খুঁজুন
, ,

প্রধানমন্ত্রীর কক্সবাজার সফরে সাংবাদিকদের পাসকার্ড না দেওয়ায় ক্ষোভ

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ১৪ জুন, ২০২৬, ১১:৪০ অপরাহ্ণ
প্রধানমন্ত্রীর কক্সবাজার সফরে সাংবাদিকদের পাসকার্ড না দেওয়ায় ক্ষোভ
শেয়ার করুন

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কক্সবাজার সফরকে ঘিরে স্থানীয় সাংবাদিকদের সংবাদ সংগ্রহের জন্য পাসকার্ড না দেওয়া এবং বিভিন্ন কর্মসূচিতে প্রবেশে বাধার অভিযোগ উঠেছে। দিনব্যাপী একাধিক কর্মসূচি কভার করতে গিয়ে জেলার অধিকাংশ গণমাধ্যমকর্মী অনুমতিপত্র না পাওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েন বলে সাংবাদিক নেতারা অভিযোগ করেছেন। এ ঘটনায় জেলার সাংবাদিক মহলে তীব্র ক্ষোভ ও আলোচনা-সমালোচনা চলছে।

 

 

সাংবাদিকদের অভিযোগ, প্রধানমন্ত্রীর সফরের আওতায় জনসমাবেশ ছাড়াও পিএমখালীর পাতলী খাল পুনঃখনন উদ্বোধন, সুধী সমাবেশ, উন্নয়ন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন, বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানে স্থানীয় সাংবাদিকদের জন্য কোনো পাসকার্ড ইস্যু করা হয়নি। ফলে তারা নির্ধারিত ভেন্যুতে প্রবেশ, তথ্য সংগ্রহ, ছবি ও ভিডিও ধারণে বাধার মুখে পড়েন।

 

কক্সবাজার রিপোর্টার্স ইউনিটির সাধারণ সম্পাদক সায়ীদ আলমগীর বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সফরে পিএম বিটের সাংবাদিকরা থাকলেও স্থানীয় সাংবাদিকদের উপস্থিতি সবসময় গুরুত্বপূর্ণ থাকে। অনেক প্রতিষ্ঠান স্থানীয় প্রতিনিধির ওপর নির্ভর করে।

 

তিনি বলেন, স্থানীয় সাংবাদিকদের সারা দিনব্যাপী সংবাদ সংগ্রহের সুযোগ না দেওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক ও নিন্দনীয়। এটি সাংবাদিকতার মর্যাদার পরিপন্থি। কক্সবাজার রিপোর্টার্স ইউনিটি এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছে।

 

ক্রাইম অ্যাসোসিয়েশন অব কক্সবাজারের (ক্র্যাক) সভাপতি জসিম উদ্দিন বলেন, জেলা পর্যায়ে প্রধানমন্ত্রীর কোনো সফরে স্থানীয় সাংবাদিকদের বাদ দিয়ে অনুষ্ঠান পরিচালনার ঘটনা এই প্রথম দেখলাম। শুধু তাই নয়, সুধী সমাবেশেও কোনো সাংবাদিককে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। এমনকি প্রেসক্লাবের শীর্ষ নেতৃত্বসহ সাংবাদিক ইউনিয়নের প্রতিনিধিদেরও আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। এটি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

 

তিনি আরও বলেন, এটি শুধু কক্সবাজারের সাংবাদিকদের জন্য নয়, বরং সারা বাংলাদেশের সাংবাদিক সমাজের জন্যই একটি কলঙ্কজনক ও দুঃখজনক ঘটনা। স্থানীয় সাংবাদিকদের এভাবে বঞ্চিত করা সংবাদপেশার মর্যাদা ও স্বাধীনতার পরিপন্থি। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের চিহ্নিত করে জবাবদিহির আওতায় আনা প্রয়োজন।

 

কক্সবাজার প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মমতাজ উদ্দিন বাহারি বলেন, আমার ৪০ বছরের সাংবাদিকতা জীবনে এমন ঘটনা দেখিনি। কোনো জেলার স্থানীয় সাংবাদিকদের এভাবে রাষ্ট্রীয় সফরের সংবাদ সংগ্রহ থেকে বঞ্চিত করার নজির নেই। প্রধানমন্ত্রী প্রতিদিন কোনো জেলায় আসেন না। তাই স্থানীয় সাংবাদিকরা এমন সফর কভার করার জন্য আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষা করেন। কিন্তু একটি চক্র সেই সুযোগ নষ্ট করেছে।

 

 

তিনি আরও বলেন, সংশ্লিষ্ট প্রস্তুতি সভায় এসএসএফ ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রতিনিধিদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, স্থানীয় সাংবাদিকদের অনুমোদনের বিষয়টি জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসন দেখবে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা বাস্তবায়ন হয়নি। আমরা এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই।

 

সাংবাদিক ইউনিয়ন কক্সবাজারের সভাপতি নুরুল ইসলাম হেলালী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর কক্সবাজারে আসার আগের দিন রাত ১১টা পর্যন্ত ডিএসবি অফিস থেকে জানানো হয়েছিল পাসকার্ড দেওয়া হবে। কিন্তু শেষ মুহূর্তে তা হয়নি। ফলে বিকল্প কোনো সুযোগও ছিল না। সাংবাদিকদের এভাবে বঞ্চিত করা অত্যন্ত দুঃখজনক ও নিন্দনীয়।

 

তিনি বলেন, এ ঘটনার বিরুদ্ধে আমরা সংগঠিতভাবে প্রতিবাদ জানাব।

 

সাংবাদিকদের অভিযোগ, বিভিন্ন কর্মসূচিতে প্রবেশের অনুমতি না থাকায় অনেকেই দূর থেকে অনুষ্ঠান পর্যবেক্ষণ করতে বাধ্য হন। এতে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য, ছবি ও তথ্য সংগ্রহে সীমাবদ্ধতা তৈরি হয়।

 

এদিকে স্থানীয় সাংবাদিকদের বঞ্চনার ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। জেলার প্রায় সব সাংবাদিক নিজ ফেসবুক আইডিতে ক্ষোভ, হতাশা ও প্রতিবাদ জানিয়ে পোস্ট করেছেন। অনেকেই এটিকে স্থানীয় সাংবাদিক সমাজের প্রতি অবমূল্যায়ন ও বৈষম্যমূলক আচরণ বলে মন্তব্য করেছেন।

 

সাংবাদিকদের দাবি, রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ সফরে স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা প্রচলিত ও স্বাভাবিক প্রক্রিয়া হলেও এবার তা উপেক্ষিত হয়েছে, যা পেশাগত মর্যাদার জন্য প্রশ্নবিদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি করেছে।

 

দায় নিচ্ছে না কেউ

 

জেলা প্রশাসন বলছে, তারা পুলিশ সুপার কার্যালয়ে সাংবাদিকদের তালিকা যথাযথভাবে পাঠিয়েছেন। তবে কেন সাংবাদিকদের পাসকার্ড ইস্যু করা হয়নি, সে বিষয়ে তারা অবগত নন।

 

এ বিষয়ে কক্সবাজার জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) মোহাম্মদ সামীম কবীর বলেন, সাংবাদিকদের জন্য পাসকার্ড ইস্যু না করার বিষয়ে উপর থেকে স্পষ্ট নির্দেশনা ছিল। নির্দেশনা অনুযায়ীই তারা পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়েছেন।

 

তিনি জানান, জেলা প্রশাসন থেকে পাঠানো সাংবাদিকদের তালিকা ধরে আগেই যাচাই-বাছাই করা হয়েছিল। এ সময় সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকদের জাতীয় পরিচয়পত্র, প্রেস আইডি ও ছবি সংগ্রহ করে ভেরিফিকেশন কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়।

 

তিনি আরও বলেন, আমরা আমাদের পক্ষ থেকে আগেভাগেই সব তথ্য যাচাই-বাছাই করে প্রস্তুত ছিলাম। তবে চূড়ান্ত কোনো নির্দেশনা না আসায় প্রধানমন্ত্রীর সফরের কর্মসূচিতে সাংবাদিকদের জন্য কোনো পাসকার্ড ইস্যু করা সম্ভব হয়নি।

 

কক্সবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান কাজল বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সফরে স্থানীয় সাংবাদিকদের সংবাদ কভারেজ সংক্রান্ত বিষয়ে আমাদের কিছু অনিচ্ছাকৃত ভুলত্রুটি হয়েছে। এ কারণে আমি আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করছি এবং ক্ষমাপ্রার্থী। সাংবাদিকদের বিষয়টি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদের সঙ্গে আলোচনা করা হবে, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের ভুলত্রুটির পুনরাবৃত্তি না ঘটে এবং স্থানীয় সাংবাদিকরা তাদের পেশাগত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে পারেন। সফর সফল করতে যারা সহযোগিতা করেছেন, তাদের সবার প্রতি আমি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।

জাইমা রহমানের জন্মদিনে ৫ শতাধিক ছাত্রীকে বাইসাইকেল উপহার

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:১৫ অপরাহ্ণ
জাইমা রহমানের জন্মদিনে ৫ শতাধিক ছাত্রীকে বাইসাইকেল উপহার
শেয়ার করুন

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমানের জন্মদিন উপলক্ষে বগুড়ার শিবগঞ্জে ৫৪৮ জন ছাত্রীকে বিনামূল্যে বাইসাইকেল উপহার দেওয়া হয়েছে। রবিবার (২৫ অক্টোবর) বগুড়ার শিবগঞ্জ সরকারি পাইলট উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্রীদের নিয়ে এই আয়োজন করা হয়।

স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের আয়োজনে এসব ছাত্রীদের বাইসাইকেল দেওয়া হয়। এ সময় শিক্ষার্থীরা স্লোগান দেন, ‘শুভ শুভ শুভদিন, জাইমা রহমানের জন্মদিন’ ‘করবো কাজ গড়বো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’।

এ সময় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, সাত শতাধিক মেধাবী শিক্ষার্থীর পরীক্ষা নিয়েছিলাম, যার মধ্যে অংশ নিয়েছিল ৫৪৮ জন ছাত্রী। মোট ১০২টি শিক্ষার্থী প্রতিষ্ঠানের ৫৪৮জনকে ডেকে নিয়ে বাইসাইকেল উপহার দিচ্ছি।

এছাড়া যে প্রতিষ্ঠানে এই বাইসাইকেল প্রদানের আয়োজন করা হয়, তাদেরসহ প্রায় এক হাজার শিক্ষার্থীদের জাইমা রহমানের ছবি সম্বলিত মগ উপহার দেওয়া হয়।

বাইসাইকেল পেয়ে শিক্ষার্থীরা বেশ উচ্ছ্বসিত হন। কেউ কেউ স্কুল মাঠেই সাইকেল চালিয়ে আনন্দ উপভোগ করেন।

ঝোঁপঝাড়ে ফেলে যাওয়া নবজাতককে দত্তক নিতে ১২৩ পরিবারের আবেদন

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১:৩৯ অপরাহ্ণ
ঝোঁপঝাড়ে ফেলে যাওয়া নবজাতককে দত্তক নিতে ১২৩ পরিবারের আবেদন
শেয়ার করুন

চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে ফটিকছড়িতে সড়কের পাশের ঝোপঝাড়ে ফেলে যাওয়া এক নবজাত কন্যাশিশুকে দত্তক নিতে ব্যাপক আগ্রহ দেখা দিয়েছে শিশুটির লালন-পালনের দায়িত্ব নিতে এক দিনেই ১২৩টি আবেদন জমা পড়েছে।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাত পর্যন্ত ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে আবেদনকারীদের সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, আবেদনকারীদের পারিবারিক পরিবেশ, আর্থিক সামর্থ্য, শিশুর পরিচর্যার সক্ষমতা ও অন্যান্য প্রাসঙ্গিক বিষয় বিবেচনায় নিয়ে উপযুক্ত পরিবার নির্বাচনের প্রক্রিয়া চলছে। তবে, আবেদন করলেই শিশুটিকে দত্তক নেওয়ার সুযোগ মিলবে না। এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যাচাই-বাছাই ও প্রযোজ্য আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে।

ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাঈদ মোহাম্মদ ইব্রাহিম গণমাধ্যমকে বলেন, শিশুটিকে দত্তক নিতে বিপুলসংখ্যক আবেদন জমা পড়েছে। উপযুক্ত পরিবার নির্বাচনের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। যাচাই-বাছাই ও আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

এর আগে, গত বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার পাইন্দং ইউনিয়নের উত্তর পাইন্দং এলাকার আমতলীতে সড়কের পাশের ঝোঁপঝাড় থেকে নবজাতকটিকে জীবিত উদ্ধার করা হয়।

স্থানীয় লোকজন শিশুটিকে ঝোঁপের মধ্যে পড়ে থাকতে দেখে পুলিশকে খবর দেন। পরে ফটিকছড়ি থানা-পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশুটিকে উদ্ধার করেন। উদ্ধারের পর তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, শিশুটির শারীরিক অবস্থা ভালো ছিল।তবে কে বা কারা শিশুটিকে সেখানে ফেলে গেছেন, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। শিশুটির নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে উপযুক্ত পরিবার নির্বাচনের পাশাপাশি তাকে পরিত্যক্ত অবস্থায় ফেলে যাওয়ার ঘটনার রহস্য উদঘাটন ও পরিচয় শনাক্তে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় লোকজন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রচেষ্টায় ভোলাখালে অষ্টম সেতু নির্মাণের প্রস্তাব

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১:০০ অপরাহ্ণ
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রচেষ্টায় ভোলাখালে অষ্টম সেতু নির্মাণের প্রস্তাব
শেয়ার করুন

কক্সবাজারের পেকুয়ায় ভোলাখালের ওপর মগনামা বাজারপাড়া থেকে বারবাকিয়া ইউনিয়নের বোধামাঝির ঘোনা পর্যন্ত ১০০ মিটার দীর্ঘ সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রস্তাবিত সেতুটি নির্মিত হলে মগনামা ও বারবাকিয়ার মধ্যে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ স্থাপনের পাশাপাশি পেকুয়া ও কুতুবদিয়ার মানুষের যাতায়াত, পণ্য পরিবহন ও ব্যবসা-বাণিজ্যে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে বলে আশা করছেন স্থানীয়রা।

সম্প্রতি সেতু নির্মাণের উদ্যোগের অংশ হিসেবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও কক্সবাজার-১ আসনের সংসদ সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদের প্রয়োজনীয় সুপারিশ ও প্রস্তাব স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। প্রকল্পটি অনুমোদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও কারিগরি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে সেতু নির্মাণকাজ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

স্থানীয়দের মতে, সেতুটি বাস্তবায়িত হলে মগনামা ও বারবাকিয়ার মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপনের পাশাপাশি পেকুয়া ও কুতুবদিয়ার সঙ্গে মহেশখালী হয়ে চট্টগ্রামের যোগাযোগে একটি বিকল্প ও গুরুত্বপূর্ণ সড়কপথ তৈরি হতে পারে। এতে যাতায়াতের সময় ও পেকুয়া বাজার কেন্দ্রীক যানজট ভোগান্তি কমার পাশাপাশি উপকূলীয় এ অঞ্চলের আর্থসামাজিক কর্মকাণ্ড, কৃষিপণ্য,লবণ, মৎস্য পরিবহন ও ব্যবসা-বাণিজ্যে ইতিবাচক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এদিকে ‎ভোলাখালের বিভিন্ন অংশে ইতোমধ্যে সাতটি সেতু নির্মিত হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে- মগনামা শরৎঘোনা–রাজাখালী নতুনঘোনা সেতু, পেকুয়া পশ্চিম গোঁয়াখালী অংশের রাবারড্যাম সেতু, পেকুয়া বাজার–বারবাকিয়া ফাঁশিয়াখালী সেতু, পেকুয়া মৌলভীপাড়া অংশের আঞ্চলিক মহাসড়ক সেতু, পেকুয়া-বারবাকিয়া বাজার সেতু, পেকুয়া সাবমেরিন নৌঘাঁটি সড়কের সালাহউদ্দিন সেতু এবং বাগুজারা-সাকুরপাড় সেতু।

স্থানীয়দের দাবি, এসব সেতুর ধারাবাহিকতায় মগনামা বাজারপাড়া-বোধামাঝির ঘোনা সেতুটি নির্মিত হলে ভোলাখালের ওপর এটি হবে অষ্টম গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ সেতু। সেতুটি নির্মিত হলে পেকুয়া উপজেলার অভ্যন্তরীণ যোগাযোগব্যবস্থা আরও শক্তিশালী হওয়ার পাশাপাশি কুতুবদিয়ার সঙ্গে সড়ক যোগাযোগেও নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে।

 

‎

 

‎এতে শিক্ষা, চিকিৎসা, লবণ,মৎস্য ও কৃষিপণ্য পরিবহন, ব্যবসা-বাণিজ্য ও সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন চলাচলে দুই উপজেলার মানুষ সুফল পাবেন বলে প্রত্যাশা করছেন স্থানীয়রা। একই সঙ্গে পেকুয়া বাজারকেন্দ্রিক সড়কে যানবাহনের চাপও কিছুটা কমতে পারে বলে মনে করছেন তারা।

 

এলাকাবাসী জানান, দীর্ঘদিন ধরে ভোলাখাল মগনামা ও বারবাকিয়ার মানুষের স্বাভাবিক চলাচলের ক্ষেত্রে একটি বড় প্রতিবন্ধকতা হয়ে আছে। খালের ওপর প্রস্তাবিত সেতুটি নির্মিত হলে দুই এলাকার মধ্যে যোগাযোগ সহজ হওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় অর্থনীতি ও জনজীবনেও ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে।

 

‎দীর্ঘদিনের দাবি ও প্রত্যাশার পর সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়ায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এমপির প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ব্যক্তিগত প্রেস সচিব ছফওয়ানুল করিম বলেন, ‘চকরিয়া-পেকুয়া-মাতামুহুরী অঞ্চলের যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের ধারাবাহিকতায় ভোলাখালের মগনামা বাজারপাড়া অংশে ১০০ মিটার দীর্ঘ সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সুপারিশ ও প্রস্তাব স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। প্রকল্পটি অনুমোদনের পর পরবর্তী প্রশাসনিক ও কারিগরি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে সেতু নির্মাণের কাজ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে।’

 

‎তিনি বলেন, ‘সেতুটি নির্মিত হলে মগনামা, বারবাকিয়া ও আশপাশের এলাকার মানুষের চলাচল সহজ হওয়ার পাশাপাশি পেকুয়া-চকরিয়া অঞ্চলের সড়ক যোগাযোগব্যবস্থায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করছি।’

 

‎

 

‎পেকুয়া উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসাইন বলেন, ‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের প্রচেষ্টায় মগনামা-বোধামাঝির ঘোনা সেতু নির্মাণের উদ্যোগের খবরে বারবাকিয়া ও আশপাশের এলাকার মানুষের মধ্যে উৎসাহ সৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এ অঞ্চলের মানুষ যোগাযোগের ক্ষেত্রে নানা দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। সেতুটি নির্মিত হলে বারবাকিয়াসহ আশপাশের এলাকার সঙ্গে পেকুয়া উপজেলার সরাসরি ও সহজ যোগাযোগব্যবস্থা গড়ে উঠবে। একই সঙ্গে শিক্ষা, চিকিৎসা, কৃষি, ব্যবসা-বাণিজ্য ও সাধারণ মানুষের চলাচলেও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।’

তিনি বলেন, ‘মহেশখালীর মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর, পেকুয়া ও কুতুবদিয়ার মধ্যে যাতায়াত এবং পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রেও এ সেতু গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। জনগণের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণে দ্রুত প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে সেতুটির নির্মাণকাজ শুরুর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।’