খুঁজুন
, ,

বাদী-বিবাদীর সরাসরি সাক্ষ্য লাগবে না

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৭ এপ্রিল, ২০২৫, ৪:০৩ পূর্বাহ্ণ
বাদী-বিবাদীর সরাসরি সাক্ষ্য লাগবে না
শেয়ার করুন

বাদী ও বিবাদীকে প্রচলিত পদ্ধতিতে সাক্ষ্য দিতে হবে না। এফিডেভিটের মাধ্যমে দাখিলকৃত তাদের আরজি বা জবাবের লিখিত বক্তব্যই সাক্ষ্য হিসেবে গণ্য হবে এবং তার ওপর হবে জেরা। মামলা মুলতবি চাওয়ার সুযোগেও পরবে লাগাম। আদালতে মামলাজট নিরসনে দেওয়ানি আইনের কার্যবিধিতে এমন বেশ কিছু সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বর্তমানে বিচারাধীন দেওয়ানি মামলা ১৭ লাখ ৫৪ হাজার ১৫৭টি। বাদী-বিবাদীর সাক্ষ্য গ্রহণে দেরিসহ নানা কারণে অনেক মামলা ৫০-৬০ বছর ধরে ঝুলছে। সংশোধনী কার্যকর হলে আদালতের কর্মঘণ্টা বাঁচবে; আমূল বদলে যাবে সাক্ষ্য ব্যবস্থাপনা। মামলার সঙ্গে জড়িতদের ভোগান্তি কমে আসবে।আইন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, বিদ্যমান নিয়মে দেওয়ানি মামলায় বাদী-বিবাদী আরজি বা জবাবের বক্তব্য মৌখিকভাবে জবানবন্দি হিসেবে দিয়ে থাকেন। দিনের পর দিন আদালত তা গ্রহণ করেন। সংশোধনীতে আরজি এফিডেভিট করলেই তা জবানবন্দি হয়ে যাবে। বাদী-বিবাদীকে নতুন করে আদালতের সাক্ষীর কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে দিনের পর দিন জবানবন্দি দিতে হবে না। এফিডেভিটে যা আছে, তার ওপর জেরা করা হবে।

এ ব্যাপারে আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল সমকালকে বলেন, ‘দেওয়ানি কার্যবিধি সংশোধন হলে সাক্ষ্য গ্রহণে সময় অনেক কমে যাবে। দ্রুত মামলা নিষ্পত্তির সংখ্যা বেড়ে যাবে, কমবে খরচ। বিচারপ্রার্থীরা উপকৃত হবেন।’

এদিকে দেওয়ানি কার্যবিধি সংশোধনী আইন চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য আজ বৃহস্পতিবার উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে তোলা হতে পারে। রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে এ বৈঠক হবে। সভাপতিত্ব করবেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। উপদেষ্টা পরিষদের অনুমোদনের পর তা কার্যকর হবে।

গত ২৬ ফেব্রুয়ারি খসড়া অধ্যাদেশের ওপর মতামত চেয়ে তা ওয়েবসাইটে আপলোড করা হয়।

১৯০৮ সালের দেওয়ানি কার্যবিধির বিদ্যমান নিয়মে, প্রতিটি পর্যায়ে এখন মামলা নিষ্পত্তির সময় বেঁধে দেওয়া রয়েছে। তবে সংশোধনী আইনের খসড়ায় এটি উঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। যুক্ত করা হচ্ছে অনলাইন পদ্ধতিতে মামলা নিষ্পত্তির বিধান। সংশোধনের ফলে মূল মোকদ্দমাতে আদালতের রায় বাস্তবায়নের জন্য আবেদন করা যাবে।

আদালতের রায় বাস্তবায়ন না করলে পৃথক মামলার প্রয়োজন পড়বে না। এসএমএস, ভয়েস কল, হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে সমন জারি করা যাবে। এতে আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে দ্রুত ও সহজে মামলার তথ্য সম্পর্কে জানা সম্ভব হবে।

অর্থ আদায়ের মামলায় বিশেষ বিধান যুক্ত করা হয়েছে প্রস্তাবিত সংশোধনীতে। এতে বলা হয়েছে, বাদীকে মামলা করতে হলে আরজিতে নিজের ও প্রযোজ্য ক্ষেত্রে হবে বিবাদীর এনআইডি, ই-মেইল নম্বর উল্লেখ করতে হবে। মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলার জরিমানার ক্ষেত্রে জরিমানার পরিমাণ ২০ হাজার থেকে বাড়িয়ে ৫০ হাজার টাকা করার প্রস্তাব করা হচ্ছে। সংশোধনীতে রিমান্ডের সুযোগ সীমিত করা হয়েছে। আদালত তার আদেশ ও রায় বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করতে পারবে।

অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ শাহজাহান সাজু সমকালকে বলেন, গত ১১৭ বছরে জনসংখ্যা অনেক বেড়েছে; চাপ পড়েছে জমিতে। মামলাও বেড়েছে হাজার হাজার। সময়ের প্রয়োজনে দেওয়ানি আইনের কার্যবিধি সংশোধন জরুরি হয়ে পড়েছে। ডিজিটাল যুগে অনলাইন বিধান চালু করার পরামর্শ দেন তিনি।

বিচারাধীন মামলা সাড়ে ১৭ লাখ

সূত্র জানায়, গত বছর ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সারাদেশে ১৭ লাখ ৫৪ হাজার ১৫৭টি দেওয়ানি মামলা বিচারাধীন। প্রতিদিনই নতুন মামলা যোগ হচ্ছে। বর্তমানে বিচারিক আদালতে ১৬ লাখ ৩৬ হাজার ২৪৭ এবং সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে ৯৮ হাজার ৬১৯ ও আপিল বিভাগে বিচারাধীন মামলা রয়েছে ১৯ হাজার ২৯১টি। বিচারিক আদালতে পাঁচ বছরের বেশি সময় বিচারাধীন ৪ লাখ ১১ হাজার ১১৮ মামলা। এ ছাড়া উচ্চ আদালতের নির্দেশে বিচার স্থগিত ৪ হাজার ৮৬৪টি মামলার।

জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধে সিলেটের গোয়াইনঘাটের আসিরুন নেসা ১৯৫৮ সালের ১৮ ডিসেম্বর মুনসেফ আদালতে মামলা করেন। ১৯৬২ সালের ২৩ আগস্ট বাদীর পক্ষে রায় দেন বিচারিক আদালত। ২০০৫ সালে আসিরুনের মৃত্যুতে নতুন বাদী হন তাঁর মেয়ে হামিদা খাতুন (৭০)। মামলার একাধিক বিবাদীও মারা গেছেন। ৬৩ বছর পর ২০২১ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি সর্বোচ্চ আদালত মামলাটি নিষ্পত্তি করে রায় দেন। আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ রায়ের পর দখল বুঝে পেতে আরও কয়েক বছর লেগেছে হামিদার। আসিরুন নেসার মতো অনেক মামলা দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে রয়েছে।

৩৮ বছরেও হয়নি বাংলা

দেশের সর্বত্র বাংলা ভাষা চালুর লক্ষ্যে ১৯৮৭ সালের ৮ মার্চ হয় ‘বাংলা ভাষা প্রচলন আইন। এতে বলা হয়, সরকারি অফিস-আদালত, আধাসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের বিদেশের সঙ্গে যোগাযোগ ব্যতীত অন্য সব ক্ষেত্রে নথি ও চিঠিপত্র, আইন-আদালতের সওয়াল-জবাব এবং অন্যান্য আইনানুগ কার্যাবলি অবশ্যই বাংলায় লিখতে হবে। ইতোমধ্যে পাঁচ শতাধিক আইনের বাংলা অনুবাদ করা হয়েছে। কিন্তু দেওয়ানি কার্যবিধি ইংরেজিতেই রয়ে গেছে।

একাধিক বাদী-বিবাদীর অভিযোগ, ইংরেজি ভাষার কারণে আইনটি তারা বুঝতে পারেন না। আইন বোঝার জন্যও আইনজীবীকে বাড়তি ফি দিতে হয়। অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ শাহজাহান সাজু বলেন, ‘দেওয়ানি কার্যবিধির মূল আইনও বাংলা হলে জনগণ বেশি উপকৃত হতেন। এটি সংসদে অনুমোদন প্রয়োজন।’

ঝোঁপঝাড়ে ফেলে যাওয়া নবজাতককে দত্তক নিতে ১২৩ পরিবারের আবেদন

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১:৩৯ অপরাহ্ণ
ঝোঁপঝাড়ে ফেলে যাওয়া নবজাতককে দত্তক নিতে ১২৩ পরিবারের আবেদন
শেয়ার করুন

চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে ফটিকছড়িতে সড়কের পাশের ঝোপঝাড়ে ফেলে যাওয়া এক নবজাত কন্যাশিশুকে দত্তক নিতে ব্যাপক আগ্রহ দেখা দিয়েছে শিশুটির লালন-পালনের দায়িত্ব নিতে এক দিনেই ১২৩টি আবেদন জমা পড়েছে।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাত পর্যন্ত ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে আবেদনকারীদের সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, আবেদনকারীদের পারিবারিক পরিবেশ, আর্থিক সামর্থ্য, শিশুর পরিচর্যার সক্ষমতা ও অন্যান্য প্রাসঙ্গিক বিষয় বিবেচনায় নিয়ে উপযুক্ত পরিবার নির্বাচনের প্রক্রিয়া চলছে। তবে, আবেদন করলেই শিশুটিকে দত্তক নেওয়ার সুযোগ মিলবে না। এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যাচাই-বাছাই ও প্রযোজ্য আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে।

ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাঈদ মোহাম্মদ ইব্রাহিম গণমাধ্যমকে বলেন, শিশুটিকে দত্তক নিতে বিপুলসংখ্যক আবেদন জমা পড়েছে। উপযুক্ত পরিবার নির্বাচনের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। যাচাই-বাছাই ও আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

এর আগে, গত বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার পাইন্দং ইউনিয়নের উত্তর পাইন্দং এলাকার আমতলীতে সড়কের পাশের ঝোঁপঝাড় থেকে নবজাতকটিকে জীবিত উদ্ধার করা হয়।

স্থানীয় লোকজন শিশুটিকে ঝোঁপের মধ্যে পড়ে থাকতে দেখে পুলিশকে খবর দেন। পরে ফটিকছড়ি থানা-পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশুটিকে উদ্ধার করেন। উদ্ধারের পর তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, শিশুটির শারীরিক অবস্থা ভালো ছিল।তবে কে বা কারা শিশুটিকে সেখানে ফেলে গেছেন, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। শিশুটির নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে উপযুক্ত পরিবার নির্বাচনের পাশাপাশি তাকে পরিত্যক্ত অবস্থায় ফেলে যাওয়ার ঘটনার রহস্য উদঘাটন ও পরিচয় শনাক্তে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় লোকজন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রচেষ্টায় ভোলাখালে অষ্টম সেতু নির্মাণের প্রস্তাব

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১:০০ অপরাহ্ণ
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রচেষ্টায় ভোলাখালে অষ্টম সেতু নির্মাণের প্রস্তাব
শেয়ার করুন

কক্সবাজারের পেকুয়ায় ভোলাখালের ওপর মগনামা বাজারপাড়া থেকে বারবাকিয়া ইউনিয়নের বোধামাঝির ঘোনা পর্যন্ত ১০০ মিটার দীর্ঘ সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রস্তাবিত সেতুটি নির্মিত হলে মগনামা ও বারবাকিয়ার মধ্যে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ স্থাপনের পাশাপাশি পেকুয়া ও কুতুবদিয়ার মানুষের যাতায়াত, পণ্য পরিবহন ও ব্যবসা-বাণিজ্যে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে বলে আশা করছেন স্থানীয়রা।

সম্প্রতি সেতু নির্মাণের উদ্যোগের অংশ হিসেবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও কক্সবাজার-১ আসনের সংসদ সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদের প্রয়োজনীয় সুপারিশ ও প্রস্তাব স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। প্রকল্পটি অনুমোদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও কারিগরি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে সেতু নির্মাণকাজ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

স্থানীয়দের মতে, সেতুটি বাস্তবায়িত হলে মগনামা ও বারবাকিয়ার মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপনের পাশাপাশি পেকুয়া ও কুতুবদিয়ার সঙ্গে মহেশখালী হয়ে চট্টগ্রামের যোগাযোগে একটি বিকল্প ও গুরুত্বপূর্ণ সড়কপথ তৈরি হতে পারে। এতে যাতায়াতের সময় ও পেকুয়া বাজার কেন্দ্রীক যানজট ভোগান্তি কমার পাশাপাশি উপকূলীয় এ অঞ্চলের আর্থসামাজিক কর্মকাণ্ড, কৃষিপণ্য,লবণ, মৎস্য পরিবহন ও ব্যবসা-বাণিজ্যে ইতিবাচক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এদিকে ‎ভোলাখালের বিভিন্ন অংশে ইতোমধ্যে সাতটি সেতু নির্মিত হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে- মগনামা শরৎঘোনা–রাজাখালী নতুনঘোনা সেতু, পেকুয়া পশ্চিম গোঁয়াখালী অংশের রাবারড্যাম সেতু, পেকুয়া বাজার–বারবাকিয়া ফাঁশিয়াখালী সেতু, পেকুয়া মৌলভীপাড়া অংশের আঞ্চলিক মহাসড়ক সেতু, পেকুয়া-বারবাকিয়া বাজার সেতু, পেকুয়া সাবমেরিন নৌঘাঁটি সড়কের সালাহউদ্দিন সেতু এবং বাগুজারা-সাকুরপাড় সেতু।

স্থানীয়দের দাবি, এসব সেতুর ধারাবাহিকতায় মগনামা বাজারপাড়া-বোধামাঝির ঘোনা সেতুটি নির্মিত হলে ভোলাখালের ওপর এটি হবে অষ্টম গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ সেতু। সেতুটি নির্মিত হলে পেকুয়া উপজেলার অভ্যন্তরীণ যোগাযোগব্যবস্থা আরও শক্তিশালী হওয়ার পাশাপাশি কুতুবদিয়ার সঙ্গে সড়ক যোগাযোগেও নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে।

 

‎

 

‎এতে শিক্ষা, চিকিৎসা, লবণ,মৎস্য ও কৃষিপণ্য পরিবহন, ব্যবসা-বাণিজ্য ও সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন চলাচলে দুই উপজেলার মানুষ সুফল পাবেন বলে প্রত্যাশা করছেন স্থানীয়রা। একই সঙ্গে পেকুয়া বাজারকেন্দ্রিক সড়কে যানবাহনের চাপও কিছুটা কমতে পারে বলে মনে করছেন তারা।

 

এলাকাবাসী জানান, দীর্ঘদিন ধরে ভোলাখাল মগনামা ও বারবাকিয়ার মানুষের স্বাভাবিক চলাচলের ক্ষেত্রে একটি বড় প্রতিবন্ধকতা হয়ে আছে। খালের ওপর প্রস্তাবিত সেতুটি নির্মিত হলে দুই এলাকার মধ্যে যোগাযোগ সহজ হওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় অর্থনীতি ও জনজীবনেও ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে।

 

‎দীর্ঘদিনের দাবি ও প্রত্যাশার পর সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়ায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এমপির প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ব্যক্তিগত প্রেস সচিব ছফওয়ানুল করিম বলেন, ‘চকরিয়া-পেকুয়া-মাতামুহুরী অঞ্চলের যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের ধারাবাহিকতায় ভোলাখালের মগনামা বাজারপাড়া অংশে ১০০ মিটার দীর্ঘ সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সুপারিশ ও প্রস্তাব স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। প্রকল্পটি অনুমোদনের পর পরবর্তী প্রশাসনিক ও কারিগরি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে সেতু নির্মাণের কাজ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে।’

 

‎তিনি বলেন, ‘সেতুটি নির্মিত হলে মগনামা, বারবাকিয়া ও আশপাশের এলাকার মানুষের চলাচল সহজ হওয়ার পাশাপাশি পেকুয়া-চকরিয়া অঞ্চলের সড়ক যোগাযোগব্যবস্থায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করছি।’

 

‎

 

‎পেকুয়া উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসাইন বলেন, ‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের প্রচেষ্টায় মগনামা-বোধামাঝির ঘোনা সেতু নির্মাণের উদ্যোগের খবরে বারবাকিয়া ও আশপাশের এলাকার মানুষের মধ্যে উৎসাহ সৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এ অঞ্চলের মানুষ যোগাযোগের ক্ষেত্রে নানা দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। সেতুটি নির্মিত হলে বারবাকিয়াসহ আশপাশের এলাকার সঙ্গে পেকুয়া উপজেলার সরাসরি ও সহজ যোগাযোগব্যবস্থা গড়ে উঠবে। একই সঙ্গে শিক্ষা, চিকিৎসা, কৃষি, ব্যবসা-বাণিজ্য ও সাধারণ মানুষের চলাচলেও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।’

তিনি বলেন, ‘মহেশখালীর মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর, পেকুয়া ও কুতুবদিয়ার মধ্যে যাতায়াত এবং পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রেও এ সেতু গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। জনগণের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণে দ্রুত প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে সেতুটির নির্মাণকাজ শুরুর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।’

সাঈদীর মামলার বাদীর দাফনে আসেনি কেউ, কবর খুঁড়লেন স্ত্রী-মেয়ে-বোন

টেলিগ্রাম ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৫১ অপরাহ্ণ
সাঈদীর মামলার বাদীর দাফনে আসেনি কেউ, কবর খুঁড়লেন স্ত্রী-মেয়ে-বোন
শেয়ার করুন

আল্লামা দেলোয়ার হোসেন সাঈদীর মামলার বাদী ও রাষ্ট্রপক্ষের অন্যতম প্রধান সাক্ষী মানিক পশারীর মরদেহ জামায়াত নেতাকর্মী ও স্থানীয়দের তোপের মুখে ১৭ ঘণ্টা পর গভীর রাতে পরিবারের নারী সদস্যদের খোঁড়া কবরে দাফন করা হয়েছে। শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাত ২টার দিকে পিরোজপুর সদর উপজেলার শংকরপাশা ইউনিয়নের চিতলিয়া গ্রামে মানিক পশারীর বাড়িতে তার মরদেহ দাফন সম্পন্ন করে পুলিশ।

এর আগে গতকাল শনিবার সকাল ১০টার দিকে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় পলাতক থাকা অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। পরে একইদিন দুপুর ১২টায় পিরোজপুর সদর উপজেলা পরিষদ চত্বরে মানিক পশারীর মরদেহ এলে স্বজনরা জেলা জামায়াতের নেতাকর্মী ও স্থানীয়দের তোপের মুখে পড়ে। পরে পুলিশের সহায়তায় মরদেহ সরিয়ে নেওয়া হয় পুলিশ লাইনসে। সেখানে বিকেল ৫টার দিকে গার্ড অব অনার শেষে নিশ্চিদ্র নিরাপত্তায় লাশ ঘিরে রাখে সদর থানা পুলিশ।

 

পরে রাত ১টার দিকে সদর থানা পুলিশ জেলা জামায়াতে ইসলামীর নেতাদের সহায়তায় মরদেহ বাড়িতে পৌঁছে। রাতে মানিক পশারীর স্ত্রী, মেয়ে ও বোনসহ পরিবারের অন্য সদস্যরা মিলে কবর খুঁড়ে রাত ২টার দিকে দাফন কাজ শেষ করা হয়। এসময় কিছু স্থানীয়রা উপস্থিত ছিলেন।

মানিক পশারীর বোন বলেন, আমার ভাইরে টুঙ্গিপাড়া দিয়া পিরোজপুর আনার পর ওখানে ঝামেলা হইছে। একবার মোরা কবর খুঁড়ছি, সেই কবর লোকজনে আবার ভরাট করে ফেলছে। আবার মোরা কবর খুঁড়ছি এবং পুলিশ লাশ আনার পরে মোরাই মাডি দিছি। কোনো পুরুষ মানুষ আয় নাই।

 

পিরোজপুর জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি আব্দুর রাজ্জাক বলেন, মানিক পশারীর লাশ দাফনে পিরোজপুর জেলা জায়ামাতের নেতা এবং অঙ্গ সংগঠনের কোনো নেতা বাঁধা সৃষ্টি করেনি। জামায়াতে ইসলামীর নেতারা লাশের রাজনীতি করে না। তাই পিরোজপুর সদর থানা পুলিশকে পুরোপুরি সহায়তা করে লাশ দাফন কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে।

 

পিরোজপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: শরিফুল ইসলাম বলেন, পুলিশের নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে মানিক পশারীর লাশ দাফন সম্পন্ন করা হয়েছে। কবরের পাশে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

মানিক পশারী (৮৭) পিরোজপুর সদর উপজেলার শংকরপাশা ইউনিয়নের চিতলিয়া গ্রামের ৭ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা। তিনি জামায়াত নেতা আল্লামা দেলোয়ার হোসেন সাঈদীর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মানবতা বিরোধী অপরাধের মামলার বাদী ও রাষ্ট্রপক্ষের অন্যতম প্রধান সাক্ষী ছিলেন। ২০২৪ সালে আগস্টে ছাত্র জনতার গণঅভ্যুত্থানের পরে তিনি যশোরে ও গোপালগঞ্জে টুঙ্গিপাড়ায় তার মেয়ের জামাইয়ের কাছে আশ্রয় নেন। মানিক গত ২ মাস ধরে অসুস্থ হয়ে মৃত্যুবরণ করেন।