছে না।

জাইমা রহমানের জন্মদিনে ৫ শতাধিক ছাত্রীকে বাইসাইকেল উপহার

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:১৫ অপরাহ্ণ
জাইমা রহমানের জন্মদিনে ৫ শতাধিক ছাত্রীকে বাইসাইকেল উপহার
শেয়ার করুন

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমানের জন্মদিন উপলক্ষে বগুড়ার শিবগঞ্জে ৫৪৮ জন ছাত্রীকে বিনামূল্যে বাইসাইকেল উপহার দেওয়া হয়েছে। রবিবার (২৫ অক্টোবর) বগুড়ার শিবগঞ্জ সরকারি পাইলট উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্রীদের নিয়ে এই আয়োজন করা হয়।

স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের আয়োজনে এসব ছাত্রীদের বাইসাইকেল দেওয়া হয়। এ সময় শিক্ষার্থীরা স্লোগান দেন, ‘শুভ শুভ শুভদিন, জাইমা রহমানের জন্মদিন’ ‘করবো কাজ গড়বো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’।

এ সময় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, সাত শতাধিক মেধাবী শিক্ষার্থীর পরীক্ষা নিয়েছিলাম, যার মধ্যে অংশ নিয়েছিল ৫৪৮ জন ছাত্রী। মোট ১০২টি শিক্ষার্থী প্রতিষ্ঠানের ৫৪৮জনকে ডেকে নিয়ে বাইসাইকেল উপহার দিচ্ছি।

এছাড়া যে প্রতিষ্ঠানে এই বাইসাইকেল প্রদানের আয়োজন করা হয়, তাদেরসহ প্রায় এক হাজার শিক্ষার্থীদের জাইমা রহমানের ছবি সম্বলিত মগ উপহার দেওয়া হয়।

বাইসাইকেল পেয়ে শিক্ষার্থীরা বেশ উচ্ছ্বসিত হন। কেউ কেউ স্কুল মাঠেই সাইকেল চালিয়ে আনন্দ উপভোগ করেন।

ঝোঁপঝাড়ে ফেলে যাওয়া নবজাতককে দত্তক নিতে ১২৩ পরিবারের আবেদন

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১:৩৯ অপরাহ্ণ
ঝোঁপঝাড়ে ফেলে যাওয়া নবজাতককে দত্তক নিতে ১২৩ পরিবারের আবেদন
শেয়ার করুন

চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে ফটিকছড়িতে সড়কের পাশের ঝোপঝাড়ে ফেলে যাওয়া এক নবজাত কন্যাশিশুকে দত্তক নিতে ব্যাপক আগ্রহ দেখা দিয়েছে শিশুটির লালন-পালনের দায়িত্ব নিতে এক দিনেই ১২৩টি আবেদন জমা পড়েছে।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাত পর্যন্ত ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে আবেদনকারীদের সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, আবেদনকারীদের পারিবারিক পরিবেশ, আর্থিক সামর্থ্য, শিশুর পরিচর্যার সক্ষমতা ও অন্যান্য প্রাসঙ্গিক বিষয় বিবেচনায় নিয়ে উপযুক্ত পরিবার নির্বাচনের প্রক্রিয়া চলছে। তবে, আবেদন করলেই শিশুটিকে দত্তক নেওয়ার সুযোগ মিলবে না। এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যাচাই-বাছাই ও প্রযোজ্য আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে।

ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাঈদ মোহাম্মদ ইব্রাহিম গণমাধ্যমকে বলেন, শিশুটিকে দত্তক নিতে বিপুলসংখ্যক আবেদন জমা পড়েছে। উপযুক্ত পরিবার নির্বাচনের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। যাচাই-বাছাই ও আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

এর আগে, গত বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার পাইন্দং ইউনিয়নের উত্তর পাইন্দং এলাকার আমতলীতে সড়কের পাশের ঝোঁপঝাড় থেকে নবজাতকটিকে জীবিত উদ্ধার করা হয়।

স্থানীয় লোকজন শিশুটিকে ঝোঁপের মধ্যে পড়ে থাকতে দেখে পুলিশকে খবর দেন। পরে ফটিকছড়ি থানা-পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশুটিকে উদ্ধার করেন। উদ্ধারের পর তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, শিশুটির শারীরিক অবস্থা ভালো ছিল।তবে কে বা কারা শিশুটিকে সেখানে ফেলে গেছেন, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। শিশুটির নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে উপযুক্ত পরিবার নির্বাচনের পাশাপাশি তাকে পরিত্যক্ত অবস্থায় ফেলে যাওয়ার ঘটনার রহস্য উদঘাটন ও পরিচয় শনাক্তে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় লোকজন।